সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নজরদারি ক্যামেরা

স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে তৈরি হয়েছে বড় আইনি বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে ৩ লাখ ডলারের বেশি পেলেন এক ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য সময়মতো সংরক্ষণ ও সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়ে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়েছে ১৫টি স্থানীয় সরকারি সংস্থাকে। ওরেগনের কর্মী জোসে রদ্রিগেজের করা একাধিক সরকারি নথির অনুরোধের জেরে এসব সংস্থাকে মিলিয়ে ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়েছে।   ফ্লক সেফটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরা বা এএলপিআর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো ব্যবহার করে। এসব ক্যামেরা সড়কে চলাচলকারী গাড়ির নম্বরপ্লেটের ছবি ধারণ করার পাশাপাশি গাড়ির অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন শহর ও স্থানীয় সরকারি সংস্থার কাছে মোট ৫৩টি সরকারি নথির অনুরোধ করেন। অনুরোধগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমিত পরিসরের ছিল। নির্দিষ্ট ক্যামেরা থেকে নির্দিষ্ট দিনে মাত্র ৩০ মিনিটের ছবি ও তথ্য চেয়েছিলেন তিনি।   রদ্রিগেজের উদ্দেশ্য ছিল এসব ক্যামেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে, তা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। তিনি চেয়েছিলেন ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপ্তি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে।   কিন্তু সব সরকারি সংস্থা সময়মতো এসব তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি। এর একটি বড় কারণ ছিল তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি। ক্যামেরাগুলো স্থানীয় সরকারি সংস্থার নিজস্ব কম্পিউটার ব্যবস্থায় তথ্য সংরক্ষণ করত না। বরং ফ্লক সেফটির ক্লাউড সার্ভারে এসব ছবি ও তথ্য রাখা হতো।   আরও বড় সমস্যা ছিল, ফ্লকের ব্যবস্থায় তথ্য ৩০ দিনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার নিয়ম ছিল। ফলে কোনো সরকারি সংস্থা অনুরোধ পাওয়ার পর দ্রুত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণ না করলে ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি স্থায়ীভাবে মুছে যেতে পারত।   রদ্রিগেজের অনুরোধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলো চাওয়া তথ্য দিতে পারেনি। কয়েকটি সংস্থা জানিয়েছিল, তথ্য তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় নেই এবং ফ্লক সেফটির সার্ভারে রয়েছে। কিন্তু আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তে এই যুক্তি যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়নি।   ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্ক্যাগিট কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক এলিজাবেথ নিডজউস্কি রায় দেন, স্থানীয় সরকারি সংস্থার ব্যবহৃত ফ্লক ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সরকারি নথি হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো সরকারি সংস্থা তথ্যগুলো নিজের কম্পিউটারে ডাউনলোড করে রাখেনি, শুধু তৃতীয় পক্ষের সার্ভারে সংরক্ষণ করেছে, এমন কারণ দেখিয়েও সরকারি নথি আইনের দায়িত্ব এড়ানো যাবে না বলে আদালতের সিদ্ধান্তে উঠে আসে।   এর ফলে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। রদ্রিগেজ যখন কোনো ছবি চেয়ে অনুরোধ করেছিলেন, তখন সেই ছবি সরকারি নথি হিসেবে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর ছিল। কিন্তু ৩০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মুছে ফেলার নিয়মের কারণে অনুরোধের জবাব দেওয়ার আগেই অনেক ছবি আর পাওয়া যায়নি।   এরপর রদ্রিগেজ বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেন। কয়েকটি সরকারি সংস্থাও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলাগুলোর এক পর্যায়ে একাধিক স্থানীয় সরকার আদালতের বাইরে সমঝোতার পথ বেছে নেয়।   এ পর্যন্ত ১৫টি স্থানীয় সরকারি সংস্থা রদ্রিগেজের সঙ্গে সমঝোতায় গেছে। প্রতিটি মামলায় অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলারের মধ্যে। এর মধ্যে সেড্রো-উলি ও স্ট্যানউড শহরকে মিলিয়ে ৮০ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এভারেট শহরও ২৫ হাজার ডলারের সমঝোতায় যায়।   তবে অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া তথ্যগুলো আর ফেরত পাওয়া যায়নি। কারণ ফ্লক সেফটির নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যেসব ছবি মুছে গেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছেও আর ছিল না। ফলে মামলাগুলোর সমঝোতা মূলত সরকারি নথি সংরক্ষণে ব্যর্থতার দায় মেটানোর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।   রদ্রিগেজের আইনজীবী টিম হলের ভাষ্য, সরকারি সংস্থাগুলো শুরুতেই সঠিকভাবে অনুরোধগুলো প্রক্রিয়া করলে এসব মামলার প্রয়োজন হতো না। তার মতে, পুরো ঘটনায় করদাতাদের অর্থ আইনি লড়াইয়ে ব্যয় হয়েছে।   তবে বিষয়টি শুধু অর্থদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এ ঘটনার পর ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার ফ্লক ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রদ্রিগেজের করা ৫৩টি অনুরোধের মধ্যে অন্তত ১৩টি স্থানীয় সরকারি সংস্থা পরে তাদের ফ্লক ক্যামেরার চুক্তি বাতিল করেছে অথবা ক্যামেরাগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে। আরও কয়েকটি সংস্থা সাময়িকভাবে ক্যামেরা বন্ধ রাখার পর আবার চালু করেছে।   ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য শুধু সরকারি নথি আইনেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব ক্যামেরা দিয়ে মানুষের গাড়ির চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ব্যাপক নজরদারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। রদ্রিগেজও এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় মানুষ সম্পর্কে সরকারি সংস্থাগুলো কতটা তথ্য সংগ্রহ করছে, তা সাধারণ মানুষের জানা উচিত।   এর মধ্যে ওয়াশিংটনে আইনও পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে গভর্নর বব ফার্গুসন এমন একটি আইন স্বাক্ষর করেন, যেখানে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত হয়। অর্থাৎ রদ্রিগেজের মামলাগুলো যে আইনি কাঠামোর মধ্যে শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই কাঠামোই বদলে গেছে।   তবে তার আগের অনুরোধ ও মামলাগুলোর ক্ষেত্রে পুরোনো আইন এবং আদালতের রায়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই আইনি ব্যাখ্যার ফলেই ফ্লক ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য সংরক্ষণে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়ে নতুন নজির তৈরি হয়েছে।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। কোনো তথ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষিত থাকলেও সেটি যদি সরকারি উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থে সংগ্রহ করা হয়, তাহলে সেই তথ্যের ওপর সরকারের নথি সংরক্ষণ ও জবাবদিহির দায়িত্ব কতটা থাকবে, ওয়াশিংটনের এই ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০