- প্রচ্ছদ
- Topic
নিউইয়র্ক
আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে প্রায় এক দশক ধরে পলাতক দাভুদ আনসারিকে জর্জিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী আনসারি উজবেকিস্তানের নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড মার্কিন নাগরিক। ২৩ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসি থেকে তাকে নিউইয়র্কে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আনসারির বিরুদ্ধে আইসিস এবং আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট জজ লারা কে. এশকেনাজির সামনে হাজির করার কথা জানানো হয়। তবে অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, আনসারি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনকেন্দ্রিক একটি উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা ছিলেন। ওই নেটওয়ার্কের সদস্যদের কেউ সিরিয়ায় গিয়ে আইসিস বা আল-নুসরা ফ্রন্টের যোদ্ধা হওয়ার পরিকল্পনা করতেন, আবার অন্যরা তাদের সিরিয়া যাওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ভ্রমণের ব্যবস্থা করতেন। নেটওয়ার্কটির সদস্যরা নিজেদের দলকে ‘চাইখানা’ নামে ডাকতেন। উজবেক ভাষায় এর অর্থ ‘টি হাউস’ বা ‘টি পার্টি’। বিচার বিভাগের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক সিরিয়ায় যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সেখানে যাওয়া যোদ্ধাদের পরিবার এবং যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের বিধবা স্ত্রী ও পরিবারের জন্যও অর্থ সংগ্রহ করত। প্রসিকিউটরদের দাবি, ‘চাইখানা’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করে আনসারি ও তার সহযোগীরা ২০১৩ সালে অন্তত তিন ব্যক্তির সিরিয়া যাওয়ার খরচ জুগিয়েছিলেন। ওই তিনজনই পরে সিরিয়ায় নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে মার্কিন সরকার। তবে এটিও সরকারের মামলায় আনা অভিযোগের অংশ। ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে আনসারি একমুখী টিকিটে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তুরস্কে চলে যান। তার এক কথিত সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার পাঁচ দিন পর তিনি দেশ ছাড়েন। এরপর প্রত্যর্পণের আগে পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেননি। ২০২১ সালের নভেম্বরে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৬ সালের আগস্টে উজবেকিস্তান থেকে জর্জিয়ার তিবলিসিতে যাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক দপ্তর, তিবলিসিতে এফবিআইয়ের আইনশৃঙ্খলা অ্যাটাশে অফিস এবং জর্জিয়ার প্রসিকিউটর অফিসের সহযোগিতায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। আদালতের ডিটেনশন মেমো অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর আনসারিকে বহনকারী ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রত্যর্পণের পর তাকে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটররা তাকে আটক রাখার আবেদনও করেছেন। মামলাটি তদন্ত করেছে এফবিআই। তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, পোর্ট অথরিটি পুলিশ এবং ইউএস মার্শালস সার্ভিস সহায়তা করেছে। আনসারি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩৫ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক, ফেডারেল কোর্ট ডিটেনশন মেমো, এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে অপেরা উপভোগ করার এক দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। জীবনে যারা কখনো অপেরা পারফরম্যান্স দেখার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য 'অপেরা ফর অল' বা সবার জন্য অপেরা শীর্ষক নতুন একটি উদ্যোগ চালু করেছে মামদানি প্রশাসন। এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্কবাসীদের মাঝে ৭০ হাজার ফ্রি অপেরা টিকিট বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএবিসি টিভি। বৃহস্পতিবার মেয়র জোহরান মামদানি, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি সু এবং নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কালচারাল অ্যাফেয়ার্স কমিশনার দিয়া ভিজ যৌথভাবে এই নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচির অধীনে মেট্রোপলিটন অপেরার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শহর কর্তৃপক্ষ ২০২৬ থেকে ২০২৭ মৌসুমের জন্য চলতি সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি মাসে লটারির মাধ্যমে ১০ হাজার টিকিট বিনামূল্যে প্রদান করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি বলেন, এই শিল্পমাধ্যমটি সবার দেখার জন্য তৈরি হয়েছে, কেবল যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তাদের জন্য এটি সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে তা বিবেচনা না করেই প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর এই আসনগুলোতে বসার, এই কণ্ঠস্বরগুলো শোনার এবং এই মঞ্চের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত। এই বিনামূল্যের টিকিট পেতে আগ্রহীরা অন ডট এনওয়াইসি ডট গভ স্ল্যাশ অপেরা (on.nyc.gov/opera) ওয়েবসাইটে বা মেট অপেরা অ্যাপের মাধ্যমে লটারিতে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই লটারিটি শুধুমাত্র তাদের জন্যই উন্মুক্ত, যারা ২০১৯ সালের পর থেকে মেট অপেরার কোনো টিকিট কেনেননি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, থিয়েটারের সব প্রান্তেই টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে, যার মধ্যে দাঁড়িয়ে দেখার স্থানগুলোও অন্তর্ভুক্ত। চলতি মৌসুমে যেসব বিখ্যাত পরিবেশনা মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে ম্যাকবেথ, লিংকন ইন দ্য বার্ডো এবং লা বোহেম। শিল্প ও সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে মেয়র মামদানির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নতুন ঘোষণা দেওয়া হলো। এর আগে গত গ্রীষ্মে থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে এবং স্বল্প মূল্যে ব্রডওয়ে ও অফ ব্রডওয়ে টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। মেট্রোপলিটন অপেরা বা দ্য মেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আগামী সব মৌসুমেও অপেরা ফর অল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় তুলনামূলক কম ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘দ্য লিরিও’ নামে নতুন নির্মিত নয়তলা ভবনে ৪৪টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দুই বেডরুমের কিছু অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে মাত্র ৮৬৩ ডলার থেকে। ৩৬৪ ওয়েস্ট ৫৪তম স্ট্রিটে অবস্থিত ভবনটিতে একাধিক ধরনের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন লটারি ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট আয়সীমা ও পারিবারিক আকারের শর্ত পূরণকারী নিউইয়র্কবাসীরা এসব বাসস্থানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত ৪৪টি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৮৬৩ থেকে ৩ হাজার ৬৫০ ডলারের মধ্যে। ভাড়া কত হবে, তা নির্ভর করবে অ্যাপার্টমেন্টের ধরন এবং আবেদনকারী পরিবারের নির্ধারিত বার্ষিক আয়ের সীমার ওপর। সবচেয়ে কম ভাড়ার পাঁচটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৮৬৩ ডলার। এসব অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন করতে পারবে বছরে ৩৫ হাজার ৩১৫ থেকে ৫৪ হাজার ৯৬০ ডলার আয় করা পরিবার। এ ছাড়া ২৫টি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ২ হাজার ৭৭২ ডলার। এগুলোর জন্য নির্ধারিত বার্ষিক পারিবারিক আয় ১ লাখ ৭৬৬ থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ ডলারের মধ্যে। তিন বেডরুমের দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ১৮৬ ডলার। এসব বাসস্থানের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। আরও আটটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ২৬৮ ডলার। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৭২ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার। সবচেয়ে বেশি ভাড়ার চারটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৬৫০ ডলার। এগুলোর জন্য আবেদনকারী পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৯ থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। দ্য লিরিও ভবনটি দুটি নিউইয়র্ক সিটি সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ভবনটির ৬০ শতাংশ ইউনিট নিম্ন আয়ের পরিবার, আগে গৃহহীন ছিলেন এমন নিউইয়র্কবাসী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারগুলোর জন্য সংরক্ষিত। বাকি ৪০ শতাংশ ইউনিট সাধারণ জনগণের জন্য আবাসন লটারির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য বেশ কিছু সুবিধাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা কর্মী থাকা প্রবেশ লবি, ভবন ব্যবস্থাপকের কার্যালয়, সূর্যস্নানের খোলা জায়গা, শরীরচর্চা কেন্দ্র, পাঠাগার, অনুষ্ঠান আয়োজনের কক্ষ এবং লিফট। হেলস কিচেন ম্যানহাটনের একটি ব্যস্ত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা। ভবনটির অবস্থান সেন্ট্রাল পার্ক এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন থিয়েটার এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় আবাসনটির অবস্থানও আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের প্রথমে নিজেদের পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মোট বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এরপর নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল হাউজিং কানেক্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। ডাকযোগেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে একটি পরিবারকে মাত্র একটি আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন ও ডাকযোগে আবেদন করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আবেদনের শেষ সময় ৫ অক্টোবর ২০২৬। নিউইয়র্ক সিটির সাশ্রয়ী আবাসন লটারিতে আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট নিশ্চিত হয় না। যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের জন্য বাছাই করা হয় এবং এরপর আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হয়। তাই আবেদনকারীদের সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দ্য লিরিওর এই লটারির তথ্য নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্টের তালিকার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সরকারি পোর্টালটি সরাসরি যাচাই করার সময় প্রযুক্তিগত কারণে পেজটি খোলা যায়নি, তাই আবেদন করার আগে আবেদনকারীদের অফিসিয়াল হাউজিং কানেক্ট পোর্টালে বর্তমান ভাড়া, আয়সীমা, সময়সীমা ও যোগ্যতার শর্ত পুনরায় যাচাই করা উচিত। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট, Secret NYC, অ্যাসোসিয়েটেড তথ্য
নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে প্রতিশোধমূলক অপহরণের একটি চক্র পরিচালনার দায়ে আবু চৌধুরী নামে ৩৬ বছর বয়সী এক সুপারমার্কেট মালিককে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতের জুরি। দুই সপ্তাহের বিচার শেষে বৃহস্পতিবার মাত্র দুই ঘণ্টা deliberation করে জুরি তাকে তিনটি অপহরণ এবং তিনটি অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে তিনজনকে অপহরণের ঘটনায় চৌধুরীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ভুক্তভোগীদের আদালতে জন ডো-১, জন ডো-২ ও জন ডো-৩ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। চৌধুরী কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় বিডি ফ্রেশ সুপারমার্কেটের সহ-মালিক। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের প্রভাব ও সুনাম বাড়ানোর পাশাপাশি তৎকালীন প্রেমিকা এবং বর্তমানে স্ত্রী ইফফাত লুবনার সম্মান রক্ষার দাবিতে তিনি অপহরণের পরিকল্পনাগুলোতে জড়িয়েছিলেন। আদালতে সরকারি কৌঁসুলি জোশুয়া ট্যানেন বলেন, চৌধুরী নিজেকে ‘কিং অব নিউইয়র্ক’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইতেন। মামলার প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ। প্রসিকিউশন অনুযায়ী, কুইন্সের জ্যামাইকার ১৮১তম স্ট্রিট ও হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের কাছে হাঁটছিলেন জন ডো-১। সেখান থেকে তাকে জোর করে একটি হোন্ডা এসইউভিতে তোলা হয়। এরপর প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে তাকে কুইন্সের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, ওই ঘটনায় চৌধুরী ভুক্তভোগীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি আবাসিক এলাকায় নগ্ন অবস্থায় দাঁড় করিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরে অপহরণকারীরা তাকে পানি দেয়, যাতে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল। ওই পানি পান করার পর তিনি জ্ঞান হারান এবং পরদিন এক স্থানীয় হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে পান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অপহরণের ঘটনা ঘটে ২০২৩ সালের মে মাসে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চৌধুরী ও লুবনা জন ডো-৩কে প্রলুব্ধ করে নিজেদের গাড়িতে তোলেন। বাংলাদেশে কলেজে পড়ার সময় তাদের পরিচয় ছিল এবং পরে দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আবার যোগাযোগ হয়। লুবনার সম্পর্কে ওই ব্যক্তির করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে প্রসিকিউটররা আদালতে জানান। ১০ মে থেকে শুরু হওয়া ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে কুইন্সের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। পরে তাকে অন্য একটি ভুক্তভোগীর সঙ্গে একটি হোটেল কক্ষে নেওয়া হয়। মামলার প্রমাণ অনুযায়ী, সেখানে তাকে ভয় দেখিয়ে অপর ভুক্তভোগীকে মারধর করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এর পরদিন, ১১ মে, আরেক ব্যক্তিকে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস এলাকায় অপহরণ করা হয়। ওই ব্যক্তি লুবনার সঙ্গে দেখা করার জন্য একটি রেস্তোরাঁর কাছে অপেক্ষা করছিলেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, চৌধুরী তাকে জোর করে একটি মিনিভ্যানে তুলে নেন এবং মারধর করেন। পরে তাকে একটি হোটেলে নেওয়া হয়। সেখানে চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবার কাছে ২০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অপহরণের তৃতীয় দিনে ভুক্তভোগীকে হাত-পা বেঁধে ও চোখ ঢেকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে রেখে যাওয়া হয়। পরে তিনি নিজের বাঁধন খুলে একটি জানালা ভেঙে বের হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্য চান। গুরুতর আঘাতের কারণে তাকে এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। মামলাটিতে চৌধুরীর স্ত্রী ইফফাত লুবনাও আগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল জুরি তাকে জন ডো-২ ও জন ডো-৩কে অপহরণ এবং অপহরণের ষড়যন্ত্রের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে। এছাড়া সাইয়েদ রুবেল আহমেদ ও সুলতানা রাজিয়াও জন ডো-১কে অপহরণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চৌধুরী, লুবনা, আহমেদ ও রাজিয়া দোষী সাব্যস্ত হওয়া অপরাধগুলোর জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তাদের সাজা পরে আদালত নির্ধারণ করবে। ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা বলেন, আসামি ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড ছিল নিষ্ঠুর ও অর্থহীন এবং এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। এফবিআই ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের যৌথ সহিংস অপরাধবিরোধী টাস্কফোর্স তদন্তে সহায়তা করেছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রায়ের পরও চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে যাননি। বিচারক নিনা মরিসন তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে, গৃহবন্দি অবস্থায় থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা ওই জামিন বাতিলের আবেদন করেছেন। রায়ের পর শুক্রবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। কুইন্সের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচিত এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের অপহরণগুলোর তদন্ত থেকে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রথমবার চৌধুরীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সহিংস অপহরণের অভিযোগের কথা জানায়। তখন কর্তৃপক্ষ বলেছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীরা একই জাতিগত কমিউনিটির সদস্য ছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিল, জুন ও সেপ্টেম্বরের পৃথক বিচার ও রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিভিন্ন আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়েছে। সর্বশেষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি অপহরণ ও তিনটি অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক; নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তারা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের মধ্যে এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা সতর্কবার্তার পর নিউইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর একই দিন ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থান কয়েক ঘণ্টায় সীমিত থাকছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর বরাত দিয়ে ডন ও আনাদোলু জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি নিরাপত্তা বৈঠকে নেতানিয়াহুর কাছে গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দীর্ঘায়িত না করার পরামর্শ দেন। তবে কী ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং পরে রাতযাপন না করেই ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হবেন। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান প্রায় ছয় ঘণ্টা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর সফরের আগে নিউইয়র্কে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভেরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েল সরকারের নীতির প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে। তবে এসব বিক্ষোভই সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তাকেই সফর সংক্ষিপ্ত করার প্রধান কারণ হিসেবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সূচিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও নেই। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে আগ্রহ থাকলেও বর্তমানে এমন কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। একই সফরে টেক্সাসে ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি বৈঠকের পরিকল্পনাও বাতিল হয়েছে। নেতানিয়াহুর বিমান নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউ জার্সির কোনো বিমানবন্দর বা সামরিক ঘাঁটিতে নামতে পারে—এমন খবরও এর আগে প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এর পেছনে নিরাপত্তা, লজিস্টিকস ও সম্ভাব্য বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছিল। সূত্র: আনাদোলু
নিউইয়র্কে ফুটপাত ও জনসমাগমস্থলে গড়ে ওঠা গৃহহীনদের শিবির নিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব শিবির নিয়ে ৩১১ নম্বরে অভিযোগ এলে সরাসরি পুলিশ পাঠানোর পরিবর্তে বিষয়টি সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসের কাছে পাঠানো হবে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনের সমালোচনা করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় কোনো পুলিশ অফিসার গৃহহীনদের শিবিরের মুখোমুখি হলে সেটি নিয়ে রিপোর্ট করে হোমলেস সার্ভিসেসকে জানাবেন। এরপর শহরের আউটরিচ কর্মীরা সেখানে গিয়ে গৃহহীন ব্যক্তিদের আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা বা অন্যান্য সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করবেন। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রমে লক্ষ্য হচ্ছে শুধু শিবির সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং সেখানে থাকা মানুষদের প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করা। মামদানির প্রশাসন এর আগে জানিয়েছিল, গৃহহীনদের শিবির সরানোর ক্ষেত্রে আগের প্রশাসনের পদ্ধতির পরিবর্তে আউটরিচ ও সহায়তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। জুলাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি জানিয়েছিলেন, কোনো শিবির নোটিশ পাওয়ার পর সেটি সরানোর আগে সাত দিন পর্যন্ত সময় থাকবে এবং ওই সময়ে সিটির কর্মীরা সেখানে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয়, চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করবেন। তবে নতুন পুলিশ নির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের মতামতধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের সরাসরি ভূমিকা কমে যাওয়ায় কিছু গৃহহীন শিবির দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই প্রতিবেদনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শিবিরের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এসব বক্তব্য মূলত প্রতিবেদনের মতামত ও সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে এসেছে, প্রশাসনের স্বীকৃত মূল্যায়ন হিসেবে নয়। নিউইয়র্কে গৃহহীনতার সমস্যা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ২০২৬ সালের ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনে গৃহহীনদের জন্য আবাসন ও সেবা সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামদানি প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১২ হাজার ৪৯১টি সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির বা সংরক্ষণের জন্য অর্থায়ন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ২ হাজারের বেশি ইউনিট আগে গৃহহীন থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত। একই সময়ে ৯ হাজার ৯৭০ জনকে সাশ্রয়ী আবাসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪ হাজার ৩৭০ জন আগে গৃহহীন ছিলেন। প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গৃহহীনদের জন্য কম বাধাসম্পন্ন আশ্রয়ব্যবস্থা, বিশেষায়িত সহায়তা এবং স্থায়ী আবাসনের সুযোগ বাড়ানোর কথাও রয়েছে। শহরের নথি অনুযায়ী, জটিল মানসিক স্বাস্থ্য, মাদক ব্যবহার বা অন্যান্য গুরুতর প্রয়োজন থাকা গৃহহীনদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কে নতুন আবাসন তৈরির পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, লোয়ার ম্যানহাটনের ১০০ গোল্ড স্ট্রিট এলাকায় প্রায় ৪ হাজার নতুন আবাসন তৈরির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী ও রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। গৃহহীন শিবির ব্যবস্থাপনায় পুলিশের ভূমিকা কমিয়ে সামাজিক সেবা ও আউটরিচ কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ানোর এই পদ্ধতি নিউইয়র্কের চলমান হোমলেসনেস নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সিটির আউটরিচ কার্যক্রম, আশ্রয়ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং গৃহহীন ব্যক্তিদের স্থায়ী আবাসনে নেওয়ার অগ্রগতির ওপর।
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর একাধিক নতুন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল স্টেটজবসএনওয়াইয়ের তালিকায় একই দিনে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি পদে এখনো আবেদন করা যাচ্ছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকাতেও নতুন স্কুলভিত্তিক পদ যুক্ত হয়েছে। স্টেটজবসএনওয়াইয়ের পাবলিক তালিকা অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পদগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মেডিকেইড ফ্রড কন্ট্রোল ইউনিটের দুটি আইটি সাপোর্ট স্পেশালিস্ট পদ রয়েছে। একটি পদ মনরো কাউন্টিতে, যার ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৪৮৬ এবং আবেদনের শেষ তারিখ ২৩ অক্টোবর। আরেকটি নিউইয়র্ক কাউন্টিতে, ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৪৬৪ এবং এর শেষ তারিখও ২৩ অক্টোবর। নিউইয়র্ক সিটির পদটির ক্ষেত্রে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে বার্ষিক বেতন ৮৬ হাজার ৬৮৬ ডলার এবং লোকেশন পে হিসেবে আরও ৪ হাজার ১৫০ ডলারের কথা উল্লেখ রয়েছে। এটি ফুলটাইম পদ এবং কর্মস্থল নিউইয়র্ক সিটির ২৮ লিবার্টি স্ট্রিট। পদটির দায়িত্বের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা, কম্পিউটার ও সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ, নেটওয়ার্ক সংযোগ সমস্যা সমাধান এবং সিকিউরিটি আপডেটসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো হিয়ারিং অফিসার ১, প্যারোল রিভোকেশন, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ল জাজ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস অ্যান্ড কমিউনিটি সুপারভিশনের অধীনে থাকা এই পদটির ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৪৭৫। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর এবং বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৬৭১ ডলার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৫ ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। পদটি ফুলটাইম এবং নিউইয়র্ক কাউন্টিতে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সিনিয়র অ্যাটর্নি, এসজি-২৫ পদটিও ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৫১৯-এর এই পদে আবেদনের শেষ তারিখ ৭ অক্টোবর। অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে বার্ষিক বেতন ৬৯ হাজার ৯৬৪ ডলার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৫ ডলার পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে এবং পদটি ফুলটাইম। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ২৩ সেপ্টেম্বর বেশ কয়েকটি নতুন স্কুলভিত্তিক পদ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি ওয়ার্কার এবং স্কুল এইডের একাধিক পদ রয়েছে। একই দিনে ডিউইট ক্লিনটন হাইস্কুলে কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের আবেদনের শেষ তারিখ ৫ অক্টোবর, ব্রুকলিন কলেজ একাডেমিতে প্যারেন্ট কো-অর্ডিনেটর পদের শেষ তারিখ ৬ অক্টোবর এবং পি১৮৬এক্স ওয়াল্টার জে. ড্যামরশ স্কুলে প্যারেন্ট কো-অর্ডিনেটর পদের শেষ তারিখ ৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই পদের যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং আবেদনের নিয়ম পদভেদে আলাদা হতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা তৃতীয় পক্ষের চাকরির সাইটের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে স্টেটজবসএনওয়াই এবং নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করা উচিত। বিশেষ করে আইনি, পেশাগত বা লাইসেন্সনির্ভর পদে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এসব বিজ্ঞপ্তির বেশ কয়েকটির আবেদনের সময়সীমা অক্টোবরের প্রথম বা তৃতীয় সপ্তাহে শেষ হচ্ছে। ফলে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনের আগে শেষ তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট পদের বিস্তারিত শর্ত যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরির আবেদন করার ক্ষেত্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি এবং পদভেদে নির্ধারিত শিক্ষাগত, পেশাগত বা লাইসেন্স সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
পূর্ণিমার জোয়ারের সঙ্গে শক্তিশালী নর’ইস্টারের প্রভাব মিলিয়ে নিউইয়র্কের উপকূলীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সপ্তাহান্তে পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৫০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব নিউইয়র্ক সিটির পূর্বদিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নগরীতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়াবিদদের মতে, জার্সি শোর, লং আইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল এবং নিউ ইংল্যান্ড উপকূলে ঝড়ের প্রভাব বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ উপকূলীয় বন্যা। বিশেষ করে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জোয়ারের সময় পানি ঢুকে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে। শনিবার পূর্ণিমার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের উচ্চতা বাড়বে। এর সঙ্গে উপকূলের দিকে প্রবাহিত শক্তিশালী বাতাস যুক্ত হওয়ায় স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ থেকে ২ ফুট বেশি উঠতে পারে। সমুদ্রসৈকতগুলোতেও শক্তিশালী রিপ কারেন্টের আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের নগর বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জোয়ারের সময় ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা হতে পারে। শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে ঝড়ের মূল অংশ মেট্রোপলিটন এলাকার কাছাকাছি থাকবে। তবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর পূর্বদিকে, বিশেষ করে সাফোক কাউন্টির দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা ঝড়ের আগে বাসাবাড়ির বাইরে থাকা হালকা আসবাব, ময়লার পাত্র ও অন্যান্য ঢিলা জিনিস নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জোয়ারের সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল এবং লং আইল্যান্ডের উত্তর উপকূলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কে বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়া থাকতে পারে। রোববারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সোমবার নাগাদ আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উষ্ণ গালফ স্ট্রিমের ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে ঝড়টি চলাচল করায় এর মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ের কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এমন পরিস্থিতিতে ঝড়টি সাবট্রপিক্যাল ঝড়ের মতো আচরণ করতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন নিয়ে পূর্বাভাস আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিমান নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বদলে নিউ জার্সির নিউয়ার্কে অবতরণ করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহান মামদানির সঙ্গে নেতানিয়াহুকে ঘিরে প্রকাশ্য বিরোধের মধ্যেই এই পরিবর্তন এসেছে। ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা, বিমান পার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়সহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর সরকারি বিমান ‘উইং অব জিওন’ সাধারণত নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দর ব্যবহার করলেও এবারের সফরে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অথবা কাছের কোনো সামরিক বিমানঘাঁটি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছিল ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। পরে নিউয়ার্কে অবতরণের তথ্য সামনে আসে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মামদানির মন্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। নিউইয়র্কের মেয়র আগে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়টি সম্মান করা উচিত। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নিজস্বভাবে ওই পরোয়ানা কার্যকর করে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নেই। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেএফকে বিমানবন্দরে নেতানিয়াহুর বিমান দীর্ঘ সময় পার্ক করে রাখার বিষয়টি নিয়েও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়সংক্রান্ত উদ্বেগ ছিল। নিউ জার্সিতে বিমান রাখার ব্যবস্থা করলে সফরের পুরো সময় বিমানটি নিরাপদে রাখা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে শুধু মামদানির কারণে বিমানবন্দর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি। নেতানিয়াহুর এবারের নিউইয়র্ক সফরও আগের পরিকল্পনার তুলনায় অনেক সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন এবং একই দিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সফর সংক্ষিপ্ত করার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তায় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের ভূমিকা বাড়ানোর কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিরাপত্তায় মার্কিন ফেডারেল ও স্থানীয় একাধিক সংস্থা সমন্বয় করে কাজ করছে। নেতানিয়াহুর সফরের আগে নিউইয়র্কে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভের প্রস্তুতির খবরও এসেছে। একই সময়ে নেতানিয়াহু তাঁর জাতিসংঘের ভাষণে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। ফলে এবারের সফরে জাতিসংঘে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি নিউইয়র্কে অবস্থান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মামদানির সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য মতবিরোধও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে আয়োজিত নারী নেতাদের একটি সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন তিনি। তাঁর এই অংশগ্রহণ জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্বের একটি উল্লেখযোগ্য পর্ব হিসেবে সামনে এসেছে। ডা. জুবাইদা রহমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে যান। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের স্বাগত প্রাতরাশেও তিনি অংশ নেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি তাঁদের জীবনসঙ্গীরাও অংশ নিচ্ছেন। নারী নেতৃত্ব, শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশসহ বিভিন্ন সামাজিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় এসব অনুষ্ঠানে আলোচনায় এসেছে। এর আগে চলতি বছরের আগস্টে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়, ইউএন উইমেন ও ইউএনওপিএস বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘শি লিডস টুমরো’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. জুবাইদা রহমান। ওই অনুষ্ঠানে তিনি তরুণী ও কিশোরীদের নেতৃত্ব বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জাতিসংঘের বাংলাদেশ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই উদ্যোগে এক হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণীকে নেতৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি জাতিসংঘে তাঁর প্রথম ভাষণ। তাঁর সফরসূচিতে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অবস্থান করছেন। এর মধ্যেই ডা. জুবাইদা রহমানের নারী নেতাদের সভায় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি নারী নেতৃত্ব ও সামাজিক বিষয়ক আলোচনায় তাঁর অংশগ্রহণকেও সামনে এনেছে।
দুর্নীতি এবং ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচিত স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে বুধবার গ্র্যাসি ম্যানশনে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী। ম্যানহাটনে চলমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রাতঃরাশে সানচেজের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। স্পেনে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং অন্যান্য উদারনৈতিক নীতির প্রশংসা করে মামদানী সানচেজকে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষাকারী এবং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ওপর আস্থা ফেরানোর অন্যতম কারিগর হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সানচেজের এমন উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তুলে ধরার সময় মামদানী এটা এড়িয়ে গেছেন যে, স্পেনের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই ২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই বামপন্থি নেতার প্রতি অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে চলতি বছর ৪৮ ঘণ্টার একটি অভিবাসী সংকট সামলাতে তার প্রশাসনের ব্যর্থতার পর এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে, যখন প্রায় ৬০ হাজার মরোক্কান অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের সেউতায় প্রবেশ করে। এছাড়া সানচেজের পরিবার এবং তার দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। আইরিশ টাইমসের মতে, প্রভাব খাটানো এবং সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে তার স্ত্রী বেগোনা গোমেজের বিচার হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সানচেজের ছোট ভাই ডেভিড সানচেজকে সম্প্রতি সরকারি সংগীত বিদ্যালয়ের সমন্বয়ক পদে দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় তাকে নয় বছরের জন্য সরকারি যেকোনো পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইসরায়েল থেকে স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূতদের নিষিদ্ধ করার পর সানচেজ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন, যাকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় "প্রকাশ্য ইহুদিবিদ্বেষ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দ্য জুইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সির তথ্যমতে, সানচেজের শাসনামলে ২০২৫ সালে স্পেনে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা ১৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ (এডিএল) এক প্রতিবেদনে জানায়, স্পেনের ২৬ শতাংশ নাগরিক ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করেন, যা পশ্চিম ইউরোপের যেকোনো দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমন এক বিতর্কিত নেতাকে মামদানীর এই উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ম্যানহাটনে বিশ্বনেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জড়ো হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। গাজায় চলমান যুদ্ধের জন্য নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে মামদানী নিউইয়র্কবাসীদের তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের দাবিও তুলেছেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু সম্প্রতি একটি কড়া ভাষায় দেওয়া ভিডিও বার্তায় নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর মামদানীর বিষয়ে ‘সত্য প্রকাশ’ করার হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মামদানীর একজন মুখপাত্রের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশমী রোজের এক আবেগঘন সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই অপ্রত্যাশিত দেখা হয়। এই খবর জানতে পেরে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন প্রায় দুই দশক আগে বগুড়ায় রুশমীকে পড়ানো শিক্ষক মামুনুর রশিদ। একজন শিক্ষকের কাছে নিজের ছাত্রীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরে এমন দায়িত্বশীল পদে এবং দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে দেখতে পাওয়ার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছুই হতে পারে না। বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও পেসডের নির্বাহী পরিচালক প্রয়াত মাহফুজ আরা মিভার বড় মেয়ে রুশমী রোজ প্রায় ২২–২৩ বছর আগে শিক্ষক মামুনুর রশিদের কাছে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর ছোট বোন রোশানাও এই শিক্ষকেরই ছাত্রী ছিলেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি শুরু হয়। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বরেও জাতিসংঘকেন্দ্রিক নানা ব্যস্ততার ফাঁকে যখন তিনি সদর দপ্তরের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রুশমীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়। বগুড়ার মেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন জেনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর খোঁজখবর নেন। শিক্ষক মামুনুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করা রুশমীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল, যা নিউইয়র্কের মাটিতে পূরণ হওয়ায় তিনি দারুণভাবে আবেগাপ্লুত। এই স্বাভাবিক ও আন্তরিক সাক্ষাৎটি প্রধানমন্ত্রীর ‘কম প্রটোকল’ নীতিরই একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের চলাচলকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি নিজের মোটরকেড ১৩-১৪টি গাড়ির বদলে চারটিতে নামিয়ে এনেছেন এবং রাস্তায় চলাচলের সময় সাধারণ ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। জাতিসংঘের মতো একটি বিশাল আন্তর্জাতিক আয়োজনের ব্যস্ততার মাঝেও কঠোর প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে একজন প্রবাসী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর এই মানবিক কথোপকথন সেই অনাড়ম্বর জীবনযাত্রারই প্রমাণ দেয়। একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে নিউইয়র্ক পুলিশের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারীর অসামান্য সাফল্য—এই দুই ভিন্ন মাত্রার গল্প মিলেমিশে একাকার হয়েছে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনের ওই মুহূর্তটিতে। আর এই পুরো ঘটনার পেছনের কারিগর হিসেবে নিজের শিকড় ও শিক্ষার গৌরব অনুভব করছেন শিক্ষক মামুনুর রশিদ, যা দেশ-বিদেশে থাকা সব বাঙালির জন্যই এক অনন্য অনুপ্রেরণার বিষয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তার মতো একজন হাই-প্রোফাইল নেতার কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত হোটেলের অদূরেই এবার ঘটে গেছে এক রহস্যজনক ঘটনা। পুলিশ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য আবাসস্থল ম্যানহাটনের লোয়েস রিজেন্সি নিউইয়র্ক হোটেলের ঠিক কাছেই একটি ভূগর্ভস্থ ম্যানহোল থেকে তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। জাতিসংঘের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনের ডামাডোলের মাঝে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ওই এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বেশ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে আপার ইস্ট সাইডের ইস্ট ৬১ নম্বর স্ট্রিট সংলগ্ন পার্ক এভিনিউয়ের একটি খোলা ম্যানহোল থেকে ওই তিন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে রাস্তায় উঠে আসতে দেখা যায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা দ্রুত দুটি আলাদা গাড়িতে চড়ে পার্ক এভিনিউ ধরে উত্তরের দিকে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় বা ম্যানহোলের নিচে লুকিয়ে থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি। যেহেতু নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য শীর্ষ আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের ঠিক ওই ব্লকের লোয়েস রিজেন্সি হোটেলেই থাকার কথা, তাই পুলিশ এই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সফরের আগের প্রকাশিত কর্মসূচিতে বিস্ট ফিলানথ্রোপি, ইউপিএস ফাউন্ডেশন, আইকেইএ ফাউন্ডেশন, ইনফোসিস ফাউন্ডেশন, বায়ের ফাউন্ডেশন ও নর্থওয়েল হেলথসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠান এবং ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণও রয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক চলাকালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’কে স্মার্টফোনে ইনস্টাগ্রাম রিলস স্ক্রল করতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যখন বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন ধারণ করা একটি ভিডিওতে আল-শারা’কে ফোনের স্ক্রিনে মনোযোগ দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আল-শারা’কে মাথা নিচু করে ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। স্ক্রিনে ইনস্টাগ্রামের স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও বা রিলসের মতো কনটেন্ট স্ক্রল করার দৃশ্যও দেখা গেছে। তবে ভিডিও দেখে তিনি ঠিক কী দেখছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন বা সত্যিই রিলস শেয়ার করছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে রিলস শেয়ারের কথা বলা হলেও, ভিডিওটি নিজে থেকে সেই তথ্য নিশ্চিত করে না। ঘটনাটি ঘটে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কের প্রথম দিকের অধিবেশনে। নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এরদোয়ানের বক্তব্যে গাজা, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের মতো বিষয় উঠে আসে। সেই সময় আল-শারা’র ফোন ব্যবহারের দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আল-শারা’র জন্য এবারের জাতিসংঘ সফরও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে তিনি প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন। এর আগে প্রায় ছয় দশক পর কোনো সিরীয় নেতা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এবার তার অংশগ্রহণ সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আহমেদ আল-শারা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনীর অভিযানে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। দেশটির নতুন নেতৃত্ব এরপর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আরও একটি কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশনের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো আস্থা পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তোলা, যা সবার জন্য কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। আল-শারা’র ফোন ব্যবহারের কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ ঘটনাটিকে সাধারণ ফোন ব্যবহারের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিশ্বনেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য চলাকালে তার এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের বাইরে তার উদ্দেশ্য বা মনোযোগের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে স্কুল এইড পদে নতুন নিয়োগ চলছে, আর কিছু পদের জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন স্কুল এইড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। সিএসবি নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে দেখা গেছে, অন্তত কয়েকটি স্কুল এইড পদের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন নেই। উদাহরণ হিসেবে ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। স্কুল এইডদের কাজ মূলত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন স্কুল কার্যক্রমে সহায়তা করা। এর মধ্যে হলওয়ে, স্টাডি হল, লাঞ্চরুম ও স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের তদারকি, স্কুলে আসা ও ছুটির সময় সহায়তা, স্কুলবাসে আসা শিক্ষার্থীদের দেখভাল এবং লাঞ্চ পরিবেশনে সহযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইনভেন্টরি সংরক্ষণ এবং কিছু সাধারণ দাপ্তরিক কাজও করতে হতে পারে। অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতার ভালো রেকর্ড থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ১০ পাউন্ড ওজনের জিনিস তোলার সামর্থ্যও প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্কুলে দ্বিভাষিক প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হতে পারে। কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার থেকে শুক্রবার কাজের কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা কাজের সম্ভাবনা রয়েছে। বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট কালেকটিভ বার্গেনিং এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী। তবে পদগুলো চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকলেও পদ পূরণ হয়ে গেলে আবেদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় আছে কি না যাচাই করা জরুরি। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের বর্তমান চাকরির তালিকাতেও ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাধিক স্কুল এইড পদ দেখা যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ব্রঙ্কস ও কুইন্সের বিভিন্ন স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। একই তালিকায় স্কুল এইডকে আলাদা চাকরির ক্যাটাগরি হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি স্কুলভেদে যাচাই করা। ডিপ্লোমা বা জিইডি না থাকলেও কোনো কোনো স্কুল এইড পদে আবেদন করা সম্ভব হলেও, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত একই নয়। তাই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সর্বশেষ অফিসিয়াল পোস্টিং দেখে যোগ্যতা, কর্মঘণ্টা, আবেদন পদ্ধতি এবং পদটি এখনও খালি আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নেতা বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী এবং বহুমাত্রিক করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে, সেগুলো আরও সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান ও এরদোয়ান। বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন দুই নেতা। তুরস্কের পক্ষের বিবরণ উদ্ধৃত করে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, এরদোয়ান ঢাকা–আঙ্কারা সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় আসে বলে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এরদোয়ান আশ্রয়, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান উপস্থিত ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে। দুই নেতা বৈঠক শেষে বাংলাদেশ–তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অংশ নিয়েছেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ আয়োজন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত ব্রেকফাস্টে ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সঙ্গে গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এরপর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। এ সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। তার এই বক্তব্যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, এবারের সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্পের নৈশভোজে অংশ নেওয়াটি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নয়। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার যুক্তরাষ্ট্র সফর চলার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি ধারাবাহিক এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকে বিশ্বনেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন তিনি। আলোচনায় বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে। সফরের প্রথম দিন ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দেন তিনি। দিনভর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিল্স-এমের সঙ্গে বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে মানবিক সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাচ্ছে। সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিয়ে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন তিনি। এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে। সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে বক্তব্য দেবেন তিনি। ১৮ জন বক্তার মধ্যে ১১তম বক্তা হিসেবে তার জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত রয়েছে। ভাষণের দিন সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলা নিয়ে একটি বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। ভাষণ শেষে রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। সফরের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেপি মরগান আয়োজিত প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। এরপর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় দুবাই হয়ে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সূচি রয়েছে। সূত্র: ডিবিসি নিউজ
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান করা হোটেলের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত কালো স্যুটকেস ঘিরে মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, নিরাপত্তা তৎপরতা চালায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বা এনওয়াইপিডি। পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে স্যুটকেসটি পাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, বস্তুটি আর সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার কিছু আগে স্যুটকেসটি পাওয়া যায়। এনওয়াইপিডির একটি প্রশিক্ষিত কুকুর স্যুটকেসটির ভেতরে কিছু শনাক্ত করার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। এরপর পুলিশের ইমার্জেন্সি সার্ভিস ইউনিট এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পূর্ব ৪২তম থেকে ৪৪তম স্ট্রিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অ্যাভিনিউ থেকে লেক্সিংটন অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ করে দেয়। ঘটনাস্থলটি ক্রাইসলার ভবনের কাছাকাছি এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে কয়েকটি অ্যাভিনিউ দূরে। নিরাপত্তা তৎপরতার সময় কাছের একটি ভবন থেকেও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলায় ওই এলাকায় তখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তবে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরে সেটিকে হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্যুটকেসের ভেতরে বোমা বা কোনো বিস্ফোরক পাওয়া গেছে এমন তথ্য নেই। একইভাবে এটি তারেক রহমান, তার সফরসঙ্গী বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিনিধি দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অংশ ছিল, এমন কোনো তথ্যও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। তারেক রহমান ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে থাকছেন। একই দিন তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত নাশতায় অংশ নেন এবং সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেন। সন্দেহজনক স্যুটকেসটি যে এলাকায় পাওয়া যায়, সেটি তার হোটেলের কাছাকাছি হলেও ঘটনাস্থলটি হোটেল ভবনের ভেতরে বা প্রবেশপথে ছিল না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হোটেলটি পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে, আর স্যুটকেসটি পাওয়া যায় পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হোটেলে হামলার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির সময় নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছিলেন। এ কারণে ম্যানহাটনের ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় বিভিন্ন সড়কে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তারেক রহমানও এ সফরে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তার প্রথম বক্তব্য হবে বলে বাংলাদেশি সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবারের স্যুটকেস ঘিরে নিরাপত্তা তৎপরতায় কোনো বিস্ফোরণ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশি পরীক্ষা শেষে বস্তুটি হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি একটি সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে, বোমা হামলা হিসেবে নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।