নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠ করার পর দরূদ পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল যা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিংবা মতান্তরে ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হয়।
সাধারণত নামাজের মধ্যে দরূদে ইবরাহিম পাঠ করা অধিক উত্তম কারণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে এটি বিশেষভাবে শিক্ষা দিয়েছেন।
তবে অনেকেরই এই বিশেষ দরূদটি পুরোপুরি মুখস্থ না থাকায় তারা কেবল ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পাঠ করেন এবং এতে নামাজ হবে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন।
ইসলামি ফকিহ ও আলেমদের মতে নামাজের শেষ বৈঠকে যেকোনো স্বীকৃত ও সঠিক দরূদ পাঠ করলেই নামাজের এই সুন্নাতটি পুরোপুরি আদায় হয়ে যাবে।
বিখ্যাত আলেম ইবনে হাজার হাইতামি রহ. ও হানাফি ফকিহগণের বক্তব্য অনুযায়ী দরূদে ইবরাহিম সর্বোত্তম হলেও অন্য যেকোনো শব্দে দরূদ পড়লে নামাজের কোনো ক্ষতি হয় না।
যেহেতু ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ একটি স্বীকৃত ও পূর্ণাঙ্গ দরূদ তাই নামাজে এটি পাঠ করাকেও ধর্মীয় আইন অনুযায়ী যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।
তবে একজন সচেতন মুসলিমের জন্য নামাজের প্রতিটি দোয়া ও বিশেষ করে দরূদে ইবরাহিম সহিহভাবে শিখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ও ভাগ্যের বিষয়।
ইবাদতের পূর্ণ সওয়াব ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দরূদে ইবরাহিম মুখস্থ না থাকলে তা অবহেলা না করে দ্রুত মুখস্থ করে নেওয়া প্রত্যেক মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব।
ধর্মীয় এই বিধানটি সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে নামাজের একাগ্রতা বাড়ে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
নামাজ, দরূদে ইবরাহিম, ইসলাম ও জীবন, নামাজের দোয়া, মাসয়ালা, দরূদ পাঠের নিয়ম, ইসলামি প্রশ্ন উত্তর, ইবাদত, নামাজের বিধান, সুন্নাত, রাসূলের দরূদ, নামাজের মাসায়েল, ইসলামি শিক্ষা, ধর্মীয় জিজ্ঞাসা, নামাজের ফজিলত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ধর্ম
View moreবিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী বা মাওলিদুন্নবী পালিত হলেও সব দেশে এ উপলক্ষে সরকারি ছুটি নেই। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বহু দেশে দিনটি সরকারি ছুটির তালিকায় থাকলেও সৌদি আরবসহ কয়েকটি মুসলিম দেশে এর চিত্র ভিন্ন। ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন স্মরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালন করা হয়। অঞ্চলভেদে এটি ঈদে মিলাদুন্নবী, মাওলিদ আল-নবী কিংবা মাওলিদুন্নবী নামে পরিচিত। তবে চাঁদ দেখার ওপর ইসলামি মাস নির্ভর করায় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে দেশভেদে পালনের তারিখে এক দিনের পার্থক্য হতে পারে। লেজিট ডট এনজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর বড় একটি অংশ দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, বাহরাইন, ব্রুনেই, সেনেগাল, সোমালিয়া, সুদান ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ রয়েছে। দেশভেদে ছুটির তারিখ অবশ্য স্থানীয় চাঁদ দেখা এবং সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশেও ঈদে মিলাদুন্নবী সরকারি ছুটির দিন। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারে দিনটি ২৬ আগস্ট পড়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। তবে ইসলামি মাসের তারিখ চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় চূড়ান্ত তারিখ সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে। পাকিস্তানেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটির প্রচলন রয়েছে। আফগানিস্তান, আলজেরিয়া ও বাহরাইনসহ আরও বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রেও মাওলিদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। তবে সব মুসলিম দেশ একই ধর্মীয় ও প্রশাসনিক পদ্ধতিতে দিনটি পালন করে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন সরকারি ছুটির অন্তর্ভুক্ত। দেশটির সরকার ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের জন্য ফেডারেল সরকার ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের ২৮ আগস্ট বেতনসহ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ আগের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসে ২৫ আগস্টের কথা থাকলেও সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্তে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ আগস্ট। অন্যদিকে সৌদি আরবে মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে আলাদা সরকারি ছুটি নেই। দেশটিতে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত সরকারি ছুটির কাঠামো অন্য অনেক মুসলিম দেশের তুলনায় আলাদা। মাওলিদ পালন নিয়ে ইসলামী চিন্তাধারার মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে, আর সৌদি আরবে প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় দিনটিকে আলাদা উৎসব হিসেবে পালনের ঐতিহ্য নেই। লেজিট ডট এনজির প্রতিবেদনে সৌদি আরবের পাশাপাশি কাতারকেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিনে সরকারি ছুটি না দেওয়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দেশে সরকারি ছুটি না থাকার অর্থ সেখানে মহানবী (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা বা ধর্মীয় গুরুত্ব নেই - এমন নয়। মূল পার্থক্যটি দিনটিকে আলাদা ধর্মীয় উৎসব ও রাষ্ট্রীয় ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে। ওমানে আবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশটি ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার আগেই প্রকাশ করেছে এবং সেখানে মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন ধর্মীয় ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সূচিতে ২৭ আগস্ট এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ না হলেও দেশটির সরকারি ছুটির তালিকায় মিলাদুন্নবী গেজেটেড হলিডে হিসেবে রয়েছে। ২০২৬ সালে সেখানে ২৬ আগস্ট সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে মাওলিদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই সীমাবদ্ধ নয়। সব মিলিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এটি পালনের রাষ্ট্রীয় রীতি সর্বত্র এক নয়। কোথাও দিনটি সরকারি ছুটি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়, আবার কোথাও আলাদা সরকারি ছুটি নেই। এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে দেশভেদে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, ঐতিহ্য এবং সরকারি ছুটির নিজস্ব নীতি।
তুরস্কে ছুটি কাটাতে এসে ইসলাম গ্রহণ করলেন জার্মান নারী
মরক্কোতে মুসলিম শাসনের সূচনা যেভাবে, ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়
মাত্র পাঁচ হাজার মুসলিম, তবু কেপ ভার্দেতে ধীরে ধীরে শক্ত হচ্ছে ইসলামের ভিত্তি
জীবিকার তাগিদে দেশের বাইরে বা দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করা অনেক মানুষের বাস্তবতা। তবে দীর্ঘ সময় স্ত্রী ও পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা নিয়ে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। হানাফি ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও দাম্পত্য জীবনের ভারসাম্য রক্ষা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার অংশ। এ কারণে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া দীর্ঘ সময় তার কাছ থেকে দূরে থাকা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামী শরিয়তের সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্ত্রীর আন্তরিক সম্মতি ছাড়া স্বামীর চার মাসের বেশি সময় দূরে অবস্থান করা সমীচীন নয়। তবে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুমতি দেন এবং এতে কোনো ধরনের পারিবারিক বা নৈতিক সমস্যার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে বিশেষ পরিস্থিতিতে চার মাসের বেশি সময় প্রবাসে থাকা বৈধ হতে পারে। তবে ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন, বিষয়টি শুধু সময়ের হিসাব দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। বরং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক পরিবেশ, মানসিক অবস্থা এবং নৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ দূরত্বের কারণে যদি স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কেউ নৈতিক বিপর্যয়, পারিবারিক সংকট বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় থাকেন, তাহলে দীর্ঘ সময় আলাদা থাকা উচিত নয়। এমনকি ঝুঁকি প্রবল না হলেও যদি বাস্তব কোনো উদ্বেগ থাকে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব পারিবারিকভাবে একত্রে থাকার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে লাখো বাংলাদেশি জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থান করছেন। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। এ বাস্তবতার আলোকে আলেমরা মনে করেন, প্রবাসজীবনে দাম্পত্য সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি কর্মস্থলের পরিস্থিতি অনুকূল হয়, তাহলে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা। তা সম্ভব না হলে সুযোগ পেলেই পরিবারের কাছে ফিরে আসার চেষ্টা করা উচিত। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করতে হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ত্রীর আন্তরিক সম্মতি, উভয়ের নৈতিক নিরাপত্তা, পরিবারের ভরণ-পোষণের যথাযথ ব্যবস্থা, সন্তানদের শিক্ষা ও লালন-পালনের দায়িত্ব পালন এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা। আলেমদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দূরত্ব থাকলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর খোঁজখবর নেওয়া, তার মানসিক চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং পারিবারিক সম্পর্ককে সক্রিয় রাখা। পবিত্র কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তম আচরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরা নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের ভিত্তিতে জীবনযাপন করো।” ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানসিক সঙ্গ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিয়মিত যোগাযোগও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে থাকলেও পরিবার ও দাম্পত্য অধিকারের বিষয়টি সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সবশেষে আলেমদের পরামর্শ হলো, প্রবাসজীবনের পরিকল্পনা করার সময় শুধু উপার্জনের বিষয় নয়, বরং পারিবারিক স্থিতি, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং নৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সৌদি আরবে শুটিংয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করলেন হলিউড অভিনেতা
ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
খুশির রঙে এলো ঈদুল আজহা, ত্যাগ ও মানবিকতার বার্তায় উদ্যাপিত হচ্ছে মুসলিমদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব
পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা আরাফাতের ময়দানে লাখো হাজির উপস্থিতিতে হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদে নববির ইমাম শেখ আলী আল-হুদাইফি। মঙ্গলবার মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া এই খুতবায় তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানান। মরুর তীব্র গরমের মধ্যেই এদিন আরাফাতের ময়দানে হাজিরা একত্রিত হন। প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও লাখো মুসল্লি নামাজ আদায় ও ইবাদতে অংশ নেন। খুতবা শেষে শেখ আল-হুদাইফি আবেগঘন মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি হাজিদের হজ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও শান্তি এবং হাজিদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্যও প্রার্থনা জানান। মোনাজাতে তিনি বলেন, “হে আল্লাহ, আপনি মুসলিমদের অবস্থার উন্নতি করুন। তাঁদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে দিন এবং তাঁদের সত্যের পথে পরিচালিত করুন।” সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, খুতবায় শেখ আল-হুদাইফি হজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, হজ ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ। এর ভিত্তি হলো আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। তিনি বলেন, হজ বিশ্বের বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের মুসলিমদের মধ্যে পরিচিতি, সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ মিলনমঞ্চ। খুতবায় তিনি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, তাকওয়ার গুরুত্ব এবং মুমিনদের জন্য আল্লাহর সাহায্যের বিষয়েও আলোচনা করেন। একই সঙ্গে উত্তম আচরণ ও সত্য কথা বলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ আল-হুদাইফি হাজিদের গুনাহ, ঝগড়া-বিবাদ এবং রাজনৈতিক বা দলীয় স্লোগান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ভোর থেকেই হাজিরা মক্কার নিকটবর্তী ৭০ মিটার উঁচু জাবালে রহমতে সমবেত হন। সাদা ইহরাম পরিহিত অবস্থায় তারা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় অংশ নেন। প্রায় ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই পাহাড়েই বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। এসপিএ জানায়, খুতবা শেষে হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে কসর করে আদায় করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মসজিদে নামিরা ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর একটি। কারণ, এই স্থানেই মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেছিলেন। নামিরা পাহাড়ের নামানুসারে মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। আরাফাতের ময়দানের উত্তরে অবস্থিত এই মসজিদ মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। মিন, আরাফাত ও মুজদালিফার মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। সৌদি আরবের পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা মক্কা জেনারেল ট্রান্সপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটের মধ্যেই হাজিদের আরাফাতে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শেষ হয়। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। হাজিদের যাতায়াতে শাটল বাস, সাধারণ যানবাহন এবং আল মাশায়ের আল মুকাদ্দাসাহ মেট্রোরেল ব্যবহার করা হয়।
কাবা শরিফ কেন কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে, ভেতরে কী আছে
মক্কা ও মদিনার যে ১০ স্থানে দোয়া কবুল হয়