বিশ্ব অর্থনীতি

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ৩ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

ইরান–সংঘাতের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির মতে, চলমান এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’র মুখে ফেলেছে—যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সংকট, খাদ্য সংকট এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকট বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিনের উন্নয়নমূলক অগ্রগতিকে উল্টে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব হবে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী।   সংস্থাটির প্রশাসক এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, এ ধরনের সংঘাত উন্নয়নকে বহু বছর পেছনে ঠেলে দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমনকি যদি এখনই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়, তবুও এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজে পড়ে গেছে এবং এর প্রভাব দীর্ঘদিন স্থায়ী হবে।   তেহরানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জ্বালানি সংকট শুধু বিদ্যুৎ বা পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সার উৎপাদন, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। কৃষি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সারের ঘাটতি ও উচ্চমূল্যের কারণে আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নতুন করে খাদ্য সংকট ডেকে আনতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অনেক দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে। ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু যুদ্ধবিরতি এই সংকট সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়; দারিদ্র্য মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় গত এক দশকে অতি দারিদ্র্য হ্রাসে যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা, লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

ইরানের বন্দরগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতেই লেনদেনে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।   একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান–সংকট শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। সংঘাতের প্রভাবে তা বিভিন্ন সময়ে ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়।   তবে পাকিস্তানে সম্ভাব্য সমঝোতা বৈঠকের খবরের পর গত শুক্রবার জুন মাসের সরবরাহের জন্য তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছিল। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার আবারও অস্থিরতার দিকে ফিরে গেছে।   এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, যুদ্ধবিরতির আগের উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় বাজার ফিরে এসেছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান–সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে।   এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হতে পারে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুদ্ধবিরতির কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।   ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। একই সঙ্গে ইরান–সংকটকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। এদিকে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপের মধ্যে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব–পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গাণিতিক ফর্মুলায় মার্কিন অর্থনীতি ধসের ছক আঁকল তেহরান

হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য মার্কিন নৌ অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন এক ভিন্নধর্মী বার্তা দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইরান। প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষার বদলে গাণিতিক সমীকরণ ব্যবহার করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন—   ΔOBSOH>0⇒f(f(O))>f(O)\Delta O_{BSOH} > 0 \Rightarrow f(f(O)) > f(O)ΔOBSOH​>0⇒f(f(O))>f(O)   এই সমীকরণের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করা হলে বিশ্ব তেলবাজারে এমন এক শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।   কী বোঝাচ্ছে এই সূত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই সমীকরণটি মূলত দুটি স্তরে কাজ করে। প্রথম অংশ—ΔO₍BSOH₎ > 0—ইঙ্গিত করে, হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের মাত্রা বাড়লে তেলের দাম সরাসরি বৃদ্ধি পাবে। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।   দ্বিতীয় অংশ—f(f(O)) > f(O)—আরও গভীর সংকেত বহন করে। এখানে বোঝানো হয়েছে, তেলের দামের প্রথম ধাক্কার চেয়েও পরবর্তী ধাক্কাগুলো হবে বেশি শক্তিশালী। অর্থাৎ, বাজারে আতঙ্ক, সরবরাহ সংকট, শিপিং খরচ বৃদ্ধি এবং মজুত প্রবণতা—সব মিলিয়ে দামের ওপর বহুগুণ প্রভাব পড়বে।   ‘চেইন রিঅ্যাকশন’-এর সতর্কতা গালিবাফের বার্তার মূল বিষয় হলো, এটি একটি সাধারণ মূল্যবৃদ্ধি নয়; বরং একটি অরৈখিক বা চক্রবৃদ্ধি প্রতিক্রিয়া।   প্রথম ধাপে সরবরাহ কমে দাম বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে বিশ্ববাজারে। তৃতীয় ধাপে জাহাজ ভাড়া ও বিমা খরচ বেড়ে যাবে। পরবর্তী ধাপে এই সব প্রভাব একে অপরকে ত্বরান্বিত করে দামের আরও বড় উল্লম্ফন ঘটাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে বাজারের আচরণ গাণিতিকভাবে সরলরেখায় না বাড়ে, বরং ধাপে ধাপে লাফিয়ে বাড়ে—যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন।   রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল এই গাণিতিক বার্তার মাধ্যমে ইরান সরাসরি একটি রাজনৈতিক সংকেত দিতে চেয়েছে—হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের কৃত্রিম বাধা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। গালিবাফ তার পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উদ্দেশে তেলের বর্তমান মূল্য উপভোগ করার পরামর্শ দিয়ে ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।   ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের হুমকি দেন। যদিও পরবর্তীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ আংশিকভাবে প্রয়োগ করা হতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সংকট বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে—   তেলের দাম দ্রুত অস্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নতুন করে বাড়তে পারে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে জ্বালানি নির্ভর দেশগুলো মারাত্মক চাপে পড়বে   সব মিলিয়ে, ইরানের এই ‘গাণিতিক হুঁশিয়ারি’ শুধু প্রতীকী নয়—বরং সম্ভাব্য এক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝড়ের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের হুমকি: বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জলযানের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন।   যদিও পরবর্তীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অবরোধ কেবল ইরানগামী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। সোমবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   নৌ অবরোধ কী আন্তর্জাতিক সামরিক নীতিমালা অনুযায়ী, নৌ অবরোধ হলো যুদ্ধকালীন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে শত্রু রাষ্ট্রের বন্দর, উপকূল বা আকাশপথে প্রবেশ ও প্রস্থান সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে শত্রু ও নিরপেক্ষ—উভয় পক্ষের যানবাহনই বাধার মুখে পড়তে পারে।   বাস্তব প্রয়োগ ও কৌশল ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপকে দ্রুত কার্যকর করার কথা বললেও বাস্তবে এটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের আরব সাগর ও ওমান উপসাগরীয় বন্দরের দিকে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোই মূলত নজরদারিতে থাকবে।একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ন্যাটোসহ মিত্র দেশগুলোও এই উদ্যোগে সহযোগিতা করতে পারে। তবে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করলেও সরাসরি অবরোধে অংশ নেবে না।   জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অবরোধের ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বেড়ে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগে প্রভাব বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতোমধ্যে নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও ডলারের চাহিদা বাড়ছে, যা উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।   ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি এই অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইরান সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও সমুদ্রপথে মাইন পেতে বা ড্রোন হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিকে উচ্চ ঝুঁকির এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছে বিমা কোম্পানিগুলো, যার ফলে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।   আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে প্রশ্ন আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া বিতর্কিত এবং অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এই অবরোধের বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।   দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। চীন ও ভারত বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্যও চাপে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ একটি উচ্চ ঝুঁকির কৌশল, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ‘তুরুপের তাস’ হরমুজ প্রণালি; কেন এটি পারমাণবিক শক্তির চেয়েও ভয়াবহ?

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ৪০ দিনের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক সত্য সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। বিবিসির ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স সংবাদদাতা জিয়ার গোলের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।   সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সামরিক স্থাপনা ও নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়, তখন তেহরান তাদের রণকৌশল বদলে ফেলে। তারা প্রচলিত যুদ্ধের বদলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের সিংহভাগ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছেন যে, এই পথটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবির করে দেওয়া সম্ভব। গত কয়েক সপ্তাহে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে। মূলত এই চাপের মুখেই ওয়াশিংটন নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রচলিত সামরিক শক্তির চেয়েও এই জলপথ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ইরানকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
বিশ্বজুড়ে ইতিহাসের ভয়াবহতম জ্বালানি সংকটের শঙ্কা; আইইএ প্রধানের চরম সতর্কতা

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল এক ভয়াবহ সতর্কবাণী উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, চলমান ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকট ১৯৭৩, ১৯৭৯ এবং ২০২২ সালের সম্মিলিত সংকটের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী রূপ নিয়েছে। ফরাসি সংবাদপত্র ল্য ফিগারোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা ইতিহাসের সবথেকে গুরুতর সংকট।   আইইএ প্রধানের মতে, এই সংকটে সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে এসব দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির হার দ্রুত ত্বরান্বিত হবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোসহ জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও এই অর্থনৈতিক ধাক্কার বাইরে থাকবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চরম হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাম্প তার বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরান যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তিতে না আসে তবে আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ১১০.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং নিউ ইয়র্ক লাইট ক্রুডের দাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে ১১৫.১৭ ডলারে পৌঁছেছে।   ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা এখন বিশ্ববাসীর প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে বিশ্ব অর্থনীতি এক মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আইইএ প্রধানের এই বিরল সতর্কতা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
বাব আল-মানদেব: বিশ্ব অর্থনীতির ‘কান্নার দরজা’ এখন নতুন কেন্দ্রবিন্দু

পারস্য উপসাগরের হরমজ প্রণালী নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে টানাপোড়েন তুঙ্গে, ঠিক তখনই লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মানদেব’ হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন এক মহা-সংকট।   ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সরু জলপথটি এখন কেবল একটি বাণিজ্যিক রুট নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এক বিধ্বংসী রণক্ষেত্র।   আরবি শব্দ ‘বাব আল-মানদেব’-এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘কান্নার দরজা’, যা বর্তমানে তার নামের মতোই বিশ্ববাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এক করুণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।   ইয়েমেন, জিবুতি এবং ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত মাত্র ৩০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে।   বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে ইউরোপ ও এশিয়ার বিশাল ও জটিল এক সরবরাহ ব্যবস্থা।   প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং বিশাল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই পথ দিয়ে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়।   কেবল জ্বালানি নয়, বরং বিশ্বের ১২ শতাংশ গম এবং বিশাল পরিমাণ চাল ও সার এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক অপরিহার্য ধমনী। ২০২৬ সালের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাবে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।   ইতোমধ্যেই বেশ কিছু জাহাজ লোহিত সাগরের গভীরে তলিয়ে গেছে এবং অনেক বড় বড় শিপিং কোম্পানি এখন প্রাণভয়ে এই ঐতিহাসিক রুটটি পুরোপুরি বর্জন করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে জাহাজগুলোকে এখন আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে কয়েক হাজার মাইল পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে যা পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত দুই সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে।   দীর্ঘপথ ভ্রমণের ফলে জ্বালানি খরচ ও জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম বহুগুণ বেড়ে গেছে যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর।   বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে বাব আল-মানদেব যদি দীর্ঘমেয়াদে অনিরাপদ হয়ে পড়ে তবে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে এবং খাদ্য সংকট এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের রূপ নিতে পারে।   আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনী এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লোহিত সাগরে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়ালেও ড্রোন ও চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ইরান এই জলপথটিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন ও জটিল মেরুকরণ তৈরি করেছে।   একদিকে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি আর অন্যদিকে খাদ্য পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি—এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি এখন পুরোপুরি পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।   এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের মধ্য দিয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও স্থলপথের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে যা সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারছে না।   সব মিলিয়ে বাব আল-মানদেব এখন বিশ্ব রাজনীতির এক অগ্নিগর্ভ দাবার ছক যেখানে প্রতিটি ভুল চাল পুরো মানবজাতির জন্য এক অপূরণীয় ও দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।   বিশ্ব শান্তিকামী মানুষ এখন কেবল একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতির অপেক্ষায় রয়েছে যা এই ‘কান্নার দরজা’র ভয়াবহতা কমিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে আবার স্বাভাবিক ও নিরাপদ ছন্দ ফিরিয়ে আনতে পারবে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘আরেকটু সময় পেলেই হরমুজ খুলে তেল নিতে পারব’, ট্রুথ সোশালে ট্রাম্পের দাবি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আরও কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করতে সক্ষম হবে এবং সেখান থেকে তেল আহরণ করতে পারবে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই খবরটি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্য বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আরেকটু সময় পেলে আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে, তেল তুলে নিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটা বিশ্বের জন্য আনন্দের হবে।” তবে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই স্পর্শকাতর নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তা উন্মুক্ত করবে বা কোন তেলের কথা তিনি বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শক্ত অবস্থানের মুখে ট্রাম্পের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে পাঁচ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সংঘাত নিরসন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে ট্রাম্পের ওপর প্রবল চাপ বাড়ছে। ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণাকে সেই চাপের মুখে এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
বিশ্বে জ্বালানি তেলের বাজারে বেড়েছে অস্থিরতা। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ’ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ!

ইরানে আরও তীব্র আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই যুদ্ধংদেহী বার্তার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৭.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দাম ৫.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।   গত বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি। শিগগিরই এর সমাপ্তি হবে। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তার ভাষণে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক সমাধানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা সতর্ক করেছেন যে, উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের প্রভাবে নৌপথে চলাচলের ঝুঁকিও বাড়ছে। কাতারের জলসীমায় কাতার এনার্জির একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে তেলের পাশাপাশি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪৭২৮.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ। তবে তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে কিছুটা পতন লক্ষ করা গেছে।   সূত্র: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ৩৫ দেশের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাজ্য

ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকট নিরসনের দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নিল। বৃহস্পতিবার লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩৫টি দেশ অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় থাকছে না।   বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান এই পথটি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে সমুদ্রপথকে মাইনমুক্ত করা এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল লক্ষ্য।   প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সহজ হবে না; এর জন্য সামরিক শক্তি এবং কূটনৈতিক তৎপরতার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। ইউরোপীয় দেশগুলো শুরুতে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চাইলেও তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে তারা এখন ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই নৌপথটি উন্মুক্ত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে সামরিক পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে এ বিষয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
যুদ্ধ চলবে - এমন ঘোষণায় তেলের দাম বাড়লো আরো ১০ শতাংশ

  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভাষণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং তেলের দাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় সাত শতাংশ বেড়ে গেছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে।   একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়ে ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বাজারে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ছিল সবচাইতে বড় একদিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।   জাতি উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প বলেন যে আমেরিকা খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করতে যাচ্ছে এবং তারা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো পরিষ্কার ঘোষণা না আসায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।   ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধের ইতি ঘটবে। কিন্তু তিনি কীভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করবেন তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা চরম আশাহত হয়েছেন।   বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ভাষণে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো উল্লেখ না থাকায় তেলের দাম যেকোনো সময় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। নৌপথে ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী।   বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল হয়ে উঠেছে। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।   এদিকে বুধবার কাতারের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। কাতারের জ্বালানি সংস্থা লিজ নেওয়া ওই জাহাজে হামলার পর পারস্য উপসাগরে চরম যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে।   কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে যা বিশ্ববাজারে তেলের আগুনের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এমন সরাসরি আঘাত আগে কখনও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলেনি।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ সতর্ক করেছে যে এপ্রিল মাস থেকে ইউরোপের অর্থনীতিতে এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করবে। মহাদেশটি এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে পুরনো চুক্তির কারণে ইউরোপ কিছুটা সুরক্ষিত থাকলেও এখন সেই মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আমেরিকার অভ্যন্তরেও তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্পকে চরম রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে।   অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে কোনো শক্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়া তেলের দাম কমার সম্ভাবনা বর্তমানে খুবই কম। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ভয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা এখন বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।   দিনশেষে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে। ট্রাম্পের অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   বৈশ্বিক এই সংকট নিরসনে এখন কেবল ট্রাম্পের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো পৃথিবী। যদি দ্রুত কোনো কার্যকর শান্তি চুক্তি না হয় তবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আরও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।   এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন প্রতিটি দেশের সরকারের জন্য সবচাইতে বড় এবং কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে জমে থাকা যুদ্ধের মেঘ কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং অর্থনৈতিক ধস নামাতেও সক্ষম। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক গতিবিধিই নির্ধারণ করবে বিশ্বের পরবর্তী অর্থনৈতিক গন্তব্য ও স্থিতিশীলতা।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অস্বস্তিতে চীন: তেল ও বাণিজ্যে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রভাব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের ওপর পড়তে শুরু করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ফলে চীনে পেট্রোল ও প্লাস্টিকের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বেইজিং এই সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে এক অস্বস্তিকর অবস্থানে রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে ইরান মূলত সস্তায় তেল পাওয়ার একটি উৎস। গত বছর ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশই কিনেছে বেইজিং, যা তেহরানের আয়ের প্রধান উৎস হলেও চীনের মোট আমদানির মাত্র ১৩ শতাংশ। ফলে চীন কৌশলগতভাবে ইরানের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। এছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের তুলনায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। এই অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যের কারণেই বেইজিং সরাসরি কোনো সামরিক পক্ষ না নিয়ে কেবল সংযম ও কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে।   তবে ইরান এই যুদ্ধে চীনের ‘বেইডু’ স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম এবং চীনা ড্রোন ও চিপ ব্যবহার করছে বলে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করেছে। চীন এই সংঘাতের দ্রুত অবসান চাইলেও সরাসরি তেহরানের নিন্দা জানানো থেকে বিরত রয়েছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের মতে, যুদ্ধের ফলে তেলের উচ্চমূল্য এবং ইউরোপীয় বাজারে চীনা পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। চীন মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বজায় রাখতে চায়, তবে তারা কোনোভাবেই একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরান বা দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা সমর্থন করছে না।   সূত্র: এনডিটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: ফিলিপাইনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্ট Ferdinand Marcos Jr. এক নির্বাহী আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। সরকার বলছে, বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন এবং দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।   ফিলিপাইনের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশ আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানির দাম একাধিকবার বেড়েছে এবং বর্তমানে ডিজেল ও পেট্রোলের মূল্য আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।   সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিদ্যমান জ্বালানি মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই সীমিত মজুতকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সরকার জ্বালানি খাতে বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছে। এখন থেকে সরাসরি জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয় ও মজুত করা যাবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য বাজারে কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া।   প্রাথমিকভাবে এই জরুরি অবস্থা এক বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী এর সময়সীমা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ফিলিপাইন সরকার আশা করছে, এই বিশেষ ব্যবস্থা দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১৯৭০ সালের চেয়েও ভয়াবহ বর্তমান জ্বালানি সংকট: আইইএ প্রধানের হুঁশিয়ারি

বর্তমান বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের চেয়েও অধিক ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফতিহ বিরল। সোমবার (২৩ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে এক বিশাল ও অভূতপূর্ব হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ফতিহ বিরল এই পরিস্থিতিকে দুটি বড় তেল সংকট এবং একটি গ্যাস সংকটের সম্মিলিত ও জটিল রূপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   আইইএ প্রধান জানান, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে ওই অঞ্চলের অন্তত ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ‘ভয়াবহভাবে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকট নিরসনে কোনো একক দেশ নয়, বরং বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইইএ ইতিমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে তাদের জরুরি তেলের মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে সদস্য দেশগুলো বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রেকর্ড ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল।   ফতিহ বিরল আরও যোগ করেন, বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে আইইএ আরও মজুত তেল বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের নিয়মিত সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। যদি বর্তমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বের কোনো দেশই এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রলয়ঙ্করী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতাদের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুমকির জেরে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। একই সাথে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।   এশীয় বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিউল ও টোকিও। বিক্রির প্রবল চাপে সিউলের সূচক ৬ শতাংশ এবং টোকিও ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে। এছাড়া হংকংয়ের বাজারে ৩ শতাংশ এবং সাংহাই, তাইপেই ও ম্যানিলাতে ২ শতাংশের বেশি দরপতন দেখা গেছে। সিডনি, সিঙ্গাপুর এবং ওয়েলিংটনও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। মুদ্রাবাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট; দক্ষিণ কোরীয় মুদ্রা 'ওন'-এর মান ডলারের বিপরীতে ১,৫১০-এ নেমে এসেছে, যা ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন।   অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১০০ ডলারের সামান্য নিচে অবস্থান করছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং পরাশক্তিগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর অনিশ্চিত সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী অচল হলে থমকে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি । ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী অচল হলে থমকে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী এখন ঝুঁকির কেন্দ্রে। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই রুট অচল হলে ২০ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেলক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হবে এবং সরবরাহ সংকট দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।   বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই প্রণালী দিয়ে। সরবরাহ বন্ধ থাকলে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংকটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা দেবে।   চীনের অর্থনীতিতে বড় আঘাত মানে বিশ্ববাজারে তার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, কমতে পারে বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি সূচক। বাজারমূল্য থেকে ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।   সরবরাহ সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে দৃশ্যমান। অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এলএনজির দামও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে জাপান। দেশটির আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে টোকিওর অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ার শিল্পনির্ভর অর্থনীতিগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু জ্বালানি বাজার নয় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই থাকা যাবে না—নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0