- প্রচ্ছদ
- Topic
মধ্যপ্রাচ্য
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত প্রস্তাবটির আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পরই এর পরবর্তী ধাপ এগোবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই অনুমোদনের মাধ্যমে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রিটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে। এফ-৩৫ বিক্রির ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর হুথিরা দাবি করে, তারা ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি নামানো হয়েছে। তবে সৌদি সরকার এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণেও ঘটনাটিকে এখনো যাচাইসাপেক্ষ বলা হয়েছে। হুথিদের এই দাবির মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার চেষ্টা করছে। একই সময়ে হুথিদের হামলায় সৌদি ভূখণ্ডে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তবে নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দ্রুত সৌদি আরবের বর্তমান সংঘাতে ব্যবহৃত হবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চুক্তি কংগ্রেসে অনুমোদিত হলেও বিমান সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এ কারণেই প্রস্তাবিত বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের নাগালের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করা উচিত নয়। ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও এই চুক্তিকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। সৌদি আরবকে একই যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনা দেশটির দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রির ফলে অঞ্চলটির সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হবে না। এফ-৩৫ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে প্রথম আরব দেশ, যারা এফ-৩৫ পরিচালনা করবে। এরই মধ্যে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। তুরস্ক ও পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। এফ-৩৫ কর্মসূচি নিয়ে এর আগে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এফ-৩৫ প্রযুক্তির সমন্বয় হলে সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা। কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কীভাবে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে পারছেন না আব্বাস। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডের কারণে পিএ ও পিএলও কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি আলোচনার বাইরে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের আরও অভিযোগ, ইসরায়েলিদের ওপর হামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মার্কিন আইনেরও লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপকে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের নিয়মিত কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। জাতিসংঘের সদর দপ্তর চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনি মিশনের বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। ফলে তাদের নিয়মিত কূটনীতিক ও কর্মীরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন, যদিও নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। গত বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মাহমুদ আব্বাসসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৪৫-৫ ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যাতে ভিসা না পাওয়ায় আব্বাসের সরাসরি উপস্থিতির পরিবর্তে ভিডিও বা আগে থেকে ধারণ করা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৪৭ সালের সদর দপ্তর চুক্তি নিয়ে এ সিদ্ধান্তের কারণে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ২০২৫ সালে বলেছিলেন, জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে আসা কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তাদের মতে, সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এদিকে এ বছরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে না পারায় এবারও তার বক্তব্য কীভাবে জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলাদা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৫ সালে ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশেষ ব্যবস্থায় আব্বাসের রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচারের অনুমতি দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ‘আশা করছি শেষের দিকে’ এগোচ্ছে। বুধবার তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে একই ধরনের নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। জুনে তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার কাঠামো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়েও তৎপরতা বেড়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত হয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক শান্তি ঘোষণা হয়নি। বরং একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনো চুক্তি হলে তার শর্ত এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামাদির ওপর ইরান পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরব এবং কুয়েতে কর্মরত মার্কিন সেনাসদস্যদের পাঠানো নতুন কিছু ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান, বিধ্বস্ত ক্যাম্প, ফাঁপা হয়ে যাওয়া ভবন ও পুড়ে যাওয়া যানবাহনের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে। এই ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া ২৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক আমেরিকান ই-৩ সেন্ট্রি গোয়েন্দা বিমান। সে সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে থাকা ১৬টি এধরনের বিমানের মধ্যে ছয়টিই ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল। এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং এবং ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন গ্রাউন্ড ট্রুপসদের ব্যবহৃত ট্রেইলার ও গাড়ি ধ্বংসের ছবিও সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, ক্যাম্প আরিফজানের কয়েক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত শুয়াইবা বন্দরেই যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সেনাসদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘাঁটিতে হওয়া এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা আমেরিকান জনগণের কাছে গোপন রাখা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পরিস্থিতি এমন যে তারা চোখ বন্ধ করে কেবল মার খাচ্ছেন। ওই সেনাসদস্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সেই দাবিও দৃঢ়ভাবে খণ্ডন করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে মাত্র কয়েকটি ইরানি হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পেরেছে। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা আসলে ঘাঁটিগুলোর কোনো প্রতিরক্ষাই দিতে পারছেন না, বরং চোখের সামনে কেবল সেগুলো ধ্বংস হতে দেখছেন। এই বিস্ফোরক তথ্যের বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। হামলার এই ভয়াবহ ছবিগুলো এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যার মাত্র দুদিন আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের ওপর তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ইউএসএআইডি-এর তথ্য সম্বলিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সংঘাতে প্রায় ৬০টি বিমানসহ মোট সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের খরচ বাদ দিয়েই যুদ্ধের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার।
মুসলিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সমস্যা নেই। তেহরান শুধু নিজেদের আন্তর্জাতিক অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান চায়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের পার্শ্ববর্তী এক বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি, ইরান-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান চায় বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, “আমেরিকা চায়, আমরা যারা বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, তারা যেন একে অপরের শত্রুতে পরিণত হই।” তিনি বলেন, ইরানের মূল দাবি হলো দেশটির আন্তর্জাতিক অধিকারকে সম্মান করা। পেজেশকিয়ান আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এ অঞ্চলের স্বাধীন দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিশু ও বিজ্ঞানীরাও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে কিছু ভ্রাতৃপ্রতিম ও মুসলিম দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ ছিল না। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা হামলাকারীদের সামরিক স্থাপনাগুলোকে ইরান সেই কারণেই লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধ বা সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তিনি বলেন, তেহরান তার অধিকারকে সম্মান করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়। “আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করব না”, বলেন পেজেশকিয়ান। ইরান তার জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহার করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বাইরের ‘আঞ্চলিক পুলিশ’ বা নিয়ন্ত্রকের প্রয়োজন নেই। তার মতে, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অঞ্চলটির প্রধান দেশগুলোরই হওয়া উচিত। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন। পেজেশকিয়ানের মতে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ কমবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারবে। বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই এ বিষয়ে মালয়েশিয়া নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি দেশটির সম্মান রয়েছে। আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের জনগণের প্রতিরোধ ও দেশটির সরকারের অবস্থানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইরান ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে এবারের আলোচনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের নেতারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন। ইরান ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক এই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবশেষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশের বিষয়ে কয়েক দিনের টানা আলোচনার পর সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই এই যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করা হবে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে মতবিরোধ ছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ নিয়ে যৌথ ঘোষণাপত্রের ভাষা কী হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। চলতি বছরের মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশের শীর্ষ আলোচকরা যৌথ ঘোষণাপত্রে সম্মতি আনতে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যান। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৪ সালে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশকে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে ভারত। এবারও যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করতে ভারতীয় কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিও ছিল। এ নিয়ে গত ছয় মাস ধরে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই মতপার্থক্য কাটিয়ে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ যৌথ ঘোষণার বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়াদিল্লি সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। মিসর জানিয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। দেশটি সৌদি আরবের সঙ্গে পূর্ণ সংহতিও প্রকাশ করেছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরাক থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত হামলার সরাসরি নির্দেশদাতা বা হামলাকারী কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবকে তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে ইরাকি সরকারকে হামলার উৎস বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সেই অনুরোধের পর সৌদি আরব আপাতত পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও বহাল রেখেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার জন্য ইরান সম্ভবত দায়ী। তবে এটি এখনো সৌদি সরকারের চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা কোনো অভিযোগ নয়। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ইরাক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে সরাসরি তথ্য থাকা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলায় প্রায় আটটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে এবং সেটির একটি ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলো পরে আবার কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। আল আজরাক এলাকার কাছে অবস্থিত ঘাঁটিটি জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিবিএস নিউজ জানায়, হামলার সময় ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সরাসরি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তারা প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোর ক্ষয়ক্ষতিকে তুলনামূলকভাবে সামান্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় আটটি এফ-১৫ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেগুলোকে আবার পরিষেবায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানটির ক্ষতি ছিল বেশি। সিবিএসের সূত্র অনুযায়ী, ওই যুদ্ধবিমানটিতে আঘাত লাগে এবং পরে সেটির একটি ডানা অনুপস্থিত অবস্থায় পাওয়া যায়। রয়টার্সও সিবিএসের তথ্যের ভিত্তিতে একই ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে। হামলার সময় মার্কিন বাহিনী ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনী ওই হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জর্ডানে চালানো এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা একাধিক সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানায়। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের একটি মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ওই ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করা হয়। চারটি ট্যাংকারে ওমান উপসাগরে এবং একটি ট্যাংকারে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার পর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জর্ডানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির দিকে ছোড়া ২০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। জর্ডানের পক্ষ থেকে ওই হামলায় কোনো হতাহতের খবর জানানো হয়নি। হামলার পর জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা সামরিক সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও এ-১০ যুদ্ধবিমানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসায় ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। তবে সিবিএসের প্রতিবেদনে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোকে পুনরায় কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও এ-১০ যুদ্ধবিমানটির পরবর্তী ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার নতুন একটি পর্যায় হিসেবে সামনে এসেছে। এর আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবার সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নৌপথ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং এর পর ইরানের পাল্টা হামলার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ পেল। সিবিএস নিউজ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মধ্যে রয়েছে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানের ডানা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সামান্য ক্ষতি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে এখন থেকে এই জলপথকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতেই ডালাসে গিয়েছিলেন তিনি। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম কমবে। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় পেতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হরমুজের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে জয়ী হলে তাঁরও কিছু ‘প্রাপ্তি’ থাকা উচিত। আর সেই প্রাপ্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বলেন, “ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, আজ আমি এখানে ঘোষণা করছি—এখন থেকে আমরা এই জলপথকে ট্রাম্প প্রণালি নামে ডাকব।” তাঁর দাবি, এ নাম ইরানের নেতাদের মধ্যে শিহরণ তৈরি করবে। ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, দেশটি ‘ভেঙে পড়ছে’। গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘গুন্ডামি’ করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই সময় শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই মানচিত্রেও প্রণালিটির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করলে দেশটির বন্দরে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপরও বাধা তৈরি হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ‘অনানুষ্ঠানিক বিরতির’ পর গত ৩০ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর আগে ২৮ আগস্ট সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকার গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয় ও ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখার উদ্যোগও নেন ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। ছবিতে ইরানের প্রচলিত মানচিত্রের সঙ্গে পরিবর্তিত একটি মানচিত্র পাশাপাশি দেখানো হয়েছে। ছবিটির ‘বিফোর’ অংশে ইরানের স্বাভাবিক মানচিত্র দেখা যায়। আর ‘আফটার’ অংশে দেশটির সীমানা এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে সেটি ট্রাম্পের মুখমণ্ডল ও চুলের পাশের অবয়বের মতো দেখায়। তবে ছবিটি প্রকাশের সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। ফলে কেন তিনি এমন একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্র নয় এবং এর মাধ্যমে ইরানের সীমান্ত পরিবর্তন বা নতুন কোনো ভৌগোলিক দাবির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পরিবর্তিত ছবি প্রকাশ করেছেন। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প একই সময়ে আরও কয়েকটি পোস্ট করেন। এসব পোস্টে ইরান ও চলমান সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন প্রতীকী ছবি প্রকাশের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা চলার সময়ে দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে উপস্থাপন করায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ছবিটির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা এর মাধ্যমে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।করেন তিনি। এতে ‘বিফোর’ আগের অংশে ইরানের প্রচলিত মানচিত্র দেখানো হলেও ‘আফটার’ তথা পরের অংশে দেশটির সীমানা পরিবর্তন করে ট্রাম্পের মুখ ও চুলের পাশের অবয়বের মতো করে দেখানো হয়েছে। তবে ছবিটির সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা অর্থ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক নতুন মানচিত্র বা ইরানের সীমান্ত পরিবর্তনের ঘোষণা নয়; বরং ট্রাম্পের পোস্ট করা পরিবর্তিত একটি ছবি। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আরও কয়েকটি পোস্টও করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আলোকপাত করেন। বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, তাই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করা উচিত কি না, তা নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতোই এই জলপথটি এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। পোস্টের শেষে সবাইকে বিষয়টি নিয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প’ হিসেবে নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করেন। ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আন্তর্জাতিক জলপথের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে আসায় তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান আবার হামলা চালালে দেশটিকে আরও কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। এমনকি তৃতীয় দফায় সংঘাত হলে ইরান ‘দেশ হিসেবে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ হয়ে যেতে পারে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালায়, তাহলে তাদের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তৃতীয়বার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের জন্য পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য তিনি কোনো চাপ প্রয়োগ করছেন না। ইরান কোনো চুক্তিতে সই করল কি না, সেটি নিয়েও তিনি খুব বেশি চিন্তিত নন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই সর্বশেষ মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল এমন একটি বাড়িতে হামলায় পাঁচজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার পর বুধবার বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েত ইরানের হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ৯৫ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বাড়ছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটির নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতিদিনই গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে ছিল। বুধবার জাতীয় গড় দাম দাঁড়িয়েছে গ্যালনপ্রতি ৪.১২ ডলার। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। এর মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তনের খবর এসেছে। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছে, তাঁর সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে তাঁর পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানানো হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ড্রিসকল ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে মতবিরোধের কথা উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ এবং ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারকে সরানো নিয়েও মতবিরোধের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ড্রোন আধুনিকায়নের একটি কর্মসূচি, যেটির পক্ষে ড্রিসকল ছিলেন, সেটিও পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ড্রিসকলের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেনি হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পর এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথিত ‘অপরাধের জন্য অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাবে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বক্তব্যে জোলফাঘারি বলেন, দক্ষিণ ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানি বাহিনী অঞ্চলটির বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব পাল্টা হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামো, স্থাপনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ মার্কিন কমান্ডার ও সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জোলফাঘারি বলেন, “আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণাত্মক অভিযান চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরানের পরবর্তী জবাব আরও “ভারী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক” হবে। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করা যেকোনো দেশকে এর ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ মেনে নিতে হবে। এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর সামনে আসে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত রয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে ইরানের কর্মকর্তার করা নিহত ও আহতের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথ থাকায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংবাদসূত্র: আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য অংশীদার করার আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে এরই মধ্যে পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মত সামনে এসেছে। এর মধ্যে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশের ও জাতির প্রয়োজন এবং স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেয়। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। চলতি বছরের ১৯ মার্চ রিয়াদে ইসলামি সম্মেলনের সময় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে তিন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট মক্কায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশকে এই নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এ ধরনের সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধসহ চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ পাঠাতে হচ্ছে। এতে চীনের মোকাবিলায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও সক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল। বুধবার ভার্জিনিয়ার নরফোক নেভাল স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীকে কাজ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সামরিক সক্ষমতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলও বজায় রাখতে হচ্ছে। অ্যাডমিরাল কডলের ভাষায়, সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে তাকে নিয়মিত সমন্বয় করতে হচ্ছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত থাকে। এই প্রয়োজন মেটাতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপন করবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যারিয়ারের সংখ্যা সাময়িকভাবে কমে যাবে। কডল স্বীকার করেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রয়োজনের তুলনায় কম এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রয়োজন মেটাতে নৌবাহিনীর জাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ কোথাও না কোথাও থেকে সরিয়ে আনতেই হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরে বর্তমানে প্রায় ২০০টি জাহাজ ও ১ হাজার ৫০০টি বিমান রয়েছে। এসব সামরিক সক্ষমতার মূল লক্ষ্য হলো ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকা। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান চীনের সামরিক শক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে এই ভারসাম্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কডল জানান, বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক অগ্রাধিকারের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এবং বাকি ৪০ শতাংশ অন্যান্য অঞ্চলে রাখার একটি ভারসাম্য অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারোও এই ঝুঁকির বিষয়টি মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরেছেন বলে জানান কডল। তবে নৌবাহিনীর প্রধানের দাবি, প্রশান্ত মহাসাগরে সামরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় অন্যান্য উপায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থ রক্ষা এবং একই সময়ে চীনের ওপর নজর রাখা, এই দুই লক্ষ্যই এখন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক কৌশলে কতটা প্রভাব পড়বে, তা এখন ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
গত ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে পেশ করা নারকোটিক্স কন্ট্রোল মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে সৌদি আরব, যারা সর্বাধিক ১৫ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করেছে। এর পরপরই ৩ হাজার ৮০৩ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়াও ওমান থেকে ১ হাজার ৬০৬ জন, বাহরাইন থেকে ৫২১ জন, কাতার থেকে ৪২৯ জন এবং কুয়েত থেকে ৯৭ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, প্রধানত ভিক্ষাবৃত্তি, নিরাপত্তা শঙ্কা, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উপসাগরীয় দেশগুলো এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বেআইনি প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে অবস্থান, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি এবং ১ হাজার ২৯৪ জন কারাদণ্ড ভোগের পর দেশে ফিরেছেন। পাশাপাশি, ৯৬৮ জনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের সময় ইরানি হামলার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর দায়েও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানিকে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, সংসদে উপস্থাপিত এই পরিসংখ্যানটি উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে আসা মোট পাকিস্তানির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল সে দেশের কর্তৃপক্ষের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক হওয়ার পর যাদের দেশে ফেরাতে পাকিস্তান দূতাবাস জরুরি ভ্রমণ নথি বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট জারি করতে বাধ্য হয়েছে, শুধু তাদের তথ্যই এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন বা যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট ও কাগজপত্র ছিল, তাদের হিসাব এই তালিকার বাইরে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৯ মাসের সামরিক অভিযান শেষে অবশেষে দেশের পথে রওনা হয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও ক্রু নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রণতরিটি যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এই দীর্ঘ সময়ে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এটি। বর্তমানে আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে অপর মার্কিন রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার রণতরিটির বিদায়বেলায় এক বার্তায় নাবিকদের শুভযাত্রা কামনা করে শিগগিরই তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘ ২৭২ দিনের এই মিশনে রণতরিটি মাত্র দুবার সমুদ্রে বিরতি নেয়। এর মধ্যে ডিসেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়ামে স্বল্প সময়ের জন্য এবং পরবর্তীতে রসদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওমানে নোঙর করেছিল এটি। টানা সমুদ্রযাত্রায় থাকা নাবিকদের জন্য বিশ্রামের কোনো নির্ধারিত ছুটির দিন ছিল না। এখন প্রায় ১৩ হাজার মাইল দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরতে তাদের আরও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আব্রাহাম লিংকনকে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে মিশন চলাকালে রণতরিতে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান এবং আনুষঙ্গিক নানা সংকট নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু প্রতিবেদন সামনে আসে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইরানের হামলায় বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মিশন চালিয়ে নিতে হয়েছে রণতরিটির হাজারো ক্রুকে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট এবং নাবিকদের মানসিক চাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজে থাকা এক নাবিকের পরিবারের কাছে পাঠানো বার্তায় দাবি করা হয়েছে, তিন মাস ধরে তারা দুধ পাননি, তাজা খাবারের সরবরাহও অত্যন্ত সীমিত। কখনো কখনো জাহাজে পৌঁছানো মাংসও নষ্ট অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নাবিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া থেকে তাকে রক্ষা করতেই পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের মাধ্যমে তার পাঠানো বার্তাগুলো সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছায়। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বরে প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও সামরিক সদস্য নিয়ে মোতায়েন হয়। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে মোতায়েন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণে সেটি কয়েক দফা দীর্ঘ হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম পোর্ট কলের কারণে জাহাজের নাবিক ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবারের কাছে পাঠানো একটি বার্তায় ওই নাবিক জানান, সরবরাহকারী জাহাজ থেকে তাজা ফল ও অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হওয়া খাবার নিয়মিত পৌঁছানো যাচ্ছে না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসব খাবার পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে মূলত হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আরেকটি বার্তার সঙ্গে একটি পাত্রে রাখা সিরিয়ালের ছবি পাঠান তিনি। সেখানে দুধ ছাড়াই সিরিয়াল খাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, তিন মাস ধরে দুধ পাননি। শুধু খাবারের সংকট নয়, দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে নাবিকদের হতাশার কথাও উঠে এসেছে ওই বার্তাগুলোতে। নাবিকের দাবি, আগে বহুবার মোতায়েন হওয়া সহকর্মীদের কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতিকে তাদের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করছেন। পরিবার থেকে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় দূরে থাকতে হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে নাবিকদের পরিবারের অভিযোগ অবশ্য শুধু এসব ব্যক্তিগত বার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মিলিটারি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে খাবার ও পানির সরবরাহ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মেইল পৌঁছাতে বিলম্ব এবং মানসিক চাপের বিষয়ে পরিবারের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কয়েকজন নাবিকের ওভারবোর্ডে যাওয়ার ঘটনার অভিযোগ ঘিরে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ মোতায়েনের মধ্যে একাধিক নাবিক জাহাজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে মার্কিন নৌবাহিনী নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং বর্তমান মোতায়েনে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার রিপোর্ট বেড়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রায় ২০০ পরিবারের সদস্য সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে নেভাল এয়ার স্টেশন নর্থ আইল্যান্ডে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি টাউন হল বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে খাবার, পানি, মেইল, জাহাজের পরিবেশ এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ জানান তারা। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারাও জাহাজে কিছু লজিস্টিক সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে টয়লেট বন্ধ হয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাবে শাওয়ার এলাকায় ছত্রাক তৈরি হওয়া এবং তাজা ফল ও মেইল পৌঁছাতে বিলম্বের মতো সমস্যা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনী বলেছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্ব নাবিকদের মানসিক প্রস্তুতি ও সুস্থতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। জাহাজে কাউন্সেলর, চ্যাপলেইন, মেডিক্যাল কর্মী এবং অন্যান্য সহায়তাও রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। পানামা সফরের সময় তিনি বলেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতিকে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে তা পুরো পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়। তার ভাষ্য, মোতায়েন থাকা প্রতিটি জাহাজ ও ক্রুকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে প্রতিরক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কিছু মোতায়েন অন্যগুলোর তুলনায় দীর্ঘ হয় এবং কম পোর্ট কলের মধ্যে নাবিকদের কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এদিকে দীর্ঘ মোতায়েন শেষে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স জানিয়েছে, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে এবং সেটি আব্রাহাম লিংকনের জায়গা নেবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন আগে থেকেই পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে সমুদ্রে রয়েছে এবং এর মোতায়েন ইতিমধ্যে আট মাস ছাড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় পোর্ট কল ছাড়া সমুদ্রে অবস্থান, সরবরাহ সংকটের অভিযোগ এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ এখন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের নজরেও এসেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা পেন্টাগনের কাছে জাহাজটির পরিস্থিতি এবং নাবিকদের জন্য কী ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। নৌবাহিনী বলছে, নাবিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে জাহাজ থেকে আসা অভিযোগ, পরিবারের উদ্বেগ এবং দীর্ঘায়িত মোতায়েনের কারণে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে চাপ ও প্রশ্ন দুটিই বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল লেবানন। দেশটির পার্লামেন্ট মৃত্যুদণ্ডের বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে তার পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আইন অনুমোদন করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণ বিলোপের স্বীকৃতি পেল লেবানন। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে এ-সংক্রান্ত বিল পাস হওয়ার পর স্পিকারের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমানে যেসব আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড রয়েছে, সেগুলো পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে। আইনে কঠোর শ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এখন বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে তার সরকার বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ছিল না। সর্বশেষ ২০০৪ সালে সেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরপর আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হলেও আদালত বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে আসছিল। এমনকি এই সপ্তাহের শুরুতেও একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নতুন আইনের ফলে সেই ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। এর আগে হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল। নতুন আইনের অধীনে এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মরায়েফ বলেন, লেবাননের এই সিদ্ধান্ত দেশটির মানবাধিকার অগ্রযাত্রায় একটি বড় মাইলফলক। দুই দশকের বেশি সময় ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ার যে বাস্তবতা ছিল, নতুন আইন সেটিকে স্থায়ী আইনি সুরক্ষায় পরিণত করেছে এবং জীবন রক্ষার অধিকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, লেবাননের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের জন্য একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে থাকবে। তবে পার্লামেন্টে বিলটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়নি। হিজবুল্লাহর সংসদীয় জোট এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। যদিও পার্লামেন্টের বিবৃতিতে ভোটের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পাশাপাশি লেবাননের পার্লামেন্ট কারাগারের অতিরিক্ত বন্দি সংকট মোকাবিলায় সাধারণ ক্ষমা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দিতে পূর্ণ। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের কারাগারে থাকা প্রায় ৮০ শতাংশ বন্দির বিচার তখনও শেষ হয়নি। বিশ্বজুড়ে বহু দেশ ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেও মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশে এখনো এই শাস্তি বহাল রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, ইরান ও মিসরে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে লেবাননের এই সিদ্ধান্তকে অঞ্চলটির বিচারব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই জলপথের ওপর বর্তমান নিয়ন্ত্রণ থেকে তেহরান কোনো অবস্থাতেই সরে আসবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইরানের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারণী সংস্থা এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের প্রধান আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি এবং ইরান এর পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শর্ত পূরণের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বর্তমান নিয়ন্ত্রণ একটি "অপরিবর্তনযোগ্য বাস্তবতা"। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই পরিস্থিতি বদলাতে পারবে না এবং বাস্তবতা মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের চেষ্টা হলে চলমান সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক শর্ত দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক চাপ বন্ধ, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং সাম্প্রতিক হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণসহ আরও কয়েকটি দাবি। এসব বিষয়ে অগ্রগতি না হলে প্রণালিটি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার মেহের নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তাঁকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেলেও ভিডিওটি কখন এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও মেহের নিউজ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ পেলেও এর পটভূমি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে না এসে আড়াল থেকেই দেশের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনির কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তাঁর বিভিন্ন নির্দেশনা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ অথবা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হতো। মেহের নিউজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনও মেহের নিউজের বরাতে তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করেছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও প্রকাশিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এই ভিডিও প্রকাশ ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় এ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সূত্র: সিনহুয়া, মেহের নিউজ এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।