- প্রচ্ছদ
- Topic
পেনসিলভানিয়া
পেনসিলভানিয়ার বাফেলো টাউনশিপে স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করার পর নিজের বাড়ি খননযন্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ৪৮ বছর বয়সী এরিক পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বাড়ি ভাঙার সময় তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ভেতরেই ছিলেন। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার রাতে পিয়ার্সজা মদ্যপান করেছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তিনি বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে বাড়ি ভেঙে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি একটি নির্মাণকাজের খননযন্ত্রে উঠে বাড়িটির পেছনের অংশে আঘাত করতে শুরু করেন। বাড়ি ভাঙার সময় ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা জরুরি নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তাঁদের ফোনে কথা বলার সময় বাড়ি ভাঙার শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের অংশ ভেঙে ফেলার পর পিয়ার্সজা আবার ঘরে ঢোকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি একটি ব্যাগ নিয়ে শহরের দিকে চলে যান। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপর্যয় সৃষ্টি, অন্য ব্যক্তির জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার তিনটি অভিযোগ এবং বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ। তাঁকে ১০ হাজার ডলার বন্ডে বাটলার কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে। তদন্তকারীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাইরে থেকে বাড়িটির ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত মনে হলেও ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পুরো বাড়িটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তর ফিলাডেলফিয়ায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তর ফিলাডেলফিয়ার একটি সড়কে দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ি দেখতে পান তারা। গাড়ির ভেতরে ওই ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে গুলির আঘাত ছিল। পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা গাড়িটির চালকের পাশের দরজায় গুলির চিহ্ন দেখতে পান। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ওই ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে কিছু দূর যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে কোথায় এবং কীভাবে তাকে গুলি করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং গুলির কারণ কী, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার একটি গেকো টিকে থেকে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। জন্মের পর এর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হলেও, চার সপ্তাহ পার করে এখন সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে প্রাণীটি। এর দুটি মাথার নাম রাখা হয়েছে ‘সাইমন’ ও ‘গারফাঙ্কেল’। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব পেনসিলভানিয়ার সরীসৃপ প্রজনন প্রতিষ্ঠান ‘রকস্টার গেকোস’-এ গত ২৯ জুন এই বিরল গেকোটির জন্ম হয়। জন্মের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির ভিডিও প্রকাশ করলে তা দ্রুতই ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এ ধরনের ঘটনা মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটেছে। সাধারণত এ ধরনের প্রাণী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে না। তবু শুরু থেকেই বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রাণীর একাধিক মাথা নিয়ে জন্মানোর ঘটনাকে ‘পলিসেফালি’ বলা হয়। ভ্রূণের বিকাশের সময় জিনগত ত্রুটি বা পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে এমনটি ঘটতে পারে। দুই মাথার প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রতিটি মাথার আলাদা মস্তিষ্ক থাকে। তবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তারা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে চলাফেরা, খাবার গ্রহণ কিংবা দিক নির্ধারণে অনেক সময় সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দুটি মাথা ভিন্ন দিকে যেতে চাইলে চলাফেরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে, যা বন্য পরিবেশে তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দেয়। তবে সাইমন ও গারফাঙ্কেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, শুরুতে দুটি মাথা কখনও কখনও ভিন্ন দিকে যেতে চাইলেও ধীরে ধীরে তারা চলাফেরায় সমন্বয় তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো মাথাকেই অন্যটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গেকোটির বয়স এখন চার সপ্তাহ। ওজন মাত্র ১ দশমিক ৮ গ্রাম হলেও এটি স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারছে। দুটি মাথাই আলাদাভাবে কোনো সহায়তা ছাড়াই খাবার গ্রহণ করছে। আরও একটি স্বস্তির বিষয় হলো, গেকোটির মাথা দুটি এমনভাবে অবস্থান করছে যে তারা একে অপরকে আক্রমণ করতে পারে না। ফলে নিজেদের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকিও নেই। নিউ ক্যালেডোনিয়ার স্থানীয় এই প্রজাতির ক্রেস্টেড গেকো পূর্ণবয়সে সাধারণত ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় এবং ওজন হয় ৩৫ থেকে ৪৫ গ্রাম। তবে দুই মাথার এই গেকোটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে কি না, তা জানতে এখনও আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাণীপ্রেমীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেকোটির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। অনেকেই শুরু থেকেই এর বেড়ে ওঠার খবর অনুসরণ করছেন। কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, বিরল এই প্রাণীটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করবে। রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, গেকোটির পাঁচ সপ্তাহ পূর্ণ হলে তারা আবারও এর নতুন অবস্থা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই মাথার প্রাণী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাপ ও কচ্ছপের মধ্যে। তবে মাছ, শূকর, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যেও অতীতে পলিসেফালির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবু সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এমন প্রাণীর সংখ্যা খুবই কম।
বহু বছরের খোঁজাখুঁজির পর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি ঐতিহাসিক পাথরের বাড়ি কিনেছিলেন টাইলার ও লরেন বোল্ডিন দম্পতি। কিন্তু সেখানে বসবাস শুরু করার পর তারা আবিষ্কার করেন, বাড়িটির প্রকৃত বাসিন্দা যেন তারাই নন; বরং শত শত সাপ। এরপর থেকেই সাপের এই অস্বাভাবিক উপদ্রব মোকাবিলা করে বাড়িটিকে বাসযোগ্য রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। পেনসিলভানিয়ার মধ্যাঞ্চলের প্রায় দুই হাজার জনসংখ্যার ছোট শহর পাইন গ্রোভে অবস্থিত ১৮৩০-এর দশকে নির্মিত বাড়িটি ২০২০ সালে নিলামে ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারে কেনেন বোল্ডিন দম্পতি। প্রায় ৬ হাজার বর্গফুটের বাড়িটিতে রয়েছে ছয়টি শয়নকক্ষ ও পাঁচটি বাথরুম। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরিবার নিয়ে সেখানে ওঠার পর থেকেই বাড়ির চারপাশে নিয়মিত সাপ দেখা দিতে শুরু করে। কখনও পাথরের দেয়াল বেয়ে ওপরে উঠছে, কখনও সামনের সিঁড়ি পার হচ্ছে, আবার কখনও পুরো আঙিনাজুড়ে বিচরণ করছে সাপগুলো। দম্পতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এসব দৃশ্য শেয়ার করার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। অনেকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়া কিংবা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার মতো মন্তব্য করলেও টাইলার বোল্ডিন বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ বেছে নেন। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সমস্যার উৎস দূর করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সে লক্ষ্যেই বাড়ির ভিত্তির বিভিন্ন ফাটল বন্ধ করা হয়েছে, উঠানের পুরোনো গাছের গুঁড়ি ও সাপের সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ ধরনের ‘স্নেক গ্র্যাবার’ ব্যবহার করে বাড়ির আশপাশে পাওয়া সাপগুলো ধরে কাছের বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বোল্ডিন দম্পতির বাড়িতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অ-বিষধর ব্ল্যাক র্যাট স্নেক বা কালো ইঁদুরখেকো সাপ। যুক্তরাষ্ট্রে এ প্রজাতির সাপ মানুষের জন্য সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টাইলার বোল্ডিন ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক টিকটক ভিডিওতে জানান, শুরু থেকেই তারা এসব অ-বিষধর সাপকে না মারার নীতি অনুসরণ করেছেন। কারণ এসব সাপ এলাকায় বিষধর কপারহেড ও টিম্বার র্যাটলস্নেকের মতো আরও বিপজ্জনক প্রজাতির বিস্তার কমাতে সহায়তা করে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদেরও মতে, অ-বিষধর সাপ পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাড়িতে সাপের উপস্থিতি দেখা দিলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হত্যা না করে নিরাপদ উপায়ে অপসারণ এবং তাদের প্রবেশের পথ বন্ধ করাই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। বর্তমানে বোল্ডিন পরিবার ধাপে ধাপে সাপের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে এবং একটি ঐতিহাসিক বাড়ি কেনার স্বপ্ন কীভাবে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে, তার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে অ্যামাজনের পার্সেল সরবরাহের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস এর হাতে আটক হয়েছেন চীনের মানবাধিকার আইনজীবী উ শাওপিং। তাঁর এসাইলাম আবেদন এখনো বিচারাধীন থাকলেও তাঁকে আটক করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও চীনা ভিন্নমতাবলম্বীরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির মাউন্ট হলি স্প্রিংস এলাকায় অ্যামাজনের পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার সময় আইস কর্মকর্তারা উ শাওপিংকে থামান। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাঁর নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইলে তিনি বিচারাধীন আশ্রয় আবেদনের নথি দেখিয়ে জানান যে তিনি বৈধভাবে পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে আশ্রয়ের আবেদন করেন। এরপরও তাঁকে আটক করে পেনসিলভানিয়ার একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। উ শাওপিং ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে মানবাধিকার আইনজীবীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের সময় দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০২০ সালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন, যার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এ সময় তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চীনা মানবাধিকারকর্মীদের বিভিন্ন কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন। চীনে থাকাকালে উ শাওপিং ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ফালুন গং অনুসারী এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের জিয়ামেনে মানবাধিকারকর্মীদের একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ডিং জিয়াশি ও শু ঝিয়ং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দণ্ডিত হন। ওই ঘটনার পরপরই উ শাওপিং যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। উ শাওপিংয়ের স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর স্বামী সবসময় চীনের সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিলেন। কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার সমালোচনার কারণেই তিনি নিপীড়নের শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উ শাওপিংয়ের অভিবাসন আদালতে পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৭ জুলাই নির্ধারিত রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের আশঙ্কা, তাঁকে যদি চীনে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে সেখানে তিনি কারাবাসসহ গুরুতর নিপীড়নের মুখে পড়তে পারেন। এ ঘটনার বিষয়ে আইস এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দেয়নি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের আটক এবং অভিবাসন প্রয়োগ নীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভেনিয়া: পেনসিলভেনিয়ার নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত ইসলামিক সেন্টার টাইসন মসজিদে মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনা। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে মসজিদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ভবনের কাছে এসে আগুন লাগিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা গেছে। ওই ফুটেজ তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেটির ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কমিউনিটির নেতারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এবং উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশ আগুন লাগার কারণ বা এটি অগ্নিসংযোগ ছিল কি না—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি অভিবাসন ডিটেনশন সেন্টারে খাবারে কৃমি ও পোকামাকড়, চিকিৎসাসেবার সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ তুলে গণস্বাক্ষরযুক্ত চিঠি দেওয়ার পর এক অভিবাসীকে একাকী সেলে রাখা, পরে একাধিকবার অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং তার ওপর কঠোর নজরদারি আরোপের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির অভিবাসন আটক কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম স্পটলাইট পিএ ও ডব্লিউআইটিএফ-এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, হন্ডুরাসের নাগরিক এদিন ড্যানিয়েল চিনচিলা-রোকে পেনসিলভানিয়ার ক্লিয়ারফিল্ড কাউন্টিতে অবস্থিত মশ্যানন ভ্যালি প্রসেসিং সেন্টারে আটক রয়েছেন। গত ৩ মার্চ তিনি ৬৮ জন আটক ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ একটি চিঠিতে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রটিতে পরিবেশিত খাবার পচা এবং তাতে কৃমি বা পোকামাকড় পাওয়া যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা না পাওয়া, এমনকি টয়লেট পেপার ও হাত ধোয়ার সাবানের মতো মৌলিক সামগ্রীর সংকটের কথাও উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অভিযোগের কিছুদিন পর খাবার পরিবেশনের সময় এক আটক ব্যক্তি সবুজ রঙের বমি করলে কয়েকজন বন্দি খাবার গ্রহণে বিরত থাকেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, চিনচিলা-রোকে অন্যদের এ কর্মসূচিতে উৎসাহিত করেছিলেন। তবে তার আইনজীবী ক্রেইগ শ্যাগিন বলেন, তিনি প্রতিবাদে অংশ নিলেও এর আয়োজক ছিলেন না। এরপর চিনচিলা-রোকেকে সাত দিনের জন্য একাকী সেলে রাখা হয়। তার দাবি, এ সময় তাকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ট্যাবলেটও কেড়ে নেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ নথিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবাদ নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে তাকে আলাদা করে রাখার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পরবর্তীতে তাকে প্রথমে টেক্সাসের পোর্ট ইসাবেল সার্ভিস প্রসেসিং সেন্টার এবং পরে লুইজিয়ানার উইন কারেকশনাল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। গত ৬ জুন তাকে আবার পেনসিলভানিয়ার মশ্যানন ভ্যালি কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হলেও তার নিরাপত্তা শ্রেণি নিম্ন ঝুঁকির ‘ব্লু’ থেকে ‘ইয়েলো’তে উন্নীত করা হয়েছে বলে জানান তার আইনজীবী। এর ফলে তার ওপর নজরদারি এবং চলাফেরার বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া তার বান্ধবীর ফোন নম্বরও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। চিনচিলা-রোকের আইনজীবীর ভাষ্য, ২০২৩ সালে একজন অভিবাসন বিচারক জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের আওতায় তাকে হন্ডুরাসে ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে তৃতীয় কোনো দেশে, বিশেষ করে মেক্সিকোতে পাঠানোর চেষ্টা করছে। চিনচিলা-রোকে জানান, টেক্সাসে অবস্থানকালে তাকে মেক্সিকো সীমান্তগামী একটি বাসে উঠতে বলা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ মেক্সিকোতে তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। এদিকে ডিটেনশন সেন্টারটি পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপ নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর কাছে পাঠায়। ICE এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিদিন তিন বেলা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এদিন ড্যানিয়েল চিনচিলা-রোকের অভিযোগ বা তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংস্থাটি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় ডিউটিরত অবস্থায় এক অবৈধ হাইতিয়ান অভিবাসী ট্রাক চালকের ধাক্কায় মাইকেল ই. পাহিরা জুনিয়র (৪৪) নামে এক স্টেট ট্রুপার (পুলিশ কর্মকর্তা) মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ৭টার দিকে স্কুইলকিল কাউন্টির ইন্টারস্টেট ৮১ মহাসড়কে একটি সেমিট্রাক পরিদর্শনের সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, পাহিরা তার টহল গাড়ির ইমার্জেন্সি লাইট জ্বালিয়ে সড়কের ডান পাশে পার্ক করে একটি ট্রাক পরিদর্শন করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে ছুটে আসা অপর একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথম ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে মারাত্মক চেইন রিঅ্যাকশন সৃষ্টি হয় এবং কর্মকর্তা পাহিরা চাপা পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই উভয় ট্রাকের সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিকরা ধোঁয়া দেখে দ্রুত ছুটে এসে পাহিরাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘাতক ট্রাকটির ৩৩ বছর বয়সি চালক মাইকেল বন মূলত হাইতির নাগরিক। বাইডেন প্রশাসনের আমলে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের প্যারোলভুক্ত হিসেবে ফ্লোরিডা দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তার টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বা অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদার আবেদন বাতিল হয় এবং ২০২৫ সালের জুনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার প্যারোল বাতিল করে দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই আইনি নির্দেশ সম্পূর্ণ অমান্য করে তিনি ম্যাসাচুসেটসের ব্রকটনে বসবাস চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শুধু তাই নয়, সেখানে তিনি একটি 'নন-ডোমিসাইলড কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স (সিডিএল)' সংগ্রহ করে ভারী ট্রাক চালানো শুরু করেন। ম্যাসাচুসেটস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার ঠিক এক মাস আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার এই লাইসেন্সটি নবায়ন করা হয়েছিল। দুর্ঘটনায় আহত ঘাতক চালক বনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে ভেহিকুলার হোমিসাইড, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে অন্যের জীবন বিপন্ন করা এবং অনিচ্ছাকৃত হত্যার মতো গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৭ লাখ ডলারের জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীর মাধ্যমে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ২০০৭ সালে পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশে যোগ দেওয়া পাহিরাকে তার সহকর্মীরা একজন অত্যন্ত "ভালো মানুষ এবং ভালো পুলিশ" হিসেবে স্মরণ করছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করার জন্য তিনি সম্প্রতি মায়ের কাছেই ফিরে এসেছিলেন। পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পাহিরা তার মায়ের কেমোথেরাপির সময় নিজে হাতে মায়ের চুল কেটে দিয়েছিলেন। একজন দায়িত্বশীল সন্তান এবং নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ কর্মকর্তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাজ্য পুলিশ এবং স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় ১৪ মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে ডে-কেয়ারে নামিয়ে দিতে ভুলে সারাদিন গরম গাড়ির ভেতরে রেখে দেওয়ার ঘটনায় তার বাবাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি মারিজুয়ানার প্রভাবে ছিলেন। নর্থ্যাম্পটন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ড্যানিয়েল জেফরি মোইস্ট (৩৮)। তার বিরুদ্ধে থার্ড-ডিগ্রি মার্ডার, শিশুর জীবন বিপন্ন করা, বেপরোয়া আচরণ এবং মোটরযানে শিশুকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি স্টিফেন জি. বারাটা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে ড্যানিয়েল মোইস্ট মারিজুয়ানার প্রভাবে ছিলেন। সেই অবস্থায় তিনি নিজের দায়িত্বে মেয়েকে নিরাপদে ডে-কেয়ারে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করেননি। তদন্তে জানা যায়, গত ১১ জুন সকালে মোইস্ট তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি বড় সন্তানকে একটি সামার ক্যাম্পে নামিয়ে দিলেও ১৪ মাস বয়সী কন্যাশিশুটিকে ডে-কেয়ারে পৌঁছে দিতে ভুলে যান। ফলে শিশুটি পুরো কর্মদিবসজুড়ে গরম গাড়ির ভেতরেই আটকে ছিল। বিকেল প্রায় ৪টার দিকে শিশুটির মা ফোন করে জানান যে তাদের মেয়েকে ডে-কেয়ারে নেওয়া হয়নি। এরপর মোইস্ট গাড়িতে গিয়ে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ৯১১-এ ফোন করেন এবং শিশুটিকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তকারীরা বলছেন, গরমে দীর্ঘ সময় বন্ধ গাড়ির ভেতরে থাকায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও অন্যান্য বিষয় এখনও তদন্তাধীন। এ ঘটনায় স্থানীয় আদালতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় ১৩ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক সাহসিকতার ঘটনা সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে আবারও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সী টেমার বগসের বীরত্বপূর্ণ উদ্যোগে অপহৃত ৫ বছরের এক শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। পুরোনো এই ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসায় অনেকেই কিশোরটির সাহস ও মানবিকতার প্রশংসা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ার ল্যাঙ্কাস্টারে নিজের বাড়ির কাছাকাছি খেলছিল ৫ বছর বয়সী জসলিন রোজাস। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেন। এ সময় টেমার বগস এবং তার এক বন্ধু সাইকেল নিয়ে স্বেচ্ছায় অনুসন্ধানে অংশ নেন। একপর্যায়ে তারা একটি সন্দেহজনক গাড়ির ভেতরে জসলিনকে দেখতে পান। এরপর তারা নিজেদের সাইকেলেই প্রায় ১৫ মিনিট ধরে গাড়িটির পিছু নেন। দুই কিশোরের ধাওয়া এবং চারপাশের পরিস্থিতির চাপে অপহরণকারী শেষ পর্যন্ত গাড়ি থামিয়ে শিশুটিকে রাস্তার পাশে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। জসলিন নিরাপদে উদ্ধার হয় এবং পরে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঘটনার পর টেমার বগসের সাহসিকতা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রশংসিত হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাকে স্থানীয় নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করে। তবে টেমার সে সময় বলেছিলেন, তিনি শুধু একজন অসহায় শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি আবার ভাইরাল হওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই টেমার বগসের এই সাহসিকতার গল্প নতুন করে জানতে পারছেন। নাগরিক দায়িত্ববোধ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং মানবিক উদ্যোগের অনন্য উদাহরণ হিসেবে ঘটনাটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রে স্মরণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।