ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং ইরানের পরমাণু ইস্যুতেও অগ্রগতি হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। ইরান অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। সম্প্রতি কাতারে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোও খুব ভালো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তাদের মধ্যে খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। এখন সামনে কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।’
এদিকে বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি সূত্র এবং এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার পথ খুঁজে বের করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকের আগে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। কাতার ও পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে কুশনার ও উইটকফ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অংশ নেননি। তারা মূলত আলোচনার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreপশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগের মধ্যেই কলকাতার কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে নাগরিক সুবিধা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৭ দিন ধরে কলোনির প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। কলকাতা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটিসংলগ্ন এই কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এসব পরিবার। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে কলোনিতে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও অনেক ল্যাম্পপোস্টে এখনো বিদ্যুৎ নেই বলে অভিযোগ তাদের। ফলে রাতের বেলায় চলাচলসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। জ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। অনেক পরিবার ৫০ থেকে ৬০ বছর, আবার কেউ কেউ প্রায় ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিনের বসবাস সত্ত্বেও মৌলিক নাগরিক সুবিধার জন্য তাদের বারবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার এখন কলোনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা থেকে পানি সংগ্রহ করে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। তবে নদীতে বিভিন্ন স্থান থেকে দূষিত পানি মেশার কারণে এই পানি ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। কলোনিতে পাঁচটি পানির কল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এসব কলের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য কলকাতা সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণে তাদের ওপর ক্ষোভ থেকে এমন বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা। কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি নির্বাচিত হওয়ার পর মুসলিমদের ভোট না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই বক্তব্যের পর তাদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে যে ভোটের কারণে তাদের এলাকার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে বিধায়কের ওই বক্তব্য বা কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, পানি সরবরাহ বন্ধ রাখার পেছনে কলোনি উচ্ছেদের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, ১৭ দিন ধরে সুপেয় পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও দিনমজুর পরিবারগুলো। দ্রুত পানি সরবরাহ পুনরায় চালু, বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা। নাগরিক সুবিধা বন্ধের প্রকৃত কারণ কী এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার মানুষ
চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের
জাপানের প্রাণবন্ত প্রাণকেন্দ্র টোকিওর পথঘাট, ঐতিহাসিক মন্দির থেকে শুরু করে ফুকুওকার লালচে দার্জিলিং-এর মতো সুপ্রসিদ্ধ দাজাইফু টেনমাঙ্গু মন্দির—সব জায়গায় এই গ্রীষ্মে পর্যটকদের পদচারণা যেমন আগের মতোই চোখে পড়ার মতো, তেমনি বদলে গেছে তাদের জাতিগত পরিচয়। চীন-জাপান সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের জের ধরে চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫৬.৪ শতাংশ। কিন্তু সেই শূন্যস্থান কি পূরণ হচ্ছে? জাপানের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, হ্যাঁ—যদিও পথটা সহজ ছিল না। গত বছর সংসদে তাইওয়ান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী সানে তাইচির বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই চীনা পর্যটকদের আগমন থমকে যায়। পিকিং-এর তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং নিজেদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ বাস্তবে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু জাপানের পর্যটন খাত যেন হার মানেনি। বরং, দুর্বল ইয়েনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আসা পর্যটকেরা চীনের ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছেন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট বিদেশি পর্যটক এসেছেন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার, যা গত বছরের রেকর্ড-সংলগ্ন সময়ের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ কম। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, পর্যটকের সংখ্যা কমলেও তাদের খরচের পরিমাণ বেড়েছে। আবাসন ও কেনাকাটায় মোট খরচ হয়েছে ৪.৮৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন ডলার), যা প্রথমার্ধের হিসেবে নতুন রেকর্ড। অর্থাৎ, কম পর্যটক এসেছেন, কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের গড় খরচ বেড়েছে—এ যেন খাদ্যতালিকায় কম কিন্তু মানসম্পন্ন আহারের দর্শন। রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন নীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিও নিশিকাওয়া মনে করছেন, এটি 'পর্যটকের বৈচিত্র্যায়ন'-এর স্পষ্ট প্রমাণ। তাঁর কথায়, "আমরা এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে চীন ছাড়াই পর্যটন তার গতি ধরে রাখতে পারছে।" এমনকি মধ্য প্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে ইউরোপীয় পর্যটকদের কাছ থেকে কিছু বাতিল আসলেও তা সামগ্রিক সংখ্যার তুলনায় নগণ্য। ফুকুওকার দাজাইফু মন্দিরের পুরোহিত কেইয়া ইয়ামাগুচি জানালেন, এখানে আসা বিদেশি পর্যটকের প্রায় ৯০ শতাংশই দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে। "আমরা কোনো পরিবর্তন অনুভব করছি না," তাঁর গলায় আত্মবিশ্বাস। তবে এই উজ্জ্বল চিত্রের উল্টোপিঠে আছে জাপানি নিজেদের বিদেশ ভ্রমণের চিত্র। মহামারীর আগে ২০১৯ সালে যেখানে বছরে ২ কোটি জাপানি বিদেশ গিয়েছিলেন, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজারে। চলতি বছর প্রথমার্ধে মাত্র ৬৯ লাখ ৪০ হাজার জাপানি বিদেশ সফর করেছেন। মূল কারণ—মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ইয়েন ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি। ভ্রমণ সংস্থা জেটিবি-র সমীক্ষা বলছে, এই গ্রীষ্মের ছুটিতে জাপানি পর্যটক বিদেশগামীর সংখ্যা ৮.৮ শতাংশ কমতে পারে—যা ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবার। জাপান সরকার অবশ্য পাসপোর্ট ফি কমানোর মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণে উৎসাহ দিতে চাইছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ নিশিকাওয়া সতর্ক করে বলেছেন, দেশীয় পর্যটকদের কমে যাওয়া আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর জন্য হতে পারে মারাত্মক হুমকি। তাঁর মতে, স্থানীয় প্রশাসনগুলোকেই এখন নিজেদের মানুষের ভ্রমণ আগ্রহ বাড়ানোর কৌশল তৈরি করতে হবে। সব মিলিয়ে, জাপানের পর্যটন শিল্প এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। চীন-নির্ভরতার পুরোনো দিন শেষ, নতুন বাজার ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। গ্রীষ্মের এই রোদে দাঁড়িয়ে টোকিওর কোনো ক্যাফেতে যদি বসেন, দেখবেন ইংরেজি, কোরিয়ান, থাই, ফরাসি আর স্প্যানিশ ভাষার মিশ্রণ—যেন এক বিশ্বমেলার আয়োজন। আর এই বৈচিত্র্যই এখন জাপানের পর্যটনের নতুন প্রাণশক্তি।
মিসরও যোগ দিতে পারে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে: এরদোয়ান
ইরান-ওমান সমঝোতার পথে, হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে চায় তেহরান
শিক্ষকের বকুনি থেকে জেদ করে তিনতলা ভবনের সমান নখ রেখে গিনেস বুকে রেকর্ড করেলন শ্রীধর
ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার ইউরোপ সফর যেন শেষই হচ্ছে না। গত ৭ জুন ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ ইউরোপের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ৯৩ বছর বয়সী এই নেতা। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি দেশে ফেরেননি। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে দেশটিতে উদ্বেগ ও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার বলছে, পল বিয়া সুস্থ আছেন এবং বিদেশে থেকেও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ৭ জুন জানিয়েছিল, পল বিয়া তার স্ত্রী শঁতাল বিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপে একটি ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ যাচ্ছেন। পরে সরকার নিশ্চিত করে, তিনি সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তবে দেশে ফেরার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। আগস্টের শুরুতে তার বিদেশে অবস্থানের সময় প্রায় দুই মাসে পৌঁছে যায়, যা তার দীর্ঘদিনের বিদেশ সফরগুলোর মধ্যেও অন্যতম দীর্ঘ। পল বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে তার বয়স এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। ৯৩ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান। ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসার পর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্যামেরুন শাসন করছেন তিনি। ২০২৫ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে অষ্টম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন পল বিয়া। তার স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে তার নিয়মিত দীর্ঘ অবস্থান এসব জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। তবে ক্যামেরুন সরকার বারবার এসব প্রশ্ন খারিজ করেছে। চলতি বছরের জুনে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী রেনে ইমানুয়েল সাদি পল বিয়া জেনেভার কোনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন, এমন খবর অস্বীকার করেন। পরে প্রেসিডেন্টের সিভিল ক্যাবিনেটের পরিচালক স্যামুয়েল মভোন্দো আয়োলোও বলেন, তিনি হাসপাতালে ভর্তি নন এবং জেনেভায় হোটেল থেকেই নিয়মিত কাজ করছেন। তবে সরকারের বক্তব্যের পরও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে পল বিয়াকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তার অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা কীভাবে চলছে তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী রাজনীতিকদের কেউ কেউ পরিস্থিতিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় এক ধরনের ‘স্বয়ংক্রিয়’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এদিকে পল বিয়ার অনুপস্থিতির মধ্যেই ক্ষমতাসীন ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (সিপিডিএম) শীর্ষ নেতারা জুলাইয়ে একটি বিরল বৈঠকে বসেন। দলটির মহাসচিব জ্যঁ নকুতে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসভা হিসেবে উল্লেখ করলেও বৈঠকটি প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট করেননি। পল বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আরেকটি কারণ হলো দেশটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি। এ বছরের এপ্রিলে আইনপ্রণেতারা ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ পুনর্বহালের ব্যবস্থা অনুমোদন করলেও এখনো সেই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রেসিডেন্ট দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে পল বিয়ার অনুপস্থিতির ৫৮তম দিনে ক্যামেরুনের সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনা হয়। ৪ আগস্ট জারি করা তিনটি প্রেসিডেন্টের ডিক্রিতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রধানকে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি দেশের পাঁচটি যৌথ সামরিক অঞ্চলের মধ্যে চারটির কমান্ডার পরিবর্তন করা হয়। এসব পরিবর্তনের কোনো সরকারি কারণ জানানো হয়নি। এই সামরিক রদবদলও পল বিয়ার অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আরও বাড়িয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ পরিবর্তনকে তার অনুপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকার বরাবরই বলে আসছে, বিদেশে থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা পল বিয়ার রয়েছে। ক্যামেরুনে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ২০২৪ সালেও পল বিয়া প্রায় ৪২ দিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তখনও তার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়েছিল। পরে তিনি সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফেরেন। ওই ঘটনার পর ক্যামেরুন সরকার প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা নিষিদ্ধ করেছিল এবং বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পল বিয়ার রাজনৈতিক জীবনও দীর্ঘ সময়ের ক্ষমতার প্রতীক। ক্যামেরুনের প্রথম প্রেসিডেন্ট আহমাদু আহিদজোর পদত্যাগের পর ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসেন তিনি। ২০০৮ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সীমা তুলে দেওয়া হয়। ফলে ২০২৫ সালের নির্বাচনে অষ্টমবারের মতো জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পান পল বিয়া। তার দীর্ঘ শাসনামলে দেশটি নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে বোকো হারামের হামলা এবং পশ্চিমাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থবিরতাও তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ ক্যামেরুনে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। অথচ তাদের জীবনের বড় অংশজুড়েই রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তারা দেখে আসছেন একই ব্যক্তিকে। ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও বিতর্কমুক্ত ছিল না। পল বিয়া নির্বাচনে জয়ী হয়ে অষ্টম মেয়াদ নিশ্চিত করলেও বিরোধীরা ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে। নির্বাচনের পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়। ফলে দীর্ঘদিনের এই শাসকের বিদেশে অবস্থান এখন শুধু তার স্বাস্থ্য নয়, ক্যামেরুনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত পল বিয়ার মৃত্যুর কোনো নির্ভরযোগ্য খবর বা তার গুরুতর অসুস্থতার বিষয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই। সরকার বলছে, তিনি সুস্থ আছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। ফলে ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফর’ হিসেবে শুরু হওয়া এই ইউরোপ যাত্রা কবে শেষ হবে, সেটিই এখন ক্যামেরুনের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।
‘আমি ৩ দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা’, ব্রেকআপের পর সাবেক প্রেমিকের বাড়িতে এক টন পেঁয়াজ পাঠালেন তরুণী
নর্দমার পাইপ বসাতে গিয়ে মিলল ১০৪ কোটি টাকার সোনা, প্রথমে ভেবেছিলেন এক ইউরোর কয়েন