- প্রচ্ছদ
- Topic
ইসরায়েল
ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির। সর্বশেষ ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট ৫৩টি, বিরোধী ‘চেঞ্জ’ বা পরিবর্তন জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ মন্তব্য করেছেন যে, নেতানিয়াহুর সামনে নতুন করে সরকার গঠনের আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াইর লাপিদ নেতানিয়াহুর জোটের পাওয়া ৫৩টি আসনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, শত চেষ্টা করলেও তার পক্ষে এবার সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। বিদায়ী নেসেটে লিকুদ জোটের ৬৮টি আসন থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে লাপিদ বর্তমান ফলাফলকে নেতানিয়াহুর জন্য এক বড় বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ১৯৯৯ সালের পর এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৭৭.৭ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিকে বিরোধী জোটের জন্য ‘পয়েন্টের ভিত্তিতে জয়’ বা সামান্য ব্যবধানের জয় হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে সরকার গঠনের পথ যে বেশ কঠিন, তা স্বীকার করে তিনি সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। লাপিদ জানান, নির্বাচনী প্রচারণার চেয়ে জোট গঠনের আলোচনা সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা ক্যামেরার আড়ালে ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়। এদিকে নতুন সরকার গঠন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ডানপন্থী সরকার টিকিয়ে রাখতে এবং আরব দলগুলোর সমর্থনে সম্ভাব্য ‘বামপন্থী সরকার’ ঠেকাতে কট্টর ডানপন্থী জিউইশ পাওয়ার দলের নেতা ইতামার বেন-গভির এরই মধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে বিকল্প সরকার গঠনের লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার জন্য বিরোধী জোটের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইউনাইটেড আরব লিস্টের (রা’আম) শীর্ষ নেতা মানসুর আব্বাসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। বিরোধী জোট ও আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসন সংখ্যা ৬৭টি, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট। তবে আরব দলগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইসরায়েল বেইতেইনু দলের নেতা আভিগদোর লিবারম্যানের কড়া বিরোধিতাসহ বিরোধী নেতাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নেতানিয়াহু-বিহীন সরকার গঠনের পথে বর্তমানে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভারতীয় চিকিৎসকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নেতা ইয়োসি মিজরাহি। তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারত ও ইসরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে গরুর ধর্মীয় গুরুত্ব এবং ভারতীয়দের জীবনযাপন নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করছেন সমালোচকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিজরাহিকে ভারতের গরু পূজার প্রচলিত ধারণা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, ভারতের কিছু মানুষ গোমূত্র পান করেন এবং তাঁদের মধ্যে চিকিৎসকরাও রয়েছেন। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে গোমূত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উপহাস করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তাঁর এসব বক্তব্যের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সড়কে গরুর উপস্থিতি এবং এর কারণে যানজট তৈরির বিষয় নিয়েও তিনি রসিকতা করেন বলে জানা গেছে। সমালোচকদের মতে, একটি দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে এ ধরনের সাধারণীকরণ বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকদের মতো একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। ভারতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় অংশের কাছে গরু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ঐতিহ্যে গরুকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ভারতের সব হিন্দু একইভাবে ধর্মীয় আচার পালন করেন না। অঞ্চল, সম্প্রদায় ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী এসব রীতিনীতিতে পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোনো একটি প্রচলিত আচরণকে সমগ্র ভারতীয় জনগোষ্ঠীর অভ্যাস হিসেবে তুলে ধরা যথাযথ নয়। গোমূত্রের ব্যবহার নিয়েও ভারতে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। কিছু ঐতিহ্যগত ধর্মীয় ও লোকজ অনুশীলনে এর উল্লেখ থাকলেও তা সব ভারতীয় বা সব হিন্দুর সাধারণ অভ্যাস নয়। একইভাবে চিকিৎসকদের একটি পেশাজীবী গোষ্ঠী হিসেবে এ ধরনের অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। মিজরাহির বক্তব্যে এমন তথ্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি লেখক ইয়েশায়া রোজেনম্যানও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে অন্য দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃষি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা খাতেও সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। এ অবস্থায় একজন ইহুদি ধর্মীয় নেতার ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মিজরাহির বক্তব্যকে ইসরায়েল সরকার কিংবা দেশটির ইহুদি জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তিনি একজন স্বতন্ত্র ধর্মীয় বক্তা এবং তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য কোনো রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াকে ভারত বা ইসরায়েলের সব নাগরিকের মতামত হিসেবেও ধরে নেওয়া যায় না। ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে এবং কোন অনুষ্ঠানে মিজরাহি এসব মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিতর্কের পর তিনি প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন কিংবা বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে ভিডিওটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন। ঘটনাটি ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অনুসারী থাকা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মন্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইয়োসি মিজরাহির ভিডিও ঘিরে চলমান বিতর্কেও সেই বিষয়টি সামনে এসেছে।
কাতারের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও ফলাফল প্রভাবিত করতে অর্থায়নের যে অভিযোগ উঠেছে, তা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে দোহা। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে কাতার এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রমে অর্থায়নের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের কিছু রাজনীতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় কাতারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন, যা একইসঙ্গে হাস্যকর ও বিপজ্জনক। সম্প্রতি ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহের বিষয়টি সামনে আনেন দেশটির নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সোহলবার্গ। বিষয়টি তদন্তের জন্য তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে অনুরোধ জানানোর পরই বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি রাজনীতিক কাতারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। এর কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দোহার পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি জানানো হলো। বিবৃতিতে আল-আনসারি স্পষ্ট করে দেন যে, ইসরায়েলে নির্বাচনের পর যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার। দোহা জোর দিয়ে বলেছে, এ ধরনের অপপ্রচার কাতারকে মধ্যস্থতা, কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগ কিংবা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অবিচল সমর্থন থেকে কোনোভাবেই বিরত রাখতে পারবে না। এদিকে, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট বা নেসেটের ১২০টি আসনের নির্বাচনে কোনো প্রধান রাজনৈতিক জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন লাভ করেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন বা ম্যাজিক ফিগার কোনো পক্ষেরই না থাকায় ক্ষমতার নতুন এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এবং নতুন সরকার গঠনে আরব আইনপ্রণেতারাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন ‘চুরির’ অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, আরব দলগুলো ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি এবং নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করে এই কারচুপি করেছে। এ বিষয়ে পুলিশ, অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে শত শত প্রমাণ ও সাক্ষ্য হস্তান্তর করে গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি দল লিকুদ পার্টি। প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইসেনকোটের জোট ৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গড়তে অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন, যা এখনো কোনো জোটই নিশ্চিত করতে পারেনি। অন্যদিকে, ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলো এখন পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। লিকুদ পার্টির জমা দেওয়া কারচুপির এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। তবে কমিটির এক কর্মকর্তা আগেই এ ধরনের জালিয়াতির দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। এদিকে, নেতানিয়াহুর এই রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই তার দীর্ঘদিনের মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তার সমর্থনের কারণেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল করেছেন। ট্রাম্পের মতে, জোট গঠনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি বড় 'দাবার চাল'-এর মতো এবং চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত কোনো উপসংহারে পৌঁছানো ঠিক হবে না। কোনো জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরায়েলে এখন সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিরোধী নেতা গাদি আইসেনকোট আরব দলগুলোর সাথে শর্তসাপেক্ষে জোট গঠনের ইঙ্গিত দিলেও, আদর্শগত এবং নিরাপত্তাজনিত পার্থক্যের কারণে তা মেলানো বেশ কঠিন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর সাথে যেকোনো ধরনের চুক্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে একে 'বিপজ্জনক' বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক নেতাদের যেকোনো মূল্যে আরেকটি নির্বাচন এড়ানোর আহ্বান জানালেও, যদি কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সমীকরণ মেলাতে না পারে, তবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মতো ইসরায়েলকে আবারও একটি নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে পারে। এখন চূড়ান্ত ফল এবং পর্দার আড়ালের রাজনৈতিক দরকষাকষির ওপরই নির্ভর করছে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো হদিস মিলছে না। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর আইএইএর পরিদর্শকেরা ইরান ছাড়তে বাধ্য হলে পারমাণবিক উপাদানগুলোর সুনির্দিষ্ট হিসাব যাচাই করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবারের মতো এক ব্রিফিংয়ে এই গুরুতর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জানান, সুরক্ষা চুক্তির আওতায় থাকা এসব পারমাণবিক উপাদান অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ইরানকে নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হলো। গত মাসে আইএইএর পরিচালনা পর্ষদে ২৩টি দেশের সমর্থনে একটি প্রস্তাব পাস করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হয়। তবে তেহরান শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বেআইনি' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। গ্রোসি জানান, সামরিক হামলার পর পরিদর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের প্রত্যাহার করা হলে যাচাই কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে আইএইএর পরিদর্শকেরা গত কয়েক মাস ধরেই ইরানে ফিরে গিয়ে তাদের অসমাপ্ত কাজ শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক সংকট সমাধানে আঞ্চলিক কূটনীতির কথাও তুলে ধরেন আইএইএ প্রধান। তিনি ওমান, পাকিস্তান, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে জানান, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পৃষ্ঠপোষকতায় কায়রো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তি সামরিক হামলার পর ইরানের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ নিরসন এবং পারমাণবিক যাচাই কার্যক্রম পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করেছিল। হামলায় ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, নাতাঞ্জের প্রধান ও পরীক্ষামূলক কেন্দ্র, ইসফাহান কমপ্লেক্স এবং খোন্দাবের ভারী পানি গবেষণা চুল্লি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দূরবর্তী নজরদারি ব্যবস্থায় এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণের কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলেও, প্রকৃত অবস্থা জানতে সরাসরি পরিদর্শনের কোনো বিকল্প নেই বলে সতর্ক করেন গ্রোসি। সার্বিক উদ্বেগের মধ্যেও বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছে আইএইএ। সেখানে বর্তমানে পরিদর্শকেরা কাজ করছেন এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি আগামী বছরের শুরুতে নতুন শুষ্ক সংরক্ষণাগারে স্থানান্তরের বিষয়ে ইরানি আণবিক শক্তি কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। তবে ইসফাহান জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তেহরানের সাড়া মেলেনি। আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, আইএইএর যাচাই কার্যক্রম ছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই কূটনৈতিক সমঝোতা সম্ভব নয়। পারস্পরিক আস্থা ফেরাতে এবং বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে তিনি ইরানের বৈধ নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে তেহরানকে ধাপে ধাপে কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট বা নেসেটের নির্বাচনে ভোট গণনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোলেও এখনো স্পষ্ট হয়নি কারা গঠন করতে যাচ্ছে দেশটির পরবর্তী সরকার। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে ৮৫.৬ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলের পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৩টি আসন নিশ্চিত করার পথে রয়েছে। অন্যদিকে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। তবে উভয় পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬১টি আসনের চেয়ে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে। ইসরায়েলের রাজনীতিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়। সরকার গঠনের জন্য যে 'ম্যাজিক ফিগার'-এর প্রয়োজন, তা অর্জনে ব্যর্থ হলে ছোট ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন আদায় করা ছাড়া বড় দলগুলোর সামনে কোনো বিকল্প থাকে না। বর্তমান পরিস্থিতিও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েলকে হয়তো আবারো একটি দীর্ঘ ও জটিল জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। এই অচলাবস্থার কারণে ছোট দলগুলো এখন 'কিংমেকার'-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। তাদের সমর্থন পেলেই কেবল নেতানিয়াহু বা আইসেনকোট জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পাবেন। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সদস্য ও অন্যান্য বাকি থাকা ভোটগুলোর গণনা শেষ হলে আসন সংখ্যার সামান্য রদবদল হতে পারে। তবে তা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাব পূরণে খুব একটা ভূমিকা রাখবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যদি কোনো পক্ষই ছোট দলগুলোর সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশটিতে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। আপাতত চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা ইসরায়েল, আর সেই সাথে শুরু হয়েছে পর্দার আড়ালের তীব্র রাজনৈতিক দরকষাকষি।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ শেষে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইসেনকোটের কাছে তিনি উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন হারিয়েছেন। তবে কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলো। জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারা ১৭ থেকে ১৮টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা তাদের অতীতের যেকোনো ফলাফলের তুলনায় অনেক বড় অর্জন। কান ১১-এর বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৫টি এবং তাঁর ডানপন্থী জোট মোট ৫০টি আসন পেতে পারে, যা তাদের বর্তমান আসন সংখ্যার তুলনায় ব্যাপক পতন। তবে আসন কমলেও একক দল হিসেবে লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বেশি ভোট পেতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ‘চেঞ্জ’ বা পরিবর্তনকামী বিরোধী জোট ৫২ থেকে ৫৩টি আসন জিততে পারে। জরিপের এই ফলাফলকে নিজেদের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করে গাদি আইসেনকোট জানিয়েছেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। আরেক বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহুর জোটের এই শোচনীয় পরাজয় প্রমাণ করে যে জনগণ তাঁদের বিদায় নিতে বলেছে। গত বছরের ৭ অক্টোবরের হামলার পর অনুষ্ঠিত এই প্রথম নির্বাচনে অন্তত ৩৮টি দল অংশ নিয়েছে। সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো জোটই না পাওয়ায় এখন ছোট দলগুলো, বিশেষ করে আরব দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগের নেসেটে আরব দলগুলোর মাত্র ১০টি আসন থাকলেও এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের বিপুল উপস্থিতির কারণে তারা এখন ‘কিংমেকার’ বা সরকার নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি সাংবাদিক আতিলা সোমফালভি মনে করেন, এতগুলো আসন পাওয়া আরবদের কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নিমরোদ শেফার জানিয়েছেন, ফলাফল অনুকূলে এলে নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে বিরোধী জোট এরই মধ্যে আরব নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। ইসরায়েলের সনাতন পদ্ধতির ভোট গণনায় চূড়ান্ত ফলাফল জানতে কিছুটা সময় লাগবে। বুধবার নাগাদ একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেলেও জোট সরকার গঠন করতে জয়ী দলগুলোর তিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ এমন একজন দলীয় নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন, যিনি নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। প্রেসিডেন্ট যোগ্য প্রার্থীকে তিনবার সুযোগ দিতে পারবেন। তবে নেসেট যদি কোনো সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তবে দেশটিতে আবারও নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
ইসরায়েলের জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে রাজধানী তেল আবিবে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। আসন্ন এই নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বিক্ষোভটির আয়োজন করেছে ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠন, যা মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় নিহতদের পরিবার এবং গাজায় বন্দী জিম্মিদের স্বজনদের নিয়ে গঠিত। তাদের প্রধান দাবি হলো—ওই দিনের ভয়াবহ হামলার নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, হাজার হাজার বিক্ষোভকারী এদিন কেন্দ্রীয় রাবিন স্কয়ার থেকে মিছিল নিয়ে জিম্মিদের মুক্তির আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ‘হোস্টেজ স্কয়ারের’ দিকে এগিয়ে যান। এই বিশাল সমাবেশে সরকারবিরোধী জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও অংশ নেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া ৬৮ বছর বয়সী হাদাস ফয়েরস্টেইন নামের এক নারী জানান, বিগত কয়েক বছরে দেশের নেতৃত্ব ইসরায়েলকে এমন এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। এদিকে, সরকারপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী বিক্ষোভে উসকানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল অক্টোবর কাউন্সিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে তারা পুলিশ কমিশনারকে জরুরি চিঠিও পাঠিয়েছিল। উল্লেখ্য, নিরাপত্তা ব্যর্থতা তদন্তে সরকার একটি রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনের প্রস্তাব দিলেও, বিরোধী দলগুলো তা প্রত্যাখ্যান করে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। জরিপ অনুযায়ী, কোনো জোটই পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকায় বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টা গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ ঘটনার পর পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্ভাব্য অভিযানে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই সেনা হলেন স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান এবং সার্জেন্ট ইউভাল শাই স্ভিলেম। তাঁরা সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন। একই ব্যাটালিয়নের আহত তিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহত ও আহত সেনাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকালে হেবরনের কাছে ফারশ আল-হাওয়া তল্লাশিচৌকিতে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। সেখানে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিবিনিময় হয়। বন্দুকধারীদের কাছে একটি পিস্তল ও একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছিল বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানিয়েছেন। পরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ওই দুই ব্যক্তি নিহত হন। হামলার পর পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু। পরে হেবরন সফর করে তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে অত্যন্ত বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তাঁর দাবি, ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীরে এমন বড় অভিযান আর পরিচালনা করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য অভিযানের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেননি তিনি। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, পরিকল্পিত অভিযানের প্রথম ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী সেই এলাকায় প্রবেশ করবে, যেখান থেকে হামলাকারীরা এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল যেসব স্থাপনাকে সন্ত্রাসী অবকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেগুলো ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ পশ্চিম তীরে গাজার মতো সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়া এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও একই ধরনের দাবি তুলেছেন। তবে শুক্রবারের হামলার সঙ্গে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সংগঠনটি হামলার প্রশংসা করেছে এবং নিহত দুই ফিলিস্তিনির জন্য শোক জানিয়েছে। হামাস এ ঘটনাকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে সমর্থকদের আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এ হামলা এবং নেতানিয়াহুর সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হামলার পর নেতানিয়াহু তাঁর লিকুদ পার্টির সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থীশিবিরগুলোতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন। নেতানিয়াহুর নতুন পরিকল্পনায় একই ধরনের কৌশল ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য অভিযান ঘিরে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির তৈরি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ১ হাজার ১১৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা অথবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় অন্তত ৪৯ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন বড় সামরিক অভিযান শুরু হলে পশ্চিম তীরে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের সাতটি গভর্নরেটে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ফিলিস্তিনি কৃষক, তাদের কৃষিজমি ও সংহতি কর্মীদের ওপর ২৩টি হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে চলমান জলপাই উত্তোলন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এই ভয়াবহ তাণ্ডব চালানো হয়। হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে সরাসরি গুলি বর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, ফসল ও যন্ত্রপাতি লুটপাট এবং কৃষিজমি পুড়িয়ে দেওয়া বা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে নাবলুসে। সেখানে ওসারিন গ্রামে জলপাই তোলার সময় এক কৃষকের হাতে সরাসরি গুলি করা হয়। এছাড়া সালফিত গভর্নরেটে পেপার স্প্রে করার ফলে আরেক কৃষক গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভোগেন। বেথলেহেমের নাহালিন শহরে কৃষকদের ওপর হামলার পাশাপাশি এক বৃদ্ধা এবং মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারসহ বেশ কয়েকজন সংহতি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। রামাল্লা, জেনিন ও কালকিলিয়ার মতো অঞ্চলগুলোতেও কৃষকদের জমি থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দিয়ে জলপাই গাছ কেটে ফেলা এবং বন্দুকের মুখে ফসল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কৃষকদের সহায়তায় আসা একজন রুশ সংহতি কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে শুরু হওয়া জলপাই তোলার এই মৌসুম হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ৪ শতাধিক অবৈধ ফাঁড়ি ও ১৯৪টি বসতিতে সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি বসবাস করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, ফিলিস্তিনিদের জীবন-জীবিকার ওপর অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের এই ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে বা দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। উল্টো সামরিক অবরোধ ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কৃষকদের নিজেদের জমিতে যাওয়ার অধিকারকে দৈনন্দিন এক কঠিন সংগ্রামে পরিণত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারীদের জোর করে হিজাব খুলিয়ে চুল তল্লাশি, মারধর ও গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশকারী প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের বরাতে ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ ও ৮ অক্টোবরের এসব ঘটনায় কয়েকজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম সাফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর একজন ইসরায়েলি কারা কর্মকর্তা নারী বন্দিদের চুল পরীক্ষা করতে হিজাব খুলতে বাধ্য করেন। এরপর ১৭ জন নারীকে প্রায় তিন ঘণ্টা ১৩ নম্বর সেলে আটকে রেখে তাঁদের চুলের বেণি খুলতে বলা হয়। একই অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিবরণের কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফিলিস্তিন ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, ১৭ নারীকে আইসোলেশন সেলে রাখা হয়েছিল। তবে সাফার বিস্তারিত বিবরণে তাঁদের একটি সেলে একসঙ্গে আটকে রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে প্রত্যেককে পৃথকভাবে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের অভিযোগ, নারী বন্দিদের সেল ও গোসলের জায়গায় কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া বয়স্ক নারীসহ ১৫ জন বন্দি থাকা একটি কক্ষে পেপার স্প্রে ছোড়া হলে কয়েকজন বমি করেন। এসব ঘটনার মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সাফা। এর আগে ১৪ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছিল, দামন কারাগারে আটক দুই নারী আইনজীবীর কাছে তাঁদের সেলে বারবার অভিযান এবং ৭ অক্টোবর কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস নারী বন্দিদের সুরক্ষা, অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বাদের চিকিৎসা এবং আটক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পর্যালোচিত প্রতিবেদনগুলোতে এসব নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের তাকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে থাকা নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সঠিক অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশেষ করে ইরানের মতাদর্শগত হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন 'মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী' এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শান্তির এক অকৃত্রিম অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরান দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে 'ইসরায়েল নিপাত যাক, আমেরিকা নিপাত যাক' স্লোগান দিয়ে আসছে উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, সঠিক পদক্ষেপ না নিলে ইরান একসময় এই হুমকি বাস্তবায়ন করত। তিনি জানান, সামরিক ও আর্থিকভাবে তাদের পদ্ধতিগতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে এবং দ্রুত তারা নিজেদের না শোধরালে যুক্তরাষ্ট্র অচিরেই তাদের কাজ শেষ করবে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলে যদি নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কোনো নেতা নির্বাচিত হন, তবে এই অসমাপ্ত কাজ আমেরিকাকে একাই করতে হবে, যা করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের ভেতর থেকে আসা প্রবল বিরোধিতার মুখেও নেতানিয়াহু দুর্দান্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, সাধারণ কোনো মানুষ এই ধরনের প্রচণ্ড চাপে ভেঙে পড়লেও, নেতানিয়াহু বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেক কিছু করেছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, আমেরিকার ঠিক এমন একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদারই প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি তার সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েলি ভোটারদের উদ্দেশ্যে দৃঢ়তার সাথে বলেন, নেতানিয়াহু তাদের কখনোই হতাশ করবেন না।
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় ফিলিস্তিনিদের জমি হারানো ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, পূর্বপুরুষের ভূমিতে ইহুদিরা বিদেশি দখলদার নয়। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংরেজিতে দেওয়া ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, নিজেদের ঐতিহাসিক মাতৃভূমিতে ইহুদিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার আপসযোগ্য নয়। ইসরায়েলের ইতিহাসকে ঔপনিবেশিক প্রকল্প হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে তিনি দাবি করেন, তাঁদের ভূমি চুরি করা নয়। এর আগে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে এক অনুষ্ঠানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কথা বলেন ওবামা। তাঁর বক্তব্যে ইহুদিদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়নের ইতিহাস এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি, দুটি বিষয়ই উঠে আসে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওবামা বলেন, হাজার হাজার বছর ধরে ইহুদিরা নিপীড়ন, বৈষম্য ও হত্যার শিকার হয়েছেন। ফলে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এমন একটি স্থানে তাঁদের আশ্রয় খোঁজা বোধগম্য। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে অন্য মানুষের জমি নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেই মানুষদের নিজেদের প্রতি অবিচার হয়েছে বলে মনে করা এবং জমি ফেরত চাওয়াও বোধগম্য। বেলফাস্টের ওই আলোচনায় ওবামা সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির ওপর নির্ভর করে কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতিরও সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, শক্তির জোরে যা প্রয়োজন তা করা এবং যা চাই তা নেওয়ার অবস্থান স্বল্প মেয়াদে কার্যকর হতে পারে। তবে এমন অবস্থান নিলে ইসরায়েল তার নৈতিক ভিত্তি হারায়। জবাবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, শান্তির পথে বাধা ইসরায়েল নয়। তাঁর ভাষ্য, যেকোনো সীমানার মধ্যে ইহুদিদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকার অধিকার মেনে নিতে প্রতিপক্ষের অস্বীকৃতিই মূল বাধা। ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার অস্বীকারকারীদের সন্তুষ্ট করতে দেশের টিকে থাকা নিয়ে ঝুঁকি নেবেন না বলেও জানান তিনি।
বিখ্যাত র্যাপার ম্যাকলেমোরের আসন্ন যুক্তরাজ্য ট্যুরের আয়ের একটি অংশ এমন একটি গোষ্ঠীর তহবিলে যাচ্ছে, যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের জিম্মি করার ঘটনাকে 'বৈধ' এবং 'কার্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছিল। দ্য জিউইশ ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ অক্টোবর লন্ডনের ১২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার ওয়েম্বলি অ্যারেনায় ম্যাকলেমোরের একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। লাইভ নেশন পরিচালিত এই কনসার্টের আয় থেকে 'প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট'সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টের যুক্তরাজ্যের মুখপাত্র জেনিন হুরানি ৭ অক্টোবরের হামলা ও জিম্মি করার ঘটনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন এবং সংগঠনটি এই হত্যাযজ্ঞকে 'কারাগার ভাঙার' (prison break) সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছিল। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে দ্য জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল (জেএলসি)। তারা সতর্ক করে বলেছে, কনসার্টের আয়ের মাধ্যমে প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টকে অর্থায়ন করার অর্থ হলো ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতাকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়া। জেএলসি কনসার্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান লাইভ নেশনের কাছে তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইহুদি কর্মী ও দর্শকদের সুরক্ষায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, বেঞ্জামিন হ্যাগারটি, যিনি সংগীতাঙ্গনে ম্যাকলেমোর নামেই বেশি পরিচিত, সম্প্রতি পপ তারকা অ্যাড শিরানের মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুটি পারফরম্যান্সের সময় তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' স্লোগান দেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন। যদিও ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তার এই মন্তব্যের পর জিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটসহ বেশ কয়েকজন ভেন্যু মালিক আয়োজকদের জানিয়ে দেন যে তারা ম্যাকলেমোরকে তাদের ভেন্যুতে পারফর্ম করতে দেবেন না। ফলশ্রুতিতে আয়োজক সংস্থা মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ তাকে ট্যুর থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়। ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল। তারা একে 'ইহুদি-বিদ্বেষী বক্তব্য' থেকে হাজার হাজার দর্শককে বাঁচানোর একটি সঠিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটির মতে, বাকস্বাধীনতার অধিকার থাকলেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর কোনো অধিকার তার নেই। তবে মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়ার পর ম্যাকলেমোর দমে যাননি, বরং নিজস্ব উদ্যোগে 'ম্যাকলেমোর অ্যান্ড ফ্রেন্ডস — ফ্রি প্যালেস্টাইন ট্যুর' নামের এই নতুন কনসার্ট সিরিজের ঘোষণা দিয়েছেন, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন ইউরোপের একদল কূটনীতিক। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত তাইবেহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বেলজিয়ামের কনসাল জেনারেল, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিক এবং ক্যাথলিক প্রতিনিধিরা। এ সময় ফ্রান্সের এক মেয়রও হামলার শিকার হন এবং বেলজিয়ামের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বেলজিয়ামের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন প্রেভো। জলপাই সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও বিদেশি প্রতিনিধিদের ওপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটল। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে হামলায় অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ঠেকাতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এসব ঘটনায় গুলতি থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেভো এ হামলার জন্য ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নীতিকে দায়ী করেছেন। তাঁর ভাষায়, সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের দায়মুক্তির অবসান হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য বেলজিয়াম কাজ চালিয়ে যাবে। ফিলিস্তিনিদের জমি থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং বসতি সম্প্রসারণেরও নিন্দা জানান তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা অ্যামিত ওরফালি নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও প্রকাশ করেন। একটি ভিডিওতে ফ্রান্সের মেয়রকে ধুলোমাখা মাটিতে বসে একটি গাড়ির পাশে হেলান দিয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর পরনে ছিল ফ্রান্সের জাতীয় পতাকার রঙের ফিতা। অন্য ভিডিওতে মুখোশ পরা কয়েকজন তরুণকে গাড়ির চালকের পাশের জানালায় বারবার আঘাত করতে এবং পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে দেখা যায়। দূরে লাঠি হাতে আরও কয়েকজনকে এগিয়ে আসতেও দেখা যায়। ওরফালির দাবি, মুখোশধারীরা তাঁদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল। ঘটনার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একে গুরুতর সহিংসতার ঘটনা বলে নিন্দা জানায়। তবে তাদের বক্তব্য, কূটনীতিকদের এই সফরের বিষয়ে আগে থেকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি এবং হামলার সময় ঘটনাস্থলে কোনো সেনা সদস্য ছিলেন না। ইসরায়েলি পুলিশও তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে। তদন্তে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ইসরায়েলি দাঙ্গাকারীদের সহিংসতাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তাঁর মন্ত্রণালয় যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান। তবে পরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর ঘটনাটি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানায়। দপ্তরের বক্তব্যে ইসরায়েলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সমন্বিত প্রচারণা চালানোর আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়। এই হামলার আগের দিন, শুক্রবার, পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে সাংবাদিকতা করছেন। শনিবার হাসপাতালের শয্যা থেকে দেওয়া বক্তব্যে লেভিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে তিনি আগে কখনো এমন অবস্থায় দেখেননি। তাঁর ওপর হামলার ঘটনাকে নেতানিয়াহু কথিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করায় তিনি বিস্মিত ও অপমানিত বোধ করেছেন বলেও জানান। নেতানিয়াহু অতীতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য অল্পসংখ্যক বিশৃঙ্খলাকারীকে দায়ী করেছেন। তবে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় গাড়িতে আগুন দেওয়া, জলপাইগাছের ক্ষতি করা এবং মানুষকে আহত করার ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চলতি মৌসুমকে কেউ কেউ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক জলপাই সংগ্রহের মৌসুম বলেও বর্ণনা করছেন। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি আচরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে। নির্বাচনে তাঁর দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ধরে রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অল্প কয়েকজন অপরাধীর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল রাষ্ট্রের অবশিষ্ট গ্রহণযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিরোধের বিষয়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে বিবেচনা করে। সেখানে অনেক বসতি এখন উন্নত আবাসিক এলাকার রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদন ছাড়াই শত শত নতুন বসতি-চৌকি গড়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সুরক্ষা পেলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয় না। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ভূখণ্ড দাবি করে আসছে। পশ্চিম তীর এখনো ইসরায়েলি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। সম্প্রতি চীনও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে পশ্চিম তীরে জোর করে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ ও প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন বলে চীনা পক্ষের একজন মুখপাত্র জানান। জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে কৃষক, সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বেলজিয়ামসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে ইসরায়েল অনেক সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে ইসরায়েল কী ধরনের সহায়তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত কি না, সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি সম্মতি জানান এবং সৌদি আরব সেই সহায়তা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই আলাপে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদ জানান ট্রাম্প। আব্রাহাম চুক্তির আওতায় সেই সম্ভাবনা আবার আলোচনায় এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য ছিল, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে ইসরায়েল ইতিমধ্যে সরাসরি সহায়তা দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টাইমস অব ইসরায়েলও প্রতিবেদনে এই অস্পষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। ফলে তাঁর বক্তব্যকে নির্দিষ্ট কোনো সামরিক সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সেপ্টেম্বরে খবর পাওয়া গিয়েছিল। এটি সূত্রনির্ভর তথ্য, ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে এমন কোনো ব্যবস্থার বিস্তারিত জানাননি। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। সৌদি আরবকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চললেও রিয়াদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরির শর্ত বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের আশাবাদের পাশাপাশি এই শর্তও দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর ফটোসাংবাদিক হাইডি লেভিন। জলপাই সংগ্রহকারী ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর চালানো এই অতর্কিত হামলায় লেভিনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক মারাত্মক আহত হয়ে বর্তমানে রামাল্লাহর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমতীরের আবু ফালাহ নামক একটি গ্রামে। জানা গেছে, ফিলিস্তিনি কৃষকরা যখন তাদের বাগানে আনন্দের সঙ্গে জলপাই সংগ্রহ করছিলেন এবং সাংবাদিক লেভিন সেখানে ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই মুখ ঢাকা একদল ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের দিকে ধেয়ে আসে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই পালানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা লেভিনকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আবেগঘন কণ্ঠে এই মার্কিন সাংবাদিক জানান, হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাকে মাটিতে ফেলে একের পর এক লাথি মারতে থাকে। তার গায়ে সাংবাদিক পরিচয়ের স্পষ্ট চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তারা তার ক্যামেরা ও ব্যাগ ভেঙে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষ অন্যের ওপর এমন নারকীয় অত্যাচার চালাতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা কেবল মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি; তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং জলপাই গাছে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই তাণ্ডবে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ও ৪০ বছরের এক পুরুষ কৃষকও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। হামলার সময় কাছাকাছি থাকা ইসরায়েলি সেনাদের নীরব ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন (এফপিএ) এবং ওয়াশিংটন পোস্ট অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিলেও, অতীতের দৃষ্টান্ত টেনে ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন যে এবারও হয়তো অপরাধীরা বিনা শাস্তিতে পার পেয়ে যাবে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করে ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে ওয়াং ই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকে ‘জোরপূর্বক বসতি প্রতিষ্ঠা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ইসরায়েলকে এ কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি রয়েছে। চীনের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বৈঠকে ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থানও তুলে ধরেন ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফিলিস্তিন প্রশ্নকে এ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে বর্ণনা করেন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা। পশ্চিম তীর ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণ ফিলিস্তিনিদের ভূমি, বসবাস এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতির আইনি পরিণতি নিয়ে মতামত দিয়েছে। এসব কারণে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি শুধু ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার বিরোধ নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আজারবাইজানে ওয়াং ই ও হারজগের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। হারজগ ইসরায়েলের সামনে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ইরান ও দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফলে বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। এ ব্যবস্থায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং ইসরায়েল পাশাপাশি অবস্থান করবে। বেইজিংয়ের মতে, রাজনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও জটিল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ওয়াং ইয়ের আহ্বানের বিষয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে পৃথক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা চীনের বিবৃতি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে চীনের এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থান কীভাবে এগোয়, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। সূত্র: রয়টার্স, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারকারী এবং ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশি পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনায় কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের বিদেশি বিমান সংস্থার ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক এই বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নতুন এই নির্দেশনা কর্মী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব সংস্থার পাইলট ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিক রয়েছেন, তাদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে নিয়মটি বিবেচনায় নিতে হবে। ফ্রান্সের বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, যেসব দেশে তাদের ফ্লাইট চলাচল করে, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এসব নিয়ম যাত্রীদের পাশাপাশি বিমান সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পাইলট ও কেবিন ক্রুদের কাছে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে আরও বলা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও বিমান সংস্থাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকা যাবে না, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এ বিধিনিষেধের আওতায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরাও পড়তে পারেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দেশনার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ক্ষেত্রে ৩১টি দেশের কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে ২৯টি দেশের তালিকার উল্লেখ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, লেবানন, কাতার, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের নামও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া বিমান সংস্থাগুলোকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে। এদিকে, বিধিনিষেধ জারির আগের দিন, ৩০ সেপ্টেম্বর, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ফ্লাইটের একজন ওমানি কো-পাইলটের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা এবং বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করার অভিযোগও করা হয়। ঘটনায় ক্যাপ্টেন আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পরদিন জারি করা নির্দেশনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই দুটি ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটলেও একটির সঙ্গে অন্যটির যোগসূত্র নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা জানান, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তারা নির্দেশনাটি পেয়েছেন এবং তা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করছেন। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা, কর্মী ব্যবস্থাপনা কিংবা ইসরায়েলগামী ও সেখান থেকে আসা ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও তাদের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জাতীয়তাভিত্তিক বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবহিত করেছে বলে জানা গেছে। তবে সংস্থাটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি। ইসরায়েলের এই নির্দেশনা কার্যকর থাকলে বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নির্ভর করবে নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এবং বিমান সংস্থাগুলোর পদক্ষেপের ওপর।
ইসরায়েলের নাগরিকত্বভিত্তিক নতুন বিধিনিষেধ মেনে নিজেদের তেল আবিবগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের নাগরিক ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখছে ফরাসি এয়ারলাইন এয়ার ফ্রান্স। ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম 'মিডিয়াপার্ট'-এর হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ১০ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো ক্রু ইসরায়েলি আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবেন না। এয়ার ফ্রান্স তাদের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় স্পষ্ট করেছে যে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকত্বের পাশাপাশি কারও যদি ফরাসি নাগরিকত্বও থাকে, তবুও তাদের ওপর এই বিধিনিষেধ একইভাবে প্রযোজ্য হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা যেসব দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করে, সেখানকার কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশের নিয়মকানুন যাত্রী ও কর্মীদের ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে। আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম টিএসএ-এর প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের নাম রয়েছে। তবে শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশই নয়, নিষেধাজ্ঞার এই তালিকায় কিউবা, উত্তর কোরিয়া, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্দেশনার মূল ভিত্তি হলো জাতীয়তা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওই দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা। আনাদোলু এজেন্সি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী 'ফ্লাইদুবাই'-এর একটি ফ্লাইটে সংঘটিত ঘটনার পরই মূলত ইসরায়েল এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ওই ফ্লাইটে এক ওমানি সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল, যার জেরে সেটি পরে সৌদি আরবে অবতরণে বাধ্য হয়। তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে ক্রুদের দায়িত্ব থেকে এভাবে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্তে ব্যাপক বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। প্যারিসের বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গ্যান্ডিন জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশের সব নাগরিককে ঢালাওভাবে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করাটা সরাসরি ফরাসি কর্মসংস্থান আইনের পরিপন্থী হতে পারে।
ইসরায়েলে যিশুখ্রিষ্টের সময়কার প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি ইহুদি ধর্মীয় স্নানাগার অক্ষত অবস্থায় মাটি থেকে তুলে সরানো হয়েছে। প্রায় ২৫ টন ওজনের এই প্রাচীন স্থাপনাটি উদ্ধার করতে ব্যবহার করা হয় বিশাল ক্রেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, বরং প্রায় দুই হাজার বছর আগে ওই অঞ্চলে ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস ও ধর্মীয় চর্চার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। স্নানাগারটি ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত গাতের কারমেই গাত এলাকায় পাওয়া যায়। নতুন আবাসিক এলাকার উন্নয়নকাজের আগে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালানোর সময় এর সন্ধান মেলে। পরে নির্মাণকাজের কারণে প্রাচীন স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা সেটি অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ইহুদিদের ধর্মীয় শুদ্ধতার জন্য ব্যবহৃত এ ধরনের স্নানাগারকে বলা হয় ‘মিকভে’। ইহুদি ধর্মীয় রীতিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পানিতে অবগাহনের মাধ্যমে শুদ্ধতা অর্জনের জন্য এসব স্থাপনা ব্যবহৃত হতো। উদ্ধার হওয়া স্নানাগারটি দ্বিতীয় মন্দির যুগের নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক সময়কাল যিশুখ্রিষ্টের জীবন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। তবে যিশু ব্যক্তিগতভাবে এই নির্দিষ্ট স্নানাগারটি ব্যবহার করেছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, স্নানাগারটির সন্ধান ওই এলাকায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে একটি ইহুদি বসতি ছিল বলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দেয়। জুডিয়ান নিম্নভূমি ও উত্তর নেগেভ অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকায় ওই সময়ের একটি ইহুদি বসতির অস্তিত্ব সম্পর্কে এই আবিষ্কার নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এটি প্রাচীন অঞ্চলের জনবসতি ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করেছে। খননকাজে স্নানাগারের পাশাপাশি পাথরের তৈরি পরিমাপের পাত্রও পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় মন্দির যুগে ইহুদিদের মধ্যে এ ধরনের পাত্রের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। ইহুদি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, পাথরের এসব পাত্রকে অন্য কিছু উপকরণের মতো সহজে আচারগত অপবিত্রতার শিকার বলে বিবেচনা করা হতো না। ফলে স্নানাগার ও পাত্র—দুই ধরনের নিদর্শন একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় ওই এলাকার তৎকালীন ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এত বড় ও প্রাচীন একটি স্থাপনা অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া ছিল জটিল কাজ। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্নানাগারটির চারপাশের মাটি সরিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেন। এরপর স্থাপনাটির নিচে ছিদ্র করে শক্তিশালী ইস্পাতের বিম ঢোকানো হয়। এসব বিম কাঠামোটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় সেটি ভেঙে না পড়ে। স্নানাগারের দেয়ালে থাকা প্রাচীন প্লাস্টারের আস্তরণও ছিল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তোলন ও পরিবহনের সময় কম্পনের কারণে প্লাস্টার খসে পড়তে পারত। এ ঝুঁকি কমাতে সংরক্ষণকারীরা গজ, আঠা ও ফোমজাতীয় সুরক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহার করেন। এরপর প্রায় ২৫ টন ওজনের কাঠামোটি তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় ৩০০ টন পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম একটি ক্রেন। স্নানাগারটির প্রস্থ প্রায় চার মিটার হওয়ায় পরিবহনের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ প্রশস্ত যানবাহনেরও। সফলভাবে তুলে নেওয়ার পর স্থাপনাটি অস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য বেইত গুভরিনে একটি সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবহনের সময় নিরাপত্তার জন্য সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং ট্রাকের সামনে ও পেছনে সহায়ক যান চলাচল করে। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়, কারণ কাঠামোটি ভেঙে গেলে দুই হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শনটি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ওই এলাকার প্রাচীন ইহুদি বসতিটি দ্বিতীয় শতকে বার কোখবা বিদ্রোহের সময় পরিত্যক্ত হয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৫০০ বছর পর বাইজেন্টাইন যুগে সেখানে আবার বসতি গড়ে ওঠে। তবে তখনকার জনগোষ্ঠী আগের বাসিন্দাদের থেকে আলাদা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ওই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি জনবসতি ও পরিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রাচীন স্নানাগারটি আবার কারমেই গাত এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন আবাসিক এলাকার কেন্দ্রীয় উন্মুক্ত স্থানে এটি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা আধুনিক নগরায়ণের মধ্যেই প্রাচীন ইহুদি জীবনের একটি বাস্তব নিদর্শন দেখার সুযোগ পাবেন। লেখক, ভাষ্যকার ও খ্রিষ্টধর্মের পক্ষে লেখালেখি করা দিনেশ ডি’সুজা এই আবিষ্কারকে বাইবেলের সময়কার জগৎকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন ইতিহাসের বস্তুগত প্রমাণ তুলে ধরতে পারে। তবে কোনো নিদর্শন বাইবেলের সময়কাল সম্পর্কে ঐতিহাসিক ধারণাকে সমর্থন করলেও তা নিজে থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস, অলৌকিক ঘটনা বা ধর্মগ্রন্থের প্রতিটি বক্তব্য প্রমাণ করে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।