- প্রচ্ছদ
- Topic
ব্যারন ট্রাম্প
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হত্যার হুমকিসংবলিত একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ব্যারনের চলাফেরা ও তিনি যেসব স্থানে যান, সেসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কারের দাবি করা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস। ভিডিওটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির চ্যানেল থ্রিতে প্রচার করা হয়। এতে ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে?’ ধরনের বার্তা দেখানো হয়। ভিডিওতে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারসহ ব্যারনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থান এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে যেসব নিরাপত্তা ও নজরদারির দাবি করা হয়েছে, সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত ওই ভিডিও নিয়ে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং জানান, সংস্থাটি ভিডিওটির বিষয়ে অবগত এবং সুরক্ষাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তদন্ত করে। তবে অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে ব্যারনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে না। ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর তার ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেই বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রীয়পন্থী বিভিন্ন মাধ্যমে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়েও হুমকিমূলক প্রচার দেখা গেছে। জুলাইয়ে তেহরানে প্রকাশিত একটি বিলবোর্ডে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল এবং ‘রক্তের বদলে রক্ত’ ধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় খামেনেই পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি। পরবর্তী সময়ে তার কফিন খামেনেইর শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। মোজতবা খামেনেই বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের কথা বলে আসছেন। তবে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে প্রচারিত ভিডিওটি সরাসরি মোজতবা খামেনেইয়ের নির্দেশে তৈরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই ভিডিওটির সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার দাবি নিশ্চিতভাবে করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফার্স্ট সন’ ব্যারন ট্রাম্প (২০) বর্তমানে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এক নিভৃতচারী জীবনযাপন করছেন। বাবা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ধারাবাহিক হত্যাচেষ্টা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির কারণেই তিনি নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে সরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের মতে, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পাঠ চুকিয়ে ব্যারন তার গ্রীষ্মকালীন ছুটির বেশিরভাগ সময় মা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সাথে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে কাটাচ্ছেন। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত অন্তত তিনবার হত্যাচেষ্টার হাত থেকে বেঁচে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আমেরিকার শত্রুদের নজর থেকে রক্ষা পাননি তার ছোট ছেলে ব্যারনও। সম্প্রতি ইরানের কট্টরপন্থিরা "ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা যায়" শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার মাথার দাম ১০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি ফার্স্ট লেডিও তাদের নিশানায় রয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী ও ব্যারনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিও ব্যারনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই ঘটনার পর ব্যারন তার বাবাকে বলেছিলেন, “বাইরে গেলে এমনই পরিণতি বরণ করতে হয়।” এই ধারাবাহিক হুমকির কারণে ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে ফার্স্ট লেডির কার্যালয়। জানা গেছে, ২০২২ সালের মার্চে ব্যারনের বয়স ১৬ পূর্ণ হলে তার সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও মেলানিয়ার বিশেষ অনুরোধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছিলেন। মা মেলানিয়া ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ব্যারন প্রকৃতিগতভাবেই লাজুক এবং জনসম্মুখে আসতে পছন্দ করেন না। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, ক্রমাগত নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকাটা তাকে বাস্তব জীবনের বিপদ সম্পর্কে আরও বেশি সজাগ করে তুলেছে। এটি কোনো মানসিক ট্রমা বা বৈকল্য নয় বরং নিজেকে নিরাপদ রাখার একটি স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া। ট্রাম্প পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ ভাইবোনেরা যেখানে জনসম্মুখে বেশ সক্রিয়, সেখানে ব্যারন একেবারেই ব্যতিক্রম। মার-এ-লাগো, ট্রাম্প টাওয়ার বা হোয়াইট হাউসে তার নিজস্ব পরিসর রয়েছে, যেখানে তিনি বরাবরই নিজেকে আড়াল করে রাখেন। পড়াশোনা শেষে রাজনীতি নয়, বরং ব্যবসাতেই থিতু হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে ব্যারনের। এরই মধ্যে বন্ধুদের সাথে একটি ভেষজ এনার্জি ড্রিংক ব্যবসা শুরু করেছেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করেছেন, তবে সবকিছুই করছেন নেপথ্যে থেকে। সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বুলেটপ্রুফ কাঁচের আড়াল থেকে বাবা-মায়ের সাথে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগ করতে দেখা গিয়েছিল ফুটবলপ্রেমী এই তরুণকে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে?’ শিরোনামের ওই ভিডিওতে তাকে নজরদারির দাবি করা হয় এবং তার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে নানা তথ্য দেখানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং সুরক্ষার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি তদন্ত করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ৩-এ প্রচারিত ভিডিওটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ব্যারনের বিশ্ববিদ্যালয়, নিরাপত্তার গাড়ি এবং সিক্রেট সার্ভিসের অবস্থান সম্পর্কে দাবি তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে তার চলাফেরা ‘সম্পূর্ণভাবে নজরদারিতে’ থাকার কথাও বলা হয়েছে। ভিডিওতে ব্যারনকে লক্ষ্য করে ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের দাবি করা হয়েছে বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এই অর্থের ঘোষণা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভিডিওতে ব্যারনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও নিরাপত্তা এড়িয়ে তার কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে আরও কিছু দাবি করা হলেও এসব তথ্যের সত্যতাও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং জানিয়েছেন, সংস্থাটি ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং সুরক্ষার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তদন্ত করে। তবে অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে ব্যারনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে এটি প্রথম এমন হুমকি নয়। এর আগে জুলাইয়ে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গণমাধ্যমে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একই ধরনের হুমকিমূলক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতেও মেলানিয়ার চলাফেরা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয় এবং শেষদিকে ব্যারনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। সিক্রেট সার্ভিস তখনও বিষয়টি তদন্তের কথা জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে এমন প্রচার নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে ইরান থেকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করেও হুমকির অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরান থেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হওয়ার পর সিক্রেট সার্ভিসকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে নতুন ভিডিওটির সব দাবি বাস্তব বা কার্যকর হামলার পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিডিওটির কিছু তথ্যকে অতিরঞ্জিত বা যাচাইহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রচারিত দাবির সঙ্গে বাস্তব নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা এক করে দেখার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্প মাত্র ২০ বছর বয়সেই প্রায় ১৫ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে তার এই আনুমানিক সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হয়, যা ট্রাম্প পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সম্পদের চেয়েও বেশি। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৩০ কোটি ডলার। অন্যদিকে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আনুমানিক সম্পদ প্রায় ২ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ব্যারনের সম্পদের পরিমাণ, প্রায় ১৫ কোটি ডলার, তার মায়ের আনুমানিক সম্পদের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অল্প বয়সেই ব্যারন ট্রাম্প ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। রিয়েল এস্টেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং পানীয় খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লোরিডা ও ডেলাওয়্যারে দাখিল করা ব্যবসায়িক নিবন্ধন নথি অনুযায়ী, 'সোল্লোস' (Sollos) নামের একটি পানীয় কোম্পানির পাঁচজন অংশীদারের একজন ব্যারন ট্রাম্প। তবে তার সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে ধরা হচ্ছে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল'। ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার দুই বড় ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যুক্ত হন ব্যারন। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল অর্থনীতিতে ডলারভিত্তিক স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনের সহজলভ্যতা এবং বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক সেবাকে (ডিফাই) সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল ট্রাম্প পরিবারের মোট সম্পদে ১৫০ কোটিরও বেশি ডলার যোগ করেছে। এর মধ্যে ব্যারনের অংশ প্রায় ১০ শতাংশ, যার মূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো সম্পদ, বিশেষ করে $WLFI টোকেন এবং মার্কিন ডলারের সঙ্গে সংযুক্ত স্থিতিশীল মুদ্রা USD1-এ বিনিয়োগ থেকেও ব্যারনের সম্পদ বেড়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্যারন ট্রাম্প ও তার কয়েকজন ব্যবসায়িক সহযোগী ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে 'ট্রাম্প, ফুলচার অ্যান্ড রক্সবার্গ ক্যাপিটাল ইনকরপোরেটেড' নামে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ব্যারনের ব্যবসায়িক সহযোগী ক্যামেরন রক্সবার্গ পরে নিউজউইককে জানান, নির্বাচনের সময় অপ্রয়োজনীয় গণমাধ্যমের মনোযোগ এড়াতেই কোম্পানিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল ইউটাহ, অ্যারিজোনা ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যে বিলাসবহুল আবাসন ও গলফ কোর্সভিত্তিক প্রকল্পে কাজ করার। তবে পরে ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রক্সবার্গ জানান, প্রতিষ্ঠানটি আর পুনরায় চালু করা হবে না। বর্তমানে ব্যারন ট্রাম্প নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসে পড়াশোনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে যুক্ত থেকে ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসায়িক পরিচয়ও গড়ে তুলছেন। তবে ফোর্বস উল্লেখ করেছে, ব্যারনের অন্যান্য সম্পদ, সম্ভাব্য উত্তরাধিকার বা অন্য উৎস থেকে আয়ের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।