আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের বাড়ি কিনে বিপাকে পরিবার, বাড়িজুড়ে শত শত সাপের বাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৫:৯
যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের বাড়ি কিনে বিপাকে পরিবার, বাড়িজুড়ে শত শত সাপের বাস
যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের বাড়ি কিনে বিপাকে পরিবার, বাড়িজুড়ে শত শত সাপের বাস

বহু বছরের খোঁজাখুঁজির পর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি ঐতিহাসিক পাথরের বাড়ি কিনেছিলেন টাইলার ও লরেন বোল্ডিন দম্পতি। কিন্তু সেখানে বসবাস শুরু করার পর তারা আবিষ্কার করেন, বাড়িটির প্রকৃত বাসিন্দা যেন তারাই নন; বরং শত শত সাপ। এরপর থেকেই সাপের এই অস্বাভাবিক উপদ্রব মোকাবিলা করে বাড়িটিকে বাসযোগ্য রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

 

পেনসিলভানিয়ার মধ্যাঞ্চলের প্রায় দুই হাজার জনসংখ্যার ছোট শহর পাইন গ্রোভে অবস্থিত ১৮৩০-এর দশকে নির্মিত বাড়িটি ২০২০ সালে নিলামে ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারে কেনেন বোল্ডিন দম্পতি। প্রায় ৬ হাজার বর্গফুটের বাড়িটিতে রয়েছে ছয়টি শয়নকক্ষ ও পাঁচটি বাথরুম। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

 

পরিবার নিয়ে সেখানে ওঠার পর থেকেই বাড়ির চারপাশে নিয়মিত সাপ দেখা দিতে শুরু করে। কখনও পাথরের দেয়াল বেয়ে ওপরে উঠছে, কখনও সামনের সিঁড়ি পার হচ্ছে, আবার কখনও পুরো আঙিনাজুড়ে বিচরণ করছে সাপগুলো। দম্পতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এসব দৃশ্য শেয়ার করার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

 

অনেকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়া কিংবা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার মতো মন্তব্য করলেও টাইলার বোল্ডিন বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ বেছে নেন। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সমস্যার উৎস দূর করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

সে লক্ষ্যেই বাড়ির ভিত্তির বিভিন্ন ফাটল বন্ধ করা হয়েছে, উঠানের পুরোনো গাছের গুঁড়ি ও সাপের সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ ধরনের ‘স্নেক গ্র্যাবার’ ব্যবহার করে বাড়ির আশপাশে পাওয়া সাপগুলো ধরে কাছের বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

বোল্ডিন দম্পতির বাড়িতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অ-বিষধর ব্ল্যাক র‍্যাট স্নেক বা কালো ইঁদুরখেকো সাপ। যুক্তরাষ্ট্রে এ প্রজাতির সাপ মানুষের জন্য সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

টাইলার বোল্ডিন ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক টিকটক ভিডিওতে জানান, শুরু থেকেই তারা এসব অ-বিষধর সাপকে না মারার নীতি অনুসরণ করেছেন। কারণ এসব সাপ এলাকায় বিষধর কপারহেড ও টিম্বার র‍্যাটলস্নেকের মতো আরও বিপজ্জনক প্রজাতির বিস্তার কমাতে সহায়তা করে।

 

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদেরও মতে, অ-বিষধর সাপ পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাড়িতে সাপের উপস্থিতি দেখা দিলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হত্যা না করে নিরাপদ উপায়ে অপসারণ এবং তাদের প্রবেশের পথ বন্ধ করাই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।

 

বর্তমানে বোল্ডিন পরিবার ধাপে ধাপে সাপের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে এবং একটি ঐতিহাসিক বাড়ি কেনার স্বপ্ন কীভাবে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে, তার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর বাসিন্দা মিকি পোপাট ও ভিকি পোপাট
শখের বাগান থেকে কোটি টাকার ব্যবসা: যেভাবে সফল হলেন মার্কিন এই দম্পতি

সপ্তাহান্তের অবসর সময়ে বাড়ির পেছনের উঠোনে ফলের গাছ লাগানো ছিল তাদের শখ। সেই শখই একসময় রূপ নেয় সফল ব্যবসায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর বাসিন্দা মিকি পোপাট ও ভিকি পোপাট আজ একটি ব্যতিক্রমী ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।   মিকি পোপাট ফাইন্যান্স খাতে এবং তার স্ত্রী ভিকি পোপাট শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মিকি। নতুন দেশে এসে তিনি লক্ষ্য করেন, আম, পেয়ারা, লিচুসহ নানা ধরনের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলের সঙ্গে অনেক আমেরিকানই পরিচিত নন।   নিজেদের বাড়ির বাগানে একের পর এক ফলের গাছ লাগাতে লাগাতে একসময় সেখানে ৮০টিরও বেশি গাছের সমাহার তৈরি হয়। বাড়িতে আসা অতিথিরা এসব ফল খেয়ে মুগ্ধ হতেন। পরে অনেকেই নিজেদের বাড়িতেও একই ধরনের ফলের গাছ লাগানোর জন্য তাদের পরামর্শ ও সহায়তা চাইতে শুরু করেন।   সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন ব্যবসার ধারণা। উদ্যোক্তা পরিবারে বেড়ে ওঠা এই দম্পতি বুঝতে পারেন, ফলদ গাছকে উপহার হিসেবে দেওয়ার একটি আলাদা বাজার তৈরি করা সম্ভব।   ২০০৭ সালে তারা দুজনেই স্থায়ী চাকরি ছেড়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্ল্যান্টওগ্রাম’ (PlantOGram)। প্রতিষ্ঠানটির মূল ধারণা ছিল ফুলের তোড়ার পরিবর্তে জীবন্ত ফলের গাছ উপহার হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।   ব্যবসার শুরুতে তারা কোনো বাইরের বিনিয়োগ নেননি। নিজেদের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন এবং ব্যয় কমিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। সময়ের সঙ্গে তাদের উদ্যোগ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ফলদ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছ উপহার হিসেবে সরবরাহ করতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।   মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে একটি বিশেষায়িত বাজারকে লক্ষ্য করেই তারা ব্যবসাটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে বিভিন্ন উৎসব, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী ও নতুন বাড়িতে ওঠার মতো বিশেষ উপলক্ষে ফলের গাছ উপহার দেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় তাদের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হয়েছে।   মিকি ও ভিকি পোপাটের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দেয়, একটি সাধারণ শখও সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার মাধ্যমে সফল ব্যবসায় পরিণত হতে পারে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৬:১২
গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার

বাড়ির বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ঠেকাতে নতুন আইন, ১০০ বাড়ির বেশি কিনতে পারবে না কোম্পানিগুলো

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো

আদালতে হাসিমুখে মাদুরো, অভিযোগ অস্বীকার করে বললেন ‘আমি নির্দোষ’

যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের বাড়ি কিনে বিপাকে পরিবার, বাড়িজুড়ে শত শত সাপের বাস

যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের বাড়ি কিনে বিপাকে পরিবার, বাড়িজুড়ে শত শত সাপের বাস

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন পাসের পর বিক্রির তালিকায় ৯ হাজারের বেশি ভাড়াবাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন পাসের পর বিক্রির তালিকায় ৯ হাজারের বেশি ভাড়াবাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন পাসের পর শীর্ষ রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়াবাড়ি বিক্রির তালিকায় তুলেছেন। সিএনবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে প্রায় ৯,৪৪৭টি বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন, যা গত ১ ফেব্রুয়ারিতে ছিল মাত্র ৪,১৬৬টি। মূলত গত সপ্তাহে পাস হওয়া ‘২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’ নামের দ্বিদলীয় আইনের কারণেই বাজারে বিক্রয়যোগ্য বাড়ির এই হঠাৎ বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে।   নতুন এই আইন অনুযায়ী, যেসব বিনিয়োগকারীর ইতিমধ্যে অন্তত ৩৫০টি সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ি রয়েছে, তারা নতুন করে আর কোনো সম্পত্তি কিনতে পারবেন না। তবে বিল্ড-টু-রেন্ট, রেনোভেট-টু-রেন্ট প্রকল্প এবং ভাড়াটিয়াদের বাড়ির মালিকানার জন্য ক্রেডিট তৈরিতে সহায়তাকারী প্রোগ্রামগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে। যাদের ৩৫০টির বেশি বাড়ি রয়েছে, তাদের সেগুলো বিক্রি করতে বাধ্য করা না হলেও পোর্টফোলিও ৩৫০-এর নিচে না আসা পর্যন্ত তারা নতুন কোনো বাড়ি কিনতে পারবেন না।   পার্সেল ল্যাবস-এর সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে, ৩৫০টির বেশি বাড়ির মালিকানায় থাকা বড় বিনিয়োগকারীদের হাতে সম্মিলিতভাবে ৫ লাখ ৮৯ হাজার বাড়ি রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১ কোটি ৪০ লাখ সিঙ্গেল-ফ্যামিলি ভাড়াবাড়ির প্রায় ৩.৯ শতাংশ। চলতি বছরে নিট বিক্রির ৪০ শতাংশেরও বেশি এসেছে এসব বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে। তথ্য বলছে, প্রগ্রেস রেসিডেন্সিয়াল, ফার্স্টকি, ভাইনব্রুক, ইনভাইটেশন হোমস, আমহার্স্ট, ট্রাইকন এবং এএমএইচ-এর মতো দেশের শীর্ষ বিনিয়োগকারীরা এ বছর কেনার চেয়ে ৩,১৮০টি বাড়ি বেশি বিক্রি করেছে। যদিও তাদের কাছে এখনো ৪ লক্ষাধিক বাড়ি সংরক্ষিত রয়েছে।   সিএনবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রির দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভাইনব্রুক, যারা তাদের পোর্টফোলিওর প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ি বাজারে তুলেছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১,৯০০টি বাড়ি বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। পার্সেল ল্যাবস জানিয়েছে, বাজারে বেশি বাড়ি তোলার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা কিছুটা ছাড়েও এগুলো বিক্রি করছেন। জাতীয় পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ৩৮.৭ শতাংশ বাড়ির দাম কমানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০টির বেশি বাড়ির মালিকানা থাকা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে দাম কমানোর এই হার ৫৪ শতাংশ।   পার্সেল ল্যাবস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জেসন লিউরিস এক বিবৃতিতে বলেন, বিক্রির হারের এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাড়ির মূল্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, এই বিক্রির কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ। অর্থাৎ, অপেক্ষাকৃত কম লাভজনক সম্পদ বিক্রি করে সেই মূলধন বিল্ড-টু-রেন্টের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৫:১
কলেজছাত্র নোলান

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে মিলছে না উত্তর

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার দিকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল বেগে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বার্থা’

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার দিকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল বেগে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বার্থা’

খাদ্য সহায়তা তহবিল হারানোর ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ অঙ্গরাজ্য

খাদ্য সহায়তা তহবিল হারানোর ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ অঙ্গরাজ্য, বিপাকে লাখো মানুষ

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
৭৪ বছর পর আটলান্টিকের তলদেশে মিলল ৫২ জন প্রাণহানির সেই প্যান অ্যামের বিধ্বস্ত বিমান

দীর্ঘ ৭৪ বছর পর আটলান্টিক মহাসাগরের অতল গহ্বরে সন্ধান মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক বিমান সংস্থা প্যান অ্যামের একটি বিধ্বস্ত যাত্রীবাহী বিমানের। ১৯৫২ সালে পুয়ের্তো রিকোর উপকূলে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ৫২ জন যাত্রীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল এই বিমানটি। উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনার পরপরই বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রার আগে যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নির্দেশনা বা 'সেফটি ব্রিফিং' দেওয়ার নিয়মটি চালু হয়েছিল।   সম্প্রতি ডিসকভারি চ্যানেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, ডিপ সি ভিশন এবং তাদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘এক্সপেডিশন আননোন’–এর একটি যৌথ অভিযানে গত জুন মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ফুট নিচে এই ধ্বংসাবশেষটি আবিষ্কৃত হয়। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সোনার প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করে অনুসন্ধানকারীরা বিমানটিকে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে বিমানের ডানায় প্যান অ্যামের সুপরিচিত লোগো এবং ‘ক্লিপার এন্ডেভার’ নামটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা ধ্বংসাবশেষের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করে।   মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল। নিউইয়র্কের উদ্দেশে পুয়ের্তো রিকো থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ডগলাস ডিসি-৪ মডেলের ওই বিমানটির ডান দিকের দুটি ইঞ্জিন পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। উপায়ন্তর না দেখে পাইলট সমুদ্রে জরুরি অবতরণের চেষ্টা চালান। সে সময় বিমানটিতে ৬৪ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু ছিলেন। পানিতে আছড়ে পড়ার পর প্রাথমিক ধাক্কায় সবাই বেঁচে গেলেও মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই বিমানটি আটলান্টিকের বুকে তলিয়ে যায়। চরম সেই মুহূর্তে ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সলিল সমাধি ঘটে বাকি ৫২ জনের।   অনুসন্ধানকারী দলের প্রধান রাস ম্যাথিউস জানান, এত দীর্ঘ সময় পর বিমানটির সন্ধান পাওয়া তাদের জন্য একটি বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য হলেও, এটি মূলত সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণ করার এক আবেগঘন মুহূর্ত। গবেষকরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের তলদেশ থেকে ধ্বংসাবশেষটি উদ্ধার বা স্থানটিকে কোনোভাবে ব্যাহত করার পরিকল্পনা তাদের নেই। এটিকে নিহতদের একটি পবিত্র স্মৃতিবাহী স্থান হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। বরং স্থানটির যথাযথ সংরক্ষণের জন্য পুয়ের্তো রিকো সরকারের সঙ্গে কাজ করছে এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। সেই সঙ্গে নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   আশার কথা হলো, এই দুর্ঘটনার জীবিত দুই প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গেও যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের একজন বর্তমানে ১০২ বছর বয়সী এক সাবেক নার্স, যিনি সেদিন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিমানের দরজা খুলে যাত্রীদের বের হতে সহায়তা করেছিলেন। অপরজন সেই সময়কার এক শিশু, যাকে ভাসমান অবস্থায় সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। মূলত এই দুর্ঘটনার তদন্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সুপারিশেই উড্ডয়নের আগে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ র‍্যাফট ও জরুরি নির্গমনপথ ব্যবহারের নির্দেশনার নিয়মটি বাধ্যতামূলক করা হয়, যা আজ বিশ্বের প্রতিটি বিমান সংস্থায় প্রচলিত।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৩:২০
ডোভার বিমানঘাঁটিতে নিহত চার মার্কিন সেনার মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নিহত চার মার্কিন সেনার মরদেহ দেশে, ডেলাওয়্যারে শ্রদ্ধা জানালেন ট্রাম্প

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল প্রতিরোধ ও ক্ষতিকর আগাছা দমনে নামানো হয়েছে ৪০০ ছাগল ও ভেড়ার পাল। ছবি: সংগৃহীত

দাবানলের ভয়াবহ আগুন ঠেকাতে ৪০০ ছাগল ও ভেড়া নামাল ক্যালিফোর্নিয়া

৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের টাংস্টেন অক্সাইড পাউডার চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী দীপক কুমার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ মিলিয়ন ডলারের রাসায়নিক চুরির অভিযোগে ভারতীয় ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

0 Comments