সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের তালিকায় দ্বিতীয় নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:১৭
ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের তালিকায় দ্বিতীয় নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর
ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের তালিকায় দ্বিতীয় নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর

যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাংকসগিভিং, বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের ঝুঁকিতে থাকা বিমানবন্দরগুলোর নতুন তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে আবহাওয়াজনিত বিলম্বের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি এবং নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরও শীর্ষ দশে রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে নতুন এই গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

ভ্রমণবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আপগ্রেডেড পয়েন্টস যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ট্রান্সপোর্টেশন স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেছে। গবেষণায় দেশের ব্যস্ততম ৬০টি বিমানবন্দর ও নয়টি প্রধান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছরের ছুটির মৌসুমের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বিলম্বিত ফ্লাইটগুলোর গড়ে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ বিলম্বের জন্য আবহাওয়া দায়ী ছিল। ফলে এবারের ছুটির মৌসুমে ভ্রমণকারীদের আগেভাগে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে বিলম্বিত ফ্লাইটের ৪০ দশমিক ৩ শতাংশের পেছনে ছিল প্রতিকূল আবহাওয়া। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে এই হার ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে সিয়াটল-টাকোমা বিমানবন্দর, যেখানে আবহাওয়ার কারণে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বিলম্ব ঘটেছে। তালিকার চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দর, যার হার ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ। দশম অবস্থানে থাকা নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে এই হার ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ নিউইয়র্ক ও আশপাশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরই আবহাওয়াজনিত বিলম্বের তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা পেয়েছে।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ডিসেম্বর মাসে আবহাওয়াজনিত বিলম্বের হার সবচেয়ে বেশি। ওই মাসে বিলম্বিত ফ্লাইটের প্রায় ২৩ দশমিক ৬ শতাংশের জন্য আবহাওয়া দায়ী ছিল। জানুয়ারিতে এই হার প্রায় ২২ দশমিক ৬ শতাংশ। এয়ারলাইনসভিত্তিক হিসাবে আলাস্কা এয়ারলাইনসে আবহাওয়াজনিত বিলম্বের হার সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, যার হার ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে হাওয়াইয়ান এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে এই হার ছিল সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে গবেষণার এসব শতাংশ সব ফ্লাইটের বিলম্বের হার নয়; বিলম্বিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে আবহাওয়াকে কারণ হিসেবে শনাক্ত করার অনুপাত।

 

এদিকে চলতি বছরের ছুটির মৌসুমে বিমানভাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান হপারের হিসাবে, থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের গড় দাম প্রায় ৪০২ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। বড়দিনের সময় গড় ভাড়া প্রায় ৪৫২ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। আগামী ২৯ নভেম্বর এবং ২৭ ডিসেম্বর ফিরতি ভ্রমণের জন্য বিশেষ ব্যস্ত সময় হতে পারে। ফলে এসব দিনে টিকিটের দাম ও যাত্রীদের চাপ বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ সব ভ্রমণকারীর জন্য ছুটির মৌসুমে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যাত্রার আগে এয়ারলাইনসের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই, কানেক্টিং ফ্লাইটের মধ্যে পর্যাপ্ত সময় রাখা এবং সম্ভাব্য তুষারঝড় ও কুয়াশার পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রিয়েল-টাইম ফ্লাইট স্ট্যাটাস ব্যবস্থার মাধ্যমেও বিমানবন্দরের পরিস্থিতি জানা যায়। তবে গবেষণার তালিকাটি অতীতের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি, আসন্ন ছুটির মৌসুমের নির্দিষ্ট ফ্লাইট বিলম্বের পূর্বাভাস নয়।

 

সংবাদসূত্র: আপগ্রেডেড পয়েন্টস , হপার হলিডে ট্রাভেল ইনডেক্স।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
১০ ডলারের অপমান, ৭ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের ভালোবাসা পেলেন চার সন্তানের বাবা
১০ ডলারের অপমান, ৭ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের ভালোবাসা পেলেন চার সন্তানের বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে একটি মুদি দোকানে কাজ করার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুই প্র্যাঙ্ককারীর কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন চার সন্তানের বাবা ওয়াল্ট জেরড। কাজের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে এমন একটি কৌতুক করা হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ভিডিওটি হাসির বদলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও সহানুভূতির জন্ম দেয়। হাজার হাজার মানুষ এগিয়ে আসেন ওই কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।   ঘটনাটি ঘটে মিশিগানের একটি মেইজার সুপারমার্কেটে। ওয়াল্ট সেখানে রেড ব্যারন ব্র্যান্ডের হিমায়িত পিৎজা সাজানোর কাজ করছিলেন। এ সময় এক কনটেন্ট নির্মাতা তাঁর কাছে সময় জানতে চান। ওয়াল্ট ফোন বের করলে ওই ব্যক্তি নিজের ফোনে অ্যাপল পে লেনদেনের মতো একটি শব্দ বাজিয়ে দাবি করেন, তিনি ওয়াল্টের কাছ থেকে ১০ ডলার নিয়ে নিয়েছেন।   বাস্তবে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। এটি ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য তৈরি করা একটি প্র্যাঙ্ক। কিন্তু ওই কর্মীর কাছে বিষয়টি মোটেও মজার ছিল না। তিনি তখন নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরেও কাজ করছিলেন। দীর্ঘ সময় কাজ করে বাড়িতে থাকা সন্তানদের কাছে ফিরতে চাচ্ছিলেন।   ভিডিওতে ওয়াল্টকে বলতে শোনা যায়, তাঁর জীবন এমনিতেই কঠিন। বাড়িতে চারটি সন্তান রয়েছে, বাড়ির ঋণ পরিশোধের চাপ আছে। নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে। পরদিন ভোরে আবার কাজে যেতে হবে। এমন অবস্থায় তাঁকে নিয়ে এ ধরনের কৌতুক করার কোনো অর্থ নেই।   ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকেই বলেন, পরিবারের জন্য পরিশ্রম করা একজন মানুষকে কেবল অনলাইনে হাসির উপকরণ বানানো উচিত নয়। তাঁর কথায় নিজেদের জীবনের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান বহু মানুষ।   এরপর লুক ওকেনশিল্ড নামে অ্যারিজোনার এক ব্যক্তি ওয়াল্টের সহায়তায় GoFundMe-তে অনুদান সংগ্রহ শুরু করেন। অক্টোবরের ২৭ তারিখে শুরু হওয়া সেই তহবিলে অল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ অর্থ পাঠাতে থাকেন। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮০০ জন দাতার কাছ থেকে জমা পড়ে ৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৩ ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ লাখ ডলার।   এত মানুষের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হন ওয়াল্ট। তিনি জানান, এই সহায়তার কারণে পরিবারের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। তবে জনসমক্ষে আর বেশি আসতে চান না তিনি। পরিবারের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকার না দেওয়ার সিদ্ধান্তও জানান।   ৫ নভেম্বর তিনি অনুদান সংগ্রহ সাময়িকভাবে বন্ধ করেন। একই সঙ্গে যাঁরা অন্যদের সাহায্য করতে চান, তাঁদের স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠান, গির্জা কিংবা অন্য কোনো অসহায় পরিবারের তহবিলে সহায়তা করার আহ্বান জানান।   ঘটনাটির আরেকটি মানবিক দিকও সামনে এসেছে। ওয়াল্টের জন্য তহবিল সংগ্রহকারী লুক ওকেনশিল্ড নিজেও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি একজন সাবেক সেনাসদস্য এবং নিজের আবাসনসংকটের মধ্যেও অন্য একজনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে ওয়াল্টের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে।   ওয়াল্টের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানও তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তিনি তাদের মূল্যবান কর্মী এবং তাঁর নিরাপত্তা ও মর্যাদা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।   একটি ছোট প্র্যাঙ্ক থেকে শুরু হওয়া ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত মানুষের সহমর্মিতা, শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা এবং অপরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ওয়াল্টের কাছে হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শুধু অর্থ নয়—বরং হাজারো মানুষের এই বার্তা যে, পরিবারের জন্য নীরবে পরিশ্রম করা মানুষদের কষ্টও অন্যের হৃদয় ছুঁতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:৫০
বাংলাদেশি একই পরিবারের দুই সদস্য নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে

বাংলাদেশি একই পরিবারের দুই সদস্য নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে, স্বজনদের আনন্দ বার্তা

ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের তালিকায় দ্বিতীয় নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর

ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের তালিকায় দ্বিতীয় নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর

ভবিষ্যত পরিবর্তন ঠেকাতে, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা ট্রাম্পের

ভবিষ্যত পরিবর্তন ঠেকাতে, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা ট্রাম্পের

ওয়াশিংটনে  ন্যাশনাল গার্ডের টহল বাড়ানোর অনুমোদন
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের টহল বাড়ানোর অনুমোদন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার অনুমোদন দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সামরিক যান, বিশেষ টহল গাড়ি ও নৌযান ব্যবহার করতে পারবেন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা। একই সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজধানীতে অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা জোরদার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর স্বাক্ষরিত দুটি নির্দেশনার মাধ্যমে হেগসেথ ন্যাশনাল গার্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের অনুমোদন দেন। এর আওতায় সর্বোচ্চ ৬০টি চিহ্নিত টহল গাড়ি, হামভিসহ সামরিক কৌশলগত যান, দুটি টহল নৌকা এবং ২০টি বহনযোগ্য আলোকসজ্জা টাওয়ার ও জেনারেটর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব সরঞ্জাম রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হবে। তবে নতুন অনুমোদনে ন্যাশনাল গার্ডের মোট সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়নি।   প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩ হাজার ১০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সর্বোচ্চ অনুমোদিত সদস্যসংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ জনেই সীমিত থাকবে। নতুন নির্দেশনায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কিছু বিশেষ অভিযানে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের রাইফেল বহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে মেট্রো রেলস্টেশনে রাইফেল বহন নিষিদ্ধ থাকবে। টহল গাড়িগুলোতে স্পষ্টভাবে ন্যাশনাল গার্ডের পরিচয় থাকতে হবে এবং দায়িত্ব পালনকালে সদস্যদের সামরিক ইউনিফর্ম পরতে হবে।   এ ছাড়া রাজধানীর অ্যানাকোস্টিয়া এলাকার জলপথে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুটি নৌকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মাদক পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করবেন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা। তবে নৌকায় ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে হবে। ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা সাধারণ পুলিশের মতো সরাসরি গ্রেপ্তার করতে পারবেন না। প্রয়োজন হলে সন্দেহভাজন কাউকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধ দমনের ঘোষণা দিয়ে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন শুরু করেন। এরপর থেকে সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় টহল, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে সহায়তা করে আসছেন। তবে রাজধানীতে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এভাবে সামরিক বাহিনী ব্যবহার আইনসম্মত নয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।   এদিকে ওয়াশিংটন ডিসি কাউন্সিলের জননিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান ব্রুক পিন্টো ন্যাশনাল গার্ডের উপস্থিতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, স্থানীয় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘মেক ডিসি সেফ অ্যান্ড বিউটিফুল’ কর্মসূচিতে সহায়তা করতেই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে রাজধানীতে টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।   সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৮:৫৫
মিনেসোটায় নির্বাচনে জয়ী সোমালি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী, ডে-কেয়ারে অনিয়ম নিয়ে বিতর্ক

মিনেসোটায় নির্বাচনে জয়ী সোমালি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী, ডে-কেয়ারে অনিয়ম নিয়ে বিতর্ক

ট্রাম্পের ২৫০ ফুট স্মারক তোরণ নির্মাণে অনুমোদন,  আটকে দিলেন আদালত

ট্রাম্পের ২৫০ ফুট স্মারক তোরণ নির্মাণে অনুমোদন, আটকে দিলেন আদালত

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মার্কিন শিক্ষার্থীর কবজি ভাঙার অভিযোগে তদন্ত

স্কুলে যাওয়ার পথে আটক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মার্কিন শিক্ষার্থীর কবজি ভাঙার অভিযোগে তদন্ত

অপমানের ভিডিও ভাইরাল
অপমানের ভিডিও ভাইরাল, চার সন্তানের বাবার জন্য প্রায় ৮ লাখ ডলার দিলেন মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান  অঙ্গরাজ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানের শিকার হওয়া এক কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন হাজারো মানুষ। চার সন্তানের বাবা ওই কর্মীর জন্য অনলাইন তহবিলে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ডলার অনুদান জমা পড়েছে। মানুষের এমন অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।   ওই কর্মীর নাম ওয়াল্ট জেরড। তিনি রেড ব্যারন ব্র্যান্ডের পিৎজা সরবরাহ ও দোকানের ফ্রিজে পণ্য সাজানোর কাজ করেন। সম্প্রতি একটি মুদি দোকানে কাজ করার সময় দুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাঁকে নিয়ে একটি কৌতুকের ভিডিও ধারণ করেন।   ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি ওয়াল্টের কাছে সময় জানতে চান। সময় দেখার জন্য তিনি নিজের ফোন বের করলে ওই ব্যক্তি তাঁর ফোনে টাকা লেনদেনের মতো শব্দ বাজিয়ে দাবি করেন, তিনি ওয়াল্টের কাছ থেকে ১০ ডলার নিয়ে নিয়েছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আরও ঠাট্টা করতে থাকেন তাঁরা।   প্রথমে ওয়াল্ট পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বারবার বিরক্ত করার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের কষ্টের কথা জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার চেয়েও বেশি সময় কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে। বাড়িতে তাঁর চার সন্তান অপেক্ষা করছে। অথচ পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে তাঁকে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে।   তিনি আরও জানান, পরদিন ভোর ৫টায় উঠে আবার কাজে যেতে হবে এবং একাধিক দোকানে পণ্য সরবরাহ করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে নিয়ে এ ধরনের ঠাট্টা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি।   ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকেই ওই কর্মীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাঁকে অপমান করার ঘটনায় ক্ষোভ জানান।   এরপর লুক ওকেনশিল্ড নামের অ্যারিজোনার এক ব্যক্তি ওয়াল্টের সহায়তায় গত ২৭ অক্টোবর অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওয়াল্টকে চিনতেন না। তবে ভিডিওটি দেখে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।   কয়েক দিনের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ ওই তহবিলে অর্থ পাঠাতে শুরু করেন। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮০০ জনের অনুদানে জমা পড়ে ৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৩ ডলার। প্রাথমিকভাবে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ লাখ ডলার।   এদিকে কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানও। রেড ব্যারনের মূল প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তাঁর সুস্থতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে।   এত মানুষের ভালোবাসা ও সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওয়াল্ট। তবে পরিবারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে তিনি গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   ৫ নভেম্বর দেওয়া সর্বশেষ বার্তায় তিনি জানান, মানুষের সহযোগিতায় পরিবারের সঙ্গে বাড়তি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অনুদান সংগ্রহ কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেন।   যাঁরা অন্যদের সাহায্য করতে চান, তাঁদের স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠান, অসহায় পরিবার কিংবা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   একটি অপমানের ভিডিও শেষ পর্যন্ত হাজারো মানুষের মানবিকতার গল্পে পরিণত হয়েছে। একজন পরিশ্রমী বাবার পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ দেখিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু অপমান ছড়ানোর মাধ্যম নয়, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিশালী জায়গাও হতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৬:৪৯
নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ডুবন্ত ব্যক্তিকে বাঁচালেন মা

নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ডুবন্ত ব্যক্তিকে বাঁচালেন মা, কৃতজ্ঞতা জানাতে ফিরলেন তিনি

উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে বেসরকারি ঋণের পথে লাখো শিক্ষার্থী

স্নাতকোত্তরে ঋণ কমায় উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে বেসরকারি ঋণের পথে লাখো শিক্ষার্থী

সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা ও দাঁতের চিকিৎসার সুবিধা বদলের সুযোগ

সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা ও দাঁতের চিকিৎসার সুবিধা বদলের সুযোগ ৯ নভেম্বর থেকে

0 Comments