ইহুদিবি/দ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে তদন্ত চলাকালে পদত্যাগ করেছিলেন সাবেক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার বোভিনো
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো অবসরে যাওয়ার সময় একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের মুখে ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথির বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ফেডারেল আদালতে দেওয়া তার বিতর্কিত সাক্ষ্য এবং অতীতের ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছিল।
কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) গত ২ মার্চ এক ইমেইলে বোভিনোকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর কথা জানায়। এই বার্তার মাত্র ১৬ দিন পরই তড়িঘড়ি করে তিনি অবসরের আবেদন জমা দেন।
মিনিয়াপোলিসে দুই মার্কিন নাগরিক রেনে গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটির প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর গত জানুয়ারির শেষের দিকে বোভিনোকে তার ‘কমান্ডার অ্যাট লার্জ’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর কোনো প্রমাণ ছাড়াই বোভিনো দাবি করেছিলেন যে, প্রেটি ফেডারেল এজেন্টদের ‘গণহত্যা’ করার পরিকল্পনা করছিলেন।
তার এমন মন্তব্যে সেসময় ব্যাপক রাজনৈতিক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে থেকেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বর্ডার প্যাট্রল সমালোচনার মুখে ছিল। বিশেষ করে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের ওপর টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোঁড়ার মতো অমানবিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল।
তদন্তের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ সারা এলিসের একটি পর্যবেক্ষণ। তিনি লিটল ভিলেজে বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বোভিনোকে আদালতে বারবার মিথ্যা বলার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন। সিবিপি কর্মকর্তারা তদন্তের অংশ হিসেবে বোভিনোর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বিচারকের এই মন্তব্যের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এছাড়া, মিনিয়াপোলিসের একজন বিচারককে নিয়ে তার কথিত ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে, "অর্থোডক্স অপরাধীরাও কি শনিবারে ছুটি কাটায়?" বা "মনোনীত জাতি" শীর্ষক তার বৈষম্যমূলক মন্তব্যগুলো সিবিপি’র পেশাদারিত্ব ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কি না, তদন্তে সেটিই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি চালানোর পর ৭০০ পাউন্ডের বেশি সন্দেহভাজন মাদক উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে প্রায় ৩০ পাউন্ড ফেন্টানিল এবং ৬৭৭ পাউন্ড মেথামফেটামিন রয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকো জোয়েল গার্সিয়া ফারিয়াসের বিরুদ্ধে মাদক বিতরণের উদ্দেশ্যে মজুত রাখার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা জেলার অ্যাটর্নির কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর নেভাডার লিংকন কাউন্টিতে ইউএস হাইওয়ে ৯৩-এ গাড়িটি থামানো হয়। অ্যাশ স্প্রিংস এলাকার কাছে এক শেরিফের ডেপুটি নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিতে চলতে দেখে পিকআপটিকে থামান। পরে মাদক শনাক্তে প্রশিক্ষিত একটি কুকুর গাড়িটিতে মাদকের উপস্থিতির সংকেত দেয়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির ভেতরে রাখা ১৩টি বড় সংরক্ষণ বাক্সে সন্দেহভাজন মাদকের প্যাকেট পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে প্রায় ৩০৭ দশমিক ২২ কেজি সাদা স্ফটিকজাতীয় পদার্থ এবং প্রায় ১৪ কেজি ইটের মতো আকৃতির প্যাকেট ছিল। পরীক্ষার জন্য নেওয়া নমুনায় প্রথম পদার্থটি মেথামফেটামিন এবং দ্বিতীয়টি ফেন্টানিল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তবে উদ্ধার করা সব মাদকের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। নেভাডা জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রধান ফেডারেল কৌঁসুলি সিগাল চাট্টাহ বলেন, বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের ঘটনাটি অপরাধী চক্রগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাদক সরবরাহের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা প্রায় ১৪ কেজি ফেন্টানিল থেকে আনুমানিক ৭০ লাখ সম্ভাব্য প্রাণঘাতী মাত্রা তৈরি হতে পারে। প্রতি মাত্রা দুই মিলিগ্রাম ধরে করা এই হিসাব নেভাডার জনসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি মানুষের জন্য সম্ভাব্য প্রাণঘাতী পরিমাণের সমান বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই হিসাবটি কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য মাত্রাভিত্তিক অনুমান। বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদক কতজন মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে, তা পদার্থের বিশুদ্ধতা, মিশ্রণ, গ্রহণের পরিমাণ এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ফেন্টানিল অত্যন্ত শক্তিশালী কৃত্রিম ওপিওয়েড, যা চিকিৎসায় নির্দিষ্ট প্রয়োজনে ব্যবহার করা হলেও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট ও মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মেথামফেটামিন একটি শক্তিশালী উত্তেজক মাদক, যা হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করা চালানের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলার বলে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ফেন্টানিলের মতো প্রাণঘাতী মাদক অবৈধভাবে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন মাদক মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তে যুক্ত রয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, লিংকন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট ফেডারেল টাস্কফোর্সের সদস্যরা। লিংকন কাউন্টির শেরিফ ডেরেক ফোরমাস্টার বলেন, নিয়মিত সড়ক নজরদারি এবং প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদক শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের অবৈধ মাদক গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা থেকে শুরু করে সড়কে চলাচলকারী মানুষের নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গার্সিয়া ফারিয়াসের বিরুদ্ধে ৪০০ গ্রাম বা তার বেশি ফেন্টানিলযুক্ত মিশ্রণ এবং ৫০০ গ্রাম বা তার বেশি মেথামফেটামিনযুক্ত মিশ্রণ বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে তাঁর ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি পাঁচ বছরের তত্ত্বাবধানাধীন মুক্তির বিধানও রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। সূত্র: ফক্স নিউজ, যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা জেলার অ্যাটর্নির কার্যালয়।
বারবিকিউ থেকে অগ্নিকাণ্ড রোধে নিউ ইয়র্ক সিটির কড়াকড়ি, মানতে হবে যেসব আইন
দুই মেয়ের স্কুলে গুলির শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে বন্দুকধারীকে থামালেন বাবা, বাঁচালেন বহু প্রাণ
হলিউড অভিনেতা টিমোথি বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে শিশু যৌ ন নিপীড়নের মামলা খারিজ করলেন বিচারক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে ৫ বছর বয়সী এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ওই শিশুর সহায়তার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত জেনিফার রেনল্ডস (৫৪) নামের এক থেরাপিস্টকে শক্ত লাঞ্চবক্স দিয়ে শিশুটির মুখে আঘাত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হেনরি কাউন্টি শেরিফ বিভাগ জানিয়েছে, গত ৬ অক্টোবর প্যারিস শহরের রিয়া এলিমেন্টারি স্কুলে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে এবং গুরুতর শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ওই থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা গেছে, জেনিফার রেনল্ডস একজন 'এবিএ' (ABA) থেরাপিস্ট হিসেবে শিশুটিকে তার আচরণগত সমস্যা ও উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করার জন্য স্কুলে নিয়োজিত ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এমন আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার পরপরই তাকে স্কুল ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শিশুটির শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের জন্য তাকে স্কুলের নার্সের কাছে নেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে ভুক্তভোগী শিশুর মা এমিলি ডটসন জানান, তারা স্কুলের সার্বিক তদারকিতে সন্তুষ্ট এবং শিশুটিকে পুনরায় ওই স্কুলে পাঠাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে ভবিষ্যতে তারা আর ওই নির্দিষ্ট থেরাপি কোম্পানির সেবা নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। ঘটনার দুদিন পর গত ৮ অক্টোবর অভিযুক্ত জেনিফার রেনল্ডসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্ডের বিনিময়ে জামিনে মুক্তি পান তিনি। আগামী ২০ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। অভিযুক্ত থেরাপিস্ট এখনো কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না বা নিজের দোষ স্বীকার করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুরো ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে বন্দুক হা মলায় প্রাণ গেল ২৫ বছরের শিক্ষিকার, দরিদ্র শিশুদের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ
ব্রুকলিন ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ ১৯ বছরের তরুণের, মুহূর্তেই ছুটে এসে প্রাণ বাঁচালেন জেট-স্কিয়াররা
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় ২১ কোটি ডলারের তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, কড়া বার্তা শ্রম দপ্তরের
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে নিজেই ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা দায়ের করে এখন নির্ধারিত জবানবন্দি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। নিজের করা মামলাতেই অংশ না নেওয়ায় তাঁর ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) জারির কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক। শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এনজোলিক এ. লেট এক আদেশে ট্রাম্পকে তাঁর জবানবন্দির বিষয়ে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে বিবিসির কাছে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের শিডিউল যথাযথভাবে মানতে ব্যর্থ হলে ট্রাম্পকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিচারক। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ২০২৪ সালের একটি তথ্যচিত্রে "বিভ্রান্তিকরভাবে" সম্পাদনা করে ট্রাম্পকে সহিংসতায় উসকানিদাতা হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ এনে বিবিসির বিরুদ্ধে এই বিশাল অঙ্কের মামলাটি করেন তিনি। কিন্তু মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে নির্ধারিত জবানবন্দিতে ট্রাম্প হাজির হননি। তাঁর আইনজীবীরা বিবিসিকে জানান, "জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজের" কারণে ট্রাম্প এখন সাক্ষ্য দিতে পারবেন না এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে তাঁর পক্ষে সময় দেওয়া সম্ভব নয়—যদিও চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই পর্ব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বিবিসি আদালতকে জানিয়েছে, যিনি নিজেই মামলা করেছেন, তাঁকে অংশ নেওয়ানোর জন্য বারবার আদালতের হস্তক্ষেপ লাগা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। মামলাটি দায়ের করার মাধ্যমে তিনি যে আইনি বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছিলেন, তা ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিয়েছেন বিবিসির আইনজীবীরা। আগামী ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির পর জানা যাবে ট্রাম্প বা তাঁর আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আদালত কোনো শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে কি না। উল্লেখ্য, এই মামলার অংশ হিসেবে ট্রাম্পের সন্তান ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, ইভানকা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের জবানবন্দিও চেয়েছে বিবিসি। সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষার কারণে এতদিন ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা না গেলেও আদালত বিকল্প উপায়ে সমন পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে সাবেক হোয়াইট হাউস সহকারী ক্যাসিডি হাচিনসনের সাক্ষ্য নেওয়ার আবেদনটি আদালত খারিজ করে দিয়েছে। এদিকে বিবিসির বিতর্কিত সম্পাদনার জন্য তারা ট্রাম্পের কাছে আগেই দুঃখ প্রকাশ করেছিল, তবে মানহানির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি।
কুকুরকে ভোটার বানিয়ে দুইবার ব্যালট পাঠালেন নারী, শেষ পর্যন্ত শাস্তি হিসেবে কুকুরের ছবিই উঠল বিলবোর্ডে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটগণনায় ঐতিহাসিক জয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ