- প্রচ্ছদ
- Topic
ইউক্রেন
রাশিয়ার ই-কমার্স জায়ান্ট 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর গুদামসহ একাধিক বাণিজ্যিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাতভর চালানো এই হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজ ছাড়াও রুশ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'লেন্তা'-এর একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে কিয়েভ। মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ নিশ্চিত করেছেন যে, মস্কো অঞ্চলের চেখভ শহরে একটি গুদামে ড্রোনের আঘাতে ওই পাঁচজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লেনিনগ্রাদ এবং মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত তেভের অঞ্চলেও ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুদামে ড্রোনের আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি। অপরদিকে লেনিনগ্রাদে লেন্টা-এর একটি লজিস্টিক সেন্টারে হামলায় একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া ও ক্রিমিয়া অঞ্চল মিলিয়ে মোট ৩২০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউক্রেন ওয়াইল্ডবেরিজের প্রায় দুই ডজন লজিস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের অভিযোগ, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি রুশ সামরিক বাহিনীকে ড্রোনের যন্ত্রাংশসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে। ফোর্বস রাশিয়ার তথ্যমতে, টানা এই হামলার কারণে প্রতিষ্ঠানটির গুদাম সক্ষমতার একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং থার্ড-পার্টি বিক্রেতারা শত শত বিলিয়ন রুবলের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ক্রমাগত হামলার মুখে পড়ে ওয়াইল্ডবেরিজ এখন কাজাখস্তানে ২ লাখ ৬০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের বিশাল গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সম্পন্ন হতে পারে। এদিকে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে যখন ইউক্রেনের এই জোরালো আক্রমণ চলছে, তখন ইউক্রেনেও রুশ আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে রাশিয়ার গাইডেড বোমা হামলায় দুই শিশু ও এক বৃদ্ধা মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।
কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। আঙ্কারা বলেছে, বেসামরিক জাহাজ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে উভয় দেশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় একটি তুর্কি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে তিনজন নাবিক গুরুতর আহত হন। আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি তুরস্ক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়েছে। আঙ্কারা আরও বলেছে, কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই এমন ঘটনা এড়াতে এবং নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এটি প্রথমবার নয়। চলতি বছর কৃষ্ণসাগরে তুর্কি মালিকানাধীন একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার পর তুরস্ক বারবার মস্কো ও কিয়েভের কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে বেসামরিক জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণসাগর আন্তর্জাতিক শিপিং ও শস্য রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো জাহাজ চলাচল, বীমা ব্যয় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
৪ আগস্ট ২০২৬, কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান। তবে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয় বলে দাবি করেছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মহসেন রেজাই। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই বলেন, ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং উত্তেজনা কমানোর বার্তা পাওয়ার পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হন। ইরান ওই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে এবং ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দেয়। এ ঘটনার জেরে তেহরান ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানায়। অন্যদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে ব্যাখ্যা দেন এবং পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সে আহ্বান জানান। ইরানও আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি উত্থাপন করে। তবে ইরানের দাবি করা হামলার পরিকল্পনা এবং তা বাতিলের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি। ফলে বিষয়টি এখনো মূলত ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই জানা যাচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানালেও ইউক্রেনের বিশ্লেষকদের দাবি, ক্রেমলিন এখনো যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয়। ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Kyiv Post-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের পরিবর্তে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত মিলছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুতিন ইউক্রেনকে স্বাধীন জাতিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে আগের অবস্থানেই রয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য ও ক্ষমতার কাঠামো ধরে রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবেও উপস্থাপন করছেন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, সের্গেই লাভরভ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা বন্ধ, রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলোর দাবিকে স্বীকৃতি এবং মস্কোর নিরাপত্তা শর্ত মেনে নেওয়ার ওপর জোর দেন। এসব অবস্থানকে শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে Kyiv Post। তবে রাশিয়া বরাবরের মতোই বলছে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু তা হতে হবে তাদের নিরাপত্তা স্বার্থ ও ঘোষিত শর্তের ভিত্তিতে। মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তাকেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করে আসছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে এবং সেগুলোর ব্যবধান কমানো না গেলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না। রুবিও বলেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহে আমরা দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে এনে এই যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। তবে আমরা এটাও বুঝি যে উভয় পক্ষেরই কিছু দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। সেই অবস্থানগুলোর ব্যবধান কিছুটা কমানো না গেলে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব হবে না।” তার এ মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহে নিজেদের সামরিক শক্তি জোরদারে বিকল্প পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্য। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি বা পড়াশোনায় অভ্যস্ত, সেখানে একদল শিক্ষার্থী ভোরে উঠেই অংশ নিচ্ছেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর খণ্ডকালীন প্রশিক্ষণে। ইউনিভার্সিটি অফিসার ট্রেনিং কর্পস (ইউওটিসি) নামের এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৪০০ তরুণ-তরুণী সামরিক প্রশিক্ষণে যুক্ত হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান এই কর্মসূচিতে স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বছরে ৩৮ দিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিনিময়ে তারা বার্ষিক ১ হাজার ৬০০ পাউণ্ড সম্মানী, নতুন দক্ষতা এবং ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পান। মূলত যুদ্ধ শুরু হলে দেশে যেন যোগ্য সেনা কর্মকর্তাদের একটি প্রস্তুত দল থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনছে এই কর্মসূচি। ২১ বছর বয়সী ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী এসমে বেকলি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন, কিন্তু এই প্রশিক্ষণ তাকে ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। অফিসার ক্যাডেটরা সপ্তাহে একদিন বিকেল এবং বছরে পাঁচটি সাপ্তাহিক ছুটি ও দুই সপ্তাহের বিশেষ অনুশীলনে অংশ নেন, যেখানে তাদের রাইফেল চালানো থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং টিকে থাকার কৌশল শেখানো হয়। এই কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ৩০ শতাংশ, যা মূল সামরিক বাহিনীর (১২ শতাংশ) চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ ও সংখ্যালঘু জাতিসত্তার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হারও মূল বাহিনীর সমান। ১৯ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষার্থী ডিলান ক্রোমার্টি এবং ২৪ বছর বয়সী কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ডিলান বেঙ্গির মতো তরুণরা এই প্রশিক্ষণ থেকে কেবল সামরিক জ্ঞানই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দারুণ দক্ষতা অর্জন করছেন। কর্মসূচিটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্যাডেট নিয়মিত বা সংরক্ষিত বাহিনীতে যোগ দিলেও, এর পেছনে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাছাড়া দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাডেটরা নিজেরা সংরক্ষিত বা নিয়মিত বাহিনীতে যোগ না দিলে তাদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানো যায় না, ফলে জাতীয় নিরাপত্তায় এর সরাসরি অবদান পরিমাপ করা কঠিন। তবে সাবেক মন্ত্রী স্যার জুলিয়ান ব্রেজিয়ারের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সক্ষমতা ধরে রাখতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মন্টি ওয়াকার বা অলিভিয়া হাচিনসনের মতো অনেকেই সামরিক পরিবারের সন্তান হয়েও শুরুতে অনাগ্রহী ছিলেন, কিন্তু এখন তারা কর্পোরেট জীবনের পাশাপাশি সামরিক রণকৌশল ও 'সফট স্কিল' শেখার এই দুর্দান্ত সুযোগটি দারুণভাবে উপভোগ করছেন।
কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, এই হামলা "জবাবহীন থাকবে না" এবং ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। ইরানের দাবি, শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে দেশটির একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। তেহরান এ ঘটনাকে "শত্রুতাপূর্ণ ও আগ্রাসী হামলা" হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর ওপর দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে আব্বাস আরাগচি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টেলিফোন আলাপে ল্যাভরভ নিহত নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি জাহাজের ক্রুদের সহায়তায় এগিয়ে আসায় রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। আরাগচিও ওই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কেও ল্যাভরভকে অবহিত করেন আরাগচি। তিনি আঞ্চলিক সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। এর জবাবে ইউক্রেন ইরান-সম্পৃক্ত সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের বিভিন্ন রুটকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ঘটনার পর তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। এ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের হাতে এক ইউক্রেনীয় নারী আটকের ঘটনায় উদারপন্থী শহরটিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাসকারী ওই নারীর আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৮ বছর বয়সী ইরিনা গোর্ব পেশায় একজন কফি তৈরির কারিগর এবং পেশাদার আলোকচিত্রী। গত বুধবার পোর্টল্যান্ড থেকে সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে ফিরে আসার পর ফেডারেল এজেন্টরা তাকে আটক করেন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ইরিনা ২০১০ সালের জুলাই মাসে আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০১১ সালের মে মাস পর্যন্ত তার ভিসার মেয়াদ ছিল। কিন্তু এরপরও তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের একটি দোকানের সামনে কয়েকজন সাদা পোশাকের এজেন্ট ইরিনাকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন। এ সময় তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় যে তাকে শ্বাসরোধ করা হচ্ছে এবং তিনি ইউক্রেন থেকে এসেছেন। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা এজেন্টদের পরিচয়পত্র দেখতে চান এবং আটকের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে এজেন্টরা তাকে একটি হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যান। আইসিই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরিনা পালানোর চেষ্টা করায় এবং গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তাকে হেফাজতে রেখে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের মুখপাত্র বলেছেন, অনিয়মিত প্রবাসীদের জন্য নিজ দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় সান ফ্রান্সিসকোর প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের প্রার্থী ও স্টেট সিনেটর স্কট উইনার এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইরিনা সান ফ্রান্সিসকোতে নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলেছিলেন এবং তিনি কোনো অপরাধ করেননি। অথচ তাকে জোরপূর্বক ধরে এমন একটি দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে, যা বর্তমানে যুদ্ধের মুখোমুখি। এছাড়া রিচমন্ড সিটি কাউন্সিলের সদস্য ডোরিয়া রবিনসন এই আটককে একটি 'অপহরণ' বলে অভিহিত করেছেন।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ ফ্রন্টলাইনগুলোর একটিতে টানা ৩২৬ দিন মাটির নিচের একটি ছোট ফক্সহোলে কাটিয়েছেন ইউক্রেনের সেনাসদস্য সেরহি ক্রিনিতস্কি। চারদিকে রুশ ড্রোনের সার্বক্ষণিক নজরদারি, গোলাবর্ষণ আর মৃত্যুর আশঙ্কার মধ্যে দিনের আলোয় বাঙ্কার থেকে বের হওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। প্রায় এক বছর ধরে এমন জীবন কাটিয়ে অবশেষে ফিরে এসে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘হিরো অব ইউক্রেন’ পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ৩৫ বছর বয়সী ক্রিনিতস্কি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেৎস্ক অঞ্চলের চাসিভ ইয়ারের কাছে একটি অগ্রবর্তী অবস্থানে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ের বেশির ভাগ সময়ই তিনি মাটির নিচে খোঁড়া একটি সংকীর্ণ ফক্সহোলে কাটিয়েছেন, কারণ রুশ বাহিনীর ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া কার্যত আত্মহত্যার শামিল ছিল। ক্রিনিতস্কি জানান, যুদ্ধের শুরুতে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে আকাশজুড়ে ড্রোনের আধিপত্য তৈরি হওয়ায় যুদ্ধের ধরন পুরোপুরি বদলে যায়। আগে সেনারা দিনের বেলায়ও অবস্থান পরিবর্তন করতে পারলেও এখন সামান্য নড়াচড়াও শত্রুপক্ষের নজরে পড়ে যায়। ফলে খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো থেকে শুরু করে সেনাদের চলাচল সবকিছুই রাতের অন্ধকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, দিনের পর দিন সূর্যের আলো দেখা হতো না। সংকীর্ণ গর্তের ভেতরেই ঘুম, খাওয়া এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি চলত। রাত নামলে সীমিত সময়ের জন্য বাইরে বের হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হতো। যুদ্ধ চলাকালে তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহযোদ্ধা রুশ ড্রোন থেকে নিক্ষিপ্ত বিস্ফোরকে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। এরপর দীর্ঘ সময় একাই সেই অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করেন ক্রিনিতস্কি। রয়টার্স জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রের কিছু মুহূর্ত তিনি নিজের মোবাইল ফোনেও ধারণ করেছিলেন, যা যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করে। খাবার ও সরঞ্জামের তীব্র সংকটের কথাও তুলে ধরেছেন এই ইউক্রেনীয় সেনা। তিনি বলেন, অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে থাকা রসদ সংগ্রহ করেই টিকে থাকতে হয়েছে। প্রতিটি দিন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা, আর প্রতিটি রাত ছিল পরবর্তী দিনের জন্য বেঁচে থাকার সংগ্রাম। যুদ্ধের আগে ক্রিনিতস্কির জীবন ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি খরগোশ পালন করতেন এবং সাধারণ কৃষিজীবন কাটাতেন। পরে দেশ রক্ষার আহ্বানে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে চলে যান পূর্ব ইউক্রেনের অন্যতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্রে। রয়টার্সকে তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধ চলাকালে অন্তত ২৩ জন রুশ সেনাকে হত্যা করেছেন। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, ড্রোননির্ভর আধুনিক যুদ্ধের কারণে ফ্রন্টলাইনের বাস্তবতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। ছোট ছোট ফক্সহোল ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়স্থল এখন অনেক সেনার প্রধান নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক বছরের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার পর ক্রিনিতস্কিকে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ইউক্রেনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সামরিক সম্মান ‘হিরো অব ইউক্রেন’ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন, যাতে নতুন প্রজন্ম যুদ্ধের মানবিক মূল্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আবারও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ (Wildberries)–এর লজিস্টিক অবকাঠামো। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী তাতিয়ানা কিম জানিয়েছেন, ক্রাসনোদার ও নেভিনোমিস্ক শহরে অবস্থিত দুটি বড় গুদামে হামলা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগেও জুলাই মাসে ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলো একাধিকবার হামলার শিকার হয়। ১৮ জুলাই তামবভ অঞ্চলের কোতোভস্ক ও মস্কোর পূর্বে ইলেকট্রোস্টাল–এ অবস্থিত দুটি লজিস্টিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় কয়েকজন কর্মী নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। একই সময়ে একটি তেল ডিপোতেও আগুন লাগে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল এমন লজিস্টিক কেন্দ্র, যেখান থেকে রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন ও নেভিগেশন সরঞ্জামের জন্য বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ করা হতো। তবে ক্রেমলিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ওয়াইল্ডবেরিজ একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ওয়াইল্ডবেরিজ বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১০ লাখেরও বেশি বিক্রেতা যুক্ত এবং প্রতিদিন কোটি কোটি অর্ডার প্রক্রিয়াজাত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার ই-কমার্স খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় এর লজিস্টিক নেটওয়ার্ক দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ফলে শুধু গুদাম নয়, হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর পণ্য সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, প্রতিষ্ঠানটি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের তৃতীয় বছরে দুই পক্ষই এখন একে অপরের জ্বালানি, পরিবহন ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে যুদ্ধের প্রভাব সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবকাঠামোতেও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ওদেসা বন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পরপরই একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চার ভারতীয় নাবিকসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক ভারতীয় নাগরিক। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউক্রেনের নৌবাহিনী সোমবার (২০ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ইউক্রেনের ওদেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় এমভি গোল্ডেন লিও নামের গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজটি হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক। হামলায় চার ভারতীয় নিহত হন এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে। ইউক্রেনের নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ভুট্টাবোঝাই জাহাজটিতে রাশিয়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই জাহাজে আগুন ধরে যায়। নিহতদের মধ্যে চার ভারতীয় ছাড়াও সিরীয় নাবিক এবং একজন ইউক্রেনীয় সামুদ্রিক পাইলট রয়েছেন। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো, নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক এবং আহত ভারতীয় নাগরিকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে নয়াদিল্লি। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওদেসা বন্দর ও আশপাশের অবকাঠামো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বিশ্ব খাদ্যবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুধু মানবিক ক্ষয়ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলমান থাকায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশটির জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা সেরহি কোরেৎসকি। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘোষিত মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে তিনি ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কোর স্থলাভিষিক্ত হলেন। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের পার্লামেন্ট তাঁর এই নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কোরেৎসকি জানান, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা। একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারণ করাও তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রুশ হামলায় প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সম্মুখসারির জনপদগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের যে কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে, তা অপরিবর্তিত থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। সেরহি কোরেৎসকি এর আগে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান ছিলেন। গত শীতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল। আর সেই কঠিন সময়েই নাফতোগাজের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কোরেৎসকি। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ইউক্রেনের বেসরকারি জ্বালানি খাতে কাজ করেছেন। তিনি ডব্লিউওজি পেট্রোল স্টেশন নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ‘আইডিয়ালিস্ট কফি কোম্পানি’ নামে একটি কফি চেইন প্রতিষ্ঠা করেছেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ইউক্রনাফতা ও ইউক্রতাতনাফতার প্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নাফতোগাজের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে নোঙর করা টোগোর পতাকাবাহী একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার হামলায় অন্তত তিনজন নাবিক নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অবকাঠামোবিষয়ক মন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি ওডেসা অঞ্চলের একটি বন্দরে অবস্থান করছিল এবং এতে খনিজ সার বহন করা হচ্ছিল। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপারও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ও আহত নাবিকদের জাতীয়তা এবং হামলায় জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কৃষ্ণসাগর উপকূলে অবস্থিত ওডেসা ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্দর, জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামো একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও সার রপ্তানির জন্য এই বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুদ্ধ চলাকালে বেসামরিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক শিপিং নিরাপত্তা এবং কৃষ্ণসাগর হয়ে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের ওপর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাশিয়া এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির কারণে উভয় পক্ষের দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন সিনেটর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় ৭১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক অসুস্থতার’ পর তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে এ সময় সবার কাছে দোয়া চেয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “লিন্ডসে গ্রাহাম আমার পরিচিত সবচেয়ে অসাধারণ মানুষ ও সিনেটরদের একজন ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের মার্কিন দেশপ্রেমিক। তাকে গভীরভাবে মিস করা হবে।” সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও গ্রাহামকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী’ উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও স্বাধীনতাপন্থী দেশগুলোর পক্ষে তিনি সারাজীবন দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে ২০০২ সালে প্রথমবার সিনেটে নির্বাচিত হন গ্রাহাম। এর আগে তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হন। বিশেষ করে ইরান, রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ বৈদেশিক নীতি ইস্যুতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই তিনি ইউক্রেন সফর করে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মার্কিন রাজনীতিতে গ্রাহাম ছিলেন ‘হকিশ’ বা কঠোর পররাষ্ট্রনীতির প্রবল সমর্থক। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য থাকাকালে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। সিনেটে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিচারবিষয়ক কমিটি এবং সর্বশেষ বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের নিয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একসময় রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন গ্রাহাম। ম্যাককেইন ও সাবেক সিনেটর জো লিবারম্যানকে নিয়ে গঠিত ‘থ্রি অ্যামিগোস’ জোট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি গ্রাহামকে ‘ইসরায়েলের মহান বন্ধু’ এবং ‘ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক জোরদারে তিনি আজীবন কাজ করেছেন। গ্রাহামের মৃত্যুতে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন শূন্য হলো। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার অস্থায়ীভাবে একজন সিনেটর নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী মেয়াদ শুরু হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুমি শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা ও স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, হামলাটি শহরের বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এতে আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ব্যক্তিগত যানবাহন এবং অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে দমকল, চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তার আহ্বান জানান। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, একই রাতে রাশিয়া দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে শতাধিক ড্রোন এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। একই সময়ে কিয়েভ, খারকিভ, ওডেসা, জাপোরিঝিয়া ও দোনেৎস্ক অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সুমি হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। মস্কো বরাবরের মতো দাবি করে আসছে, তাদের হামলা ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, রাশিয়ার বহু হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেন এবং আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে সুমি অঞ্চল একাধিকবার ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে। রাশিয়ার সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যুদ্ধের শুরু থেকেই এটি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা ইউক্রেনের মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে এবং যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।
ইউক্রেনে রাতভর রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, এই অবিরাম হামলায় রাশিয়া ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র—যার মধ্যে ছয়টি ব্যালিস্টিক—এবং ১২১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে ধসে পড়া নিজ বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দ্য কিয়েভ পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্লোভিয়ানস্ক শহরকে লক্ষ্য করে রাশিয়া তিনটি ‘ফ্যাব-২৫০’ গাইডেড এরিয়াল বোমা নিক্ষেপ করে; যার ফলে অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ওই বৃদ্ধ নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হন আরও অন্তত তিনজন। হামলায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ছবি প্রকাশ করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার সম্ভাব্য 'ডাবল ট্যাপ' বা দ্বৈত হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। দ্য কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনেছে রাশিয়া, যেখানে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরসহ মোট ১১ জন আহত হয়েছেন। তবে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি গাইডেড মিসাইল এবং ১১১টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে সহায়তায় গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজেদের মাটিতেই ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল, যার ফলে কিয়েভকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে তারা ব্যর্থ হচ্ছিল। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এটি মার্কিন নীতির একটি অভাবনীয় পরিবর্তন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কেবল কিয়েভকে এই ইন্টারসেপ্টরগুলো সরবরাহ করত, কিন্তু ইউক্রেনকে তাদের নিজেদের মাটিতে এগুলো তৈরির অনুমতি দেয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের মজুত কমে আসা সত্ত্বেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বারবার ইউক্রেনের এই লাইসেন্স পাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কেরও সম্প্রতি ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন বা নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওভাল অফিসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সঙ্গে নিয়ে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল, যেখানে ওই তিন নেতার মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচি হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছিল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য জরুরি সামরিক সহায়তার আবেদন জানাতে যাচ্ছেন। বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গোলাবারুদের কমে যাওয়া মজুত দ্রুত পুনরায় সরবরাহের অনুরোধ করবেন বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে দেশটির গোলাবারুদের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সময়ে রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও স্থল হামলার মুখে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ প্রয়োজন হচ্ছে। জেলেনস্কি বৈঠকে বিশেষভাবে এমন গোলাবারুদ সরবরাহের বিষয়টি তুলে ধরবেন, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্মুখসারির সেনাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিয়েভের আশা, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সহায়তা বাড়ালে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং চলমান যুদ্ধ পরিচালনায় সেনাবাহিনী বাড়তি সক্ষমতা পাবে। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের নিরাপত্তা, পশ্চিমা সামরিক সহায়তার ধারাবাহিকতা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে। তবে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকের পর নতুন কোনো সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেন যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলেছে, তা ন্যাটোর সামষ্টিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন এখন নিয়মিতভাবে রাশিয়ার শত শত ড্রোন প্রতিহত করছে, একই সঙ্গে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার উচ্চ সক্ষমতা ধরে রেখেছে। যুদ্ধ চললেও দেশটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, “যদি ইউক্রেন ইতোমধ্যেই এমন সক্ষমতা অর্জন করে থাকে এবং ইউক্রেনীয়রা এভাবে যুদ্ধ করতে জানে, তাহলে এই সক্ষমতাগুলো ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অংশ হওয়াই যৌক্তিক। এতে আমরা সবাই আরও শক্তিশালী হব।” জেলেনস্কির মতে, ইউক্রেন ও ন্যাটো ইতোমধ্যেই একে অপরের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। তাই একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হওয়া স্বাভাবিক অগ্রগতি হবে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা ইউক্রেনকে ন্যাটোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত করেছে। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর পূর্ণ সদস্যপদের চেষ্টা করছে। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে সদস্যপদ নিয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি জোটের সদস্য দেশগুলো। ন্যাটো ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখলেও যুদ্ধ চলাকালে সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। এদিকে আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার, অস্ত্র উৎপাদনে যৌথ বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সহযোগিতা অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।
এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সর্বশেষ এ হামলায় কিয়েভে অন্তত ১৪ জনসহ মোট কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন। হামলায় শহরের এক ডজনের বেশি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে চালানো এ হামলার বিষয়ে কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো বলেন, রাতভর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী। শহরের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ এখনো চলছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, কিয়েভের আশপাশের জেলাগুলোতেও হামলার প্রভাব পড়ে। সেখানে আরও অন্তত ছয়জন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই রাশিয়া ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আকারের আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর রাত ২টা ১০ মিনিট ও ৩টা ১৫ মিনিটে আরও কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে শুরু করলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজারো মানুষ ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। এর আগে রোববার রাতে দেওয়া এক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে রাশিয়া নতুন করে হামলা জোরদার করতে পারে। তার এই আশঙ্কার পরদিনই বড় ধরনের এ আক্রমণ চালানো হলো। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শুরু হওয়া ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠন ঘিরেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করতে এমন হামলা বাড়ানো হতে পারে। গত সপ্তাহের শেষদিকে কিয়েভে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। চলতি বছরে রাজধানীতে সেটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। ধারাবাহিক এই আক্রমণে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান “মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও কাছাকাছি”। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কতদূর এগিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। প্রায় আড়াই বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে নতুন করে বড় আকারের হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটো সম্মেলনের প্রাক্কালে এমন পরিস্থিতি ইউক্রেন সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বলেছেন, নতুন করে চুক্তিবদ্ধ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র আগামী বছর পর্যন্ত হাতে আসবে না। তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় অংশীদার দেশগুলোর বিদ্যমান মজুত থেকে অবিলম্বে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ প্রয়োজন। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে ফেদোরভ জানান, ইউক্রেন ইতোমধ্যে নতুন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর কেনার চুক্তি করেছে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার কারণে সেগুলো আগামী বছর আগে পাওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় তিনি মিত্র দেশগুলোকে আহ্বান জানান, নিজেদের মজুত থেকে সাময়িকভাবে ইন্টারসেপ্টর ইউক্রেনকে দিতে, পরে নতুন উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা হবে। ফেদোরভ বলেন, “ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই ক্ষেপণাস্ত্র এখনই দরকার।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া যে হারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, একই সময়ে বিশ্বের মোট প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের হার তার চেয়েও কম। ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর এই আহ্বান জানানো হয়। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর না থাকায় সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং এতে বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইউক্রেন সরকার আশা করছে, ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্ররা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের বিদ্যমান মজুত থেকে অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা আরও কার্যকর হবে এবং রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।