- প্রচ্ছদ
- Topic
কোভিড-১৯
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এবং সিএনএনের জ্যেষ্ঠ সঞ্চালক ড্যানা ব্যাশের মধ্যে সরাসরি সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটেছে। সিএনএনের বিশেষ অনুষ্ঠান 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন'-এ করোনা মহামারি, টিকার কার্যকারিতা, হামের প্রাদুর্ভাব এবং অটিজম ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে এই জোর বাকযুদ্ধ গড়ে ওঠে। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্য বিভাগের নীতি ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো স্বাস্থ্য সংকট বা মহামারি দেখা দিলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা হবে সঞ্চালক ড্যানা ব্যাশের এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাগরিকেদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি মন্তব্য করেন, গত মহামারির সময় সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করাটাই ছিল তৎকালীন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ভুল। জবাবে সঞ্চালক ব্যাশ দাবি করেন যে তিনি জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা নিয়ে প্রশ্ন করছেন, কোনো রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে নয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কেনেডি সরাসরি ব্যাশকে লক্ষ্য করে বলেন, তৎকালীন সংকটে মূল সমস্যার একটি বড় অংশ ছিল সিএনএনসহ মূলধারার গণমাধ্যমগুলো। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে তীব্রভাবে প্রশ্নের মুখোমুখি করাই সাংবাদিকতার প্রধান কাজ, কিন্তু আপনারা সেটি না করে সরকারের বক্তব্য প্রচার করেছেন, যা সরাসরি সাংবাদিকতার নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। সিএনএন সঞ্চালক ড্যানা ব্যাশ তখন দাবি করেন যে করোনা টিকা কার্যকর ছিল এবং এটি একটি প্রমাণিত সত্য। তিনি অভিযোগ করেন, টিকা নিয়ে ভুল তথ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত এক থেকে দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেনেডি বিষয়টিকে ভিত্তিহীন দাবি করেন এবং ব্যাশকে একটিমাত্র নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রমাণ উপস্থিত করতে চ্যালেঞ্জ জানান। আলোচনার একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কথা ওঠে। কেনেডি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অন্যান্য দেশের তুলনায় এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অনেক ভালো কাজ করছে। তবে বিগত মহামারির কারণে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়া এবং কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানানোকে তিনি নতুন করে হাম বিস্তারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সঞ্চালকের বিশেষ অনুরোধে তিনি সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশে বিদ্যালয় খোলার আগে শিশুদের প্রয়োজনীয় হামের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে অটিজম এবং টিকার সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষযটি আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট করে কেনেডি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন অটিজমের মূল কারণ অনুসন্ধানে টিকা ও এর উপাদানের সংযোগ নিয়ে গভীর গবেষণা চালাতে চায়। কেনেডি দাবি করেন, এই বিষয়টি নিয়ে এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়নি। তিনি ব্যাশকে মূলধারার নির্দিষ্ট কিছু যুক্তি তোতাপাখির মতো বারবার পুনরাবৃত্তি করছেন বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। প্রায় ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা এই উত্তপ্ত সাক্ষাৎকার শেষে সঞ্চালক ড্যানা ব্যাশ আলোচনার বিতর্কিত রূপ নিয়ে কিছুটা দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরাই তাদের প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে গণমাধ্যমের নিষ্ক্রিয়তা ও বস্তুনিষ্ঠতার অভাবকে স্বাস্থ্য সংকটের পেছনে অন্যতম কারণ বলে নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি)-এর প্রাক্তন প্রধান ড. অ্যান্থনি ফাউচি সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে রিপাবলিকান সেনেটরদের হতবাক করে দিয়েছেন। কোভিড-১৯ মহামারী সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে তিনি শুনানির শুরুতেই মার্কিন সংবিধানের 'ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট' বা পঞ্চম সংশোধনীর আইনি অধিকার প্রয়োগ করেন। সাধারণত কোনো সাক্ষী এই অধিকার প্রয়োগ করলে শুনানি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে সেনেট হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ফাউচিকে প্রায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যান। চেয়ারম্যান র্যান্ড পলের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা মহামারীর উৎস, ফাউচির প্রকাশ্য মন্তব্য ও ব্যক্তিগত মতের বৈপরীত্য এবং ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ঝুঁকিপূর্ণ 'গেইন অফ ফাংশন' গবেষণায় অর্থায়নের বিষয়ে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেন। অন্যদিকে, কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এই শুনানিকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' বলে আখ্যায়িত করে এর সমালোচনা করেন। শুনানি শেষে সেনেটর র্যান্ড পল ঘোষণা করেন যে, আগামী সপ্তাহে ফাউচির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। একইসঙ্গে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক ফাউচিকে দেওয়া বিশেষ ক্ষমার (পার্ডন) বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পলের দাবি, ফাউচি যদি সত্য কথা বলতেন এবং রুটিনমাফিক রেকর্ড ধ্বংস করার কথাও স্বীকার করতেন, তাহলেও তার কোনো আইনি ঝুঁকি থাকতো না। তবে ড. ফাউচি তার প্রারম্ভিক বিবৃতিতে র্যান্ড পলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়ে পলের এক ধরনের 'প্রকাশ্য উন্মাদনা' রয়েছে এবং তাকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত ডায়েরি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। শুনানি চলাকালে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম হয়। সিআইএ-এর অর্থায়ন, চীনে বিতর্কিত গবেষণা এবং তার প্রাক্তন উপদেষ্টা ডেভিড মোরেন্সের কেন্দ্রীয় সরকারের রেকর্ড ধ্বংস করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যেতে ফাউচি অন্তত ১১১ বার 'ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট'-এর আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শুনানির আধা ঘণ্টা পার হওয়ার পর, যখন ফাউচির আইনজীবী ডেভিড শার্টলার একটি বিবৃতি পড়ার চেষ্টা করেন। চেয়ারম্যান র্যান্ড পল তাকে থামিয়ে দেন এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর ইউএস ক্যাপিটল পুলিশের সাহায্যে তাকে শুনানি কক্ষ থেকে বের করে দেন। রিপাবলিকান সেনেটররা মহামারী চলাকালীন ফাউচির নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও লকডাউনের তীব্র সমালোচনা করেন। সেনেটর বার্নি মোরেনো মাস্ক ছাড়া ফুটবল খেলা দেখতে যাওয়ায় এক পরিবারের গ্রেপ্তারের ঘটনা উল্লেখ করে ফাউচির চরম সমালোচনা করেন। পাশাপাশি, সেনেটর অ্যাশলি মুডি ফাউচির সদ্য প্রকাশিত ব্যক্তিগত ডায়েরির সূত্র ধরে দাবি করেন যে, ফাউচি প্রকাশ্যে লকডাউনের কথা অস্বীকার করলেও বাস্তবে তিনিই নিউইয়র্কের মেয়র এবং প্রেসিডেন্টকে লকডাউন দিতে প্ররোচিত করেছিলেন। এছাড়াও, সেনেটর জশ হাউলি ফাউচির বিরুদ্ধে সরকারি কর্মীদের ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থমূল্যের নগদ পুরস্কার সংগ্রহের অবৈধ চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ আনেন। শুনানির সবচেয়ে অস্বস্তিকর মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন সেনেটর জনি আর্নস্ট অভিযোগ করেন যে, ফাউচি করোনা গবেষণায় ইঁদুরের শরীরে গর্ভপাত হওয়া ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলেন। আর্নস্ট জানান, গবেষকরা এই ইঁদুরগুলোর নাম দিয়েছিলেন 'বিএলটি-এল', যা মূলত ইঁদুরের ভেতরে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের একটি 'স্যান্ডউইচ' তৈরি করার সমতুল্য একটি অমানবিক প্রক্রিয়া। এই চরম বিতর্কিত অভিযোগের বিষয়েও ড. ফাউচি কোনো উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং নিজের নীরবতা বজায় রাখেন।
কোভিড-১৯ মহামারির আগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে নিজের বাড়ি কেনা ছিল ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, জরুরি প্রয়োজন নয়। তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও অনেকেই ভাড়া বাসায় থাকাকেই স্বস্তিদায়ক মনে করতেন। কিন্তু ২০২০ সালের লকডাউন সেই ধারণা বদলে দেয়। মাসের পর মাস ঘরে বন্দি জীবন, বাড়ি থেকে কাজ, সন্তানদের অনলাইন ক্লাস এবং সীমিত জায়গায় বসবাসের অভিজ্ঞতা অনেক পরিবারকে উপলব্ধি করায়—নিজস্ব একটি বাড়ি শুধু বিনিয়োগ নয়, জীবনযাত্রার মানেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু যখন অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন আবাসন বাজারের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বাড়ির দাম দ্রুত বেড়েছে, মর্টগেজ সুদের হারও কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে যাদের কয়েক বছর আগে বাড়ি কেনার সুযোগ ছিল, তাদের অনেকেই এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাংলাদেশি অধ্যুষিত শহর—নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, জর্জিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক এলাকায় কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক এলাকায় ২০২০ সালের আগে প্রায় ৩ লাখ ডলারে বিক্রি হওয়া বাড়ির মূল্য এখন ৫ থেকে ৬ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও সব বাজারে একই হারে মূল্য বৃদ্ধি হয়নি, তবে জনপ্রিয় আবাসিক এলাকাগুলোর অধিকাংশেই বাড়ির দাম এবং মাসিক মর্টগেজ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক পরিবার এখন আর ডাউন পেমেন্ট নয়, বরং মাসিক মর্টগেজ কিস্তির হিসাব করেই পিছিয়ে যাচ্ছেন। উচ্চ সুদের কারণে একই দামের বাড়ির মাসিক কিস্তি কয়েক বছর আগের তুলনায় শত শত ডলার বেশি পড়ছে। আটলান্টাপ্রবাসী এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী বলেন, “কোভিডের আগে যে বাড়িটি কেনার সুযোগ ছিল, এখন সেই একই বাড়ি কিনতে গেলে মাসিক কিস্তিই আমার বাজেটের বাইরে চলে যায়। তখন সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছি, এখন সামর্থ্য থাকলেও বাজার আর আগের জায়গায় নেই।” আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোভিডের সময় কম সুদের হার এবং বাড়ি থেকে কাজের প্রবণতা লাখো পরিবারকে বাড়ি কেনার বাজারে নিয়ে আসে। কিন্তু একই সময়ে নতুন বাড়ির সরবরাহ সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে বাড়ির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং অনেক এলাকায় একাধিক ক্রেতার প্রতিযোগিতায় বিক্রয়মূল্য আরও বেড়ে যায়। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস (NAR)-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. লরেন্স ইউনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও আবাসনের অন্যতম বড় সমস্যা হলো পর্যাপ্ত বাড়ির সরবরাহ না থাকা। তার ভাষায়, ক্রেতাদের জন্য আগের চেয়ে কিছুটা বেশি বিকল্প তৈরি হলেও বাজার এখনও পুরোপুরি কোভিড-পূর্ব অবস্থায় ফেরেনি। তাই অনেক এলাকায় আবাসনের সংকট এখনো রয়ে গেছে। বর্তমানে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—যদি ভবিষ্যতে মর্টগেজ সুদের হার কমে, তাহলে কি বাড়ি কেনা সহজ হবে? অর্থনীতিবিদদের মতে, উত্তরটি এতটা সহজ নয়। এনএআরের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ নাদিয়া ইভানজেলো বলেন, মর্টগেজ সুদের হার ১ শতাংশ কমলে প্রায় ৫৫ লাখ অতিরিক্ত পরিবার বাড়ি কেনার যোগ্য হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত বাড়ির সরবরাহ না বাড়লে নতুন ক্রেতাদের এই ঢল আবারও দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ সুদের হার কমলেও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে। এ কারণেই অনেক রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শুধু সুদের হার কমার অপেক্ষায় বসে থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও মিলতে পারে। বাজারে যদি ক্রেতার সংখ্যা বাড়ে কিন্তু বিক্রির জন্য বাড়ির সংখ্যা সেই অনুপাতে না বাড়ে, তাহলে দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামের শহর বা ছোট শহরগুলোতে এখনও কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি পাওয়া গেলেও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি সেখানে যেতে আগ্রহী নন। কারণ এসব এলাকায় ভালো স্কুল, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, হালাল গ্রোসারি কিংবা পেশাগত সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম। ফলে কম দামে বাড়ি পাওয়া গেলেও জীবনযাত্রার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় অনেক পরিবার জনপ্রিয় শহরগুলোতেই থাকতে চান। ড. লরেন্স ইউনও মনে করেন, আবাসন বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাভাবিক করতে হলে নতুন বাড়ির নির্মাণ বাড়ানো এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, শুধু সুদের হার কমানো নয়, বাজারে আরও বেশি বাড়ি আসাটাই ভবিষ্যতে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, যারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাড়ি কিনতে চান, তাদের এখন থেকেই ডাউন পেমেন্টের জন্য সঞ্চয়, ক্রেডিট স্কোর উন্নত করা এবং বাজারের পরিবর্তনের ওপর নিয়মিত নজর রাখা উচিত। কারণ আবাসন বাজারে সঠিক সময়ে প্রস্তুত থাকাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভুয়া টিকা কার্ড বিক্রি এবং ভ্যাকসিন সংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতির অভিযোগে নিউইয়র্কের সাবেক নার্স প্র্যাকটিশনার জুলি ডেভুওনোকে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ডলার দেওয়ানি জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি সংস্থাটির ১২৫ বছরের ইতিহাসে ভ্যাকসিন জালিয়াতির ঘটনায় আরোপিত সর্বোচ্চ দেওয়ানি জরিমানা। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানায়, লং আইল্যান্ডের অ্যামিটিভিল এলাকার বাসিন্দা ডেভুওনো ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ১৬২ জন শিশুর নামে ভুয়া টিকাদানের তথ্য রাজ্যের ইমিউনাইজেশন নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত করেন। তদন্তে আরও উঠে আসে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় তিনি ভুয়া টিকা কার্ড বিক্রি করে প্রায় ১৫ লাখ ডলার আয় করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সরকার থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা ভ্যাকসিন প্রয়োগ না করে ফেলে দেন। এই ঘটনার জেরে ২০২২ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৩ সালে জালিয়াতি, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নির্দেশে ২০২৪ সালে তাকে পাঁচ বছরের প্রবেশন, কমিউনিটি সার্ভিস এবং অপরাধ থেকে অর্জিত ১২ লাখ ডলারের বেশি অর্থ বাজেয়াপ্ত করার শাস্তি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি তার নার্সিং লাইসেন্সও হারান। নতুন ৫ লাখ ৪৪ হাজার ডলারের জরিমানা আগের বাজেয়াপ্ত অর্থের অতিরিক্ত। নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. জেমস ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, টিকার ভুয়া তথ্য তৈরি বা নথি জাল করা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেরিতে ট্যাক্স ফাইল করা বা সময়মতো কর জমা দিতে না পারায় জরিমানা ও সুদ পরিশোধ করা লাখো আমেরিকান এখন রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। “Kwong v. United States” মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ফেডারেল ক্লেইমস রায় দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় ট্যাক্স ফাইলিংয়ের সময়সীমা বাড়ানোর যে আইনি বিধান রয়েছে, তা কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও কার্যকর হওয়া উচিত ছিল। আদালতের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড জরুরি অবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এই রায়ের ফলে ওই সময়ের মধ্যে দেরিতে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া বা সময়মতো কর পরিশোধ করতে না পারায় যাদের কাছ থেকে জরিমানা ও সুদ আদায় করা হয়েছিল, তারা সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন বলে মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক আমেরিকান হয়তো না জেনেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা পরিশোধ করেছেন। মহামারির সময় চাকরি হারানো, অসুস্থতা, ব্যবসায় ক্ষতি কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে বহু মানুষ সময়মতো ট্যাক্স ফাইল করতে পারেননি। আদালতের এই রায় তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। মামলাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইআরএস এখন পর্যন্ত সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ঘোষণা করেনি। ফলে কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাব্য রিফান্ড পেতে আগ্রহীদের নিজেদের ট্যাক্স রেকর্ড পর্যালোচনা করা উচিত এবং প্রয়োজন হলে সংশোধিত রিটার্ন বা রিফান্ড দাবি জমা দিতে হবে। এছাড়া রিফান্ড দাবির সময়সীমাও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই যারা কোভিড সময়ের ট্যাক্স জরিমানা বা সুদ পরিশোধ করেছিলেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।