সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া ট্রাকচালকদের ওপর কড়া নজরদারি ও কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল নিয়ে নতুন নিয়ম জারি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার, ২ লাখের সিডিএল বাতিলের ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের অভিযান ও নজরদারি জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন নিয়মের কারণে প্রায় ২ লাখ নন-ডমিসাইলড কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএলধারী চালকের লাইসেন্স ভবিষ্যতে হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। এ বিষয়টি এখন ফেডারেল আপিল কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছে।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ট্রাক স্টপ, ওয়েই স্টেশন ও অন্যান্য স্থানে চালকদের কাগজপত্র এবং অভিবাসন স্ট্যাটাস যাচাই করছে। এসব অভিযানে বিদেশে জন্ম নেওয়া কিছু ট্রাকচালককে আটকও করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক চালকের আইনি পরিস্থিতি এক নয়। কারও ক্ষেত্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি আলাদা ফৌজদারি অভিযোগ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও থাকতে পারে।   এই পদক্ষেপের পাশাপাশি ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএমসিএসএ নন-ডমিসাইলড সিডিএল নিয়ে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। ১৬ মার্চ ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে বিদেশে ডমিসাইল থাকা ব্যক্তিদের নন-ডমিসাইলড সিডিএল পাওয়ার যোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট এইচ-২এ, এইচ-২বি এবং ই-২ ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন স্ট্যাটাসধারীরাই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এই লাইসেন্স পেতে পারেন।    এফএমসিএসএর যুক্তি, নতুন নিয়মের মাধ্যমে চালকদের পরিচয়, বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস এবং আগের ড্রাইভিং রেকর্ড আরও ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। সংস্থাটি বলছে, বিদেশি ড্রাইভারদের আগের ড্রাইভিং রেকর্ড যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং নতুন ব্যবস্থা সেই ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে।    নতুন নিয়মের কারণে কিছু পুরোনো নন-ডমিসাইলড সিডিএলও পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। এফএমসিএসএ অঙ্গরাজ্যগুলোকে এমন লাইসেন্স শনাক্ত করে বাতিল বা ডাউনগ্রেড করার নির্দেশনা দিয়েছে, যেগুলো ইস্যুর সময়কার ফেডারেল নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরও যেসব লাইসেন্স বর্তমান শর্ত পূরণ করছে না, সেগুলোও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডাউনগ্রেড বা বাতিল হতে পারে।    তবে এই নীতির বিরোধীরা বলছেন, শুধু একজন চালকের অভিবাসন স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে তাকে সড়ক নিরাপত্তার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখানোর যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাদের যুক্তি, ড্রাইভিং রেকর্ড সরাসরি যাচাইয়ের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অভিবাসন শ্রেণির চালকদের লাইসেন্সের যোগ্যতা সীমিত করা হচ্ছে।   এই বিতর্ক এখন আদালতে। ১৫ সেপ্টেম্বর ডিসি সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে নতুন নিয়ম নিয়ে শুনানি হয়েছে। বিচারকেরা সরকারের আইনজীবীদের কাছে জানতে চেয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিবাসন স্ট্যাটাসের সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তার সম্পর্ক কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই নিয়মের মাধ্যমে এত বড় একটি চালকগোষ্ঠীকে সীমিত করার প্রয়োজনীয়তা কী।    ট্রাকিং শিল্পে এর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো চালক নন-ডমিসাইলড সিডিএলের যোগ্যতা হারালে বাণিজ্যিক ট্রাক চালানোর কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে চালকদের কর্মসংস্থান, ট্রাকিং কোম্পানির জনবল এবং পরিবহন খাতে চালকের সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব আদালতের সিদ্ধান্ত এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।   এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ২ লাখের সংখ্যা মানে ২ লাখ চালকের সিডিএল ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে এমন নয়। বরং এই সংখ্যা নন-ডমিসাইলড সিডিএলধারীদের সম্ভাব্য প্রভাবিত গোষ্ঠীকে বোঝায়। নতুন নিয়মের কারণে তাদের অনেকের লাইসেন্স নবায়ন, পুনরায় ইস্যু বা ধরে রাখার যোগ্যতা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।    বর্তমানে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট চালক, ট্রাকিং কোম্পানি ও অঙ্গরাজ্যগুলো। আদালত নতুন নিয়ম বহাল রাখলে যোগ্যতা হারানো চালকদের সিডিএল নিয়ে আরও পদক্ষেপ হতে পারে। আর আদালত নিয়মটি বাতিল বা স্থগিত করলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে প্রায় ২ লাখ নন-ডমিসাইলড সিডিএলধারী চালকের জন্য আগামী সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা নিউইয়র্ক সিটির
অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি জানান, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহর ও কাউন্টির একটি জোট ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেছে।   ১০৮ পৃষ্ঠার মামলায় নতুন বিধি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত ইমিগ্রেশন নির্দেশনা বাতিলের পাশাপাশি সেগুলো কার্যকর করা থেকে ফেডারেল সরকারকে বিরত রাখার আবেদন করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে মামলায় বাদী হয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি ও ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি। তাদের সঙ্গে রয়েছে পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট।   নতুন বিধিটি আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গ্রিন কার্ডের আবেদন পর্যালোচনার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সরকারি সহায়তা নেওয়ার ইতিহাস আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃতভাবে বিবেচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয়ও মূল্যায়ন করা হতে পারে।   মামদানি অভিযোগ করেন, নতুন এই নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় সরকারি কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তাঁর মতে, চিকিৎসা নিতে বা আইনসম্মত সরকারি সহায়তা চাইতে গিয়ে অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু নির্দিষ্ট কিছু পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈধভাবে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অনেক মানুষও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া থেকে পিছিয়ে যেতে পারেন।   মেয়র বলেন, অভিবাসী কমিউনিটিকে বোঝা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, অভিবাসীরাই নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। নতুন বিধিটিকে ‘নিষ্ঠুর ও বেআইনি’ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে শহর ও কাউন্টিগুলোর জোটকে নেতৃত্ব দিতে পেরে নিউইয়র্ক সিটি গর্বিত বলেও জানান তিনি।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘পাবলিক চার্জ’-এর সংজ্ঞা নির্ধারণে কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ঐতিহাসিকভাবে এই শব্দটি এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো, যারা জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে নগদ সরকারি সহায়তা বা সরকারি খরচে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাদীপক্ষের অভিযোগ, নতুন বিধিতে সেই সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ান—কংগ্রেসের সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নতুন বিধি তৈরি করা হয়েছে।   একই দিনে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি মামলাও করা হয়েছে। এতে ২০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো নতুন বিধিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জেমস বলেন, সরকারি সহায়তা চাইলে ডি পোর্ট হওয়ার আশঙ্কায় পরিশ্রমী পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে দূরে রাখা উচিত নয়।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ বিভিন্ন অভিবাসী পরিবারের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ অনেক পরিবার মেডিকেইড ও স্ন্যাপের মতো সরকারি কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকে। কমিউনিটি নেতাদের আশঙ্কা, নতুন বিধি কার্যকর হলে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের কেউ কেউ ভয়ের কারণে আইনসম্মত সুবিধা নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন।   তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে সরকারি সহায়তা নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সরকারি সুবিধা গ্রহণের ইতিহাসের পাশাপাশি তাঁর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।   এদিকে নিউইয়র্কবাসী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিনা মূল্যের, নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তা পেতে মেয়র অফিসের ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও নিজের ভাষায় আইনি সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতীকী চিত্র
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি যেন ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আটক করার ঘটনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানুষ শনাক্ত ও নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদারের ফলে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে গ্রীষ্মজুড়ে ব্যাপক অভিযান চললেও সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের দেশত্যাগের সংখ্যা বাড়েনি। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনি ও বাস্তব নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আগস্টে আইসিইর আটক কার্যক্রমে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়। টানা তৃতীয় মাসের মতো এ সংখ্যা ছিল রেকর্ড। কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা মে মাসের দৈনিক গড়ের কাছাকাছি। অথচ মে মাসে আইসিইর আটক কার্যক্রম আগস্টের তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার কম ছিল। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, আটক ও দেশত্যাগের সংখ্যার এই ব্যবধানের অন্যতম কারণ হলো আটক ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান ও সাবেক পাঁচজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা দণ্ড নেই এবং যাদের ক্ষেত্রে এখনো দেশত্যাগের চূড়ান্ত আদেশও দেওয়া হয়নি। আটক ব্যক্তিদের অনেকেরই আশ্রয়ের আবেদন বা অন্য কোনো আইনি দাবি বিচারাধীন রয়েছে। ফলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেদের আইনি অধিকার ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে রাজি হলে দ্রুত দেশত্যাগ করতে পারেন। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ফ্লাইটের অভাব এবং কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রাখায় ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি কমছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই বিশ্লেষণ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র লরেন বিস এটিকে ‘ভুল বর্ণনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছেন।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সিতে আইসিই কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার বিধিনিষেধ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ডিওজে
আইসিই কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার বিধিনিষেধ নিয়ে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ডিওজের মামলা

নিউ জার্সিতে দায়িত্ব পালনের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা রাজ্য আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে)। মামলাটি ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল গত ২৫ মার্চ ২০২৬ একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এতে দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাজ্য সরকারের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি বাড়ানো। রাজ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমের সময় এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে নিউ জার্সি। তবে ২৯ এপ্রিল ডিওজে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। বিচার বিভাগের দাবি, রাজ্য সরকার ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণ করতে পারে না। ডিওজের মতে, মুখ ঢাকার সুযোগ সীমিত করার মতো বিধিনিষেধ ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এসব নিয়ম তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। মামলাটি নিউ জার্সিতে ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের চলমান মতবিরোধের অংশ। এর আগে রাজ্যের আরেকটি নির্বাহী আদেশ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিউ জার্সির আইনি বিরোধ হয়েছিল। ওই আদেশে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রবেশ এবং সেখানে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। তবে ওই মামলায় নিউ জার্সি আদালতের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউ জার্সির ফেডারেল জেলা আদালত রাজ্যের ওই নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলাটি খারিজ করে দেয়। পরে গভর্নর ও রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন মামলাটি অবশ্য ভিন্ন একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—একটি রাজ্য কতটা পর্যন্ত ফেডারেল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার মতো বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিই এখন আদালতের বিবেচনার বিষয়। ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের এই বিরোধ নিউ জার্সির অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয়, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে কীভাবে কার্যকর হবে, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণের পাশাপাশি কাজের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা, সুযোগ পাচ্ছে ৩০ দেশের নাগরিক

অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬-২৭ কর্মসূচির আওতায় ৩০ দেশের নাগরিকদের জন্য প্রথম ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা চালু রেখেছে। এই ভিসার আওতায় নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী তরুণরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ভ্রমণের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি কাজ করতে পারবেন। তবে চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের জন্য আবেদন করার আগে লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার শর্ত রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা সাবক্লাস ৪৬২ মূলত তরুণদের জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ১২ মাস পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ছুটি কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায় এবং সেই সময় ভ্রমণের খরচ চালাতে স্বল্পমেয়াদি কাজ করা যায়। এটি মূলত কাজের জন্য আলাদা শ্রমিক ভিসা নয়, বরং ভ্রমণকে কেন্দ্র করে কাজের সুযোগ দেওয়া একটি কর্মসূচি।   বর্তমানে সাবক্লাস ৪৬২-এর আওতায় যেসব দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারেন, সেগুলো হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, চেক প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, পেরু, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, সান মারিনো, সিঙ্গাপুর, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, উরুগুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম।   তবে সব দেশের নাগরিকের জন্য আবেদনের নিয়ম এক নয়। চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের প্রথমে নির্ধারিত লটারি বা ব্যালট প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করতে হয়। সেখান থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে নির্বাচিত হলে তবেই তারা ভিসার মূল আবেদন করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়া এই ব্যবস্থা চালু করেছে কারণ এসব দেশের ক্ষেত্রে ভিসার নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর চাহিদা অনেক বেশি।   ২০২৬-২৭ কর্মবর্ষের জন্য চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের ব্যালট নিবন্ধন ২৫ জুন ২০২৬ বন্ধ হয়েছে বলে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। অর্থাৎ এসব দেশের নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির পরবর্তী ব্যালটের সময়সূচির জন্য সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।   অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশভেদে প্রথম সাবক্লাস ৪৬২ ভিসার বার্ষিক সংখ্যাতেও সীমা রয়েছে। যেমন চীনের জন্য ৫ হাজার, ভারতের জন্য ১ হাজার এবং ভিয়েতনামের জন্য ১ হাজার ৫০০টি পর্যন্ত প্রথম ভিসা দেওয়ার সীমা রয়েছে। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বার্ষিক সীমা রয়েছে। কোনো দেশের নির্ধারিত সীমা পূরণের কাছাকাছি গেলে আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হতে পারে।   ভিসাটির ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। সাবক্লাস ৪৬২ ভিসায় বয়সসীমা সাধারণভাবে ১৮ থেকে ৩০ বছর। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান এবং অন্যান্য ভিসা শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই শুধু তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিক হলেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।   ভিসা পেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অবস্থায় কাজ করা গেলেও একই নিয়োগকর্তার অধীনে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ছয় মাস কাজ করার সীমা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই সীমার ব্যতিক্রম বা বাড়তি অনুমতির সুযোগ থাকতে পারে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য মূলত দীর্ঘ ছুটির সময় ভ্রমণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। অস্ট্রেলিয়ার Working Holiday Maker কর্মসূচি ১৯৭৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে কাজ করছে। বর্তমানে দুটি ভিসা শ্রেণির মাধ্যমে ৪০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য এ ধরনের সুযোগ রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ভিসা অনুমোদনের আগে বিমান টিকিট বা ভ্রমণসংক্রান্ত চূড়ান্ত ব্যবস্থা না করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে এবং ভিসা পাওয়ার আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকে না।   তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই নির্দিষ্ট সাবক্লাস ৪৬২ ভিসার সুযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ৩০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। ফলে বাংলাদেশি তরুণদের অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ ও কাজের জন্য অন্য উপযুক্ত ভিসা শ্রেণির যোগ্যতা ও শর্ত বিবেচনা করতে হবে।   সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর, Working Holiday Maker Program; Legit.ng।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত
সেপ্টেম্বর ভিসা বুলেটিনে সতর্কবার্তা, কিছু ভিসা শ্রেণিতে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসার বেশিরভাগ শ্রেণির নির্ধারিত তারিখ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ভিসার চাহিদা ও ব্যবহারের হার বাড়তে থাকলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি এবং পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশের নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি বার্ষিক ভিসার সীমা পূরণ হলে এসব শ্রেণি অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।   বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয়, তাদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি সেপ্টেম্বরেও উন্মুক্ত রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ এবং অন্যান্য শ্রমিক শ্রেণির তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২। পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশও বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।   তবে উন্মুক্ত থাকার অর্থ এই নয় যে এসব শ্রেণির বর্তমান অবস্থা পুরো অর্থবছর একই থাকবে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে আবেদনকারীর চাহিদা বাড়লে বা ভিসা ব্যবহারের হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বার্ষিক সীমা পূরণ হলে কোনো শ্রেণিকে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই অনুপলব্ধ ঘোষণা করা সম্ভব।   বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি নিয়ে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য এই শ্রেণি উন্মুক্ত থাকলেও চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের হার বাড়লে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে অথবা শ্রেণিটি অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   কর্মসংস্থানভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশ নিয়েও একই সতর্কতা রয়েছে। বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য এই শ্রেণি বর্তমানে উন্মুক্ত। তবে চাহিদা বাড়লে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ পিছিয়ে দেওয়া বা ভিসার বার্ষিক সীমা পূরণ হলে শ্রেণিটি অনুপলব্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্ব এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত পঞ্চম শ্রেণির তিনটি অংশ সেপ্টেম্বরেও সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।   ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম শ্রেণিতে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২২ নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চ চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের কারণে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে ভারতের জন্য এই শ্রেণিও অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। ভারতের কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি সেপ্টেম্বরেও অনুপলব্ধ রয়েছে।   পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রেও সেপ্টেম্বরের জন্য আলাদা চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণির তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২০, দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘এ’ শ্রেণির ২২ আগস্ট ২০২৬, দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘বি’ শ্রেণির ২২ আগস্ট ২০১৯, তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির ২২ অক্টোবর ২০১৪ এবং চতুর্থ অগ্রাধিকার শ্রেণির ২২ অক্টোবর ২০১১।   ভিসা বুলেটিনে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ বলতে বোঝানো হয়েছে—কোনো আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ ওই নির্ধারিত তারিখের আগের হলে তার ভিসা ইস্যুর জন্য সংখ্যা পাওয়া যেতে পারে। আর নথি জমা দেওয়ার তারিখ আলাদা বিষয়। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করা কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখের তালিকা ব্যবহার করতে হবে বলে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা জানিয়েছে।   ২০২৬ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিবারভিত্তিক অগ্রাধিকার অভিবাসী ভিসার সীমা ২ লাখ ২৬ হাজার এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অগ্রাধিকার অভিবাসী ভিসার সীমা ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত বার্ষিক সীমার কারণে কোনো শ্রেণিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের জন্য তারিখ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।   এদিকে বৈচিত্র্যভিত্তিক অভিবাসী ভিসা কর্মসূচির ২০২৬ সালের আবেদনকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিতদের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার সঙ্গে শেষ হবে। তবে তার আগেই নির্ধারিত ভিসার সংখ্যা শেষ হয়ে যেতে পারে বলে পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করেছে।   ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের তাই নিজেদের ভিসার শ্রেণি, কোন দেশের কোটায় আবেদন করছেন এবং অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির আবেদনকারীদের সামনে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে তারিখ পরিবর্তন বা ভিসা অনুপলব্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরবর্তী সরকারি আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
ভাইকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অভিযোগ, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে

ভাইকে বিয়ে করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার মাধ্যমে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে যে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে রয়েছে, তা নিয়ে ফেডারেল তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওমরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক বেনি জনসনের সঙ্গে আলাপকালে মুলিন ইলহান ওমরের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে চলমান তদন্তের কথা জানান। তিনি দাবি করেন, ওমর তাঁর ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্দেশ্যে তাকে বিয়ে করেছিলেন।   মুলিন বলেন, তদন্তে আরও কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে। ওমরের পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড যুক্ত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।   তবে মুলিন একই সঙ্গে বলেন, তদন্ত এখনো চলছে এবং কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে অভিবাসন আবেদনের সময় ওমর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার তাঁর শুরু থেকেই ছিল না, তাহলে তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।   মুলিনের বক্তব্যের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র চলমান তদন্ত সম্পর্কে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিভাগটি চলমান তদন্ত, তদন্তের নির্দিষ্ট কৌশল বা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস সদস্যসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।   ইলহান ওমর অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ভাইকে বিয়ের অভিযোগ বহু বছর ধরে অস্বীকার করে আসছেন। ২০১৬ সালে মিনেসোটা পাবলিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আহমেদ নুর সাঈদ এলমি তাঁর ভাই, এমন ইঙ্গিত ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর।   ওমর ২০০৯ সালে আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। ২০১৮ সালে তিনি আহমেদ আবদিসালান হিরসিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। ওমর তাঁর এলমির সঙ্গে সম্পর্ককে স্বল্পস্থায়ী বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বড় একটি সময় তারা আলাদা ছিলেন।   ওমরকে ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগ প্রথমে কয়েক বছর আগে অনলাইন আলোচনায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে অভিযোগটির পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত তথ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ওমর কোনো সময়ই এলমি তাঁর ভাই ছিলেন বা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য বিয়ে করেছিলেন, এমন দাবি স্বীকার করেননি।   সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান নেতারাও বিষয়টি আবার সামনে এনেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুজনই প্রকাশ্যে ওমর অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ভ্যান্স মার্চে দাবি করেছিলেন, ওমর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে তাঁদের বিশ্বাস। ট্রাম্পও মে মাসে একই ধরনের অভিযোগ করেন।   তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি বিষয়টিকে শুধু পুরোনো রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে নয়, চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।   ইলহান ওমর ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর। ফলে তাঁকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া যায় না। কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে সরকার প্রমাণ করতে চাইলে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে পাওয়া নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে স্পষ্ট ও শক্ত প্রমাণ থাকতে হয় এবং বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অভিবাসন আইন এড়ানোর উদ্দেশ্যে জেনে-শুনে বিয়ে করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমন অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে।   তবে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এই অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো আদালতের রায় এখন পর্যন্ত নেই। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ওমরের বিরুদ্ধে এই তদন্ত মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং মিনেসোটা থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। তাঁর অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে সামনে আসায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
আইসের হাতে আটক হুয়ান মার্তিনেজ। ছবি: সংগৃহীত
২৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, গ্রিন কার্ডের আবেদন চলাকালে আইসের হাতে আটক

যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করা মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) আটক করেছে। তবে তাঁর আইনজীবীর দাবি, কর্মকর্তারা আসলে তাঁকে আটক করতে যাননি। অন্য একজনকে খুঁজতে গিয়ে ভুল পরিচয়ের কারণে তাঁকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে।   ৪৬ বছর বয়সী হুয়ান জেরার্দো আলাতোরে মার্তিনেজকে গত ৩০ জুলাই ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কনওয়ে শহরের একটি গ্যাস স্টেশনে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় আটক করা হয়। আইনজীবী লিসা সেইফার্ট নিউজউইককে জানান, মার্তিনেজ সেখানে পূর্ণকালীন কাজ করতেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন।   সেইফার্টের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্তিনেজ ২০০০ সালের বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তাঁর বড় ভাইয়ের মাধ্যমে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন করেন।   আটকের আগের দিন বা তার কাছাকাছি সময়ে মার্তিনেজ ওই গ্যাস স্টেশনের বাইরে আইসের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখতে পান। পরে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা স্বীকার করেন যে ওই সময় কর্মকর্তারা অন্য একজনকে খুঁজছিলেন বলে আইনজীবী দাবি করেছেন।   মার্তিনেজের আইনজীবীর ধারণা, এর সঙ্গে তাঁর সম্প্রতি কেনা একটি রুপালি রঙের হোন্ডা গাড়ির বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে। গাড়িটি তিনি আগের মালিকের কাছ থেকে কিনেছিলেন, কিন্তু তখনও গাড়িটির নিবন্ধন নিজের নামে পরিবর্তন করেননি। সেইফার্টের মতে, আইস কর্মকর্তারা গাড়িটির খোঁজ করতে গিয়ে সেটির বর্তমান মালিক মার্তিনেজের কাছে পৌঁছে থাকতে পারেন।   তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি শুক্রবার জানায়, ৩০ জুলাই কনওয়েতে মার্তিনেজকে আটকের জন্য আইস একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। বিভাগটি তাঁকে অপরাধে দণ্ডিত অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করেছে।   সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্তিনেজ ২০১৬ সালে স্থগিত বা বাতিল হওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। ২০২০ সালে একই অভিযোগে আবারও তাঁর সাজা হয়। ওই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ পান করতে দেওয়া বা সরবরাহ করার অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।   তবে মার্তিনেজের আইনজীবী বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আদালতে তাঁর অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইসের হেফাজতে রয়েছেন।   বর্তমানে মার্তিনেজ ওয়াশিংটনের টাকোমায় অবস্থিত নর্থওয়েস্ট আইস প্রসেসিং সেন্টারে আটক আছেন। আগামী ৮ অক্টোবর তাঁর পরবর্তী আদালত শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। আইনজীবী আশা করছেন, আদালত তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনা করে তাঁকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ দেবে।   মার্তিনেজের সহায়তায় অনলাইনে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযানও শুরু হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে ৯ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে মার্তিনেজকে কনওয়ের পরিচিত ও প্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে তাঁকে মজা করে ‘কনওয়ের মেয়র’ বলে ডাকতেন, কারণ তিনি এলাকার অনেক মানুষকে চিনতেন এবং গ্যাস স্টেশনে কাজ করার সময় নিয়মিত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলতেন।   প্রায় নয় বছর আগে মার্তিনেজের সঙ্গে পরিচয় হয় ওয়াশিংটনের বিগ লেকের বাসিন্দা টিম ফেরেলের। তিনি তাঁর বাড়িতে বাগানের কাজসহ বিভিন্ন কাজে মার্তিনেজকে নিয়োগ করেছিলেন। ফেরেল মার্তিনেজকে বুদ্ধিমান, বন্ধুবৎসল ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আটকের পর তাঁকে আইনি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করতেও ভূমিকা রাখেন।   স্থানীয় আরেক বাসিন্দা লিন্ডসে ব্রুকস জানান, গ্যাস স্টেশনে মার্তিনেজের অনুপস্থিতি স্থানীয়দের চোখে পড়ছে। তাঁর ছেলে মার্তিনেজকে আটকের খবর শুনে কষ্ট পেয়েছিল বলেও তিনি জানান।   এদিকে আটকের পরও মার্তিনেজ মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। আটক কেন্দ্রে তিনি ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং সেখানে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব তৈরি করেছেন বলে আইনজীবী জানান।   মার্তিনেজের মামলায় একদিকে তাঁর অতীতের ফৌজদারি দণ্ডের বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে তিনি যে বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, সেটিও আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। তাঁর পরবর্তী শুনানিতে এসব বিষয় কীভাবে সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রায় ২০ শতাংশ শৈশবে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেননি
প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজার আমেরিকান ইসলাম গ্রহণ করেন, গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন শৈশবে মুসলিম ছিলেন না। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন মুসলিমদের ২০ শতাংশ ইসলাম গ্রহণের আগে অন্য ধর্মে ছিলেন অথবা কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা যায় না।  পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের হার বিশ্বের ১৩টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেননি। তাঁদের মধ্যে ১৭ শতাংশ অন্য ধর্মের পরিবারে এবং ৩ শতাংশ কোনো ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বেড়ে উঠেছেন।  তবে একই সময়ে ইসলাম ছেড়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। পিউর আগের গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা মোটামুটি সমানভাবে ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে ইসলাম ছেড়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যার সঙ্গে। ফলে ধর্মান্তর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যার সামগ্রিক বৃদ্ধিতে তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রভাব ফেলেছে।  ২০১৭ সালের পিউ জরিপেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। তখন ২১ শতাংশ মার্কিন মুসলিম জানিয়েছিলেন, তাঁরা পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক আগে প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন, ২০ শতাংশ ক্যাথলিক এবং ১৯ শতাংশ কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।  যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে বরং অভিবাসন ও প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি বড় ভূমিকা রাখছে। পিউর জনমিতিক বিশ্লেষণে মুসলিমদের তুলনামূলক বেশি জন্মহার এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসনের ধারাবাহিকতাকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ২০১১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বছরে আনুমানিক এক লাখ করে বেড়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে মুসলিমদের অভিবাসন এবং তুলনামূলক বেশি জন্মহার দুটিই ভূমিকা রেখেছে।  এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন বলে যে দাবি প্রচলিত রয়েছে, পিউ রিসার্চ সেন্টারের পর্যালোচিত গবেষণায় তার সমর্থনে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তাই এই সংখ্যাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হলেও মুসলিম জনসংখ্যার সামগ্রিক বৃদ্ধির প্রধান ব্যাখ্যা হিসেবে শুধু ধর্মান্তরকে দেখলে চিত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অভিবাসন, জন্মহার এবং জনসংখ্যার বয়স কাঠামোও যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেও ইউরোপে বেড়েছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন

ইউরোপে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিরা প্রায় ২০ হাজার আশ্রয় আবেদন করেছেন। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন করা নাগরিকত্বের তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম বা ইইউএএ ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউ প্লাসভুক্ত দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। করোনা মহামারির সময় বাদ দিলে ২০১৯ সালের পর বছরের প্রথম ছয় মাসে এটিই সর্বনিম্ন আবেদন।   আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির নাগরিকরা প্রায় ৩৯ হাজার আবেদন করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে ভেনেজুয়েলা, প্রায় ৩৩ হাজার আবেদন নিয়ে। বাংলাদেশিদের আবেদন প্রায় ২০ হাজার, যা দেশটিকে তৃতীয় অবস্থানে রেখেছে। ইইউএএ জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশিদের আবেদন প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে।   বাংলাদেশিদের আবেদনের বড় অংশই প্রথমবারের আবেদন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পুনরায় করা আবেদন মোট আবেদনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ আগের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর একই ব্যক্তির পুনরায় আবেদন এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ নয়।   বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের গন্তব্য হিসেবেও ইতালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর রয়েছে গ্রিস ও ফ্রান্স। ইইউএএ জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের আবেদন, সীমান্তে শনাক্ত হওয়ার প্রবণতা এবং ইউরোপে অভিবাসনের সামগ্রিক চিত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।   তবে বাংলাদেশিদের আবেদন বাড়লেও অনুমোদনের হার খুবই কম। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি আবেদনের মধ্যে গড়ে মাত্র কয়েকটি আবেদনেই শরণার্থী মর্যাদা বা অন্য কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।   এদিকে ইউরোপের নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আওতায় এসেছে। ১২ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপদ উৎসদেশের প্রথম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার ২০ শতাংশ বা তার কম, তাদের আবেদন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দ্রুত যাচাইয়ের আওতায় আনার বিধানও কার্যকর হয়েছে।   ইইউএএ জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এই দুই মানদণ্ডই প্রাসঙ্গিক। ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হতে পারে। তবে এর অর্থ আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা নয়। প্রতিটি আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সুরক্ষার প্রয়োজন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার নিয়ম রয়েছে।   ইউরোপে সামগ্রিক আশ্রয় আবেদন কমার পেছনে সিরিয়ার পরিস্থিতির পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটির নাগরিকদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসীদের উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় সামগ্রিক প্রবাহেও পরিবর্তন এসেছে।   ইইউএএ-এর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রথম ধাপের নিষ্পত্তি হওয়া আশ্রয় আবেদনের মধ্যে ৩১ শতাংশে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা জুনের শেষে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।   বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নিয়মের প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে নিরাপদ উৎসদেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং কম অনুমোদনের হারের কারণে দ্রুততর আশ্রয় প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় নতুন আবেদনকারীদের জন্য সিদ্ধান্ত পাওয়ার সময় ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কারও আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করার পর চার মাসের কঠিন আইনি লড়াই শেষে আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন ব্রায়ান মোরালেস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও মেক্সিকোয় ডিপোর্ট! ৪ মাসের লড়াই শেষে দেশে ফিরলেন টেক্সাসের তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ২৫ বছর বয়সী ব্রায়ান হোসে মোরালেস গার্সিয়াকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করার পর প্রায় চার মাসের আইনি লড়াই শেষে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে দেওয়া হয়েছে। টেক্সাসে একটি ট্রাফিক থামানোর ঘটনার পর তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে যান এবং পরে ৭ এপ্রিল তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। পরে তার আইনজীবীরা তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ সামনে এনে দেশে ফেরানোর জন্য আইনি পদক্ষেপ নেন।   মোরালেস গার্সিয়ার জন্ম ডেনভারে। তবে শৈশবের বড় একটি সময় তিনি মেক্সিকোয় কাটিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। পরে টেক্সাসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের কাজ করছিলেন তিনি।   এপ্রিল মাসে ফ্রেডেরিক্সবার্গের কাছে বসকে সঙ্গে নিয়ে একটি গাড়িতে করে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় টেক্সাসের এক রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা তাদের গাড়ি থামান। অভিযোগ ছিল গাড়ির জানালার কাচে অতিরিক্ত কালো রং করা নিয়ে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো টিকিট দেওয়া হয়নি। এরপর মোরালেস গার্সিয়াকে কয়েকটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়।   মোরালেস গার্সিয়া তখন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে দাবি করেন এবং তার নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর কথা জানান। তার আইনজীবীর অভিযোগ, আটক থাকার সময় তাকে শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয় এবং কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। চার দিন বিভিন্ন হেফাজতকেন্দ্রে থাকার পর তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। সরকারপক্ষ অবশ্য আদালতে দাবি করেছে, মোরালেস গার্সিয়া শুরুতে নিজেকে মেক্সিকোয় জন্ম নেওয়া ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং স্বেচ্ছায় মেক্সিকোয় ফেরার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন।   মেক্সিকোয় যাওয়ার পর তার আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে এনে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তারা যুক্তি দেন, মোরালেস গার্সিয়া ডেনভারে জন্মেছেন এবং তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসনদ রয়েছে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ মেক্সিকোর কিছু নথির কথা তুলে ধরে, যেখানে তার নামের বানান ও জন্মতারিখে পার্থক্য রয়েছে। এসব নথিতে তার জন্মস্থানও মেক্সিকোর জাকাতেকাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইনি প্রক্রিয়ার সময় দুই দেশের নথিতে থাকা তথ্যের এই পার্থক্য নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তার আইনজীবীদের দাবি, মেক্সিকোয় তার জন্ম নিবন্ধনের সময় তথ্যের ভুল হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে নথিপত্র ও জন্মসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সুযোগ পান মোরালেস গার্সিয়া।   আগস্টের শেষ দিকে মেক্সিকোর আগুয়াসকালিয়েন্তেস থেকে বাসে করে তিনি সীমান্তের দিকে যান। ৩০ আগস্ট সীমান্তে পৌঁছানোর পর তার কলোরাডোর জন্মসনদ গ্রহণ করা হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ মাস দেশের বাইরে থাকার পর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তার আইনজীবীরা তাকে একটি কফি শপে নিয়ে যান।   তবে দেশে ফিরলেও পুরো ঘটনার মানসিক চাপ কাটেনি বলে জানিয়েছেন মোরালেস গার্সিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে চেহারা ও ইংরেজিতে কথা বলতে না পারার কারণে বিচার করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে আবার কোনো পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়লে একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে তার। এদিকে তাকে মেক্সিকোয় পাঠানোর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে করা মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে কতজন নাগরিককে অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় আটক বা বহিষ্কার করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে না। সরকারি হিসাব পর্যালোচনা করে অতীতেও এমন ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আটক ও বহিষ্কারের নজির পাওয়া গেছে। মোরালেস গার্সিয়ার ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে।   সূত্র: ইউএসএ টুডে

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো নাগরিকত্ব পরীক্ষা। ছবি: সংগৃহীত
সিটিজেনশিপ টেস্টে ফেল করার ৪টি কারণ জানাল মার্কিন সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষার লিখিত পরীক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট ভুল করলে আবেদনকারীকে ব্যর্থ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (ইউএসসিআইএস) সরকারি নির্দেশিকায় লিখিত পরীক্ষায় কোন ধরনের উত্তর গ্রহণযোগ্য হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।   ইউএসসিআইএসের স্কোরিং নির্দেশিকা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে কর্মকর্তার বলা একটি বাক্য লিখতে হয়। নির্ধারিত বাক্যটি সঠিকভাবে এবং বোঝা যায় এমনভাবে লিখতে পারলেই লিখিত ইংরেজির দক্ষতা প্রদর্শন করা সম্ভব। তবে উত্তরটি যদি নির্দেশিত বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ না করে, সেটি ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   লিখিত পরীক্ষায় প্রথম যে ভুলটি ব্যর্থতার কারণ হতে পারে, সেটি হলো কর্মকর্তার বলা বাক্য বা শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো বাক্য বা শব্দ লেখা। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে যে বাক্যটি লিখতে বলা হয়েছে, সেটির পরিবর্তে নিজের মতো করে অন্য কিছু লিখলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।   দ্বিতীয়ত, নির্দেশিত কোনো শব্দের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করলেও উত্তরটি ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মকর্তার বলা শব্দের জায়গায় সংক্ষিপ্ত রূপ লিখলে সেটি ভুল উত্তর হিসেবে বিবেচিত হবে।   তৃতীয়ত, পরীক্ষার্থী কিছু না লিখলে অথবা মাত্র এক-দুটি বিচ্ছিন্ন শব্দ লিখলে সেটিও ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। তাই পরীক্ষার্থীর উচিত কর্মকর্তার নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য লেখার চেষ্টা করা।   চতুর্থত, হাতের লেখা এতটাই অস্পষ্ট হলে যে কর্মকর্তা সেটি পড়তে বা বুঝতে না পারেন, সেই উত্তরও ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হবে। ইউএসসিআইএসের সরকারি স্কোরিং গাইডলাইনে সম্পূর্ণ অপাঠ্য লিখিত উত্তরকে সরাসরি ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর পাশাপাশি, লিখিত বাক্যটি এমনভাবে লেখা হলে যাতে নির্দেশিত বাক্যের অর্থ বোঝা না যায়, সেটিও ব্যর্থতার কারণ। ফলে শুধু বানান বা লেখার সৌন্দর্য নয়, পরীক্ষার্থীর লেখা বাক্যটি কর্মকর্তার কাছে অর্থবোধক ও বোধগম্য কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের ইংরেজি পরীক্ষার তিনটি অংশ রয়েছে, কথা বলা, পড়া এবং লেখা। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ তিনটি বাক্য দেওয়া হতে পারে এবং এর মধ্যে একটি বাক্য সঠিকভাবে লিখতে পারলেই এই অংশে ইংরেজিতে লেখার সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়। পরীক্ষার জন্য ইউএসসিআইএস একটি নির্দিষ্ট লিখিত শব্দভান্ডারের তালিকাও প্রকাশ করে, যার শব্দগুলো নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।   নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীকে ইংরেজি ও নাগরিকত্ববিষয়ক পরীক্ষা দিতে হয়, যদি তিনি কোনো ছাড় বা অব্যাহতির যোগ্য না হন। ইংরেজি পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি নাগরিকত্ব পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞানও যাচাই করা হয়।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেউ প্রথম পরীক্ষায় ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার কোনো অংশে ব্যর্থ হলে তাকে সাধারণত দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম পরীক্ষার পর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং আগেরবার যে অংশে ব্যর্থ হয়েছেন, সাধারণত সেই অংশেই আবার পরীক্ষা নেওয়া হয়।   তাই নাগরিকত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আবেদনকারীদের শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার পাশাপাশি কর্মকর্তার বলা বাক্য মনোযোগ দিয়ে শোনা, পূর্ণ বাক্য লেখা এবং হাতের লেখা স্পষ্ট রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত প্রস্তুতি উপকরণ ব্যবহার করে আগে থেকেই লিখিত অংশের অনুশীলন করাও গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: ইউএসসিআইএস, লেজিট.এনজি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব, সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২
যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব, সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। অর্থের বিনিময়ে বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব এবং গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিউ এবং তার আর্থিক সহযোগী আদেনিয়ি আকিম সোমোয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তদন্তকারীদের দাবি, এই দুজন মিলে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের (প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৮ ডলার) বিশাল এক ঘুষ বাণিজ্য চালিয়েছেন। টেক্সাসভিত্তিক এই চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং ঘুষের বিনিময়ে তাদের ফাইলগুলো সরাসরি গানিউর কাছে পাঠিয়ে দিত।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, গানিউ তার পদের চরম অপব্যবহার করে ইউএসসিআইএস-এর সিস্টেমে কারসাজি করতেন। তিনি মিনিয়াপলিস, শার্লট এবং হিউস্টনের মতো বিভিন্ন ফিল্ড অফিস থেকে আবেদনকারীদের ফাইল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন। এরপর স্থানীয় সুপারভাইজারদের পর্যালোচনা এবং অপরাধের ইতিহাস যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে গিয়ে দ্রুত সেসব আবেদন অনুমোদন করে দিতেন।   এমনকি তিনি তার অপরাধের সহযোগী সোমোয়ের নাগরিকত্ব এবং সোমোয়ের স্ত্রী ও সন্তানের রেসিডেন্সি বা স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনও দ্রুত ও বেআইনিভাবে পাস করিয়েছিলেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিউ জেল (Zelle), ক্যাশ অ্যাপ (Cash App) এবং নগদ জমার মাধ্যমে প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৮ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে, সোমোয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন এবং তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এর একটি অংশ তিনি নিজের পারিশ্রমিক হিসেবে রাখতেন।   গানিউর বার্ষিক সরকারি বেতন ছিল ৬৭ হাজার ৭৩২ ডলার এবং সোমোয়ের বৈধ আয় ছিল বছরে মাত্র ৭ হাজার ৫০৬ ডলার। আয়ের তুলনায় বিপুল অঙ্কের এই অবৈধ লেনদেনই তাদের ধরিয়ে দেয়।   গত ২ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে তোলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি রায়ান রেবোল্ড বলেন, "নগদ অর্থের বিনিময়ে অভিবাসন সুবিধা বিক্রি করা জনগণের আস্থার চরম অবমাননা।"

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলিমামি সেসাই। ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালের বেডে শিকলবন্দী আইসিই আটক অভিবাসী, অস্ত্রোপচারের পরও স্বজনদের সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হেফাজতে থাকা ৪১ বছর বয়সী আলিমামি সেসাই একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পায়ের সঙ্গে বিছানায় শিকলবন্দী থাকছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকলেও তাঁর বাগদত্তা ও পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।   সেসাইকে গত ২৮ মে আইসিই আটক করে। হারিয়ে যাওয়া চালকের লাইসেন্সের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি নিতে তিনি নিজেই নিউয়ার্কের একটি ফেডারেল ভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে অপেক্ষা করার সময় একজন আইসিই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, তদারকি আদেশ অনুযায়ী তিনি একটি নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আটক করা হয় এবং ইউনিয়ন কাউন্টির এলিজাবেথ কন্ট্রাক্ট ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।   জুলাইয়ের শুরুতে অন্ত্রের সমস্যার চিকিৎসার জন্য সেসাইকে নিউয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে তাঁর বৃহদান্ত্রের একটি অংশ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পেটের বড় ক্ষত বন্ধ রাখতে চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ক্ষত থেকে তরল বের করার জন্য পেটে একটি নলও রাখা হয়েছে এবং অন্তত ছয় মাস তাঁকে কলোস্টমি ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হাসপাতালে থাকার সময়ে সেসাইয়ের ওজনও দ্রুত কমেছে। আটকের সময় তাঁর ওজন ২০০ পাউন্ডের বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা কমে ১৩৪ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ক্ষত পরিষ্কার করার সময় চিকিৎসকদের সহায়তা করতে হয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসকেরা ক্ষত পরিষ্কার করার সময় কখনো কখনো বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, তাই তিনি নিজেই ক্ষত পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করেন।   সেসাইয়ের অভিযোগ, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই তাঁর পা বিছানার সঙ্গে শিকল বা হাতকড়া দিয়ে আটকানো থাকে। এতে অস্বস্তি হয় এবং ঘুমাতেও সমস্যা হয় বলে জানান তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর বাগদত্তা জেনা কার্টার এবং তাঁদের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে কিং সালিম সেসাইকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না।   কার্টার জানান, সেসাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্ত তিনি বিষয়টি জানতেন না। জুলাইয়ে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সেসাইয়ের শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি এবং তাঁকে দেখার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। ২০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমবার সেসাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। পরে সেসাইয়ের একটি ছবি দেখে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কার্টার।   ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আটক ব্যক্তি ও অন্য রোগীদের দর্শনার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় কি না এবং এ বিষয়ে আইসিই কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না। হাসপাতাল এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানায়, তাদের চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা দল প্রত্যেক রোগীকে সহানুভূতিশীল ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   অভিবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, সেসাইয়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁদের মতে, নিউ জার্সির এলিজাবেথ ও নিউয়ার্কের ডেলানি হলসহ বিভিন্ন আটককেন্দ্রের আটক ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে হাসপাতালে ভর্তি আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বজনদের তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে দেখা যায় এমন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   সেসাইয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি এলিজাবেথ ডিটেনশন সেন্টারে থাকার সময় একজন নার্সের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মৌখিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়ার সময় ওই ঘটনা ঘটে। ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরসিভিক জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছে এবং তা ভিত্তিহীন পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।   সেসাইয়ের আইনজীবী র‍্যাচেল মারানডেট তাঁকে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্ত করতে নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। আটক ব্যক্তিদের করা এ ধরনের আবেদনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে রাখার আইনি ভিত্তি আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে হয়। সেসাইয়ের আবেদনটি নিউয়ার্কের ফেডারেল আদালতের বিচারক মাইকেল শিপের সামনে বিচারাধীন রয়েছে।   সেসাই কিশোর বয়সে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ১১ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে প্রায় এক দশক আগে গাঁজা-সংক্রান্ত একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল হয় বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন।   আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সেসাইকে বহিষ্কার স্থগিত রাখার আদেশ এবং তদারকির আওতায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারতেন। সেসাই সায়রভিলে একটি গুদামে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে জেনা কার্টারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের সন্তান জন্ম নেয় এবং তাঁরা নিউ জার্সিতে একটি বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন।   সেসাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই তাঁর বাড়ি এবং এখানেই তিনি তাঁর ছেলেকে বড় করতে চান। তাঁর ভাষ্য, জীবনের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর সিয়েরা লিওনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন, তা জানা নেই।   সূত্র: এনজে ডটকম

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত
আগস্টে রেকর্ড ৫১ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার করেছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে ৫০ হাজার ৯২৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, এক মাসে গ্রেপ্তারের হিসাবে এটি সংস্থাটির নতুন রেকর্ড। এর আগে জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুলাইয়ের আগের রেকর্ডকে ৭১৭ জন ছাড়িয়ে গেছে। জুনে আইসিই ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ফলে জুন, জুলাই ও আগস্ট, টানা তিন মাসে সংস্থাটির মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।   আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়া ৫০ হাজার ৯২৫ জনের সংখ্যা ৫১ হাজারের খুব কাছাকাছি হওয়ায় তা প্রায় ৫১ হাজার হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে সরকারি হিসাবে সঠিক সংখ্যা ৫০ হাজার ৯২৫ জন। জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জন এবং জুনের ৪৩ হাজার ৯০০ জনের তুলনায় আগস্টে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগস্টের গ্রেপ্তারের পরিমাণ সেই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।   জুনে ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তারের পর জুলাইয়ে এই সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনে পৌঁছায়। এরপর আগস্টে আরও ৭১৭ জন বেশি গ্রেপ্তার করা হয়। তিন মাসের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের সংখ্যাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, আগস্টের এই সংখ্যা এক মাসে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জনই ছিল এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের সংখ্যা। আগস্টে সেই রেকর্ড আবারও অতিক্রম করা হয়েছে।   আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালনকারী একটি সংস্থা। সংস্থাটির আগস্টের কার্যক্রমের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসে প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫০ হাজারের সীমা অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা টানা তৃতীয় মাসে বেড়েছে।   আগস্টের ৫০ হাজার ৯২৫ জনের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুনের তুলনায় ৭ হাজারেরও বেশি বেশি। একই সময়ে জুলাইয়ের তুলনায়ও আগস্টে গ্রেপ্তার বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পরিমাণ তুলে ধরছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্যে আগস্টের গ্রেপ্তারকে সংস্থাটির মাসিক কার্যক্রমের নতুন সর্বোচ্চ হিসাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাইয়ে রেকর্ড গড়ার এক মাস পরই সেই সংখ্যা আবার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে টানা তিন মাসের প্রতিটিতেই আগের মাসের তুলনায় বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে।   সরকারি হিসাবে, জুনে ৪৩ হাজার ৯০০, জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ এবং আগস্টে ৫০ হাজার ৯২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিন মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগস্টেই সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। নতুন এই রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইসিইর সাম্প্রতিক তৎপরতার পরিমাণকে সামনে এনেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার বোভিনো I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ইহুদিবি/দ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে তদন্ত চলাকালে পদত্যাগ করেছিলেন সাবেক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার বোভিনো

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো অবসরে যাওয়ার সময় একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের মুখে ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথির বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ফেডারেল আদালতে দেওয়া তার বিতর্কিত সাক্ষ্য এবং অতীতের ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছিল।   কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) গত ২ মার্চ এক ইমেইলে বোভিনোকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর কথা জানায়। এই বার্তার মাত্র ১৬ দিন পরই তড়িঘড়ি করে তিনি অবসরের আবেদন জমা দেন।   মিনিয়াপোলিসে দুই মার্কিন নাগরিক রেনে গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটির প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর গত জানুয়ারির শেষের দিকে বোভিনোকে তার ‘কমান্ডার অ্যাট লার্জ’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর কোনো প্রমাণ ছাড়াই বোভিনো দাবি করেছিলেন যে, প্রেটি ফেডারেল এজেন্টদের ‘গণহত্যা’ করার পরিকল্পনা করছিলেন।   তার এমন মন্তব্যে সেসময় ব্যাপক রাজনৈতিক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে থেকেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বর্ডার প্যাট্রল সমালোচনার মুখে ছিল। বিশেষ করে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের ওপর টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোঁড়ার মতো অমানবিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল।   তদন্তের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ সারা এলিসের একটি পর্যবেক্ষণ। তিনি লিটল ভিলেজে বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বোভিনোকে আদালতে বারবার মিথ্যা বলার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন। সিবিপি কর্মকর্তারা তদন্তের অংশ হিসেবে বোভিনোর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বিচারকের এই মন্তব্যের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।   এছাড়া, মিনিয়াপোলিসের একজন বিচারককে নিয়ে তার কথিত ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে, "অর্থোডক্স অপরাধীরাও কি শনিবারে ছুটি কাটায়?" বা "মনোনীত জাতি" শীর্ষক তার বৈষম্যমূলক মন্তব্যগুলো সিবিপি’র পেশাদারিত্ব ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কি না, তদন্তে সেটিই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) তাদের 'থার্ড কান্ট্রি' বা তৃতীয় দেশে বিতাড়ন কর্মসূচির আওতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে। সিবিএস নিউজের হাতে আসা মার্কিন সরকারের কিছু অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা গেছে, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আফগানিস্তান, কিউবা, নিকারাগুয়াসহ অন্যান্য দেশের ১০০ জনের বেশি অভিবাসীকে আফ্রিকা মহাদেশের আটটি দেশে বিতাড়িত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।   আইসের তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এসব নারী-পুরুষকে বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নিরক্ষীয় গিনি, এসওয়াতিনি, লাইবেরিয়া, রুয়ান্ডা এবং সিয়েরা লিওনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিতাড়িত এই অভিবাসীদের কেউই সেসব দেশের নাগরিক নন।   গত দেড় সপ্তাহে আফগান, কিউবান ও নিকারাগুয়ানদের পাশাপাশি ইরান, নেপাল, তুরস্ক এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদেরও আফ্রিকার দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে।   মার্কিন সরকারের এই অভ্যন্তরীণ নথিগুলো প্রকাশ্যে আসার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। নিজ দেশের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও চুক্তির মাধ্যমে অভিবাসীদের সম্পূর্ণ অপরিচিত ও দূরবর্তী দেশে নির্বাসিত করার এই অভিযান ক্রমশ জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র।   লাতিন আমেরিকার কোস্টারিকা, পানামা ও প্যারাগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ ধরনের অভিবাসীদের গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। তবে বর্তমানে আফ্রিকার অনেক দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে এই চুক্তিতে জড়াচ্ছে, যার মধ্যে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং দক্ষিণ সুদানের মতো সশস্ত্র সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জর্জরিত দেশগুলোও রয়েছে।   ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশগুলো কেবল আফ্রিকার অন্যান্য স্থানের অভিবাসীদের গ্রহণ করলেও এসওয়াতিনি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং লাইবেরিয়ার মতো দেশগুলো লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়া থেকে আসা বন্দীদেরও গ্রহণ করছে।   আফ্রিকায় বিতাড়িত এসব অভিবাসীর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও অনেকেই কেবল অবৈধভাবে প্রবেশ বা বৈধ নথিপত্রের অভাবের কারণে আইসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সর্বশেষ ফ্লাইটে সিয়েরা লিওন এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বন্দীদের নামানো হয়।   দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের উপস্থিতির কারণে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের 'লেভেল ফোর' সতর্কতা জারি রয়েছে।   এদিকে, এ বিষয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, যদি কোনো অবৈধ অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতে আবেদন করে, তবে আইন অনুযায়ী তাদের জন্য একটি নিরাপদ দেশের ব্যবস্থা করতে হয়। অন্যদিকে তারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে চাইলে তাদের বিনা মূল্যে ফ্লাইট এবং ৩ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হয়।   সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বিতাড়িত হওয়া এক ২৪ বছর বয়সী আফগান যুবকের ঘটনা এই নীতির ভয়াবহ দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে। খলিল নামের ওই যুবকের পরিবার আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হয়ে কাজ করেছিল এবং সে নিজেও মার্কিন অভিবাসন আদালতে আইনি সুরক্ষা পেয়েছিল।   তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাকে তৃতীয় এই দেশে বিতাড়িত করেছে। মার্কিন মেরিন কর্নেল জাচারি শ্মিডট, যিনি খলিলের ভাইয়ের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, তিনি খলিলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শ্মিডট জানান, খলিলকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তালেবানরা তাকে হত্যা করবে। খলিলের আইনজীবী আলমা ডেভিডের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার শামিল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানে ২০ লাখ ডলারের ‘রোবট কুকুর’ কিনছে আইস
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানে ২০ লাখ ডলারের ‘রোবট কুকুর’ কিনছে আইস

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) তাদের অভিযানগুলোতে কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য কুকুরের আকৃতির অত্যাধুনিক রোবট কেনার পরিকল্পনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অর্থায়নসংক্রান্ত একটি নথির বরাতে জানা গেছে, এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে সংস্থাটি সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   মূলত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিকসের তৈরি 'স্পট' নামের এই বিশেষ রোবটগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রকাশিত নথি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই রোবটগুলো কাউকে সরাসরি গ্রেফতারের কাজে ব্যবহার করা হবে না। বরং যেসব স্থানে কর্মকর্তাদের প্রবেশ করা বিপজ্জনক, সেখানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিরূপণে এগুলো মোতায়েন করা হবে।   ক্যামেরা এবং সংবেদনশীল সেন্সরযুক্ত এই রোবটগুলো খুব সহজেই কম্পন, ক্ষতিকর গ্যাস ও তেজস্ক্রিয়তার মতো ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান শনাক্ত করতে সক্ষম। এর ফলে বিপজ্জনক, সংকীর্ণ বা সহজে প্রবেশ করা যায় না এমন এলাকায় অভিযানের সময় পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।   অবশ্য রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিকস স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের এই প্রযুক্তি কোনোভাবেই অস্ত্র হিসেবে বা স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের মতো ক্ষতিকর কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।   কুকুরের আকৃতির এই রোবট প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ইতোমধ্যে ব্যবহার করছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো বাসভবনের নিরাপত্তায়ও এমন রোবট ব্যবহৃত হয়েছিল।   তবে আইসের এই রোবট কেনার পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সম্প্রতি সংস্থাটির জন্য ২ কোটি ডলার ব্যয়ে বিদ্যুৎ-শক দেওয়া দস্তানা (গ্লাভস) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ইতোমধ্যে ওই দস্তানা কেনার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।   তীব্র বিতর্কের মাঝেই নতুন করে রোবট কুকুর যুক্ত করার এই উদ্যোগ অভিবাসন অভিযানে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় নিউ অরলিন্স বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিলো ইয়ানোপুলোসকে আটক করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন শুনানিতে অনুপস্থিত, বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে আটক ব্রিটিশ ভাষ্যকার

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিলো ইয়ানোপুলোসকে আটক করেছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই। গত মাসে নির্ধারিত অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ৪১ বছর বয়সী ইয়ানোপুলোস গত মাসের অভিবাসন শুনানিতে হাজির হননি। এরপর বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, ইয়ানোপুলোস যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং ২০১৯ সালের ১৪ মে নিউইয়র্ক সিটি দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে পরে অনুমোদিত সময়ের বেশি দেশটিতে অবস্থান করেন বলে বিভাগটি জানিয়েছে।   বিভাগটি আরও জানায়, শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় ২২ জুলাই একজন অভিবাসন বিচারক ইয়ানোপুলোসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ জারি করেন। বর্তমানে তিনি আইসিইর হেফাজতে থাকবেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলবে।   ইয়ানোপুলোস ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টে কাজ করার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে তখন সমালোচনা ও নিন্দা দেখা দেয়। ২০১৭ সালে তার পুরোনো কিছু মন্তব্য গণমাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় আসার পর তিনি ব্রেইটবার্ট থেকে পদত্যাগ করেন।   এরপর বিভিন্ন ডানপন্থী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। মূলধারার রিপাবলিকানদের সঙ্গেও তার বিরোধ তৈরি হয়। ২০২০ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। পরে র‍্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০২৪ সালের ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনায় সহায়তা করেন।   আইসিইর তথ্যভান্ডারে ইয়ানোপুলোসকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীদের বহিষ্কার নিয়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।   বিভাগটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা যেন আর দেশের ভেতরে বিমান ভ্রমণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য একটি সরকারি আবেদনের মাধ্যমে সহায়তা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৩ হাজার ডলার এবং বিনামূল্যে বিমান ভ্রমণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে যারা এই সুযোগ গ্রহণ করবেন না, তাদের আটক করে বহিষ্কার করা হতে পারে বলেও বিভাগটি সতর্ক করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে দৃশ্যমান হচ্ছে ধর্মীয় বৈচিত্র্য। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসনে বদলাচ্ছে আমেরিকার ধর্মীয় মানচিত্র, বাড়ছে মসজিদ, ইসলামিক স্কুল ও মন্দির

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। বিভিন্ন শহর ও শহরতলিতে নতুন মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিন্দু মন্দির ও ধর্মীয় কমিউনিটি সেন্টার গড়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভবন নির্মাণের পরিবর্তে পুরোনো চার্চ, বাড়ি, অফিস কিংবা বাণিজ্যিক ভবন কিনে সেগুলোকে উপাসনালয় ও কমিউনিটি ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে।   এই পরিবর্তনের পেছনে অভিবাসনের ভূমিকা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ বিস্তারিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৬২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ কোটি। অর্থাৎ এক দশকে বিদেশে জন্ম নেওয়া জনসংখ্যা ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।   ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রেও অভিবাসীদের মধ্যে বৈচিত্র্য তুলনামূলক বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৩-২৪ সালের ধর্মীয় চিত্রবিষয়ক গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ১৪ শতাংশ খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী। তাদের মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ মুসলিম, ৪ শতাংশ হিন্দু এবং ৩ শতাংশ বৌদ্ধ।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের একই গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ৫৯ শতাংশ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ৭৭ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। ফলে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় বৈচিত্র্যের সম্পর্কটি জনসংখ্যার পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   মসজিদের ক্ষেত্রেও গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য বিস্তার দেখা গেছে। সর্বশেষ বড় আকারের জাতীয় মসজিদ জরিপের ২০২০ সালের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৭৬৯টি মসজিদ শনাক্ত করা হয়েছিল। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১০৬টি। অর্থাৎ এক দশকে মসজিদের সংখ্যা ৩১ শতাংশ বেড়েছিল।   তবে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এর চেয়ে নতুন কোনো সমমানের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মসজিদ জরিপ প্রকাশিত হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ২ হাজার ৭৬৯ সংখ্যাটিকে বর্তমানের নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে নয়, সর্বশেষ বড় জাতীয় জরিপের সংখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মসজিদ এখন শুধু নামাজের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অনেক ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে শিশুদের ইসলামিক শিক্ষা, কোরআন শিক্ষা, ইসলামিক স্কুল, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এসব প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় জীবনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ ও কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে।   মন্দিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরের কোনো একক সরকারি জাতীয় তালিকা নেই। তবে ২০২৬ সালের একটি হিন্দু মন্দিরভিত্তিক তথ্যভান্ডারে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ২৫৬টি মন্দিরের তালিকা রয়েছে। এটি সরকারি গণনা নয়, বরং একটি বেসরকারি তথ্যভান্ডার। ফলে এই সংখ্যাকে বর্তমান মন্দিরের আনুষ্ঠানিক জাতীয় সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   হিন্দু মন্দিরগুলোও অনেক ক্ষেত্রে শুধু পূজার স্থান নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা, ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা, সংগীত, নৃত্য এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফলে মন্দিরগুলো অভিবাসী পরিবারগুলোর কাছে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।   পুরোনো ভবনকে নতুন ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করার প্রবণতাও এই পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান দিক। কোনো এলাকায় নতুন অভিবাসী কমিউনিটি গড়ে উঠলে তারা অনেক সময় নতুন করে জমি কিনে ভবন নির্মাণের পরিবর্তে আগে থেকেই থাকা চার্চ, বাড়ি, অফিস বা অন্য কোনো স্থাপনা কিনে সেটিকে মসজিদ, মন্দির কিংবা কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর করে। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন গড়ে ওঠে, তেমনি পুরোনো ভবনও নতুন কমিউনিটির সামাজিক জীবনের অংশ হয়ে যায়।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের আরেকটি বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ কোনো না কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ খ্রিস্টান। মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।   সামগ্রিক জনসংখ্যার চিত্রেও পরিবর্তনটি ধরা পড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৩-২৪ সালের জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৭ দশমিক ১ শতাংশ খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের পরিচয় দিয়েছেন। ২০০৭ সালে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। নতুন জরিপে মুসলিম ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং হিন্দু ০ দশমিক ৯ শতাংশ।   তবে এই পরিবর্তনকে শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। নতুন প্রজন্মের অভিবাসী পরিবারগুলো যেমন আমেরিকান সমাজের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছে, তেমনি নিজেদের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয়ও ধরে রাখছে।   ফলে আমেরিকার অনেক শহরের দৃশ্যপটে এখন পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে পুরোনো চার্চ, নতুন মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিন্দু মন্দির এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কমিউনিটি সেন্টার। অভিবাসনের ধারাবাহিকতার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানও যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের আরও দৃশ্যমান অংশ হয়ে উঠছে।   ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং অভিবাসনের ধারাবাহিক প্রভাব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় মানচিত্র যে আগের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিস্তার তারই দৃশ্যমান প্রতিফলন।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
পরিবারের সম্পর্ক যাচাইয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা বাড়াচ্ছে আইসিই
পরিবারের সম্পর্ক যাচাইয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা বাড়াচ্ছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কার্যক্রমের সময় দাবি করা পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করতে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা ব্যবহারের কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। এ জন্য ভার্জিনিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএনএ ইন্টারন্যাশনালকে এক বছরের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ ডলারের কাছাকাছি একটি চুক্তি দিয়েছে সংস্থাটি।   ফেডারেল ব্যয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি গত ১০ আগস্ট শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বা ইআরওর বিভিন্ন ফিল্ড অফিসে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা সরবরাহ করা হবে।   চুক্তির সরকারি বিবরণে বলা হয়েছে, এসব পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো দাবি করা জৈবিক পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করা। বিশেষ করে অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো শিশুর বাবা-মা বা আত্মীয় বলে দাবি করলে সেই সম্পর্ক সত্য কি না, তা দ্রুত পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হবে।   দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার এই পদ্ধতি আইসিইর জন্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে আইসিইর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বিভাগ এ ধরনের পরীক্ষার পাইলট কার্যক্রম শুরু করেছিল। ২০২২ সালে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৫১৬টি দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩০০টি পরীক্ষায় দাবি করা বাবা-মা ও সন্তানের জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।   পরে ২০২১ সালে সীমান্তে পারিবারিক ডিএনএ পরীক্ষার দায়িত্ব কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপির হাতে যায়। ২০২৫ সালে একই উদ্দেশ্যে ৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। নতুন চুক্তিসহ এই কর্মসূচিতে দুই দফায় ১৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল অর্থ বরাদ্দ হয়েছে বলে সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিউজউইক জানিয়েছে।   তবে ডিএনএ পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো নিয়ে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, অনেক অভিবাসী কেন তাদের ডিএনএ নেওয়া হচ্ছে এবং সেই তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা পুরোপুরি বুঝতে নাও পারেন। জেনেটিক তথ্য অন্য বায়োমেট্রিক তথ্যের তুলনায় আলাদা, কারণ এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তির পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া সম্ভব।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে জর্জটাউন ল স্কুলের সেন্টার অন প্রাইভেসি অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক স্টিভি গ্ল্যাবারসন বলেন, অনেক মানুষ তাদের ডিএনএ কেন নেওয়া হয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে, তা বুঝতে পারেন না।   সরকারি নথিতে নতুন চুক্তির আওতায় ডিএনএ নমুনা নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্মতির নিয়ম, তথ্য কতদিন সংরক্ষণ করা হবে, কখন তা ধ্বংস করা হবে কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি। কোনো পরীক্ষায় দাবি করা জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের প্রক্রিয়াগত সুযোগ থাকবে, সেটিও এসব নথিতে স্পষ্ট নয়।   ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আগের নীতিমালা অনুযায়ী, পারিবারিক ডিএনএ পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসন কার্যক্রমে ভুয়া বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক শনাক্ত করা এবং প্রকৃত পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করা। সরকারি ব্যাখ্যায় এর আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত পরিবারকে একসঙ্গে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা করা।   এদিকে নতুন চুক্তির সময় এমনিতেই আইসিইর ডিএনএ সংগ্রহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ওয়্যারড জানিয়েছে, ২০২৫ সালে আইসিইর হেফাজতে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষের ডিএনএ সংগ্রহ করে এফবিআইয়ের জাতীয় ডিএনএ ডেটাবেসে যুক্ত করা হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে পারিবারিক সম্পর্ক যাচাইয়ের দ্রুত ডিএনএ কর্মসূচি এবং অপরাধ তদন্তের ডিএনএ ডেটাবেসে প্রোফাইল জমা দেওয়ার কার্যক্রম আলাদা প্রক্রিয়া।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০