ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে এফবিআইয়ের হাতে উদ্ধার কিশোরী
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে গত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরী সোফিয়া কভারকে বাড়ি থেকে ১২০০ মাইলেরও বেশি দূরে নিউজার্সিতে নিরাপদে খুঁজে পাওয়া গেছে। গত ৩১ জুলাই গভীর রাতে বাড়ি থেকে চুপিসারে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় সোফিয়ার বাবা রিক কভার ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, এফবিআই (FBI) তার মেয়েকে নিউজার্সিতে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবার অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সুখবরটি পেয়েছে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রিক কভার। তিনি বিশেষভাবে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং গোয়েন্দা মারিসল রদ্রিগেজের নাম উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি, যেসব পরিচিত ও অপরিচিত মানুষ সোফিয়ার ছবি শেয়ার করেছেন, তার জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং নানা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন, তাদের সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এই বাবা। তিনি বলেন, হাজারো মানুষ তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলেই আজ তাকে ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম 'গালফ কোস্ট নিউজ নাউ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিক কভার জানান, দীর্ঘ ১১ দিন পর মেয়ের সাথে দেখা করতে যত দ্রুত সম্ভব তিনি নিউজার্সিতে উড়ে যাবেন। সোফিয়া নিউজার্সিতে তার বন্ধুদের সাথে অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে। তবে সে কীভাবে এতদূর পৌঁছাল এবং কবে নাগাদ তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। রিক আরও জানান, তারা ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন এবং ঠিক কী ঘটেছিল তা উদ্ঘাটন করবেন।
গত ৩১ জুলাই গোল্ডেন গেট এস্টেটসে অবস্থিত নিজ বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে সোফিয়াকে ভোরের দিকে অজানা কারণে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকেই চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তার বাবা। মেয়ে যে স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে, তা কোনোভাবেই মানতে রাজি ছিলেন না তিনি। মেয়েকে খুঁজে বের করতে অনলাইনে ও স্থানীয়ভাবে তিনি ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছিলেন। সেই সময় এক আবেগঘন বার্তায় তিনি সোফিয়াকে যেকোনো পুলিশ সদস্য বা নিরাপদ কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছে আশ্রয় নিয়ে বাড়ি ফিরে আসার আকুতি জানিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্ত্রী এবং দুই সৎমেয়েকে হত্যার প্রায় ১৪ বছর পর আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন আলবার্তো সিয়েরা নামের এক ব্যক্তি। ৪২ বছর বয়সী এই স্বামীর বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুন, অপহরণ, চুরি এবং মরদেহের ওপর বিকৃত নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত শুক্রবার মিয়ামি-ডেড কাউন্টির আদালতে তিনি এসব অভিযোগের দায় মাথা পেতে নেন। দোষ স্বীকারের পর এখন তার শাস্তি হিসেবে আমৃত্যু কারাদণ্ড নাকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য চলতি মাসের শেষের দিকে একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো। মিয়ামি হেরাল্ড ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর ফ্লোরিডার মিয়ামি-ডেড কাউন্টির নিজ বাড়ি থেকে গ্লাডিস মাচাদো (২৯) এবং তার দুই শিশুকন্যা জুলিয়া প্যাড্রন (৮) ও দানিয়েলা প্যাড্রনের (৪) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেসময় বাড়িটি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ আসতে থাকলে এক প্রতিবেশী পুলিশে খবর দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে আলবার্তো সিয়েরা স্বীকার করেছেন যে, তিনি তার স্ত্রী গ্লাডিসকে ছুরিকাঘাতে এবং দুই শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে হত্যার পর সিয়েরা তার স্ত্রী এবং আট বছর বয়সী সৎমেয়ের মৃতদেহের ওপর পাশবিক ও বিকৃত যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত, গ্লাডিসের ছয় বছর বয়সী ছেলে ঘটনার সময় বাড়িতে না থাকায় সে এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণে বেঁচে যায়। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর এই রোমহর্ষক মামলার বিচারকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় একটি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।
ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে এফবিআইয়ের হাতে উদ্ধার কিশোরী
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে দাদির অসুস্থতার অজুহাতে গলফে জালিয়াতি, ফেইক ‘হোল-ইন-ওয়ান’ করে বিপাকে খেলোয়াড়
বাড়ির দাম নয়, বীমার চড়া প্রিমিয়ামেই টেক্সাসে বাড়ি কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে ৭০ লাখ পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট বা নির্বাচনী এলাকাগুলোতে গত এক দশকে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য রিপাবলিকান এলাকার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ‘লেঅফহেজ’ (LayoffHedge)-এর নতুন এক বিশ্লেষণে কেন্দ্রীয় শ্রম দপ্তরের এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৫ অর্থবছর থেকে ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত প্রায় ৬৯ লাখ অনুমোদিত লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে এই আবেদনের সংখ্যা ছিল ৫১ লাখ ৭০ হাজার। অন্যদিকে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এর পরিমাণ ছিল মাত্র ১৬ লাখ ৯০ হাজার। বাকি ৫৬ হাজার ৫৯৬টি আবেদন বর্তমানে শূন্য থাকা চারটি আসন থেকে এসেছে। সার্বিক পরিসংখ্যানে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধির চিত্রটি বেশ চমকপ্রদ। ২০১৯ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে এইচ-১বি ভিসার আবেদন সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ আটটি নির্বাচনী এলাকাই টেক্সাসের রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে। লেঅফহেজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই তথ্য মূলত নিয়োগকর্তারা কোথায় কর্মীদের পদায়ন করতে চেয়েছেন তা নির্দেশ করে। এটি প্রমাণ করে না যে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল এইচ-১বি ভিসার ব্যবহার বাড়াতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। উল্লেখ্য, এই পরিসংখ্যানটি সরাসরি ইস্যু করা ভিসা বা নির্দিষ্ট কোনো কর্মীর সংখ্যা নয়, বরং এটি লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের হিসাব, যা কোনো বিদেশি কর্মীকে নিয়োগের আবেদন করার আগে মার্কিন শ্রম দপ্তরে জমা দিতে হয়। একটি আবেদনের মাধ্যমে একাধিক কর্মীর জন্যও অনুরোধ করা যেতে পারে। এই পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন আইনি অভিবাসনের পথ, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বর্তমান প্রশাসন বার্ষিক এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থা বাতিল করে উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে। এছাড়া ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং ফি বৃদ্ধি এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের নতুন কাজ খোঁজার জন্য দেওয়া ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বাতিলের প্রস্তাবও করা হয়েছে। ট্রাম্প সমর্থক বা ‘মাগা’ (MAGA) আন্দোলনের কট্টরপন্থীদের দাবি, এই ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে বিদেশি কর্মীদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের কর্মকর্তা ও ব্যবসাবান্ধব রক্ষণশীলদের মতে, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ সীমিত করা হলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রধান প্রযুক্তি ও ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতেই এইচ-১বি ভিসার আবেদন সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম ডিস্ট্রিক্ট (প্রতিনিধি রো খান্না) ৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৬টি আবেদন নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নিউইয়র্কের ১২তম এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ১৬তম ডিস্ট্রিক্ট। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে টেক্সাসের ৪নং ডিস্ট্রিক্ট, যেখানে আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ৮৯২টি। এরপরই রয়েছে জর্জিয়ার ৭নং এবং টেক্সাসের ২৪নং ডিস্ট্রিক্ট। শীর্ষ ১০টি ডিস্ট্রিক্ট মিলে মোট ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৬টি আবেদন রেকর্ড করা হয়েছে, যা সারা দেশের ২১৯টি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত এলাকার মোট আবেদনের চেয়েও বেশি। লেঅফহেজ জানিয়েছে, মাত্র ৪০টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকেই মোট আবেদনের অর্ধেক জমা পড়েছে, যা প্রমাণ করে যে এইচ-১বি ভিসার ব্যবহার পুরো দেশে সমানভাবে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, নতুন ‘গ্রুমিং’ আইনে গ্রেপ্তার ২৫ বছরের শিক্ষিকা
টানা ২০ বছর একা ভ্রমণের পর, প্রথম গ্রুপ ট্যুরেই খুঁজে পেলেন জীবনসঙ্গী
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নারী মিউনিসিপ্যাল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত ৫ আগস্ট ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান ও পেশায় আইনজীবী আসমা আলী মিসিসিপির ডেল্টা অঞ্চলের বেনোয়েট শহরের বিচারক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। চারশোরও কম বাসিন্দার এই ছোট শহরটিতে মিউনিসিপ্যাল বিচারকরা মূলত ছোটখাটো অপরাধ, শহরের আইন লঙ্ঘন এবং ট্রাফিক টিকিটের মতো বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করে থাকেন। তবে আসমা আলীর এই ঐতিহাসিক নিয়োগ উদযাপনের বদলে তাকে এবং তার কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিদ্বেষ ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার ঘটেছে। এই নিয়োগের পর থেকেই মিসিসিপির রক্ষণশীল রাজনীতিকদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। স্টেট সিনেটর মাইকেল ম্যাকলেনডন প্রকাশ্যেই আসমা আলীকে বেঞ্চ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই রিপাবলিকান সিনেটর দাবি করেন যে তিনি 'মোহাম্মদের ওপর নয়, সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রাখেন' এবং তার দায়িত্ব পালনের সময় মিসিসিপিকে কোনোভাবেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরে পরিণত হতে দেবেন না। পাশাপাশি, মিসিসিপির কৃষিমন্ত্রী ও গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যান্ডি গিপসন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজ্যে শরিয়া আইন নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব আর ক্রমাগত হুমকির মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বিচারক আসমা আলী। সমালোচনার জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, একজন আমেরিকান হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন ও পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেরই প্রয়োগ করবেন। কোনো ধর্মীয় আইন প্রয়োগের ভিত্তিহীন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই কেন তাকে একজন বিচারক হিসেবে অযোগ্য ভাবা হবে। ধর্মীয় বিদ্বেষের এই ঘটনা দেশটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিচারব্যবস্থায় যোগদানের পথ কতটা কণ্টকাকীর্ণ, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের
খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার