পাকিস্তান বা কাতার—মধ্যস্থতাকারী যে-ই হোক না কেন, সবার একটাই অভিন্ন বার্তা: 'শান্তিকে একটি সুযোগ দেওয়া উচিত।' বর্তমানে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থান করছে। চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে তারা সেখানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই সংঘাত নিয়ে বৃহত্তর উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। তারা ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে তাদের নিজেদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এ ধরনের হামলা সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করে, এই যুদ্ধে তাদের সম্পূর্ণ ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক টেনে আনা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা অত্যন্ত কঠিন। যেকোনো মুহূর্তে অবস্থা যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। পূর্ববর্তী বিভিন্ন সংঘাতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কখনো কখনো চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক আগমুহূর্তে কোনো এক পক্ষ নিজেদের আধিপত্য প্রমাণের লক্ষ্যে পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তপ্ত করে তোলে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, কোনো এক পক্ষের আচমকা সামরিক বা গতিশীল অভিযান (কাইনেটিক অপারেশন) পুরো পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব সফর শেষে কাতারে পৌঁছেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছালে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পরে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সফরকালে কাতারের আমিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন শাহবাজ শরিফ। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর তিন ধাপের আঞ্চলিক সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য। এর আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেন এবং সফরের শেষ ধাপে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব সফরকালে জেদ্দায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতা নিয়ে আলোচনা করেছেন শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদ এই সংকট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি টেকসই করা এবং পরবর্তী দফার আলোচনার পথ সুগম করতে পাকিস্তান একযোগে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। কাতার সফর সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর শেষ করে কাতার ত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। আজ দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি। এরপরই তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে বিমান যোগে রওয়ানা হন। এই ত্রিদেশীয় সফরে স্টারমার অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা করেন। গত বুধবার জেদ্দায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে তার ফলপ্রসূ বৈঠক হয়। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং সর্বশেষ কাতার সফর করেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
পারস্য উপসাগরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের 'অবৈধ কর্মকাণ্ড' ও হামলার কারণে সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে কাতার। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে কাতার এই দাবি জানায়। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালীন কাতারের ভূখণ্ডে ইরানের চালানো হামলায় যে পরিমাণ জানমালের ক্ষতি হয়েছে, তার দায় ইরানকে নিতে হবে। চিঠিতে কাতার স্পষ্ট করে বলেছে, "ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের এই বেআইনি পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার আওতায় পড়ে। কাতার রাষ্ট্রের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ইরান তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।" বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ কাতার এই হামলার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে চরম সংকটের মুখে পড়েছে। কাতার-এনার্জি (QatarEnergy)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় কাতারের এলএনজি (LNG) রপ্তানি ক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বার্ষিক রাজস্ব আয়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দেশটি, যা ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা জাগিয়েছে। জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে কাতার আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো ছিল সম্পূর্ণ 'বেসামরিক'। এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। দোহা নিরাপত্তা পরিষদকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং এ ধরনের 'গুরুতর লঙ্ঘন' বন্ধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। উল্লেখ্য, তেহরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাতারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই তারা এসব হামলা চালিয়েছে। শুধু কাতার নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং বাহরাইনের মতো দেশগুলোও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে কাতারে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় একটি তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি লক্ষ্যভেদ করে ট্যাঙ্কারটিতে আঘাত হানে। মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে দুটি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি কাতারএনার্জি-এর ইজারা নেওয়া একটি তেলবাহী জাহাজে আঘাত করে। হামলার পর ট্যাঙ্কারটির ২১ জন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, জাহাজটির বাম পাশে আঘাত লাগে। তবে জাহাজে থাকা সকল নাবিক নিরাপদে আছেন। সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবেশগত ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ কোনো একক দেশের সিদ্ধান্তে নয়, বরং এই অঞ্চলের সকল দেশের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালীর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। কাতার মনে করে, এই জলপথের নিরাপত্তা এবং এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দেশের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি রক্ষায় এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে দোহা।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কাতারের দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কনস্যুলার সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য যেকোনো হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জরুরি কর্মীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মার্কিন নাগরিকদের সর্বদা সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্রই নিরাপদ স্থানে গিয়ে 'মাথা নিচু করে আত্মরক্ষা' বা 'ডাক অ্যান্ড কাভার' পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও মিসাইল হামলার হুমকির মধ্যে কাতার ও ইউক্রেন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং যুদ্ধ অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক ঝটিকা সফরে বের হন। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর কাতারের সঙ্গে এই চুক্তি তার সফরের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। ইউক্রেনের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রি নাটোভ এবং কাতারের পক্ষে সই করেছেন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জসিম বিন মোহাম্মদ আল-মান্নাই। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ কেবল প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নয়, বরং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগের পথও প্রসারিত করবে। বিশেষ করে, গত এক মাসে ইরানের সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করতে আগ্রহী ইউক্রেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য এমন মিত্র প্রয়োজন, যাদের আর্থিক সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ সরবরাহের সামর্থ্য বেশি। বর্তমান সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে বেশি, তখন কাতার ও সৌদি আরবের সমর্থন কিয়েভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে জিসিসি (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ) দেশগুলোর অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন জাসিম বিন জাবের আল থানি। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে আল থানি বলেন, "যেখানে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ মানচিত্র আঁকা হচ্ছে, সেখানে জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর অনুপস্থিত থাকার কোনো সুযোগ নেই।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই দেশগুলোকে আলোচনার টেবিলে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, এই প্রণালীটি কোনো পক্ষই রাজনৈতিক দর কষাকষি বা চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। এটি যেকোনো পরিস্থিতিতে শর্তহীনভাবে উন্মুক্ত রাখতে হবে। আল থানি সতর্ক করে বলেন, "হরমুজ প্রণালীর ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যেকোনো চেষ্টা বা একে জিম্মি করার প্রচেষ্টা কেবল উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক সরাসরি হুমকি।"
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের জলসীমায় দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। নিয়মিত মিশন পরিচালনার সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে গালফ নিউজ। দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টারের ক্রু ও যাত্রীদের উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে নির্ধারিত জলসীমায় নিবিড় তল্লাশি চালাচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে হেলিকপ্টারটিতে ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন, সে বিষয়ে কাতার সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত জোরালো হলে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায় ইরান। যদিও অধিকাংশ হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, তবুও এই সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে কাতার সেনাবাহিনীর এই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর সামনে এলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।