কাতার

জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের নতুন বিমানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানালেন ট্রাম্প। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কাতারের উপহার দেওয়া বিমান সাময়িক বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও অত্যাধুনিক করতে কাতার সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়্যান’ বিমানটিকে সাময়িকভাবে সার্ভিসের বাইরে রাখা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময় তিনি নতুন বিমানটির বদলে পুরনো মডেলের এয়ার ফোর্স ওয়্যানে চড়ে যাত্রা করার পর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এল।   রোববার নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখে ওয়াশিংটনে ফিরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "এই বিমানটির দারুণ সব ক্ষমতা রয়েছে। তবে আমি যতটুকু জেনেছি, আগামী এক মাসের মতো সময়ের মধ্যে এটিকে পাঠিয়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।"   গত ৮ জুলাই আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তিনি নতুন বিমানটির বদলে পুরনো বিমানে চড়ে ইংল্যান্ডের আরএএফ মিলডেনহলে যাবেন। সে সময় দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাজ্যে ঘাঁটি গড়া মার্কিন সেনাদের নতুন বিমানটি ঘুরে দেখার সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ইরানি হুমকির কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই এই শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন, এমন গুঞ্জন বেশ জোরালো হয়ে ওঠে।   উল্লেখ্য, মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়্যানের পেছনের অংশের ছবি তোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছেন। ধারণা করা হয়, বিমানটিতে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ করে দেওয়ার মতো বিশেষ প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তড়িঘড়ি করে কাতারী বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটিকে সার্ভিসে আনার কারণে এতে প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত ছিল না।   যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু এবং ইরানি আততায়ী হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প পূর্বে জানিয়েছিলেন, তিনি প্রতিপক্ষের এক নম্বর হিটলিস্টে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করতেই বোয়িং বিমানটিকে অতিরিক্ত সুরক্ষাবলয়ে সাজানোর জন্য সাময়িক বিরতিতে পাঠানো হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামি আবদুল্লাহ আনোয়ার I ছবি: সংগৃহীত
কাতারের সহায়তায় বিলিয়ন ডলার জালিয়াতির পলাতক আসামিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাল এফবিআই

কাতারের সহায়তায় বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামি আবদুল্লাহ আনোয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার পর কাতারে গ্রেপ্তার হওয়া ২৮ বছর বয়সী এই অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে, যেখানে তিনি অর্থপাচার, জালিয়াতি এবং আন্তঃদেশীয় চোরাই পণ্য পাচারের মতো একাধিক ফেডারেল অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হবেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, টেক্সাসের গারল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আনোয়ারের বিরুদ্ধে ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি চোরাই সম্পদ আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবহনের ষড়যন্ত্র, মেইল জালিয়াতি, ওয়্যার জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল।   বিচার চলাকালে জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। পরে কাতারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে এবং দুই দেশের সমন্বিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গত ১০ জুলাই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। বর্তমানে তিনি কলিন কাউন্টির হেফাজতে রয়েছেন।     এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, আনোয়ার এমন একটি আন্তর্জাতিক অর্থপাচার ও জালিয়াতি চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে, যার কার্যক্রমের সঙ্গে গত পাঁচ বছরে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ২০২১ সালে এফবিআই ডালাসের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক অভিযানে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি, চোরাই মোবাইল ফোন ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্যের পাচার, কার্গো চুরি এবং অর্থপাচারকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।     মামলাটির তদন্তে এফবিআই ছাড়াও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই), ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ), এটিএফ, আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, ইউএস পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস, ইউএস সিক্রেট সার্ভিস, ইউএস মার্শালস সার্ভিসসহ একাধিক ফেডারেল সংস্থা অংশ নিয়েছে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সফল করতে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।     এদিকে পাকিস্তানের কয়েকটি গণমাধ্যমে আবদুল্লাহ আনোয়ারকে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার জাতিগত পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি; সেখানে তাকে টেক্সাসের গারল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।     যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত নয়। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আবদুল্লাহ আনোয়ার আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কাতারের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি, দাফন সম্পন্ন শেখ হামাদের

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারকে একটি অতি-ধনী ও আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের মহানায়ক এবং বিশ্বমঞ্চে এক প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কারিগর ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে দোহার লুসাইল কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। ৭৪ বছর বয়সে তার এই চিরবিদায়ের মধ্য দিয়ে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।   ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু করে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা এই নেতার মৃত্যুর খবরটি রবিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সূর্যাস্তের পর রাজধানীর বিখ্যাত ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-ওয়াহাব মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক অত্যন্ত অনাড়ম্বর পরিবেশে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।   জানাজার নামাজে ঐতিহ্যবাহী কাতারি পোশাক পরিহিত শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। তারা পরম শ্রদ্ধায় শেখ হামাদের কফিনের সামনে করজোড়ে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন। জানাজা শেষে তার ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা পরম যতন আর ভালোবাসায় কফিনটি মসজিদ থেকে বের করে আনেন।   আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি এই আয়োজনের বর্ণনায় বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত বিনম্র একটি অনুষ্ঠান এবং তাকে খুবই সাধারণ একটি কবরে সমাহিত করা হয়েছে। এই অনাড়ম্বর বিদায় শুধু ইসলামী ঐতিহ্যেরই অংশ নয়, বরং ফাদার আমির তার ব্যক্তিগত জীবনে কতটা সাদামাটা ছিলেন, এটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি কখনো সম্পদের মোহে আবদ্ধ ছিলেন না, বরং সর্বদা নিজ দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।   ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শেখ হামাদের শাসনামলে কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। মূলত দেশের বিপুল গ্যাস সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের ফলেই এই অসামান্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছিল। তার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে ২০০৬ সালের মধ্যেই ছোট এই দেশটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।   বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কাতারের যে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, তার ভিত মূলত তিনিই গড়ে দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান বিরোধসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা দ্বন্দ্বে কাতার আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ২০২২ সালে কাতারের সফলভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনও তারই স্বপ্নের এক বড় প্রতিফলন, যেখানে উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত হয়ে তিনি ফুটবলপ্রেমীদের বিপুল করতালিতে সিক্ত হয়েছিলেন।   তার শাসনামলেই ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে সংবাদমাধ্যম 'আল জাজিরা', যা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মিডিয়া নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। আল জাজিরার ডিরেক্টর জেনারেল শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল থানি গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, শেখ হামাদই ছিলেন এই মহান প্রতিষ্ঠানের মূল স্বপ্নদ্রষ্টা এবং তিনি এর যে বীজ বপন করেছিলেন, তা আজ বিশ্বজুড়ে সত্যের আলোকবর্তিকা ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে।   পাশাপাশি শেখ হামাদের হাত ধরেই ২০০৪ সালে কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণীত হয় এবং পৌরসভা নির্বাচন চালু হয়, যেখানে প্রথমবারের মতো নারীদের ভোটদান ও প্রার্থী হওয়ার ঐতিহাসিক অধিকার দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে ২০১৩ সালে তিনি তার ছেলে শেখ তামিমের কাছে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, যা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থায় এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ওতাইবি বলেন, শেখ হামাদ শুধু কাতারেই নয়, বরং সারা বিশ্বে তার অসামান্য কাজের ছাপ রেখে গেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
দোহার এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল-থানির সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর | ছবি: এক্স/ড. এস জয়শঙ্কর
দোহার মাটিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রবিবার কাতারের রাজধানী দোহায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের চার দেশ সফরের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং নিরাপত্তাসহ পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর পশ্চিম এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ৫ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই রাষ্ট্রীয় সফরে জয়শঙ্কর কাতার ছাড়াও বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমান সফর করবেন।   বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে নতুন সুযোগের সন্ধান করা হয়েছে।   নিরাপত্তা এবং কৌশলগত আলোচনার পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও দুই নেতার মধ্যে গভীর মূল্যায়ন ও আলোচনা হয়।   উল্লেখ্য, সপ্তাহব্যাপী তীব্র উত্তেজনার পর ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কাতার, ওমান এবং পাকিস্তান প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন কাজ শেষ হওয়ার পর দোহায় আবারও দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   উপসাগরীয় এই চার দেশ সফর শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ১৩ জুলাই নিউইয়র্ক ভ্রমণ করবেন। সেখানে তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের ২০২৮-২৯ মেয়াদের অস্থায়ী সদস্য পদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালু করবেন। এরপর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত কাউন্সিলে অংশ নেবেন।

তাবাস্সুম জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং ইরানের পরমাণু ইস্যুতেও অগ্রগতি হচ্ছে।   ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। ইরান অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। সম্প্রতি কাতারে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোও খুব ভালো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তাদের মধ্যে খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। এখন সামনে কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।’   এদিকে বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি সূত্র এবং এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার পথ খুঁজে বের করা।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকের আগে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। কাতার ও পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে কুশনার ও উইটকফ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অংশ নেননি। তারা মূলত আলোচনার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন।

Unknown জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
কাতারের উপহার দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিমানে প্রথমবার উড়লেন ট্রাম্প I ছবি: সংগৃহীত
কাতারের উপহার দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিমানে প্রথমবার উড়লেন ট্রাম্প

কাতারের উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ারফোর্স ওয়ান' বিমানে চড়ে প্রথমবারের মতো সফর শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর কাতার সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিলাসবহুল এই বোয়িং ৭৪৭-৮ (Boeing 747-8) বিমানটি উপহার দেওয়া হয়। বুধবার নর্থ ডাকোটার উদ্দেশ্যে যাত্রার মধ্য দিয়ে এই বিমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যবহার শুরু করেছেন ট্রাম্প।   যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ ট্রেন যাত্রা ও স্বাগত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তার এই নর্থ ডাকোটা সফর। পাশাপাশি সেখানে টেডি রুজভেল্ট প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিও পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।   চলতি মাসের শুরুর দিকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই অত্যাধুনিক বিমানটির উন্মোচন করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এটি মূলত বিগত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সেবায় ব্যবহৃত সামরিক গ্রেডের ৭৪৭-২ বিমানটির স্থলাভিষিক্ত হলো। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালে মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে বোয়িংয়ের নতুন বহর হস্তান্তরের আগপর্যন্ত এই বিমানটিই এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করা হবে।   যাত্রার আগে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এটি সম্ভবত বিশ্বের সর্বকালের সেরা বাণিজ্যিক বিমান। প্রথম ফ্লাইটের আগে তিনি অত্যন্ত রোমাঞ্চিত উল্লেখ করে জানান, সাধারণ বাণিজ্যিক বিমানকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ও অন্যান্য জটিল প্রযুক্তি যুক্ত করে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিমানটির আপগ্রেডেশনে মার্কিন করদাতাদের খুব সামান্যই অর্থ ব্যয় হয়েছে জানিয়ে তিনি একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সদয় একটি দেশের দেওয়া বিশেষ উপহার হিসেবে অভিহিত করেন।   মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিমানটির আপগ্রেডেশনে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে এর আভিযানিক সক্ষমতাকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ ডিজাইনে খুব সামান্যই পরিবর্তন আনা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নতুন এই এয়ারফোর্স ওয়ানের ভেতরের কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে বিশাল কনফারেন্স টেবিল, চামড়ার আসন এবং চকচকে কাঠের প্যানেল দেখা গেছে।   এছাড়া বিমানে সাংবাদিকদের জন্য থাকা প্রশস্ত কেবিনের সিটগুলোতে আরামদায়ক ম্যাসাজ সুবিধা ও ব্যক্তিগত টিভি স্ক্রিনও যুক্ত করা হয়েছে। আগের পুরোনো বিমানটির প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, ৩০ বছরের পুরোনো বিমানটি নতুনগুলোর পাশে বেমানান লাগত, যা দেশের জন্য মোটেও শোভনীয় ছিল না। তবে নতুন এই অত্যাধুনিক বিমানটি নিয়ে পুরো দেশবাসী এবং তিনি নিজে অত্যন্ত গর্বিত বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: রয়টার্স
কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান: পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কাতারে আটকে থাকা ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শান্তিচুক্তির আওতায় দেশটির জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই অর্জনকে তিনি ইরানি জনগণের জন্য ‘বড় বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   সোমবার কোম শহর সফরে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শুবেইরি জানজানির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, কাতারে ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে। এর মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত আসছে এবং বাকি অর্থ অবমুক্তির প্রক্রিয়াও চলছে।   সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় এই অর্থ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থীরাও নিহত হয়েছেন।   তবে দেশ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, সরকার ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ ছিল। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, ইরানকে অস্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিল। তারা ধারণা করেছিল অর্থনৈতিক চাপে ইরান ভেঙে পড়বে, কিন্তু জনগণের প্রতিরোধে সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে।   পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের নীতি এবং এখনো বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইরানের সব কার্যক্রম দেশের প্রয়োজন ও ঘোষিত নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।   পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই সমঝোতায় রাজি হতে বাধ্য করেছে। তবে ইসরায়েল এবং কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এখনো এর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছে।   তিনি জানান, তার সরকার ইতোমধ্যে দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা শুরু করেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের কাছ থেকে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে সৌদি-কাতার

ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বা প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা সম্পর্ক না থাকলেও সৌদি আরব ও কাতারের কাছে ইসরায়েলি সামরিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ। বিভিন্ন নথি, চুক্তিপত্র এবং প্রকাশ্যে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে রোববার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহৃত অন্তত তিনটি বিমানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস নির্মিত ‘সি-মিউজিক’ (C-MUSIC) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের সময় এই ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়।   হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি তেহরান সফরে যে বিমান ব্যবহার করেছিলেন, সেটিও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত ছিল। সি-মিউজিক মূলত কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বা ম্যানপ্যাডস শনাক্ত করে এবং শক্তিশালী লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যচ্যুত করার সক্ষমতা রাখে। ভিআইপি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যবহৃত বিমানের নিরাপত্তা বাড়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ভিআইপি বিমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নয়, কাতারের যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতেও ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ ছিল। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কাতারের এফ-১৫ কিউএ আবাবিল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ থেকে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের উপ-চুক্তি পায়। এসব চুক্তির মাধ্যমে উন্নত যুদ্ধ হেলমেট, নাইট-ভিশন চশমা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।   হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এফ-১৫এসএ যুদ্ধবিমান প্রকল্পেও একই ধরনের ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে ৪৬২টি উন্নত জয়েন্ট হেলমেট-মাউন্টেড কিউয়িং সিস্টেম (JHMCS) এবং সমসংখ্যক নাইট-ভিশন চশমা সরবরাহ করা হয়। ইন্টারনেটে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতেও সৌদি বিমানবাহিনীর পাইলটদের এসব হেলমেট ব্যবহার করতে দেখা গেছে।   এই উন্নত হেলমেটের বিশেষত্ব হলো, এর সামনের স্বচ্ছ কাচেই উড্ডয়নের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদর্শিত হয়। ফলে পাইলট মাথা বা চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে পারেন এবং আরও নির্ভুলভাবে অস্ত্র পরিচালনা করতে সক্ষম হন।   প্রতিবেদনটি বলছে, এসব সরঞ্জাম সরাসরি ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও উপ-চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো কয়েক কোটি থেকে কয়েকশ কোটি শেকেল সমপরিমাণ ব্যবসা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রকল্প, প্রযুক্তি সরবরাহ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সেই আলোচনায় আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব, কাতার কিংবা সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পর্দার আড়ালের অস্ত্র বাণিজ্য: সৌদি-কাতারের কাছে গোপনে যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করেছে ইসরাইল

কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব ও কাতারের কাছে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উন্মুক্ত নথিপত্র এবং বিভিন্ন ছবি বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, এই গোপন অস্ত্র বিক্রির তালিকায় এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের জন্য তৈরি কম্পিউটারাইজড যুদ্ধ হেলমেট এবং বিশেষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিরক্ষা বা কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী দুই আরব দেশের সাথে ইসরাইলের এই অস্ত্র বাণিজ্যের খবর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজপরিবারের ১১টি বিমানের মধ্যে অন্তত তিনটিতে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এলবিটের তৈরি বিশেষ ‘সি-মিউজিক’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। জনসমক্ষে আসা বিভিন্ন আলোকচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে যখন বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল, মূলত তখনই এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাগুলো যুক্ত করা হয়।   এছাড়া ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কাতারের এফ-১৫ কিউএ আবাবিল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১৫ থেকে ২৫ কোটি ডলারের সাব-কন্ট্রাক্ট বা উপ-চুক্তি লাভ করেছিল। এই চুক্তির অধীনে কাতারি যুদ্ধবিমানের জন্য প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের ১৬০টি জেএইচএমসিএস কম্পিউটারাইজড হেলমেট এবং এএন/এভিএস-৯ নাইট ভিশন চশমা সরবরাহ করা হয়।   একইভাবে সৌদি আরবের কাছেও ইসরাইলি সামরিক প্রযুক্তি পৌঁছানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বোয়িং কোম্পানির মাধ্যমে সৌদি আরবের কাছে এফ-১৫ এসএ যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তির অংশ হিসেবে রিয়াদকে ৪৬২টি জেএইচএমসিএস হেলমেট এবং সমসংখ্যক নাইট ভিশন চশমা সরবরাহ করা হয়েছিল। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সৌদি বিমানবাহিনী বর্তমানে এই হেলমেটগুলো ব্যবহার করছে।   কাতারের সঙ্গে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক না থাকলেও, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কিছু সদস্যের সঙ্গে দোহার গোপন যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে দুই প্রভাবশালী আরব দেশের কাছে ইসরাইলি যুদ্ধাস্ত্র বিক্রির এই চাঞ্চল্যকর তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রার যোগ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি জেনে ব্যাগ ফেরত দিল ‘নীতিবান চোর’, সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে চিঠি

কাতারের রাজধানী দোহায় এক ফিলিস্তিনি নারীর ব্যাগ চুরি করার পর সেটি আবার ফিরিয়ে দিয়েছে চোর। শুধু ব্যাগ ফেরতই নয়, নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চেয়ে একটি হাতে লেখা চিঠিও রেখে গেছে সে। ব্যতিক্রমী এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের বাড়ির দরজার সামনে চুরি হওয়া ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগে থাকা ২৭৫ মার্কিন ডলার নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথিপত্র এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র—সবই অক্ষত ছিল।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাগটি চুরির পর এর ভেতরের কাগজপত্র দেখার সময় চোর জানতে পারে, ব্যাগের মালিক একজন ফিলিস্তিনি নারী এবং তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এরপরই সে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   ব্যাগের সঙ্গে রাখা হাতে লেখা একটি চিরকুটে চোর লিখেছে, “আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি জানতাম না যে আপনি একজন ফিলিস্তিনি। যদি আগে জানতাম, তবে আমি কখনই আপনার জিনিস চুরি করতাম না।”   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিঠির আরেকটি সংস্করণে লেখা ছিল, “আমাদের ক্ষমা করবেন। আপনি ফিলিস্তিনি তা জানা থাকলে আমরা কখনই এই কাজ করতাম না। আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”   ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই রসিকতার ছলে চোরকে ‘নীতিবান চোর’ বলে উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, চুরি অবশ্যই অপরাধ; তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে ব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি অস্বাভাবিক এবং ব্যতিক্রমী।   সূত্র: আল জাজিরা

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
কাতারের রাস লাফান গ্যাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪; নিখোঁজ ১৮

কাতারের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনাল রাস লাফানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ জুন) রাতে যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির পর টার্মিনালটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রচেষ্টার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।   রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত এ বিস্ফোরণের ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদক দেশ কাতার। যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় কাতার তার আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে দেশটি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।   যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলমান থাকায় ইরান পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাতার পুনরায় রপ্তানি টার্মিনাল চালুর কাজ শুরু করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, রোববার রাতে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   বিস্ফোরণে কী পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বেশি হতাহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। সর্বশেষ হিসাবে ৫৪ জন আহত এবং ১৮ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে।   বারজান প্ল্যান্টে দৈনিক প্রায় ১৪০ কোটি স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট বিক্রয়যোগ্য গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণমুক্ত পানি উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনায় এ গ্যাস ব্যবহার করে থাকে।   প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের হাতে রয়েছে। এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফান এলাকায় আঘাত হানে। এতে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও হামলার কারণে এর আগেই সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করেছিল কাতার। সর্বশেষ টার্মিনালটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগের মধ্যেই নতুন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।  

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কাতার, আহত ৫৪; নিখোঁজ ১৮

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বৃহৎ গ্যাসশিল্প এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া এখনও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে রাজধানী দোহাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। অনেকেই প্রথমে এটিকে ভূমিকম্প বা নতুন কোনো নিরাপত্তা সংকট বলে মনে করেছিলেন।   রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও সিনহুয়া জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দূর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা উল্লেখ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   ঘটনার পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল Ras Laffan Industrial City-এর ভেতরে একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি কোনো নিরাপত্তা হামলা বা বাহ্যিক নাশকতার ফল নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী এবং বিশেষায়িত নিরাপত্তা ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বিস্ফোরণের ফলে গ্যাস বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ শিল্পাঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। কাতার পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে আহতদের অবস্থা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   রাস লাফফান শিল্পনগরী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র। কাতারের জ্বালানি খাতের একটি বড় অংশ এই শিল্পাঞ্চলকে ঘিরেই পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে যেকোনো দুর্ঘটনা শুধু দেশটির শিল্পখাত নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।   এদিকে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির উৎস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত তথ্য প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে।   সূত্র: গালফ নিউজ, সিনহুয়া, কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, কাতারে অবরুদ্ধ ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক চুক্তির অংশ হিসেবে কাতারে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল সম্পদ অবশেষে ফেরত পেতে যাচ্ছে ইরান। রোববার (২১ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-এর সংবাদে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কাতারে আটকে থাকা ইরানের এই ৬ বিলিয়ন ডলার অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে এবং তা তেহরানে ফেরত আসবে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ আটকে থাকায় ইরানের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছিল, তাই এই অর্থ ফেরত পাওয়া তেহরানের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।   তবে অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত পাওয়ার এই সমঝোতার মধ্যেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরানের কঠোর ও নীতিগত অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, ইরান কখনোই নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ত্যাগ করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপর পক্ষকে অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই বাস্তব সত্যটি মেনে নিতেই হবে।   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ওয়াশিংটনসহ পশ্চিমা বিশ্বের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়েও সরাসরি কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে জানান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা এর উন্নয়নের কোনো উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা ইরানের নেই। এটি কোনো নতুন বা আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, বিগত বহু বছর ধরেই ইসলামিক বিপ্লবের শহীদ নেতারা পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানের এই নীতিগত অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই সাথে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসী নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় আজ রোববার (২১ জুন) সকালের দিকে কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ও রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ মোট ছয়জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের অফিশিয়াল বিবৃতির বরাতে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম আজ দুপুরে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এই বাংলাদেশি প্রবাসীরা সবাই কাতারের স্থানীয় একটি বড় দুগ্ধজাত বকরি খামারে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন। আজ সকালে কাজ করার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথেই মূলত তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ও আন্তরিক তৎপরতায় প্রাথমিকভাবে নিহত পাঁচজন ভাগ্যহত বাংলাদেশির সম্পূর্ণ পরিচয় এবং দেশের বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিহত এই পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার সবার বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে। তারা হলেন—সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বিখ্যাত গাছবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ এবং কাদের আহমদ। একই এলাকার এবং একই গ্রামের পাঁচজন টগবগে যুবকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর আজ দুপুরে সিলেটে পৌঁছানোর পর পুরো কানাইঘাট উপজেলা জুড়ে এক শোকার্ত ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে গাছবাড়ি গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।   কাতার থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান এবং এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত ও নিখুঁত তথ্য সংগ্রহের জন্য কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দেশটির সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ট্রাফিক পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। একই সাথে নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। কাতার পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার শিকার দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।   বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তারা নিহত এই পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহগুলো যত দ্রুত সম্ভব সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়া আইনিভাবে শেষ করে বিমানযোগে বাংলাদেশে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহতদের কফিল বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আইনানুযায়ী বকেয়া বেতন এবং যথোপযুক্ত মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ বা ইন্সুরেন্সের টাকা আদায় করার বিষয়েও দূতাবাস কাতার সরকারের সাথে আলোচনা করছে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
কাতারের উপহার দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের রাজপরিবারের উপহার হিসেবে প্রতিরক্ষা দপ্তরে দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমানকে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছেন।   মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নতুনভাবে সাজানো বিমানটির সিঁড়ি বেয়ে নামেন দেশাত্মবোধক গান “গড ব্লেস দ্য ইউএসএ”-এর সুরের মধ্যে। তিনি দাবি করেন, নতুন এই বিমানটি বর্তমানে ব্যবহৃত প্রেসিডেন্টের বিশেষ উড়োজাহাজ বোয়িং ভিসি–২৫এ-এর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বড়।   ট্রাম্প জানান, বোয়িংয়ের নির্মাণাধীন নতুন দুটি এয়ার ফোর্স ওয়ান ২০২৮ সালের মধ্যে প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত এই বিমানটি অন্তর্বর্তীকালীন বা “ব্রিজ” এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তিনি বলেন, “এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান বলা হয়। এটি এমন মানে তৈরি করা হয়েছিল যা হয়তো আর কখনো দেখা যাবে না।”   প্রায় ১৪ বছর পুরোনো এই উড়োজাহাজটির মূল্য আনুমানিক ৪০ কোটি ডলার বলে জানা গেছে। বিদেশি কোনো সরকারের কাছ থেকে এমন উপহার গ্রহণ নিয়ে কিছু আইনপ্রণেতা ও নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন। গত জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে বিমানটি গ্রহণ করে। পরে টেক্সাসে এটি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা যুক্ত করে ব্যাপকভাবে সংস্কার করা হয়।   অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিমানটির লেজে নতুন মার্কিন পতাকার নকশাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রচলিত সোজা নকশার পরিবর্তে এবার পতাকাটি ঢেউ খেলানো আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।   ট্রাম্প আরও দাবি করেন, নতুন বিমানটি অন্য যেকোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের তুলনায় বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং দ্রুতগতির। তার ভাষায়, জ্বালানি নেওয়ার জন্য ঘন ঘন থামার প্রয়োজন নেই এবং এর সক্ষমতা প্রায় সীমাহীন।   তিনি বলেন, “লন্ডন, জার্মানি বা বিশ্বের যেকোনো বিমানবন্দরে আমরা যখন অবতরণ করব, তখন এই বিমানটির সমকক্ষ আর কোনোটি থাকবে না। আমাদের দেশের জন্য সেটাই হওয়া উচিত।” বর্তমানে ব্যবহৃত দুটি এয়ার ফোর্স ওয়ানের একটি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সাময়িকভাবে পরিষেবার বাইরে রয়েছে। অন্যটির পাশাপাশি এই নতুন বিমানটিও প্রেসিডেন্টের সফরে ব্যবহার করা হবে।   ট্রাম্প জানান, গত সপ্তাহে ইউরোপে জি–৭ সম্মেলনে তিনি যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেছিলেন, সেটিই সম্ভবত তার শেষ বড় আন্তর্জাতিক সফর ছিল। ভবিষ্যতে পুরোনো বিমানগুলো জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হতে পারে।   তিনি আরও বলেন, বিমানটির মাত্র ৮০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং এটি প্রায় নতুন অবস্থায় রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে কাতারের আমিরের কাছে তিনি এই বিমানটি সাময়িক ব্যবহারের অনুরোধ করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আঞ্চলিক সংকট নিরসনে ইরান–কাতারের শীর্ষ পর্যায়ের ফোনালাপ

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির মধ্যে টেলিফোনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাতারের গঠনমূলক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।   ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।   অন্যদিকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কাতারের আমির আরও বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে দোহার কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।   দুই নেতার আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।   সূত্র: কাতার নিউজ এজেন্সি

Unknown জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কাতার: পেজেশকিয়ান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, আলোচনার জন্য একটি ইতিবাচক ও অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কাতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, যা শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপের সময় পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন।   ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় কাতার গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি পাকিস্তান এবং অন্যান্য ইসলামি দেশগুলোর সহযোগিতাও এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান।   ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি কাতারের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।   সাম্প্রতিক এই সমঝোতা স্মারককে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও বিরোধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার নতুন পথ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফোনালাপে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনীতি, আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। কাতারের আমির আরও বলেন, অঞ্চলের বিভিন্ন সংকট নিরসনে সংলাপভিত্তিক উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক এই সমঝোতা ভবিষ্যতে বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে কাতার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। আফগানিস্তান, গাজা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটের পাশাপাশি এবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের ক্ষেত্রেও দেশটির সক্রিয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।   এদিকে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি নির্দিষ্ট আলোচনাকালে প্রবেশ করেছে। এই সময়ে উভয় পক্ষ আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভবিষ্যৎ আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে উভয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে তার ওপর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
কাতারে আকামা বাতিলের পর থাকার সময় কমলো, নতুন নিয়মে বাড়ছে জরিমানার চাপ
কাতারে আকামা বাতিলের পর থাকার সময় কমলো, নতুন নিয়মে বাড়ছে জরিমানার চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বসবাসরত প্রবাসীদের রেসিডেন্সি পারমিট বা ‘আকামা’ সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রবাসীর আকামা বাতিল হওয়ার পর তিনি সর্বোচ্চ ১৪ দিন—অর্থাৎ দুই সপ্তাহ—দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন। আগে এই সময়সীমা ছিল ৩০ দিন।   কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের পাসপোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ আলী আল কুওয়ারি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, নির্ধারিত ১৪ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীকে প্রতিদিন ১০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানা গুনতে হবে। ফলে সময়সীমা অতিক্রম করলে আর্থিক চাপও বাড়বে।   শুধু প্রবাসী শ্রমিকই নয়, কাতারে ভ্রমণরত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্যও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভিজিট ভিসায় আসা ব্যক্তিদের তাদের ভিসার মেয়াদ ও অনুমোদিত অবস্থানকাল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে প্রতিদিন ২০০ কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।   ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে দেশ ছাড়ার আগে ‘মেট্রাশ’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের আইনি অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জরিমানা, ওভারস্টে ফি কিংবা সরকারি অন্য কোনো বকেয়া থাকলে তা আগেই পরিশোধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় বাধার মুখে পড়তে পারেন যাত্রীরা।   এছাড়া প্রবাসীদের সুবিধার্থে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট বা স্বয়ংক্রিয় গেট ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনালে মোট ৭৬টি ই-গেট চালু রয়েছে, যা যাত্রীদের সময় বাঁচাতে সহায়তা করছে।   ওয়েবিনারে কাতারে জন্ম নেওয়া প্রবাসীদের সন্তানদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নবজাতকের জন্মের পর দ্রুত পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এরপর নিজ দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বাবার স্পন্সরশিপের অধীনে শিশুর রেসিডেন্সি পারমিট নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।   বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই নিয়ম কাতারে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। একই সঙ্গে আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কাতারে প্রবাসীদের জন্য কড়া নিয়ম, আকামা বাতিলের পর দেশ ছাড়তে হবে ১৪ দিনের মধ্যে

কাতারে বসবাসরত প্রবাসী ও দর্শনার্থীদের জন্য রেসিডেন্সি এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে কোনো প্রবাসীর রেসিডেন্সি পারমিট বা আকামা বাতিল হওয়ার পর দেশটিতে অবস্থানের বৈধ সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ৩০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কাতার ত্যাগ না করলে আইনি জটিলতাসহ জরিমানার মুখে পড়তে হবে।   সম্প্রতি কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়। এয়ারপোর্ট পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ আলী আল কুওয়ারি জানান, আকামা বাতিলের পর নির্দিষ্ট ১৪ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ না করলে প্রবাসীদের প্রতিদিনের জন্য ১০ কাতারি রিয়াল হারে বিলম্ব জরিমানা গুনতে হবে। পাশাপাশি ভিজিট ভিসায় আসা দর্শনার্থীদের জন্যও কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।   ভিসায় উল্লেখিত মেয়াদের পর অতিরিক্ত সময় কাতারে অবস্থান করলে পর্যটকদের প্রতিদিনের জন্য ২০০ কাতারি রিয়াল হারে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ভ্রমণকালীন যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়াতে কাতার ছাড়ার আগে প্রবাসীদের ‘মেট্রাশ’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নিজেদের বর্তমান আইনি স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে কোনো বকেয়া ট্রাফিক ফাইন, ওভারস্টে জরিমানা বা অন্য কোনো সরকারি পাওনা থাকলে তা বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই পরিশোধ করতে হবে।   এছাড়া প্রবাসীরা চাইলে এই মেট্রাশ অ্যাপের মাধ্যমেই তাদের রেসিডেন্সি পারমিট নতুন পাসপোর্টে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবং দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু থাকা ৭৬টি ই-গেট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   নতুন এই নির্দেশনায় কাতারে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের বিষয়েও আইনি প্রক্রিয়া স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসীদের অবশ্যই নবজাতকের জন্মের পর পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা দ্রুত রিপোর্ট করতে হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে বাবার স্পন্সরশিপের অধীনে শিশুটির রেসিডেন্সি পারমিট বা আকামা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বিরোধ মেটাতে পাকিস্তানকে পূর্ণ সমর্থন দিল কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রতি এবার নিজেদের আনুষ্ঠানিক পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে কাতার। গত শনিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।   কাতারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ফোনালাপের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আলোচনা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের এই শীর্ষ নেতার ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির সমসাময়িক নানা বিষয় গুরুত্বের সাথে উঠে আসে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতি ও অগ্রগতির বিষয়ে কাতারকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যের সূত্র ধরে কাতার গভীর আশা প্রকাশ করেছে যে, খুব শীঘ্রই বিশ্বের পরাশক্তি রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি টেকসই চূড়ান্ত শান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে সক্ষম হবে।   কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশটির মহামান্য প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের এই আন্তরিক শান্তি ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে কাতারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি চলমান আঞ্চলিক সংকট সমাধানের জন্য পাকিস্তানের বৈশ্বিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের গুরুত্বের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।   বিবৃতিতে কাতার এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। সেই লক্ষ্যে বৈশ্বিক সংকট উত্তরণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে এবং পাকিস্তানের এই আন্তরিক উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিতে সংশ্লিষ্ট অন্য সব পক্ষকেও বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে দেশটি।

তাবাস্সুম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ এ বি সি
কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে বন্দি আফগান কিশোরী, পেছনে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি

কাতারের দোহায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে (ক্যাম্প আস-সাইলিয়াহ) আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ১৫ বছর বয়সী আফগান কিশোরী জাহরা মুহিব।   চারদিকে ধূসর উঁচু দেয়ালে ঘেরা ছোট একটি রুমে একটি কার্পেট, রঙিন কমফোর্টার এবং কয়েকটি ছবি দিয়ে সে নিজের মতো করে একটি ঘর বানানোর চেষ্টা করেছে। এই বন্দিদশাতেই জীবনের দুটি জন্মদিন পার করেছে সে।   যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ জন আফগান শরণার্থীর সাথে এই ঘাঁটিতে আশ্রয় পেয়েছিল জাহরা, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।   তবে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থগিত করে যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, তার ফলেই মাঝপথে থমকে গেছে এই অসহায় মানুষদের ভবিষ্যৎ।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহরা জানায়, ট্রাম্পের ওই আদেশের পর থেকে তার ভবিষ্যতের সমস্ত স্বপ্ন আমূল বদলে গেছে এবং পুরো ক্যাম্প জুড়েই এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে।   এখানকার জীবনকে জেলের চেয়েও ভয়াবহ উল্লেখ করে সে আক্ষেপ নিয়ে বলে, "ক্যাম্পের বাইরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তারা আমাদের শরীরে জিপিএস ট্র্যাকার পরিয়ে দেয়, যাতে আমরা পালাতে না পারি।   আমার মনে হয়, এখানকার চেয়ে হয়তো জেলখানাও অনেক ভালো।" এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে জাহরা ও তার মতো আরও অসংখ্য শরণার্থী পরিবার।   সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্যাম্পের এই দুরবস্থা নিয়ে কথা বলার পর ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে এই কিশোরী।   জাহরা জানায়, কর্মকর্তারা তাকে ও তার বাবা-মাকে শাসিয়ে বলেছে যে, সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলে তারা নিজেদের আবার আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।   যদিও জাহরার এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, এই কথিত ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং বাসিন্দাদের সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে খতিয়ে দেখা হয়।   তবে, যেকোনো সময় জোরপূর্বক আবারও তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর আতঙ্ক এই মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা অসংখ্য আফগান শরণার্থীর মনে তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০