নিখোঁজ

ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে মিলল কিশোরীর সন্ধান
ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে এফবিআইয়ের হাতে উদ্ধার কিশোরী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে গত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরী সোফিয়া কভারকে বাড়ি থেকে ১২০০ মাইলেরও বেশি দূরে নিউজার্সিতে নিরাপদে খুঁজে পাওয়া গেছে। গত ৩১ জুলাই গভীর রাতে বাড়ি থেকে চুপিসারে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় সোফিয়ার বাবা রিক কভার ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, এফবিআই (FBI) তার মেয়েকে নিউজার্সিতে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবার অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সুখবরটি পেয়েছে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।   মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রিক কভার। তিনি বিশেষভাবে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং গোয়েন্দা মারিসল রদ্রিগেজের নাম উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি, যেসব পরিচিত ও অপরিচিত মানুষ সোফিয়ার ছবি শেয়ার করেছেন, তার জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং নানা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন, তাদের সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এই বাবা। তিনি বলেন, হাজারো মানুষ তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলেই আজ তাকে ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।   সংবাদমাধ্যম 'গালফ কোস্ট নিউজ নাউ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিক কভার জানান, দীর্ঘ ১১ দিন পর মেয়ের সাথে দেখা করতে যত দ্রুত সম্ভব তিনি নিউজার্সিতে উড়ে যাবেন। সোফিয়া নিউজার্সিতে তার বন্ধুদের সাথে অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে। তবে সে কীভাবে এতদূর পৌঁছাল এবং কবে নাগাদ তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। রিক আরও জানান, তারা ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন এবং ঠিক কী ঘটেছিল তা উদ্ঘাটন করবেন।   গত ৩১ জুলাই গোল্ডেন গেট এস্টেটসে অবস্থিত নিজ বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে সোফিয়াকে ভোরের দিকে অজানা কারণে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকেই চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তার বাবা। মেয়ে যে স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে, তা কোনোভাবেই মানতে রাজি ছিলেন না তিনি। মেয়েকে খুঁজে বের করতে অনলাইনে ও স্থানীয়ভাবে তিনি ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছিলেন। সেই সময় এক আবেগঘন বার্তায় তিনি সোফিয়াকে যেকোনো পুলিশ সদস্য বা নিরাপদ কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছে আশ্রয় নিয়ে বাড়ি ফিরে আসার আকুতি জানিয়েছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
শনিবার দুপুরে ইলিনয়ের ম্যাকহেনরি থেকে নিখোঁজ হন টড সাবাতিনি ও তাঁর শিশুপুত্র থিও। ছবি: সংগৃহীত
হাঁটতে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে উধাও বাবা ও শিশুপুত্র, হন্যে হয়ে খুঁজছে দুই অঙ্গরাজ্যের পুলিশ

শনিবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ম্যাকহেনরি শহরে ২২ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে নিয়ে স্বাভাবিক হাঁটার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁরা আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই এই বাবা ও ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ এই দুজনকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিশাল তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।   ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগ এবং পিপল ম্যাগাজিনের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিখোঁজ ওই বাবার নাম টড সাবাতিনি (৩৬) এবং তাঁর ছেলের নাম থিও। গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি ইলিনয়ের ম্যাকহেনরির নিজ বাড়ি থেকে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হন।   পরিবার জানিয়েছে, বাবা ও ছেলের এভাবে হাঁটতে বের হওয়াটা ছিল নিত্যদিনের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ পিপল ম্যাগাজিনকে জানায়, টডের এমন আচরণ একেবারেই অস্বাভাবিক। তাছাড়া থিওকে নিয়ে লম্বা সময় বাইরে থাকার মতো কোনো প্রস্তুতি বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও টডের সঙ্গে ছিল না, যা পরিবার ও পুলিশকে আরও বেশি ভাবিয়ে তুলেছে।   তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। একটি স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পেছনে থিওর স্ট্রলারটি (শিশুদের গাড়ি) পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সুপারমার্কেটের কাছে জিওন লুথেরান চার্চের ভেতর কারও সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন সাবাতিনি। এছাড়া স্থানীয় একটি টাকো বেল রেস্তোরাঁতেও তিনি একজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।   এরপরের ঘটনাটি আরও রহস্যজনক। পুলিশ জানায়, বাবা ও ছেলে একটি রাইডশেয়ারিং গাড়ি ভাড়া করে প্রায় এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের গ্রিনফিল্ড পুলিশ বিভাগে পৌঁছান। সেখানে সাবাতিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু শনিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি থিওকে নিয়ে পায়ে হেঁটেই ওই থানা থেকে বেরিয়ে যান। ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।   শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক আপডেটে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যে টড ও থিও বর্তমানে উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে অবস্থান করছেন। তাঁদের সন্ধানে ইলিনয় ও উইসকনসিনের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   নিখোঁজ হওয়ার সময় শিশু থিওর পরনে ছিল নীল শার্ট ও গাঢ় রঙের শর্টস। অন্যদিকে টড সাবাতিনির পরনে ছিল নীল-কালো রঙের ফ্লানেল শার্ট, ধূসর ট্যাংক টপ, জিন্স এবং কনভার্স জুতো। আগের ছবিগুলোতে তাঁর মুখে ঘন দাড়ি দেখা গেলেও, পুলিশ জানিয়েছে বর্তমানে তিনি ক্লিন-শেভড।   এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউইয়র্ক পোস্টের পক্ষ থেকে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে টড এবং থিওর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগের নির্দিষ্ট নম্বরে (৮১৫-৩৬৩-২১৩০) যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ঘুম থেকে উঠে দেখেন ছেলে পাশে নেই
ঘুম থেকে উঠে দেখেন ছেলে পাশে নেই, পুকুরে ভেসে উঠলো ছেলের মরদেহ

ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টিতে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর একটি রিটেনশন পন্ড থেকে ৫ বছর বয়সী এক অটিস্টিক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। শুক্রবার সকালে নর্থডেল এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের অফিসের (এইচসিএসও) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে শিশুটির বাবা তার সঙ্গে একই বিছানায় ছিলেন। সকাল ৫টার দিকে তিনি ছেলেকে কিছু পান করতে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দুজনই আবার ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল ৯টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বাবা দেখেন, শিশুটি বিছানায় নেই। অ্যাপার্টমেন্টের স্ক্রিনযুক্ত একটি অংশ ভেঙে বা ঠেলে খোলা অবস্থায়ও পাওয়া যায়।   প্রায় ৩০ মিনিট ধরে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি করার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরিফের অফিসে খবর দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত বড় ধরনের অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ।   এইচসিএসওর প্রায় ১৪০ জন ডেপুটি অভিযানে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে ছিল এভিয়েশন ইউনিট, ড্রোন, কে-৯ ইউনিট, ব্লাডহাউন্ড এবং ডাইভ টিম। একটি সার্চ ডগ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ঠিক পেছনে থাকা একটি রিটেনশন পন্ডের দিকে বারবার ইঙ্গিত করছিল।   পরে ডাইভ টিম ওই পুকুরে তল্লাশি শুরু করে। একজন সদস্য কোমরসমান পানিতে নেমে প্রায় ৫ ফুট গভীর এলাকায় শিশুটির সন্ধান পান। সকাল ১১টার পর শিশুটিকে পানি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির বয়স সম্প্রতি ৫ বছর পূর্ণ হয়েছিল। তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার জানান, একই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পানিতে ডুবে অটিজম থাকা দ্বিতীয় শিশুর মৃত্যু হলো এটি।   ঘটনার পর শেরিফ শিশুদের পানির নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারগুলোকে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে অটিজম থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে পানির আশপাশে বাড়তি সতর্কতা এবং সাঁতার শেখানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি।   ফ্লোরিডায় রিটেনশন পন্ডসহ বিভিন্ন জলাশয় আবাসিক এলাকার কাছাকাছি থাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করা হচ্ছে। নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত উদ্ধারকারী ইউনিট ব্যবহার করে থাকে।   এই ঘটনায় শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের অফিস।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর আবুধাবি সিআইডির হেফাজতে মিলল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুর খোঁজ
৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর আবুধাবি সিআইডির হেফাজতে মিলল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুর খোঁজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে ‘নিখোঁজ’ থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কেবিন ক্রু বর্তমানে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হেফাজতে রয়েছেন। মীর্জা আদনান নামের ওই কেবিন ক্রুকে ঠিক কী অভিযোগে বা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি আমিরাত কর্তৃপক্ষ।   বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও শারজাহ স্টেশনের সূত্রমতে, গত ২২ জুলাই বিজি-১৫১ ফ্লাইট নিয়ে শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মীর্জা আদনান। এরপর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শারজাহ থেকে তাকে আবুধাবি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বর্তমানে তিনি সেখানেই বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।   এ ঘটনা প্রসঙ্গে সোমবার বিমানের জনসংযোগ শাখার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, "ওই কেবিন ক্রু একটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং ইমিগ্রেশন তাকে আটক করেছে।" আটকের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, "ইমিগ্রেশন সাধারণত এ ধরনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করে না। তারা নিজস্ব তদন্ত শেষে তাকে হয়তো ছেড়ে দেবে, নয়তো কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।" তবে এ ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। অন্যদিকে, বিমানের ফ্লাইট অপারেশনস পরিচালক ক্যাপ্টেন এ কে এম আমিনুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।   বিমানের শারজাহ স্টেশনের ব্যবস্থাপক জাকির হোসাইন বলেন, "আমি জানতে পেরেছি যে শারজাহ সিআইডি তাকে আটক করে আবুধাবি শাখার কাছে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তীতে আবুধাবি পুলিশ বিমানের আবুধাবি স্টেশন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথেও যোগাযোগ করেছে এবং দূতাবাস পুরো বিষয়টি অবগত রয়েছে।"   বিমানের আবুধাবি স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার উল ফিরদাউস জানিয়েছেন, বিমানের কর্মকর্তারা শারজাহ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সিআইডি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও আটকের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তারা জানাননি। তারা শুধু বলেছেন, সময় হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমানে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিখোঁজ তরুণীর লাশ মিলল সাগরে I ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় নিখোঁজ তরুণীর লাশ মিলল সাগরে, শেষবার দেখা গিয়েছিল এক যুবকের সঙ্গে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সাগরের বুক থেকে এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কেইশা নিকোল জোনস (৩১) নামের ওই তরুণীকে সর্বশেষ স্থানীয় একটি স্ট্রিপ ক্লাবের (অ্যাডাল্ট এন্টারটেইনমেন্ট ক্লাব) বাইরে দেখা গিয়েছিল। ফ্লোরিডার বিস্কেইন উপসাগরে ভার্জিনিয়া কির কাছে ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)-এর একটি গবেষণা ভবনের নিকটবর্তী পানিতে তার মৃতদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।   এই রহস্যজনক মৃত্যুর পর শোকে পাথর হয়ে গেছে তার পরিবার। কীভাবে এবং কেন তিনি সেখানে পৌঁছালেন, তার উত্তর খুঁজছেন স্বজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা।   স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে নর্থ মিয়ামি বিচের 'ডিনস গোল্ড' নামক একটি স্ট্রিপ ক্লাব থেকে বের হয়ে ট্যাক্সিতে করে হ্যালান্ডেল বিচের 'স্কারলেটস ক্যাবারেট' নামের আরেকটি ক্লাবে যান কেইশা। একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওই ক্লাবের বাইরে একজন ব্যক্তির হাত ধরে থাকতে দেখা যায়।   যেখান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ওই ক্লাবটির দূরত্ব সেখান থেকে প্রায় ২১ মাইল। কেইশার বাবা রিচার্ড ফার্লো সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই ব্যক্তিই সম্ভবত শেষ মানুষ, যার সঙ্গে তার মেয়েকে জীবিত দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তারা এখনই বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মিয়ামি-ডেড কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার অফিস জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণের জন্য তারা পরিবারের সদস্যদের জন্য অপেক্ষা করছে।   এদিকে, মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে মিশিগান থেকে মিয়ামি বিচে ছুটে এসেছেন রিচার্ড ফার্লো। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, তাদের পুরো পরিবার এখন মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তার মেয়ে সম্প্রতি নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছিল, নিয়মিত গির্জায় যেত এবং জীবনকে একটি সুন্দর পথে নিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।   মর্গে মেয়ের বর্ণনার সঙ্গে মিলে যাওয়া একটি মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর থেকে তিনি শারীরিকভাবেও অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানান। কে বা কারা কেইশার সঙ্গে শেষ মুহূর্তে ছিল এবং কীভাবে তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে এখন প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউ জার্সি থেকে নিখোঁজ তিন কিশোর, কানেটিকাটে নাটকীয় অভিযানে উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি ট্রেন স্টেশন থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরকে অবশেষে কানেটিকাটের স্ট্যামফোর্ড এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মন্টভিল টাউনশিপ পুলিশ বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু ক্যাগিয়ানো জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্র্যাডেন মরিসি (১৪), ডমিনিক ডিলিবার্তো (১৪) এবং উইলিয়াম কনোলি (১৭) নামের এই তিন কিশোর নিউ জার্সির মন্টভিল টাউনশিপের একটি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়।   নিখোঁজের পরপরই ড্রোন ও পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর (কে-নাইন) ব্যবহার করে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ওই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে বুঝতে পেরে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ তদন্ত শুরু করে।   তদন্তের এক পর্যায়ে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই তিন কিশোরকে নিউ জার্সির ডেনভিল ট্রেন স্টেশনে দেখা যায়। এরপর মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির (এমটিএ) কর্মকর্তারা তাদের কানেটিকাটের স্ট্যামফোর্ডের একটি ট্রেন স্টেশনে শনাক্ত করেন। এমটিএ কর্মকর্তারা সেখানে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে ১৭ বছর বয়সী কনোলিকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে সুযোগ বুঝে ১৪ বছর বয়সী বাকি দুই কিশোর সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।   পালিয়ে যাওয়া কিশোরদের উদ্ধারে পুলিশ তাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখে। শনিবার রাত ৮টার পরপরই পুলিশ প্রধান ক্যাগিয়ানো নিশ্চিত করেন যে, ওই দুই কিশোরকেও স্ট্যামফোর্ড এলাকা থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, এই তিন কিশোর সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছাতেই বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। উদ্ধার হওয়া কিশোরদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও, ঠিক কবে নাগাদ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
সাত সন্তানসহ নিখোঁজ মার্কিন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার মেক্সিকোতে

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা থেকে সাত সন্তানসহ নিখোঁজ হওয়ার তিন মাসেরও বেশি সময় পর মেক্সিকোতে এক মার্কিন মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মাকালা পেন্ডলি (৩০) ইন্ডিয়ানাপোলিসের বাসিন্দা ছিলেন। সোমবার মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের একটি গ্রামের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স৫৯ জানিয়েছে, এই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।   স্থানীয় কৌঁসুলি হোর্হে লুইস লাভেন আবরকা জানান, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাকালা পেন্ডলির মৃতদেহ আট থেকে ১২ ঘণ্টা যাবত ওই খালে পড়ে ছিল। মাথায় ভারী বস্তুর প্রচণ্ড আঘাতে মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হওয়ায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে, অনলাইনে একটি তহবিল সংগ্রহের পেজ (GoFundMe) খুলে নিহত মাকালার বোন জেনিফার ল্যাম্বার্ট দাবি করেছেন, তার বোনকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তাকে ধর্ষণ, ছুরিকাঘাত ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে।   তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মেক্সিকান রাজ্যটির সান ক্রিস্তোবাল দে লাস কাসাস এলাকা থেকে মাকালার সাত সন্তানকেই সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুদের বাবা জোসেফ জুড বাটলার জুনিয়রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কৌঁসুলি লুইস লাভেন জানিয়েছেন, নারীহত্যার এই বর্বরোচিত ঘটনায় অপরাধীর সর্বোচ্চ ১০০ বছরের কারাদণ্ড দাবি করছেন তারা। এর আগেও বাটলার ডাকাতি, প্রতারণা ও ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং আলাস্কায় তার বিরুদ্ধে একটি সক্রিয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল।   গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানার শিশু সেবা বিভাগের একজন কেস ম্যানেজার মাকালা ও তার ১ থেকে ১২ বছর বয়সী ৭ সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রথম জানিয়েছিলেন। ইন্ডিয়ানাপোলিস পুলিশ জানায়, গত মাসে তাদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল এবং মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ শিশুদের হেফাজতে নিলেও পরে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়। মাকালার আরেক বোন মৌরিকা ল্যাম্বার্ট জানান, সন্তানদের নিজের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হতে পারে—এমন আতঙ্কে বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে মেক্সিকোতে পালিয়ে গিয়েছিলেন মাকালা।    ১৬ বছর বয়স থেকেই বাটলারের সঙ্গে তার একটি 'বিষাক্ত' সম্পর্ক ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মেক্সিকোর আদালতে জমা দেওয়া নথিতে দেখা যায়, গত ২০২৫ সালের আগস্টে মেরিডায় বাটলারের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মাকালা। নিজের বোনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন জেনিফার। বাটলার এই জঘন্য কাজ করতে পারে তা কখনোই কল্পনা করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই শূন্যতা আর কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ: রহস্য ঘনীভূত, উঠছে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনা দিন যত গড়াচ্ছে, ততই গভীর রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার, সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।   পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জামিল ও বৃষ্টি স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মানুষ নন। জামিলের ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, “পাঁচ দিন হয়ে গেছে। আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি। সে কাউকে কিছু না বলে চলে যাবে—এটা কল্পনাও করতে পারি না।” একইভাবে বৃষ্টির ভাই জাহেদ হাসান প্রান্ত বোনের নিরাপদ ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।   নিখোঁজের দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু অস্বাভাবিক তথ্য। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জামিল তার বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হন, কিন্তু পাসপোর্ট রেখে যান। সকাল ১১টার দিকে তার ফোন সর্বশেষ বাসার আশপাশেই শনাক্ত হয়। অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিজ্ঞান ভবনে ছিলেন। তিনি ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার ও খাবারের বাক্স রেখে বের হন—সঙ্গে ছিল কেবল ফোন ও পার্স। বিকেল ৫টার দিকে তার ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাস এলাকায় পাওয়া যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে অপহরণের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারকে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে মামলায় সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী কেউই অভিবাসন হেফাজতে নেই।   এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবেদনশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের ঘটনাকে সরাসরি কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা এখনই যৌক্তিক নয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও এগুলো ঘটতে পারে। তবুও একাধিক মিল—যেমন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, পাসপোর্ট রেখে যাওয়া—তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর খোঁজে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন তদন্তে অগ্রগতি নেই এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না।   তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পরিবার ও স্বজনদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক নিখোঁজের ঘটনা নয় এবং দ্রুত উদ্ধারই এখন সবচেয়ে জরুরি। যে কেউ জামিল লিমন বা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়ে তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

Unknown এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হয়েছেন। গত চার দিন ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এ স্নাতকোত্তর (এমএসসি) পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। সহপাঠী ও বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার এবং সঙ্গে থাকা সহপাঠীর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। নিখোঁজের পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও স্টেট পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সর্বশেষ তার অবস্থান ক্যাম্পাসের ভেতরে পাওয়া গেলেও এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিষয়টি মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলকে জানানো হয়েছে। কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন হলে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-কেও তদন্তে সম্পৃক্ত করা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশপাশের হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও আটক কেন্দ্রগুলোতেও খোঁজ নিয়েছে, তবে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং সহযোগিতা চেয়েছে। এ ঘটনায় সহপাঠী, বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বৃষ্টির নিরাপদ ফিরে আসার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। একই সঙ্গে কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দৌলতদিয়ায় পদ্মা থেকে বাস উদ্ধার, ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাসটি তোলার পর ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার করতে দেখা গেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।   উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, বাসটির দরজা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। ভেতর থেকে স্কুলব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে উঠতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।   নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ঘাট এলাকায় ভিড় করছেন পরিবার-পরিজনের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে রোকন বলেন, তাঁর বন্ধুর ছোট বোন ও তার স্বামী ওই বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে এখনো তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।   আরেক স্বজন শরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাসে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্ত্রী, মেয়ে ও এক আত্মীয় সাঁতরে উঠতে পারলেও সাত বছরের ছেলে ও ১১ বছর বয়সী ভাগ্নে এখনও নিখোঁজ। তিনি বলেন, “আমার আর কিছু লাগবে না, শুধু আমার সন্তানের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দিন।”   নিখোঁজ দুই নাতির জন্য অপেক্ষা করছেন নবীজ উদ্দিন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার নাতি-নাতনি বাসে ছিল। তাদের জন্য অপেক্ষা করছি।” ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষার সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনে আঘাত করলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, এখনও আরও যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা থাকতে পারেন।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০