- প্রচ্ছদ
- Topic
ট্রেন
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮০ জন যাত্রী। বুধবার সকালে দেশটির কাস্তিয়া লা মাঞ্চা অঞ্চলের টলেডো প্রদেশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজ নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা এখনো আটকে পড়া জীবিতদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাস্তিয়া লা মাঞ্চা অঞ্চলের মুখপাত্র এসথার প্যাডিলা জানান, শতাধিক যাত্রী বহনকারী ট্রেন দুটি রাজধানী মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সেভিলের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের পেছনে একই লাইনে আসা অপর একটি দ্রুতগতির ট্রেন সজোরে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে উভয় ট্রেনের বেশ কয়েকটি বগি মুহূর্তের মধ্যে লাইনচ্যুত হয়ে যায়। ঠিক কী কারণে থেমে থাকা ট্রেনটির পেছনে অপর ট্রেনটি ধাক্কা দিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, উদ্ধার তৎপরতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল এবং আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব ধরনের রেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শরতের মনোরম পরিবেশে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি ঘুরে আসতে আগ্রহীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি ভ্রমণ প্যাকেজ সামনে এসেছে। আমট্রাকের ক্রিসেন্ট ট্রেনে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি যাতায়াত, হোটেলে থাকা এবং শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুযোগ নিয়ে এই রাউন্ডট্রিপ প্যাকেজের মেয়াদ ছয় দিন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেজটির মূল্য শুরু হচ্ছে ৭৪৯ ডলার থেকে। ৩ অক্টোবর প্রকাশিত সিক্রেট আটলান্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাকেজটিতে মোট তিন রাত হোটেলে থাকার পাশাপাশি দুই রাত আমট্রাক ট্রেনে কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি পর্যন্ত যাতায়াত হবে আমট্রাকের ক্রিসেন্ট রুটে। ফলে গাড়ি চালানো বা দীর্ঘ সময়ের হাইওয়ে ট্রাফিকের ঝামেলা এড়িয়ে ট্রেনেই পূর্ব উপকূলের শরৎকালীন দৃশ্য উপভোগ করে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সুযোগ থাকছে। প্যাকেজের আরেকটি আকর্ষণ হলো নিউইয়র্ক সিটির বহুদিনের হপ-অন, হপ-অফ দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ। এর আওতায় ইউনিয়ন স্কয়ার, রকফেলার সেন্টার, লিটল ইতালি, চায়নাটাউন, সোহো, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো জনপ্রিয় স্থান দেখার সুযোগ রয়েছে। ফলে যারা প্রথমবার নিউইয়র্ক ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাদের জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণগুলো একসঙ্গে দেখার সুবিধা তৈরি হচ্ছে। শরৎকালে এই ট্রেনযাত্রার বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকার পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক দৃশ্য। শরতের পাতার রঙ বদলের সময় ট্রেনে ভ্রমণ করলে রাস্তার পরিবর্তে জানালার পাশ থেকে দীর্ঘ পথের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আমট্রাকের ক্রিসেন্ট রুট আটলান্টা ও নিউইয়র্কের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীসেবা পরিচালনা করে এবং আমট্রাক ভ্যাকেশনস বিভিন্ন শহরকে কেন্দ্র করে ট্রেনভিত্তিক ভ্রমণ প্যাকেজও তৈরি করে। তবে ৭৪৯ ডলারের মূল্যটি সর্বনিম্ন বা শুরু মূল্য। নির্দিষ্ট ভ্রমণের তারিখ, আসন, হোটেলের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য বুকিং শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ৭৪৯ ডলারের মূল্যকে সব তারিখের জন্য নির্ধারিত মূল্য হিসেবে না দেখে প্যাকেজটির প্রাথমিক মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। আটলান্টা থেকে নিউইয়র্কে শরৎকালীন ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পরিবার, দম্পতি কিংবা বন্ধুদের জন্য তাই এই প্যাকেজটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক একটি বিকল্প হতে পারে। ছয় দিনের রাউন্ডট্রিপে ট্রেনযাত্রা, হোটেলে থাকা এবং নিউইয়র্কের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুযোগ থাকায় একই ভ্রমণে যাতায়াত ও থাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।
নিউইয়র্ক সাবওয়ে সিস্টেমে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও ট্রেনের বিলম্ব কমাতে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে সাবওয়েতে যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে ৭০টিরও বেশি ‘বটেলনেক’ বা যানজটপূর্ণ স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত যেসব জায়গায় একাধিক লাইনের ট্রেন একই ট্র্যাক ব্যবহার করে বা ট্র্যাকের কাঠামোগত কারণে ট্রেনের গতি কমাতে হয়, সেখানেই এই যানজটের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে এমন ২৫টি স্পটকে সংস্কারের জন্য শীর্ষ তালিকায় রাখা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ব্রুকলিনে অবস্থিত। শীর্ষ সংস্কার তালিকায় থাকা একটি উল্লেখযোগ্য স্থান হলো মার্টল অ্যাভিনিউ। এখানকার যাত্রীদের কাছে ট্রেনের বিলম্ব যেন নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিসিলা সুয়ারেজ নামের এক যাত্রী তার হতাশা প্রকাশ করে জানান, প্রতিদিন এই যানজট পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টকর একটি অভিজ্ঞতা। এমটিএ জানিয়েছে, সবগুলো প্রকল্পের কাজ রাতারাতি শেষ হবে না। তবে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ট্র্যাকের সুইচ আধুনিকীকরণ, ইন্টারলকিং সিস্টেমের উন্নয়ন এবং ব্যস্ত জংশনগুলোতে ট্রেনের চলাচল ব্যবস্থা নতুন করে সাজানো। এমটিএ-এর সিনিয়র প্ল্যানার লিয়াম ও'কনেল সিনিয়র জানান, টাওয়ার অপারেটররা এখনও কয়েক দশকের পুরোনো ম্যানুয়াল ইন্টারলকিং সিস্টেম ব্যবহার করে কাজ করছেন। জংশনে কোনো একটি ট্রেন মাত্র এক বা দুই মিনিট আগে-পরে পৌঁছালে, ছোট এই সমস্যাটিই অন্যান্য ট্রেনের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক বিলম্বের (ক্যাসকেডিং ডিলে) কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাবওয়ে সিস্টেমের ইতিহাসও এই সমস্যার অন্যতম একটি কারণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজকের এই সাবওয়ে ব্যবস্থা মূলত তিনটি আলাদা কোম্পানির তৈরি করা ভিন্ন ভিন্ন রেললাইন জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। ননপ্রফিট সংগঠন রাইডার্স অ্যালায়েন্স-এর পলিসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর ড্যানি পার্লস্টেইন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমটিএ শুরু থেকেই এই পরিস্থিতি সামলাতে এবং আধুনিক ব্যবস্থার সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। মানুষের মধ্যে এমটিএ নিয়ে নানা সন্দেহ থাকলেও, প্রতিদিন যাতায়াতে যাত্রীদের যে সময়টা নষ্ট হয়, তা ফিরিয়ে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এমটিএ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য নতুন ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে না, বরং যাত্রীদের বেঁচে যাওয়া সময়ের মাধ্যমেই এর সার্থকতা প্রমাণিত হবে। ইতোমধ্যে ডিকলব এবং নস্ট্রান্ড জংশনের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্রেনে চার শিশুর সামনে এক নারীকে চরম যৌন হয়রানির অভিযোগে ১৮ বছর বয়সি এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, জঘন্য এই অপরাধের পর গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এক বিচারকের আদেশে ওই কিশোরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ২৮ জুন বিকেল ৩টার দিকে চেলসির ২৮ নম্বর স্টেশনের কাছে আপটাউন আর (R) ট্রেনে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ৩০ বছর বয়সি ওই নারী ৭ থেকে ১১ বছর বয়সি চার শিশুকে নিয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। এসময় আরি শটেইন নামের ওই অভিযুক্ত কিশোর পেছন থেকে তার ওপর জঘন্যভাবে যৌন নিপীড়ন চালায়। পুলিশের সূত্রমতে, এই ভয়ংকর ঘটনার পর অভিযুক্ত উল্টো ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে বলে, "আমার ভুল হয়েছে, বুঝতে পারিনি আপনি এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন।" ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত কিশোর দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারীকে পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা শিশুগুলো তার নিজের সন্তান কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার কয়েক দিন পর গত বুধবার সকাল ৭টার দিকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে অভিযুক্ত শটেইন। জানা গেছে, অভিযুক্তের বাড়ি ওয়াশিংটন ডিসিতে এবং ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে তার পূর্ব কোনো পরিচয় ছিল না। ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে শুনানির সময় প্রসিকিউটররা তাকে ৫ হাজার ডলারের বেইল বা ১০ হাজার ডলারের বন্ডে আটকে রাখার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে তাকে তার নিজস্ব জিম্মায় (Recognizance) মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, শটেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, গুরুতর যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক স্পর্শ করা এবং শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, নিউইয়র্ক সিটিতে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অপরাধ বা গ্রেপ্তারের রেকর্ড নেই।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচ আসতে যাচ্ছে। আগামী জুলাই মাসেই ২০টি ব্রডগেজ কোচ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন—বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২০টি কোচ, যা চলতি বছরের জুলাইয়ে সরবরাহ করা হবে। এগুলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগে সম্পাদিত বড় একটি চুক্তির অংশ। বাংলাদেশ ৯১৫ কোটি রুপির বিনিময়ে ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ কোচ কেনার চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে কোচগুলো সরবরাহ করা হবে। প্রথম চালান হিসেবে এই ২০টি কোচ পাঠানো হচ্ছে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারত এই কোচ নির্মাণের কাজ পায়। বর্তমানে কোচগুলো তৈরি হচ্ছে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায়। ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনোমিক টাইমসকে বলেন, “চুক্তির প্রথম রেক আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। বাংলাদেশে বগিগুলো হস্তান্তরের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু সময়ের জন্য এই প্রকল্পের অগ্রগতি ধীর হয়ে যায়। তবে বর্তমানে কাজ আবার স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এর আগে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) এবং ১০ মিটার গেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে। দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ জোরদার এবং পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে এসব সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সর্বশেষ চুক্তির আওতায় শুধু কোচ সরবরাহই নয়, বরং এর নকশা সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কোচগুলো চালু করার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা দেবে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই চালান দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতি আনবে।
ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টিল কারখানায় বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। হামলাগুলো শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে সংঘটিত হয়। ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, আহভাজের কাছের খুজেস্তান স্টিল এবং ইস্ফাহানের মোবারাখে স্টিল কারখানায় ইসরায়েলের বিমানবাহিনী হামলা চালিয়েছে। উভয় কারখানার আংশিক মালিক ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। হামলার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তারা ইরানে হামলার তীব্রতা আরও বাড়াবেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ মোট পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। আজ ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী 'সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস' ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। কালিহাতীর ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশনের একজন কর্মকর্তা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহতরা সবাই গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কালিহাতীর ধলাটেঙ্গর এলাকায় রেললাইন ও সড়কপথ একেবারে সমান্তরাল। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে রেললাইনের পাশে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দ্রুতগতিতে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের নিচে চাপা পড়েন তারা। রেজাউল করিম নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। বর্তমানে পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চলন্ত 'চট্টলা এক্সপ্রেস' ট্রেনে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুরে ট্রেনটি সীতাকুণ্ড এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একটি বগিতে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে ট্রেনের ভেতরে থাকা শত শত যাত্রী প্রাণভয়ে আর্তচিৎকার শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যাত্রীদের গগনবিদারী চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং রেললাইনের পাশে ট্রেনটি থামলে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগুনের তীব্রতা দেখে অনেক যাত্রী চলন্ত ট্রেন থেকেই লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন, এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে, যা ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। অগ্নিকাণ্ডে ট্রেনের একটি বগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরণের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। রেলওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি আলাদা করে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী জানান, রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই ১ লাখ টাকার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন থেকেও তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার সরকার বহন করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতির তদারকি করছেন। গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানান, রেলগেট খোলা থাকায় বাসটি লাইনের ওপর উঠে যায় এবং মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এক বীভৎস ভোরের সাক্ষী হলো কুমিল্লার পদুয়ার বাজার। গভীর রাতে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেছে 'মামুন পরিবহন' নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘাতক ট্রেনটি যাত্রীবাহী বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ ছেঁচড়ে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন, পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান চলাকালীন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ২ জন শিশু রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক আজ রোববার সকালে এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেন সরাতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।