জাতীয়

পত্রিকা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যেও তেল–গ্যাস নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে জাহাজ

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৯, ২০২৬ 0
পত্রিকা
পত্রিকা

ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আজকের প্রধান সংবাদগুলোতে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা, ওমরাহ যাত্রীদের দুর্ভোগ এবং দেশের রাজনৈতিক প্রস্তুতির নানা দিক। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো-
 
‘তেল-গ্যাস নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে জাহাজ’ — আজকের পত্রিকা
 
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আসা জ্বালানিবাহী ১০টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে শুরু করেছে।
 
এর মধ্যে সাতটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। বাকি তিনটির একটি আজ সোমবার এবং দুটি আগামী বুধবার ও শনিবার বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
 
এসব জাহাজে মোট সাড়ে চার লাখ টন এলপিজি, এলএনজি ও জ্বালানি তেল রয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যুদ্ধ শুরুর আগেই রওনা হয়েছিল। ফলে সেগুলো কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে।
 
বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে।
 
বন্দর সূত্র জানায়, ১০টি জাহাজের মধ্যে পাঁচটিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তিনটিতে রয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)।
 
এই আটটি জাহাজে মোট সাড়ে তিন লাখ টন এলএনজি ও এলপিজি রয়েছে। বাকি দুটি জাহাজে প্রায় এক লাখ টন জ্বালানি তেল রয়েছে।
 
'পেট্রল-অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদন' — কালের কণ্ঠ
 
খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
 
যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বিবেচনায় সরকার তেল ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ায় সাময়িক চাপ দেখা দিয়েছে।
 
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটাই এবং অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়।
 
বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রল উৎপাদন করা হয়। পরে আমদানি করা অকটেন বুস্টারের সঙ্গে মিশিয়ে অকটেন তৈরি করা হয়।
দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট থেকে পেট্রল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে।
 
এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন, যেখানে দেশের পেট্রল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা আট থেকে সাড়ে আট লাখ টন।
 
‘TECH-FACILITATED VIOLENCE: Women survivors forced to navigate a flawed system’ — দ্য ডেইলি স্টার
 
খবরে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে এবং অনেক ভুক্তভোগী ত্রুটিপূর্ণ বিচারব্যবস্থার কারণে ন্যায়বিচার পেতে বাধার মুখে পড়ছেন।
 
প্রতিবেদনে বাগেরহাটের এক নারী উদ্যোক্তার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি একটি দর্জির দোকান পরিচালনা করতেন। এক ব্যক্তি গোপনে তার ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে পরে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করেন।
 
এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ঘটনা বাড়লেও পর্যাপ্ত সাইবার আদালত ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


‘ENERGY AUSTERITY: Univs, English schools to go on Eid holiday today’ — নিউ এইজ
 
খবরে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ঈদুল ফিতরের ছুটি এগিয়ে এনে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় আজ সোমবার (৯ মার্চ) থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
 
শিক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
 
এ ছাড়া বাংলা মিডিয়াম ও ইংলিশ মিডিয়ামসহ সব ধরনের কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমও এই সময়ে বন্ধ থাকবে।
 
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা অত্যন্ত জরুরি।
 
এ লক্ষ্যে পবিত্র রমজান উপলক্ষে আগামী ৯ মার্চ থেকে ঈদুল ফিতরের জন্য একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।
 
'স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জামায়াত, নজর ১২ সিটিতে' — প্রথম আলো
 
খবরে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নজর দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
 
দলটি এই নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে দেখছে। এ লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে।
 
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। এ জন্য দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
 
আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে।
 
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ পহেলা মার্চ নির্বাচন ভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ঈদুল ফিতরের পর থেকে সারা বছর ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
 
নির্বাচন কমিশনের এমন পরিকল্পনা সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীও প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নিয়ে বাড়তি নজর রয়েছে বলে জানা গেছে।
 
জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
 
‘মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি’— সমকাল
 
খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে দেখা হয় দুই বাংলাদেশি মুতামির (ওমরাহ পালনকারী) সঙ্গে। একজন রাজশাহীর মো. আজাদ, অন্যজন মুন্সীগঞ্জের রিয়াজুল হায়দার।
 
দুজনেরই দেশে ফেরার কথা ছিল শনিবার। কিন্তু এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা দেশে ফিরতে পারেননি। এখন তাদের হাতে টাকা নেই, দেশে ফেরার টিকিটও নেই। থাকা-খাওয়া নিয়েও সংকটে পড়েছেন। নতুন করে টিকিট কাটতে এজেন্সি মালিক ৫০–৬০ হাজার টাকা দাবি করছেন।
 
এ বিষয়ে সাহায্য পেতে তারা হজ মিশনে যান এবং মিশনপ্রধান কনসাল কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ শুনে হজ কর্মকর্তা ট্রাভেল এজেন্সি মালিক মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন এবং দরিদ্র মুতামিরদের কিছু টাকা ভর্তুকি দিতে অনুরোধ করেন।
 
মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এয়ারলাইন্স হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে আসা সাড়ে তিন হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন।
 
তাদের কেউ মক্কায়, কেউ মদিনায় অবস্থান করছেন। অনেক মুতামিরের টিকিট বাতিল হয়েছে এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নতুন করে টিকিট কাটতে বলছে।


‘পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান’ — নয়াদিগন্ত
 
খবরে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত সামরিক অভিযানের নবম দিনে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
 
শনিবার রাতে প্রথমবারের মতো দেশটির তেল সংরক্ষণাগার ও পরিশোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও সামনে এসেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
 
একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে।
 
ইরান পাল্টা হিসেবে ইসরাইলের পাশাপাশি কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
 
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
 
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করেছে তেহরান।
 
‘এভিয়েশন-শ্রম বাজার, যুদ্ধের জেরে বিপর্যস্ত’ — মানবজমিন
 
খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। একই সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়েছে শ্রমবাজার।
 
যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
 
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
 
এ পরিস্থিতিতে ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন্স, হোটেল-মোটেলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকেরা।
 
‘চার বছরে ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার নিট মুনাফা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের’ — বণিক বার্তা
 
খবরে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এর ফলে বেসরকারি খাতের ওপর চাপ বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে।
 
এই মুনাফার একটি বড় অংশ এসেছে সুদ আয় এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন থেকে।
 
অর্জিত মুনাফা থেকে সরকারি কোষাগারে প্রায় ৫১ হাজার ৫১২ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

জাতীয়

View more
সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত | ছবি: সংগৃহীত
সেচ সুবিধা দিতে এবার ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত

ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ বৈষম্য কমাতেই মূলত রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে এই লোডশেডিং চালু করা হচ্ছে।   দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। গতকাল সর্বোচ্চ ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহের নির্দেশ দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজধানী থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   জ্বালানি সংকটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদার বিপরীতে সরবরাহে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে এ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতির আশ্বাস দেন তিনি। বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট কম।   প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, একটি আমদানিনির্ভর ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে আনার অঙ্গীকার করেন প্রতিমন্ত্রী।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সংসদ ভবন থেকেই লোডশেডিং শুরু করার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ

প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১৪,৯৪২ জন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হাম টিকা আমদানি হয়নি: প্রধানমন্ত্রীর দাবি

ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও হরমুজে জাহাজ চলাচলে সহায়তা দেবে ইরান

ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে দূতাবাসের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। দূতাবাস জানায়, সম্প্রতি আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খাতিবজাদেহ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।  বিজ্ঞপ্তিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর শাহাদাত বরণে বাংলাদেশ সরকারের শোকবার্তা এবং জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেছে দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দূতাবাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ইরান থেকে আজারবাইজান হয়ে নিরাপদে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনে ইরান সরকার সহযোগিতা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসনের ফলে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে দূতাবাস সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের খণ্ডিত বা বিকৃত প্রচারের বিষয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দূতাবাস জানায়, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দুই দেশের বন্ধুত্বের পরিপন্থী। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি আমাদের অবস্থান পরিষ্কার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলার জয়যাত্রা

কেন হরমুজ প্রণালি পার হতে ইরানের অনুমতি পাচ্ছে না বাংলাদেশি জাহাজ?

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদে দেশের বর্তমান বৈদেশিক ঋণের হিসাব দিলেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।   প্রশ্নে সংসদ সদস্য দেশের বর্তমান বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ, তা পরিশোধে গৃহীত পদক্ষেপ এবং সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোনো ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে জানতে চান।   জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮ হাজার ৬৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।   তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) নিয়মিতভাবে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব পালন করে। প্রতি অর্থবছরে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি পূর্বাভাস তৈরি করা হয় এবং সেই অনুযায়ী বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়। এরপর নির্ধারিত সময়সূচি মেনে পুরো অর্থবছর জুড়ে ঋণ পরিশোধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

সংগৃহীত ছবি

আবার ও বদলে যেমন হচ্ছে পুলিশের পোশাক

মা আওয়ামী লীগ নেত্রী, মেয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেলেন

মা আওয়ামী লীগ নেত্রী, মেয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেলেন

0 Comments