গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় যুবলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশকে লক্ষ্য করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিল চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি দেখে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একটাও সামনে আইবি না, একদম মাইরা ফেলামু।’ ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এবং সংগঠনটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে এ মিছিল আয়োজন করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তারা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এতে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা, পুলিশকে হুমকি দেওয়া বা সহিংসতার উসকানি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অনেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আজ রোববার (২১ জুন) রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মূলত দুই দেশের সামগ্রিক শিক্ষার আধুনিকায়ন, মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠক চলাকালীন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার শুরুতেই বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও দক্ষতার উন্নয়নে দেশের মূল পাঠ্যক্রমে কারিগরি শিক্ষাকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের একসাথে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার এক বিশাল ও চমৎকার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দুই দেশই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে একে অপরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে এবং একত্রে কাজ করছে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থেকে যৌথ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের অনেক বড় সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় হাইকমিশনার পাকিস্তানের বর্তমান কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলো সশরীরে পরিদর্শন করার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রীকে বিশেষভাবে আহ্বান জানান। একই সাথে দ্বিপাক্ষিক এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রের আধুনিকায়ন এবং এর সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রশংসনীয় দূরদর্শী উদ্যোগের তীব্র ও ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের এই যৌথ শিক্ষা সহযোগিতার ফলে আগামী দিনে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের শিক্ষা খাতের ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন অব্যাহত থাকবে বলে দুই দেশের প্রতিনিধিরাই একমত পোষণ করেন। উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বাংলাদেশের স্কুল ও কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও শারীরিক গঠনের বিকাশের কথা বিবেচনা করে একটি চমৎকার সৌজন্যতা প্রদর্শন করেন। তিনি নিজ দেশের পক্ষ থেকে মোট ১ হাজার উন্নতমানের ফুটবল বাংলাদেশের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হাতে উপহার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। উপহার সামগ্রী গ্রহণের পর শিক্ষা মন্ত্রী পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
নেপালের প্রতিনিধি সভার স্পিকার ডোল প্রসাদ আরিয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৭ জুন) কাঠমান্ডুতে স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান নেপালের স্পিকারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন পৌঁছে দেন। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি (পিজিএ) নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার প্রতি নেপালের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের দৃঢ় যোগাযোগের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র থাকলেও তার অনেকটাই এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও নেপাল একই ধরনের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। এ সময় তিনি জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন ও যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরেন। আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সার্ক ও বিমসটেকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি। জবাবে নেপালের স্পিকার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নেপালের উন্নয়ন যাত্রায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে খেলাধুলার গুরুত্বও তুলে ধরেন স্পিকার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া বাড়াতে ক্রীড়া বড় ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে স্পিকার বলেন, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এখন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি যৌথ উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশে চিকিৎসা ও কারিগরি শিক্ষায় অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও বিভিন্ন সুবিধা প্রদানে বাংলাদেশের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসাও করেন নেপালের স্পিকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে এবং ভবিষ্যতে বহুমুখী সহযোগিতার পথ সুগম করতে সহায়ক হবে।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) ভূমি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিজস্ব অফিসকক্ষে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনও মন্ত্রীর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। দুই দেশের এই সুসম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে তিনি বিশেষ করে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত পারস্পরিক সহযোগিতা, যুবকদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন গবেষণার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির জোরালো আহ্বান জানান। বৈঠকের একপর্যায়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বাংলাদেশের সার্বিক ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং এর আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনার ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। ভূমিসেবা আধুনিকীকরণের এই চলমান কার্যক্রমকে বাংলাদেশের একটি অসাধারণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ভিস ডিজিটালাইজেশন বা ডিজিটাল ভূমিসেবা দেশের সাধারণ জনগণকে সরাসরি ক্ষমতায়িত করে এবং সরকারের সব উদ্যোগের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই ডিজিটাল সেবার ফলে সমাজে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের দৌরাত্ম্য বহুলাংশে কমে যায়। বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ বছর ধরে যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তা ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ দেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে আগামীতে আরও বেশি গতিশীল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, সার্বিক মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা করেছে, ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎকালে ভূমি মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।