সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর অভিযানে কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে বসবাস করা অন্তত ১৫শ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে ।
রোববার ভোরে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীসহ আশেপাশের এলাকায় এই অভিযান শুরু হয় বলে জানিয়েছেন যৌথবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। অভিযান অব্যাহত থাকায় আটকের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের অপব্যবহার করা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই এই অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্পে জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া আছে। কিন্তু তারপরও তারা নিয়ম ভেঙ্গে বাঙালিদের জমি দখল করে অবস্থান করছে। যা স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।”
বর্তমানে আটককৃতদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত করা হচ্ছে। পরে তাদেরকে স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে এবং ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।
“তাদেরকে আমরা এখনই ক্যাম্পে পাঠাবো না। আগে সবাইকে আটক করা হবে। তারপর অনুসন্ধান করা হবে যে তারা কেন ক্যাম্পে নিজেদের নির্ধারিত জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার পর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদেরকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো ব্যবস্থা করা হবে।”
এদিকে ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
এর আগে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারিতে বার্মা কলোনিসহ আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠায় যৌথ বাহিনী।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে গণনা—সবখানেই স্বচ্ছতার প্রতিফলন থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গণভোট এবং নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক নজরদারি: এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন ১৬০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক। কমিশনের গাইডলাইন: স্থানীয় ও বিদেশি সকল পর্যবেক্ষককে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নীতিমালা মেনেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ভোটার ও নির্বাচনের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। সঠিক তথ্যের গুরুত্ব: সিইসি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সংবাদকর্মীদের প্রতিবেদনের মাধ্যমেই নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি নতুন আশার সঞ্চার করছে।
নির্বাচনি মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো অনিয়ম রুখে দিতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে মোতায়েন করা হচ্ছে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো একনজরে: জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট: ২৯৯টি আসনে মোট ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ দিন নির্বাচনী অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্ন করবেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট: আচরণবিধি রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ১,০৪৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিটি উপজেলা ও থানায় নিয়োজিত থাকছেন। অতিরিক্ত ফোর্স: স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল কোর্টের সমন্বয়ে আরও ১,০৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৭ দিন মাঠে থাকবেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনের এই বিশাল প্রস্তুতি জনমনে স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভোট উৎসবের নিরাপত্তায় প্রশাসন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের নগদ অর্থপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত অনেক মানুষ ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন। এতে তাঁদের যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি যাঁরা প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার–প্রচারণায় যুক্ত, তাঁদের ব্যয়ও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। প্রার্থী, দলীয় নেতা–কর্মী, সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্বাচনী ব্যয়ের কারণে সারা দেশে নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বরে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। নির্বাচনকে ঘিরে প্রবাসী আয়ও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাংক ও এটিএম বুথ থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়ায় লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুব রহমানের মতে, নির্বাচন উপলক্ষে মানুষের নিজ এলাকায় যাওয়া ও প্রচারণামূলক ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই সাময়িকভাবে নগদ উত্তোলন বেড়েছে। তাঁর ধারণা, নির্বাচন শেষ হলে এই অর্থের বড় অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগের সময়েও ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বাড়তে দেখা যায়। তখন কিছু ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যায়। সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ করলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার ফলে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং ব্যাংকে আমানত বাড়তে শুরু করে। তবে কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগের সময় আবারও কিছু অর্থ ব্যাংকের বাইরে চলে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ ধীরে ধীরে কমেছিল। জুলাইয়ে যা ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, তা আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে পর্যায়ক্রমে কমে নভেম্বর নাগাদ ২ লাখ ৬৯ হাজার কোটির ঘরে নেমে আসে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনে নজরদারি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ১১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো হিসাবে এক দিনে মোট ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে (অনলাইন ও এটিএমসহ) তা নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) হিসেবে জমা দিতে হবে। আপাতত সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এসব প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য না দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাচ্ছে এবং একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির হিসাবে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ভোটার প্রভাবিত করার আশঙ্কা কমাতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে ব্যাংক বন্ধ থাকার সম্ভাবনা এবং অতিরিক্ত চাহিদার কারণে জানুয়ারির তুলনায় চলতি মাসে কিছু ব্যাংকে নগদ উত্তোলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এটিএম বুথ থেকে স্বাভাবিক নিয়মেই টাকা তোলা যাচ্ছে।