বিজেপি

ছবি: সংগৃহীত
ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু উত্তোলন ও পরিবহন ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তে নেমেছে পুলিশ।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং, যিনি লাল্লা সিং নামেও পরিচিত। এছাড়া বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিং নামের আরও দুজন নিহত হয়েছেন।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে বালু মহাল পরিচালনা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন ভারত সিং। তবে তার পরিবারের অভিযোগ, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং তাকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।   তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত সিং ও তার সহযোগীরা একটি ফরচুনার গাড়িতে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের গাড়ির সামনে ও পেছনে একাধিক ট্রাক দাঁড় করিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে গাড়িটিতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।   আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গাড়ির ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন মায়াঙ্ক সিং নামের আরও একজন। তাকে বিলাসপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী এবং মন্নু ত্রিপাঠী। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। মামলায় হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় থানায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, কোরিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। নিহত ভারত সিংয়ের পরিবারের হাতে ওই এলাকার বালু মহালের ইজারা ছিল। অন্যদিকে স্থানীয় আরেক বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও প্রভাব বিস্তারসংক্রান্ত বিরোধ তৈরি হয়।   সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বালু পরিবহন, খনি ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে তা আধিপত্য বিস্তার ও সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।   ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। কোরিয়া জেলার স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে বলেন, জেলার ইতিহাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। ছত্তিশগড়ের সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরোও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেছেন, ঘটনার বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।   পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটির পেছনে প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।   ছত্তিশগড়ের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রাকৃতিক সম্পদ ও খনি ব্যবসা ঘিরে বিরোধ অনেক সময় কতটা সহিংস রূপ নিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ | ছবি: সংগৃহীত
‘নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে যান’, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফর এবং কলকাতার রেড রোডে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চরম বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন রাজ্যটির শীর্ষ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রেড রোডে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে চলে যান।" তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গসহ পুরো ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।   আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার মূল অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কলকাতার রেড রোডের এই বিশেষ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। যোগ দিবসের এই বৃহৎ প্রস্তুতি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে রেড রোড টানা সাত দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। গত রবিবার রাত ১০টা থেকে আগামী ২১ জুন (রবিবার) পর্যন্ত এই রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল স্থগিত থাকবে এবং ইতিমধ্যে সেখানে মঞ্চ তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।   সপ্তাহজুড়ে এই ভিভিআইপি কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জবাব দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসলে সব রাস্তাই বন্ধ থাকে, তিনি যেখানেই যাবেন সেখানেই বন্ধ হবে। যেখানে যান চলাচল তুলনামূলক কম (রেড রোড), সেখানেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অন্য কোনো রাস্তায় করলে আরও বেশি সমস্যা হতো।   তবে মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ঈদের নামাজের জন্য রেড রোড ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আসে। বিষয়টি উঠতেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত উগ্র মনোভাব ব্যক্ত করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "ওনারা কোন হরি-দাস-পাল যে তাদের জন্য রাস্তা আটকাতে হবে? প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়—এটা ঠিকই আছে। প্রধানমন্ত্রী বছরে একবারই আসছেন।"   বিজেপির এই প্রবীণ নেতা আরও যোগ করে বলেন, "১০৭ বছর ধরে তো (নামাজ) চলেছে, এখন একবার বন্ধ করে দেওয়াতে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? যান বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যান, সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না। এখানে এসব আর চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে। এগুলো বন্ধ করার জন্যই লোকে সরকার পাল্টেছে। আর এগুলো বন্ধ হবেই।" পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পর এই ধরনের ধর্মীয় আচার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়ে তার দেওয়া এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
নির্বাচনী ফলাফলের পর সমর্থকদের অভিনন্দন বার্তা গ্রহণ করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে ‘পদ্ম’ ফুটেছে, জনশক্তির জয়: মোদি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৪ মে) প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতায় বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।   বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি জনগণের শক্তির জয় এবং সুশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।” তিনি রাজ্যের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।   মোদি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ বিজেপিকে যে জনদেশ দিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের দল কাজ করবে। এমন একটি সরকার গঠন করা হবে, যা সমাজের সব স্তরের মানুষের উন্নয়ন, সুযোগ এবং আত্মমর্যাদা নিশ্চিত করবে।” নির্বাচনের সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-কে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে দলটি।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ফলাফল উপলক্ষে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিজয় উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ শুরু, অস্তিত্ব বনাম আধিপত্যের লড়াইয়ে মুখোমুখি তৃণমূল ও বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে আজ এক মহাসন্ধিক্ষণ। শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ভোটযুদ্ধ। এবারের নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যেমন এটি 'অস্তিত্ব রক্ষার' লড়াই, তেমনই বিরোধী দল বিজেপির জন্য এটি রাজ্যপাট 'দখলের' চূড়ান্ত পরীক্ষা। তৃণমূলের লক্ষ্য চতুর্থ জয় : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের নির্বাচনে ২১৫টি আসনে জিতে বিপুল জনমত নিয়ে তারা প্রত্যাবর্তন করেছিল। ২০২৬-এ এসে ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য টানা চতুর্থবারের মতো নবান্ন দখল করা এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা। বিজেপির মরণপণ লড়াই : অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এবার ক্ষমতা হস্তান্তরে মরিয়া। গত বিধানসভা নির্বাচনে তারা ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। যদিও পরবর্তীতে উপনির্বাচন ও দলবদলের কারণে সেই সংখ্যা ৭৫-এ নেমে আসে। এবার গেরুয়া শিবির সেই ক্ষতি পুষিয়ে রাজদণ্ড নিজেদের হাতে নিতে সবটুকু শক্তি নিয়োগ করেছে। অস্তিত্ব সংকটে বাম-কংগ্রেস : বিগত নির্বাচনে বিধানসভায় খাতা খুলতে ব্যর্থ হওয়া বাম দল এবং কংগ্রেসের জন্য এবারের লড়াই মূলত শূন্যস্থান পূরণের। বিধানসভায় নিজেদের প্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। দলবদলের রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ মেরুকরণের মাঝে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার দিকে পাল্লা ভারি করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে শেষ হাসি কে হাসছেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি পদ্ম শিবির।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
‘কেন বিপ্লবী সরকার গঠন করলেন না?’ সংসদে বিরোধী দলকে আন্দালিব পার্থের প্রশ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারের রূপরেখা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।   বিপ্লবী সরকার না করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে পার্থ প্রশ্ন করেন, “৫ আগস্টের পর আপনারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবর্তে কেন বিপ্লবী সরকার গঠন করলেন না? যদি নতুন করে সংবিধানই বানাতে হতো, তবে কেন পুরোনো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থাকলেন? এখন পুরোনো সংবিধানে থেকে আপনারা খোদ সংবিধানটাকেই বাতিল করতে চাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনি ভিত্তি নিয়ে।   জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্ক জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে পার্থ বলেন, “আপনারা যদি শেষ ৬ বলে ১২ রান করে ম্যাচ জেতান, তবে মনে রাখবেন এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। অথচ এখন আপনারা জুলাইয়ের পুরো কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করছেন। এমন কোনো দাবি করবেন না যাতে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ট্রেজারি বেঞ্চে বসা প্রায় সবাই জুলাই যোদ্ধা ছিলেন এবং জেল খেটেছেন।   গণভোটের কারিগরি ত্রুটি গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই সংসদ সদস্য বলেন, “গণভোটে আপনারা চারটি বিষয় যুক্ত করেছেন। কিন্তু কোনো ভোটার যদি তিনটি বিষয়ে একমত হয়ে একটিতে দ্বিমত পোষণ করেন, তবে তিনি কী করবেন? আপনারা তো ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করছেন। সনদের বাকি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কেন গণভোটে আনা হলো না?”   সংবিধান ও জুলাই স্পিরিট বক্তব্যের শেষে ব্যারিস্টার পার্থ জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানের প্রতি যেমন আমাদের শ্রদ্ধা থাকতে হবে, তেমনি জুলাইয়ের মূল স্পিরিট বা চেতনাকেও সমুন্নত রাখতে হবে। জুলাই সনদ নিয়ে তাঁর কোনো বিরোধ নেই জানিয়ে তিনি মূলত পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার। ফাইল ছবি
মন্ত্রিত্বের বিনিময়ে ‘শারীরিক সম্পর্ক’? মোদির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সুব্রহ্মণ্যম স্বামী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী অভিযোগ করেছেন যে, একাধিক নারী সংসদ সদস্যকে বিশেষ অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে মন্ত্রীপদ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে আন্তর্জাতিক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব জেফ্রি এপস্টেইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ভারতে এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।   স্বামীর এই বিস্ফোরক দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন এক সময় মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট কিছু এমপিকে কিসের ভিত্তিতে মন্ত্রী করা হয়েছে তা হিন্দুত্ববাদী মহলের অনেকেরই জানা। কিশওয়ার এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, হরদীপ সিং পুরী এবং স্মৃতি ইরানির নাম উল্লেখ করে তাদের মন্ত্রী হওয়ার পেছনে ‘বিশেষ পরিষেবার’ ইঙ্গিতপূর্ণ দাবি করেন।   মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার এক সময় মোদিকে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করলেও, তার এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্বামী বা কিশওয়ার—কেউই এখন পর্যন্ত তাদের এই গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) বা শাসকদল বিজেপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0