সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইউরোপ

নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ
নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশি ভ্রমণকারী ও প্রবাসীদের যে নথি সঙ্গে রাখতে হবে

ইউরোপের দেশ সুইডেনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও ছয় মাসের জন্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১১ মে পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সরকারের দাবি, জনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর গুরুতর হুমকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইডিশ সরকার জানিয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে শেনজেন অঞ্চলে হাইব্রিড হামলা, বিদেশি রাষ্ট্রসমর্থিত তৎপরতা এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অবাধ চলাচল সুইডেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।   সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ সীমান্ত অতিক্রমকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই এবং নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত করার সুযোগ পাবে। কর্তৃপক্ষের মতে, সম্ভাব্য অপরাধ, নাশকতা কিংবা বিদেশি শক্তির ক্ষতিকর তৎপরতা প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সুইডেন শেনজেন অঞ্চলের সদস্য হওয়ায় সাধারণ পরিস্থিতিতে অন্য শেনজেন দেশ থেকে প্রবেশের সময় নিয়মিত পাসপোর্ট পরীক্ষা করা হয় না। তবে নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী সদস্যদেশগুলো সাময়িকভাবে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করতে পারে। সুইডেন ২০১৫ সাল থেকেই বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। আগের ছয় মাসের মেয়াদ ১১ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকায় নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় সড়ক, রেলপথ, সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দরে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হতে পারে। বিশেষ করে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড থেকে সুইডেনে প্রবেশকারী যাত্রীদের যাচাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোথায়, কখন এবং কীভাবে পরীক্ষা চালানো হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে সুইডিশ পুলিশ কর্তৃপক্ষ। এর অর্থ সব সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া কিংবা প্রত্যেক যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে দীর্ঘ পরীক্ষার মুখোমুখি করা নয়।   সুইডিশ পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের ভ্রমণের সময় বৈধ পাসপোর্ট, প্রযোজ্য ভিসা এবং বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত নথি সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশি নাগরিকসহ অন্য দেশের যাঁরা সুইডেনে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা বসবাস করছেন, তাঁদের জন্যও পরিচয় ও বৈধ অবস্থানের প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে। শেনজেনভুক্ত অন্য দেশে বৈধভাবে অবস্থান করলেও সুইডেনে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হতে পারে।   এদিকে শুধু সুইডেন নয়, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক ও নরওয়ের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোও বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির কারণে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু রেখেছে। সুইডিশ সরকার জানিয়েছে, নতুন ছয় মাসের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।   সংবাদসূত্র: সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয় , আরব নিউজ।

নুরুল্লাহ সাইদ নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৩:০ 0
বোমাতঙ্কে ইউরোপে একাধিক ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ
বোমাতঙ্কে ইউরোপে একাধিক ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ, আতঙ্কে হাজারো যাত্রী

বোমাতঙ্কের জেরে গত বৃহস্পতিবার ইউরোপের আকাশপথে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। একের পর এক ফ্লাইটে বোমার হুমকি আসায় একাধিক ফ্লাইট তাদের নির্ধারিত গন্তব্যের বদলে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। ইউরোপজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।   ফিনিশ ব্রডকাস্টার 'উলে' (Yle) জানিয়েছে, ফিনায়ারের হেলসিংকি থেকে রোমগামী ফ্লাইট ১৭৬১-তে বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে ইতালির রাজধানীতে নিরাপদে অবতরণের পর তল্লাশি চালিয়ে বিমানটিতে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বুলগেরিয়ার সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের তিনটি ফ্লাইটও একই কারণে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।   ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এবং স্পেনের মাদ্রিদ থেকে আসা দুটি ফ্লাইট নিরাপদে সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে লন্ডনের স্ট্যানস্টেড থেকে আসা তৃতীয় ফ্লাইটটিকে ঘুরিয়ে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর প্লোভডিভের বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।   এর পাশাপাশি, আয়ারল্যান্ড থেকে ইতালির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আরও একটি ফ্লাইট বোমাতঙ্কের কারণে ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের ইভরেক্সের একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, ওই ফ্লাইটের ১৫১ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু নিরাপদে রয়েছেন এবং সামরিক বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বিমানটিতে তল্লাশি চালিয়েছে।   ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যার লিঙ্গাসের ডাবলিন-রোম ফ্লাইটটি প্যারিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই গতিপথ পরিবর্তন করে ইভরেক্সের দিকে ঘুরে যায়।   ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় ফ্লাইটে এমন ভুয়া বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ফ্লাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তন, তল্লাশি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইতালীয় বিমান বাহিনীর পাহারায় অবতরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এলওটি (LOT), স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স, উইজ এয়ার এবং রায়ানএয়ারের মতো প্রথম সারির এয়ারলাইন্সগুলোও এসব হুমকির শিকার হয়েছে।   এর ঠিক এক দিন আগেই বুলগেরিয়াগামী অপর একটি বিমান আকাশে থাকা অবস্থায় বোমার হুমকি পাওয়ার পর হাঙ্গেরিতে অবতরণ করানো হয়েছিল। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, ইউরোপজুড়ে ড্রোন অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য রহস্যময় নাশকতার সতর্কতার মাঝে এমন ভুয়া বোমাতঙ্ক জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:০ 0
ইউরোপের সাত দেশে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা
ইউরোপের সাত দেশে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা, বিপুল খাদ্যপণ্য নষ্ট

ইউরোপের সাতটি দেশে সুপারমার্কেটের ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন দোকানের ফ্রিজারের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে সর্বোচ্চ ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ফলে মাংস, মাছসহ বিপুল পরিমাণ হিমায়িত ও তাজা খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। সোমবার (২ নভেম্বর) বেলজিয়াম, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের বিভিন্ন সুপারমার্কেটে এসব ঘটনা ঘটে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে সেটিংস পরিবর্তন করেন। কোথাও শীতলীকরণব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়, আবার কোথাও ফ্রিজারের ভেতরে উষ্ণ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে। এতে রাতের মধ্যে অনেক দোকানের খাবার নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব পণ্য বিক্রি থেকে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে।   সুইডেনের স্টকহোমে আইসিএ সুপারমার্কেটের একটি শাখার বিক্রয় ব্যবস্থাপক এংলা ইংওয়াল রয়টার্সকে জানান, সোমবার রাত দুইটার দিকে সাইবার হামলাটি ঘটে। সকালে কর্মীরা দোকানে এসে দেখেন, সব ফ্রিজারের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এতে ভেতরে রাখা খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। সুইডেনের আরেক বড় সুপারমার্কেট প্রতিষ্ঠান কুপও তাদের কয়েকটি দোকানে একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে।   বেলজিয়ামে ডেলহাইজ, ক্যারেফোর, কোলরাইট ও ইন্টারমার্শের বিভিন্ন শাখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যারেফোর জানিয়েছে, দেশটিতে তাদের ৭০০টি দোকানের মধ্যে ১৫টিতে সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে ডেলহাইজের কয়েক ডজন দোকানের শীতলীকরণব্যবস্থা আক্রান্ত হয়। লুক্সেমবার্গেও প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি শাখায় একই সমস্যা দেখা গেছে।   আয়ারল্যান্ডের সুপারমার্কেট প্রতিষ্ঠান সুপারভ্যালুর ১৩টি শাখার ফ্রিজ ও ফ্রিজারের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন মাসগ্রেভ গ্রুপ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব দোকান থেকে হিমায়িত ও ঠান্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ করা খাদ্যপণ্য বিক্রি বন্ধ করা হয়। পরে প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের পর নতুন করে পণ্য সরবরাহ শুরু হয়।   নেদারল্যান্ডসে অন্তত ১৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীতলীকরণব্যবস্থায় হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এস্তোনিয়ার সেলভার সুপারমার্কেটের একটি শাখাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে ফিনল্যান্ডের কয়েকটি সুপারমার্কেটে সমস্যার খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। বেলজিয়ামের মন্স শহরে আইকিয়ার একটি দোকানের ফ্রিজারও সাইবার হামলায় আক্রান্ত হয়।   এর আগে গত ১২ অক্টোবর ফ্রান্সের কয়েক শ সুপারমার্কেটে একই ধরনের সাইবার হামলা হয়েছিল। সে সময় হ্যাকাররা দূর থেকে ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা পরিবর্তন করায় বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়। কয়েকটি স্থানে অতিরিক্ত তাপের কারণে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে ফ্রান্সের আগের ঘটনার প্রযুক্তিগত মিল থাকলেও একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা এখনো শনাক্ত হয়নি।   বেলজিয়ামের ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয় নতুন হামলার তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপারমার্কেটের ফ্রিজ, কারখানার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য শিল্প সরঞ্জাম ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকায় সাইবার হামলার নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্বল পাসওয়ার্ড ও হালনাগাদ না করা সফটওয়্যার ব্যবহার করলে এসব ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের সুযোগ বাড়ে।   এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টোফ হ্যানসেন বারবার এ ধরনের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায় পরিকল্পিত বিঘ্ন তৈরি হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভোক্তাদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   সর্বশেষ সাইবার হামলায় ইউরোপের শতাধিক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মোট আর্থিক ক্ষতির হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কাজ করছেন।   সূত্র: রয়টার্স, এএফপি ।

নুরুল্লাহ সাইদ নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০ 0
ব্রিটিশ তরুণ ড্যানিয়েল জ্যাকসন
ইউরোপে নিজের নতুন দেশ প্রতিষ্ঠা করে ২১ বছরের তরুণ পেলেন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সম্মাননা

মাত্র ১৪ বছর বয়সে বন্ধুদের নিয়ে একটি নতুন দেশ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্রিটিশ তরুণ ড্যানিয়েল জ্যাকসন। নিজেকে সেই দেশের প্রেসিডেন্টও ঘোষণা করেন তিনি। সাত বছর পর ২১ বছর বয়সে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মানবিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পেয়েছেন এই তরুণ। গত ৯ অক্টোবর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ডেলিগেটস ডাইনিং রুমে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তবে এটি জাতিসংঘের নিজস্ব কোনো পুরস্কার নয়। সম্মাননাটি দিয়েছে ইনস্টিটিউট অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি রিসার্চ (আইপিপিডিআর) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।   ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলীয় নাগরিকত্বের অধিকারী ড্যানিয়েল জ্যাকসন ইংল্যান্ডের কেন্টের ডোভার শহরের বাসিন্দা। ইউরোপের বলকান অঞ্চলে ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার সীমান্তবর্তী একটি ভূখণ্ডকে নিজের দেশ হিসেবে ঘোষণা করে আলোচনায় আসেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দেশের নাম ‘ফ্রি রিপাবলিক অব ভারডিস’। দেশটির আয়তন মাত্র শূন্য দশমিক ৫০১ বর্গকিলোমিটার, যা প্রায় ১২৫ একর। জ্যাকসনের দাবি, পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হিসেবে ভারডিসকে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর লক্ষ্য। যদিও এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে কোনো স্বীকৃত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়নি ভারডিস।   ঘটনার শুরু ২০১৯ সালে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে মানচিত্র ঘাঁটতে গিয়ে ড্যানিয়েল জানতে পারেন, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যবর্তী দানিয়ুব নদীর তীরে কয়েকটি ছোট ভূখণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। এসব এলাকার একটি মানচিত্রে ‘পকেট থ্রি’ নামে পরিচিত। জ্যাকসনের দাবি, ওই জমির মালিকানা ক্রোয়েশিয়া কিংবা সার্বিয়া কেউই নিজেদের বলে স্বীকার করে না। এই যুক্তিতে ২০১৯ সালের ৩০ মে তিনি ভূখণ্ডটিকে স্বাধীন দেশ ঘোষণা করেন এবং নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।   প্রথমে বিষয়টি ছিল কয়েকজন কিশোরের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেটিকে একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন ড্যানিয়েল। ভারডিসের জন্য আলাদা জাতীয় পতাকা, সংবিধান, আইন, মন্ত্রিসভা, জাতীয় প্রতীক এবং পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ইংরেজি, ক্রোয়েশীয় ও সার্বীয় ভাষাকে দেশটির সরকারি ভাষা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ইউরো। ভারডিস কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের প্রায় ৪০০ জন নাগরিক রয়েছেন এবং প্রতি মাসে এক হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্বের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করেন। তবে নিজের ঘোষণা করা দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করাই এখন ড্যানিয়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৩ সালে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে বসতি স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার সীমান্ত পুলিশ তাঁদের আটক করে এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ড্যানিয়েলের ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ক্রোয়েশীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ওই এলাকায় বসতি স্থাপনের চেষ্টা সীমান্ত নিরাপত্তা বিধির পরিপন্থী। অন্যদিকে ড্যানিয়েল এই নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য দাবি করে আসছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের ডোভার ও সার্বিয়ার নোভি সাদে প্রতিষ্ঠিত প্রতিনিধি কার্যালয়ের মাধ্যমে ভারডিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এত বাধার মধ্যেও নিজের উদ্যোগ থেকে সরে আসেননি ড্যানিয়েল। সম্প্রতি আফ্রিকার আইভরি কোস্টে একটি প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভারডিস। সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের শৌচাগার ও পানির কূপ সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ সরবরাহে তারা সহযোগিতা করেছে। মানবিক এই কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ নিউইয়র্কে আয়োজিত হিউম্যানিটারিয়ান প্লাটিনাম লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে সম্মাননা পান ড্যানিয়েল।   অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসকে ড্যানিয়েল জানান, এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সম্মাননা গ্রহণ করা তাঁর জন্য একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে কিছুটা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা ছিল। মাত্র ২১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন আয়োজনে অংশ নেওয়ার সঙ্গে এখনো নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ভারডিস প্রতিষ্ঠার চিন্তাটি প্রথমে বন্ধুদের সঙ্গে ছোট একটি পরীক্ষা হিসেবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেটি যে এত মানুষের আগ্রহ তৈরি করবে, তা তখন কল্পনাও করেননি। একই সফরে ভারডিসের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক প্রতিনিধি জেফ্রি লি নিউইয়র্কে একটি যুবসমাবেশে বক্তব্য দেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। সেখানে মানবিক সহায়তা, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ড্যানিয়েলের মতে, এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে ভারডিসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পথেও এই যোগাযোগ কাজে লাগবে বলে আশা করছেন তিনি।   তবে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়ার অর্থ ভারডিসকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে, এমন নয়। পুরস্কার প্রদানকারী আইপিপিডিআর একটি স্বতন্ত্র বেসরকারি সংস্থা। জাতিসংঘের ভবনে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ভারডিসের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে ড্যানিয়েল নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করলেও তাঁর নেতৃত্বাধীন ভূখণ্ড এখনো একটি স্বঘোষিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র বা মাইক্রোনেশন হিসেবেই পরিচিত।   বর্তমানে ড্যানিয়েল জ্যাকসন নিজের পুরো সময় ভারডিসের কার্যক্রমে ব্যয় করছেন। আগে তিনি অনলাইন গেম রোবলক্সের জন্য ভার্চুয়াল জগৎ তৈরির কাজ করতেন। এখন আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, নাগরিকত্ব আবেদন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাই তাঁর প্রধান কাজ। মাত্র ১৪ বছর বয়সে শুরু হওয়া উদ্যোগকে বাস্তব রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ। তবে তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্ন।  

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
শীতের আগে গ্যাসের মজুত নিয়ে চাপে ইউরোপ
শীত আসার আগেই গ্যাসের মজুত নিয়ে উদ্বেগে ইউরোপ, যুদ্ধের প্রভাবে বাড়তে পারে জ্বালানির দাম

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় শীতের আগে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত নিয়ে চাপে পড়েছে ইউরোপ। সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে শীত মৌসুমে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার সময় সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল ইউরোপের গ্যাস সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর সতর্কবার্তায় শীতের আগে জ্বালানি মজুতের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো শীতকালে ঘরবাড়ি গরম রাখা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানা সচল রাখতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভর করে। ফলে শীত শুরুর আগে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত করা দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে বা আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে মজুত পূরণের পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। এতে একই পরিমাণ গ্যাস সংগ্রহ করতেও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন অঞ্চলের একটি। এ অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন, পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহের খরচ ও সময়—দুটিই বেড়ে যেতে পারে। ইউরোপের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, কারণ অঞ্চলটির দেশগুলোকে শীতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আগেভাগে গ্যাসের মজুত নিশ্চিত করতে হয়। সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে মজুত বাড়ানোর প্রতিযোগিতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জ্বালানি বিলে। গ্যাসের দাম বাড়লে শুধু পরিবারগুলোর ব্যয়ই বাড়ে না, উৎপাদন খরচও বেড়ে যায় বিভিন্ন শিল্পে। বিশেষ করে যেসব কারখানায় গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বা কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে। জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে পণ্য ও সেবার দামেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে ইউরোপের গ্যাস পরিস্থিতি নির্ভর করবে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি, আন্তর্জাতিক সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক থাকে, বাজারে বিকল্প জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং দেশগুলো কত দ্রুত মজুত বাড়াতে পারে—এসব বিষয়ের ওপর। সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন দেখা দিলে শীতের চাহিদা মেটাতে ইউরোপকে আরও বেশি ব্যয় করতে হতে পারে। ফাতিহ বিরলের সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন শীতের প্রস্তুতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে গ্যাসের মজুত পূরণ, মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা ইউরোপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইউরোপের ৮৫৪টি শহরে ২০২৬ সালের তীব্র গরমে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যু, গবেষকদের চোখ কপালে

ইউরোপের ৮৫৪টি শহর ও নগর এলাকায় ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্টের তীব্র গরমে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় এই হিসাব উঠে এসেছে। গবেষকদের অনুমান, এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬১৯টি মৃত্যু ঘটেছে মানুষের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে।    ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকেরা এই বিশ্লেষণে যুক্ত ছিলেন। গবেষণার আওতায় ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের নগর এলাকা। তাঁদের ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের তাপজনিত মৃত্যুর বিশ্লেষণ নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। একই সাময়িকীতে প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম নিয়ে গবেষণাটিও।    এই সংখ্যা প্রতিটি মৃত্যুসনদ থেকে সরাসরি গণনা করা হয়নি। তাপমাত্রার তথ্য, জনসংখ্যা এবং অতীতে গরমের সঙ্গে মৃত্যুহারের সম্পর্ক ব্যবহার করে গবেষকেরা সম্ভাব্য অতিরিক্ত মৃত্যু হিসাব করেছেন। এরপর জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে তাপমাত্রা কেমন থাকত, সেই পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বাড়তি উষ্ণায়নের প্রভাব নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সংখ্যাগুলোকে পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমান হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমের বিপদ শুধু হিটস্ট্রোকে সীমিত নয়। শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। এতে হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের অসুখ ও ডায়াবেটিসের মতো আগে থেকে থাকা রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে দিন ও রাতের উচ্চ তাপমাত্রাও শরীরে ক্রমাগত চাপ তৈরি করে।    তবে এবারের হিসাবকে গোটা ইউরোপের সব তাপজনিত মৃত্যুর মোট সংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি নির্দিষ্ট নগর এলাকার বিশ্লেষণ। আগের বছরগুলোর সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রেও একই ভৌগোলিক এলাকা ও গবেষণাপদ্ধতি বিবেচনা করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃত পৃথক গবেষণায় পুরো ইউরোপে ২০২২ সালের গ্রীষ্মে প্রায় ৬১ হাজার ৬৭২টি তাপজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর অনুমান দেওয়া হয়েছিল।    গবেষকেরা তাপপ্রবাহের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে শীতল পরিবেশে থাকার সুবিধা পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, পরিকল্পিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও যথাসময়ে পদক্ষেপের মাধ্যমে গরমের কারণে বহু মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের ঝুঁকি সীমিত করতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো প্রয়োজন।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইউরোপ রাশিয়াকে হারাতে পারবে না, দাবি পুতিনের

রাশিয়াকে সামরিকভাবে পরাজিত করা ইউরোপের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আবারও শুরু করতে মস্কো নীতিগতভাবে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক প্রস্তুতির সমালোচনা করে পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে ইউরোপের বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   রুশ সংবাদমাধ্যম তাসের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পুতিন ইউক্রেনকে রাশিয়ার ‘ভ্রাতৃপ্রতিম জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি রুশ ও ইউক্রেনীয়দের ঐতিহাসিক ও জাতিগত ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরেন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, কিয়েভের নেতৃত্ব সাধারণ মানুষকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাচ্ছে। এসব বক্তব্য রুশ প্রেসিডেন্টের নিজস্ব অবস্থান হিসেবে এসেছে, স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে নয়।   ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা জোরদার করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় পুতিন ইউরোপের যুদ্ধপ্রস্তুতিকে ‘রাজনৈতিক সিজোফ্রেনিয়া’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ইউরোপের জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না এবং মস্কোরও ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার ইচ্ছা নেই। তাঁর দাবি, অতীতে যারা রাশিয়াকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে শত্রুতার পরিবর্তে বন্ধুত্বের গুরুত্ব বুঝেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, রাশিয়া ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ও আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকের পর এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। সম্ভাব্য বৈঠকে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট সময়সূচি ও আলোচ্যসূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বৈঠকটি নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।   ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই পক্ষের মধ্যে ভূখণ্ড, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হলেও দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার উদ্যোগ যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও সমঝোতার ওপর।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, তাস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে নতুন জীবন গড়ছেন মার্কিনিরা, পেছনে ব্যয়বহুল জীবন ও নিরাপত্তার শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে নতুন জীবন গড়ছেন মার্কিনিরা, পেছনে ব্যয়বহুল জীবন ও নিরাপত্তার শঙ্কা

অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তার অভাবে মাতৃভূমি ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মার্কিন নাগরিক। স্বাস্থ্যসেবার আকাশচুম্বী খরচ, বন্দুক সহিংসতার আতঙ্ক এবং কর্মজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে একটু শান্তির খোঁজে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থায়ী হচ্ছেন তারা। একসময় যাকে 'আমেরিকান ড্রিম' বলা হতো, বর্তমান বাস্তবতায় অনেকেই সেই স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ভিন্ন দেশে নতুন জীবনের সন্ধান করছেন।   ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্য থেকে পরিবার নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানো জো রিগ্যান এমন অসংখ্য মার্কিনির একটি নিখুঁত উদাহরণ। দশ বছর পর বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে ইতালির আব্রুজ্জোতে এক শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন শিশু পরিচর্যা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ মেটাতে হিমশিম খেলেও, ইতালিতে তিনি মাত্র ২৪ হাজার ইউরো বা ২৭ হাজার ডলারে একটি বাড়ি কিনেছেন। এখন তাকে চিকিৎসা ব্যয় বা স্কুলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা করতে হয় না।   বিদেশে বসবাসরত মার্কিনীদের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও দ্য ফেডারেল ভোটিং অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের (এফভিএপি) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে প্রায় ৩৩ লাখ মার্কিন নাগরিক বিদেশে বসবাস করছিলেন, যা ২০১০ সালের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকানস ওভারসিজ-এর হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ।   দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেবল ২০২৫ সালেই কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। ফ্লোরেন্স-ভিত্তিক মার্কিন আর্থিক উপদেষ্টা অ্যালেক্স ইনগ্রিম জানান, আগে মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বিদেশে পাড়ি জমালেও, গত কয়েক বছরে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ পরিবারগুলোর মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।   দেশ ছাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতাকে দায়ী করছেন অনেকেই। ২০১২ সালের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে মর্মান্তিক গুলির ঘটনার পর থেকে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন। এর পাশাপাশি রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন এবং অর্থনৈতিক অসন্তোষ।   সাম্প্রতিক ইকোনমিস্ট/ইউগভ এবং রয়টার্স/ইপসস-এর জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনায় যথাক্রমে ৬৩ এবং ৭০ শতাংশ মার্কিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে স্পেন, পর্তুগাল বা নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতে ছুটে যাচ্ছেন তারা। জো রিগ্যানের ভাষায়, নতুন জীবনের এই প্রশান্তি ছেড়ে আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখেন না।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ট্রাম্পের জয়ের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো মার্কিন নাগরিকদের নতুন অভিজ্ঞতা
. ট্রাম্পের জয়ের পর দেশ ছেড়ে ইউরোপে, এবার কেন ফিরতে চাইছেন অনেক মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন অনেক মার্কিন নাগরিক। তাঁদের কেউ চেয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বাইরে থাকতে, কেউ আবার ইউরোপের উন্নত জীবনযাত্রা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু নতুন দেশে বসবাস করতে গিয়ে তাঁদের কয়েকজনের সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। চাকরি পাওয়া, উচ্চ কর, স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জের কারণে কেউ কেউ এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ওয়্যার্ডের এক প্রতিবেদনে ইউরোপে চলে যাওয়া কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘তারা ট্রাম্পের আমেরিকা ছেড়েছিলেন, এখন অনুতপ্ত’। এতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপের জীবনযাত্রা নিয়ে যে আকর্ষণীয় ছবি তুলে ধরা হয়, বাস্তবে তার সঙ্গে অনেকের অভিজ্ঞতা মেলেনি। ‘অ্যানি’ ছদ্মনামে পরিচিত এক নারী জানান, যুক্তরাজ্যে জীবনযাপন নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির যে ছবি দেখেছিলেন, বাস্তবতা তার চেয়ে আলাদা। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, জীবনযাত্রার মান এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ যুক্তরাজ্যে কম বলে মনে হয়েছে তাঁর। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের মাধ্যমে বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা নিয়েই দেশটিতে গিয়েছিলেন অ্যানি। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতায়, কর ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বিষয়টি হিসাবের বাইরে ছিল। ফলে স্বাস্থ্যসেবাকে পুরোপুরি বিনা খরচের বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অ্যানির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে ব্যবহৃত কিছু গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি যুক্তরাজ্যে অনেকের কাছে বিলাসী পণ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। ডিশওয়াশার ও কাপড় শুকানোর যন্ত্রের মতো পণ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি দুই দেশের জীবনযাত্রার পার্থক্য তুলে ধরেন। শুধু আর্থিক বিষয় নয়, যুক্তরাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়েও হতাশার কথা জানিয়েছেন অ্যানি। তাঁর অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে কয়েকজন তাঁর মার্কিন উচ্চারণ ও সংস্কৃতি নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। তাঁর ধারণা ছিল, ব্রিটিশ সমাজে ভদ্রতা ও সৌজন্যের যে চিত্র চলচ্চিত্রে দেখা যায়, বাস্তবেও তা একই রকম হবে। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। অন্যদিকে, সাংবাদিক ও পরামর্শক সারাহ উড গনজালেজ জানিয়েছেন, ভিন্ন পরিবেশে বসবাস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতির কিছু দিক নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, মার্কিন কর্মক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিতে চায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় কম লাগে। জার্মানিতে চলে যাওয়া জশ নামের এক মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। তিনি জানান, সেখানে চাকরি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা তাঁর হতাশা বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে দৈনন্দিন জীবনযাপনের সহজতা, মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যে অভিজ্ঞতা ছিল, তা তিনি মিস করতে শুরু করেন। জশের মতে, স্থানীয় সমাজে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠাও বিদেশিদের জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি স্থানীয়দের মতো দেখতে না হন বা সেখানকার সংস্কৃতিতে জন্ম থেকে বেড়ে না ওঠেন, তাহলে নিজেকে সমাজের অংশ মনে করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শেষ পর্যন্ত জশ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন। প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে এখন অনেক বেশি ভালো আছেন। ইউরোপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়তো তিনি পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন। তবে ইউরোপে গিয়ে হতাশ হওয়ার কথা প্রকাশ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ছেন কেউ কেউ। ওয়্যার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা জানালে তাঁদের একাংশকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষণশীল বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। কেউ কেউ আবার মনে করেন, নতুন দেশে মানিয়ে নিতে না পারার দায় তাঁদের নিজেদেরই। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থী শহর ও অঙ্গরাজ্যে থাকা বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁদের সামাজিক সম্পর্কের অভাবও অনেকের মধ্যে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। নতুন দেশে জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষ, সামাজিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের গুরুত্ব তাঁরা নতুন করে উপলব্ধি করছেন। ভেনেজুয়েলায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ডি মার্টিনোও ইউরোপে বসবাসের প্রত্যাশা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, ইউরোপের সব দেশকে একইভাবে বিচার করা যায় না। গ্রিসের গড় আয়ের জীবনযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ডেনমার্কের মতো দেশে জীবনযাত্রার মান ভালো হলেও গড় আয় অনেক ক্ষেত্রে মার্কিনদের তুলনায় কম। তিনি বলেন, ইউরোপের কিছু দেশে অপরাধের হার কম এবং খাবারের মান ভালো হওয়ার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে আয়, চাকরি পাওয়ার সুযোগ এবং করের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর মতে, অনেক ইউরোপীয় দেশে কর্মী ছাঁটাইয়ের নিয়ম কঠোর হওয়ায় নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন ব্যবস্থার ব্যয় মেটাতে করের বোঝাও বেশি হতে পারে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে কাজ করা থিও ওল্ডও ইউরোপের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন উদারপন্থীদের প্রত্যাশার সমালোচনা করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন; এটি ইউরোপে বসবাসকারী সব মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করে না। এখানে উল্লেখযোগ্য, ইউরোপে চলে যাওয়া সব মার্কিন নাগরিক যে হতাশ বা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন নয়। প্রতিবেদনে কয়েকজনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও নতুন দেশে চাকরি, আয়, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো কিছু মার্কিন নাগরিকের কাছে এখন সেই সিদ্ধান্তের সুবিধা ও অসুবিধা নতুন করে সামনে এসেছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে, দূর থেকে কোনো দেশকে আকর্ষণীয় মনে হলেও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। আর সেই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না, সেটিই শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার চিন্তাকে প্রভাবিত করছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
লিথুয়ানিয়ায় মার্কিন সেনাদের সামরিক মহড়া
লিথুয়ানিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ, রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সম্ভাবনা এবং দেশটিতে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনার কথা বলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিনদাউগাস সিনকেভিচিয়াস জানিয়েছেন, ঘাঁটি স্থাপনে প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে প্রস্তুত ভিলনিয়াস। একই দিনে লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্ট পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েনের ওপর সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাবের প্রথম ধাপের অনুমোদন দিয়েছে। এসব পদক্ষেপকে রাশিয়ার সীমান্তের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছে মস্কো।   ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সিনকেভিচিয়াস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে সম্মত হয়, তাহলে এর খরচ বহন করতে প্রস্তুত তার দেশ। এর আগে সোমবার ট্রাম্পকে লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করবে। ট্রাম্প লিথুয়ানিয়ার মানুষকে নিজের বন্ধু এবং চমৎকার মানুষ হিসেবেও উল্লেখ করেন।   লিথুয়ানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। দেশটির সীমান্ত রয়েছে রাশিয়া ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে। ২০১৯ সাল থেকে দেশটিতে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনার একটি সাঁজোয়া ব্যাটালিয়ন পালাক্রমে মোতায়েন রয়েছে। অর্থাৎ সেনারা নির্দিষ্ট সময় পরপর সেখানে আসে এবং অন্য ইউনিট তাদের জায়গা নেয়। লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী গত মাসে ট্রাম্পের দূত জন কোয়েলের সঙ্গে ভিলনিয়াসে বৈঠকের সময় এই ঘূর্ণায়মান মার্কিন উপস্থিতিকে স্থায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   লিথুয়ানিয়া বলছে, দেশটিতে স্থায়ী মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রধানমন্ত্রী সিনকেভিচিয়াসের ভাষায়, স্থায়ীভাবে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেই প্রয়োজনীয় খরচ বহনে প্রস্তুত লিথুয়ানিয়া।   এর পাশাপাশি লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্ট মঙ্গলবার সংবিধানের ১৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের প্রস্তাবের প্রথম ধাপে অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমান সংবিধানে দেশটির ভূখণ্ডে গণবিধ্বংসী অস্ত্র এবং বিদেশি রাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি মোতায়েন নিষিদ্ধ। মঙ্গলবারের ভোটে ১০৬ জন আইনপ্রণেতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, ১৮ জন বিপক্ষে এবং ৬ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। চূড়ান্ত ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১২ জানুয়ারি।   প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে লিথুয়ানিয়ার ভূখণ্ডে মিত্র দেশগুলোর পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লিথুয়ানিয়া নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা নিয়ন্ত্রণ করবে। ন্যাটোর পারমাণবিক অংশীদারত্ব ব্যবস্থায় ইউরোপের কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র রাখা হলেও সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকে।   লিথুয়ানিয়ার এই সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য মার্কিন ঘাঁটির পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়া ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়ার সীমান্তের কাছে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোকে মস্কো উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ ছাড়া অন্যভাবে দেখতে পারে না। একইভাবে প্রতিবেশী দেশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনাকেও রাশিয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হিসেবে দেখছে।   পেসকভ আরও বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে মস্কো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে পারে। ক্রেমলিনের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়ছে।   রাশিয়ার সঙ্গে লিথুয়ানিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগের পেছনে দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। লিথুয়ানিয়া রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলের কাছাকাছি এবং বেলারুশের সঙ্গেও সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড, যা পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত। সেখানে রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামো রয়েছে।   এদিকে লিথুয়ানিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেটে দেশটি প্রতিরক্ষায় মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বরাদ্দ করেছে। এ অর্থ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মিত্র বাহিনীর উপস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।   লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির একটি বড় সামরিক ব্রিগেডও গড়ে তোলা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার সদস্যের জার্মান ব্রিগেড ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় যাওয়ার কথা। এর অবকাঠামো ও স্থায়ী উপস্থিতির প্রস্তুতিও দেশটির সামরিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   গত কয়েক মাসে লিথুয়ানিয়া ও বাল্টিক অঞ্চলে আকাশসীমা লঙ্ঘন, ড্রোন এবং তথাকথিত হাইব্রিড হামলা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিথুয়ানিয়া ও তার মিত্ররা পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সময়ে রাশিয়া ন্যাটোর সামরিক অবকাঠামো তার সীমান্তের কাছে আরও এগিয়ে আসাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।   ফলে লিথুয়ানিয়ায় সম্ভাব্য স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি এবং পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের আইনি পথ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত সাংবিধানিক পরিবর্তনও এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইউরোপে সম্ভাব্য রুশ ড্রোন হা মলা নিয়ে নতুন সতর্কতার তথ্য সামনে এসেছে
ইউরোপে রুশ ড্রোন হা মলার শঙ্কা, স্পেন-ফ্রান্স-ইতালিকে সিআইএর সতর্কবার্তা

স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিতে সমুদ্রপথ থেকে ড্রোন হা মলার সম্ভাবনা নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশকে সতর্ক করা হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। স্পেনের সংবাদপত্র ‘এল মুন্দো’-র বরাত দিয়ে ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, কথিত এই সতর্কবার্তায় রাশিয়ার সম্ভাব্য হা মলার বিষয়ে তথ্য রয়েছে। তবে ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, তারা ওই সিআইএ প্রতিবেদনের অস্তিত্ব স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং এ বিষয়ে সিআইএর মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া সমুদ্র থেকে বিস্ফো রক বহনে সক্ষম ‘গেরবেরা’ ড্রোন ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হা মলার চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বন্দর, বিমানবন্দর কিংবা বাইরে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জামের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের হা মলায় বড় ধরনের ধ্বং সযজ্ঞের বদলে আগুন লাগানো, সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা বা কোনো স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মতো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   গেরবেরা ড্রোনটি তুলনামূলক ছোট এবং কয়েক কেজি বিস্ফো রক বহন করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোনটির পাল্লা প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। সম্ভাব্য পরিকল্পনায় এসব ড্রোন বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা কনটেইনারের মধ্যে লুকিয়ে সমুদ্র থেকে উৎ ক্ষেপণের কথা বলা হয়েছে।   স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করার পেছনে দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তিন দেশেই ২০২৭ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেন যু দ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্লান্তি ও রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের সীমিত হা মলা ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিশ্লেষণ ও আশঙ্কা, কোনো নিশ্চিত হা মলার তথ্য নয়।   এদিকে ইউরোপে রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড’ তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেসতুতিস বুদরিস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রয়টার্সকে বলেছেন, মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং অন্যান্য হাইব্রিড কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।   ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক মূল্যায়নে আগামী কয়েক মাসে রাশিয়ার হাইব্রিড তৎপরতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মতে, পশ্চিমা ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও ঘন ঘন হা মলা এবং আগের তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।   জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরকে ঘিরে ড্রোনের একটি ঘটনা এবং পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনাগুলোও ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পোল্যান্ডের কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক কিছু অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফো রণ ও ড্রোন প্রবেশের ঘটনাকে সম্ভাব্য হাইব্রিড হা মলার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে এসব ঘটনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার দায় সবক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়নি।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, রাশিয়া ইউরোপকে ইউক্রেনকে সমর্থন করা থেকে বিরত রাখতে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। তার মতে, মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন হতে পারে।   তবে এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস সাখনা বলেছেন, ন্যাটোর ওপর আসন্ন রুশ হা মলা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক ছড়ানো ঠিক হবে না। ফলে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিতে সম্ভাব্য ড্রোন হা মলার যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটিকে বর্তমানে একটি গোয়েন্দা সতর্কতা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদিত সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট হা মলার সময়, লক্ষ্য বা ব্যবহৃত জাহাজের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।  

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ
ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও সীমা

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাবের মতো মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায় সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার এ ঘোষণা দিয়েছেন। নিজ দলের যুব সংগঠনের এক বার্ষিক অনুষ্ঠানে মেলোনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব তোলা হবে। একইসঙ্গে ইতালীয় ভাষা শেখায় গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রতি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন, সেই সংখ্যা মেলোনি এখনো নির্দিষ্ট করেননি। মেলোনির বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী ইতালীয় ভাষা না জানলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তার ভাষা শেখা এবং স্কুলে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হলে তাদের একীভূত করার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। মুখঢাকা পোশাকের বিষয়ে মেলোনি বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মুখ খোলা রাখতে হবে। কোনো প্রচলিত রীতি বা ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে কোনো তরুণীকে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়—এমন অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। ইতালিতে অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশটির মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অবস্থানের কারণে সেখানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমনও একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে আছে। ইতালির স্কুলগুলোতে অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ফন্ডাজিওনে আইএসএমইউর ২০২৩/২৪ শিক্ষাবর্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইতালির প্রি-স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অ-ইতালীয় নাগরিক। তারা মোট শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অবশ্য ইতালিতেই জন্মেছে। আইএসএমইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইতালিতে জন্ম নেওয়া বা ছোট বয়সে দেশটিতে আসা। ফলে স্কুলে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের অন্তর্ভুক্তি ও নাগরিকত্ব নিয়ে ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মেলোনির ঘোষিত উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইতালিতে অভিবাসন, ধর্মীয় প্রতীক ও সাংস্কৃতিক একীভূতকরণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। নতুন প্রস্তাবটি এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই পরবর্তী বিষয়।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা

ইউরোপে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনার পারদ আরও একধাপ বেড়েছে। লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। গত মঙ্গলবার লিথুয়ানিয়ার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রথমবারের মতো তাদের আকাশসীমায় কোনো ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা এটি।   দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের প্রধান ভিলমান্টাস ভিটকাসকাস জানিয়েছেন, ড্রোনটি সম্ভবত রুশ মিত্র বেলারুশ থেকে প্রবেশ করেছিল এবং ভূপাতিত করার আগে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে লিথুয়ানিয়ার আকাশে ওড়ে। ড্রোনটিতে বিস্ফোরক ছিল এবং তা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস। সম্প্রতি জার্মানি, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য ন্যাটো মিত্ররাও রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও নাশকতার অভিযোগ করে আসছে।   এর পাশাপাশি, ডেনমার্ক অভিযোগ করেছে যে বাল্টিক সাগরে তাদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার যখন রুটিন নজরদারি চালাচ্ছিল, তখন সেটিকে লক্ষ্য করে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে ‘ফ্লেয়ার’ বা সতর্কতামূলক গোলা ছোড়া হয়। ডেনিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।   তবে ডেনমার্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির বারবিন পাল্টা দাবি করেছেন যে ডেনিশ হেলিকপ্টারটি রুশ যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক আচরণ করছিল। এই দুই ঘটনা প্রসঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বৃহত্তর আগ্রাসন ও উসকানিরই অংশ।   এদিকে, ইউক্রেনেও রুশ ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মস্কো তাদের জ্বালানি ও লজিস্টিক খাতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর জবাবে কিয়েভও পশ্চিম রাশিয়ার সিজরান শহরের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।   ক্রেমলিন ট্রাম্পের জ্বালানি অবকাঠামোতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘ভালো ধারণা’ বলে উল্লেখ করলেও জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণেই বিশ্বজুড়ে গ্যাস ও ডিজেলের সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইউরোপে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেও ইউরোপে বেড়েছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন

ইউরোপে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিরা প্রায় ২০ হাজার আশ্রয় আবেদন করেছেন। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন করা নাগরিকত্বের তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম বা ইইউএএ ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউ প্লাসভুক্ত দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। করোনা মহামারির সময় বাদ দিলে ২০১৯ সালের পর বছরের প্রথম ছয় মাসে এটিই সর্বনিম্ন আবেদন।   আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির নাগরিকরা প্রায় ৩৯ হাজার আবেদন করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে ভেনেজুয়েলা, প্রায় ৩৩ হাজার আবেদন নিয়ে। বাংলাদেশিদের আবেদন প্রায় ২০ হাজার, যা দেশটিকে তৃতীয় অবস্থানে রেখেছে। ইইউএএ জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশিদের আবেদন প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে।   বাংলাদেশিদের আবেদনের বড় অংশই প্রথমবারের আবেদন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পুনরায় করা আবেদন মোট আবেদনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ আগের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর একই ব্যক্তির পুনরায় আবেদন এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ নয়।   বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের গন্তব্য হিসেবেও ইতালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর রয়েছে গ্রিস ও ফ্রান্স। ইইউএএ জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের আবেদন, সীমান্তে শনাক্ত হওয়ার প্রবণতা এবং ইউরোপে অভিবাসনের সামগ্রিক চিত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।   তবে বাংলাদেশিদের আবেদন বাড়লেও অনুমোদনের হার খুবই কম। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি আবেদনের মধ্যে গড়ে মাত্র কয়েকটি আবেদনেই শরণার্থী মর্যাদা বা অন্য কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।   এদিকে ইউরোপের নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আওতায় এসেছে। ১২ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপদ উৎসদেশের প্রথম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার ২০ শতাংশ বা তার কম, তাদের আবেদন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দ্রুত যাচাইয়ের আওতায় আনার বিধানও কার্যকর হয়েছে।   ইইউএএ জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এই দুই মানদণ্ডই প্রাসঙ্গিক। ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হতে পারে। তবে এর অর্থ আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা নয়। প্রতিটি আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সুরক্ষার প্রয়োজন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার নিয়ম রয়েছে।   ইউরোপে সামগ্রিক আশ্রয় আবেদন কমার পেছনে সিরিয়ার পরিস্থিতির পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটির নাগরিকদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসীদের উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় সামগ্রিক প্রবাহেও পরিবর্তন এসেছে।   ইইউএএ-এর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রথম ধাপের নিষ্পত্তি হওয়া আশ্রয় আবেদনের মধ্যে ৩১ শতাংশে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা জুনের শেষে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।   বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নিয়মের প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে নিরাপদ উৎসদেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং কম অনুমোদনের হারের কারণে দ্রুততর আশ্রয় প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় নতুন আবেদনকারীদের জন্য সিদ্ধান্ত পাওয়ার সময় ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কারও আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
অস্ট্রিয়ার স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ, না মানলে জরিমানা ৮০০ ইউরো

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের স্কুলে হিজাব বা ইসলামি রীতিতে মাথা ঢাকার কাপড় পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্কুলেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। আইনটি নিয়ে দেশটির মুসলিম সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তি রয়েছে এবং বিষয়টি সাংবিধানিক আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   অস্ট্রিয়ার সংশোধিত স্কুলশিক্ষা আইনের ৪৩এ ধারায় বলা হয়েছে, ১৪ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ছাত্রী স্কুলে ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথা আবৃত করে এমন হেডস্কার্ফ পরতে পারবে না। তবে স্কুলের বাইরে অনুষ্ঠিত শিক্ষা কার্যক্রম, বাড়িতে শিক্ষা এবং স্কুলের বাইরে আয়োজিত শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।   সরকারের ভাষ্য, আইনটির লক্ষ্য মুসলিম মেয়েদের স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সমতা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ওপর ধর্মীয় বা সামাজিক চাপ কমানো। ক্ষমতাসীন অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও নিওসের জোট সরকার এই আইন প্রণয়ন করে। পার্লামেন্টে এটি পাস হওয়ার সময় ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টিও সমর্থন দেয়।   তবে দেশটির প্রধান মুসলিম সংগঠন ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া বা আইজিজিও এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির মতে, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ তৈরি করছে এবং বিশেষভাবে মুসলিম ছাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা মনে করে, শিশুদের সুরক্ষার কথা বলা হলেও এই পদক্ষেপ উল্টো সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   আইজিজিও জানিয়েছে, নতুন আইনের কারণে কোনো ছাত্রী বা পরিবারের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তারা আইনি সহায়তা দেবে। সংগঠনটি আইনটি সাংবিধানিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।   এর আগে অস্ট্রিয়ায় স্কুলে মাথা ঢাকার কাপড় নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আদালতের বাধার মুখে পড়েছিল। ২০২০ সালে দেশটির সাংবিধানিক আদালত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য আগের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। আদালত তখন বলেছিল, ওই বিধান একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর শিশুদের আলাদাভাবে প্রভাবিত করে এবং রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   নতুন আইন নিয়ে আইজিজিওর করা আগের দুটি আবেদনও জুলাইয়ে আদালত গ্রহণ করেনি। তবে এর কারণ ছিল আইনটি তখনো কার্যকর না হওয়া। অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত জানায়, ১ সেপ্টেম্বর আইন কার্যকর হওয়ার আগে আবেদনকারীরা সরাসরি ওই আইনের আওতায় পড়ছিলেন না। ফলে তখন তাদের আবেদন করার আইনি যোগ্যতা তৈরি হয়নি।   আইন কার্যকর হওয়ার পর স্কুলগুলোতে নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমবার কোনো ছাত্রী হিজাব পরে স্কুলে এলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে তা খুলে ফেলতে বলবে এবং ছাত্রী ও তার অভিভাবকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। পুনরায় নিয়ম ভাঙলে শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং আরও একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। একাধিকবার নিয়ম ভাঙার পর শেষ পর্যায়ে অভিভাবকের ওপর ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। জরিমানা আদায় করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের বিকল্প কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।   নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, শিক্ষকদের ওপর এমন একটি নিয়ম কার্যকর করার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলে তাদের মূল শিক্ষাদান কার্যক্রমে চাপ বাড়তে পারে। বিরোধী গ্রিন পার্টির রাজনীতিক সিগি মাউরারও শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায় চাপানোর সমালোচনা করেছেন।   অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টফ ভিডারকেয়ার স্বীকার করেছেন, আইনটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তার দাবি, আইনটি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাপক পরামর্শ করেছে।   নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ভিয়েনায় এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার হিজাব, আমার পছন্দ’। আইনটির বিরোধীরা বলছেন, ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশু ও পরিবারের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।   অস্ট্রিয়ার নতুন শিক্ষাবর্ষ ৭ সেপ্টেম্বর ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া ও বুর্গেনল্যান্ডে শুরু হয়েছে। দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের স্কুলগুলো পরবর্তী সপ্তাহে খুলছে। ফলে নতুন আইনটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং এর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জে আদালতের অবস্থান কী হয়, তা এখন নজরে রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউ অ্যারা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইউরোপ যাত্রায় বাধা, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬
ইউরোপ যাত্রায় বাধা, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

ইউরোপের অন্য দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৯৬ জনকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।   স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিস্ত্রিকা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত পুলিশ এবং রিপাবলিকা শ্রপস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।   দেশটির সংবাদমাধ্যম সারায়েভো টাইমস ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বলকান অঞ্চলের সংবাদমাধ্যম দ্য ফার্স্ট বলকানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিক। বিস্ত্রিকা এলাকাটি বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ গ্রাদিস্কা সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছাকাছি।   কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম অভিযানে মোট ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানি এবং ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালিয়ে আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জন আফগান, ১৩ জন বাংলাদেশি এবং দুজন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন।   পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে বসনিয়া হয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় স্থলপথের পাশাপাশি নৌপথ ব্যবহার করে নদী পার হওয়ারও চেষ্টা করা হয়। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পারাপারে ব্যবহৃত কয়েকটি নৌকা জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।   এ ঘটনায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   আটকদের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বানিয়া লুকা অঞ্চলের ‘সার্ভিস ফর ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স ফিল্ড সেন্টার’-এ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের স্বার্থে প্রসিকিউটর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বলকান রুটে অবৈধ সীমান্ত পারাপারের ঘটনা প্রায় ৭৪ শতাংশ কমেছে।   তবে সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় মানবপাচারকারীরা আরও গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার ও দাতব্য সংস্থাগুলো।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রার্থী দেশ হিসেবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওপর সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চাপ রয়েছে। এ কারণে ফ্রন্টেক্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় গ্রাদিস্কা সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক এই দুই অভিযান থেকে স্পষ্ট, কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও উন্নত জীবনের আশায় বলকান রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
বছরের পর বছর না খেয়ে একই জায়গায় থাকে ৭ বছর
প্রায় ১০০ বছর বাঁচে গুহার এই প্রাণী! বছরের পর বছর না খেয়ে একই জায়গায় থাকে ৭ বছর

ইউরোপের ভূগর্ভস্থ গুহায় বসবাসকারী ওলম পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত উভচর প্রাণীদের একটি। ফ্যাকাশে গোলাপি রঙের এই অন্ধ সালামান্ডার সারাজীবন পানির নিচে থাকে, শ্বাস নেওয়ার জন্য বাহ্যিক ফুলকার মতো গিল ধরে রাখে এবং খাবারের অভাবেও দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে।    স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ইতালির কার্স্ট অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলাধার ও গুহায় ওলমের দেখা মেলে। সম্পূর্ণ অন্ধকার পরিবেশে দীর্ঘ বিবর্তনের ফলে প্রাণীটির চোখ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়নি এবং পরে চামড়ায় ঢাকা পড়ে যায়। তবে আলো অনুভব করার ক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি। দিক নির্ধারণ ও শিকার খুঁজতে এটি রাসায়নিক সংকেত, পানির প্রবাহ, শব্দ এবং অন্যান্য অদৃশ্য ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভর করে।    ওলমকে বিশেষ করে আলাদা করে তার জীবনচক্র। বেশিরভাগ উভচর প্রাণীর মতো পূর্ণাঙ্গ রূপে রূপান্তরিত হওয়ার বদলে এটি লার্ভা অবস্থার বৈশিষ্ট্য ধরে রাখে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও বাহ্যিক গিল থাকে এবং পুরো জীবন পানির নিচেই কাটায়। প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এই প্রাণী।    ভূগর্ভস্থ গুহায় খাবারের উৎস খুবই সীমিত। সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওলম অত্যন্ত ধীর বিপাকক্রিয়া এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনুকূল পরিস্থিতিতে এটি বহু বছর খাবার ছাড়াই টিকে থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় প্রায় এক দশক পর্যন্ত না খেয়ে বেঁচে থাকার সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।    এর চলাফেরাও বিস্ময়করভাবে সীমিত। আট বছর ধরে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার একটি প্রাকৃতিক গুহা-জনসংখ্যার ওপর চালানো গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অনেক ওলম কয়েক বছর ধরে মাত্র কয়েক মিটারের মধ্যেই অবস্থান করেছে। গবেষণায় পর্যবেক্ষণ করা একটি ওলমকে ২ হাজার ৫৬৯ দিন পর আবার একই জায়গায় পাওয়া যায়, অর্থাৎ প্রায় সাত বছর পরও সেটি কার্যত একই অবস্থানে ছিল।    এই গবেষণায় দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক ওলম সাধারণত অত্যন্ত স্থির জীবনযাপন করে। কয়েক বছর ধরে পর্যবেক্ষণে অনেক প্রাণীর চলাচল ছিল ১০ মিটারেরও কম। গবেষকদের মতে, খুব কম খাবারের পরিবেশে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা এবং কম শক্তি ব্যয়ের জীবনধারার সঙ্গে এই স্থির আচরণের সম্পর্ক থাকতে পারে।    দীর্ঘায়ুও ওলমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গবেষণায় প্রাণীটির সম্ভাব্য আয়ু ১০০ বছরের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। একটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণে বন্দি ওলমের সর্বোচ্চ বয়স প্রায় ৪৮ থেকে ৫৮ বছর পাওয়া গেলেও, বেঁচে থাকার হার বিশ্লেষণ করে গবেষকরা সর্বোচ্চ আয়ু ১০০ বছরের বেশি হতে পারে বলে অনুমান করেছেন।    বৃষ্টির পর গুহার ভূগর্ভস্থ পানি বেড়ে গেলে কখনও কখনও ওলম পানির স্রোতে বাইরে চলে আসে। এ কারণেই ইউরোপের স্থানীয় লোককথায় বহুদিন ধরে প্রাণীটিকে পাহাড়ের ভেতরে থাকা ড্রাগনের বাচ্চা বলে মনে করা হতো। স্লোভেনিয়ায় এখনো ওলমকে ঘিরে এই ‘বেবি ড্রাগন’ ধারণা জনপ্রিয়।    তবে রহস্যময় এই প্রাণীটি এখন পরিবেশগত ঝুঁকির মুখেও রয়েছে। ওলমের ভূগর্ভস্থ আবাসস্থল ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পানি দূষণ তাদের জন্য বড় হুমকি। ইউরোপের উভচর প্রাণীদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও ভূগর্ভস্থ পানির দূষণকে ওলমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   অন্ধকার গুহায় বসবাস, সারাজীবন লার্ভার বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা, বছরের পর বছর না খেয়ে বেঁচে থাকা এবং প্রায় নড়াচড়া না করে দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকার ক্ষমতা ওলমকে বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী উভচর প্রাণীতে পরিণত করেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইউরোপে তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১৬ হাজার মৃ ত্যু, তবু এসি ব্যবহারে রাজি নন অনেক ইউরোপীয়
ইউরোপে তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১৬ হাজার মৃ ত্যু, তবু এসি ব্যবহারে রাজি নন অনেক ইউরোপীয়

ইউরোপে সাম্প্রতিক ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মাত্র এক সপ্তাহে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেলজিয়ামের একটি অঞ্চলে একদিনে এত বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যা করোনা মহামারির চূড়ান্ত পর্যায়ের রেকর্ডকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তীব্র এই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা ও বিপুল মৃত্যুর পরও স্থানীয় বাসিন্দারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি (AC) ব্যবহারে চরম অনীহা প্রকাশ করছেন। তাদের সোজা কথা, আরামের জন্য তারা কোনোভাবেই 'আমেরিকানদের মতো' হতে চান না!   নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুনের শেষদিকে বেলজিয়ামের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা ওয়ালোনিয়াতে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। সেখানে গত ২৮ জুন মাত্র একদিনেই ৩১৩ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যেখানে ২০২০ সালের নভেম্বরে কোভিডের সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময়ও দৈনিক মৃত্যু ছিল ২৪৫ জন।   জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথম দিক পর্যন্ত এই অঞ্চলে প্রত্যাশিত মৃত্যুর চেয়ে ৭৭ শতাংশ বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে, অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। স্বাস্থ্যসেবা ফেডারেশনের মহাপরিচালক ডা. ফিলিপ ডেভোস জানান, ওয়ালোনিয়ার প্রায় অর্ধেক জরুরি বিভাগে কোনো এসি নেই।   অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে জরুরি সেবার হটলাইনে কল করলেও তা সংযোগ হতে ১০ মিনিটের বেশি সময় লেগেছে। এমনকি মৃতদেহগুলোর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় অনেক অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় সারিবদ্ধভাবে শুইয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অতিরিক্ত এই মৃত্যুর ৮৫ শতাংশেরই বয়স ছিল ৬৫ বছরের বেশি। বিশেষ করে যারা একা বসবাস করতেন, এমন নিম্ন আয়ের বয়স্করাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন।   এত বিপুল প্রাণহানি ও চিকিৎসকদের সতর্কবার্তার পরও এসি ব্যবহারের প্রতি ইউরোপীয়দের নেতিবাচক মনোভাব বদলায়নি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে এসি রয়েছে, সেখানে ইউরোপে এই হার গড়ে মাত্র ২০ শতাংশ। এমনকি ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোতে এসি ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যা মাত্র ৪ থেকে ৬ শতাংশ।   বেলজিয়ামের চিকিৎসক টুন সিসেন্সের মতে, সেখানকার অনেকেই মনে করেন এসি ব্যবহার করলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়বেন, জীবাণু ছড়াবে এবং পরিবেশের চরম ক্ষতি হবে।   বেলজিয়াম গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিলস ভ্যানভোলসেম জানান, সাংস্কৃতিকভাবে এটি একটি শীতপ্রধান দেশ হওয়ায় মানুষ ঘর ঠান্ডা করার চেয়ে গরম রাখার বিষয়েই বেশি অভ্যস্ত।   ওয়ালোনিয়ার আবাসন ও জ্বালানি মন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঢালাওভাবে এসি ব্যবহার করা তাদের দীর্ঘমেয়াদী কোনো কৌশল নয়। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ব্যাপকভাবে এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ পড়বে এবং যন্ত্রের নির্গত গরম বাতাসে শহরগুলো উল্টো আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। তাই এসির বিকল্প হিসেবে তারা বিশেষ ‘কুলিং স্পেস’ তৈরি ও পরিবেশবান্ধব আবাসন সংস্কারের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরাসমাস মুন্ডাসে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ, যেভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আবেদন করবেন
ইরাসমাস মুন্ডাসে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ, যেভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আবেদন করবেন

ইউরোপের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, টিউশন ফিসহ বিভিন্ন খরচে আর্থিক সহায়তা এবং মাসিক স্কলারশিপ, সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স অন্যতম আকর্ষণীয় স্কলারশিপ। তবে কোন প্রোগ্রাম বেছে নেবেন, কীভাবে আবেদন করবেন, মোটিভেশন লেটার ও সিভি কেমন হবে কিংবা রেকমেন্ডেশন লেটারে কী থাকা প্রয়োজন, এসব নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায়ই নানা প্রশ্ন থাকে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির অধীনে পরিচালিত ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স মূলত আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত মাস্টার্স প্রোগ্রাম। একটি প্রোগ্রাম সাধারণত বিভিন্ন দেশের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম পরিচালনা করে। ফলে একজন শিক্ষার্থী একই ডিগ্রির অংশ হিসেবে একাধিক দেশে এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন।   বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ইইউ অর্থায়িত স্কলারশিপ মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত দেওয়া হয়। স্কলারশিপে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের খরচের পাশাপাশি ভ্রমণ, ভিসা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ে সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাস্টার্স প্রোগ্রামগুলো সাধারণত এক থেকে দুই শিক্ষাবর্ষের হয়ে থাকে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপ নতুন নয়। ইরাসমাস মুন্ডাসে বাংলাদেশ অতীতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১৩৯ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইরাসমাস প্লাস স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। ইইউর আরেকটি তথ্যে ২০২১ সালের ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্সে ১৫২ বাংলাদেশি নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়, যা বাংলাদেশকে সে সময় বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রেখেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বাংলাদেশ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বাংলাদেশ গত বছর বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পেয়েছে এমন দাবির পক্ষে সর্বশেষ প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য থেকে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আবেদনকারীদের দেশভিত্তিক র‌্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে নিজের আবেদন শক্তিশালী করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   আবেদনের প্রথম ধাপ সঠিক প্রোগ্রাম নির্বাচন। একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, আগ্রহ, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের যোগ্যতার শর্তের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইরাসমাস মুন্ডাসের প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়, ভর্তির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং আবেদনের সময়সীমা দেওয়া থাকে।   সাধারণভাবে আবেদনকারীকে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী হতে হয়। ব্যাচেলরের শেষ বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন, তবে মাস্টার্স প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই তাদের স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ব্যাচেলর সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।   আবেদন একটি কেন্দ্রীয় ফর্মের মাধ্যমে করা হয় না। শিক্ষার্থীকে পছন্দের ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি আবেদন করতে হয়। বেশির ভাগ প্রোগ্রামের আবেদন অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে নেওয়া হয়। তবে ডেডলাইন ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রোগ্রামভেদে আলাদা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মোটিভেশন লেটার বা এসওপি। এখানে শুধু বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেই যথেষ্ট নয়। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামটি বেছে নেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীর আগের পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেটির সম্পর্ক কী এবং ডিগ্রি শেষে অর্জিত জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগাতে চান, সেগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।   সিভিতেও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের পরিবর্তে একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, চাকরির অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, স্বেচ্ছাসেবী কাজ ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে রেকমেন্ডেশন লেটার এমন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ভালো, যিনি আবেদনকারীর একাডেমিক বা পেশাগত সক্ষমতা সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে লিখতে পারবেন। তবে কতটি রেকমেন্ডেশন প্রয়োজন এবং কার কাছ থেকে নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম দেখে নিশ্চিত হতে হবে।   শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। প্রতিযোগিতামূলক এই স্কলারশিপে পুরো অ্যাপ্লিকেশন প্রোফাইলের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে সম্পর্কহীন প্রোগ্রামে আবেদন, একই মোটিভেশন লেটার সব প্রোগ্রামে ব্যবহার, ডেডলাইনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ঠিকভাবে না পড়া আবেদনকে দুর্বল করে দিতে পারে।   বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ইরাসমাস মুন্ডাস নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিভিন্ন গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। বিল্লাল হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ পর্বের একটি গাইডে সার্বিক আবেদন প্রক্রিয়া, ফাইন্যানশিয়াল সুবিধা, সঠিক প্রোগ্রাম ও ইউনিভার্সিটি কনসোর্টিয়াম নির্বাচন, মোটিভেশন লেটার, নমুনা এসওপি, সিভি, রেকমেন্ডেশন লেটার, ডকুমেন্টেশন, বিভিন্ন বিষয়ের প্রোগ্রাম এবং আবেদনের সাধারণ ভুল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে Billal Beyond Borders-এর মাধ্যমে স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার অ্যাডমিশন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও গাইডলাইন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।   ২০২৬ সালে নতুন করে ৩৭টি ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। এসব নতুন মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী আবেদন ২০২৬ সালের শরৎ থেকে শুরু হওয়ার কথা। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকেই প্রোগ্রাম খোঁজা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা এবং নিজের একাডেমিক ও পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স বাছাই করার উপযুক্ত সময়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ
বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ! লন্ডন থেকে স্পেন মাত্র ২৬৫ পাউন্ডে

উড়োজাহাজে চড়ার ভয় কিংবা আকাশপথ এড়িয়ে ইউরোপ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলে যুক্তরাজ্য থেকে স্পেন যাওয়ার বিকল্প হতে পারে রেলপথ। লন্ডন থেকে ফ্রান্সের প্যারিস ও স্পেনের বার্সেলোনা হয়ে ট্রেনেই পৌঁছানো যায় দক্ষিণ স্পেনের জনপ্রিয় পর্যটন শহর মালাগায়। তবে এই যাত্রায় সময় লাগবে বেশি এবং পথে অন্তত এক রাত থাকার পরিকল্পনা করাই সুবিধাজনক।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে ক্লেয়ার নামের এক নারীর এমন একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত উড়োজাহাজ ছাড়াই ট্রেনে যাওয়ার সম্ভাব্য রুট, সময় ও খরচের হিসাব দিয়েছেন।   যাত্রার প্রথম ধাপ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল স্টেশন থেকে প্যারিস। ইউরোস্টারের সরাসরি ট্রেনে লন্ডন থেকে প্যারিস পৌঁছাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লাগে। ইউরোস্টারের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এই রুটে আগাম বুকিং করলে তুলনামূলক কম দামের টিকিট পাওয়া যায়। তবে ভ্রমণের দিন ও চাহিদার ওপর ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।   প্যারিসে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের গার দু নর্দ স্টেশন থেকে গার দ্য লিওঁ স্টেশনে যেতে হবে। সেখান থেকেই বার্সেলোনাগামী দ্রুতগতির ট্রেন ছাড়ে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, প্যারিস থেকে দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন রাত ৯টা ৩২ মিনিটে বার্সেলোনা সান্তস স্টেশনে পৌঁছায়।   চাইলে একই দিনে লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করে প্যারিস হয়ে বার্সেলোনায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে প্যারিসে ট্রেন পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা ধীরগতিতে ভ্রমণ করতে চান, তারা প্যারিসে এক রাত থেকে পরদিন বার্সেলোনার পথে রওনা দিতে পারেন।   বার্সেলোনায় পৌঁছে সান্তস স্টেশনের আশপাশে রাত কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ক্লেয়ারের দেওয়া উদাহরণে প্রায় ৬৫ পাউন্ডে থাকার ব্যবস্থা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে হোটেলের ভাড়া নির্দিষ্ট নয়। মৌসুম, বুকিংয়ের সময় এবং কক্ষের প্রাপ্যতার ওপর এটি কম বা বেশি হতে পারে।   সময় হাতে থাকলে বার্সেলোনায় এক রাতের বদলে দুই রাত অবস্থান করেও যাত্রা সাজানো যায়। এতে মালাগায় যাওয়ার আগে শহরটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। একই রেলপথের আশপাশে ফিগেরেস ও জিরোনার মতো শহরও রয়েছে, ফলে পুরো যাত্রাকে শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম না রেখে ইউরোপ ঘুরে দেখার অংশ হিসেবেও সাজানো সম্ভব।   বার্সেলোনা থেকে মালাগায় সরাসরি দ্রুতগতির ট্রেন রয়েছে। এই অংশের যাত্রায় কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ট্রেনের সময়সূচি দিন ও সেবাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট রেল অপারেটরের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে টিকিট বুক করা প্রয়োজন।   ক্লেয়ারের উদাহরণভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট এবং পথে এক রাতের থাকার খরচ মিলিয়ে প্রায় ২৬৫ পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। তার হিসাবে লন্ডন থেকে প্যারিসের টিকিট প্রায় ৪৯ পাউন্ড, প্যারিস থেকে বার্সেলোনা প্রায় ৮৯ পাউন্ড এবং বার্সেলোনা থেকে মালাগার টিকিট প্রায় ৫৮ পাউন্ড ধরে হিসাব করা হয়েছে।   তবে ২৬৫ পাউন্ডকে এই ভ্রমণের নির্দিষ্ট খরচ হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। রেলের টিকিটের মূল্য অনেকটাই নির্ভর করে কত আগে বুকিং করা হচ্ছে, কোন দিনে ভ্রমণ করা হচ্ছে, আসনের চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট রেল কোম্পানির ভাড়ার ওপর। হোটেলের খরচও একইভাবে পরিবর্তনশীল।   উড়োজাহাজের তুলনায় এই যাত্রায় সময় অনেক বেশি লাগলেও এর একটি আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শহরে যাতায়াতের বদলে লন্ডন, প্যারিস ও বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন ব্যবহার করে ধাপে ধাপে মালাগায় পৌঁছানো যায়। ফলে যাদের হাতে সময় আছে এবং যাত্রাপথকেও ভ্রমণের অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে দেখতে চান, তাদের জন্য লন্ডন থেকে মালাগার এই রেলপথ হতে পারে আকাশপথের একটি ব্যতিক্রমী বিকল্প।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
চীনের জিনহুয়ায় লিপমোটরের উৎপাদন লাইনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি ইতালি সরকারের ক্রয়ের অনুদান প্রকল্প ব্যবহার করে বিক্রি বাড়ানোয় ভূমিকা রেখেছে। ছবি: ভিসিজি/গেটি
ইউরোপের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের দাপট বাড়ছে

ইউরোপের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পশ্চিম ইউরোপের বাজারে চীনা ব্র্যান্ডের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ বেড়ে ১৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ওই সময়ে বিক্রি হওয়া প্রতি সাতটি ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির একটি ছিল চীনা ব্র্যান্ডের। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান শ্মিট অটোমোটিভ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে চীনা ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০টি, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বাজার অংশে প্রায় পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি।   চীনের বিওয়াইডি, চেরি, এসএআইসি ও এক্সপেংয়ের মতো গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে চীনা শিল্পের সম্প্রসারণের মধ্যেই ইউরোপে এসব গাড়ির বিক্রি বাড়ছে। একই সময়ে কঠোর নির্গমন নীতির কারণে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদেরও ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়াতে হচ্ছে। ফলে চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ইউরোপের প্রচলিত গাড়ি নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়ছে।   চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়ার বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে এসব গাড়ির ওপর শুল্ক এবং বাজার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করছে। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি পাওয়া চীনা গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাজারে তুলনামূলক কম দামে গাড়ি বিক্রি করে বাজার দখলের চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় নির্মাতাদের সুরক্ষায় কোটার ব্যবস্থা ও আরও বেশি শুল্ক আরোপের দাবিও জোরালো হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে কিছু চীনা নির্মাতার তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর সঙ্গে নিয়মিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কও রয়েছে।   ইউরোপে চীনা গাড়ির সবচেয়ে বড় বাজার এখন যুক্তরাজ্য। দেশটির সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ না করায় যুক্তরাজ্যে চীনা গাড়ির বিক্রি বেশি হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপের ১৮টি বড় বাজারে চীনা ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির মোট বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশই যুক্তরাজ্যে হয়েছে। অন্যদিকে মোট বিক্রির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে ইতালি থেকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য ইতালির এই উচ্চ বিক্রয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেছে। দেশটিতে লিপমোটর বিপুলসংখ্যক কম দামের টি০৩ বৈদ্যুতিক গাড়ি পাঠিয়েছে। সরকারি ক্রয় ভর্তুকির সুবিধায় একপর্যায়ে এসব গাড়ির দাম ৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত নেমে এসেছিল, যা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর কম দামের মডেলের তুলনায়ও অনেক কম।   চীনা নির্মাতারা চলতি বছর ইউরোপের বাজারে ১২০টিরও বেশি ভিন্ন মডেলের গাড়ি বিক্রি করেছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর মডেলের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০টি। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিয়াস শ্মিট মনে করছেন, ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের অংশ হয়তো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর একটি কারণ হিসেবে তিনি চীনা নির্মাতাদের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির দিকে কিছুটা বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এসব গাড়িতে পেট্রোলচালিত ইঞ্জিনের সঙ্গে তুলনামূলক ছোট ব্যাটারি থাকে এবং বর্তমানে শুধু ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর যে অতিরিক্ত শুল্ক রয়েছে, তা এসব গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   শ্মিটের মতে, চীনা নির্মাতারা আগামী ১২ মাসে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে, কারণ এসব গাড়ি বর্তমানে অতিরিক্ত শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে। তবে আগামী ১২ মাসে এই সুবিধা বন্ধ হওয়ার কথা থাকায় চীনা নির্মাতারা ওই সময়ের মধ্যে সুযোগটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। এদিকে জার্মান গাড়ি নির্মাতা ভক্সওয়াগেনের প্রধান নির্বাহী অলিভার ব্লুম ইউরোপের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও শুল্ক ব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও শুল্ক বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।   এদিকে ইউরোপের গাড়ির বাজারে টেসলার বিক্রিতেও ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই গাড়ি নির্মাতার বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম দামের মডেল থ্রি ও মডেল ওয়াইয়ের চাহিদা বাড়ায় এই বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া একক গাড়ির মডেল ছিল মডেল ওয়াই। গত বছর টেসলার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে চলতি বছর ইউরোপের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রিতে আবারও বৃদ্ধি দেখা গেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০