কাশ্মীর

বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে আজাদ কাশ্মির অঞ্চল। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভয়াবহ সহিংসতা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত অন্তত ২৪

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিধানসভায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএকে) ডাকা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আজাদ কাশ্মির। গত ৫ জুন শুরু হওয়া এই আন্দোলন ৯ জুনের হরতালের পর থেকে চরম আকার ধারণ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গত প্রায় দুই সপ্তাহে ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে জেএএকের ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে এই সংঘাতের জেরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেল ও হামলায় এ পর্যন্ত ৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। আজাদ কাশ্মিরের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত রাওয়ালকোট শহরটি বর্তমানে এই বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।   উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাওয়ালকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। শহরের প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিও ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে।   টানা বিক্ষোভ, সংঘাত ও কারফিউয়ের কারণে আজাদ কাশ্মিরের জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ। ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা মুহম্মদ মাসকিন জানান, ওষুধের জন্য কয়েকদিন ধরে ঘুরলেও বড় ফার্মেসিগুলো বন্ধ থাকায় তা মিলছে না এবং যে কয়েকটি খোলা আছে সেখানেও সরবরাহ শেষ। আরেক বাসিন্দা সাবার হোসেনের কথায়, বাজারগুলো বন্ধ থাকায় শাক-সবজি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে গত আটদিন ধরে তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ২২ সেনা

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক ভয়াবহ সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার অঞ্চলটির রাজধানী মুজাফফরাবাদের কাছে রাশিয়ার তৈরি 'এমআই-১৭' মডেলের এই সামরিক পরিবহন হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের ভবনগুলোর পেছন থেকে প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়।   নিহতদের মধ্যে একজন কর্নেল, দুজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ১৯ জন সেনা সদস্য রয়েছেন বলে রয়টার্স, আনাদোলু এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র। সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, তারা নিশ্চিত করেছে যে ওই হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহীই প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে অবস্থানরত একটি আর্টিলারি ইউনিটের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে নিহত এই সেনা সদস্যদের সামরিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।   কাশ্মীরের এই অতি-স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলে বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ চলছে। গত সপ্তাহান্তে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া সুশীল সমাজের একটি জোটের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহতের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এই কড়াকড়ি আরোপ করে। তবে স্থানীয় এই অস্থিরতার সঙ্গে এভিয়েশন বা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত যান্ত্রিক কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে।   এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে পাকিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সেনা মোতায়েন ও চলাচলের জন্য সোভিয়েত নকশার এই এমআই-১৭ হেলিকপ্টারগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পাকিস্তান এর আগে তাদের ২২টি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার সংস্কার ও আধুনিকায়ন করলেও, প্রায়শই এই দুর্গম ভূখণ্ডে এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, হবেও না—জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করার পর, এর কড়া জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। ‘জবাব দেওয়ার অধিকার’ (রাইট অব রিপ্লাই) প্রয়োগ করে পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি বিশ্বমঞ্চে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং ভবিষ্যতেও কখনো হবে না।   জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারওয়ানি বলেন, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, যা আজও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় গুরুত্বের সঙ্গে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের মিথ্যা বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বদলে দেওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়।   এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন সংকট আজও সমানে প্রাসঙ্গিক এবং এর দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। তার এই বক্তব্যের পরই মূলত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে বাগযুদ্ধ শুরু হয়।   রাষ্ট্রদূত আসিম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি চিঠি বা যোগাযোগ নজরে আনা হয়েছে। এমনকি ওই বছরের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে, যা প্রমাণ করে সাত দশক পেরিয়ে গেলেও কাশ্মীর বিরোধ এখনো আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তির স্বার্থে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা ও কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের ভিত্তিতে এই বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তির দাবি জানায় ইসলামাবাদ।   কাশ্মীর ছাড়াও ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম আহমেদ। গাজায় চলমান রক্তপাত বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বস্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে (আল-কুদস আল-শরিফ) রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি অবিচল সমর্থন জানায় পাকিস্তান।   পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা এবং নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের একক সম্প্রসারণ ও ‘ভেটো’ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই পাকিস্তানি দূত।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
স্বর্ণালংকার থেকে মাটির ব্যাংক, কেন ইরানের জন্য সবই বিলিয়ে দিচ্ছেন কাশ্মীরিরা

কয়েক শতাব্দীর পুরনো আত্মিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন যেন নতুন করে জেগে উঠেছে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধের কবলে পড়া ইরানের সাধারণ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন কাশ্মীরি জনগণ। কেউ দিচ্ছেন নিজের প্রিয় স্বর্ণালংকার, কেউ ভেঙে ফেলছেন বছরের পর বছর জমানো মাটির ব্যাংক, আবার কেউ দান করছেন ঘরের তামা-কাসার তৈজসপত্র। গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন যখন পুরো দক্ষিণ এশিয়া উৎসবে মেতেছিল, তখন কাশ্মীরের বুদগাম এলাকার ৫৫ বছর বয়সী মাসরাত মুখতার তার বাবার দেওয়া জন্মদিনের উপহার—এক জোড়া সোনার দুল তুলে দেন ত্রাণ তহবিলে। মাসরাত বলেন, “আমরা যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তা-ই দান করি। এটি আমাদের তাদের (ইরানিদের) আরও কাছে নিয়ে যায়।” কাশ্মীরকে ঐতিহাসিকভাবে ‘ইরান-ই-সাগীর’ বা ‘ক্ষুদ্র ইরান’ বলা হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইরানি সুফি সাধক মির সাইয়্যেদ আলি হামাদানির আগমনের মাধ্যমে কাশ্মীরে যে পারস্য সংস্কৃতির ছোঁয়া লেগেছিল, বর্তমান সংকটে সেই টান আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। কী কী দান করছেন কাশ্মীরিরা? স্বর্ণ ও নগদ অর্থ: এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের সহায়তা সংগৃহীত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ব্যক্তিগত সম্পদ: শ্রীনগরের মিনি ট্রাক চালক সাদাকাত আলি মির তার আয়ের উৎস দুটি ট্রাকের একটি দান করে দিয়েছেন। শিশুরা তাদের জমানো মাটির ব্যাংক বা ‘পিগি ব্যাংক’ তুলে দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে। গৃহস্থালি সামগ্রী: কাশ্মীরি ঐতিহ্যে মেয়ের বিয়ের জন্য তামা ও কাসার তৈজসপত্র জমিয়ে রাখা হয়। অনেক মা সেই তামা-কাসার পাত্রগুলো ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত মা-বোনদের জন্য দিয়ে দিচ্ছেন। অন্যান্য: গবাদি পশু, সাইকেল এবং রিকশাও দান করা হচ্ছে এই ত্রাণ কার্যক্রমে। উল্লেখ্য যে, শিয়া প্রধান এলাকাগুলোতে এই আবেগ বেশি দেখা গেলেও ত্রাণ কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষও। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের এক মাসের বেতন দান করেছেন। ভারতের নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই মানবিক সহায়তার জন্য কাশ্মীরিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এক ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, ২৮ বছর আগে মৃত স্বামীর স্মৃতি হিসেবে রাখা স্বর্ণের অলংকারও এক বৃদ্ধা ইরানের জন্য দান করে দিয়েছেন। তবে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো (SIA) এই বিশাল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাদের মতে, অনিবন্ধিত ব্যক্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে টাকা দিলে তা ভুল পথে প্রবাহিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সরাসরি দূতাবাসের মাধ্যমে সহায়তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
জম্মু-কাশ্মিরে জোজিলা পাসে তুষারধস
জম্মু-কাশ্মিরে জোজিলা পাসে তুষারধস, নিহত ৭

জম্মু-কাশ্মিরের জোজিলা পাসে একাধিক তুষারধসে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এনএইচ-১ মহাসড়কের শ্রীনগর থেকে লেহ পর্যন্ত সংযোগকারী অংশে, বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট থেকে মিনিমার্গ এলাকায়। কয়েকটি যানবাহন তুষার ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে, যা হতাহতের মূল কারণ বলে জানা গেছে।   ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও জম্মু-কাশ্মির বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মৃত ও আহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   লাদাখের লেফটনেন্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা বলেন, তিনি নিজে পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি নিকটবর্তী কারগিল জেলার জেলা প্রশাসক ও সিনিয়র পুলিশ সুপারকে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।   ধসের কারণে মহাসড়কের ওই অংশে বিপুল পরিমাণ তুষার ও পাথর জমে গেছে, যা সরাতে উদ্ধারকারী দল যথেষ্ট সময় ও শ্রম দিচ্ছেন। জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, নিহত ও আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।   সূত্র: পিটিআই

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এই মানবিক কাজে অংশ নিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পাশে কাশ্মীর, অর্থ-স্বর্ণ দানে এগিয়ে মানুষ

চলমান যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের কাশ্মীর অঞ্চলের বাসিন্দারা। ঈদুল ফিতরের পরপরই শিয়া অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকেরা ত্রাণ সংগ্রহ শুরু করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ ও সহায়তা সংগ্রহ করা হচ্ছে, আর মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন।   বিশেষ করে বুদগাম ও বারামুল্লা জেলার বাসিন্দারা এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। শুধু নগদ অর্থ নয়, সোনা-রুপার গয়না, গবাদি পশু এবং ঐতিহ্যবাহী তামার সামগ্রীও দান করছেন স্থানীয়রা, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের সহায়তায় ব্যবহৃত হবে।   ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মানবিক উদ্যোগের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে কাশ্মীরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা এই সহায়তাকে ‘মানবতা ও সংহতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানায়।   সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, নারী-পুরুষ-শিশুসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষ এতে অংশ নিচ্ছেন। অনেক নারী তাদের ব্যক্তিগত গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী দান করেছেন। এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনায়, এক কাশ্মীরি বিধবা তার প্রয়াত স্বামীর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ২৮ বছর ধরে সংরক্ষিত একটি স্বর্ণালংকার দান করেন।   এছাড়া শিশুদের মধ্যেও এই মানবিকতা দেখা গেছে। কেউ কেউ তাদের সঞ্চয়ের টাকা, এমনকি ঈদের উপহার হিসেবে পাওয়া অর্থও দান করেছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক কিশোরী তিন বছর ধরে জমানো টাকা ভর্তি তার মাটির ব্যাংকটি ত্রাণ তহবিলে তুলে দিচ্ছে। এদিকে বুদগামের স্থানীয় বিধায়ক মুনতাজির মেহেদী ত্রাণ তহবিলে এক মাসের বেতন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।   স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যুদ্ধের কারণে ইরানে যে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তা জরুরি। সংগৃহীত অর্থ ও সামগ্রী ইরানি দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট ত্রাণ সংস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।   সূত্র: এনডিটিভি

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0