সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিযান

জালিয়াতির বিরুদ্ধে ট্রাকিং খাতে বড় অভিযান, সতর্ক করল এইচএসআই
জালিয়াতির বিরুদ্ধে ট্রাকিং খাতে বড় অভিযান, সতর্ক করল এইচএসআই

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআই বাণিজ্যিক ট্রাকিং খাতে জালিয়াতি, প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে। ফেডারেল সরকার বলছে, বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সিডিএল ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে যারা আইন ভাঙছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক সংস্থা যৌথভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে।    এই উদ্যোগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, পরিবহন বিভাগ, বিচার বিভাগ, ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং এইচএসআইসহ বিভিন্ন সংস্থা যুক্ত রয়েছে। ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স ক্রসরোডস অব আমেরিকা’ নামে গঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য বাণিজ্যিক ট্রাকিং খাতে সিডিএল জালিয়াতি, ভুয়া পরিচয়পত্র, অননুমোদিত কর্মসংস্থান, অর্থপাচার, শ্রমিক শোষণ এবং অন্যান্য অপরাধ শনাক্ত করা।    এইচএসআইয়ের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সহযোগী পরিচালক জন এ. কনডন বলেছেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীরা শুধু আইন ভাঙছে না, তারা আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে। তিনি বলেন, এইচএসআই তাদের তদন্ত, আর্থিক বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এমন ব্যক্তি ও অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।    ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট একদিনে ২৩টি অঙ্গরাজ্যের ২০০টির বেশি ড্রাইভিং স্কুলে সমন্বিত অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এক হাজারের বেশি সিডিএল-সংক্রান্ত ব্যবসার বিষয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।    ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও জানিয়েছে, গত দেড় বছরে ২৮ হাজারের বেশি চালককে বিভিন্ন কারণে সড়ক থেকে সরানো হয়েছে এবং অবৈধভাবে ইস্যু করা ৩০ হাজারের বেশি সিডিএল বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৮ হাজারের বেশি অযোগ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে ফেডারেল রেজিস্ট্রি থেকে সরানো হয়েছে বলে পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে।    এই অভিযানের আওতায় শুধু চালকরাই নয়, ট্রাকিং কোম্পানি, সিডিএল প্রশিক্ষণ স্কুল, ক্যারিয়ার এবং নিয়োগদাতাদেরও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র, ভুয়া লাইসেন্স, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ট্রাকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।    তবে ফেডারেল সরকারের প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশই তদন্ত, অভিযোগ ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে। তাই কোনো নির্দিষ্ট চালক বা কোম্পানিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন না করে তদন্তের অবস্থান উল্লেখ করাই সঠিক।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান
জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান, ছোট দোকান ও ভ্যান সরিয়ে জায়গা খালি

নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও ১৬৯ স্ট্রিটের আশপাশে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাতের দুই পাশে ছোট ভ্যান, স্টল ও পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক অভিযানে এসব স্থাপনা ও ভ্যান সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   বিশেষ করে সবজি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির ছোট ভ্যান এবং ফুটপাতের ওপর বসানো অস্থায়ী দোকান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ফুটপাতের বড় অংশ ব্যবসার কাজে ব্যবহার হওয়ায় অনেক সময় সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না।   সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিশুদের স্ট্রলার নিয়ে চলা মা-বাবা, বয়স্ক ব্যক্তি এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা। ফুটপাত দিয়ে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেলে অনেককে রাস্তার কাছাকাছি বা কখনো রাস্তার ওপর দিয়ে চলতে হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ব্যস্ত হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি পথচারীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।   এলাকায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম নিয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি অবশ্য নতুন নয়। কুইন্স কমিউনিটি বোর্ড ৮-এর ২০২৫ সালের এক সভায় ১৬৪ থেকে ১৬৯ স্ট্রিট পর্যন্ত হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে আসে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা অবৈধ ভেন্ডিং, আবর্জনা এবং ফুটপাত ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। স্যানিটেশন বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, এলাকায় এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে ভেন্ডিং কার্ট জব্দ করা হয়েছে।    নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্স ও পারমিট থাকলেও ভেন্ডরদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হয়। পথচারীদের চলাচলের রাস্তা, ভবনের প্রবেশপথ, বাসস্টপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। শহরের নিয়মে ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের পথ বাধামুক্ত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    শহরের স্যানিটেশন বিভাগ ২০২৩ সাল থেকে স্ট্রিট ভেন্ডর এনফোর্সমেন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের এনফোর্সমেন্টের অন্যতম লক্ষ্য হলো ফুটপাত, কার্ব, গণপরিবহনের প্রবেশপথ এবং দোকানের প্রবেশপথ যেন ভেন্ডিং বা পণ্য দিয়ে বাধাগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা।    অন্যদিকে, ফুটপাতে ব্যবসা করা অনেক ছোট ভেন্ডরের জন্য এটি জীবিকার বিষয়। তাই স্থানীয় কমিউনিটির আলোচনায় একদিকে যেমন পথচারীদের জন্য ফুটপাত খোলা রাখার দাবি রয়েছে, অন্যদিকে বৈধভাবে ব্যবসা করা ছোট ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   হিলসাইড অ্যাভিনিউ জ্যামাইকার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও যাতায়াত করিডোর। এলাকায় যানবাহন ও পথচারীর চাপ বেশি হওয়ায় ফুটপাত দখল এবং ভেন্ডিং নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ তৈরি হয়। কুইন্স কমিউনিটি বোর্ডের নথিতেও এই করিডোরে ভেন্ডরদের কার্যক্রম ও এনফোর্সমেন্ট নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।    স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসার ব্যক্তিগত জায়গা নয়। এটি সবার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকা দরকার। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি।   তবে সাম্প্রতিক অভিযানে ঠিক কোন সংস্থা কতগুলো ভ্যান বা দোকানের সরঞ্জাম সরিয়েছে এবং কতজনকে জরিমানা বা সামন্স দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযানের নির্দিষ্ট পরিসর সম্পর্কে চূড়ান্ত সংখ্যা বা দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করাই যথাযথ।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী
ভয়াবহ বন্যায় ছয় দিনে ১০০ উদ্ধার অভিযান নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেনের

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলিকপ্টার উড়িয়ে মাত্র ছয় দিনে প্রায় ১০০টি উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে তিমুরে এলাকায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর আকাশপথে দুর্গতদের সরিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।   ৪০ বছর বয়সী প্রিয়া অধিকারী উচ্চ উচ্চতায় উদ্ধার অভিযানে অভিজ্ঞ পাইলট। গত কয়েক দিনে তিমুরে ও আশপাশের দুর্গম এলাকায় প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার একসঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। একই এলাকায় একাধিক হেলিকপ্টারকে প্রায় একই সময়ে অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে হয়েছে। এ সময় পাইলটদের রেডিওতে নিয়মিত সমন্বয় করতে হয়েছে।    উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ধসে পড়া পাহাড়ি মাটি ও কাদায় তৈরি অনিরাপদ ভূমি। অনেক জায়গায় মাটি এতটাই নরম ও অস্থিতিশীল ছিল যে হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করে ইঞ্জিন বন্ধ করাও সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের দ্রুত তুলে নিয়ে আবার উড্ডয়ন করতে হয়েছে।    প্রিয়া অধিকারী জানিয়েছেন, এবারের দুর্যোগের ভয়াবহতা তার বহু বছরের অভিজ্ঞতাকেও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। তিমুরে এলাকায় তিনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন, আবার একই সঙ্গে হেলিকপ্টারের অপেক্ষায় থাকা জীবিত মানুষকেও উদ্ধার করেছেন। প্রথম দুই দিনেই তিমুরে থেকে ২০০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।    অধিকারীর বিমান চালনার যাত্রা শুরু হয় কিছুটা ভিন্নভাবে। পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার পর তিনি কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করেন। পরে হেলিকপ্টার চালানোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৭ সালে পূর্ণকালীন হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর উচ্চ উচ্চতায় উদ্ধার অভিযানে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। তার কয়েকটি উদ্ধার অভিযান প্রায় ৬ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে।    নেপালে গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টারই হয়ে উঠেছে প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। আজও বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে।    প্রিয়া অধিকারী বলেন, টানা উদ্ধার অভিযানে পাইলটরা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই তাদের প্রশিক্ষণের অংশ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও জীবিত মানুষকে হেলিকপ্টারের দিকে হাত নাড়তে দেখা তাদের আবারও আকাশে উড়তে অনুপ্রাণিত করেছে। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি তদন্তে বড় অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি তদন্তে বড় অভিযান, ক্যালিফোর্নিয়াসহ টার্গেটে ৯ অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে বড় ধরনের ফেডারেল অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস - এইচএসআই। ক্যালিফোর্নিয়াসহ মোট ৯টি অঙ্গরাজ্যকে এই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।   তদন্তের আওতায় থাকা অঙ্গরাজ্যগুলো হলো - ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, কানেকটিকাট, জর্জিয়া, ওয়াশিংটন, নেভাদা, উইসকনসিন ও মিসৌরি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকে এসব অঙ্গরাজ্যে ভোটসংক্রান্ত সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে তদন্তমূলক কার্যক্রম জোরদার করবে এইচএসআই। ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনী অনিয়ম এবং ভোট জালিয়াতির অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছেন। তার প্রশাসনের অধীনে নির্বাচনী নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় এরই মধ্যে ভোটসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ফেডারেল তদন্ত জোরদার হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলিও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের তদন্তে তৎপরতা বাড়িয়েছেন।   সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় এক হন্ডুরাসের নাগরিকের বিরুদ্ধে নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি কোনো নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন - এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলাটি এখনো বিচারাধীন।   নতুন এই বহুরাজ্যভিত্তিক উদ্যোগে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফৌজদারি মামলা করার জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হয়েছে - এমন দাবির পক্ষে বড় ধরনের প্রমাণ নেই বলে নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিস্তৃত তদন্ত উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও তৈরি হয়েছে।   সূত্র - WTTW, ওয়াশিংটন পোস্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও মার্কিন বিচার বিভাগ

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন অভিযানের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা
অভিবাসন অভিযানের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা, পরীক্ষার ফল খারাপের আশঙ্কা শিক্ষকদের

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরের শিক্ষার্থীদের রাজ্যভিত্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার ফল প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকদের একটি অংশ। এর পেছনে সাম্প্রতিক ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর সময়কার অভিবাসন অভিযান ও এর প্রভাবকে দায়ী করছেন তারা।   শিক্ষকদের দাবি, অভিযানের সময় অভিবাসন ও সীমান্ত-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক শুধু পরিবারের ওপর নয়, শ্রেণিকক্ষেও প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বেড়েছে, অনেকের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং কেউ কেউ মানসিকভাবে গুটিয়ে গেছে।   স্টিলওয়াটারের অভিজ্ঞ জীববিজ্ঞান শিক্ষক স্টেসি বার্টলেট জানান, জানুয়ারিতে তার শিক্ষার্থীদের আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন তিনি। তার ভাষায়, শ্রেণিকক্ষে এক ধরনের নীরবতা তৈরি হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা কী নিয়ে উদ্বিগ্ন, তা অনেক সময় ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিল না। তার মতে, কোনো না কোনোভাবে প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীই পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।   শিক্ষকদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, তাদের শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল। ৬৭ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আর ৪৭ শতাংশ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আচরণে স্পষ্টভাবে গুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।   টুইন সিটিজ এলাকার শিক্ষকদের মতামত আলাদাভাবে বিবেচনা করলে পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক। সেখানে ৯১ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এবং ৮৯ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় বা উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।   শিক্ষকদের মতে, এর প্রভাব শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রেও মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।   বার্টলেট বলেন, শিশুরা ও কিশোর-কিশোরীরা বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই বাস করে। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা, বাবা-মায়ের অবস্থা, বন্ধুদের পরিস্থিতি কিংবা পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো নিয়ে উদ্বেগ তাদের মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলেছে।   শিক্ষা সংগঠন এডুকেশন মিনেসোটার সভাপতি মনিকা বায়রন বলেন, ভীত-সন্ত্রস্ত শিশুদের স্বাভাবিকভাবে পড়ানো সম্ভব নয়। তার মতে, মিনেসোটা কমপ্রিহেনসিভ অ্যাসেসমেন্টস এমনিতেই শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক কম ঝুঁকির মূল্যায়ন পরীক্ষা। তাই সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এ বছরের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।   জরিপটি পরিচালনা করেছে ভস রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি, যা ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি গবেষণা ও কৌশলগত পরামর্শ প্রতিষ্ঠান।   তবে শিক্ষকদের আশঙ্কা এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল দিয়ে নিশ্চিত হয়নি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের রাজ্য পরীক্ষার ফল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশের কথা রয়েছে। মিনেসোটা সাধারণত আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে এসব ফল প্রকাশ করে।   ফলে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, মানসিক চাপ ও মনোযোগের ওপর সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলে কতটা পড়েছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘অপারেশন হার্ড বল’: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে ২৪ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘অপারেশন হার্ড বল’: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে ২৪ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ‘অপারেশন হার্ড বল’-এ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ২৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই অভিযানে বিভিন্ন দেশে ৫০টিরও বেশি স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। মার্কিন তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার, অস্ত্র সরবরাহ, ভাড়াটে হামলা পরিচালনা এবং আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে অংশ নেয়। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ভারতভিত্তিক একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল। মার্কিন প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অভিযানের অংশ হিসেবে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ভারতের কারাগারে বন্দি গ্যাং নেতা লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামও রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, অপরাধচক্রটি মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সহিংস অপরাধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। তদন্তকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশে সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করত। অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অতীতের কয়েকটি আলোচিত অপরাধের তদন্তও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার অনেকগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে, নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধচক্রগুলোর অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ এবং মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আরও গ্রেপ্তার, অভিযোগপত্র দাখিল এবং অতিরিক্ত অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) প্রধান ক্রিস্টি নোয়েম
চাপের মুখে ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার অভিযানে বড় রদবদল

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘গণ-ডিপোর্টেশন’ বা গণ-বহিষ্কার অভিযানে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। জনমনে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন এনে এই অভিযানের ধরনে কিছুটা নমনীয়তার আভাস দেওয়া হচ্ছে।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সিনেটর মার্কওয়েন মুলিন। একই সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বর্ডার প্যাট্রোল) প্রভাবশালী কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনোকেও তার পদ থেকে অবনমন (Demote) করা হয়েছে। প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, নোয়েম এবং বোভিনো ছিলেন ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রধান মুখ। তাদের অধীনে বড় বড় শহরে যেভাবে ঝটিকা অভিযান (Raids) চালিয়ে অভিবাসীদের আটক করা হচ্ছিল, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের এই গণ-বহিষ্কার কর্মসূচির জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানদের বড় একটি অংশ এই হার্ডলাইন কৌশলের বিপক্ষে। বিশেষ করে মিনেয়াপোলিসের মতো শহরগুলোতে অভিযানের সময় সংঘাত এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এই সিদ্ধান্তকে আরও বিতর্কিত করে তোলে। অভিযোগ উঠেছে যে, নোয়েম এবং বোভিনোর ‘যুদ্ধংদেহী’ মনোভাবের কারণে আইনি জটিলতা বাড়ছিল এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন ডিএইচএস প্রধান মার্কওয়েন মুলিন এবং ‘বর্ডার জার’ হিসেবে পরিচিত টম হোম্যান এখন এই অভিযানের দায়িত্ব সামলাবেন। হোম্যান ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা আগের মতো বড় শহরগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী অভিযানের চেয়ে ‘টার্গেটেড’ বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর গুরুত্ব দেবেন। অর্থাৎ, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাদের বহিষ্কারেই বেশি জোর দেওয়া হবে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, কেবল মুখ পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, গ্রেফতারের হার কিছুটা কমলেও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অভিবাসীদের আটকে রাখার অভিযোগ এখনও রয়ে গেছে। শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। অনেকে মনে করছেন, এটি প্রশাসনের একটি কৌশলগত চাল মাত্র। লোকচক্ষুর অন্তরালে বহিষ্কার অভিযান আরও নিখুঁতভাবে চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বহিষ্কার অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কয়েক লক্ষ মানুষকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন

আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০