হোয়াইট হাউসে কুস্তি খেলায় ড্রোন ও বন্দুক হামলার বড় ষড়যন্ত্র বানচাল
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে গত উইকেন্ডে অনুষ্ঠিত একটি হাই-প্রোফাইল ইউএফসি (UFC) খাঁচা-কুস্তি (কেজ-ফাইটিং) ম্যাচকে লক্ষ্য করে তৈরি করা এক ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদালতের সিলমোহর মুক্ত করা নথিপত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ একদল ষড়যন্ত্রকারী বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ওড়ানো এবং বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ছক কষেছিল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, এফবিআই এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রায় ২০ জন সদস্যের একটি এনক্রিপ্টেড টেক্সট মেসেজ গ্রুপের চ্যাটিং উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সেখানে তারা হামলার এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র শেয়ার করেছিল এবং হামলার পর লুকিয়ে থাকার জন্য একটি 'সেফ হাউস' ও পালানোর পথ নিয়ে আলোচনা করছিল। তবে গত সপ্তাহে সফলভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কতটা কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছিল তা আদালতের রেকর্ড থেকে এখনো স্পষ্ট জানা যায়নি।
গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে (দক্ষিণ চত্বর) এই মিক্সড মার্শাল আর্টস বা কুস্তি প্রতিযোগিতার আসর বসার কথা ছিল। এর ঠিক চার দিন আগে, অর্থাৎ ১০ জুন এফবিআই সম্ভাব্য এই হুমকির বিষয়টি প্রথম জানতে পারে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, "এফবিআই, আমাদের সহযোগী সংস্থা এবং বিচার বিভাগের একটি বহুমাত্রিক যৌথ তৎপরতার কারণে একাধিক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিকল্পিত হামলাটি শুরু হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।"
এই ঘটনার তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন যে, ওহাইও, মিসৌরি এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ওহাইও-এর ১৯ বছর বয়সী তরুণ টাইসেন প্রোপার রয়েছেন। এফবিআই-এর হলফনামা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রোপারের মা তার ছেলের বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কেনাকাটা এবং সন্দেহজনক অনলাইন যোগাযোগ নিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়া প্রোপারের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রোপার স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই হামলার পরিকল্পনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। হলফনামা থেকে আরও জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা গত মার্চ মাস থেকে 'ভ্যানগার্ড অব দ্য ওল্ড' নামক একটি টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছিল। নথিতে বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে এবং দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য এটিকে প্রথমে ধ্বংস করা প্রয়োজন। এছাড়া জেফ্রি এপস্টেইনের মতো বিতর্কিত চরিত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যেন দেশ শাসন করতে না পারে, সেটিও ছিল তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreটেক্সাসের ছোট শহর ট্রিনিডাডের পুলিশ বিভাগকে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় পানির মান নিয়ে ফেসবুকে অভিযোগ করার পর এক নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘিরে বিভাগটির কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, পুলিশ বিভাগটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে ন্যূনতম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডও পূরণ করছিল না। টেক্সাস কমিশন অন ল এনফোর্সমেন্ট বা টিসিওএলই ৯ সেপ্টেম্বর ট্রিনিডাডের মেয়র ডেনিস হজকে চিঠি দিয়ে পুলিশ বিভাগের কার্যক্রমের অনুমোদন প্রত্যাহারের কথা জানায়। কমিশনের তদন্তে বলা হয়, বিভাগটি ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য পুলিশ বিভাগ হিসেবে কী ধরনের জনকল্যাণমূলক ভূমিকা পালন করছে, তারও যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি। ট্রিনিডাডে প্রায় ৮০০ মানুষের বসবাস। শহরটি ডালাস থেকে প্রায় ৭৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে হেন্ডারসন কাউন্টিতে অবস্থিত। ছোট এই পুলিশ বিভাগে পাঁচজন ফুলটাইম অফিসারসহ কয়েকজন পার্টটাইম কর্মকর্তা কাজ করতেন। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিভাগটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নেবে হেন্ডারসন কাউন্টি শেরিফের অফিস। পুলিশ বিভাগটির বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্রপাত হয় স্থানীয় বাসিন্দা জেনিফার কম্বসকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মে মাসে কম্বস ফেসবুকে ট্রিনিডাডের পানির মান নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি এবং এর কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে অভিযোগের কথা তুলে ধরেছিলেন। পরে ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে তাকে ‘মিথ্যা সতর্কতা বা রিপোর্ট’ সংক্রান্ত একটি গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি এক রাত জেলে ছিলেন। পরে সেই অভিযোগ আর বহাল থাকেনি। পুলিশের তৎকালীন প্রধান চার্লস গ্রেগরি সে সময় কম্বসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি ছিল, তার ফেসবুক পোস্ট স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বা অপ্রয়োজনীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তবে ঘটনাটি দ্রুতই ব্যাপক আলোচনায় আসে, কারণ কম্বসের অভিযোগের কয়েক সপ্তাহ আগে শহর কর্তৃপক্ষ নিজেই পানির ব্যাপারে বাসিন্দাদের সতর্ক করে ফুটিয়ে পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছিল। পরবর্তীতে টেক্সাস কমিশন অন এনভায়রনমেন্টাল কোয়ালিটির তদন্তেও ট্রিনিডাডের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা থাকার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে কম্বস যে পানির মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, সেটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দাবির প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। কম্বসকে গ্রেপ্তারের পরদিন তার এক সমর্থক উইনস্টন নোলসকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সিটি হলের বাইরে পুলিশের সমালোচনা করে একটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই অভিযোগও পরে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনাগুলোর পর টিসিওএলই পুলিশ বিভাগটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে শুধু বিতর্কিত গ্রেপ্তারের বিষয়ই নয়, পুলিশ বিভাগের সামগ্রিক কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, বিভাগটির কাছে কর্মকর্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম ছিল না। এর মধ্যে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ও উঠে আসে। এ ছাড়া পুলিশের ব্যবহারবিধি, বলপ্রয়োগ, গাড়ি ধাওয়া, সক্রিয় বন্দুকধারী পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তাদের পেশাগত আচরণ নিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালার ঘাটতিও তদন্তে পাওয়া যায়। টিসিওএলইর তদন্তে মোট ১৮টি প্রয়োজনীয় নীতিমালার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে বলে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এই ঘটনার মধ্যে জুনে পুলিশ প্রধান চার্লস গ্রেগরি পদত্যাগ করেন। পরে হেন্ডারসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসও ট্রিনিডাড পুলিশ বিভাগের মামলা গ্রহণ বন্ধ করার কথা জানায়। কম্বসের গ্রেপ্তারের জন্য যে তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট নেওয়া হয়েছিল, সেটি নিয়েও বিচারকের পক্ষ থেকে তথ্যের নির্ভুলতা ও পূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রিনিডাডের মেয়র ডেনিস হজ পুলিশ বিভাগ বন্ধের সিদ্ধান্তকে বিস্ময়কর মনে করেননি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, বিভাগটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার সমস্যা ছিল এবং এখন শহরকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ বিভাগ বন্ধ হওয়ার পর আপাতত শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব হেন্ডারসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের হাতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ বিভাগের পুরোনো কার্যক্রম, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলবে। কম্বস এরই মধ্যে নিজের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে শহরের বিরুদ্ধে ভুলভাবে গ্রেপ্তার ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন। তবে সেই মামলার অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। অন্যদিকে রাজ্য তদন্তের ফলাফলও কম্বসের বিরুদ্ধে আনা আগের অভিযোগকে আদালতের রায়ে মিথ্যা ঘোষণা করেনি। নিশ্চিতভাবে যা জানা গেছে, তা হলো তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আর কার্যকর নেই এবং যে পুলিশ বিভাগ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল, সেটি ন্যূনতম পরিচালনাগত মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
ভোটার তালিকা নিয়ে কড়াকড়ি, অবৈধ ভোটের অভিযোগে গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার
ইরান যুদ্ধের ক্ষমতা কমাতে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৭ রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট
কস্টকোতে মোটর অয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ, ক্রেতা কতটুকু তেল কিনবেন, তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ
মিশিগানের ২৪ বছর বয়সী গ্রেস শিমচ্যাকের গ্র্যাজুয়েশন হওয়ার কথা ছিল ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩। এর তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিকল্পনার আগেই ৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর আলো দেখে মেয়ে অ্যানাবেল। তবু দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্জিত ডিগ্রির গুরুত্বপূর্ণ দিনটি গ্রেস হাতছাড়া করতে চাননি। সন্তান জন্মের মাত্র ১০ দিন পর ১৫ ডিসেম্বর তিনি মিশিগানের বিগ র্যাপিডসে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে হাজির হন। সঙ্গে ছিল তার সদ্যোজাত মেয়ে অ্যানাবেল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে। সমাবর্তনে গ্রেস তার ছোট মেয়েকে একটি বেবি ক্যারিয়ারে নিজের শরীরের সঙ্গে রেখে তার ওপর গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরেছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অ্যানাবেল ঘুমিয়েই ছিল। গ্রেসের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গ্রেস ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ম্যাগনা কাম লডে সম্মান পান। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ, বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব সামলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি মিশিগানের ট্রাভার্স সিটিতে তিন বছর বয়সী শিশুদের জন্য একটি স্টেট ফান্ডেড প্রি-স্কুলে ফুলটাইম শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। গ্রেস জানিয়েছিলেন, ডিগ্রির জন্য তিনি দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাই অ্যানাবেল নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নিলেও সহপাঠীদের সঙ্গে মঞ্চে হেঁটে ডিগ্রি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। একই সঙ্গে সদ্যোজাত মেয়েকে নিজের কাছ থেকে দূরে রাখতেও প্রস্তুত ছিলেন না। গ্রেসের এই বিশেষ মুহূর্তের ছবি পরে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রকাশ করে। ছবিতে তাকে গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরা অবস্থায় দেখা যায়, আর গাউনের ভেতরে তার ছোট্ট মেয়ে অ্যানাবেল। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক মনোযোগ পায়। গ্রেস পরে জানান, তার এই অভিজ্ঞতা অন্য মা-বাবাকে পড়াশোনা শেষ করার স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করুক, সেটিই তিনি চান। ২০২৪ সালে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিজের গল্প দেখে অন্যরা যেন বুঝতে পারেন, জীবনের নানা দায়িত্বের মধ্যেও নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করা সম্ভব।
দামী কেনাকাটার পর ‘চুরি’ দাবি করে অর্থ ফেরতের চেষ্টা, লাস ভেগাসের পুলিশ কর্মকর্তা ও স্ত্রী হেফাজতে
ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা
এনগেজমেন্টের এক বছরের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে শীত মৌসুমে জরুরি তুষার অপসারণ কর্মসূচিতে কাজ করা কর্মীদের পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পাওয়া যাবে। সপ্তাহে প্রথম ৪০ ঘণ্টা কাজের পর প্রতি ঘণ্টার পারিশ্রমিক বেড়ে হবে ৪৫ ডলার। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি মঙ্গলবার এই নতুন পারিশ্রমিক কাঠামোর ঘোষণা দেন। গত শীতের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। গত বছর ঘণ্টায় ১৯ দশমিক ১৪ ডলার এবং সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের পর ঘণ্টায় ২৮ দশমিক ৭১ ডলার দেওয়া হয়েছিল। গত শীতে ভারী তুষারপাত, তুষারঝড় ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে নিউইয়র্কের জরুরি তুষার অপসারণ কর্মসূচিতে ৭ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছিলেন। শহরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তুষার সরানোর কর্মী ও স্যানিটেশন বিভাগের কর্মীরা মিলে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার পথচারী পারাপারের স্থান, ৩৪ হাজার বাসস্টপ এবং ২৯ হাজার অগ্নিনির্বাপক হাইড্র্যান্ট পরিষ্কার করেছিলেন। এবার কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সময়ও এগিয়ে আনা হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে স্যানিটেশন বিভাগের কোনো নিবন্ধন আয়োজনে নাম নিবন্ধন করলে আবেদনকারীরা ডিসেম্বরে চার ঘণ্টার একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য পারিশ্রমিক পাবেন। দ্রুত পারিশ্রমিক দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে; কাজ করার দুই সপ্তাহের মধ্যে অর্থ পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ কর্মসূচির প্রথম নিবন্ধন আয়োজন হবে শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্রঙ্কসের টাফট হাইস্কুলে। পরে পাঁচ বরোতে আরও নিবন্ধন আয়োজনের তথ্য স্যানিটেশন বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরকারি ওয়েবসাইটে জানাবে। মামদানি বলেন, গত শীতে হাজারো নিউইয়র্কবাসী ভারী তুষার ও বরফ সরিয়ে নিজেদের প্রতিবেশীদের সহায়তা করেছেন। এবার পারিশ্রমিক বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে, যাতে তুষারপাত শুরু হলে শহর দ্রুত প্রস্তুতি নিতে পারে। এই কাজে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আইন অনুযায়ী কাজের অনুমতিও থাকতে হবে এবং শীতের কঠিন আবহাওয়ায় শারীরিকভাবে পরিশ্রম করার সক্ষমতা থাকতে হবে। আবেদনকারীদের একটি বৈধ ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, ফেডারেল ও স্টেট উইথহোল্ডিং ফর্ম এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রসহ আই-৯ ফর্ম পূরণ করতে হবে। এবার আর নিজের ছবি প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে না; নিবন্ধনের সময় স্যানিটেশন বিভাগের কর্মীরাই ছবি তুলে দেবেন। নিউইয়র্ক সিটির জরুরি তুষার অপসারণ কর্মসূচিতে কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ থাকায় শীত মৌসুমের আগে অনেকেই এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তুষারপাতের সময় পথচারীদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাসস্টপসহ বিভিন্ন জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করতেই এই কর্মীদের কাজে লাগানো হবে।
পুলিশ সেজে বয়স্ক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে সোনা হাতানোর চেষ্টা, গ্রে প্তার ৩
ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার, সামনে মাসে আরও ৩ বিলিয়ন