সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিবাসন

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তিন লাখের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল, কঠোর নজরদারিতে বিদেশি নাগরিকেরা

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অপরাধ, জননিরাপত্তা, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ও প্রতারণার কারণে বাতিল হয়েছে অধিকাংশ ভিসা; বাংলাদেশিদের জন্য দেশভিত্তিক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন   যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা যাচাই ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত ২০ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বলেন, ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুত এবং বেশি সংখ্যায় ভিসা বাতিল করেছে বর্তমান প্রশাসন। এর আগে গত ১০ আগস্ট পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে তখন পর্যন্ত এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানে বাতিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার অধিকাংশের পেছনে রয়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, প্রতারণা, আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া কিংবা এমন নতুন তথ্য পাওয়া, যার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর ভিসার যোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেন না। ২০ অক্টোবর রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা একই কারণগুলোর কথা উল্লেখ করেন। দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের আইন ভঙ্গ, প্রতারণা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ছাড় নেই। তবে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিলের প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা সব ভিসার কারণভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যান; ভিসা বাতিলের মোট সংখ্যা তিন লাখ ছাড়ানোর ঘোষণার পর ৩১ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ধারাবাহিক যাচাই কার্যক্রমের আরও কিছু বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কনস্যুলারবিষয়ক ব্যুরোর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ বা ধারাবাহিক যাচাই কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৩ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের আওতায় বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল হামলা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের কারণে, ২২ শতাংশ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায়, ৭ শতাংশ চুরির ঘটনায় এবং আরও ৭ শতাংশ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বা বিতরণের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে। এই পরিসংখ্যান দেখায়, অপরাধ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের ভিসা পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন: ২৩ হাজারের বেশি ভিসার এই হিসাব তিন লাখের বেশি মোট বাতিলের একটি অংশ; অপরাধের ধরনভিত্তিক উল্লিখিত শতাংশগুলোও শুধু ধারাবাহিক যাচাই কেন্দ্রের আওতায় থাকা ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।   জন্ম পর্যটন ঠেকাতেও বাতিল হয়েছে হাজারো ভিসা: ৩১ অক্টোবরের সরকারি তথ্যের পাশাপাশি জন্ম পর্যটন নিয়েও পররাষ্ট্র দপ্তর উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। দপ্তরের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এ ধরনের ভ্রমণকে সাধারণত ‘জন্ম পর্যটন’ বলা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই শ্রেণিতে বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে সাত শতাধিক ছিল চীনা নাগরিকদের। ট্রাম্প প্রশাসন জন্ম পর্যটনকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে জন্ম পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ভিসা বাতিলের এই সংখ্যা মোট তিন লাখের বেশি বাতিল হওয়া ভিসার একটি নির্দিষ্ট অংশ। এটিকে পুরো ভিসা বাতিলের প্রধান বা একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসায়ও বাড়ছে যাচাই: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুধু আগে ইস্যু করা ভিসা পর্যালোচনা করছে না, নতুন ভিসা আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়িয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দপ্তরের সরকারি নির্দেশনায় জানানো হয়, ১ অক্টোবর থেকে আরও কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি পর্যালোচনার আওতা বাড়ানো হবে। এর আগে থেকেই এফ-১ ও এম-১ শিক্ষার্থী ভিসা, এইচ-১বি কর্মী ভিসা, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটরসহ বিভিন্ন শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের নিয়ম কার্যকর ছিল। নতুন নির্দেশনায় বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত কিছু পেশাজীবীর ভিসাও এই বিস্তৃত যাচাইয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংস উন্মুক্ত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন ভিসা আবেদন যাচাইয়ের এই নীতি এবং আগে ইস্যু করা ভিসা বাতিল—দুটি আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। একটির তথ্য দিয়ে অন্যটির সংখ্যা বা পরিণতি নির্ধারণ করা যায় না।   বাংলাদেশিদের জন্য কী অর্থ বহন করছে এই সিদ্ধান্ত? যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, কর্মী, ব্যবসায়ী ও পর্যটক বসবাস ও যাতায়াত করেন। ফলে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিলের ঘোষণায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাতিল হওয়া ভিসার দেশভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। বাংলাদেশি নাগরিকদের কতটি ভিসা বাতিল হয়েছে, কিংবা মোট সংখ্যার মধ্যে তাঁদের অংশ কত—এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশিদের আলাদাভাবে লক্ষ্য করে ভিসা বাতিল করা হচ্ছে, এমন দাবির পক্ষেও প্রকাশিত তথ্য নেই। তাই এই ঘোষণাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বা কর্মীদের বিরুদ্ধে বিশেষ কোনো অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। তবে ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অপরাধে জড়ানো, আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া কিংবা প্রতারণার অভিযোগ যেকোনো দেশের নাগরিকের জন্যই ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পড়াশোনার অনুমোদিত অবস্থা বজায় রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রাখা এবং কাজের অনুমতি-সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। একইভাবে এইচ-১বি বা অন্যান্য কর্মী ভিসাধারীদের অনুমোদিত নিয়োগকর্তা ও কাজের শর্ত অনুসরণ করতে হবে। পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদেরও ভ্রমণের ঘোষিত উদ্দেশ্য এবং অনুমোদিত অবস্থানের সীমা মেনে চলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো বক্তব্যের কারণে ভিসা বাতিলের ঝুঁকি আছে কি না, সে বিষয়ে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রয়োজন। এ কারণে গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।   ভিসা বাতিল মানেই কি তাৎক্ষণিক বহিষ্কার? ভিসা বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অভিবাসন-অবস্থা এক বিষয় নয়। ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য কোনো বিদেশি নাগরিকের আবেদন করার অনুমতি দেয়; দেশটিতে প্রবেশের পর কত দিন থাকা যাবে বা তাঁর অভিবাসন-অবস্থা কী হবে, তা নির্ধারিত হয় আলাদা নিয়মে। সে কারণে কোনো ব্যক্তির ভিসা বাতিল হয়েছে মানেই তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে দেশ ছাড়তে হবে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার করা হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে ভিসা বাতিলের পাশাপাশি যদি ওই ব্যক্তির অবস্থানের অনুমোদন, ভিসার শর্ত কিংবা অন্য কোনো অভিবাসন আইনের সঙ্গে জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে তার আইনি পরিণতি গুরুতর হতে পারে। তাই ভিসা বাতিলের নোটিশ পাওয়া বা নিজের অভিবাসন-অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দ্রুত যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।   কঠোর নীতির পক্ষে প্রশাসন, ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ: ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিসাধারীদের ওপর ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন। তবে এই নীতির প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের একাংশ ভিসা বাতিল ও বহিষ্কারের উদ্যোগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সম্ভাব্য জাতিগত বৈষম্যের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করা কিছু বিদেশির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও সমালোচকদের বক্তব্য, নিরাপত্তার যুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অধিকার ও ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।   সামনে কী নজরে রাখতে হবে? তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিলের ঘোষণা এবং ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ধারাবাহিক যাচাই কেন্দ্রের পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোর যাচাই ও নজরদারির একটি বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই সংখ্যার প্রকৃত প্রভাব বুঝতে হলে ভিসার ধরন, নাগরিকত্ব, বাতিলের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিবাসন-অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। মার্কিন প্রশাসন এখনো মোট বাতিলের পূর্ণাঙ্গ দেশভিত্তিক বা ভিসার ধরনভিত্তিক হিসাব প্রকাশ করেনি। বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যা না থাকায় আতঙ্ক ছড়ানো বা সবাইকে ঝুঁকির মধ্যে আছেন বলে দাবি করা তথ্যসম্মত হবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভিসার শর্ত মেনে চলা, প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা এবং কোনো আইনি জটিলতা দেখা দিলে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত না নিয়ে পেশাদার পরামর্শ নেওয়া। পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী তথ্য ও নীতিগত পরিবর্তন প্রকাশিত হলে পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির শ্রম বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের নিয়ম বদলাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, প্রস্তাবের পর্যালোচনা শেষ

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির শ্রম বিভাগ। বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার আগে মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা, নিয়োগের নিয়ম আধুনিক করা এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনা গত ২৩ অক্টোবর শেষ হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং নতুন কোনো নিয়ম কার্যকর হয়নি। ফলে চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত নিয়মই বহাল রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের প্রস্তাবটি মূলত পিইআরএম নামে পরিচিত স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। দেশটিতে কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ী চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করতে চাইলে অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে দেখাতে হয়, সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য, আগ্রহী ও উপলব্ধ মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের বেতন ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, শ্রম বিভাগের প্রস্তাবটি গত ১৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়া হয়। ২৩ অক্টোবর সেই পর্যালোচনা শেষ হয়। প্রস্তাবটির আনুষ্ঠানিক নামের বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, পিইআরএম অভিবাসী ভিসা কর্মসূচিতে শ্রমবাজার যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আধুনিক করা এবং মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা জোরদার করা। তবে হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়া মানেই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে, এমন নয়।   শ্রম বিভাগের প্রকাশিত পরিকল্পনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিবর্তনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে মার্কিন কর্মীদের খোঁজার পদ্ধতি আধুনিক করা। বর্তমানে নিয়োগকর্তাদের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে চাকরির বিজ্ঞাপন দিতে এবং যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে হয়। নতুন প্রস্তাবে এই নিয়োগ যাচাইয়ের ন্যূনতম মান পরিবর্তন করা হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বর্তমান শ্রমবাজারে চাকরির বিজ্ঞাপন ও নিয়োগের প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে নিয়মগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্য রয়েছে।   প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মী ছাঁটাইয়ের পর বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা বাড়ানো। কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করার পর একই ধরনের পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে চাইলে কী ধরনের শর্ত পূরণ করতে হবে, সে বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা আসতে পারে। একই সঙ্গে নিয়োগের সময় বৈষম্য প্রতিরোধ, নিয়োগসংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ এবং শ্রম বিভাগের নিয়ম মেনে চলার বিষয়েও নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশিত না হওয়ায় ঠিক কোন শর্ত কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ইবি টু এবং ইবি থ্রি ক্যাটাগরির অনেক আবেদনের জন্য পিইআরএম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় শ্রম বিভাগের অনুমোদন পাওয়ার পর নিয়োগকর্তা ইউএসসিআইএসের কাছে অভিবাসী কর্মীর জন্য আবেদন করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বর পাওয়া এবং অন্যান্য যোগ্যতা পূরণের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। তবে সব চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনে পিইআরএম প্রয়োজন হয় না। যেমন, ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভারের মতো কিছু ক্যাটাগরিতে এই শ্রম সনদের বাধ্যবাধকতা নেই।   বর্তমান পিইআরএম ব্যবস্থার মূল নিয়োগসংক্রান্ত নিয়মগুলো ২০০৪ সালে প্রণীত হয়েছিল। এরপর প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইনে চাকরির বিজ্ঞাপন, কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি এবং শ্রমবাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। শ্রম বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থায়ী শ্রম সনদের নিয়ম আধুনিক করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ ও অধিকার সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   অভিবাসন আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেন জানিয়েছে, প্রস্তাবটি প্রকাশিত হলে নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মী স্পনসর করার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নতুন নিয়মের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আবেদন করতে কত সময় লাগবে, নিয়োগকর্তাদের অতিরিক্ত কী ধরনের নথি জমা দিতে হবে কিংবা আবেদনপ্রক্রিয়ার খরচ বাড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশি পেশাজীবী প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও অন্যান্য খাতে চাকরি করছেন। তাঁদের কেউ কেউ নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার বাংলাদেশ থেকেও অনেকে চাকরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সুযোগ খোঁজেন। ভবিষ্যতে পিইআরএম প্রক্রিয়ার নিয়ম পরিবর্তিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা এবং আবেদনকারীদের নতুন শর্ত মেনে চলতে হতে পারে। তবে সেই শর্তগুলো কী হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত বিধিমালার ওপর।   নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে আরও কয়েকটি আনুষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে শ্রম বিভাগকে প্রস্তাবিত বিধিমালার পূর্ণাঙ্গ খসড়া ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাধারণ মানুষ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মতামত জানানোর সুযোগ পাবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে শ্রম বিভাগ প্রস্তাবটি সংশোধন করতে পারে অথবা চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশিত হলেও সেটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।   এ অবস্থায় যাঁদের চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদন ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাঁদের জন্য এখনই নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি। একইভাবে যাঁরা ভবিষ্যতে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে আবেদন করতে চান, তাঁদেরও বর্তমান নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কারণে আবেদন বন্ধ রাখা, চাকরি পরিবর্তন করা কিংবা নতুন শর্ত কার্যকর হয়েছে ধরে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিধিমালার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের এই উদ্যোগ এখন প্রস্তাব প্রকাশের পরবর্তী ধাপে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশিত হলে বোঝা যাবে, মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি কর্মীদের চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনপ্রক্রিয়ায় কী ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তত দিন পর্যন্ত বিদ্যমান পিইআরএম নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আইন অনুযায়ী আবেদনপ্রক্রিয়া চলবে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার ইবি-৫ কর্মসূচির নির্দিষ্ট আবেদন ও পিটিশনের ফি বাড়ার নতুন ঘোষণা আসছে। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডের বাড়ছে খরচ, ইবি ৫ কর্মসূচিতে ফি দ্বিগুণেরও বেশি, কার্যকর ৩০ নভেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য আসছে নতুন খরচের হিসাব। ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়া ইবি-৫ অভিবাসন কর্মসূচির নির্দিষ্ট আবেদন ও পিটিশনের ফি বাড়ছে। তবে এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের সব আবেদনকারীর জন্য নয়; মূলত বিনিয়োগকারী অভিবাসীদের নির্দিষ্ট আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।   ইবি-৫ কর্মসূচিতে কত বাড়ছে ফি নতুন নিয়মে একক বিনিয়োগকারীর জন্য আই-৫২৬ ফরমের আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারীদের আই-৫২৬ই ফরমের ফি হবে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার। এ ছাড়া আবেদনকারীর ধরন অনুযায়ী অন্যান্য ফিও যুক্ত হতে পারে।   আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য ইবি-৫ কর্মসূচির তহবিল ফিও ১ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ১০০ ডলার হচ্ছে। ফলে আবেদনভেদে বিনিয়োগকারীদের মোট খরচ আরও বাড়তে পারে।   নতুন ফি কার্যকর হবে কবে ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর বা তার পরে ডাকযোগে পাঠানো সংশ্লিষ্ট আবেদন, পিটিশন ও অন্যান্য অনুরোধের ক্ষেত্রে নতুন ফি প্রযোজ্য হবে। এর আগে পাঠানো আবেদন সাধারণত তখনকার কার্যকর ফি কাঠামোর আওতায় পড়বে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, ইবি-৫ কর্মসূচি পরিচালনা, আবেদন যাচাই, আবেদনকারীদের পটভূমি পরীক্ষা এবং জালিয়াতি শনাক্তকরণের ব্যয় মেটাতে ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।   কারা ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় পড়েন ইবি-৫ হলো বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়ার একটি অভিবাসন কর্মসূচি। সাধারণ নিয়মে যোগ্য ব্যবসায় কমপক্ষে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। নির্ধারিত কর্মসংস্থান এলাকায় বা যোগ্য অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ৮ লাখ ডলার। পাশাপাশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন চাকরি সৃষ্টির শর্ত রয়েছে।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বিভিন্ন অভিবাসন পথ খুঁজে থাকেন। তবে নতুন ফি বৃদ্ধিকে সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। পরিবারের মাধ্যমে আবেদন, চাকরিভিত্তিক অভিবাসন কিংবা অন্যান্য শ্রেণির গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে এই একই ফি বৃদ্ধি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়।   যাঁরা বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আবেদন পাঠানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার সর্বশেষ ফি তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট ফরমের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত। আবেদনকারীর ধরন, ব্যবহৃত ফরম এবং অতিরিক্ত ফি অনুযায়ী মোট খরচে পার্থক্য হতে পারে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থায় চাকরির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগে চাকরির সুযোগ , নির্দিষ্ট পদে সাইনিং বোনাস ৩০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থায় চাকরির সুযোগ নিয়ে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিছু পদে নিয়োগের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত সাইনিং বোনাস পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এই সুবিধা সব পদের জন্য প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীদের মার্কিন নাগরিকত্ব, নির্ধারিত যোগ্যতা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। আইসিই যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন একটি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সংস্থাটি দেশটির অভিবাসন আইন বাস্তবায়ন, অভিবাসনসংক্রান্ত তদন্ত এবং কাস্টমস ও সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধ মোকাবিলায় কাজ করে।   আইসিইতে বিভিন্ন ধরনের পদ রয়েছে। এর মধ্যে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ও কারিগরি পদ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের শর্ত আলাদা হতে পারে। বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচিত প্রার্থীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, মেডিক্যাল পরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই এবং নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হতে পারে। সাইনিং বোনাস থাকলেও তা সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা ও নিয়োগের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।   আগ্রহীদের আবেদন করার আগে আইসিইর অফিসিয়াল ক্যারিয়ার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা উচিত। সেখানে পদের দায়িত্ব, বেতন, বোনাসের পরিমাণ, আবেদনের শেষ তারিখ এবং যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।   উল্লেখ্য, সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলারের সাইনিং বোনাসের দাবি সব পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট পদের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বোনাসের শর্ত যাচাই করে নেওয়া জরুরি।  

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে প্রবাসীদের দক্ষতা ও সহায়তার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে পালন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আজ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আয়োজন, চাকরি প্রস্তুতি থেকে অভিবাসন ও আইনি সচেতনতা সব একত্রে

নিউইয়র্কের কুইন্সে আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য বিশেষ আয়োজনের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এতে চাকরি খোঁজা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, অনলাইনে চাকরির আবেদন, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য জানার সুযোগ থাকছে। আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, কুইন্স প্যালেসে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলার কথা রয়েছে।   কর্মসূচির প্রথম পর্বে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্যকর জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, উপযুক্ত চাকরি খুঁজে বের করা, অনলাইনে আবেদন করা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি। পাশাপাশি চাকরি খোঁজা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের প্রাথমিক ধারণাও তুলে ধরার কথা রয়েছে।   নতুন অভিবাসী, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবনে অগ্রসর হতে আগ্রহীদের জন্য এ আয়োজন বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেকেরই কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি থেকে শুরু করে ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের কাজে আসতে পারে।   অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে অভিবাসনসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবা নিয়ে আলোচনা রাখার কথা রয়েছে। আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি প্রতারণা এড়িয়ে চলার বিষয়টিও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য অভিবাসন আইন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিসা, গ্রিন কার্ড কিংবা অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এ আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি কমিউনিটির অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন।   কর্মসূচিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা অভিবাসীদের সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   তবে অনুষ্ঠানে অংশ নিলেই চাকরি, আবাসন সহায়তা কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো আইনি সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত হবে, এমন নয়। ব্যক্তিগত অভিবাসন সমস্যার ক্ষেত্রে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া এবং সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি। আয়োজনে অংশ নেওয়ার আগে সময়সূচি, নিবন্ধন ও প্রবেশসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আয়োজকদের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা চাইছে সংগঠনগুলো
অভিবাসন অভিযান ঘিরে উদ্বেগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা চাইছে সংগঠনগুলো

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান ঘিরে অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে জরুরি আর্থিক সহায়তা, আইনি সুরক্ষা এবং সমন্বিত সরকারি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠন। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অন্যান্য নির্বাচিত কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।   সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিষয়ক ফেডারেল অভিযান নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক পরিবার দৈনন্দিন কাজকর্ম, কর্মস্থলে যাতায়াত, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় সরকারি ও সামাজিক সেবা গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তবে এসব উদ্বেগের ব্যাপ্তি সম্পর্কে রাজ্যজুড়ে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান ওই বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি।   স্যাক্রামেন্টো, সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় অঞ্চল, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান দিয়েগো, মধ্য উপকূল এবং মধ্য উপত্যকার বিভিন্ন সংগঠন এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। তাদের দাবি, অভিবাসন অভিযানে কোনো পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য আটক হলে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, খাবার, শিশুদের দেখাশোনা এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা চালুর পাশাপাশি আইনি অধিকার সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছে। ইংরেজিতে সীমিত দক্ষতা রয়েছে এমন পরিবারগুলোর জন্য বিভিন্ন ভাষায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো অভিযান বা আটকের পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো যেন দ্রুত আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবার সন্ধান পায়, সে জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো দরকার।   এ ছাড়া স্থানীয় নগর পরিষদ ও কাউন্টি প্রশাসনগুলোর প্রতি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি এবং অভিবাসীদের সহায়তায় কাজ করা সংগঠনগুলোর জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয়; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।   এই দাবি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে অভিবাসননীতি রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, অভিবাসন অভিযান নিয়ে ভীতি ও অনিশ্চয়তা কিছু মানুষের জনজীবনে অংশগ্রহণ এবং ভোটসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। এটি সংগঠনগুলোর বক্তব্য; এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে আরও তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন, ক্ষমতা হারালেন অভিবাসন বিচারকেরা
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন, ক্ষমতা হারালেন অভিবাসন বিচারকেরা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বিচারকদের নির্বাসন মামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ক্ষমতা বা ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্লোজার’ ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক আদেশে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানান। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও রিপাবলিকান শাসিত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তি বহাল থাকল, যার মাধ্যমে বিচারকদের এই বহু পুরোনো ক্ষমতাটি বাতিল করা হয়েছিল।   বাল্টিমোরসহ তিনটি মার্কিন শহর এবং একটি অভিবাসী অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীর করা জরুরি আবেদনটি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই এক বাক্যের আদেশে খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্ট। আদেশের বিষয়ে কোনো বিচারপতি প্রকাশ্য ভিন্নমতও পোষণ করেননি।   দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অভিবাসন বিচারকরা তাঁদের ওপর থাকা মামলার বাড়তি চাপ কমাতে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্লোজার’ বা প্রশাসনিক সমাপ্তি নামের এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছিলেন। মূলত একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিসা পিটিশন বা ফৌজদারি সাজার আপিলের মতো অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাসন বা ডিপোর্টেশন মামলা স্থগিত রাখা হতো।   তবে টেক্সাস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মতো সমালোচকদের দাবি, এই নিয়মের সুযোগ নিয়ে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান, যা একধরনের সাধারণ ক্ষমার মতো কাজ করে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রশাসন বিচারকদের মামলা পরিচালনার সুবিধার্থে এই পদ্ধতিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি রূপ দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগ ঘোষণা দেয় যে তারা বাইডেন আমলের এই নিয়ম রক্ষায় আদালতে আইনি লড়াই চালাবে না।   এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুন টেক্সাস অঙ্গরাজ্য নিয়মটিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করে এবং একই দিন ট্রাম্প প্রশাসন ও টেক্সাস একটি চুক্তিতে উপনীত হয়। উইচিটা ফলস-এর ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ রিড ও'কনর দ্রুত এই চুক্তি অনুমোদন করে বাইডেন আমলের নিয়মটিকে বেআইনি ঘোষণা করেন এবং দেশব্যাপী স্থায়ীভাবে তা বাতিল করেন।   এই আদেশের বিরুদ্ধে বাল্টিমোর, নিউ হ্যাভেন ও কলম্বাস—এই তিন শহর এবং আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রো লিগ্যাল দে লা রাজা আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হতে চাইলেও বিচারক ও'কনর তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ফিফথ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-ও এই চুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।   সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া আবেদনে শহরগুলো অভিযোগ করেছিল যে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অপছন্দের একটি নিয়ম বাতিল করতে আদর্শগতভাবে সমমনা টেক্সাসের সঙ্গে যোগসাজশ করে ‘সাজানো মামলার’ মাধ্যমে ফেডারেল আইন এড়িয়ে গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে ৩ নভেম্বর থেকে নতুন নিয়ম, যোগ্য চাকরিতে মিলবে সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্ট
কানাডার এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে ৩ নভেম্বর থেকে নতুন নিয়ম, যোগ্য চাকরিতে মিলবে সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্ট

আগামী ৩ নভেম্বর (২০২৬) থেকে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য এক্সপ্রেস এন্ট্রি ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। গত ১৬ অক্টোবর কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) এই নতুন নিয়মের ঘোষণা দেয়।   নতুন এই নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব অথবা কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আবেদনকারীরা অতিরিক্ত কমপ্রিহেনসিভ র‍্যাঙ্কিং সিস্টেম (সিআরএস) পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে যোগ্য চাকরির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (এলএমআইএ) বাধ্যতামূলক থাকার নিয়মটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।   নতুন ব্যবস্থায় উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব থাকলে আবেদনকারীরা পেশার নির্ধারিত মধ্যম বেতনের ভিত্তিতে ৫০, ৭০ বা সর্বোচ্চ ১০০ পর্যন্ত সিআরএস পয়েন্ট পেতে পারেন। এক্ষেত্রে পেশাটির মধ্যম বেতন কানাডার সামগ্রিক কর্মশক্তির মধ্যম বেতনের ১ দশমিক ৩ গুণ হলে ৫০ পয়েন্ট, ১ দশমিক ৫ গুণ হলে ৭০ পয়েন্ট এবং দ্বিগুণ হলে ১০০ পয়েন্ট মিলবে।   তবে এটি ব্যক্তির নিজস্ব বেতনের ওপর নয়, বরং জাতীয় পেশা শ্রেণিবিন্যাস কোড এবং আইআরসিসির তালিকার ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় অন্তত ১২ মাসের কানাডীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে অতিরিক্ত ২০, ৪০ অথবা ৭০ পয়েন্ট পাওয়া যাবে। প্রচলিত সিআরএস পয়েন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই খাতে একজন আবেদনকারী (সঙ্গী ছাড়া) সর্বোচ্চ ১৫০ পয়েন্ট এবং সঙ্গীসহ আবেদন করলে সর্বোচ্চ ১৪০ পয়েন্ট পর্যন্ত অর্জন করতে পারবেন।   তবে চাকরির প্রস্তাব ও কাজের অভিজ্ঞতার পয়েন্ট একসঙ্গে যোগ করার সুযোগ নেই; যেটিতে পয়েন্ট বেশি আসবে সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।   নতুন নিয়মে এলএমআইএ-এর বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হলেও আইআরসিসি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, চাকরির প্রস্তাবের সত্যতা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি সক্রিয়ভাবে ব্যবসা করছে কি না, চাকরির প্রস্তাবটি তাদের প্রকৃত প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না এবং আবেদনকারী ওই পদের জন্য যোগ্য কি না—তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন কর্মকর্তারা।   ভুয়া চাকরির প্রস্তাব বা ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিলের ঝুঁকিতে পড়বে। এলএমআইএ অব্যাহতি পেলেও ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার বা ট্রেডস প্রোগ্রামের আওতায় চাকরির প্রস্তাবের নির্ধারিত শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকবে।   যাঁরা ইতিমধ্যেই এক্সপ্রেস এন্ট্রি পুলে যুক্ত আছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁদের প্রোফাইলের স্কোর পুনর্গণনা করা হবে। তবে এর জন্য ৩ নভেম্বরের আগেই আবেদনকারীদের নিজ নিজ প্রোফাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করে সঠিকতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   আইআরসিসি জানিয়েছে, এই পুনর্গণনা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে এবং এই সময়ে নতুন আবেদনকারীদের আমন্ত্রণ জানানোর ড্র সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। মূলত কানাডার শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করতে এবং প্রকৃত দক্ষ কর্মীদের আকৃষ্ট করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আদালত বাতিল করলেও হাজার হাজার আবেদনকারী এখনো নিজ নিজ দেশে আটকে রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
আদালতের রায়ে নিষেধাজ্ঞা বাতিল হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাচ্ছেন না হাজারো অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আদালত বাতিল করলেও হাজার হাজার আবেদনকারী এখনো নিজ নিজ দেশে আটকে রয়েছেন। গত ২১ আগস্ট ফেডারেল আদালতের রায়ের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু ভিসা ইস্যুতে অতিরিক্ত যাচাই, নতুন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারছেন না। সোমবার (২৬ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, কলম্বিয়া, ব্রাজিলসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মার্কিন অভিবাসন আইনে এই বিষয়টি ‘পাবলিক চার্জ’ নামে পরিচিত। তবে নিষেধাজ্ঞাটি সবার ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা যাচাই করে নয়, জাতীয়তার ভিত্তিতে কার্যকর করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে এই নীতি চ্যালেঞ্জ করা হয়। গত ২১ আগস্ট বিচারক জেনেট ভার্গাস রায় দেন, এভাবে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখার নীতি আইনসম্মত নয়। আদালত নিষেধাজ্ঞাটি বাতিল করার পাশাপাশি শুধু ওই নীতির কারণে প্রত্যাখ্যাত ভিসা আবেদনগুলো পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন। বিচারকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল।   রায়ের পর ২৮ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ২১ আগস্ট থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার নীতি আর কার্যকর নেই। তবে একই ঘোষণায় সংস্থাটি জানায়, আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা যাচাইয়ের নীতি পর্যালোচনা চলছে। অর্থাৎ আদালতের রায়ে জাতীয়তাভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল হলেও আবেদনকারীদের অন্যান্য যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।   নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সময় ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। তাঁদের মধ্যে মার্কিন নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারীদের স্ত্রী-স্বামী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরাও রয়েছেন। অনেক আবেদনকারীর ভিসা অনুমোদনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। কেউ কেউ পাসপোর্টে ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। আদালতের রায়ের পরও তাঁদের অনেকে নতুন সিদ্ধান্ত বা প্রয়োজনীয় নথির অপেক্ষায় রয়েছেন।   এই পরিস্থিতির একটি উদাহরণ মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ডাস্টিন হফম্যানের পরিবার। একসময় ইরাকে দায়িত্ব পালন করা হফম্যান স্ত্রী গ্লোরিয়া এবং সন্তানদের নিয়ে আর্জেন্টিনায় বসবাস করতেন। পরে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার সুযোগ বিবেচনায় পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী কলম্বিয়ার নাগরিক হওয়ায় ৭৫ দেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন। প্রায় এক বছর ধরে আবেদন প্রক্রিয়া চললেও গ্লোরিয়ার ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখনো ইস্যু হয়নি।   হফম্যান জানিয়েছেন, তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ছায়া এবং ১২ বছর বয়সী সৎসন্তান ইসরায়েল এখনো আর্জেন্টিনায় রয়েছে। মেয়ের বিশেষ শিক্ষাগত প্রয়োজনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত সুযোগের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভিসার দীর্ঘসূত্রতায় পরিবার আলাদা থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে একসঙ্গে বসবাসের পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।   আদালতের রায়ের পরও হফম্যানের স্ত্রীর কাছে নতুন করে আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ চেয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কি না, তা যাচাই করতে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। হফম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও বারবার নতুন শর্ত পূরণের প্রয়োজন হওয়ায় তাঁদের পারিবারিক জীবনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।   আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সভাপতি অ্যালেক্সিস অ্যাক্সেলরাড অভিযোগ করেছেন, আদালতের আদেশের পরও প্রশাসন ভিসা ইস্যুর প্রক্রিয়া যথেষ্ট দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে না। তাঁর মতে, কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও আবেদনকারীরা যদি ইন্টারভিউ শেষ করতে বা পাসপোর্টে ভিসা পেতে না পারেন, তাহলে বাস্তবে তাঁদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তবে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন আটকে রাখছে, এটি আইনজীবীদের অভিযোগ। আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়ে নতুন কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   এনপিআর জানিয়েছে, আগস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর কর্মকর্তাদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করে। এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য আবেদনকারীদের পাবলিক চার্জসংক্রান্ত ঝুঁকি আরও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা। এর ফলে আগে অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছানো আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও বাড়তি যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। একজন সাবেক মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তা এনপিআরকে জানিয়েছেন, এত বড় পরিসরে ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত বা ধীরগতিতে পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অস্বাভাবিক।   নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের ওপরও। কলম্বিয়ার চিকিৎসক ও গবেষক ড. ফার্নান্দো লিজকানো তাঁদের একজন। হৃদরোগ, স্থূলতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত ইবি-১এ ক্যাটাগরিতে তাঁর আবেদন ইউএসসিআইএস অনুমোদন করেছে। কিন্তু এরপরও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চূড়ান্ত ভিসা অনুমোদনের অপেক্ষায় কলম্বিয়ায় অবস্থান করছেন তিনি।   লিজকানো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বায়োমেডিকেল গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে এন্ডোক্রাইনোলজি, মলিকিউলার বায়োলজি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি। কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। তাঁর ঘটনা দেখিয়েছে, ইউএসসিআইএসের মাধ্যমে একটি ইমিগ্রেশন পিটিশন অনুমোদিত হওয়া এবং বিদেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়া এক বিষয় নয়।   এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এনপিআরকে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা বিস্তারিত মন্তব্য করবে না। সংস্থাটির সরকারি ওয়েবসাইটে অবশ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, আগস্টের আদালতের রায়ের পর ৭৫ দেশের ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার নীতি বাতিল হয়েছে। তবে প্রশাসন আবেদনকারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এই পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জানুয়ারিতে যে ৭৫ দেশের ওপর ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সেই তালিকায় বাংলাদেশও ছিল। ফলে বাংলাদেশ থেকে ফ্যামিলি-ভিত্তিক কিংবা এমপ্লয়মেন্ট-ভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য আবেদন করা ব্যক্তিরাও নীতিটির আওতায় পড়েছিলেন। আদালতের রায়ের ফলে ওই নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও আটকে থাকা প্রতিটি আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয়ে যাবে, এমন নয়।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য প্রযোজ্য ছিল। টুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ওপর ওই একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, এই নীতির কারণে আগে ইস্যু করা বৈধ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিল করা হয়নি। তবে অন্য কোনো পৃথক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কিংবা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অযোগ্যতা থাকলে তা আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।   এনপিআরের প্রতিবেদনে উঠে আসা পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আদালতের রায়ে একটি অভিবাসননীতি বাতিল হওয়া এবং সেই রায়ের সুফল আবেদনকারীদের কাছে পৌঁছানোর মধ্যে বড় ব্যবধান থাকতে পারে। বর্তমানে প্রধান প্রশ্ন হলো, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কত দ্রুত আটকে থাকা আবেদনগুলোর সিদ্ধান্ত দেবে এবং অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোকে আরও কত দিন আলাদা থাকতে হবে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ায় অভিবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, অনুমোদন কমে যাওয়ায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের খবর সামনে এসেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ায় বহু আবেদনকারী দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়েছেন। এর ফলে নাগরিকত্বের যোগ্যতা পূরণ করেও আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই বড় ধরনের পতনের কারণে কয়েক লাখ আবেদনকারী অপেক্ষায় রয়েছেন। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য আবেদনকারীরাও নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে পারেন না। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্বের অপেক্ষা রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে যোগ্যতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি ও আবেদনপ্রক্রিয়া আগেই যাচাই করা উচিত। আবেদন জমা দেওয়া থাকলে ইউএসসিআইএসের সরকারি ওয়েবসাইটে নিজের আবেদন নম্বর দিয়ে সর্বশেষ অবস্থা দেখা যায়। দীর্ঘ বিলম্ব বা আইনি জটিলতা দেখা দিলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমে যাওয়ার খবর মানেই সব আবেদনকারীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে—এমন নয়। আবেদন অনুমোদন, আবেদন নিষ্পত্তি এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা আলাদা বিষয়। নিজের আবেদনের অবস্থা জানতে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
উরোপের তিন দেশ থেকে দেশে ফিরলেন ৩৫ বাংলাদেশি
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হলো ৩৫ বাংলাদেশিকে, বিমানবন্দরে মিলল সহায়তা

ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন। একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন দেশে ফেরেন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফ্লাইটটি।   ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দেশে ফেরার পর বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় এই সহায়তা দিচ্ছে। এ কাজে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সহযোগিতা করেছে। এ সময় বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে ফেরত আসা ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হবে। অনিয়মিতভাবে ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ২০১৭ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি সই করে বাংলাদেশ সরকার। এই চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, গত কয়েক বছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি, গ্রিস ও জার্মানি থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি। তিনি বলেন, দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অর্থনৈতিক সহায়তাও করা হয়, যাতে তাঁরা নতুন করে জীবন গুছিয়ে নিতে পারেন। শরিফুল হাসান আরও জানান, ঝুঁকি নিয়ে যেন বাংলাদেশিরা ইউরোপে পাড়ি না জমান, সে জন্য সারা দেশে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলো বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের ২৪৩টি ভিসা আবেদনে জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিবিএসএ। ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশির ভিসা আবেদনে জালিয়াতি, অভিযুক্ত পাঁচজন

কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে। একই দিন অভিযুক্ত চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা পঞ্চম ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।    সিবিএসএর বিবৃতি অনুযায়ী, আদালতে হাজির হওয়া চারজন হলেন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। অপর অভিযুক্তের নাম মো. রাকিবুল হাসান। তদন্তে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্টের আওতায় তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।    তদন্তকারীদের অভিযোগ, কানাডীয় নাগরিকদের আতিথেয়তাকারী হিসেবে দেখিয়ে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসব ভিসার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। জাল নথি ও মিথ্যা বক্তব্যের মাধ্যমে আবেদনকারীদের টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা পাইয়ে দিতে একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। তদন্তে মোট ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের নামে ২৪৩টি আবেদন শনাক্ত করা হয়েছে।    ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৩ জুলাই। সেদিন কুইবেকের মেরসিয়েতে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি ও নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে সিবিএসএ। সেখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের একাধিক ইঙ্গিত পাওয়ার পর ওই বছরের আগস্টে তদন্ত শুরু হয়।    পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি সার্চ ওয়ারেন্ট কার্যকর করেন তদন্তকারীরা। জব্দ করা নথি ও কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামত থেকে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ঘটনার ব্যাপ্তি ও জটিলতা বিবেচনায় সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণসংবলিত ৭৯টি ভিসা আবেদনকে তদন্তে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।    অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে আইনবিরুদ্ধভাবে কানাডায় প্রবেশের ব্যবস্থা বা সহায়তা করার ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপনে জেনেশুনে সহায়তা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে প্ররোচনা বা সহযোগিতা। এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির পর ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
অভিবাসন জালিয়াতির তদন্তে বাড়িতে তল্লাশি, ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন ইলহান ওমর

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তার বাড়িতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি চালানো হয়। তবে ওমর কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তটিকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার প্রচেষ্টা বলে সমালোচনা করেছেন।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তল্লাশির বিষয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত কথা বলেন ওমর। তিনি জানান, ভোরে প্রায় ছয়টার দিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারীরা আদালতের অনুমতিপত্র নিয়ে তার দরজায় হাজির হন। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মোবাইল ফোন, নোটবুক, সোমালি ভাষায় লেখা শিশুদের একটি বই এবং একটি পুরোনো ক্যামেরাসহ মোট ১৭টি সামগ্রী নিয়ে যান তদন্তকারীরা।   ওমরের বাড়িতে তল্লাশির বিষয়টি গত ১২ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, আদালতের অনুমোদন নিয়ে জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে এবং এটি চলমান একটি ফেডারেল ফৌজদারি তদন্তের অংশ। তবে তদন্তের সবিস্তার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তটি ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে এগোচ্ছে। এ বিষয়ে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কাছে গ্র্যান্ড জুরির সমনও পাঠানো হয়েছে বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন।   সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে ২০০০ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। নিজের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে কোনো অনিয়ম করেননি বলে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ কীভাবে তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। তার মতে, এমন অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   ওমর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেস সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির একজন পরিচিত সমালোচক। তার বিরুদ্ধে তদন্তের সময় নিয়েও ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বাড়িতে এমন তল্লাশি চালানোকে তারা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাধারণত নির্বাচনের ঠিক আগে প্রার্থীকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার রীতি অনুসরণ করে, যদিও এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা সর্বক্ষেত্রে এক নয়।   তল্লাশির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ওমর বলেন, তদন্তকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তল্লাশিতে নেওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করেন এবং অন্য জিনিসপত্র আগের জায়গায় রেখে যান। তিনি তাদের আচরণকে অনধিকারচর্চামূলক হলেও ভদ্র বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এই ঘটনা তার বাড়িতে নিরাপদ বোধ করার অনুভূতিকে নষ্ট করেছে বলে জানান তিনি।   ওমরের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের অভিযোগগুলোও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বললেও তিনি কংগ্রেসের দায়িত্ব ও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের কথা জানাননি।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের জয়ের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো মার্কিন নাগরিকদের নতুন অভিজ্ঞতা
. ট্রাম্পের জয়ের পর দেশ ছেড়ে ইউরোপে, এবার কেন ফিরতে চাইছেন অনেক মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন অনেক মার্কিন নাগরিক। তাঁদের কেউ চেয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বাইরে থাকতে, কেউ আবার ইউরোপের উন্নত জীবনযাত্রা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু নতুন দেশে বসবাস করতে গিয়ে তাঁদের কয়েকজনের সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। চাকরি পাওয়া, উচ্চ কর, স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জের কারণে কেউ কেউ এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ওয়্যার্ডের এক প্রতিবেদনে ইউরোপে চলে যাওয়া কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘তারা ট্রাম্পের আমেরিকা ছেড়েছিলেন, এখন অনুতপ্ত’। এতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপের জীবনযাত্রা নিয়ে যে আকর্ষণীয় ছবি তুলে ধরা হয়, বাস্তবে তার সঙ্গে অনেকের অভিজ্ঞতা মেলেনি। ‘অ্যানি’ ছদ্মনামে পরিচিত এক নারী জানান, যুক্তরাজ্যে জীবনযাপন নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির যে ছবি দেখেছিলেন, বাস্তবতা তার চেয়ে আলাদা। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, জীবনযাত্রার মান এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ যুক্তরাজ্যে কম বলে মনে হয়েছে তাঁর। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের মাধ্যমে বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা নিয়েই দেশটিতে গিয়েছিলেন অ্যানি। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতায়, কর ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বিষয়টি হিসাবের বাইরে ছিল। ফলে স্বাস্থ্যসেবাকে পুরোপুরি বিনা খরচের বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অ্যানির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে ব্যবহৃত কিছু গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি যুক্তরাজ্যে অনেকের কাছে বিলাসী পণ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। ডিশওয়াশার ও কাপড় শুকানোর যন্ত্রের মতো পণ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি দুই দেশের জীবনযাত্রার পার্থক্য তুলে ধরেন। শুধু আর্থিক বিষয় নয়, যুক্তরাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়েও হতাশার কথা জানিয়েছেন অ্যানি। তাঁর অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে কয়েকজন তাঁর মার্কিন উচ্চারণ ও সংস্কৃতি নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। তাঁর ধারণা ছিল, ব্রিটিশ সমাজে ভদ্রতা ও সৌজন্যের যে চিত্র চলচ্চিত্রে দেখা যায়, বাস্তবেও তা একই রকম হবে। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। অন্যদিকে, সাংবাদিক ও পরামর্শক সারাহ উড গনজালেজ জানিয়েছেন, ভিন্ন পরিবেশে বসবাস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতির কিছু দিক নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, মার্কিন কর্মক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিতে চায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় কম লাগে। জার্মানিতে চলে যাওয়া জশ নামের এক মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। তিনি জানান, সেখানে চাকরি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা তাঁর হতাশা বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে দৈনন্দিন জীবনযাপনের সহজতা, মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যে অভিজ্ঞতা ছিল, তা তিনি মিস করতে শুরু করেন। জশের মতে, স্থানীয় সমাজে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠাও বিদেশিদের জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি স্থানীয়দের মতো দেখতে না হন বা সেখানকার সংস্কৃতিতে জন্ম থেকে বেড়ে না ওঠেন, তাহলে নিজেকে সমাজের অংশ মনে করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শেষ পর্যন্ত জশ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন। প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে এখন অনেক বেশি ভালো আছেন। ইউরোপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়তো তিনি পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন। তবে ইউরোপে গিয়ে হতাশ হওয়ার কথা প্রকাশ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ছেন কেউ কেউ। ওয়্যার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা জানালে তাঁদের একাংশকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষণশীল বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। কেউ কেউ আবার মনে করেন, নতুন দেশে মানিয়ে নিতে না পারার দায় তাঁদের নিজেদেরই। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থী শহর ও অঙ্গরাজ্যে থাকা বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁদের সামাজিক সম্পর্কের অভাবও অনেকের মধ্যে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। নতুন দেশে জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষ, সামাজিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের গুরুত্ব তাঁরা নতুন করে উপলব্ধি করছেন। ভেনেজুয়েলায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ডি মার্টিনোও ইউরোপে বসবাসের প্রত্যাশা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, ইউরোপের সব দেশকে একইভাবে বিচার করা যায় না। গ্রিসের গড় আয়ের জীবনযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ডেনমার্কের মতো দেশে জীবনযাত্রার মান ভালো হলেও গড় আয় অনেক ক্ষেত্রে মার্কিনদের তুলনায় কম। তিনি বলেন, ইউরোপের কিছু দেশে অপরাধের হার কম এবং খাবারের মান ভালো হওয়ার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে আয়, চাকরি পাওয়ার সুযোগ এবং করের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর মতে, অনেক ইউরোপীয় দেশে কর্মী ছাঁটাইয়ের নিয়ম কঠোর হওয়ায় নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন ব্যবস্থার ব্যয় মেটাতে করের বোঝাও বেশি হতে পারে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে কাজ করা থিও ওল্ডও ইউরোপের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন উদারপন্থীদের প্রত্যাশার সমালোচনা করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন; এটি ইউরোপে বসবাসকারী সব মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করে না। এখানে উল্লেখযোগ্য, ইউরোপে চলে যাওয়া সব মার্কিন নাগরিক যে হতাশ বা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন নয়। প্রতিবেদনে কয়েকজনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও নতুন দেশে চাকরি, আয়, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো কিছু মার্কিন নাগরিকের কাছে এখন সেই সিদ্ধান্তের সুবিধা ও অসুবিধা নতুন করে সামনে এসেছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে, দূর থেকে কোনো দেশকে আকর্ষণীয় মনে হলেও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। আর সেই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না, সেটিই শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার চিন্তাকে প্রভাবিত করছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির পর তদন্ত জোরদার
ইলহান ওমর ও তাঁর প্রয়াত বাবাকে ঘিরে অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদে বোন

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বোন সাহরা নূরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির পর তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি স্বেচ্ছায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সোমবার, ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালান যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) কর্মকর্তারা। এর পরই তাঁর বোন সাহরা নূর তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে নূরের সাক্ষাৎকারের পর তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফেডারেল তদন্তকারীরা ইলহান ওমর এবং তাঁর প্রয়াত বাবাকে ঘিরে সম্ভাব্য অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের মূল বিষয়, অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্রে কোনো ধরনের ভুল তথ্য বা অনিয়ম ছিল কি না। তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং তদন্তকারীদের হাতে থাকা প্রমাণ সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি। তিনি ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তাঁর বাড়িতে তল্লাশির ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। ওমর অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাড়িতে তল্লাশি চালানোর ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টার অংশ। তিনি তদন্তের উদ্দেশ্য ও সময় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এর আগে ১২ অক্টোবরের তল্লাশির পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীরা ওমরের অভিবাসন-সংক্রান্ত পুরোনো নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে তদন্তের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সাহরা নূরকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাটি তদন্তের পরিধি সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আনলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, তাঁর দেওয়া বক্তব্য তদন্তের গতিপথে কী প্রভাব ফেলেছে, সেটিও জানা যায়নি। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, তদন্তকারীরা ইলহান ওমরের অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং তাঁর পরিবারের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরীক্ষা করছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ওমর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বাড়িতে তল্লাশিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার মা ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে আরানজা
নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে এসেও আইসিইর হাতে আটক ভেনেজুয়েলার মা, বিচ্ছিন্ন মেয়ে

ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার নাগরিক ডিকারলা আন্তোনেলা সুয়ারেজ ভার্গাস ও তাঁর ছোট মেয়ে আরানজা সোফিয়া কাস্তিয়ো সুয়ারেজ। সমুদ্রে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সেই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নতুন জীবন শুরু করলেও এখন আরেক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মা। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আ ট ক হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর মেয়ে রয়েছে এক আত্মীয়ের কাছে।   ৩৪ বছর বয়সী ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নিকারাগুয়ার কর্ন আইল্যান্ডসের কাছে একটি নৌডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। কলম্বিয়ার সান আন্দ্রেস থেকে কর্ন আইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল নৌযানটি। দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিকারাগুয়ার নৌবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় জেলেদের নৌকাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। সব মিলিয়ে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্ঘটনায় ভেনেজুয়েলার দুই যাত্রীর মৃ ত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল। ডিকারলার বোন কিসি সুয়ারেজের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় তাঁর বোন ও ভাগনি প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সমুদ্রে আটকে ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, হয়তো আর বেঁচে ফেরা হবে না। ওই ঘটনায় অন্য যাত্রীদের প্রাণহানিও ঘটে। পরিবারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আশায় তাঁরা ওই নৌযানে যাত্রা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মা-মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে টেক্সাসের ডালাসে বসবাস শুরু করেন। ডিকারলা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন, আর তাঁর মেয়ে আরানজা স্কুলে যেত। পরিবারের ভাষ্য, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের হাজির করেছিলেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম চলতে থাকে। তবে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারের দাবি, সেদিন ডিকারলা নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সাক্ষাৎ বা চেক-ইনের জন্য গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে আ ট ক করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিই। এরপর থেকে তিনি অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ডিকারলা ২০২৪ সালের মে মাসে মেয়েকে নিয়ে এল পাসোর কাছে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। বিভাগের এক মুখপাত্রের দাবি, সে সময় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অবৈধ মাদক ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে বিভাগটির বিবৃতিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কথা বলা হয়নি। পরিবারের দাবি, ডিকারলার কোনো অপরাধের রেকর্ড, ফৌজদারি অভিযোগ বা আগের গ্রেপ্তারের ঘটনা নেই। তবে তাঁর অভিবাসন মামলার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি একজন অভিবাসন বিচারক তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এরপর তাঁর আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করেন। ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দাখিল করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিকারলাকে লারেডো প্রসেসিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মা-মেয়ের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবার। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বলেছেন, আইসিইর নীতি অনুযায়ী আরানজাকে একজন আত্মীয়ের কাছে রাখা হয়েছে। বিভাগের বক্তব্য, অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁরা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বহিষ্কৃত হতে চান কি না। তা না হলে অভিভাবকের মনোনীত নিরাপদ ব্যক্তির কাছে শিশুকে রাখা হয়। বিভাগটির দাবি, এটি আগের প্রশাসনগুলোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডিকারলার বোন কিসি জানিয়েছেন, তাঁর বোন মেয়েকে ঘিরেই জীবন সাজিয়েছিলেন। তিনি মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন, দেখাশোনা করতেন এবং সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করতেন। হোটেল ও খাবার পরিবেশনসহ ডালাস এলাকার বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাক্সেল রোহাস ডিকারলার আইনি খরচ মেটাতে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, ডিকারলার সঙ্গে যা ঘটছে, তা গভীরভাবে অন্যায্য। তিনি আশা করছেন, ডিকারলা ন্যায়সংগত আচরণ পাবেন এবং মা-মেয়ে আবার একসঙ্গে থাকতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কঠোরতার মধ্যে মা-বাবাকে আ ট ক বা বহিষ্কারের কারণে সন্তানদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু সম্ভবত তাদের কোনো অভিভাবকের আ ট ক হওয়ার অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে। ডিকারলা ও আরানজার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আরও গভীর, কারণ তাঁরা ইতোমধ্যে প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা থেকে বেঁচে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মা কাজ করেছেন, মেয়ে স্কুলে পড়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে জীবন গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন বহিষ্কারের আদেশ ও দীর্ঘ আটকাবস্থার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পরিবারের আশঙ্কা, আইনি প্রক্রিয়ার পরিণতি তাঁদের আবারও আলাদা করে দিতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের খতিয়ান, প্রায় ৫০০ মানুষের ঘটনা নিয়ে নতুন ওয়েবসাইট
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের খতিয়ান, প্রায় ৫০০ মানুষের ঘটনা নিয়ে নতুন ওয়েবসাইট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে অভিবাসন নীতির নামে পরিচালিত গণ-নির্বাসন ও ধরপাকড়ের শিকার হওয়া মানুষদের তথ্য সংরক্ষণে একটি নতুন অনলাইন প্রজেক্ট চালু হয়েছে। 'ডিজঅ্যাপিয়ার্ড ইন আমেরিকা' নামের এই ওয়েবসাইটটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর বিতর্কিত অভিযানে আটক, নির্বাসিত বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রায় ৫০০ জনের ঘটনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।   ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জে.বি. প্রিজকারের প্রশাসনের সমর্থনপুষ্ট 'ইলিনয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি কমিশন'-এর উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক রেকর্ড সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে।   শিকাগোতে পরিচালিত আইসিই-এর বহুল সমালোচিত 'অপারেশন মিডওয়ে ব্লিটজ'-সহ দেশজুড়ে চলা নানা অভিযানের শিকার অভিবাসী এবং মার্কিন নাগরিকদের গল্প স্থান পেয়েছে এই আর্কাইভে। হোয়াইট হাউস যখন গ্যাং সদস্য ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সাফাই গাইছে, তখন সমালোচকরা দাবি করছেন, এই ধরনের বড় মাপের অভিযানে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছাড়াই অসংখ্য নিরীহ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।   ডেমোক্রেসি পাওয়ার প্রজেক্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিয়েত্রিজ লোপেজ নিউজউইক-কে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জবাবদিহি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।   গভর্নর জে.বি. প্রিজকার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে মার্কিন সম্প্রদায়ের ওপর একটি "নজিরবিহীন সামরিক ধাঁচের হামলা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ফেডারেল এজেন্টদের জবাবদিহিতার আওতার বাইরে রাখার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, ইলিনয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।   ওয়েবসাইটটিতে বেশ কয়েকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাস ও মেইনে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত লরেঞ্জা সালগাদো আরাউজো এবং জোহান সেবাস্তিয়ান ডুরান গুয়েরেরো এবং মিনিয়াপলিসে নিহত দুই মার্কিন নাগরিক রেনি নিকোল গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ক্যানসার আক্রান্ত এক কিশোরী ওফেলিয়ার তার বাবার গ্রেপ্তারের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার মর্মান্তিক কাহিনিও এখানে তুলে ধরা হয়েছে।   ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৬ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষকে নির্বাসিত করা হয়েছে, ৪ লাখ মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকারি পরিসংখ্যানে এই মানুষগুলো শুধুই কিছু সংখ্যা, কিন্তু এই ডাটাবেস তাদের হারিয়ে যাওয়া গল্পগুলোকে চিরস্থায়ী করবে।   ইলিনয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি কমিশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপে আগামীতে আরও বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তাদের প্রত্যাশা, এই সম্মিলিত উদ্যোগ কংগ্রেস ও ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিতে একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল চূড়ান্ত করেছে ডিএইচএস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে বাতিল হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিটের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদন চলাকালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বিধিতে রূপ দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। ব্লুমবার্গ ল-এর ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধিটি ১৪ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গত বছর চালু করা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকে স্থায়ী করা হচ্ছে।    এটি সব অভিবাসীর বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়। পরিবর্তনটি মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার পর পুরোনো কার্ডের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বয়ংক্রিয় সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত।    আগের ব্যবস্থায় যোগ্য আবেদনকারীরা সময়মতো নবায়নের আবেদন করলে নির্ধারিত শর্তে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতেন। আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলেও তাঁদের কাজের অনুমতি বহাল রাখাই ছিল এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।    তবে সুবিধাটি বাতিলের মূল পরিবর্তন শুরু হয় ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর। ওই দিনের অন্তর্বর্তীকালীন বিধি অনুযায়ী, সেদিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট নবায়ন আবেদন সাধারণভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পায় না। ফলে অক্টোবরের নতুন চূড়ান্ত বিধিকে প্রথমবার সুবিধা বন্ধের ঘোষণা হিসেবে দেখলে কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।    ডিএইচএসের বক্তব্য, নতুন করে কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে আবেদনকারীর যোগ্যতা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই নিশ্চিত করতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ দিয়ে কাজের অনুমতি বহাল আছে ধরে নেওয়া যাবে না।    বিধিতে ব্যতিক্রমও রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের আগে পাওয়া স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা এবং আইন বা পৃথক ফেডারেল রেজিস্টার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাড়ানো মেয়াদ এই সিদ্ধান্তে সরাসরি বাতিল করা হয়নি। তাই কারও কাজের অনুমতি বহাল আছে কি না, তা নির্ধারণে তাঁর ইএডির ক্যাটাগরি, নবায়নের আবেদনের তারিখ এবং প্রযোজ্য বিশেষ নির্দেশনা বিবেচনা করতে হবে।    এই পরিবর্তনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি তাঁদের জন্য, যাঁদের বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের সিদ্ধান্ত আসে না। প্রযোজ্য অন্য কোনো অনুমতি বা ব্যতিক্রম না থাকলে তাঁদের কাজে বিরতি পড়তে পারে। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ, নবায়নের আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিবাসনগত স্ট্যাটাস পৃথক বিষয়, তাই একটি নথির পরিবর্তন দিয়ে অন্যটির অবস্থান নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ইউএসসিআইএসের অনলাইন সেবায় রিসিট নম্বর ব্যবহার করে গ্রিন কার্ডের আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা যায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, রিসিট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যেভাবে জানবেন

গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে এখন অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন আবেদনকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (USCIS) ‘কেস স্ট্যাটাস অনলাইন’ সেবায় আবেদন জমা পড়েছে কি না, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এসেছে কি না এবং সিদ্ধান্ত বা কার্ড পাঠানোর বিষয়ে কী আপডেট রয়েছে, তা দেখা যায়। এ জন্য সাধারণত আবেদন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে থাকা ১৩ অক্ষর ও সংখ্যার রিসিট নম্বর প্রয়োজন হয়। সরকারি এই সেবা ব্যবহার করতে আলাদা কোনো ফি লাগে না।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিসিট নম্বরটি তিনটি ইংরেজি অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে থাকে ১০টি সংখ্যা। IOE, SRC, LIN, EAC, WAC, NBC ও MSC এরকম বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে নম্বর শুরু হতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে নম্বরটি পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে। আবেদনকারীর উচিত নম্বরটি সঠিকভাবে লিখে সরকারি ওয়েবসাইটেই কেসের অবস্থা যাচাই করা।   কেসের অবস্থা দেখতে ইউএসসিআইএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://egov.uscis.gov/casestatus/CaseStatus/Search-এ যেতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘Check Status’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, ‘Case Was Received’ দেখালে বোঝায় আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Biometrics Appointment Was Scheduled’ দেখালে বায়োমেট্রিকসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়। আর ‘Case Was Approved’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিটি আবেদনের ধাপ এক নয়, তাই প্রদর্শিত বার্তাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি।   আরও বিস্তারিত তথ্য ও অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা পেতে আবেদনকারীরা MyUSCIS অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। https://my.uscis.gov/ ঠিকানায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা প্রবেশ করে নিজের আবেদনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেসের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ বা বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে কোন নোটিশ অনলাইনে পাওয়া যাবে, কী ধরনের আপডেট আসবে এবং কোন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে, তা আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে কেস স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়ার কথা। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের (USPS) ওয়েবসাইটে কার্ডের সরবরাহের অগ্রগতি দেখা যায়। কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা গেলেও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে ইউএসসিআইএসের ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় ডাকযোগে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে।   অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ইউএসসিআইএসের যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যায়। শ্রবণ বা বাক্‌সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময়সীমা আলাদা এবং সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ইউএসসিআইএস ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও উল্লেখ করেছে।   কেসের অবস্থা দেখা আর আবেদন কত দিনে শেষ হবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ফরম ও আবেদনশ্রেণির ভিত্তিতে ইউএসসিআইএসের ‘প্রসেসিং টাইমস’ সেবায় আনুমানিক প্রক্রিয়াকরণ সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে কেসসংক্রান্ত অনুসন্ধানও জমা দিতে পারেন। শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না বা কবে কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।   আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রিসিট নম্বর ব্যক্তিগত কেসের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নম্বরটি প্রকাশ না করে কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করাই নিরাপদ। ইউএসসিআইএসের নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে স্ট্যাটাস দেখানোর প্রস্তাব এড়িয়ে চলা উচিত। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS), Case Status Online ও Contact Center; যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আদালতের নির্দেশে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন ইয়াদের কোর্তেস আন্দিনো নামে এক অভিবাসী। গত ২ অক্টোবরের এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ অক্টোবর মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোর্তেসের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকে বেআইনি ঘোষণা করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ফেডারেল বিচারক জেরি ব্ল্যাকওয়েল। ২ অক্টোবর মিনেসোটার বিশপ হেনরি হুইপল ফেডারেল বিল্ডিংয়ে তাঁর মুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তাঁকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ফেরত দেওয়া হয়। তবে আইনজীবীর জন্য অপেক্ষমাণ প্রধান ফটক দিয়ে বের না করে তাঁকে ভবনের পেছনের একটি দরজা দিয়ে বাইরে পাঠানো হয়। সেখানে সাধারণ পোশাকে অপেক্ষা করছিলেন আইসিইর কর্মকর্তারা। এরপর তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।   কোর্তেসের আইনজীবীর বক্তব্য এবং সরকারের আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, মুক্তির মাত্র তিন মিনিট পর তাঁকে পুনরায় আটক করা হয়। তাঁর আইনজীবী জানতে চাইলে আইসিইর এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া গত মে মাস থেকেই চলছে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্থাটির একটি আইনি দল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তির নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মামলা পর্যালোচনা করে পুনরায় গ্রেপ্তারের উপযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করছে।   মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর অনুসন্ধানে একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর এক নাগরিককে আটককেন্দ্রের বাইরে কয়েক পা এগোনোর পর পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ১ অক্টোবর গুয়াতেমালার এক নাগরিক ভবনের দরজা পেরোনোর আগেই আবার আটক হন। আদালতের নথিতে সেপ্টেম্বরের আরও দুটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ওই ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে ফেডারেল বিচারক জেফরি ব্রায়ান বলেন, ভবন থেকে বের হওয়ার সময় আইসিইর কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেছিলেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পরোয়ানা যথাযথভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। বরং হাতকড়া পরানোর আগে ভাঁজ করা একটি কাগজ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর সামনে দেখানো হয়েছিল। বিচারক সতর্ক করেন, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারকে বৈধ বলে মেনে নিলে আটকাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে।   কোর্তেসের ঘটনায় বিচারক ব্ল্যাকওয়েলও সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান। আদালত তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির সময়, তারিখ ও স্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকার নির্ধারিত সময়ে সেই তথ্য জমা না দেওয়ায় ৫ অক্টোবর বিচারক কেন আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। তবে আদালত অবমাননার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   কোর্তেসের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনও এ ঘটনার সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর স্ত্রী জেনিফারের সঙ্গে সংসার করছেন তিনি এবং ২০২৫ সালের জুনে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। মিনেসোটা পাবলিক রেডিও জানায়, পুনরায় গ্রেপ্তারের পরদিন, ৩ অক্টোবর তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদিত হয়। পরে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে আবার মুক্তি দেওয়া হয়।   আইসিইর এই পদক্ষেপের বিষয়ে মিনেসোটা পাবলিক রেডিও হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং আইসিইর কাছে জানতে চেয়েছিল, কবে থেকে এ প্রক্রিয়া চলছে, কার নির্দেশে তা করা হচ্ছে এবং কতজন অভিবাসী এর আওতায় পড়েছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও আইসিই এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। ফলে মিনেসোটার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর কাউকে নতুন করে গ্রেপ্তার করতে হলে তার আইনি ভিত্তি কী, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নতুন ও বৈধ ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও আগের আটকাদেশ বেআইনি ঘোষণার পরপরই একই ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   মিনেসোটার এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, বিচার বিভাগের নির্দেশ এবং সরকারি সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পরপরই আবার আটক করার এই প্রক্রিয়া কতটা আইনসম্মত, তা নির্ধারণে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে আট হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাস সীমান্তে আট হাজারের বেশি সেনা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে আট হাজারের বেশি সেনা মোতায়েনের পর রিও গ্র্যান্ডে নদীসংলগ্ন কিছু এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের তৎপরতা কমেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতি, সামরিক উপস্থিতি এবং অভিযানটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। টেক্সাসের রোমা এলাকায় সেনাসদস্য, সীমান্তরক্ষী এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। অভিযানে নজরদারি প্রযুক্তি, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক ও মানব পাচার ঠেকানো এই অভিযানের অন্যতম ঘোষিত উদ্দেশ্য। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো এবং মেক্সিকোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার ফলে অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেক্সিকো সীমান্তসংলগ্ন তামাউলিপাস এলাকায় ৫০০ সেনা পাঠিয়েছে। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের একাংশ মনে করছেন, অবৈধ পারাপার কমার পেছনে আগের প্রশাসনের আশ্রয়প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতিও ভূমিকা রেখেছে। ফলে সেনা মোতায়েনের কারণে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।   মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সীমান্ত নিরাপত্তা রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকান প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে তাদের নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, সমালোচকেরা সামরিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা, মানবিক প্রভাব এবং অভিযানের প্রকৃত ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও অভিবাসননীতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের এই খবরকে সরাসরি বৈধ ভিসাধারী বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। নির্দিষ্ট অভিবাসন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফ

নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার

অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০