সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বরখাস্ত

ফ্লোরিডায় স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ
ফ্লোরিডায় স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি হাইস্কুলে স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রেমন্ড কার্নারকে একাধিক নারীর করা অনৈতিক ও যৌন আচরণের অভিযোগের পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোরাল স্প্রিংস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।     কার্নার কোরাল স্প্রিংসের জে.পি. তারাভেলা হাইস্কুলে ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে কাজ করেন। ২০২২ সালে তিনি পুলিশ বিভাগ থেকে অবসর নেন। পরে একই বছর পার্টটাইম মৌসুমি স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে আবার কাজে ফেরেন এবং ঈগল রিজ এলিমেন্টারি স্কুলেও দায়িত্ব পালন করেন।    পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন নারী তার বিরুদ্ধে যৌন প্রকৃতির অনুপযুক্ত আচরণ ও কথাবার্তার অভিযোগ করার পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ওঠার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তদন্ত শেষে তাকে আর পুলিশ বিভাগে রাখা হয়নি।    তদন্তে যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর পর্যালোচনা করা পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।   এক সাবেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ২১ বছর বয়সে কার্নার তার পোশাকের ভেতর হাত দিয়ে টাকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন। আরেক সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তিনি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কার্নার ফেসটাইমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্নোগ্রাফি দেখান এবং অশালীন আচরণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি যৌন আচরণ ও অনুপযুক্ত মন্তব্যের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    লোকাল ১০-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে কার্নারের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, অশ্লীল প্রদর্শন, অপ্রাপ্তবয়স্ককে অশ্লীল উপকরণ দেখানো এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগসহ কয়েকটি নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয় বহাল রাখা হয়। তবে এগুলো অভ্যন্তরীণ তদন্তের অভিযোগ ও প্রশাসনিক findings, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়।    কেন ফৌজদারি মামলা হচ্ছে না?   ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কার্নারের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ আনা হচ্ছে না।   পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর কিছু ঘটনা আইনে নির্ধারিত স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশনের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় সেগুলোতে ফৌজদারি মামলা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।    অর্থাৎ, পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্তে গুরুতর অভিযোগ বহাল থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে কার্নার কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   আরও ভুক্তভোগী আছেন কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ   কোরাল স্প্রিংস পুলিশ প্রধান ব্র্যাড মক ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, স্কুলে দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে শিক্ষার্থী ও পরিবারের আস্থা রক্ষা এবং পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখার দায়িত্ব আরও বেশি।   পুলিশ প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন আরও কেউ থাকতে পারেন যারা একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েও বিষয়টি কখনো জানাননি। তাদের সামনে এসে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।    কার্নার-সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে কোরাল স্প্রিংস পুলিশ বিভাগের সার্জেন্ট আর্নেস্তো ব্রুনার সঙ্গে ৯৫৪-৩৪৬-১২৩৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।    সূত্র: WSVN 7News, CBS News Miami

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন করল ওয়েলস
মিথ্যা বললে নেতাদের বরখাস্তের নিয়ম, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন করল ওয়েলস

ওয়েলসের পার্লামেন্ট সেনেড নির্বাচনে প্রার্থীদের মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে। ১৭ মার্চ ২০২৬ ভোটের মাধ্যমে পাস হওয়া এই আইনে নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন বিধান তৈরির বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।   ‘সেনেড সাইমরু (মেম্বার অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড ইলেকশনস) বিল’ নামে পরিচিত এই আইনটির মূল লক্ষ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি বাড়ানো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার প্রবণতা মোকাবিলা করা। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আইনের মাধ্যমে ওয়েলশ মন্ত্রীরা সেনেড নির্বাচনের নিয়মে মিথ্যা তথ্য নিষিদ্ধ করার বিধান আনতে বাধ্য থাকবেন।   তবে নতুন বিধানটি ২০২৬ সালের মে মাসের সেনেড নির্বাচনে কার্যকর হয়নি। আইনটি পাস হওয়ার সময়ই জানানো হয়েছিল, প্রয়োজনীয় বিধি তৈরি ও পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে এই ব্যবস্থা ২০৩০ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ওয়েলশ সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিষয়টি বাস্তবায়নে বিস্তারিত কাজ ও পরামর্শ প্রয়োজন।   বর্তমানে ওয়েলসে নির্বাচনী আইনে কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র বা আচরণ সম্পর্কে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে এই কাঠামো আরও বিস্তৃত করার পথ তৈরি হয়েছে।   তবে বিষয়টি নিয়ে মতভেদও রয়েছে। সেনেডের বিভিন্ন কমিটি সতর্ক করেছে, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলে নতুন বিধান স্বাধীন মতপ্রকাশ ও নির্বাচনী বিতর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোন বক্তব্যকে মতামত এবং কোনটিকে মিথ্যা তথ্য হিসেবে গণ্য করা হবে, সেটি নির্ধারণে সতর্কতা প্রয়োজন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।   নতুন আইনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে ইচ্ছাকৃত প্রতারণা মোকাবিলায় ওয়েলস একটি নতুন কাঠামো তৈরি করছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ, অপরাধের সংজ্ঞা ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়গুলো পরবর্তী বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ৬ বছর বয়সী একটি অটিস্টিক শিশু জন মেদিনা এবং তার পরিবার। ছবি:সংগৃহীত
স্যান্ডউইচে বন্দুকের আকৃতি বানিয়ে সহপাঠীকে তাক করায় ৬ বছরের অটিজম শিশু বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে স্যান্ডউইচ কামড়ে বন্দুকের আকৃতি তৈরি করে সহপাঠীর দিকে সেটি তাক করার অভিযোগে ৬ বছরের এক অটিজম আক্রান্ত শিশুকে স্কুল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে শিশুটির বাবা-মা এখন স্কুলের শাস্তিমূলক নীতি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রতি এর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   শিশুটির নাম জন মেদিনা। গত মার্চে ফায়েট কাউন্টির সারাহ হার্প এলিমেন্টারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাকে সাময়িকভাবে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়।   জনের বাবা-মা ক্রিস্টিন ও হুয়ান ‘রিকি’ মেদিনা জানিয়েছেন, তাদের ছেলে চার বছর বয়সে অটিজমে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়। পরে তার এডিএইচডিও শনাক্ত করা হয়। এসব বিকাশগত অবস্থার কারণে সামাজিক আচরণ ও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া বোঝা তার জন্য কখনো কখনো কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান তারা।   তাদের দাবি, জন পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী হলেও স্কুলে তার আচরণকে ঘিরে ২০২৩ সাল থেকে প্রায় ১৫ বার সাময়িক বরখাস্ত এবং দুই ডজনের বেশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   বাবা-মায়ের ভাষ্য, এর মধ্যে কিছু ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ থাকলেও বেশ কয়েকটি ঘটনা ছিল তুলনামূলকভাবে নিরীহ। যেমন হাত দিয়ে বন্দুকের ভঙ্গি করা, ‘বন্দুক’ শব্দটি বলা কিংবা খেলাচ্ছলে অস্ত্রের ছবি আঁকার মতো আচরণও স্কুলের নজরে এসেছে।   স্যান্ডউইচের ঘটনাটি তাদের কাছে বিশেষভাবে হতাশাজনক হয়ে ওঠে। দুপুরের খাবারের সময় জন স্যান্ডউইচ কামড়ে বন্দুকের মতো আকৃতি তৈরি করে এবং সেটি সহপাঠীর দিকে তাক করে। স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এর পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।   জনের মা ক্রিস্টিন বলেন, সন্তানকে শাস্তি দেওয়ার বদলে ঘটনাটিকে শেখানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত ছিল। তার মতে, শিশুটিকে বোঝানো দরকার ছিল স্কুলে এ ধরনের আচরণ কেন উপযুক্ত নয় এবং কীভাবে সে পরিস্থিতিতে অন্যভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।   পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে ছোটখাটো আচরণও কখনো কখনো শাস্তির পর্যায়ে চলে যায়। তাদের দাবি, হাত দিয়ে বন্দুকের ইঙ্গিত করা বা ‘বন্দুক’ শব্দটি বলার মতো ঘটনাও স্কুলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় জমা হতে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে তা সাময়িক বরখাস্তের কারণ হয়ে ওঠে।   তবে জনের বাবা-মা স্বীকার করেছেন, তাদের ছেলে কয়েকটি গুরুতর আচরণেও জড়িয়েছে। এর মধ্যে শরীরচর্চার ক্লাসে এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেওয়া এবং একটি ডাল দিয়ে সহপাঠীকে আঘাত করার ঘটনাও রয়েছে।   তবে তাদের মতে, এসব ঘটনার পাশাপাশি যেসব আচরণ তুলনামূলকভাবে নিরীহ, সেগুলোকেও একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা জনের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   বাবা-মায়ের দাবি, জন এখন নিজেকে কখনো কখনো ‘খারাপ ছেলে’ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। স্কুলে বন্ধু তৈরি করতে তার সমস্যা হয় এবং বারবার শাস্তির কারণে সে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে করছে।   পরিবারটির আরও অভিযোগ, জনের বিকাশগত সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সহায়তা পেতেও শুরুতে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ক্রিস্টিনের দাবি, প্রথম দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা পরিকল্পনা বা আইইপি দিতে রাজি হয়নি। কারণ হিসেবে তার একাডেমিক দক্ষতা এবং স্কুলে অটিজমের প্রভাব স্পষ্টভাবে না দেখার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল বলে জানান তিনি।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর, ১০ থেকে ১২টি সাময়িক বরখাস্ত এবং দ্বিতীয়বার মূল্যায়নের পর যেখানে এডিএইচডি শনাক্ত হয় জনের জন্য আইইপি অনুমোদন করা হয়।   বর্তমানে জনের জন্য একটি আচরণগত পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলের তুলনামূলক অনিয়ন্ত্রিত সময় যেমন দুপুরের খাবার, বিরতি ও শরীরচর্চার সময় তার সঙ্গে একজন সহকারী থাকেন। পাশাপাশি শান্ত পরিবেশের ছোট একটি শ্রেণিকক্ষেও সে সময় কাটায়। সেখানে তার পারফরম্যান্স ভালো বলে জানিয়েছেন তার বাবা-মা।   বিশেষ শিক্ষা বিষয়ে একজন পরামর্শককে পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়ার পর স্কুলে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাও কমেছে বলে দাবি করেছেন তারা।   অন্যদিকে, জনের বাবা-মা জানিয়েছেন, কঠোর শাস্তির বদলে আচরণগত সমস্যাগুলো নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা এবং পরিস্থিতি থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করাই বেশি কার্যকর হতে পারে।   তাদের মতে, জনের একাডেমিক সক্ষমতাও তার সম্ভাবনার দিকটি স্পষ্ট করে। আগের শিক্ষাবর্ষের শেষে সে তৃতীয় শ্রেণির সমপর্যায়ের পড়ার দক্ষতা অর্জন করেছিল এবং মেধাবৃত্তিক বা প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল থেকে মাত্র চার পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল।   ফায়েট কাউন্টি পাবলিক স্কুলস জনের নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে স্কুল জেলা জানিয়েছে, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ শাস্তিমূলক ইতিহাস এবং ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা উচিত।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যা মোকাবিলায় শাস্তি বনাম সহায়ক শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে চলমান বিতর্ককেও সামনে এনেছে। জনের পরিবারের মূল দাবি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেও তার অটিজম ও বিকাশগত প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে শাস্তির বদলে শেখানো ও সহায়তার সুযোগ বাড়ানো।

Unknown আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ছবি সংগৃহীত
এক ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা বরখাস্ত

গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নানা অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অফিসটির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।   জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকালে পূর্বঘোষণা ছাড়াই কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক। সেখানে তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন।   পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল, সফিকুল ইসলাম খান এবং আব্দুল হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর ফলে ওই ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই একযোগে সাময়িক বরখাস্তের আওতায় আনা হয়েছে।   জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও তদন্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।   এদিকে কাশিমপুর ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া সফিপুর এলাকার আরেকটি ভূমি অফিসও পরিদর্শন করেন।   গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Unknown আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
করিম খান। ছবি:সংগৃহীত
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে পদ থেকে বরখাস্ত করেছে আদালতের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। এটি আইসিসির ইতিহাসে প্রথমবার, যখন দায়িত্বে থাকা কোনো প্রধান প্রসিকিউটরকে আনুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে অপসারণ করা হলো।   কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশনে আইসিসির ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৮২টি দেশ করিম খানকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেয়। ১৩টি দেশ এর বিরোধিতা করে এবং কয়েকটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।   করিম খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একজন নারী সহকর্মীকে যৌনভাবে নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। তদন্ত শেষে আইসিসির তদারকি কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণ ও দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়। তবে করিম খান শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে নেওয়া প্রক্রিয়া ন্যায্য ছিল না। তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।   ২০২১ সালে প্রধান প্রসিকিউটরের দায়িত্ব নেওয়া করিম খান ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং গাজা যুদ্ধের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হন। তার অপসারণ হলেও এসব তদন্ত ও জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে আইসিসি। আইসিসি এখন নতুন প্রধান প্রসিকিউটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে।    এই ঘটনা আদালটির জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

Unknown জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদং।
চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বরখাস্ত

চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদংকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে দেশটির সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত আলজাজিরা এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।   চীনের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সংস্থা স্টেট কাউন্সিলের এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে অপসারণের কারণ বা নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সান ওয়েইদংয়ের সর্বশেষ প্রকাশ্য কার্যক্রম ছিল ১৩ মার্চ। ওই দিন তিনি চীনে নিযুক্ত ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেন।   এর আগে ১১ মার্চ তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত খলিল হাশমির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।   একই ঘোষণায় জাতীয় রেল প্রশাসনের উপ-পরিচালক আন লুশেংকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০