সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আফ্রিকা

আমাজন থেকে আফ্রিকা, গল্পের খোঁজে বিশ্ব ঘুরছেন বাংলাদেশি ওয়াকিফ
আমাজন থেকে আফ্রিকা, গল্পের খোঁজে বিশ্ব ঘুরছেন বাংলাদেশি ওয়াকিফ

একদিকে ফিনল্যান্ডের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র পর্যায়ের দায়িত্ব, অন্যদিকে ক্যামেরা হাতে আমাজনের জঙ্গল থেকে আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চল। পেশাজীবন আর ভ্রমণচিত্র নির্মাণ, দুই ভিন্ন জগতকে পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি কনটেন্ট নির্মাতা এমডি ওয়াকিফ হোসাইন। প্রজন্ম কথাকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেশাদারভাবে ভ্লগিং শুরুর প্রায় ১০ মাসের মধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দর্শক ও অনুসারীর সংখ্যা ২৬ লাখ ছাড়িয়েছে।   ফিনল্যান্ডে বসবাসরত ওয়াকিফের ভ্রমণ কনটেন্ট সাধারণ পর্যটন ভিডিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নতুন কোনো দেশে গিয়ে দর্শনীয় স্থান, খাবার কিংবা ভ্রমণের খরচ দেখানোর পাশাপাশি তিনি সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জীবনের গল্প ক্যামেরায় তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাঁর কনটেন্টে কখনো জায়গা পেয়েছে আমাজনের জঙ্গলে একা সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা, কখনো আফ্রিকার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবন।   প্রজন্ম কথার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশাদারভাবে ভ্লগিং শুরুর পর অল্প সময়েই বড় দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন ওয়াকিফ। তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ৫ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ফেসবুকে অনুসারী ১৬ লাখের বেশি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলিয়ে তাঁর মোট দর্শক ও অনুসারীর সংখ্যা ২৬ লাখের বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় এগুলো প্রকাশের সময়কার হিসাব।   ওয়াকিফের আলোচিত ভ্রমণগুলোর একটি আমাজন জঙ্গলে একা ২৪ ঘণ্টা কাটানো। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই রেইনফরেস্টে নিজের অভিজ্ঞতা ভিডিওতে তুলে ধরেছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্রমণের সময় আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে বন্দুকের মুখে তাঁর ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই ঘটনাও দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।   কেনিয়া সফরে একটি স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর কনটেন্টে জায়গা পেয়েছে। তাদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি ওই সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি জানিয়েছেন। ফলে ওয়াকিফের ভিডিওতে শুধু কোনো অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, সেখানকার মানুষের জীবনও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।   অ্যাডভেঞ্চার অবশ্য তাঁর জীবনে ভ্লগিংয়ের আগেই ছিল। প্রজন্ম কথার প্রতিবেদনে ওয়াকিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেশাদার কনটেন্ট নির্মাণ শুরুর আগে তিনি সাতবার একক স্কাইডাইভ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সার্ফিং, পর্বতারোহণ এবং তিমি হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।   তবে ক্যামেরা হাতে বিশ্বভ্রমণই তাঁর একমাত্র পেশা নয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারফেক্টে সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ওয়াকিফ। নিয়মিত করপোরেট দায়িত্বের পাশাপাশি সময় বের করে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ এবং ভিডিও নির্মাণ করছেন তিনি। অর্থাৎ পূর্ণকালীন পেশাজীবন এবং কনটেন্ট নির্মাণ, দুটি ধারাকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছেন।   কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছেন ওয়াকিফ। প্রজন্ম কথার প্রতিবেদনে আইএমও মেসেঞ্জার, এসিই মানি ট্রান্সফার, ফ্যাসেট, এসিআই লিমিটেড, রবি, বিকাশ, ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও গোযায়ানের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব কাজের ধরন ও সময়কাল সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   তাঁর সামনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও একটি কাজ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভারতের বস্ত্রপ্রতিষ্ঠান আজমেরা ফ্যাশন লিমিটেডের একটি ব্র্যান্ডের প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরির জন্য তাঁকে ফিনল্যান্ড থেকে ভারতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজটি সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাঁর কনটেন্ট নির্মাণের অভিজ্ঞতায় আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হবে।   ওয়াকিফের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর লক্ষ্য শুধু কোনো জায়গার সুন্দর দৃশ্য দেখানো নয়। একটি দেশের মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করে, একটি সংস্কৃতির পেছনে কী গল্প রয়েছে এবং নির্দিষ্ট কোনো স্থানের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেমন, সেই বিষয়গুলোও ভ্রমণচিত্রের মধ্যে তুলে ধরতে চান তিনি।   বাংলাদেশের ভ্রমণভিত্তিক কনটেন্টে এমন গল্প বলার ধরনকে নিজের কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখছেন ওয়াকিফ। একটি ব্যস্ত করপোরেট জীবন সামলে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়ানো এবং সেই অভিজ্ঞতাকে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই যাত্রায় তাঁর কাছে ভ্রমণ শুধু নতুন কোনো দেশে পৌঁছানো নয়। প্রতিটি সফরের সঙ্গে নতুন মানুষ, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার গল্প খুঁজে বের করাই তাঁর কনটেন্টের মূল লক্ষ্য। সূত্র: প্রজন্ম কথা

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী
প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় একাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাতের পরপরই নাইরোবি-মোম্বাসা মহাসড়কের সালামা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন যাত্রী এবং একজন ভ্যানচালক ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   জানা গেছে, তীর্থযাত্রীরা মোম্বাসার সেন্ট ম্যাথিয়াস মুলুম্বা ক্যাথলিক প্যারিশের সদস্য ছিলেন। 'ন্যাশনাল প্রেয়ার ডে' বা জাতীয় প্রার্থনা দিবস উপলক্ষে তারা নাকুরু কাউন্টির সুবুকিয়া ন্যাশনাল শ্রাইনের (জাতীয় উপাসনালয়) দিকে যাচ্ছিলেন। মোম্বাসা ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের আর্চবিশপ মার্টিন কিভুভা এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং পুরো প্যারিশ সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।   পুলিশ ও কেনিয়ার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেফটি অথরিটির (এনটিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টার পরপরই একটি ট্রাক অন্য একটি ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে এই চেইন দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর ফলে তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ভ্যান বা মাতাতুর সাথে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।   এনটিএসএ জানিয়েছে, সালামা এলাকার ওই সড়কটি আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আগেও সুপারিশ করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং অন্যান্য চালকদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করে লেন মেনে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং শোকাহত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানান। কঠিন এই সময়ে সৃষ্টিকর্তা যেন সবাইকে শক্তি ও সান্ত্বনা দেন, সেই প্রার্থনা করার পাশাপাশি তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার বিষধর সাপ গাবুন ভাইপার, আতঙ্কে এলাকাবাসী
ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার বিষধর সাপ গাবুন ভাইপার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় আফ্রিকার অত্যন্ত বিষাক্ত 'গাবুন ভাইপার' সাপের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সান্তা আনা পুলিশ বিভাগ সম্প্রতি জননিরাপত্তায় একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং সাপটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, মেইন স্ট্রিট এবং এডিঙ্গার অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি গাছে সাপটিকে সর্বশেষ দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্পট করা সাপটি লম্বায় চার থেকে পাঁচ ফুট, তবে পূর্ণবয়স্ক একটি গাবুন ভাইপার সাত ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। উত্তর আমেরিকার স্থানীয় প্রজাতি না হওয়ায় এই বিদেশি সাপটি কীভাবে এখানে এলো, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সাপটির ছবি নিয়ে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, ছবিটি হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করে পুলিশকে বোকা বানানো হয়েছে।   এই বিষয়ে সান্তা আনা পুলিশ জানিয়েছে, তারা নেটিজেনদের এই উদ্বেগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সাপটি আসলেই এলাকায় আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিবিড় তদন্ত চলছে। সাপটি শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া হারপেটোলজি অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড রেসকিউ (SCHA&R)-এর সভাপতির সহায়তা নিচ্ছে পুলিশ। সাপটি ধরা পড়লে সেটিকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে একটি বিদেশি প্রাণী অভয়ারণ্যে স্থানান্তর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।   গাবুন ভাইপার মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকার রেইনফরেস্ট ও সাভানা অঞ্চলে বসবাস করে। এটি আফ্রিকার সবচেয়ে ভারী বিষাক্ত সাপ, যার ওজন প্রায় আট কেজি (১৮ পাউন্ড) পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বের যেকোনো সাপের তুলনায় এর বিষদাঁত সবচেয়ে বড়, যা প্রায় ১.৬ ইঞ্চি লম্বা হয়। বাদামি, বেগুনি এবং কালচে জ্যামিতিক নকশার কারণে এরা জঙ্গলের শুকনো পাতার মাঝে চমৎকারভাবে লুকিয়ে থাকতে পারে।   ইঁদুর ও মাটিতে থাকা পাখিদের শিকার করা এই সাপটি অত্যন্ত ভয়ংকর। সান্তা আনা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে, কেউ যেন সাপটির কাছে না যান বা নিজে থেকে ধরার চেষ্টা না করেন। সাপটি দেখতে পেলে অবিলম্বে পুলিশের নন-ইমার্জেন্সি নম্বরে (714-834-4211) যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
‘অপহৃত মনে হচ্ছে’, আফ্রিকার দেশে পাঠিয়ে আইনি অনিশ্চয়তায় লাতিন অভিবাসীরা
‘অপহৃত মনে হচ্ছে’, আফ্রিকার দেশে পাঠিয়ে আইনি অনিশ্চয়তায় লাতিন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশের পরিবর্তে আফ্রিকার দেশে বহিষ্কারের পর আইনি অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কয়েকজন লাতিন আমেরিকান অভিবাসী। তাদের কয়েকজনের দাবি, গন্তব্য দেশ সম্পর্কে তাদের আগে জানানো হয়নি এবং সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তাদের হাতে ছিল না। এ অবস্থাকে একজন অভিবাসী বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবার ৩২ বছর বয়সী ইয়াসমানি মোরেনো দে আরমাস প্রায় ১০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। মিয়ামিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পাশাপাশি তিনি একটি মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় কাজ করছিলেন। অ্যাসাইলামের মাধ্যমে বৈধ অবস্থান পাওয়ার চেষ্টা চলার মধ্যেই গত মে মাসে তাকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে রাখার পর তাকে লুইজিয়ানার একটি কেন্দ্র থেকে বিমানে তোলা হয়।   মোরেনোর ভাষ্য, বিমানে ওঠার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পাঠানো হচ্ছে। প্রথমে তিনি বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারেননি। তার মতো আরও কয়েকজন লাতিন আমেরিকান অভিবাসীকেও একইভাবে সেখানে পাঠানো হয়েছে।   এই ধরনের বহিষ্কারকে ‘থার্ড-কান্ট্রি ডিপোর্টেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ কোনো অভিবাসীকে তার নিজ দেশের পরিবর্তে এমন একটি তৃতীয় দেশে পাঠানো, যার সঙ্গে তার নাগরিকত্ব বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এ ধরনের তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে।   আফ্রিকার দেশ হিসেবে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ছাড়াও লাইবেরিয়া, ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশকে তৃতীয় দেশের গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের সুযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়ার পরিধি বাড়ানো এবং অনেক ক্ষেত্রে অল্প সময়ের নোটিশে অভিবাসীদের পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পাঠানো আরেক কিউবান অভিবাসী অ্যারিস্টিদেস ফার্নান্দেজ গার্সিয়া জানান, তাদের কাছে সেখানে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা বা কাগজপত্র নেই। তার দাবি, তারা দেশটির বাইরে যেতে পারছেন না। নিজের পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’ এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস বলেছে, মোরেনো ও এবিসি নিউজের সঙ্গে কথা বলা অন্য অভিবাসীদের একটি নিরাপদ দেশে পাঠানো হয়েছে এবং সরকার আইন অনুযায়ী কাজ করছে। ফলে অভিবাসীদের অভিযোগ এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।   এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের প্যানেল রায় দেয়, কোনো অভিবাসীকে তার সঙ্গে সম্পর্কহীন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত নোটিশ দিতে হবে এবং সেখানে নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে তা চ্যালেঞ্জ করার অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। আদালত ডিএইচএসের দ্রুত তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।   আদালতের মতে, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে তা না জানিয়ে তাকে আপত্তি জানানোর সুযোগ না দিলে সেই ব্যক্তির নিপীড়নের আশঙ্কা তুলে ধরার আইনি অধিকার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। তবে ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং আদালতের রায়টি আরও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে।   তৃতীয় দেশে বহিষ্কার নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার মতো তৃতীয় দেশে পাঠানো অভিবাসীদের ক্ষেত্রে গন্তব্য দেশ সম্পর্কে আগাম নোটিশ, নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ এবং সেখানে পৌঁছানোর পর আইনি অবস্থান—এই তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
অপহরণের পর উদ্ধার ব্রিটিশ নারী নুসরাত ওসমান
অপহরণের ৬ দিন পর ব্রিটিশ নারীকে উদ্ধার, অভিযানে ৪ সন্দেহভাজন নি হ ত

মালাবিতে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া এক ব্রিটিশ নারীকে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজন অপহরণকারীদের গু লি বি নি ময়ে চারজন নি হ ত হয়েছেন। এ সময় দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা গু লি বি দ্ধ হয়েছেন।   পুলিশ জানায়, ৪৭ বছর বয়সী নুসরাত ওসমানকে বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ব্লানটায়ারের উপকণ্ঠে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের গু লি বি নি ময় হয়। পুলিশ বলছে, তাদের কাছে একটি এ কে-৪৭ রাইফেল ও একটি পি স্তল ছিল।   মালাবি পুলিশ সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানায়, গু লি বি দ্ধ চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে আঘাতের কারণে তারা মা রা যান। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কীভাবে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করেছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।   অভিযানে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ নোয়েল কায়িরা গু লি বি দ্ধ হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা স্থিতিশীল।   উদ্ধারের পর নুসরাতকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়। পরে তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেখানে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন করা হচ্ছে।   নুসরাতের ছোট ভাই শোবি জিওয়া ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান-কে দেওয়া বক্তব্যে মালাবি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অভিযানে গু লি বি দ্ধ পুলিশ কর্মকর্তা নোয়েল কায়িরাকে পরিবারের ‘হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   নুসরাত যুক্তরাজ্যের লেস্টারের বাসিন্দা। কয়েক বছর ধরে তিনি মালাবিতে বসবাস করছেন এবং একটি অডিট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে।   গত ১১ সেপ্টেম্বর ব্লানটায়ারের মাউন্ট প্লিজ্যান্ট এলাকায় নুসরাতকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। তিনি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার গাড়ির পথ রোধ করে তাকে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।   ঘটনার পর তাকে খুঁজে বের করতে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। নুসরাতকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রে প্তার ও দো ষী সাব্যস্ত করার মতো তথ্যের জন্য ৩ কোটি মালাবিয়ান কোয়াচা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।   ঘটনাটি তদন্তকারীদের কাছেও রহস্য তৈরি করেছিল। কারণ নুসরাত নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো মুক্তিপণের দাবি বা অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারও নিরাপদে ফিরে আসার আশায় আবেগঘন আবেদন জানিয়েছিল।   যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস জানিয়েছিল, মালাবিতে এক ব্রিটিশ নাগরিক অপহরণের খবর তারা জানে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।   নুসরাতকে উদ্ধারের পর পুরো ঘটনার পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে মালাবি পুলিশ। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষার্থীদের আনন্দভ্রমণ শেষ হলো শোকে, ৩০ মিটার গভীর খাদে বাস পড়ে প্রাণ গেল ২৫ জনের
শিক্ষার্থীদের আনন্দভ্রমণ শেষ হলো শোকে, ৩০ মিটার গভীর খাদে বাস পড়ে প্রাণ গেল ২৫ জনের

পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শনিবার গভীর রাতে আটলান্টিক মহাসাগরের ফোগো দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের একটি পাহাড়ি সড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।   দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা ইনফোরপ্রেস জানিয়েছে, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে প্রায় ৩০ মিটার গভীর একটি খাড়া খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে ফোগোর সাও ফ্রান্সিসকো দে আসিস আঞ্চলিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের এই আনন্দভ্রমণের আয়োজন স্থানীয় কোনো স্কুল থেকে করা হয়নি। বরং বাসচালক নিজেই প্রতি বছর ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের ভ্রমণের আয়োজন করে আসছিলেন।   দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনিও প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।   এই ঘটনাকে 'মহা বিপর্যয়' হিসেবে আখ্যায়িত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া পেরেইরা নেভেস। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।   স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের কয়েকজনের অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, উদ্ধার করার পরপরই সাতটি মরদেহ সমাহিত করা হয়। এই দুর্ঘটনা পুরো দ্বীপরাষ্ট্রটিতে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
সম্পদ উত্তোলন নিয়ে টাটা কেমিক্যালসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে কেনিয়া
'আমরা তোমাদের গোলাম নই': ভারতের টাটা কেমিক্যালসকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে কেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ

ভারতের টাটা কেমিক্যালসকে কেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। কিজিয়াডো কাউন্টির লেক ম্যাগাডি থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করলেও স্থানীয় অর্থনীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট অবদান রাখেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।   ৩ সেপ্টেম্বর কিজিয়াডো কাউন্টিতে এক বক্তব্যে রুটো বলেন, টাটা কেমিক্যালসের ম্যাগাডি কার্যক্রমের সঙ্গে প্রায় ১০০ বছরের চুক্তি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি সেখানে পর্যাপ্ত শিল্প স্থাপন বা স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি করেনি। তিনি টাটা কেমিক্যালসকে “তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে যেতে” বলেন।  রুটোর অভিযোগ, টাটা কেমিক্যালস লেক ম্যাগাডি থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে তা ভারতসহ অন্যান্য দেশে পাঠাচ্ছে, কিন্তু কেনিয়াতেই সেই সম্পদের মূল্য সংযোজন করে কাচ ও রাসায়নিক শিল্প গড়ে তোলা হয়নি। এ কারণে নতুন বিনিয়োগকারী এনে স্থানীয়ভাবে কাচ ও রাসায়নিক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।  লেক ম্যাগাডি কেনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সোডা অ্যাশ উৎপাদন কেন্দ্র। এই খনিজ কাচ, সাবান ও ডিটারজেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে কেনিয়া ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ টন সোডা অ্যাশ রপ্তানি করেছে, যার মূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।  তবে বিষয়টি নিয়ে টাটা কেমিক্যালসও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কেনিয়ার সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব প্রয়োজনীয় নিয়ম তারা মেনে চলছে। সরকারের উত্থাপিত বিষয়গুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।  এর আগে জুলাইয়ে কেনিয়া সরকার টাটা কেমিক্যালস ম্যাগাডির কার্যক্রম ও রপ্তানি স্থগিত করেছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপরই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রচলিত মার্কেটর মানচিত্রের পরিবর্তে আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। ছবি: সংগৃহীত
মানচিত্রে ছোট দেখানো আফ্রিকার ‘প্রকৃত আকার’ তুলে ধরতে জাতিসংঘের উদ্যোগ, ১৬৪ দেশের সমর্থনে প্রস্তাব পাস

প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন তুলনামূলকভাবে ছোট দেখানোর দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসানে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। আফ্রিকান দেশগুলোর নেতৃত্বে আনা ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবটি ১৬৪ ভোটে পাস হয়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।   প্রস্তাবটিতে ২০১৮ সালে তৈরি ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রের ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়েছে। এই মানচিত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আপেক্ষিক আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভুলভাবে দেখানো হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা, গণমাধ্যম, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মে বিশ্ব মানচিত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বর্তমানে বিশ্বের অসংখ্য মানচিত্রে ব্যবহৃত মার্কেটর প্রজেকশনটি ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর তৈরি করেন। মূলত সমুদ্রপথে নৌযান চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই মানচিত্রের নকশা করা হয়েছিল। তবে পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল মানচিত্রে তুলে ধরার কারণে এতে বিষুবরেখা থেকে দূরে থাকা অঞ্চলগুলোর আয়তন বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখায়।   এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা। মার্কেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার কাছাকাছি আকারের মনে হতে পারে। বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ১৪ গুণ বড়। নতুন ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনে এই ধরনের আয়তনগত বিভ্রান্তি অনেকটাই কমানো হয়েছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসে জাতিসংঘের ভোটের আগে বলেন, ‘ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে।’ তাঁর মতে, মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের শিক্ষা, কল্পনা এবং পৃথিবী সম্পর্কে সামষ্টিক ধারণাকেও প্রভাবিত করে।   আফ্রিকান দেশগুলোর বক্তব্য, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত বিকৃত মানচিত্র আফ্রিকাকে বিশ্বের তুলনায় ছোট ও প্রান্তিক হিসেবে দেখানোর একটি ধারণা তৈরি করেছে। তাই নতুন মানচিত্র ব্যবহারের উদ্যোগটি শুধু মানচিত্রবিদ্যার পরিবর্তন নয়, বরং ঔপনিবেশিক যুগের রেখে যাওয়া ধারণা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। তবে দুসে স্পষ্ট করেছেন, এই উদ্যোগ ইউরোপ বা অন্য কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে নয়।   টোগোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটি চলতি বছরের মধ্যেই নিজেদের বিদ্যালয়ের ভূগোলের বই ও শিক্ষাসামগ্রীতে নতুন মানচিত্র যুক্ত করার উদ্যোগ নেবে। এরপর আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্র, অন্যান্য সমর্থক দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আরও ব্যাপকভাবে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ব্যবহারের পথ তৈরি করতে চায় দেশটি।   তবে জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত কোনো দেশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হওয়ায় কোনো দেশকে মার্কেটর মানচিত্র সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে না। টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, সমুদ্র ও আকাশপথে নেভিগেশনের ক্ষেত্রে মার্কেটর প্রজেকশনের ব্যবহার নিয়ে এই প্রস্তাব কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে না। নৌ ও বিমান চলাচলের মতো নির্দিষ্ট কাজে এই প্রজেকশন এখনও কার্যকর।   জাতিসংঘের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি ‘আদর্শিক এজেন্ডা’কে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, উদ্যোগটির সমর্থকেরা মনে করছেন, বাস্তব আয়তনকে আরও সঠিকভাবে তুলে ধরা মানচিত্র শিক্ষা ও জনসাধারণের ভৌগোলিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। ‘আফ্রিকা নো ফিল্টার’সহ প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো এখন বিদ্যালয়ের পাঠ্যবই, সংবাদমাধ্যম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রতিদিন ব্যবহৃত ডিজিটাল মানচিত্রে আরও নির্ভুল মানচিত্র চালুর আহ্বান জানিয়েছে।   জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের মানচিত্র রাতারাতি বদলে যাবে না। তবে আফ্রিকার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের প্রচারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন স্বীকৃতি পেল। সামনে বিভিন্ন দেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কতটা এই নতুন মানচিত্র গ্রহণ করে, সেটিই হবে এই উদ্যোগের বাস্তব সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
শরীর নুয়ে পড়েছে, কণ্ঠে এখনো নামাজের আহ্বান; ৭০ বছর ধরে আজান দিচ্ছেন আফ্রিকার শতবর্ষী মুয়াজ্জিন
শরীর নুয়ে পড়েছে, কণ্ঠে এখনো নামাজের আহ্বান; ৭০ বছর ধরে আজান দিচ্ছেন আফ্রিকার শতবর্ষী মুয়াজ্জিন

আফ্রিকার দেশ চাদের এক প্রবীণ মুয়াজ্জিনের আজান দেওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বয়সের ভারে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হলেও তাঁর অটল ভক্তি এবং দায়িত্ববোধ গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে নেটিজেনদের। স্থানীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধ মুয়াজ্জিনের বাড়ি চাদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর আম তিমানে।   তাঁকে ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বয়স্ক এবং দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা সক্রিয় মুয়াজ্জিনদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই মুয়াজ্জিন গত ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই মসজিদে নিয়মিত আজান দিয়ে আসছেন। শারীরিক নানা সীমাবদ্ধতা ও বার্ধক্যের ক্লান্তি সত্ত্বেও প্রতিদিন নিয়ম করে মসজিদে দাঁড়িয়ে তাঁর আজান দেওয়ার এই দৃশ্য এক বিরল আত্মনিবেদন ও আধ্যাত্মিক শক্তির প্রমাণ।   প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর এই অবিচল ধর্মীয় সেবা স্থানীয়দের কাছে যেমন পরম শ্রদ্ধার, তেমনি বহির্বিশ্বের মানুষের কাছেও এক বিশাল বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁর এই অসামান্য নিষ্ঠার দৃশ্যটিই বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।   তবে, সাংবাদিকতার স্বচ্ছতা ও নীতি অনুযায়ী এই তথ্যের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। ওই মুয়াজ্জিনের বয়স ১০০ বছর এবং তিনি ৭ দশকের বেশি সময় ধরে একই মসজিদে আজান দিচ্ছেন—এমন দাবিগুলো মূলত স্থানীয় সূত্র ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রচারিত।   আন্তর্জাতিক মূলধারার শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে এই তথ্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাই করেনি। সংবাদটি মূলত সচেতনতা এবং তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হয়েছে। তবে যারা এই ভাইরাল দাবির সত্যতা নিয়ে আরও গভীরে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা প্রাসঙ্গিক স্ক্রিনশট ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো যাচাই করে দেখার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মানচিত্র
আফ্রিকার ৬ দেশের অবস্থান ভুল দেখাল যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিব্রত পররাষ্ট্র দপ্তর

আফ্রিকার ছয়টি দেশের অবস্থান ভুল দেখিয়ে আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি মানচিত্র নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত এইডস ২০২৬ সম্মেলনে প্রদর্শিত মানচিত্রে চিহ্নিত প্রতিটি আফ্রিকান দেশের অবস্থানই ভুল ছিল। পরে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘটনাটিকে “দুর্ভাগ্যজনক ভুল” বলে স্বীকার করে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।   সম্মেলনের এক অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক এইচআইভি/এইডস কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সহযোগিতা তুলে ধরতে মানচিত্রটি ব্যবহার করা হয়। সেখানে নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, উগান্ডা, ক্যামেরুন, মালাউই এবং কোট দিভোয়ারের অবস্থান দেখানো হলেও কোনো দেশের অবস্থানই সঠিক ছিল না। উপকূলীয় দেশ নাইজেরিয়াকে স্থলবেষ্টিত অঞ্চলে, মোজাম্বিককে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে এবং কোট দিভোয়ারকে মহাদেশের সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে দেখানো হয়।   ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপস্থাপনায় ব্যবহৃত মানচিত্রে এমন একটি ওয়াটারমার্ক ছিল, যা এটি ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল ব্যবহার করে তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।    বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, উপস্থাপনার ঠিক আগে একজন কর্মী তড়িঘড়ি করে স্লাইডে পরিবর্তন আনতে গিয়ে এই ভুলটি করেন। তিনি বলেন, “এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ভুল ছিল। এতে অংশগ্রহণকারী, বিশেষ করে আমাদের আফ্রিকান অংশীদারদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও ভুল বার্তা গেছে, তার পূর্ণ দায় আমরা নিচ্ছি।”    পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, মানচিত্রের ভুলটি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক এইডস কর্মসূচি এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ (পিইপিএফএআর) কর্মসূচির মাধ্যমে বৈশ্বিক এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।    বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার দেশগুলোর সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এমন মৌলিক ভৌগোলিক ভুল শুধু বিব্রতকরই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগে তথ্য যাচাই ও মাননিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনেছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
আফ্রিকার ২৫ শহরে ভিসা সেবা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র
২৫ শহরে বন্ধ মার্কিন ভিসা সেবা, আবেদনকারীদের ভরসা এখন আঞ্চলিক হাব

আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে নিজেদের ভিসা ও কনস্যুলার কার্যক্রম সুসংহত করতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১ আগস্ট থেকে মহাদেশটির ২৫টি মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে সব ধরনের সাধারণ ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট ২০টি আঞ্চলিক হাবের মাধ্যমে ভিসা পরিষেবা পরিচালনা করা হবে। নিরাপত্তা স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষপ নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। অবশ্য কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, কেবল স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ ভিসা দেওয়ার সেবাটি বন্ধ থাকবে।   নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে নাইজেরিয়ার আবুজারা, মাদাগাস্কারের আন্তানানারিভো, জিম্বাবুয়ের হারারে, অ্যাঙ্গোলার লুয়ান্ডা ও চাদের এনজামেনাসহ ২৫টি শহরের মার্কিন মিশনে আর কোনো সাধারণ অভিবাসী ও অ-অভিবাসী ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীদের এখন থেকে ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য অন্য দেশের নির্ধারিত হাবগুলোতে যেতে হবে। ডাকার, আক্রা, আদ্দিস আবাবা, কেপটাউন, জোহানেসবার্গ, লাগোস ও নাইরোবির মতো ২০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরের কেন্দ্রগুলোকে ভিসা কার্যক্রমের নতুন হাব হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা, সরকারি অপচয় হ্রাস এবং মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ প্রথম স্থানে রেখে কাজ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারই অংশ হিসেবে এই পুনর্গঠন। নির্দিষ্ট কয়েকটি আঞ্চলিক হাবে কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত করার মাধ্যমে ভিসা প্রদানের মান ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন। তবে এই নতুন ব্যবস্থার কারণে আফ্রিকান আবেদনকারীদের ওপর ভ্রমণ খরচ ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার বাড়তি বোঝা চাপবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ইউরোপের পাঁচ দেশের
আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ইউরোপের পাঁচ দেশের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাঁচটি দেশ প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইইউর বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে সাময়িকভাবে ইউরোপের বাইরে কোনো দেশে রাখা হতে পারে।   জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশনকে ভিত্তি করে পরিকল্পনাটি তৈরি করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সদস্যদেশগুলো ইইউর বাইরে রিটার্ন হাব স্থাপন করতে পারবে। সম্ভাব্য স্বাগতিক দেশ হিসেবে কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।   এই উদ্যোগে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে গ্রিস। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগামী বছর থেকে রিটার্ন হাব চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং যাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের এসব রিটার্ন হাবে রাখা হতে পারে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।   বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিটার্ন হাব নিয়ে ইউরোপের এই উদ্যোগ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। কারণ বিষয়টি এখনো নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও প্রস্তাবটি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থা শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয়; বরং যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোর লক্ষ্য হলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করা।   বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে এক কর্মকর্তা জানান, ইউরোপে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে প্রথম ধাপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ। নতুন রেগুলেশন কার্যকর হলে নতুন আশ্রয় আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে এবং বাতিল হওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।   ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তি হলো, বর্তমানে যেসব অভিবাসীর বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত হয়, তাদের বড় একটি অংশকে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে অবস্থান করেন, যা অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।   তবে রিটার্ন হাব পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার মহলে উদ্বেগ রয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারসহ বিভিন্ন অধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইইউর বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, আপিলের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইউরোপীয় দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ এবং ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এই নীতির অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তার নির্যাতন বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম বড় উৎস দেশগুলোর একটি। ২০২৫ সালে ইইউতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ৩৬ হাজার ৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৪৫টি ছিল প্রথমবারের আবেদন।   নতুন রিটার্ন হাব ব্যবস্থা কার্যকর হলে ইউরোপে থাকা প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ইউরোপীয় আইন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ওপর।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মরক্কো নির্মাণ করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম
২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন করতে ১ লাখ ১৮ হাজার দর্শক ধারনক্ষমতার স্টেডিয়াম বানাচ্ছে মরক্কো

আফ্রিকার দেশ মরক্কো নির্মাণ করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম ‘গ্র্যান্ড স্টেড হাসান–২’। ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামটি সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়ামে পরিণত হবে। দেশটির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ এই মাঠেই আয়োজন করা।    কাসাব্লাঙ্কার পূর্বদিকে বেনস্লিমান প্রদেশে নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি মরক্কান দিরহাম, যা প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। স্টেডিয়ামটির নকশা করেছে আন্তর্জাতিক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান পপুলাস এবং মরক্কোর ওয়ালালু + চোই। এর নকশায় দেশটির ঐতিহ্যবাহী ‘মৌসেম’ উৎসবের বিশাল তাঁবু থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে।    মরক্কো সরকার ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ অগ্রগতি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এটি প্রস্তুত করার চেষ্টা চলছে।    ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। তবে ফাইনাল ম্যাচ কোন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি ফিফা। মরক্কো চায়, নতুন এই গ্র্যান্ড স্টেড হাসান–২-ই হোক বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের ভেন্যু।   স্টেডিয়ামটি শুধু বিশ্বকাপের জন্য নয়, ভবিষ্যতে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল এবং দেশটির শীর্ষ ক্লাবগুলোরও অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এটি পর্যটন, ক্রীড়া ও অবকাঠামো উন্নয়নে মরক্কোর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের হাতুড়িপেটায় নিহত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের হাতুড়িপেটায় নিহত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী

দক্ষিণ আফ্রিকার হাইডেলবার্গ এলাকায় দোকানে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার কয়েকদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মো. জসীম উদ্দীন। তার মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে হাইডেলবার্গ এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন মো. জসীম উদ্দীন। গত শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার দোকানে প্রবেশ করে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।   হামলার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।   জানা গেছে, নিহত মো. জসীম উদ্দীনের বাড়ি বাংলাদেশের ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায়।   ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। হামলার কারণ বা এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ওপর ডাকাতি, ছিনতাই ও সহিংস হামলার ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক প্রবাসী নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।   মো. জসীম উদ্দীনের মৃত্যুতে স্বজন, সহকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মৃত ৬০০ ছাড়াল
কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ: মৃত ৬০০ ছাড়াল, আক্রান্ত ১,৭৫৯

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫৯ জনে।   বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত সরকারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে মঙ্গলবার পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫১ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন আরও ২০ জন। পরিস্থিতির এই ধারাবাহিক অবনতিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টশোপো প্রদেশের রাজধানী কিসাঙ্গানিতে আরও দুইজনের মধ্যে ইবোলার উপসর্গ দেখা গেছে। তবে তাদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনও নিশ্চিত না হওয়ায় সরকারি আক্রান্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলাফল নিশ্চিত হলে তাদেরও মোট আক্রান্তের হিসাবে যোগ করা হবে।   এই দুইজনের একজনের সংক্রমণের উৎস ইতুরি প্রদেশের নিয়্যা-নিয়া গ্রাম বলে ধারণা করা হচ্ছে—যেখান থেকেই এবারের প্রাদুর্ভাবের সূত্রপাত। তবে অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে কিসাঙ্গানি ছাড়া অন্য কোনো অঞ্চলের সঙ্গে সংক্রমণের সরাসরি সংযোগ এখনো শনাক্ত করা যায়নি, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে।   এরই মধ্যে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বেতন-ভাতা পরিশোধে বিলম্বের প্রতিবাদে তারা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। গত সপ্তাহান্তে স্বাস্থ্যকর্মীরা জাতীয় ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। যদিও মঙ্গলবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়নি, তবু বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।   স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, গত ১৫ মে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে তারা নিয়মিত বেতন ও অতিরিক্ত ভাতা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন।   ইতুরির রাজধানী বুনিয়ার মহামারি নজরদারি কমিটির সদস্য চিকিৎসক ডা. বিয়েনসি কানো বলেন, “ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকেই আমরা আমাদের কাজের পারিশ্রমিক দাবি করে আসছি, কিন্তু এখনো তা পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।”   এদিকে, ইবোলার ‘বান্ডিবুগিও’ ধরনের সংক্রমণ মোকাবিলায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং রোগী নিবন্ধনও চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনটি তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী হলেও এর বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো কার্যকর টিকা নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মে মাসে এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে তার আগেই ভাইরাসটি মংগবওয়ালু, রওয়ামপারা ও বুনিয়া অঞ্চলের খনিশহরগুলোতে কয়েক সপ্তাহ ধরে অজান্তেই ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তা আশপাশের প্রদেশগুলোতেও বিস্তার লাভ করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই প্রাদুর্ভাব আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। এতে শুধু কঙ্গো নয়, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্যও ঝুঁকি বাড়তে পারে।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা  

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
১৯ জুন পিটারম্যারিটজবার্গে 'মার্চ অ্যান্ড মার্চ' নামে একটি তৃণমূল নাগরিক সংগঠনের আয়োজিত অবৈধ অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: পিয়ের-এন্ডারস পিটারসন
অভিবাসীবিরোধী হামলার ভয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশজুড়ে বিদেশিবিরোধী প্রচারণা ও সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যে বহু অভিবাসী নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন।   জোহানেসবার্গের উপকণ্ঠে বসবাসকারী মালাউইয়ের নাগরিক কাউঙ্গা নিয়ারেন্ডা জানান, দুই ব্যক্তি তাকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, “এখনই দেশ ছাড়ো, না হলে কফিনে ফিরতে হবে।” তিনি বলেন, “তারা জানতে চেয়েছিল আমি কবে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ব। বলেছে, ৩০ জুনের পর এখানে আমাদের আর প্রয়োজন নেই। যদি না যাই, তাহলে জীবিত নয়, কফিনে করেই ফিরতে হবে।”   বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন আন্দোলন। এর মধ্যে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ এবং ‘অপারেশন দুদুলা’ সবচেয়ে সক্রিয়।   এসব গোষ্ঠীর অভিযোগ, বিদেশিরা দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে, অপরাধ বাড়াচ্ছে এবং জনসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তারা ৩০ জুনের মধ্যে নথিবিহীন অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার আহ্বান জানায় এবং এরপর গণবিক্ষোভের কর্মসূচিও ঘোষণা করে।   অপারেশন দুদুলা বিদেশিদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা, পরিচয়পত্র যাচাই এবং বিদেশিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আগেও সমালোচিত হয়েছে।   দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ৩০ জুনের তথাকথিত ‘ডেডলাইন’কে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলা সরকারের নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, পদযাত্রা বা অন্য কোনো উপায়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।   তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন জনসেবা ও শ্রমবাজারে চাপ সৃষ্টি করলেও দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানো উচিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় বিদেশিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।   মোসেল বেতে সহিংসতায় দুই মোজাম্বিক নাগরিক নিহত হন এবং ৫০টির বেশি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মোজাম্বিক সরকারের দাবি, বিদেশিবিদ্বেষী হামলায় তাদের মোট পাঁচ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পিটারমারিৎজবার্গে গণপিটুনিতে এক মালাউই নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও তদন্ত করছে পুলিশ।   হামলার আশঙ্কায় শত শত অভিবাসী গির্জা ও মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে মালাউই, জিম্বাবুয়ে, ঘানা ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ১৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক হয় স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন, নয়তো তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিদ্বেষী সহিংসতা নতুন নয়। ২০০৮ সালের দাঙ্গায় অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০১৫ ও ২০১৯ সালেও একই ধরনের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে দেশটিতে বেকারত্বের হার প্রায় ৩২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ বেকারত্ব এবং সামাজিক বৈষম্যের কারণে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে।   তবে গবেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো থেকে আসা কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসীরা। কারণ কম মজুরিতে কাজ করায় নিয়োগকর্তারা তাদের বেশি নিয়োগ দেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।   ১৬ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী মালাউইয়ের নাগরিক নিয়ারেন্ডা এখন দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার প্রশ্ন, “যারা প্রকৃত অর্থে দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের ছেড়ে কেন আমাদের মতো দরিদ্র আফ্রিকানদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?”

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
নাইজেরিয়ায় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ভয়াবহ হামলা, অন্তত ২০ জন নিহত

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় আবারও চরমপন্থীদের ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। নাইজার সীমান্তবর্তী কেব্বি রাজ্যের আরেওয়া জেলার ফেসকেন রাফি সম্প্রদায়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে অন্তত ২০ জনকে হত্যা করেছে 'লাকুরাওয়া' নামের একটি রহস্যময় উগ্রপন্থী গোষ্ঠী। সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রস্তুতকৃত একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই প্রাণহানির মর্মান্তিক তথ্য উঠে এসেছে, যা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে পৌঁছেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেশ কয়েক দিন আগে ঘটলেও গত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেব্বি রাজ্যের উপ-গভর্নরের এলাকা পরিদর্শনের পর তা জনসমক্ষে আসে। তবে এই হামলার সুনির্দিষ্ট কোনও তারিখ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে এই লাকুরাওয়া গোষ্ঠীর সহিংসতা তুলনামূলকভাবে বন্ধ থাকলেও নতুন করে তাদের এই হামলা রীতিমতো উদ্বেগজনক।   সামরিক বাহিনীর জোরদার অভিযানের মুখেও তারা যে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে জটিল ও বড় ধরনের হামলা চালাতে সক্ষম, মূলত সেই শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এই প্রাণঘাতী হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।এর আগে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।   নাইজেরিয়া সরকারের দাবি অনুযায়ী, ওই সামরিক অভিযানে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস), লাকুরাওয়া এবং অন্যান্য সশস্ত্র ডাকাত চক্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। যদিও সেই মার্কিন হামলায় ঠিক কতজন নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা এখনও অস্পষ্ট। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপর মুক্তিপণ আদায় এবং জমিতে চাষাবাদের জন্য চাঁদা দাবির জেরে এই ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা ও অপহরণের ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৫১ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার অপেক্ষায় কঙ্গো, নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত ‘দ্য লেপার্ড’রা

দীর্ঘ ৫১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে ফেরার পথে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। ফিফা বিশ্বকাপের প্লে-অফ টুর্নামেন্টের ফাইনালে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৯৭৪ সালের পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফেরার যোগ্যতা অর্জন করেছে দলটি। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে কঙ্গো ফুটবলে শুরু হয়েছে নতুন এক অধ্যায়।   ৩১ মার্চ গুয়াদালাজারায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে জয় পাওয়ার পর দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কোচ সেবাস্টিয়ান দেশাব্রের অধীনে গড়ে ওঠা এই দলটি দীর্ঘ সময় পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ফিরতে যাচ্ছে। দলের তারকা খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন সেড্রিক বাকাম্বু, শঁসেল এমবেম্বা ও আর্থার মাসুয়াকু। অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে গঠিত এই স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি শুরু করেছে কঙ্গো।   কোচ সেবাস্টিয়ান দেশাব্রে ২০২২ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুটি বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনস এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া। দুই লক্ষ্যেই সফল হয়ে তিনি আফ্রিকার ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ২০২৪ সালের আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে দলের অগ্রযাত্রা তাকে আরও প্রশংসিত করে।   বিশ্বকাপে কঙ্গোর গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী দলটি প্রথম ম্যাচে ১৭ জুন পর্তুগালের মুখোমুখি হবে হিউস্টন স্টেডিয়ামে। ২৩ জুন কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে গুয়াদালাজারা স্টেডিয়ামে। ২৭ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আটলান্টায়।   কঙ্গো ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয়। তখন দেশটির নাম ছিল জায়ার। সে আসরে তারা ছিল মধ্য আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি। মরক্কো ও জাম্বিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় দলটি।   ১৯৭৪ বিশ্বকাপে কঙ্গো তিনটি ম্যাচ খেললেও কোনো জয় বা গোলের দেখা পায়নি। স্কটল্যান্ডের কাছে ২-০, যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারে তারা। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে দলটি লড়াকু পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে।   দীর্ঘ বিরতির পর এবার নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে কঙ্গো। দলে রয়েছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা ফুটবলার। গোলরক্ষক, রক্ষণ, মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড গড়ে তুলেছে দলটি।   বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গোল করার সুযোগও সামনে রয়েছে তাদের। অতীতের শূন্য গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন অধ্যায় লিখতে চায় ‘দ্য লেপার্ড’রা।

Unknown জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
দুবাই বা কাতার নয়, এবার বিশ্ব এভিয়েশনে রাজত্ব করতে নামছে ইথিওপিয়া!

আফ্রিকার আকাশপথের রাজা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিশাল এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইথিওপিয়া। দেশটির রাজধানী আদ্দিস আবাবার অদূরে বিশোফতুতে ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে মহাদেশটির বৃহত্তম বিমানবন্দর। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই বিমানবন্দরটি বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে ব্যস্ত 'বোলে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট'-এর ওপর চাপ কমাতে তৈরি করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে বছরে ৬ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। পুরো প্রকল্প শেষ হলে এর সক্ষমতা দাঁড়াবে বছরে ১১ কোটি যাত্রীতে, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর আটলান্টার সক্ষমতার কাছাকাছি। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সিইও মেসফিন তাসিউ জানিয়েছেন, এই বিমানবন্দরে একই সাথে ২৭০টি বিমান পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে। বিশাল এই প্রকল্পে থাকবে চারটি রানওয়ে এবং অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। মূলত ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য একটি বিশ্বমানের হাব তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য যে, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স বর্তমানে আফ্রিকার বৃহত্তম বিমান সংস্থা এবং সম্প্রতি তারা ঢাকা থেকেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। এই নতুন বিমানবন্দরটি চালু হলে তা বিশ্ববাণিজ্য ও পর্যটনে আফ্রিকার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও
ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বের খবর উড়িয়ে দিলেন পোপ লিও

আফ্রিকা সফররত ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। সফরকালীন তাঁর কিছু বক্তব্যকে সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অ্যাঙ্গোলা যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ লিও এই স্পষ্টীকরণ দেন। এর আগে ক্যামেরুন সফরকালে তিনি বলেছিলেন, "মুষ্টিমেয় কিছু স্বৈরাচারী শাসক বিশ্বকে ধ্বংস করছে।" তাঁর এই মন্তব্যটি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে পোপ বলেন, তাঁর সেই মন্তব্যগুলো মোটেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ছিল না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সব দিক থেকে সঠিক ছিল না।" মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে সরাসরি কোনো সংঘাতের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দেন। সময়ের হিসাব তুলে ধরে পোপ লিও আরও যোগ করেন যে, বিতর্কিত ওই ভাষণটি অন্তত দুই সপ্তাহ আগে তৈরি করা হয়েছিল। অর্থাৎ, পোপের শান্তি প্রচারের বার্তার ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করার অনেক আগেই এই বক্তব্য ঠিক করা ছিল। ফলে এটি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার জন্য ছিল না। শান্তি, ন্যায়বিচার এবং বিশ্ব অস্থিরতার বিরুদ্ধে বার্তা দিতে বর্তমানে পোপ লিও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশজুড়ে ১০ দিনের এক সফরে রয়েছেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০