মধ্যপ্রাচ্য

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করছে ইরান

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। এই নগ্ন হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। এর প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ইরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বড় ধরণের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   আজ শনিবার দেশটির শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স' আনুষ্ঠানিকভাবে এই কঠোর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত সামরিক কমান্ডের এক বিশেষ বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির ভেতর দিয়ে সব ধরনের দেশী-বিদেশী নৌযান চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, শত্রুপক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ এবং অন্যায় আগ্রাসনের জবাবে এটি তাদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।   ইরানের নীতি নির্ধারকেরা আন্তর্জাতিক মহলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, লেবাননে যদি এই ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সামরিক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। শত্রুপক্ষকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য করতে বেইজিং বা অন্য কোনো মধ্যস্থতাকারীর তোয়াক্কা না করে সামনে আরও কঠোর এবং বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও খনিজ তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি হঠাৎ বন্ধের ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে।   ঐতিহাসিকভাবে পারস্য উপসাগরের এই হরমুজ প্রণালীটিকে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন বা প্রধান ধমনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ প্রতিদিন এই সংকীর্ণ নৌপথ ব্যবহার করেই বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। ফলে ইরানের এই নতুন অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।   বিবৃতিতে খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স আরও উল্লেখ করেছে যে, ইরান চুক্তি মেনে চললেও পশ্চিমা জোট ও তাদের মিত্ররা বারবার আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বিনষ্ট করছে। লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের ওপর চালানো এই হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান যেকোনো ধরণের চরম সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একবারে ভেঙে দিতে পারে।   বিশ্বের প্রধান পরাশক্তিগুলো ইরানের এই হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে এশিয়ার পরাশক্তি চীন, যারা এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়া এবং ওমান সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নিবিড় নজর রাখছিল, তারা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যতক্ষণ না ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা সহযোগীরা লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে তাদের আগ্রাসী নীতি থেকে সরে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কৌশলগত নৌপথ উন্মুক্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: রয়টার্স
উপসাগরে মার্কিন স্বার্থে হামলার জন্য ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে।   প্রতিবেদনে ইরাকের আটটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, আগে ব্যবহৃত প্রচলিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক এড়িয়ে এবার ছোট আকারের, আরও গোপনীয় ও নিয়ন্ত্রিত সেল কাঠামো গড়ে তুলেছে আইআরজিসি। এসব সেল সরাসরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন দিচ্ছে।   সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছেন প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। এদের মাধ্যমে গত ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা ও সামাওয়ার মরুভূমি এলাকা থেকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা। বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এমন অঞ্চলগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে বলে জানায় ইরাকি সূত্রগুলো।   তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে—প্রতিটি সেলে রয়েছে প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। স্থানীয় নিরাপত্তা ও মিলিশিয়া কমান্ডারদের বরাতে বলা হয়, এসব যোদ্ধার একটি অংশ এসেছে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামের ছাতার সংগঠন থেকে, তবে নতুন সেলগুলো ওই কাঠামোর বাইরে স্বাধীনভাবে ও সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশে কাজ করছে।   রয়টার্সকে তথ্য দেওয়া আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডাররা। তাদের দাবি, নতুন এই কাঠামো ইরানের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বড় মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ছোট ও নিয়ন্ত্রিত ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে।   ইরাক শিয়াপ্রধান দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানপন্থি একাধিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। এসব গোষ্ঠী ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নেটওয়ার্ক ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।   অন্যদিকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ ব্যানারে বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতোমধ্যে ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার পাল্টা জবাবে মার্কিন বাহিনীও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, এসব নতুন সেল আরও গোপনীয়, ছোট এবং মতাদর্শিকভাবে কঠোর। তাদের মতে, ইরানের সম্পদ সীমিত হয়ে আসা এবং প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ার কারণে এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি দেশটির সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র ও বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়। তবে এসব গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও কার্যক্রম এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন আইআরজিসি ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।   রয়টার্স জানায়, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে নেতানিয়াহুর কারণে: মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কতা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কিছু সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।   প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে—লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া ইরান-সংক্রান্ত সমঝোতার কাঠামোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।   চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ একাধিক তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে অনাগ্রহী। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং লেবাননে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত করা।   মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে, লেবাননে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে ব্যাহত করতে পারে।   হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এর ফলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।   গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় লেবাননে সামরিক অবস্থান কঠোর রাখতে পারেন। এতে তার সরকারকে দেশটির জনগণের সামনে নিরাপত্তা ইস্যুতে শক্ত অবস্থান দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।   ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, হিজবুল্লাহর আক্রমণ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একাংশের গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক লক্ষ্যকে দুর্বল করে দিতে পারে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও, ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান সেই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েল পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারে অনাগ্রহ দেখালে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।   সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিজ বলেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইসরায়েলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।   তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনার দিকে যেতে পারে।   এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওয়াশিংটনের হাতে বিভিন্ন কৌশলগত চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে, যার মধ্যে সামরিক সহায়তা সীমিত করা বা গোয়েন্দা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার মতো পদক্ষেপও থাকতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন ধরনের কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর পড়তে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প হেরে গেছেন: নিউইয়র্ক টাইমস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা সংঘাত শেষে একটি প্রাথমিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হলেও যুদ্ধের ফলাফলকে কৌশলগতভাবে ওয়াশিংটনের জন্য হতাশাজনক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্যগুলো ঘোষণা করেছিল, তার উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হয়নি।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত চলাকালে সামরিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক তিন ক্ষেত্রেই চাপের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানকে “শর্তহীন আত্মসমর্পণ” করতে বাধ্য করা হবে এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হবে। একই সঙ্গে ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।   তবে যুদ্ধ শেষে ঘোষিত প্রাথমিক সমঝোতার চিত্র ভিন্ন। সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো বহাল রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের ধারণা, এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অনুরূপ একটি নতুন সমঝোতার দিকে অগ্রসর হতে পারে।   উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ওই পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি চুক্তিটিকে “ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ চুক্তি” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে প্রায় একই ধরনের একটি সমঝোতার দিকেই এগোতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুদ্ধবিরতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি মূলত সংঘাত-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সমতুল্য, নতুন কোনো বড় কূটনৈতিক বা কৌশলগত অর্জন নয়।   দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান। যুদ্ধ চলাকালে সেই আশঙ্কা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। সমঝোতার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।   চার মাসের সংঘাতে ইরানও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। দেশটির সামরিক অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সংঘাত শেষে পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক দর-কষাকষির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ চাপ এখনও তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিপুল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে সীমিত সাফল্য দেশটির বৈশ্বিক প্রভাব ও কৌশলগত কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনকে তার আঞ্চলিক কৌশল এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন পুনর্বিবেচনার দিকে ঠেলে দিতে পারে।   যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান আঞ্চলিকভাবে চাপে থাকলেও সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তারা আবারও আলোচনার টেবিলে তুলনামূলক শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হিজবুল্লাহ ও হামাসের দুর্বলতা, সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট থাকা সত্ত্বেও তেহরান তার কৌশলগত প্রভাব পুরোপুরি হারায়নি।   এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি। প্রণালীটি ঘিরে আবার কোনো সংকট তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির খোঁজে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদল

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এই সফরকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে আরও স্থায়ী ও কার্যকর রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এর আগে লেবাননে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করবেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিরও শনিবার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   এদিকে ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও তার সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।   মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই সফর কেবল যুদ্ধবিরতি রক্ষার জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরুরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, নৌপথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।   তবে স্টিভ উইটকফের সফর সম্পর্কে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন সময় বিকেল ৪টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহযোগিতায় এই সমঝোতা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে।   রয়টার্সের কাছে হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ নতুন করে হামলা না চালালে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও সামরিক অভিযান চালানো হবে না। তবে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।   অন্যদিকে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম ঘণ্টার মধ্যেও কয়েকটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বিকেল ৫টার পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে এবং বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে পরিচালিত এক অভিযানে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি শুধু লেবানন সংকট নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরাকের বসরায় ইরানি কনস্যুলেটের বাইরে তেহরান সরকারের প্রতি সংহতি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিতে আগুন দিচ্ছেন ইরাকি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। ছবি: রয়টার্স
উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরাকে গোপন সেল গঠন করেছে আইআরজিসি: রয়টার্স

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন দেশগুলোতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে এবং ইরাকের পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পাশ কাটিয়ে এসব সেল পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরাকের আটটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি ইরাকে তিন থেকে চারটি গোপন সেল গঠন করেছে। প্রতিটি সেলে প্রায় ১০ জন করে বাছাই করা ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব সেল ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দক্ষিণ ইরাকের বসরা ও সামাওয়ার কাছাকাছি মরুভূমি এলাকা থেকে কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব সেলের অনেক সদস্যকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ থেকে নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার যোদ্ধা নিয়ে গঠিত এই জোটটি ইরাকের কট্টরপন্থী শিয়া গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম।   তবে নতুন সেলগুলো ওই জোটের প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে কাজ করছে এবং সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশনা অনুসরণ করছে বলে দাবি করেছে রয়টার্সের সূত্রগুলো। আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন দুইজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডার।   রয়টার্স বলছে, ইরাকে এই ধরনের গোপন সেল গঠনের বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে আসেনি। পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমে আসা এবং ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে।   শিয়া-অধ্যুষিত ইরাকে বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের অধিকাংশের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গাজা, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাকজুড়ে বিস্তৃত ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এসব গোষ্ঠী।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের পর ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর ব্যানারে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার বিরুদ্ধে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ বা প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যায়নি।   গত বছর থেকে ইরাকের কয়েকটি প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে অস্ত্র সমর্পণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে বেশি মনোযোগ দিতে প্রস্তুত।   শাসক শিয়া জোটের দুই আইনপ্রণেতা এবং ইরাকি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জসিম আল-বাহাদলি জানিয়েছেন, শিয়া গোষ্ঠীগুলোর এই অবস্থানের কারণেই আইআরজিসি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নতুন দল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে।   ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদ সরকারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এমন অবস্থানের পর চলতি মাসে ‘আসাইব আহল আল-হাক’ এবং ‘ইমাম আলী ব্রিগেডস’ নামে দুটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়।   শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিষয়ে গবেষক জসিম আল-বাহাদলি বলেন, আইআরজিসির গড়ে তোলা নতুন দলগুলো আকারে ছোট হলেও মতাদর্শগতভাবে অধিক কঠোর এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নিজেদের সম্পদ ও প্রভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আঞ্চলিক সংকট নিরসনে ইরান–কাতারের শীর্ষ পর্যায়ের ফোনালাপ

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির মধ্যে টেলিফোনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাতারের গঠনমূলক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।   ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।   অন্যদিকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কাতারের আমির আরও বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে দোহার কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।   দুই নেতার আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।   সূত্র: কাতার নিউজ এজেন্সি

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দুবাইয়ের আবাসন খাতে ধস, বিলাসবহুল বাড়ির দাম কমছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাইয়ের বিলাসবহুল আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই রিয়েল এস্টেট বাজারে বেচাকেনা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। দুবাই-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যালুস্ট্র্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে আবাসন বিক্রি প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান লেনদেনের এই হার গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।   ভ্যালুস্ট্র্যাট-এর আবাসন গবেষণা বিভাগের প্রধান হায়দার তুয়াইমা জানান, বৈশ্বিক মহামারির পর থেকে তৈরি করা বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাজারে এত বড় ধরনের বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে দুবাইয়ের আরেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেইডিন’-এর পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে মাসে দুবাইয়ে মাত্র ২২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামের (৬.১ বিলিয়ন ডলার) সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মাসের তুলনায় এই বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক।   দুবাইয়ে গত কয়েক বছর ধরে শূন্য আয়কর নীতির কারণে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের আগমনে আবাসন খাতে এক অভাবনীয় জোয়ার এসেছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিশেষ করে মার্চ মাসে দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন শান্তি চুক্তি হলেও বাজার কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।   আবাসন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধস ঠেকাতে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাটের বিক্রেতারা এখন কোটি কোটি টাকা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। অত্যন্ত দামি সম্পত্তি কেনাবেচায় নিয়োজিত এক এজেন্ট জানান, বর্তমানে যে দু-একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম। গত দেড় বছরে দুবাইয়ে বাড়ি কেনা অতি-ধনী ক্রেতাদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ক্রেতারা এখন দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনা থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বিরত থাকছেন।   গত ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ লন্ডন, নিউইয়র্ক ও হংকংকে পেছনে ফেলে বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে দুবাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম শহর। কিন্তু ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুবাইয়ের এই অবস্থান এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিব্রাজক অতি-ধনীরা এখন দুবাই ছেড়ে মিলান, লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরের মতো নিরাপদ আন্তর্জাতিক শহরের দিকে ঝুঁকছেন। এই আকস্মিক ধসের কারণে দুবাইয়ে গড়ে ওঠা শত শত ছোট রিয়েল এস্টেট ব্রোকার এজেন্সি এখন ব্যবসা বন্ধ করার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ | ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি চুক্তি অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক সাক্ষী হতে সুইজারল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই সফরের স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতিমধ্যে ইলেকট্রনিক উপায়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ও কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে এই চুক্তিটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফরটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক কয়েক স্তরের প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সমর্থন ও সহযোগিতা সর্বদা অব্যাহত থাকবে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারক অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে আরোপিত তাদের নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেবে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সহযোগীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্যালেস অব ভার্সাইয়ে মোমবাতির আলোয় নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। সেই বিশেষ মুহূর্তে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং উপস্থিত অন্যান্য বিশ্বনেতারা তালি দিয়ে এই চুক্তিকে স্বাগত জানান। প্রাসাদ থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘এইমাত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করলাম।’’   অন্যদিকে এই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান প্রশাসনও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির মূল দলিলটি দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল।   সূত্র: এএফপি এবং ডন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘নেতানিয়াহু সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান’, উপদেষ্টাদের কাছে ট্রাম্পের মন্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছে মন্তব্য করেছেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সামলানো কঠিন। তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহু ‘সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান’। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের বলেছেন, নেতানিয়াহু তার কাছে ‘চমৎকার’ একজন ব্যক্তি মনে হলেও অনেক সময় তিনি সীমা অতিক্রম করে ফেলেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া বেশির ভাগ ফোনালাপেই নেতানিয়াহু নতুন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব আলোচনায় ট্রাম্প ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।   ওই কর্মকর্তা বলেন, “বিবি (নেতানিয়াহু) প্রেসিডেন্টকে বোঝান কেন কোনো স্থানে হামলা চালানো প্রয়োজন, কেন ইসরাইলি গোয়েন্দারা তা করতে সক্ষম এবং কখন তা করা উচিত। প্রেসিডেন্ট এসব শোনেন। প্রায় প্রতিটি ফোনালাপ একই ধরনের হয়।”   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও সামরিক অভিযান ও আঞ্চলিক সংঘাত মোকাবিলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশল নিয়ে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির কথাও উঠে এসেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজের জন্য ‘ভিআইপি পাস’ আনছেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে এক অভিনব উদ্যোগ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ মালিকদের জন্য নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা স্কোয়াড বা এসকর্ট দেওয়ার একটি ‘ভিআইপি পাস’ ব্যবস্থা নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা চলছে। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বর্তমানে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো বীমা সুবিধা পাচ্ছে না। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং জাহাজ মালিকদের প্রণালীটি ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে আগ্রহী করতেই এই বিশেষ পাস চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে।   জ্বালানি খাতের দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে পলিটিকো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় জাহাজ মালিকরা নির্দিষ্ট ফি বা টোল পরিশোধের মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়সহ দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। এক কর্মকর্তার ভাষায়, ‘এটি হবে মূলত একটি ভিআইপি পাসের মতো, যেখানে অর্থের বিনিময়ে শতভাগ নিরাপদ ও দ্রুত ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’   সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই কৌশলী প্রস্তাবের পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি মূলত ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা দায়িত্বের একটি অংশ চাপিয়ে দিতে চান। তার মতে, হরমুজ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পুরো দায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একা নেওয়া উচিত নয়। চলমান জি-৭ সম্মেলনের সময় ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই আলোচনা সামনে এনেছে।   এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অধিকার একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই থাকা উচিত, ইরানের নয়। তবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান মুখপাত্র টেলর রজার্স এই ফি আদায়ের আলোচনাকে ‘ভিত্তিহীন জল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের জোরালো উদ্যোগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত থাকবে এবং খুব দ্রুতই জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।   বর্তমানে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় অনেক জাহাজ মালিক এখনো পারস্য উপসাগরে অপেক্ষার অবস্থানে রয়েছেন। পণ্যবাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর বাইরে পারস্য উপসাগরে প্রায় ৫০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার মধ্যে অন্তত ২২০টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ইতিবাচক খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান চুক্তির লিখিত ভাষার বাইরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা, দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গ পাঠ দ্রুত প্রকাশের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তির লিখিত ভাষাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এতে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আড়ালের সমঝোতা বা ‘ব্যাক-চ্যানেল’ অঙ্গীকারগুলোর প্রতিফলন নেই।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির পাঠ ইচ্ছাকৃতভাবে বেশ অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সামনে শুরু হতে যাওয়া জটিল ও কারিগরি পর্যায়ের সরাসরি আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। একই সঙ্গে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে ইরান নিজ দেশের জনগণের কাছে চুক্তিটিকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যে দেড় পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকের কথা বলেছেন, তাতে ইরানের দেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের উল্লেখ নেই। তাদের দাবি, এসব প্রতিশ্রুতিই যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে সম্মত হতে অতিরিক্ত আস্থা জুগিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “এমওইউর ভাষা নিয়ে মানুষের বেশি কিছু অনুমান করা উচিত নয়।” তিনি চুক্তিটিকে মূলত একটি “রাজনৈতিক দলিল” হিসেবে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, “আসল দলিলের চেয়ে আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়াগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা করা এবং জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হবে।”   তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনায় অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও তহবিল ছাড় করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও শর্ত নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এসব সুবিধা কার্যকর হবে না।   চুক্তির পাঠ দেখেছেন এমন একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, এতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ইউরেনিয়াম ধ্বংসের প্রক্রিয়া তদারকি করবে। চুক্তিতে কেবল বলা হয়েছে, ইরান “কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না”। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিতেও তেহরান একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।   তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, আনুষ্ঠানিক নথিতে না থাকলেও গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশিত কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সমন্বয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়টিও রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।   চুক্তির আর্থিক অংশে তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যতে ইরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দুজনই জোর দিয়ে বলেছেন, এই তহবিলে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হবে না।   ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের বিষয়েও চুক্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ আলোচনায় অগ্রগতি হলে এসব সম্পদ ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে এবং ইরানের জন্য সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারযোগ্য করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা ছাড়পত্রও যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করবে।   একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিটি পুরোপুরি “কর্মসম্পাদনভিত্তিক”। ইরান কেবল তখনই এর সুবিধা পাবে, যখন তারা চুক্তির সব শর্ত মেনে চলবে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরপেক্ষ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বাধা না দেওয়া।   চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ না হলেও এর কপি ইতোমধ্যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় ও অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘুরছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন দেশের নেতা ট্রাম্পের কাছে চুক্তির কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন বলে জানা যায়।   চুক্তির গোপনীয়তা নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের জানতে চাওয়া, ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তি কেন এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি প্রকাশ করতে চায়। তবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে প্রকাশের সময়সূচি সমন্বয় করা হচ্ছে।   ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কাতার ও পাকিস্তান পুরো আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তারা চেয়েছে চুক্তি প্রকাশের প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হোক।” সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা দ্রুত চুক্তির পাঠ প্রকাশ করতে আগ্রহী হলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার প্রতি কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে।   একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই চুক্তির পাঠ প্রকাশ করা হোক। তারা আমাদের শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে। তবে আমরা এর আগেই প্রকাশের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছি।” কর্মকর্তাদের মতে, বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির অবস্থান। তিনি সমঝোতা স্মারকে নীরব সমর্থন দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে তিনি কোনো বিবৃতি দেবেন কি না, তা নিয়েও তেহরানে আলোচনা চলছে।   মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি একটি “আনুষ্ঠানিক পরিবেশে” চুক্তিটি প্রকাশ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলিলটির বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি এতটাই সন্তুষ্ট যে চাইলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শব্দে শব্দে তা পড়ে শোনাতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা প্রথম পর্বের তুলনায় অনেক সহজ হবে।   শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমাকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা “পরীক্ষামূলক পর্ব” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, এই সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন মূল্যায়ন করবে ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কতদূর ছাড় দিতে প্রস্তুত। একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মূলত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়েই বেশি মনোযোগী। শেষ পর্যন্ত আস্থা তৈরি এবং বাস্তব বিষয়গুলোতে অগ্রগতি অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-মার্কিন চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির আওতায় ইরানে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চুক্তি সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, তহবিলটির অর্ধেকেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র জানায়, চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান এবং একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় পক্ষকে অর্থনৈতিকভাবে উৎসাহিত করতেই এই তহবিলের ধারণা তৈরি করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তহবিলটির পুরো অর্থই আসবে বেসরকারি খাত থেকে। এতে কোনো সরকারি অর্থ বা অনুদান থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন কোম্পানি এতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।   গত রোববার মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতার কথা জানান। চুক্তি কার্যকর হলে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ বা পুনর্গঠন তহবিল নয়; বরং একটি বেসরকারি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম। তহবিলের অর্থ মূলত জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ করা হবে।   রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রথমে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে বিকল্প হিসেবে ‘পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিল’ গঠনের ধারণা সামনে আসে।   এই তহবিলের আওতায় যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মোবারকেহ স্টিল কমপ্লেক্স, বিভিন্ন তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   দীর্ঘ কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল ইরানের অর্থনীতি। অথচ দেশটির রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ এবং চতুর্থ বৃহত্তম তেলের মজুদ। পাশাপাশি ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যা এবং পেট্রোকেমিক্যাল, খনি, কৃষি ও পর্যটনের মতো সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে।   সূত্রটি জানিয়েছে, ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা বা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার সঙ্গে এই তহবিলের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর হবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিন প্রকল্পের কাঠামো, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ চলবে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান বা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানকে এই তহবিলের সুবিধা পেতে হলে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংস এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থার মতো কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।   দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কোম্পানি তহবিলে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও কৌশলগত কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। আগামী দুই মাসে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যাবে দুই দেশ।   সূত্র: রয়টার্স

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভির । ছবি: সংগৃহীত
চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয়, লেবাননে হামলা থামবে না: ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভির। তিনি দাবি করেছেন, ওই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।   ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেন গাভির ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া প্রথম ইসরায়েলি শীর্ষ নেতাদের একজন। সোমবার নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চুক্তি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। আমরা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নই। এটি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।”   লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা। তার ভাষায়, “হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার কম কোনো কিছুতেই আমরা সন্তুষ্ট হব না।”   বেন গাভির আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনারা যেসব এলাকা দখল করেছে এবং যেগুলোকে তিনি “সন্ত্রাসী অবকাঠামোমুক্ত” বলে উল্লেখ করেছেন, সেসব এলাকা থেকে কোনোভাবেই সেনা প্রত্যাহার করা উচিত নয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পক্ষের কূটনৈতিক উদ্যোগের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ওই সমঝোতায় চলমান সংঘাত কমে আসবে এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।   তবে বেন গাভিরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অংশ এই চুক্তিকে সমর্থন করছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিভক্ত মতামতকে আরও স্পষ্ট করছে, যেখানে একপক্ষ কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে এবং অন্যপক্ষ সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
আব্বাস আরাগচি | ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে বাদ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা অসম্ভব বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সবার স্বার্থের স্বীকৃতির মাধ্যমেই কেবল মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে উপেক্ষা করে বা বাদ দিয়ে কোনোভাবেই এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাবলি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সকলের স্বার্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বেশি স্পষ্ট করে তুলেছে।   রোববার ইরানের তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক কর্মী এবং গণসমাবেশ আয়োজকদের সাথে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। বৈঠকে আব্বাস আরাগচি দেশের কৌশলগত অগ্রগতি এবং শত্রুদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার পেছনে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের চূড়ান্ত ভূমিকার কথা গভীর গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক দরবারে ইরানের প্রকৃত শক্তির প্রকাশ কেবল তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; বরং জাতীয় সংহতি এবং দেশের ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ মানুষের সচেতন উপস্থিতিই ইরানের আসল শক্তি।   বারো দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের বিপরীতে দেশের অর্জনের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান কেবল রণক্ষেত্রে বা কৌশলগতভাবেই জয়ী হয়নি, বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক ও রাজনৈতিক ফলাফল অর্জন করেছে। এই সফলতার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।   আঞ্চলিক নিরাপত্তার চলমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আব্বাস আরাগচি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এটিই প্রমাণ করেছে যে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে হলে ইরানসহ এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই এই অঞ্চলের সব দেশের অংশগ্রহণ এবং একটি যৌথ সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করতে হবে—যা ইরান বরাবরই সমর্থন ও দাবি জানিয়ে আসছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বিরোধ মেটাতে পাকিস্তানকে পূর্ণ সমর্থন দিল কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রতি এবার নিজেদের আনুষ্ঠানিক পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে কাতার। গত শনিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।   কাতারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ফোনালাপের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আলোচনা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের এই শীর্ষ নেতার ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির সমসাময়িক নানা বিষয় গুরুত্বের সাথে উঠে আসে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতি ও অগ্রগতির বিষয়ে কাতারকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যের সূত্র ধরে কাতার গভীর আশা প্রকাশ করেছে যে, খুব শীঘ্রই বিশ্বের পরাশক্তি রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি টেকসই চূড়ান্ত শান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে সক্ষম হবে।   কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশটির মহামান্য প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের এই আন্তরিক শান্তি ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে কাতারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি চলমান আঞ্চলিক সংকট সমাধানের জন্য পাকিস্তানের বৈশ্বিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের গুরুত্বের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।   বিবৃতিতে কাতার এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। সেই লক্ষ্যে বৈশ্বিক সংকট উত্তরণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে এবং পাকিস্তানের এই আন্তরিক উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিতে সংশ্লিষ্ট অন্য সব পক্ষকেও বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে দেশটি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। ছবি: সংগৃহীত
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।   পোস্টে শাহবাজ শরিফ উল্লেখ করেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই ডিজিটাল মাধ্যমে এই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং এর ধারাবাহিকতায় আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।   তিনি আরও বলেন, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক যেসব দেশ এই আলোচনায় সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছে, তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   পোস্টের শেষাংশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে তারা বিশ্বাস করেন।   উল্লেখ্য, পাকিস্তান এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কয়েকটি ধাপ আয়োজন করেছে। ১১ ও ২১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দুই দফা বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও তখন কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।   এবার নতুন করে সম্ভাব্য চুক্তির সময়সীমা সামনে আসায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ওমানের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটি নিরাপদে তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং এতে কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি।   যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানায়, ওমান উপকূলের পোর্ট বো এলাকার কাছ থেকে প্রায় ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে ট্যাঙ্কারটিকে লক্ষ্য করে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এটি জাহাজটির সামনের অংশে আঘাত হানে।   যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় জানায়, হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করে যে, হামলার কারণে সমুদ্রে কোনো তেল বা রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি।   প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ট্যাঙ্কারটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নৌ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি ওই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
লেবাননের টাইর শহরে ইসরায়েলি হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ছবি: EPA
দক্ষিণ লেবাননের ২০টি শহর ও গ্রামে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্দেশ

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।   লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, টাইর জেলার মারাকেহ শহরে চালানো এক বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণের জেজ্জিন জেলায় আর-রিহান পৌরসভার মেয়র আলি বাদি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এছাড়া নাবাতিয়ে জেলার দেইর আল-জাহরানি ও কাফর রেমানে পৃথক হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।   এনএএ আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবাইল এলাকায় ভোরের দিকে চালানো হামলায় একাধিক ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবন ধ্বংস হয়েছে।   এর পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবাতিয়ে ও জেজ্জিন অঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের “তৎক্ষণাৎ এলাকা ত্যাগ করে জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার” নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশের আওতায় রয়েছে দেইর আল-জাহরানি, আল-নামিরিয়ে, হারুফ, কফর রুমানসহ একাধিক এলাকা।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তরাঞ্চলীয় মেতুলা শহরে “লেবানন থেকে আসা একটি শত্রু ড্রোন অনুপ্রবেশ” শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।   আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী এমন সব এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যেগুলো তারা “ইয়েলো লাইন” নামে পরিচিত সীমার অনেক উত্তরে অবস্থিত এলাকা হিসেবেও বিবেচনা করছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ এবার ইরানের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।   ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত ওই সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইলন মাস্ক পরিচালিত স্টারলিংকসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করছে—এমন প্রমাণ পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   ফার্স নিউজের ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দখলকৃত ভূখণ্ড, কাতার, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত স্টারলিংকের গ্রাউন্ড স্টেশনগুলো এখন ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত।   এর পাশাপাশি স্পেসএক্সের (SpaceX) অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং 'আল-ফাজাবি' ও 'মুবাডালা'-এর মতো কোম্পানির অবকাঠামোও এই হিটলিস্টে জায়গা পেয়েছে।   তবে আইআরজিসি বা ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ ফার্স নিউজের এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বা বিষয়টি অস্বীকারও করেনি।   যদিও গত কয়েকদিন ধরে স্পেসএক্সের কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন ইরানের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ফার্স নিউজ তাদের এই দাবিটি সামনে এনেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ছবি: রয়টার্স
‘আজ রাতে তেহরানকে জ্বলতে হবে’: ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের মন্তব্যে নতুন উত্তেজনা

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের কট্টর-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হিব্রু ভাষায় সংক্ষিপ্ত একটি পোস্টে লেখেন, ‘আজ রাতে তেহরানকে জ্বলতে হবে।’   এর আগে ইরান থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার পরপরই বেন-গভির এই মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে একাধিক পোস্টে জানায়, রোববার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরান থেকে আসা সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর হোম ফ্রন্ট কমান্ড বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দেয়।   অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের টায়ার ও নাবাতিহ অঞ্চলের বেসামরিক হতাহতের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করে।   আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আজ রাতের অভিযান ছিল একটি সতর্কবার্তা। যদি এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে এর জবাব আরও বিস্তৃত হবে এবং এই অঞ্চলের সব আমেরিকান-জায়নবাদী লক্ষ্যবস্তু এতে অন্তর্ভুক্ত হবে।’   বেন-গভিরের মন্তব্য এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।  

শাহারিয়া নয়ন জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0