ইউক্রেন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় রাশিয়ার ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের

রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে নতুন এক বিতর্ক সামনে এনেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ইরান ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়ার সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ইরান যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে—এ বিষয়ে তিনি “সম্পূর্ণ নিশ্চিত”।   তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক কিছু হামলার ক্ষেত্রেও এই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও সব ঘটনায় ড্রোনগুলো ঠিক কোথায় তৈরি হয়েছে তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   শাহেদ ড্রোন মূলত ইরানেই প্রথম তৈরি হয়। তুলনামূলক কম খরচে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় এগুলো ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২২ সালের শেষ দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সময় এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, তখন থেকে রুশ বাহিনী হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।   প্রথমদিকে ইরান থেকে এসব ড্রোন সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে রাশিয়া নিজস্ব কারখানায় একই ধরনের ড্রোন তৈরি করছে বলে জানা গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য দেশও তাদের সামরিক কার্যক্রমে এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান অভিযানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা দেখা গেছে।   তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনকে হামলা হুমকি দিল ইরান, রাশিয়া পাশে দাঁড়াল

ইরান ইউক্রেনকে সরাসরি আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সংঘাত শুরু করেছে, কিয়েভ এখন সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে।   তিনি বলেন, “ইসরায়েলকে ড্রোন ও বিমানবিধ্বংসী সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে ইউক্রেন কার্যত এই যুদ্ধে জড়িত। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ইরানকে আত্মরক্ষার জন্য ইউক্রেনের যেকোনো অঞ্চলে আঘাত হানার বৈধ অধিকার রয়েছে।” আজিজি ইউক্রেন সরকারকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ফলে পুরো দেশ ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।   এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পারস্য উপসাগরের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে কিয়েভের ভূমিকায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জেলেনস্কি দাবি করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে ড্রোন প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে। ইউক্রেন ইতোমধ্যে নিজ দেশে তৈরি ড্রোন ইন্টারসেপ্টর ও অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট টিম ওই অঞ্চলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রস্তাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ড্রোন প্রতিরক্ষা নিয়ে আমেরিকার কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রযুক্তি বিশ্বের সেরা।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার ৪ রণতরী ক্ষতিগ্রস্ত

ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা (SSU) যৌথভাবে চালানো সফল ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগরে মোতায়েন রাশিয়ার শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘অ্যাডমিরাল এসেন’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার ফলে জাহাজটি বর্তমানে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ‘কালিবার’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ক্ষমতা হারিয়েছে।   হামলা ১ ও ২ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরে পরিচালিত হয়। হামলায় রণতরীটির কেন্দ্রীয় কাঠামো আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ১৮ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। জাহাজের প্রধান নজরদারি রাডার ‘ফ্রেগেট-এম২এম’, বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নির্দেশক ‘জেডআর-৯০ ওরেখ’, এবং ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ‘টিকে-২৫’ অকেজো হয়েছে। এছাড়া জাহাজের আটটি কালিবার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   একই অভিযানে নভোরোসিস্ক বন্দরের একটি তেল টার্মিনালেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার আরও তিনটি জাহাজ—‘ভ্যালেন্টিন পিকুল’, ‘ইয়েস্ক’ এবং ‘কাসিমভ’—ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যাডমিরাল এসেনের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ অকেজো হওয়া কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নৌ-শক্তির জন্য বড় ধাক্কা। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন একের পর এক ড্রোন হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার নৌবহরকে চাপের মধ্যে রেখেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
তেল আভিভের একটি আবাসিক ভবন
যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়া, মহাপ্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব

একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে বিশ্ব আজ এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ অস্থিরতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমি, আর ইউক্রেনের সমভূমি থেকে গাজার ধ্বংসস্তূপ— সর্বত্রই এখন কেবল বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের দামামা।   কূটনৈতিক টেবিলের চেয়ে সামরিক শক্তির আস্ফালনই এখন ভূ-রাজনীতির প্রধান ভাষা হয়ে উঠেছে, যা মানবসভ্যতাকে ঠেলে দিচ্ছে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে। মধ্যপ্রাচ্যে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ ও ইরানি পাল্টা আঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে শুরু করেছে বিশাল সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বলে অভিহিত করলেও, ইরানও বসে নেই। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েল অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান।  এমনকি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের চরমপত্র দিয়েছেন, যা এই অঞ্চলের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এবার কেবল আকাশপথের হামলায় সীমাবদ্ধ না থেকে ইরান সরকারের পতনের ডাক দিয়েছেন, যা পুরো অঞ্চলের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ফ্রন্ট: পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ায় শুরু হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে পুরোদস্তুর যুদ্ধ। গত শুক্রবার কাবুল ও কান্দাহারে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগান বাহিনীও ইসলামাবাদ ও অ্যাবটাবাদে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ একে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও উগ্রবাদ দমনের আড়ালে থাকা এই দ্বন্দ্ব এখন এক বিশাল আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে পরাশক্তিগুলোর পরোক্ষ সমর্থন সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। পঞ্চম বছরে ইউক্রেন যুদ্ধ ও গাজার মানবিক বিপর্যয় ইউরোপের মাটিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পা দিয়েছে পঞ্চম বছরে। এটি এখন আর কেবল ভূখণ্ডের লড়াই নেই, বরং রূপ নিয়েছে ‘প্রযুক্তিগত যুদ্ধে’। ইউক্রেনের নিজস্ব প্রযুক্তির ‘ফ্ল্যামিংগো’ মিসাইল বনাম রাশিয়ার উৎপাদনমুখী সামরিক শক্তি— দুই পক্ষের এই লড়াইয়ে রক্তক্ষয় থামার কোনো লক্ষণ নেই। অন্যদিকে, গাজায় মার্কিন মধ্যস্থতায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে চলা এই যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজা এখন কেবল এক ধ্বংসস্তূপ আর মানবিক হাহাকারের নাম। খাদের কিনারায় বিশ্ব ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ‘গ্লোবাল অর্ডার’ বা বিশ্ব ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে। কূটনীতির পথ সংকুচিত হয়ে আসায় সামরিক শক্তিই এখন সমস্যা সমাধানের একমাত্র হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরাশক্তিগুলোর এই মরণজয়ী খেলায় বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবিক স্থিতিশীলতা আজ চরম ঝুঁকির মুখে। কাতার বা জর্ডানের মতো দেশগুলো থেকে বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া এবং আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশ্ব হয়তো একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সময় থাকতে বিশ্বনেতারা কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে, এই যুদ্ধের দামামা অচিরেই এক বৈশ্বিক মহাপ্রলয়ে রূপ নেবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
যুদ্ধের ছায়ায় ইউক্রেনে বাড়ছে বিধবা ও এতিমের সংখ্যা
যুদ্ধের ছায়ায় ইউক্রেনে বাড়ছে বিধবা ও এতিমের সংখ্যা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরে গড়ানোর পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ভয়াবহ জনসংখ্যাগত চাপে পড়েছে।   দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রভাবে জন্মহার দ্রুত হ্রাস পেয়েছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বা দেশ ছেড়েছে, আর অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার কারণে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে। এর ফলে দেশটি বড় ধরনের জনসংখ্যা সংকটের মুখোমুখি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় এক কোটি মানুষ হয় নিহত হয়েছেন, নয়তো দেশ ছেড়েছেন কিংবা রাশিয়ার দখলকৃত এলাকায় বসবাস করছেন। ইউক্রেনের জনসংখ্যাবিষয়ক গবেষক এল্লা লিবানোভা পরিস্থিতিকে “জাতীয় বিপর্যয়” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, মানুষের অভাবে কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।   যুদ্ধের আগে ইউক্রেনীয় নারী ওলেনা বিলোজেরস্কা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ও তাঁর স্বামী দুজনেই যুদ্ধে অংশ নেন। সেনাবাহিনী থেকে ফেরার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মাতৃত্বের সম্ভাবনা খুবই কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজননক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   সংঘাতে বহু সেনা নিহত হওয়ায় দেশটিতে বিধবা ও এতিমের সংখ্যা বাড়ছে। ইরিনা ইভানোভা তাঁর স্বামী পাভলো ইভানোভ–কে হারান যুদ্ধক্ষেত্রে, যখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। পরে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে স্বামীর পছন্দ করা নাম রাখেন ইউস্তিনা। তাঁর ভাষায়, মাতৃত্বের আনন্দ আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা একসঙ্গে অনুভব করেছেন তিনি।   গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাবে, যুদ্ধের পর থেকে এক লাখের বেশি ইউক্রেনীয় নিহত হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ৫৯ হাজার শিশু মা-বাবা ছাড়া বড় হচ্ছে। জন্মহার নেমে এসেছে একের নিচে, যা ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অশনিসংকেত। পাশাপাশি প্রায় ৬০ লাখ মানুষ বিদেশে শরণার্থী হিসেবে আছেন। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তাঁদের অনেকেই আর দেশে ফিরবেন না—এমন আশঙ্কা বাড়ছে। এতে দক্ষ কর্মশক্তির ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে।   অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া–র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কিয়েভের অভিযোগ, রাশিয়ার তেল পরিবহন পুনরায় চালু না হলে তারা ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছে। ইউক্রেন বলছে, এ ধরনের চাপ মস্কোর ওপর প্রয়োগ করা উচিত, কিয়েভের ওপর নয়।   এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভ, ওডেসা ও অন্যান্য এলাকায় হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ শহরেও বিস্ফোরণে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। অপরদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানায় তারা হামলা চালিয়েছে।   সব মিলিয়ে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুধু অবকাঠামো নয়, ইউক্রেনের সামাজিক কাঠামো ও জনসংখ্যাগত ভবিষ্যৎকেও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
জুন মাসের মধ্যেই থামাতে হবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

রাশিয়া ও ইউক্রেনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে এবার চরম সময়সীমা বেঁধে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের এই 'ডেডলাইন' বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।   গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য যা আপনার জানা প্রয়োজন:   জুন মাসের ডেডলাইন: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন আগামী জুন মাসের মধ্যে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কড়া বার্তা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে সমাধান না হলে উভয় দেশের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হবে।   ব্যর্থ বৈঠক ও নতুন আশাবাদ: আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় এখন সবার নজর আগামী সপ্তাহে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে হতে যাওয়া পরবর্তী বৈঠকের দিকে।   থামছে না হামলা: ট্রাম্পের আল্টিমেটামের মাঝেই জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার হামলা আরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার রাতেই ৪০০টি ড্রোন এবং ৪০টি মিসাইল দিয়ে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে পুতিন বাহিনী।   ক্ষয়ক্ষতির চিত্র: মূলত ভলিন, লভিভ এবং কিইভসহ বেশ কিছু অঞ্চলে এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে, যা শান্তি আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।   ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপে কি আসলেই থামবে দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধ? নাকি জুন মাসের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে? আপনাদের মতামত কমেন্টে জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মস্কোতে রুশ জেনারেলকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে

মস্কোর প্রাণকেন্দ্রে এক শীর্ষ রুশ সামরিক কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জেনারেল স্টাফের মেইন ডিরেক্টরেটের উপপ্রধান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভকে শুক্রবার গুলি চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   এই নৃশংস হামলার পরপরই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সরাসরি ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করেছেন। ল্যাভরভ দাবি করেন, কিয়েভ এই হামলার মাধ্যমে চলমান শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও জটিল করতে চাইছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে মস্কো এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। অন্যদিকে, কিয়েভের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আলেক্সেয়েভ রাশিয়ার সামরিক ইতিহাসে অত্যন্ত প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব। ২০২৩ সালের জুন মাসে ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন যখন বিদ্রোহ করেছিলেন, তখন আলোচনার জন্য পাঠানো শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এভাবেই লক্ষ্যভিত্তিক হামলার শিকার হয়েছেন। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে রুশ জেনারেল ফানিল সারভারভ গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মস্কোর ভেতরে এমন হাই-প্রোফাইল হামলার ঘটনা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলছে, তেমনি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথকেও আরও কঠিন করে তুলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: এই প্রথম নিহ*তের প্রকৃত সংখ্যা জানালেন জেলেনস্কি

কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চার বছর পূর্ণ হওয়ার সন্ধিক্ষণে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফ্রান্স টু টিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে মাতৃভূমি রক্ষায় এ পর্যন্ত ইউক্রেনের ৫৫ হাজার সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন।   তবে সামরিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জেলেনস্কির দেওয়া এই সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দান থেকে নিখোঁজ হওয়া মানুষের সংখ্যাও বিশাল।   উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যাটি ৪৩ হাজার বলে জানানো হয়েছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধিতে যুদ্ধের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এছাড়া দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ অবসানে বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাত বন্ধে দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
ইউক্রেনের ‘হত্যা তালিকায়’ ফিফা প্রেসিডেন্টের নাম
ইউক্রেনের ‘হত্যা তালিকায়’ ফিফা প্রেসিডেন্টের নাম

ফুটবল দুনিয়ায় বইছে চরম অস্থিরতার হাওয়া! ইউক্রেনের বিতর্কিত ‘হত্যা তালিকায়’ (মিরোৎভোরেৎস) নাম উঠলো ফিফা প্রেসিডেন্ট গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। যে ওয়েবসাইটে ইউক্রেনের শত্রু হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের তথ্য রাখা হয়, সেখানেই এবার জায়গা হলো ফুটবলের সর্বোচ্চ অভিভাবকের। কিন্তু কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?   মূল ঘটনাটি সংক্ষেপে জেনে নিন:   অভিযোগের তীর: ইউক্রেনের দাবি, ইনফান্তিনো রাশিয়ার প্রতি নমনীয় এবং পুতিন সরকারের প্রোপাগান্ডা ছড়াতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছেন।   পুরানো বন্ধুত্ব: ২০১৯ সালে পুতিনের কাছ থেকে পাওয়া ‘অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ’ পদকটিও এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।   বিস্ফোরক মন্তব্য: সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ফুটবল থেকে রাশিয়াকে বয়কট করায় কোনো উন্নতি হয়নি, বরং ঘৃণা বেড়েছে। এই মন্তব্যেই ফুঁসে উঠেছে ইউক্রেন প্রশাসন।   কূটনৈতিক উত্তেজনা: ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফিফা প্রেসিডেন্ট তার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন।   এই ঘটনা কি আন্তর্জাতিক ফুটবলের রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নিতে যাচ্ছে? ইউক্রেনের এমন কঠোর অবস্থান নিয়ে আপনার মতামত কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
ইউক্রেনে বাসে রুশ হামলার পর চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১২, আহত ৭

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দিনিপ্রোপেত্রোভস্কে রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলায় একটি বাসে থাকা অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। বাসটিতে খনিতে কর্মরতরা ছিলেন। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শেমহাল রোববার টেলিগ্রামে লিখেছেন, “আজ শত্রুরা দিনিপ্রো অঞ্চলে জ্বালানি খাতের কর্মীদের লক্ষ্য করে নিন্দনীয় হামলা চালিয়েছে। এই সন্ত্রাসী হামলায় ১২ জন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছে।” স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তেরনিভস্কা শহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। জরুরি পরিষেবা অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার পর একটি পোড়া বাস সড়কের পাশে উল্টে পড়ে রয়েছে। জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, হতাহত ব্যক্তিরা তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন। হামলার সময় তারা সবাই কর্মস্থল থেকে বাসে ফিরছিলেন। এর পাশাপাশি, রোববার আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ-পূর্ব শহর জাপোরিঝিয়ায় রাশিয়ার হামলায় একটি মাতৃসদন ও একটি আবাসিক ভবনে কমপক্ষে নয়জন আহত হয়েছেন। এই হামলার খবর আসছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন। চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘ এই যুদ্ধে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়া দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর নতুন করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যা চলতি শীতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0