ইউক্রেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের বিশিষ্ট রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ ও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ছবি সংগৃহীত
ইউক্রেন থেকে ইসরায়েল—মার্কিন কূটনীতির সক্রিয় মুখ লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই

মার্কিন সিনেটর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় ৭১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক অসুস্থতার’ পর তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে এ সময় সবার কাছে দোয়া চেয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে।    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “লিন্ডসে গ্রাহাম আমার পরিচিত সবচেয়ে অসাধারণ মানুষ ও সিনেটরদের একজন ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের মার্কিন দেশপ্রেমিক। তাকে গভীরভাবে মিস করা হবে।” সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও গ্রাহামকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী’ উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও স্বাধীনতাপন্থী দেশগুলোর পক্ষে তিনি সারাজীবন দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।    দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে ২০০২ সালে প্রথমবার সিনেটে নির্বাচিত হন গ্রাহাম। এর আগে তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হন। বিশেষ করে ইরান, রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ বৈদেশিক নীতি ইস্যুতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই তিনি ইউক্রেন সফর করে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।    মার্কিন রাজনীতিতে গ্রাহাম ছিলেন ‘হকিশ’ বা কঠোর পররাষ্ট্রনীতির প্রবল সমর্থক। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য থাকাকালে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। সিনেটে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিচারবিষয়ক কমিটি এবং সর্বশেষ বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের নিয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।    একসময় রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন গ্রাহাম। ম্যাককেইন ও সাবেক সিনেটর জো লিবারম্যানকে নিয়ে গঠিত ‘থ্রি অ্যামিগোস’ জোট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল।    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি গ্রাহামকে ‘ইসরায়েলের মহান বন্ধু’ এবং ‘ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক জোরদারে তিনি আজীবন কাজ করেছেন।   গ্রাহামের মৃত্যুতে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন শূন্য হলো। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার অস্থায়ীভাবে একজন সিনেটর নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী মেয়াদ শুরু হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনে হামলা ছবি সংগৃহীত
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের সুমি শহরে নিহত ৫, আহত ৩০-এর বেশি

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুমি শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা ও স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, হামলাটি শহরের বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এতে আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ব্যক্তিগত যানবাহন এবং অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে দমকল, চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তার আহ্বান জানান।   ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, একই রাতে রাশিয়া দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে শতাধিক ড্রোন এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। একই সময়ে কিয়েভ, খারকিভ, ওডেসা, জাপোরিঝিয়া ও দোনেৎস্ক অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।   অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সুমি হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। মস্কো বরাবরের মতো দাবি করে আসছে, তাদের হামলা ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, রাশিয়ার বহু হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেন এবং আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে সুমি অঞ্চল একাধিকবার ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে। রাশিয়ার সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যুদ্ধের শুরু থেকেই এটি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।   সাম্প্রতিক এই হামলা ইউক্রেনের মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে এবং যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ১০, আহত ৮০

ইউক্রেনে রাতভর রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, এই অবিরাম হামলায় রাশিয়া ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র—যার মধ্যে ছয়টি ব্যালিস্টিক—এবং ১২১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে ধসে পড়া নিজ বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   দ্য কিয়েভ পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্লোভিয়ানস্ক শহরকে লক্ষ্য করে রাশিয়া তিনটি ‘ফ্যাব-২৫০’ গাইডেড এরিয়াল বোমা নিক্ষেপ করে; যার ফলে অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ওই বৃদ্ধ নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হন আরও অন্তত তিনজন।   হামলায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ছবি প্রকাশ করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার সম্ভাব্য 'ডাবল ট্যাপ' বা দ্বৈত হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। দ্য কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনেছে রাশিয়া, যেখানে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরসহ মোট ১১ জন আহত হয়েছেন। তবে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি গাইডেড মিসাইল এবং ১১১টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি নিশ্চিত করেছে।   অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে সহায়তায় গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজেদের মাটিতেই ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল, যার ফলে কিয়েভকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে তারা ব্যর্থ হচ্ছিল।   ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এটি মার্কিন নীতির একটি অভাবনীয় পরিবর্তন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কেবল কিয়েভকে এই ইন্টারসেপ্টরগুলো সরবরাহ করত, কিন্তু ইউক্রেনকে তাদের নিজেদের মাটিতে এগুলো তৈরির অনুমতি দেয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের মজুত কমে আসা সত্ত্বেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বারবার ইউক্রেনের এই লাইসেন্স পাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কেরও সম্প্রতি ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন বা নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওভাল অফিসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সঙ্গে নিয়ে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল, যেখানে ওই তিন নেতার মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচি হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনের প্রধান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের কাছে মার্কিন গোলাবারুদ সহায়তা চাইবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য জরুরি সামরিক সহায়তার আবেদন জানাতে যাচ্ছেন। বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গোলাবারুদের কমে যাওয়া মজুত দ্রুত পুনরায় সরবরাহের অনুরোধ করবেন বলে জানা গেছে।   ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে দেশটির গোলাবারুদের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সময়ে রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও স্থল হামলার মুখে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ প্রয়োজন হচ্ছে।   জেলেনস্কি বৈঠকে বিশেষভাবে এমন গোলাবারুদ সরবরাহের বিষয়টি তুলে ধরবেন, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্মুখসারির সেনাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিয়েভের আশা, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সহায়তা বাড়ালে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং চলমান যুদ্ধ পরিচালনায় সেনাবাহিনী বাড়তি সক্ষমতা পাবে।   ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের নিরাপত্তা, পশ্চিমা সামরিক সহায়তার ধারাবাহিকতা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে। তবে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকের পর নতুন কোনো সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
‘ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিলে পুরো জোটের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে’
‘ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিলে পুরো জোটের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে’—জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেন যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলেছে, তা ন্যাটোর সামষ্টিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।   জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন এখন নিয়মিতভাবে রাশিয়ার শত শত ড্রোন প্রতিহত করছে, একই সঙ্গে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার উচ্চ সক্ষমতা ধরে রেখেছে। যুদ্ধ চললেও দেশটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।   তিনি বলেন, “যদি ইউক্রেন ইতোমধ্যেই এমন সক্ষমতা অর্জন করে থাকে এবং ইউক্রেনীয়রা এভাবে যুদ্ধ করতে জানে, তাহলে এই সক্ষমতাগুলো ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অংশ হওয়াই যৌক্তিক। এতে আমরা সবাই আরও শক্তিশালী হব।”   জেলেনস্কির মতে, ইউক্রেন ও ন্যাটো ইতোমধ্যেই একে অপরের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। তাই একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হওয়া স্বাভাবিক অগ্রগতি হবে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা ইউক্রেনকে ন্যাটোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত করেছে।   ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর পূর্ণ সদস্যপদের চেষ্টা করছে। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে সদস্যপদ নিয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি জোটের সদস্য দেশগুলো। ন্যাটো ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখলেও যুদ্ধ চলাকালে সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।   এদিকে আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার, অস্ত্র উৎপাদনে যৌথ বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সহযোগিতা অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
কিয়েভে আবারও রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত অন্তত ২০
কিয়েভে আবারও রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত অন্তত ২০

এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সর্বশেষ এ হামলায় কিয়েভে অন্তত ১৪ জনসহ মোট কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন। হামলায় শহরের এক ডজনের বেশি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে চালানো এ হামলার বিষয়ে কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো বলেন, রাতভর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী। শহরের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ এখনো চলছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, কিয়েভের আশপাশের জেলাগুলোতেও হামলার প্রভাব পড়ে। সেখানে আরও অন্তত ছয়জন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই রাশিয়া ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আকারের আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর রাত ২টা ১০ মিনিট ও ৩টা ১৫ মিনিটে আরও কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে শুরু করলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজারো মানুষ ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান।   এর আগে রোববার রাতে দেওয়া এক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে রাশিয়া নতুন করে হামলা জোরদার করতে পারে। তার এই আশঙ্কার পরদিনই বড় ধরনের এ আক্রমণ চালানো হলো।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শুরু হওয়া ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠন ঘিরেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করতে এমন হামলা বাড়ানো হতে পারে।   গত সপ্তাহের শেষদিকে কিয়েভে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। চলতি বছরে রাজধানীতে সেটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। ধারাবাহিক এই আক্রমণে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান “মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও কাছাকাছি”। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কতদূর এগিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।   প্রায় আড়াই বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে নতুন করে বড় আকারের হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটো সম্মেলনের প্রাক্কালে এমন পরিস্থিতি ইউক্রেন সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
মিখাইলো ফেদোরোভ ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের অপেক্ষা ২০২৭ নয়, এখনই সহায়তা চায় ইউক্রেন

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বলেছেন, নতুন করে চুক্তিবদ্ধ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র আগামী বছর পর্যন্ত হাতে আসবে না। তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় অংশীদার দেশগুলোর বিদ্যমান মজুত থেকে অবিলম্বে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ প্রয়োজন।   রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে ফেদোরভ জানান, ইউক্রেন ইতোমধ্যে নতুন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর কেনার চুক্তি করেছে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার কারণে সেগুলো আগামী বছর আগে পাওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় তিনি মিত্র দেশগুলোকে আহ্বান জানান, নিজেদের মজুত থেকে সাময়িকভাবে ইন্টারসেপ্টর ইউক্রেনকে দিতে, পরে নতুন উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা হবে।   ফেদোরভ বলেন, “ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই ক্ষেপণাস্ত্র এখনই দরকার।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া যে হারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, একই সময়ে বিশ্বের মোট প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের হার তার চেয়েও কম। ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর এই আহ্বান জানানো হয়। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর না থাকায় সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং এতে বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   ইউক্রেন সরকার আশা করছে, ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্ররা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের বিদ্যমান মজুত থেকে অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা আরও কার্যকর হবে এবং রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত অন্তত ৯
রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত অন্তত ৯, কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও রক্তাক্ত ইউক্রেনের রাজধানী

রাশিয়া আবারও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সোমবার ভোরে চালানো এই হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। হামলায় একাধিক বহুতল আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি সেবা কর্মীদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।     ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা। একটি বহুতল ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ায় বহু মানুষ সেখানে আটকা পড়েন। রাতভর শহরজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে এবং বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান।     এটি চলতি বছরে কিয়েভে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার মাত্র কয়েক দিন পরের আরেকটি বড় আকারের আক্রমণ। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেন বলছে, এসব হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার দাবি—তারা সামরিক ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।   সর্বশেষ হামলার পর কিয়েভের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
কস্তিয়ানতিনিভকা দখল নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি দাবি
কস্তিয়ানতিনিভকা দখল নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি দাবি, পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কস্তিয়ানতিনিভকা শহরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে আসায় বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।   রাশিয়া দাবি করছে, শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, কস্তিয়ানতিনিভকা এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে প্রতিরোধ অব্যাহত আছে।   শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি রাশিয়ার দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি রাশিয়ার প্রচারণা যুদ্ধেরই অংশ। তার ভাষায়, “যদি সত্যিই শহরটি রাশিয়ার দখলে থাকত, তাহলে কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য পুতিনের সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করতে কোনো বাধা থাকত না।”   ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, তাদের সেনারা এখনো শহরের ভেতরে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে। রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেখানে তীব্র লড়াই চলছে বলেও জানানো হয়েছে।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জেলেনস্কির মন্তব্যকে বিদ্রূপ করে বলেন, কস্তিয়ানতিনিভকা ইতোমধ্যেই রাশিয়ার অংশ। তিনি জেলেনস্কিকে মস্কো সফর করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগের আমন্ত্রণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও দাবি করেছে, শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে এসেছে এবং অবশিষ্ট ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ দ্রুত দমন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সোমবার (৬ জুলাই) ছয় ঘণ্টার একটি মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে।   এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইউক্রেনকে রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর ৯টা (জিএমটি) পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।   সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রতিরক্ষা বলয়ে কস্তিয়ানতিনিভকার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে গেলে ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি, উত্তরাঞ্চলের দিকে রুশ বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার পথও আরও সুগম হয়ে উঠবে।   ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দোনেৎস্ক অঞ্চলটি উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে, যা পুরো সংঘাতের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে কস্তিয়ানতিনিভকার প্রকৃত পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
দোনেৎস্কে কৌশলগত শহর দখলের দাবি রাশিয়ার
দোনেৎস্কে কৌশলগত শহর দখলের দাবি রাশিয়ার

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করেছে রুশ সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৩ জুলাই) দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শনের সময় পুতিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নেন। সেখানে কস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই দোনেৎস্ক অঞ্চলে তাদের অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে শহরটি দখলের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে সেটি তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়।   তবে রাশিয়ার এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইউক্রেন। যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য যাচাই করা কঠিন হওয়ায় উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় রুশ বাহিনী পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল ‘মুক্ত’ করার লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্লোভিয়ানস্ক–ক্রামাতোরস্ক–কস্তিয়ানতিনিভকা প্রতিরক্ষা বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এখন রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।   এর আগেও রাশিয়া জানিয়েছিল, শহরটির বিভিন্ন অংশ তাদের দখলে রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় কস্তিয়ানতিনিভকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গনগরী হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে, যা পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা লাইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   এদিকে, পুতিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলা—বিশেষ করে রাশিয়ার তেলশিল্পকে লক্ষ্য করে হামলা—বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি কস্তিয়ানতিনিভকাকে ডনবাস অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবেও উল্লেখ করেন।   উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে মস্কো অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। কস্তিয়ানতিনিভকার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাই যুদ্ধের সামগ্রিক কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখল করলো রাশিয়া, নিরাপত্তা বলয় বাড়ানোর ইঙ্গিত পুতিনের

পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে।   তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ বা স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি যৌথ বাহিনীর কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নেন। সেখানে তিনি কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।   পুতিন বলেন, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর জবাবে সীমান্তবর্তী এলাকায় রাশিয়ার নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকা দোনবাস অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পূর্ব ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও শহরটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এর আগে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী শহরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করলেও এবার পুরো শহর দখলের দাবি করেছে।   রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিগুলো কোস্তিয়ানতিনিভকা থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে বিধ্বস্ত ভবনের পাশে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে এসব ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকার পর প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লিমান শহরের দিকেও তারা অগ্রসর হচ্ছে। তাদের দাবি, পরবর্তী সামরিক অভিযানের জন্য শহরটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও কৌশলগত কেন্দ্র।   একই সফরে পুতিন আরও দাবি করেন, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের পুরো ভূখণ্ড এখন রুশ-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যৌথ বাহিনীর একটি অস্থায়ী কমান্ড পোস্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী জেনারেল স্টাফের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করছে এবং লুহানস্ক অঞ্চলের "সম্পূর্ণ মুক্তি" সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি নিকিফোরভ পুতিনকে জানান, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা পুরোপুরি প্রতিহত করা এখনো সম্ভব হয়নি। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে।   এর জবাবে পুতিন বলেন, "শত্রুপক্ষ আমাদের বেসামরিক স্থাপনায় যত বেশি হামলার চেষ্টা করবে, প্রতিবেশী ভূখণ্ডে আমাদের নিরাপত্তা বলয়ও তত বড় করতে হবে।" নিকিফোরভ আরও জানান, খারকিভ ও সুমি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রগতি আগের তুলনায় ধীর হয়ে গেছে। তাদের ভাষ্য, ইউক্রেনীয় বাহিনী কয়েকটি এলাকায় পাল্টা অভিযান চালিয়ে কিছু অবস্থান পুনরুদ্ধারও করেছে। পুতিন অবশ্য ইউক্রেনের এসব দাবিকে "তথ্যযুদ্ধের অংশ" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।   যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও এখন কার্যত স্থবির। গত মাসে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে পুতিনের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠি পাঠালেও ক্রেমলিন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।   এদিকে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টাও আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভ উভয় পক্ষই জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য সফরের মাধ্যমে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার আশা এখনও রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত আবাসিক ভবন | ছবি: এপি
৫০০ ড্রোন ও ৭০ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর হামলা, নিহত ২১

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। টানা ১১ ঘণ্টাব্যাপী চালানো এই হামলায় অন্তত ২১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়েছেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ বিমান হামলা বলে দাবি করেছে দেশটির স্থানীয় প্রশাসন।   স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতভর কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ৫০০টি ড্রোন এবং ৭০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে রুশ বাহিনী। এই হামলায় অসংখ্য আবাসিক ভবন ও স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বহুতল ভবন ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দিনভর ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ। বিমান হামলার সময় সাইরেন বেজে উঠলে প্রাণভয়ে রাতভর মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।   ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, তারা কেবল সামরিক এবং সামরিক সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হেনেছে। মস্কো জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই কিয়েভে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে ইউক্রেনের দাবি ছিল, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতেই তারা দেশটির কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছিল।   ভয়াবহ এই হামলার পর কিয়েভের ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক এলাকা পরিদর্শন করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরিদর্শনের সময় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জোরালো আহ্বান জানান। পশ্চিমা অস্ত্র সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হওয়ার কারণেই ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, "আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কাছে দ্রুত সামরিক সহায়তার আবেদন জানাচ্ছি। অস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তাঁরা শুধু ঘরবাড়িই হারাচ্ছেন না, হারাচ্ছেন তাঁদের পরিবার, সন্তান এবং নিজের মূল্যবান জীবনও।"   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ' (সিএসআইএস) যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন এক উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত উভয় পক্ষের মোট হতাহতের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ এবং ইউক্রেনের ৬ লাখের বেশি সেনা রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ও ক্ষয়ক্ষতি হয় । ছবি: এএফপি
ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ২

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত দুইজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য ‘বড় ধরনের রুশ হামলার’ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন।   কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানান, শহরটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আক্রমণের মুখে পড়ে। হামলায় একটি হোটেলের ছাদে আগুন ধরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল শেভচেঙ্কো বুলেভার্ডের ওই ভবনের ওপরের অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।   পরে ক্লিচকো জানান, হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। একটি নয়তলা আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে কয়েকজন আটকা পড়েন। আরেকটি বহুতল ভবনের ছাদেও আগুন লাগে।   বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। রুশ হামলার সময় অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনে ছুটে যেতে দেখা যায়। অনানুষ্ঠানিক টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বহু মানুষ ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।   এএফপির সাংবাদিকরা কিয়েভের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে এক ডজনের বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একই সময়ে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী সতর্ক করে জানায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া আরেকটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।   পরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, তিনি দ্রুত ইউক্রেনে ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশবাসীকে বিমান হামলার সতর্কবার্তা মেনে চলতে এবং নিজেদের পরিবার ও শিশুদের নিরাপদ রাখার আহ্বান জানান। জেলেনস্কির দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেন বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তুতির কথা জানালেও রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তার ভাষায়, পুতিন ইউক্রেনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ও সমগ্র ইউরোপের বিরুদ্ধেও আগ্রাসন চালিয়ে যেতে চান।

Unknown জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বেইজিংয়ে বৈঠকে মিলিত হলেন ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং | ছবি: ম্যাক্সিম শেমেটভ/রয়টার্স
শীর্ষ পর্যায়ে অনুমোদন নিয়ে চীনে রাশিয়ার গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ, রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই চীনের মাটিতে রুশ বাহিনীকে অত্যন্ত গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি চুক্তিকে রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে রাশিয়া ও চীনের অন্তত চারজন জেনারেল সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও রয়টার্সের হাতে আসা কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক নথির বরাতে ১ জুলাই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।     রয়টার্সের দেখা রাশিয়ার একটি অত্যন্ত গোপনীয় নথিতে সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ একটি বিশেষ ডিক্রি বা আদেশ জারি করেছিলেন। সেই আদেশ অনুযায়ী, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চীনে পাড়ি জমায়। বেইজিং এই প্রশিক্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।   নথি অনুযায়ী, বেইজিংয়ের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গত নভেম্বরে তিন সপ্তাহব্যাপী একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রুশ সেনাদের মূলত তেজস্ক্রিয়তা, জৈবিক ও রাসায়নিক (রেডিওলজিক্যাল, বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল) যুদ্ধবিদ্যা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রয়টার্সের হাতে আসা কিছু ছবিতে দেখা গেছে, একজন চীনা প্রশিক্ষক রুশ সেনাদের সামনে একটি ডামি পারমাণবিক চুল্লি নিয়ে লেকচার দিচ্ছেন এবং রাসায়নিক রেকি করার কৌশল শেখাচ্ছেন।     গত মাসে প্রকাশিত অপর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই প্রক্রিয়ায় চীনের নানজিং ও বেংবু শহরের বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাশিয়ার প্রায় ২০০ সামরিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন। এই পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের তদারকিতে রাশিয়ার স্থলবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ কর্নেল জেনারেল রুস্তম মুরাদভ এবং চীনের মেজর জেনারেল লি জিনসুনসহ উচ্চপদস্থ জেনারেলরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তবে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ এই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।   এই ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস গত ১৫ জুন নিশ্চিত করেছেন যে ব্রাসেলস তাদের নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে এই গোপন প্রশিক্ষণের সত্যতা পেয়েছে। বর্তমানে এর আন্তর্জাতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বেইজিং নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ এবং শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করলেও, ইউরোপীয় শক্তিগুলো এখন চীনকে রাশিয়ার যুদ্ধের অন্যতম বড় সহায়তাকারী হিসেবে দেখছে। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশের বিরুদ্ধে ইইউ নতুন কোনো অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেবে কি না, তা নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নৃত্য পরিবেশনের ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে থেমে গেল মাশার নাচের স্বপ্ন, তবু কিয়েভের বিদায় উৎসবে ভবিষ্যতের আশায় হাসল ইউক্রেনের তরুণ প্রজন্ম

মাত্র ১৫ বছর বয়সী মাশা পলস্কার কাছে স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল বহুদিনের প্রতীক্ষিত একটি দিন। সহপাঠীদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ওয়াল্টজ নৃত্যে অংশ নিয়ে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি। যুদ্ধের বাস্তবতা তার কৈশোরের আনন্দ, স্বাভাবিক স্কুলজীবন এবং নাচের মঞ্চ—সবকিছুর ওপর গভীর ছাপ ফেলেছে।   তবুও কিয়েভের বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল হয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই সীমিত পরিসরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল যুদ্ধের অন্ধকার বাস্তবতার মাঝেও কিছুটা স্বস্তি ও আশার উপলক্ষ। উৎসবের পোশাকে সেজে সহপাঠীরা একে অপরের সঙ্গে ছবি তুলেছে, স্মৃতি ভাগাভাগি করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছে। অনেকের মুখে ছিল হাসি, তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘ যুদ্ধের ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তা। মাশা জানান, নাচ তার সবচেয়ে প্রিয় শিল্প। বিদায় অনুষ্ঠানের ওয়াল্টজ পরিবেশনার জন্য তিনি দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হয়। বিমান হামলার সতর্কসংকেত, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ এবং প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের লাখো শিক্ষার্থীর জীবন বদলে যায়। বহু স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী নিজ শহর ছেড়ে অন্যত্র বা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কোথাও অনলাইন, কোথাও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ক্লাস চালিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হয়েছে। ফলে একটি পুরো প্রজন্ম তাদের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময় যুদ্ধের মধ্যেই পার করছে। এই বাস্তবতার মধ্যেও কিয়েভের বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজন ছিল না; এটি ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে এবং তারা আবার নির্ভয়ে পড়াশোনা, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।   আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো শিশু-কিশোর দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবুও বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মাশা পলস্কার গল্প কেবল একজন কিশোরীর অপূর্ণ নাচের স্বপ্নের গল্প নয়; এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি প্রজন্মের হারিয়ে যাওয়া শৈশব, ভেঙে যাওয়া পরিকল্পনা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও ভবিষ্যতের প্রতি অটুট বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। বিদায় অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্তগুলো তাই আনন্দের পাশাপাশি যুদ্ধের মানবিক মূল্যও স্মরণ করিয়ে দেয়।

সিদ্দিকুর রহমান জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও উত্তপ্ত
রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও উত্তপ্ত

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে।   রোববার (২৮ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ ইউক্রেনের মিকোলাইভ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এ হামলায় ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দুটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিমান রানওয়ের পাশে অবস্থান করছিল, আর অন্যটি বাঙ্কারের ভেতরে জ্বালানি নেওয়ার সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে মস্কো দাবি করেছে, তাদের আঘাত ‘সম্পূর্ণ সফল’ হয়েছে।   অন্যদিকে একই দিনে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া এলাকায় রুশ হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যুদ্ধের এই অংশে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।   এরই মধ্যে ইউক্রেন পাল্টা হামলার দাবিও জোরালো করেছে। কিয়েভ জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে অবস্থিত টাইটান বারিকাদি শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ওই কারখানায় কামান ব্যবস্থা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। ফলে এটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে।   এছাড়া ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। কিয়েভের মতে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে কৌশলগতভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে।   ইউক্রেনের এই দীর্ঘপাল্লার হামলা বাড়তে থাকায় রাশিয়াও নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির কংগ্রেসে বলেন, দেশের নিরাপত্তা, নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও জানান, রুশ ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশ প্রস্তুত রয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পক্ষই এখনো পিছু হটার অবস্থায় নেই। বরং উভয় পক্ষই নিজেদের কৌশলগত সুবিধা বাড়াতে দূরপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে।   সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ইউক্রেন ফ্রন্টে রুশ সেনাদের গড় আয়ু মাত্র ২০ মিনিট, দাবি প্রতিবেদনের

ইউক্রেনের রণাঙ্গনে রুশ সেনাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সেনার যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকার গড় আয়ু এখন মাত্র ২০ থেকে ৩৫ মিনিট। সম্প্রতি ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হিস্ট্রির অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ পিটার ফ্রাঙ্কোপ্যান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন। রুশ সামরিক ব্লগারদের উদ্ধৃত করে তিনি জানান, সেনাবাহিনীতে নাম লেখানোর পর প্রশিক্ষণ শিবির থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত একজন সেনার আয়ুষ্কাল দাঁড়াচ্ছে মাত্র ১০ দিন থেকে তিন সপ্তাহ। ড্রোন হামলায় রুশ বাহিনীর এমন দ্রুত পতনের চিত্রই এখন যুদ্ধক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতা।     ইউক্রেন সংঘাত সাড়ে চার বছরের কাছাকাছি পৌঁছানোর সাথে সাথে পুতিন প্রশাসন নতুন সেনা নিয়োগে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে রুশ কর্মকর্তারা এক বছর মেয়াদি চুক্তিতে ৪ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি নতুন সেনা নিয়োগের দাবি করলেও, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো স্বীকার করেছে যে এ বছর সেই সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।   সামরিক ব্লগারদের মতে, রাশিয়া এখনো প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ১,০০০ স্বেচ্ছাসেবক সেনা নিয়োগ করছে, যাদের মাত্র কয়েকদিনের নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়েই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। পশ্চিমা বিভিন্ন সূত্রের মতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজারেরও বেশি রুশ সেনা হতাহত হচ্ছেন। ফ্রাঙ্কোপ্যানের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের একজন সেনার বিপরীতে রাশিয়ার আটজন সেনা হতাহত হচ্ছেন।   চরম সেনা সংকটের কারণে স্বেচ্ছাসেবকদের আকৃষ্ট করতে রাশিয়া এখন ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত সাইন-আপ বোনাস এবং ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঋণ মওকুফের লোভনীয় প্রস্তাব দিচ্ছে। অথচ রাশিয়ার গড় মাসিক বেতন মাত্র এক হাজার ডলারের কাছাকাছি। এত বিপুল আর্থিক সুবিধার পরও রুশ সেনাদের এই ভয়াবহ মৃত্যুহারের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ইউক্রেনের সামরিক ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারকে দায়ী করা হচ্ছে। ড্রোন এখন ইউক্রেনের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।   এছাড়া ইউক্রেন ক্রমশ রাশিয়ার অভ্যন্তরেও হামলা জোরদার করছে। গত জুনে মস্কোর বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলার পর তা আগামী বছর পর্যন্ত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। রয়টার্সের ধারণা, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ার তেল পরিশোধন ক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল কমে গেছে, যার ফলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ার অর্ধেকের বেশি অঞ্চলে এখন জ্বালানি রেশনিং করতে হচ্ছে।   সামরিক খাতে রাশিয়া বর্তমানে তাদের রাষ্ট্রীয় বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় করছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে আলেকজান্ডার লুনিন নামের এক ইউক্রেন যুদ্ধফেরত রুশ ব্লগার অভিযোগ করেছেন যে, রুশ কমান্ডাররা নিয়মিত তাদের নিজস্ব সেনাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বা সম্প্রচারিত বৈঠকের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যথায় সেনাবাহিনী ক্রেমলিনের দিকেই তাদের অস্ত্র তাক করবে।   তবে ইতিহাসবিদ পিটার ফ্রাঙ্কোপ্যান মনে করেন, রাশিয়ায় এখনই কোনো বিপ্লবের বা সেনা বিদ্রোহের সম্ভাবনা নেই। বরং কোণঠাসা হয়ে পড়া পুতিন পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করার চেষ্টা করতে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, "একজন ডুবন্ত মানুষকে নিয়ে সাবধান। পুতিন টিকে থাকার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাবেন, তাই আগামী মাসগুলো রাশিয়ার ভেতরে ও বাইরে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।"

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মারিয়া জাখারোভা | ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
ইউক্রেনকে ইউরেনিয়াম দিচ্ছে যুক্তরাজ্য, রাজনৈতিক চাল দেখছে রাশিয়া

ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহে যুক্তরাজ্যের নতুন পরিকল্পনাকে সন্দেহজনক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ নেই। কিয়েভ সরকারকে অন্ধ সমর্থন দেওয়ার জন্য এই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মস্কো মনে করে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে মারিয়া জাখারোভা এই মন্তব্য করেন।   রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এই পরিকল্পনাটি সম্ভবত ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত. বর্তমানে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ইউরেনকো এ ধরনের পণ্যের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে। তবে ইউক্রেনের নিজস্বভাবে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের কোনো শিল্প সক্ষমতা রয়েছে বলে রাশিয়ার জানা নেই। তাই সরবরাহ করা ইউরেনিয়াম সরাসরি ইউক্রেনে নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানায় পাঠানো হবে।   রাশিয়ার ধারণা, এই ইউরেনিয়াম সম্ভবত ওয়েস্টিংহাউস নামের একটি কারখানায় পাঠানো হবে। জাখারোভা বলেন, লন্ডনের বক্তব্য অনুযায়ী এই চুক্তির সঙ্গে ডার্টি বোমা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো বিপজ্জনক অস্ত্র তৈরির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি অনুযায়ী তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা কঠোরভাবে পালন করবে। একই সাথে সরবরাহ করা উপাদান নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করবে।   বিবৃতিতে বলা হয়, এসব শর্ত পূরণ হলে এই সরবরাহ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক উপাদানকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর পূর্ণ তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। তবে জাখারোভার মূল দাবি, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করা নয়। বরং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারকে সব পরিস্থিতিতে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা।   তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থান এমন সময় এসেছে, যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এর কর্মীদের আবাসস্থল এনারহোদার শহরে সরাসরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রাশিয়ার কাছে তথ্য রয়েছে। এই চরম উসকানিমূলক বিষয়ে লন্ডনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি। এই নীরবতাই পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের আসল অবস্থানকে বিশ্বের কাছে স্পষ্ট করে দেয়। তাই ইউক্রেনকে দেওয়া ব্রিটিশ সহায়তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাশিয়ার কোনো বিভ্রম নেই।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর তেল শোধনাগার অচল l ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর তেল শোধনাগার অচল, উৎপাদন বন্ধ অন্তত ছয় মাস

রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পর মস্কোর ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত একটি বড় তেল শোধনাগারের উৎপাদন অন্তত ছয় মাসের জন্য বন্ধ থাকতে পারে। শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে গত বুধবার এই তথ্য জানানো হয়। গ্যাজপ্রম নেফট-পরিচালিত এই স্থাপনাটিতে গত ১৬ জুন প্রথম হামলা চালানো হয়। এতে শোধনাগারটির ৫৩ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডিস্টিলেশন (পাতন) ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। এরপর ১৮ জুন দ্বিতীয় হামলায় অপেক্ষাকৃত আধুনিক 'ইউরো+' ইউনিটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বাকি ৪৭ শতাংশ উৎপাদনের জন্য দায়ী ছিল।   সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের একজন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মস্কোর এই শোধনাগারটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে। রয়টার্সের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালে এই শোধনাগারটিতে ১১.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল পরিশোধন করা হয়েছিল, যা থেকে ২.৯ মিলিয়ন টন পেট্রোল এবং ৩.২ মিলিয়ন টন ডিজেল উৎপাদিত হয়। তবে গ্যাজপ্রম নেফট-পরিচালিত এই স্থাপনার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রুশ কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।   চলতি বসন্তকাল থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন তাদের হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার পেট্রোল উৎপাদনের একটি বড় অংশের যোগানদাতা স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন হয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, নতুবা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে রাশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে বাধ্য হয়ে জ্বালানি রেশনিং বা সীমিতকরণ ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে।   এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার অর্থনীতিতে। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ জুনের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৬৯.১১ রুবেলে (প্রতি গ্যালন ৩.৫৬ মার্কিন ডলার) গিয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারের বর্তমান অবস্থা 'চ্যালেঞ্জিং হলেও তা এখনো কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে'। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, পেট্রোল এবং জেট ফুয়েল রপ্তানির ওপর বর্তমানে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার পাশাপাশি এখন ডিজেল রপ্তানির ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
সংলাপে বসতে প্রস্তুত রাশিয়া
ইউক্রেন ইস্যুতে ফের আলোচনার ইঙ্গিত, সংলাপে বসতে প্রস্তুত রাশিয়া

ইউক্রেনের সঙ্গে পুনরায় শান্তি সংলাপে বসতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানিয়েছেন, কিয়েভের সদিচ্ছা ও বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এই আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় মস্কো। অতীতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাগুলোকে সম্ভাব্য আলোচনার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।   মঙ্গলবার (২৪ জুন) ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন দাবি করেন, পূর্বের শান্তি প্রক্রিয়া ইউক্রেনের একতরফা সিদ্ধান্তে হঠাৎ থেমে যায়। তিনি বলেন, “রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত—ইস্তাম্বুলে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে। সেই সঙ্গে অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত কাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে বর্তমান মাটির বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই আমরা এগোতে চাই।”   পুতিনের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত হামলা চালাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য হতে পারে সম্ভাব্য আলোচনার আগে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করা।   উল্লেখ্য, গত বছর ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মধ্যে তিন দফা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়—১৬ মে, ২ জুন এবং ২৩ জুলাই। এসব বৈঠকের ফল হিসেবে বড় পরিসরে যুদ্ধবন্দী বিনিময় এবং একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খসড়াও তৈরি হয়েছিল।   পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন, যেখানে একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়। প্রাথমিকভাবে ২৮ দফার ওই পরিকল্পনা পরে সংশোধন করে ২০ দফায় আনা হয়। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইউক্রেন তাদের ভূখণ্ড সংক্রান্ত কোনো ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় অগ্রগতি থমকে যায়।   চলতি বছরের শুরুতেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে তিন দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জানুয়ারির শেষ ও ফেব্রুয়ারির শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দুটি বৈঠক এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আরেকটি বৈঠক হয়। এসব আলোচনা কিছুটা অগ্রগতি আনলেও পরে তা স্থবির হয়ে পড়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অগ্রাধিকার বদলে যায়, যার প্রভাব পড়ে ইউক্রেন ইস্যুর শান্তি প্রক্রিয়ায়ও।   এর আগে ২০২২ সালের বসন্তেও ইস্তাম্বুলে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছিল। তবে নানা কারণে সেটিও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।   আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও সংলাপ শুরু হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে কিয়েভের অবস্থান ও যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তিত বাস্তবতার ওপর। তবে রাশিয়ার এই ঘোষণাকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগের একটি নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

নীলুফা নিশাত জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে আর নিরপেক্ষ মানতে নারাজ রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন উত্তেজনা

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে আর 'নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী' হিসেবে দেখছে না রাশিয়া। মঙ্গলবার মস্কোর পক্ষ থেকে এই দাবি জানানোর পাশাপাশি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর ইউরোপীয় পরিকল্পনারও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিজের মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে আছে।   মস্কোতে বিদেশি দূতদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে স্পষ্টতই মনে হচ্ছে, তারা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে। এর বদলে তারা রাশিয়ার ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর উসকানিমূলক পথ বেছে নিয়েছে।" উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতারা জ্বালানিখাতসহ নানা ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের মাধ্যমে রাশিয়ার ‘যুদ্ধ অর্থনীতি’র ওপর চাপ বাড়াতে একমত হন।   ২০২৫ সালে পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে তিনি উভয় পক্ষকেই আলোচনায় বসতে চাপ দিলেও, মার্কিন মধ্যস্থতার এই কূটনীতিতে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। মূলত মস্কোর দাবি অনুযায়ী ইউক্রেনকে নিজ ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, সেনাবাহিনীর আকার সীমিত করা এবং পশ্চিমাদের সহায়তা প্রত্যাখ্যান করার মতো কঠিন শর্তগুলো কিয়েভ মেনে না নেওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে এ পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।   এদিকে, যুদ্ধ থামাতে কিয়েভকে রাশিয়ার শর্ত মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের চাপের মুখে ইউরোপের অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার এক পৃথক অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেন, ইউরোপ ট্রাম্পের প্ররোচনায় বিপুল অস্ত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যুদ্ধের জন্য ‘প্রকাশ্যে’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। সদ্য উত্তীর্ণ সামরিক ও আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে ক্রেমলিন প্রধান বলেন, "পশ্চিমারা এখন প্রকাশ্যে বলছে যে তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এবং তাদের আক্রমণাত্মক সামরিক বাজেট ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে।"   পুতিন তার বক্তব্যে ইউক্রেনকে পূর্ব দনবাস অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, রুশ সেনারা বর্তমানে ওই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের প্রায় দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর এই প্রথম মুখ খুলে পুতিন বলেন, রাশিয়ার অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের এই ক্রমবর্ধমান হামলা পশ্চিমা সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য সাধারণ রুশ নাগরিকদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সমাজব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০