ইসরায়েল

থাইল্যান্ডের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ‘ময়ূরী নারী’ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের হামলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছবি: এএফপি
পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলকে সতর্ক করল ইরান

পারস্য উপসাগরে ব্যক্তিগত মালিকানার জাহাজে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটির অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেসরকারি ও যাত্রীবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইরানের দাবি, তাদের সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখে ব্যর্থ হয়ে হতাশা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল এমন হামলা চালাচ্ছে।   এ বিষয়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে কঠোর প্রতিশোধমূলক জবাব দেওয়া হবে।   ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ১৬টি তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটির দায় ইরান স্বীকার করলেও বাকি ঘটনাগুলোর জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।   গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ হরমুজ প্রণালি-কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
উত্তর ইসরায়েলে আজ শনিবার বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজার সময় ইসরায়েলি সেনাদের প্রতিক্রিয়া। ছবি: রয়টার্স
লেবানন থেকে রকেট হামলা, উত্তর ইসরায়েলে দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

লেবানন থেকে ছোড়া রকেটের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানায়, সীমান্তবর্তী শহর মেতুলা লক্ষ্য করে প্রায় ১০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি রকেট আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হলেও বাকিগুলো খোলা জায়গায় পড়ে।   হামলার সময় উত্তরাঞ্চলের গ্যালিলি এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিয়ত আহরোনোত জানিয়েছে, রকেটের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে মেতুলার একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   এ ছাড়া জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম নিশ্চিত করেছে, সাফেদ শহরের আরেকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর ইসরায়েলের সাফেদে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সাফেদ-এ রকেট হামলা চালিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। শনিবার ঘণ্টাখানেক আগে ছোড়া একটি রকেট শহরটিতে আঘাত হানে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।   হামলায় একটি সড়ক এবং আশপাশের কয়েকটি ভবনে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল–লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ হামলাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, পাল্টা ড্রোন হামলার দাবি

ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের আকাশসীমায় তাদের বিমানবাহিনীর একটি অভিযান চলাকালে এই ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। তবে ঠিক কখন এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রাম-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ক্রু সদস্যরা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। এতে কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান সম্পন্ন হয়।   অন্যদিকে তেহরান দাবি করেছে, তারা তেল আবিব-এর কাছে অবস্থিত বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় জ্বালানি ট্যাংক ও একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, এ হামলায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু সেনা সদস্যকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যৌথভাবে এই হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   উল্লেখ্য, তেল আবিবের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা, যেখানে যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলের একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা। ১৩ মার্চ, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
এক দিনে রেকর্ড ৫৫ হামলা: হিজবুল্লাহর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল

লেবানন সীমান্ত ও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে এক দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর রেকর্ড ৫৫টি হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এটি হিজবুল্লাহর ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ হামলার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   লেবাননের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে হিজবুল্লাহর হামলার মুখোমুখি হন। এই সময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় খিয়াম ও তাইবেহ এলাকায় হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলমান রয়েছে।   রাজধানী বৈরুৎ-এও আজ দুটি শক্তিশালী হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।   লেবাননে নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতির মুখে রয়েছে, এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা, তেজস্ক্রিয় ছড়ানোর আশঙ্কা নেই

ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত নাতানজ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।   ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো তেজস্ক্রিয় উপাদান ছড়িয়ে পড়েনি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।   রাজধানী তেহরান ও ইসফাহান-এর মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাটির আশপাশের বাসিন্দারা নিরাপদ রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছিল, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর নাতানজ কেন্দ্রটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   তবে সর্বশেষ হামলার পরও তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।   তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তেল আবিবের কাছে ইসরায়েলি শহরে ইরানের ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের একটি শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরান থেকে ছোড়া ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র। এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম The Times of Israel।   প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের রিশন লেজিওন শহরের অন্তত তিনটি স্থানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের বোমা আঘাত হানে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রে সাধারণত একাধিক ছোট বোমা থাকে—যেগুলো বিস্ফোরণের পর বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি বোমার ওজন প্রায় আড়াই কেজি পর্যন্ত হতে পারে, ফলে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।   এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ফলে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এই হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১৯৬৭ সালের পর প্রথমবার: ঈদের দিনে বন্ধ আল-আকসা, রাস্তায় নামাজ আদায় মুসল্লিদের

ঐতিহাসিক নজির ভেঙে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ঈদুল ফিতরের দিনে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথমবার ঈদের দিনে মুসল্লিদের জন্য মসজিদটি বন্ধ রাখা হলো বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনারা মসজিদের প্রধান ফটকগুলো বন্ধ করে দিলে শত শত ফিলিস্তিনি মুসল্লি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তারা মসজিদের প্রবেশদ্বার ও আশপাশের সড়কে ঈদের নামাজ আদায় করেন।   শুক্রবার থেকে মসজিদের ভেতরের চত্বরে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মুসল্লিরা দামেস্ক গেট এলাকায় জড়ো হয়ে নামাজ আদায় করেন, যেখানে গিয়ে তারা তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থান নিতে পেরেছেন।   এ ঘটনায় জেরুজালেম গভর্নরেট তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ এবং ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন করে ‘ইহুদিকরণ’ বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং মসজিদটিকে ফিলিস্তিনি ও ইসলামি পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর গত ২১ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ-এ মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে।   অন্যদিকে, গাজা উপত্যকা-য় ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ঈদ পালন করেছেন ফিলিস্তিনিরা। খোলা জায়গা ও ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে তারা নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ১ হাজার ২৪০টি মসজিদের মধ্যে ১ হাজার ১০০টির বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ক্ষাপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান।
ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে একযোগে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলার সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত দুই ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে এসেছে। এর ফলে দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও কুয়েতেও একাধিক বিস্ফোরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম দেখা গেছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচণ্ড শব্দগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সফল প্রতিরোধ অভিযান। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছেন, তারা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে।   সৌদি আরবও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বদিকের আকাশসীমায় অন্তত ছয়টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।   এই হামলাগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় পাল্টা আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের কঠোর প্রতিশোধের প্রতিফলন। ইরান দাবি করছে, তারা মার্কিন সম্পদ ও মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা পরিচালনা করেছে।   বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দেশগুলোতে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।   সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
গত শুক্রবার দক্ষিণ সিরিয়ায় হামলা চালায় ইসরায়েল।
সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বললো সৌদি আরব

সিরিয়ার সরকারি সামরিক শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার (২১ মার্চ) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।   এএফপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ এই আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ইসরায়েলি আইন লঙ্ঘনের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্কও সৌদি আরবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই হামলাকে একটি ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত শুক্রবার দাবি করেছিল, সিরিয়ার সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার জবাবে তারা দক্ষিণ সিরিয়ায় এই আক্রমণ চালিয়েছে। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, তারা সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। তবে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই যুক্তিকে ‘বানোয়াট অজুহাত’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।   দামেস্কের মতে, এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর একটি জঘন্য আঘাত। গত বছরও ইসরায়েল একই ধরনের অজুহাতে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছিল, যা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করেছে।   সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সুয়েইদা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চারজন দ্রুজ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এরপর ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে সুয়েইদা শহরের আবাসিক এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   যদিও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সরাসরি যুদ্ধ থেকে সিরিয়া এখন পর্যন্ত নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে, তবে এই নতুন হামলা দেশটিকে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত, তখন সিরিয়ায় এই নতুন ফ্রন্ট খোলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলের এই বেপরোয়া আচরণ এখনই থামানো। সিরিয়া এই হামলাকে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে।   রিয়াদ ও আঙ্কারার এই যৌথ অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো এখন ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার। যুদ্ধের এই পর্যায়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
নেতানিয়াহুর ‘সন্ত্রাস’ বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকি: এরদোয়ান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, এটি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক শান্তির জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ইস্তান্বুলে দেওয়া এক ভাষণে এরদোয়ান দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহুর উসকানিতে শুরু হওয়া ইরান-কেন্দ্রিক হামলাগুলো এই অঞ্চলের অস্থিরতাকে আরও গভীর করেছে।   তিনি ইসরায়েলি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একটি ‘জায়নবাদী গণহত্যা নেটওয়ার্ক’ গাজায় ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দস্যুপনা চালাচ্ছে। বর্তমানের এই কঠিন সময়ে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি জোর দেন।   এরদোয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইরান যুদ্ধের দোহাই দিয়ে ইসরায়েল মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ ইবাদতের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম তীরসহ অন্যান্য অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল তাদের অবৈধ বসতি স্থাপন এবং সম্প্রসারণবাদী নীতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।   লেবাননের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় সেখানে ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বজুড়ে চলমান রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণসহ নানা সংঘাতের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।   পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শোক ও কষ্টের মধ্যে থাকা মুসলিম উম্মাহ, বিশেষ করে গাজাবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন এরদোয়ান। তিনি বিশ্বাস করেন, ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব খুব শীঘ্রই এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে ইসলামি বিশ্ব এক সংকটময় পথ অতিক্রম করছে, যা বিভিন্ন বাধা, ষড়যন্ত্র এবং ফাঁদে পরিপূর্ণ।   এরদোয়ান আশ্বস্ত করেছেন যে, তুরস্ক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সংলাপ ও কূটনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে তাদের ‘সর্বোত্তম সামর্থ্য’ দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়ে এরদোয়ান একটি ইতিবাচক খবর দিয়ে জানান, তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ঈদ উপলক্ষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সাময়িক শান্তি যেন স্থায়ী রূপ নেয়।   তিনি দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে রক্তক্ষয় বন্ধ হওয়া এবং সাধারণ মানুষের শান্তিতে ঈদ পালন করতে পারার বিষয়টিকে স্বাগত জানান। তুরস্কের এই কূটনৈতিক সাফল্য মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। এরদোয়ানের এই বক্তব্য বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাবশালী অবস্থানকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
সংবাদ সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি (ডানে) ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। কাতারের রাজধানী দোহায়, ১৯ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ইরান প্রতিশোধের পথে, যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরায়েল: কাতারের প্রধানমন্ত্রী

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বর্তমান সংঘাত ‘ভয়াবহ উত্তেজনা’ তৈরি করেছে, তবে যুদ্ধের সূচনা করেছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার দোহার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।   আল থানি বলেন, ইরান প্রতিশোধ নিতে গিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে। তবে শত্রুতা অবিলম্বে বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা ছাড়া বিকল্প নেই।   সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদানও ইরানের হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলই যুদ্ধের সূচনাকারী। তবে ইরানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা রয়েছে যাতে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি না পায়।   উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনের ঠিক আগে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার সতর্ক সংকেত হিসাবে সাইরেন বাজে ওঠে। তবুও পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনটি সম্পন্ন হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা থেকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী উঠতে দেখা যাচ্ছে। ১৫ জুন ২০২৫। ছবি: রয়টার্স
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফার তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। হামলার ধ্বংসাবশেষের কারণে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   উত্তর ও মধ্য ইসরায়েল এবং জেরুজালেম অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) দেওয়া হয়েছে। তবে হামলার সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   গত বছর ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ১২ দিনের সংঘাতের সময়ও হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।   এর পাশাপাশি, ইসরায়েল বুধবার ভোরে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে বিমান হামলা চালায়। এই গ্যাসক্ষেত্রের একটি অংশ কাতারের। হামলার জবাবে ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।   ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন লেগেছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস কেন্দ্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
ইরানের দাবি: যুদ্ধ শুরুর পর ১৭৮ ‘মার্কিন-ইসরায়েলি গুপ্তচর’ গ্রেপ্তার

ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর দেশ দুটির হয়ে কাজ করা ১৭৮ জন সন্দেহভাজন গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিভিন্ন কেন্দ্র এবং সামরিক তল্লাশিচৌকির ছবি ও অবস্থান সংগ্রহ করে তা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠাচ্ছিলেন। এসব তথ্য হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।   আইআরজিসি আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র, অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র, বিশেষ যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।   পরবর্তী হামলাগুলোতেও দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব হামলায় অভ্যন্তরীণভাবে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তেহরান, যা গোয়েন্দা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রশ্নও সামনে এনেছে।   তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ইসরায়েল
দক্ষিণ পার্স হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এখন ইসরায়েলের হাতে?

ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি। এই হামলা কি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেতে হয়েছে, নাকি ইসরায়েল একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, দক্ষিণ পার্সে হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটনের ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এই হামলা সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতার কথা জানালেও, বিশ্লেষকরা তা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। এলমাসরি বলেন, "এমনটা ভাবা অস্বাভাবিক নয় যে ট্রাম্প সত্য গোপন করছেন এবং তার অনুমতি নিয়েই এই হামলা হয়েছে। আবার এটাও অসম্ভব নয় যে, নেতানিয়াহু আবারও তার চতুরতায় ট্রাম্প প্রশাসনকে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আর কিছু করার ছিল না।" বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অনেক দিকই মূলত ইসরায়েল নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি ট্রাম্পের নিজের কট্টর সমর্থক গোষ্ঠীও এখন ইসরায়েলের সঙ্গে এই অসম সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। এই হামলার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে এলমাসরি বলেন, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানে রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় সৃষ্টি করা এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়া। এর ফলাফল উপসাগরীয় দেশগুলো, ইউরোপ এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ ও 'বিপর্যয়কর' হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হেব্রনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ফিলিস্তিনি কিশোরীসহ তিন নারী নিহত

দখলকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রনে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরাসরি হেব্রনের একটি বিউটি স্যালনের ওপর এসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা 'ওয়াফা'র তথ্যমতে, নিহতরা হলেন ১৭ বছর বয়সী কিশোরী মাইস গাজী মুসালামেহ, ৫০ বছর বয়সী সাহেরা রিজক মুসালামেহ এবং ৩৬ বছর বয়সী আমাল সুবহি আবদেল করিম মুতাওয়া। ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি ধাতব ক্যারাভানে নির্মিত স্যালনের ওপর পড়লে ভেতরে থাকা আরও ১৩ জন নারী গুরুতর আহত হন। ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সুরক্ষিত শেল্টার বা বাঙ্কার থাকলেও, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য এমন কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং অস্থায়ী বসতিতে বসবাসের কারণে আকাশপথের যেকোনো হামলায় চরম ঝুঁকিতে থাকেন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।  এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি যুদ্ধের ডামাডোলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের চরম নিরাপত্তাহীনতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ইরানি মিসাইলের আঘাতে ৩ বিমান ধ্বংস

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে এবার ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ানে আছড়ে পড়ল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ।  বুধবার সকালে ঘটা এই বিস্ফোরণে বিমানবন্দরের রানওয়েতে থাকা অন্তত তিনটি ব্যক্তিগত বিমান (প্রাইভেট জেট) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (IAA) খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার সময় সেগুলোর জ্বলন্ত অংশ বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার ও রানওয়ে এলাকায় এসে পড়ে। কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র লিজা দ্ভির জানান, এই পতনের ফলে একটি বিমানে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায় এবং অন্য দুটি বিমান আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। টাইমস অফ ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার পর থেকে বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে, তবুও খোদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।  বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলে বিমান চলাচল বর্তমানে অনেকটাই সীমিত রাখা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় পুলিশের ওপর ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১১

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত অক্টোবর মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গাজা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। হামাস পরিচালিত এই পুলিশ বাহিনী বর্তমানে গাজার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছে। ইসরায়েলের এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গাজার বেসামরিক শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৮০০-এর বেশি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকেও কয়েক ডজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই হামলার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার মধ্য গাজার জাওয়াইদা এলাকায়। সেখানে একটি পুলিশ ভ্যানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য দাবি করেছে, তারা হামাসের একটি 'সশস্ত্র সেল'কে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যারা হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেহাম ওদা বলেন, "এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে চায় যে, গাজায় হামাসের কোনো ধরণের নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ তারা মেনে নেবে না। মূলত বেসামরিক শাসনব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়াই এসব হামলার লক্ষ্য।" অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই পুলিশ বাহিনীর ওপর এই আক্রমণ এক নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। হামাস চায় তাদের ১০ হাজার পুলিশ সদস্যকে নতুন প্রস্তাবিত নিরাপত্তা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে, কিন্তু ইসরায়েল সরাসরি এর বিরোধিতা করছে। গাজার সাধারণ মানুষ এই পুলিশ বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল। গাজা সিটির একটি তাবু শিবিরের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল-আরাইশা বলেন, "পুলিশ না থাকলে এখানে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো। তারা অপরাধ দমনে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করছে। তাদের ওপর এই হামলা মানে আমাদের নিরাপত্তার ওপর হামলা।" গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অক্টোবর মাসের যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ও হামলায় অন্তত ৬৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকট: বিদেশি জাহাজে তেল পরিবহনের অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের জেরে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। অভ্যন্তরীণ বন্দরে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কয়েক দশকের পুরনো আইনি সীমাবদ্ধতা সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ৬০ দিনের জন্য বহুল আলোচিত 'জোনস অ্যাক্ট' স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজগুলো আমেরিকার এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়লার মতো জরুরি পণ্য পরিবহন করতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা অনেকটাই লাঘব হবে। সাধারণত জোনস অ্যাক্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জলপথে পণ্য পরিবহনের জন্য কেবল মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু বর্তমান জরুরি অবস্থায় সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ওপর তেলের উচ্চমূল্যের চাপ কমাতে এই নিয়ম থেকে সরে এল বাইডেন প্রশাসন। যদিও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি স্বল্পমেয়াদী স্বস্তি দেবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়া কঠিন। আপাতত এই ৬০ দিনের শিথিলতা মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম কতটা কমাতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তেহরানে লারিজানি ও বাসিজ প্রধানের জানাজা সম্পন্ন: শোকে মুহ্যমান ইরান

ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি এবং আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানির জানাজা আজ বুধবার রাজধানী তেহরানে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন হামলায় নিহত নৌ-সেনাদের প্রতিও শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, আজকের জানাজা অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পুরো তেহরান জুড়ে আজ শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলী লারিজানি ও তার পুত্র নিহত হন। একই দিনে পৃথক এক হামলায় প্রাণ হারান বাসিজ প্রধান জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানি। গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েল এই হামলার দাবি করার পর ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর আগে গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন টর্পেডো হামলায় ইরানের রণতরী 'দেনা' ধ্বংস হলে ৮৪ জন নৌ-সেনা নিহত হয়েছিলেন, যাদের আজ শেষ বিদায় জানানো হলো। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এক বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দা বিষয়কমন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হয়েছেন। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। কাৎজ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সামরিক বাহিনীকে যেকোনো শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার পূর্ণ অনুমতি দিয়ে রেখেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হওয়ার পর থেকেই পারস্য উপসাগরীয় এই অঞ্চলে চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েল হামলা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৪৮

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আল জাজিরার লাইভ ট্র্যাকার এবং সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৩৪৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৭,০০০-এরও বেশি মানুষ। হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরে এ পর্যন্ত প্রায় ৬,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। যার মধ্যে তেহরান, ইসফাহান, শিরাজ এবং মিনাবের মতো প্রধান শহরগুলো রয়েছে। গতরাতেও তেহরানের কেন্দ্রস্থলে এবং সাদাবাদ প্রাসাদ কমপ্লেক্সের কাছে বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (IRCS) তথ্যমতে, হামলায় প্রায় ৪৩,০০০ বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬,৫০০টিই ছিল আবাসিক ভবন। মিনাবের স্কুলে মর্মান্তিক হামলা: দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (শাজারে তাইয়্যেবা স্কুল) ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলার তদন্ত করে নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের মধ্যে ১৬০ জনেরও বেশি ছিল স্কুলছাত্রী। এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। নেতৃত্বের সংকট ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কম্পাউন্ডে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরান সরকার। একই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং আইআরজিসি (IRGC) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বর্তমানে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা ও তেলের বাজার: ইরান এই হামলার পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মানবিক বিপর্যয়: জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধের ১৮তম দিনে এসে ইরানের ভেতরে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো সম্ভাব্য শরণার্থী সংকটের আশঙ্কায় সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে বলেছেন, "ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি, তবে আমরা কোনো ‘বুলিং’ বা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। আমাদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।" অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, ইরান একটি চুক্তিতে আসতে চায়, কিন্তু শর্তগুলো এখনো যথেষ্ট অনুকূলে না থাকায় তিনি যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রস্তুত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0