সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মাউন্ট এভারেস্ট

১৯২৪ সালে জর্জ ম্যালরির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ার দিকে যাত্রা করেছিলেন স্যান্ডি আরভাইন। ছবি: সংগৃহীত
১০০ বছর পর এভারেস্টে মিলল নিখোঁজ পর্বতারোহীর দেহাবশেষ, বদলে যেতে পারে প্রথম এভারেস্ট জয়ীর ইতিহাস

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম বড় পর্বতারোহণ রহস্য হয়ে থাকা স্যান্ডি আরভাইনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন সূত্র মিলেছে। ১৯২৪ সালে জর্জ ম্যালরির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্রিটিশ পর্বতারোহী অ্যান্ড্রু কমিন ‘স্যান্ডি’ আরভাইনের বলে ধারণা করা হচ্ছে এমন একটি জুতা ও পায়ের অংশ ২০২৪ সালে এভারেস্টে পাওয়া যায়। জুতার ভেতরের মোজায় লাল অক্ষরে ‘A.C. IRVINE’ লেখা নামের ফিতা ছিল।   ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে লেখক জুলি সামার্স ও পর্বতারোহণ ইতিহাসবিদ ইয়োখেন হেমলেবের নতুন বই ‘দ্য এভারেস্ট মিস্ট্রি: স্যান্ডি আরভাইন, জর্জ ম্যালরি অ্যান্ড দ্য ট্রুথ স্টিল বারিড অন এভারেস্ট’ প্রকাশের আগে। বইটিতে আরভাইনের জীবন, ১৯২৪ সালের সেই অভিযানের শেষ মুহূর্ত এবং ম্যালরি-আরভাইন আদৌ এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন কি না এসব প্রশ্ন নতুন করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বইটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশের কথা রয়েছে।   স্যান্ডি আরভাইন ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। অভিজ্ঞ পর্বতারোহী হিসেবে ম্যালরির তুলনায় তিনি অনেকটাই নবীন ছিলেন। কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা ও যন্ত্রপাতি নিয়ে দক্ষতার কারণে ম্যালরি তাকে শেষ অভিযানের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন বলে গবেষকেরা মনে করেন। আরভাইন অক্সফোর্ডের নৌকাবাইচ দলেরও দক্ষ খেলোয়াড় ছিলেন। একই সঙ্গে ১৯২৪ সালের অভিযানে ব্যবহৃত অক্সিজেন সরঞ্জামকে হালকা ও কার্যকর করার কাজেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।   ১৯২৪ সালের ৮ জুন ম্যালরি ও আরভাইন এভারেস্টের চূড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযানের আরেক সদস্য নোয়েল ওডেল দূর থেকে দুজনকে শেষবারের মতো দেখতে পান। কুয়াশা নেমে আসার আগে তারা পাহাড়ের ওপরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর তারা আর ফিরে আসেননি।   তখন থেকেই প্রশ্ন ছিল ঠিক কী ঘটেছিল তাদের সঙ্গে? ১৯৯৯ সালে ম্যালরির দেহ এভারেস্টের প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় খুঁজে পাওয়া যায়। তার দেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং দড়ির দাগ ছিল। এসব আলামত থেকে গবেষকদের ধারণা, ম্যালরি ও আরভাইন সম্ভবত দড়ি দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে বাঁধা ছিলেন এবং কোনো এক সময় দুর্ঘটনায় পড়ে যান। তবে আরভাইনের কোনো চিহ্ন তখনও পাওয়া যায়নি।   আরভাইনকে খুঁজে পাওয়ার গুরুত্ব শুধু তার নিখোঁজ হওয়ার রহস্য সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার কাছে একটি ছোট কোডাক ভেস্ট পকেট ক্যামেরা থাকার কথা ছিল। যদি সেই ক্যামেরাটি উদ্ধার করা যায় এবং তাতে কোনো ছবি বা ফিল্ম পাওয়া যায়, তাহলে ১৯২৪ সালের ওই অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ম্যালরি ও আরভাইন কি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন? কারণ ১৯৫৩ সালে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে প্রথমবারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছানোর স্বীকৃতি পাওয়ার প্রায় তিন দশক আগে ম্যালরি ও আরভাইন সেখানে পৌঁছে থাকলে পর্বতারোহণের ইতিহাসই বদলে যাবে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটি দল এভারেস্টের উত্তর দিকের সেন্ট্রাল রংবুক হিমবাহ এলাকায় অনুসন্ধান চালানোর সময় পুরোনো একটি জুতা দেখতে পায়। জুতাটি বরফ থেকে বেরিয়ে ছিল। পরে সেটির ভেতরে মানুষের পায়ের অংশ এবং নাম লেখা মোজা পাওয়া যায়। নামটি ছিল ‘A.C. IRVINE’।   দলটির নেতৃত্বে ছিলেন পর্বতারোহী, আলোকচিত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জিমি চিন। পরে চীনের তিব্বত পর্বতারোহণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জুতা ও পায়ের অংশটি এভারেস্ট থেকে সরিয়ে নেন। আরও শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয় এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেটি নিয়ে কাজ করা হয়। আরভাইনের নাম লেখা মোজাটি আবিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলোর একটি। গবেষকদের মতে, এটি শত বছর পর তার দেহাবশেষ যে এখনো এভারেস্টে রয়েছে, সে বিষয়ে শক্ত প্রমাণ দেয়। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা শেষ মুহূর্তে তিনি ও ম্যালরি কোথায় ছিলেন—তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।   আরভাইনের পায়ের অংশ যেখানে পাওয়া গেছে, সেটি ম্যালরির দেহ পাওয়ার স্থান থেকে অনেক নিচে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে তার দেহাবশেষ এতটা নিচে চলে গেল। এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, দুর্ঘটনার সময় ম্যালরি ও আরভাইনকে যুক্ত করা দড়ি ছিঁড়ে গেলে আরভাইন পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গিয়ে হিমবাহে পৌঁছাতে পারেন। এরপর শত বছর ধরে বরফের ধীর গতির প্রবাহ তার দেহাবশেষ আরও নিচের দিকে সরিয়ে নিতে পারে।   তবে বিষয়টি নিয়ে আরও কিছু পুরোনো রহস্যও রয়েছে। ১৯৬০ ও ১৯৭৫ সালের চীনা এভারেস্ট অভিযানে পুরোনো পোশাক পরা একজন ইউরোপীয় ব্যক্তির দেহ দেখতে পাওয়ার দাবি উঠেছিল। এসব বিবরণ নিয়ে পরবর্তীতে নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে সেগুলোর কোনোটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ১৯৩৩ সালের একটি ব্রিটিশ অভিযানে আরভাইনের ব্যবহৃত বরফকুঠারও এভারেস্টের উত্তর-পূর্ব শৈলশিরায় পাওয়া গিয়েছিল। ফলে তার দেহ কোথায় থাকতে পারে, সে বিষয়ে পরবর্তী অনুসন্ধানকারীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।   নতুন আবিষ্কার সেই অনুসন্ধানের পরিধিও সংকুচিত করেছে। গবেষকদের ধারণা, আরভাইনের অন্যান্য সরঞ্জাম বিশেষ করে সেই হারিয়ে যাওয়া ক্যামেরা এখনো আশপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্যামেরাটি উদ্ধার হয়নি। ফলে ম্যালরি ও আরভাইন ১৯২৪ সালেই বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো অমীমাংসিত। এক শতাব্দী পর আরভাইনের জুতা ও পায়ের অংশের সন্ধান তাই শুধু একজন নিখোঁজ পর্বতারোহীর পরিচয় নিশ্চিত করার ঘটনা নয়; এটি এভারেস্টের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রহস্যের নতুন একটি অধ্যায় খুলে দিয়েছে।   তবে আরভাইনের নাতনি জুলি সামার্সের কাছে গল্পটির গুরুত্ব শুধু মৃত্যুর রহস্যে নয়। তার মতে, ১৯২৪ সালের প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ম্যালরি ও আরভাইন এভারেস্টে যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, সেটিই ছিল অসাধারণ অর্জন। এক শতাব্দী পরও তাদের সেই সাহসিকতা ও অভিযানের গল্পই মানুষের আগ্রহ ধরে রেখেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
মাউন্ট এভারেস্টে | ছবি: ফাইল ফটো
মাউন্ট এভারেস্টে ৩০ বছর ধরে জমে থাকা পর্বতারোহীর লাশ উদ্ধারে নামছে ভারত

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে প্রায় ৩০ বছর আগে এক ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণ হারানো এক ভারতীয় পর্বতারোহীর হিমায়িত বা বরফাবৃত লাশ উদ্ধারের জন্য একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করছে ভারত কর্তৃপক্ষ। তিব্বত সীমান্তের পাহাড়ি অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকারী বিশেষ বাহিনী 'ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ' বা আইটিবিপি এভারেস্টের উত্তর ঢাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে 'গ্রিন বুটস' নামে পরিচিত ওই পর্বতারোহীর দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার জন্য উচ্চ-উচ্চতার উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করেছে।   সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, চুক্তিভুক্ত উদ্ধারকারী দলটিকে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে এই লাশটি উদ্ধার করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে আসতে হবে। এভারেস্টের ইতিহাসে এটি অন্যতম সবচেয়ে কঠিন ও প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং উদ্ধার অভিযান হতে যাচ্ছে। নেপালভিত্তিক এভারেস্ট শেরপা এক্সপিডিশনের প্রতিষ্ঠাতা ছিরিং জাংবু শেরপা জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযান সাধারণ পর্বতারোহণের চেয়ে দ্বিগুণ বিপজ্জনক এবং পুরো উদ্ধারকারী দলের জন্য এটি একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ মিশন।   উদ্ধারকারী দল ও পর্বতারোহীদের কাছে কয়েক দশক ধরে এই লাশটি এভারেস্টের অন্যতম একটি পরিচিত চিহ্ন বা ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত ছিল। মৃতদেহের পায়ে থাকা উজ্জ্বল সবুজ রঙের জুতো বা বুটের কারণে এটিকে 'গ্রিন বুটস' নামে ডাকা হতো। এভারেস্টের প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই লাশটি মূলত তিব্বত দিক থেকে পর্বত জয় করতে যাওয়া আরোহীদের জন্য পথ চেনার একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। এই উচ্চতাটি এভারেস্টের 'ডেথ জোন' বা মৃত্যু অঞ্চলের অন্তর্গত, যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা এতটাই কম থাকে যে মানুষের বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।   দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো যে এই লাশটি ২৮ বছর বয়সী ভারতীয় পর্বতারোহী সেওয়াং পালজরের, যিনি ১৯৯৬ সালের মে মাসে এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে এক আকস্মিক ও তীব্র তুষারঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তবে ভারতের সাম্প্রতিক নথিপত্র এবং ডিএনএ পরীক্ষার তথ্যের ভিত্তিতে এখন নিশ্চিত হওয়া গেছে যে লাশটি আসলে পালজরের সাথে থাকা অন্য এক ভারতীয় সেনা সদস্য দর্জে মোরুপের। সেই ঝড়ে এই দলের মোট তিনজন আরোহী প্রাণ হারিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে কেবল এই মোরুপেরই সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।   মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০০টিরও বেশি মৃতদেহ বরফের নিচে বা পাহাড়ি ঢালে পড়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে অধিকাংশ লাশই উদ্ধার না করে ওভাবেই রেখে দেওয়া হয়। পর্বতারোহণ জগতের অনেকেই মনে করেন যে মৃতদের সম্মান জানিয়ে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা উচিত, আবার অনেকের মতে এর জন্য জীবিত মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা ঠিক নয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের হারিয়ে যাওয়া বীর সেনার দেহাবশেষ সসম্মানে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে এই বড় উদ্যোগ নিয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মাউন্ট এভারেস্টের বরফের ফাটলে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন নেপালি পর্বতারোহী

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের ২৫ ফুট গভীর একটি বরফের ফাটলে (ক্র্যাভাস) টানা তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন নেপালি পর্বতারোহী দাওয়া শেরপা। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে কেবল বিস্কুট, চকলেট আর বরফের টুকরো খেয়ে তিনি সেই মৃত্যুর কূপের ভেতর টিকে ছিলেন। এদিকে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার ততদিনে আশা ছেড়ে দিয়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করে দিয়েছিল। অবশেষে এক ভয়াবহ তুষারধসের কারণে সেই গভীর ফাটলটি বরফে ভরাট হয়ে একটি নতুন পথ তৈরি হয়, যার সাহায্যে তিনি অলৌকিকভাবে মুক্ত হতে সক্ষম হন।   ৫৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ শেরপা বর্তমানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিজের ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি জানান, ফাটল থেকে কোনোমতে বের হয়ে আসার পর ভাঙা পা এবং প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমে যাওয়া (ফ্রস্টবাইট) আঙুল নিয়ে তিনি পর্বত বেয়ে নিচে নেমে আসেন। গত ২৯ মে এভারেস্টের বুকে একা হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে তিনি বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।   ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ মে, যখন হিমালয়ান ট্রাভার্স অ্যাডভেঞ্চার নামের একটি ছোট পর্যটন সংস্থার হয়ে দাওয়া শেরপা এভারেস্টের প্রায় ২৭,৫৫৯ ফুট উঁচুতে আরোহণ করেন। ফেরার পথে ক্যাম্প ফোরে পৌঁছানোর পর তার অক্সিজেন সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যায়। চরম অক্সিজেন সংকটের কারণে তার হাত-পা অবশ হয়ে পড়লে তিনি তার দলের অন্য সদস্যদের এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর তীব্র ঝড়-বাতাসের মধ্যে একা একা ক্যাম্প থ্রি ও ক্যাম্প টু পার করে বেস ক্যাম্পের দিকে আসার সময় খুম্বু আইসফলের একটি মই থেকে পা পিছলে তিনি গভীর ফাটলে পড়ে যান।   ফাটলের ভেতরের মসৃণ বরফের দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠার কোনো উপায় ছিল না। দাওয়া শেরপা জানান, আটকে থাকার দ্বিতীয় দিনে তিনি মাথার ওপর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের শব্দ শুনলেও গভীর ফাটলে থাকার কারণে তাদের নজরে আসতে পারেননি। ঠিক যখন তিনি বেঁচে থাকার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখনই একটি বিশাল তুষারধস (অ্যাভালাঞ্চ) উপর থেকে নেমে আসে। সৌভাগ্যবশত সেই বরফের ধস তাকে চাপা না দিয়ে ফাটলের গভীর অংশটি ভরাট করে দেয়, যা বেয়ে তিনি দীর্ঘ এক ঘণ্টার চেষ্টায় ওপরে উঠে আসতে পারেন।   উপরে উঠে একটি দড়ির সাহায্য নিয়ে ৪ জুন সকালে তিনি বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে সাগরমাথা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির একটি দল তাকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাকে দ্রুত কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি মারাত্মক পানিশূন্যতা, ফ্রস্টবাইট এবং উরুর হাড় ভাঙা জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এই অবিশ্বাস্য বেঁচে যাওয়ার ঘটনায় পর্বতারোহী মহলে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলেও, তাকে সময়মতো উদ্ধার করতে না পারার কারণে উদ্ধারকারী ব্যবস্থার ওপর তীব্র ক্ষোভ ও তদন্তের দাবি উঠেছে।   চলতি বছর মাউন্ট এভারেস্টে রেকর্ড সংখ্যক আরোহীর ভিড় হওয়ায় পর্বতারোহণ খাতে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে রেকর্ড ১,০০০-এর বেশি পর্বতারোহী এভারেস্ট জয় করেছেন, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এবং অনভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পাহাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে অভিজ্ঞ শেরপারা এখন এভারেস্টে আরোহীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাস গড়লেন জাকিয়া, প্রথম আফগান নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন জাকিয়া আহমাদ, যিনি পরিচিত মহলে 'রিভার' নামেও সমাদৃত। প্রথম আফগান নারী হিসেবে তিনি এই অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে নেপালের খুম্বু অঞ্চলের থেম গ্রামের দুই নেপালি গাইড দাওয়া তেনজিং শেরপা এবং ফুরবা গ্যালজেন শেরপাকে সাথে নিয়ে ৮,৮৪৮ মিটার উঁচু এই পর্বতচূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করেন তিনি। পাকিস্তানের সরকারি পর্বতারোহণ সংস্থা 'আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান' বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   পেশায় মানবাধিকার কর্মী ও বর্তমান জীবনে একজন শরণার্থী জাকিয়ার পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতা পুনর্দখলের পর প্রাণ বাঁচাতে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তার এই সফল এভারেস্ট আরোহণ আফগানিস্তানের জন্য এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশের নারী পর্বতারোহীদের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। জাকিয়ার এই অর্জনকে বিশ্বজুড়ে নারী, শরণার্থী এবং বাস্তুচ্যুত সম্প্রদায়ের মানুষের অদম্য সাহসিকতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তার সমর্থকেরা।   চরম উচ্চতা এবং পদে পদে মৃত্যুঝুঁকি ও বিপজ্জনক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও হিমালয় পর্বতমালার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্ট প্রতি বছর সারা বিশ্বের পর্বতারোহীদের আকর্ষণ করে। এদিকে, জাকিয়া আহমাদের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার একই দিনে এভারেস্ট জয় করেছেন পাকিস্তানি পর্বতারোহী সালমান আতিকও। আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান জানিয়েছে, বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মানাসলু জয়ের ঠিক এক বছর পূর্তিতে তিনি এই নতুন সাফল্য পেলেন। ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট করার হায়দরি সালমানের এই অদম্য সংকল্প ও সাহসিকতাকে পাকিস্তানের তরুণ অভিযাত্রীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন।

তাবাস্সুম মে ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নেপাল রুটে এভারেস্ট জয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড, এক দিনেই চূড়ায় ২৭৪ আরোহী

মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আরোহণের নতুন বিশ্বরেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত বুধবার নেপাল রুট (দক্ষিণ দিক) ব্যবহার করে এক দিনেই রেকর্ডসংখ্যক ২৭৪ জন পর্বতারোহী বিশ্বের সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায় পা রেখেছেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে এক দিনে সর্বোচ্চ ২২৩ জন আরোহী নেপাল দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছিলেন।   নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা খিমলাল গৌতম জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বুধবার ভোর ৩টা থেকে টানা ১১ ঘণ্টা আরোহীরা চূড়ায় ওঠার অভিযান চালান। চীন এবার তাদের তিব্বত রুটটি বিদেশি আরোহীদের জন্য বন্ধ রাখায় নেপাল রুটে আরোহীদের এই উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। চলতি বসন্তকালীন মৌসুমে নেপাল সরকার রেকর্ড রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৫০০ জন বিদেশি আরোহীকে এভারেস্টের অনুমতিপত্র বা পারমিট দিয়েছে।   পারমিট ফি বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার ডলার হলেও এভারেস্টে আরোহীদের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়েছে। অধিকাংশ আরোহীর সাথে অন্তত একজন নেপালি গাইড থাকায় ৮,০০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত বিপজ্জনক ‘ডেথ জোন’-এ পর্বতারোহীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা এই ভিড় নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এক্সপিডিশন আয়োজকেরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাথে থাকলে এটি বড় কোনো সমস্যা নয়।   এবারের এভারেস্ট অভিযানে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিগত রেকর্ডও তৈরি হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী কিংবদন্তি নেপালি গাইড কামি রিতা শেরপা ৩২ বারের মতো এভারেস্ট জয় করে নিজের বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন। এছাড়া ‘মাউন্টেন কুইন’ খ্যাত লাকপা শেরপা ১১ বার এবং দুই পা হারানো রুশ নাগরিক রুস্তম নাবিইভ কৃত্রিম পা ছাড়াই শুধু হাতের জোরে এভারেস্ট চূড়ায় চড়েছেন।   তবে অর্জনের আনন্দের পাশাপাশি এবারের মৌসুমে বেশ কয়েকজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় মারা যাওয়া নেপালের অনগ্রসর হিন্দু দলিত সম্প্রদায়ের প্রথম আরোহী ৩৫ বছর বয়সী বিজয় ঘিমেরে এবং তুষারপাতে পা পিছলে খাদে পড়ে যাওয়া ২১ বছর বয়সী নেপালি গাইড ফুরা গ্যালজেন শেরপা অন্যতম।  

তাবাস্সুম মে ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০