আন্তর্জাতিক

মাউন্ট এভারেস্টের বরফের ফাটলে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন নেপালি পর্বতারোহী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ৯:৫০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের ২৫ ফুট গভীর একটি বরফের ফাটলে (ক্র্যাভাস) টানা তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন নেপালি পর্বতারোহী দাওয়া শেরপা। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে কেবল বিস্কুট, চকলেট আর বরফের টুকরো খেয়ে তিনি সেই মৃত্যুর কূপের ভেতর টিকে ছিলেন। এদিকে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার ততদিনে আশা ছেড়ে দিয়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করে দিয়েছিল। অবশেষে এক ভয়াবহ তুষারধসের কারণে সেই গভীর ফাটলটি বরফে ভরাট হয়ে একটি নতুন পথ তৈরি হয়, যার সাহায্যে তিনি অলৌকিকভাবে মুক্ত হতে সক্ষম হন।

 

৫৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ শেরপা বর্তমানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিজের ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি জানান, ফাটল থেকে কোনোমতে বের হয়ে আসার পর ভাঙা পা এবং প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমে যাওয়া (ফ্রস্টবাইট) আঙুল নিয়ে তিনি পর্বত বেয়ে নিচে নেমে আসেন। গত ২৯ মে এভারেস্টের বুকে একা হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে তিনি বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

 

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ মে, যখন হিমালয়ান ট্রাভার্স অ্যাডভেঞ্চার নামের একটি ছোট পর্যটন সংস্থার হয়ে দাওয়া শেরপা এভারেস্টের প্রায় ২৭,৫৫৯ ফুট উঁচুতে আরোহণ করেন। ফেরার পথে ক্যাম্প ফোরে পৌঁছানোর পর তার অক্সিজেন সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যায়। চরম অক্সিজেন সংকটের কারণে তার হাত-পা অবশ হয়ে পড়লে তিনি তার দলের অন্য সদস্যদের এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর তীব্র ঝড়-বাতাসের মধ্যে একা একা ক্যাম্প থ্রি ও ক্যাম্প টু পার করে বেস ক্যাম্পের দিকে আসার সময় খুম্বু আইসফলের একটি মই থেকে পা পিছলে তিনি গভীর ফাটলে পড়ে যান।

 

ফাটলের ভেতরের মসৃণ বরফের দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠার কোনো উপায় ছিল না। দাওয়া শেরপা জানান, আটকে থাকার দ্বিতীয় দিনে তিনি মাথার ওপর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের শব্দ শুনলেও গভীর ফাটলে থাকার কারণে তাদের নজরে আসতে পারেননি। ঠিক যখন তিনি বেঁচে থাকার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখনই একটি বিশাল তুষারধস (অ্যাভালাঞ্চ) উপর থেকে নেমে আসে। সৌভাগ্যবশত সেই বরফের ধস তাকে চাপা না দিয়ে ফাটলের গভীর অংশটি ভরাট করে দেয়, যা বেয়ে তিনি দীর্ঘ এক ঘণ্টার চেষ্টায় ওপরে উঠে আসতে পারেন।

 

উপরে উঠে একটি দড়ির সাহায্য নিয়ে ৪ জুন সকালে তিনি বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে সাগরমাথা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির একটি দল তাকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাকে দ্রুত কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি মারাত্মক পানিশূন্যতা, ফ্রস্টবাইট এবং উরুর হাড় ভাঙা জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এই অবিশ্বাস্য বেঁচে যাওয়ার ঘটনায় পর্বতারোহী মহলে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলেও, তাকে সময়মতো উদ্ধার করতে না পারার কারণে উদ্ধারকারী ব্যবস্থার ওপর তীব্র ক্ষোভ ও তদন্তের দাবি উঠেছে।

 

চলতি বছর মাউন্ট এভারেস্টে রেকর্ড সংখ্যক আরোহীর ভিড় হওয়ায় পর্বতারোহণ খাতে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে রেকর্ড ১,০০০-এর বেশি পর্বতারোহী এভারেস্ট জয় করেছেন, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এবং অনভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পাহাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে অভিজ্ঞ শেরপারা এখন এভারেস্টে আরোহীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
অবরোধ ও বিক্ষোভে অচল বলিভিয়া, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও তীব্র বিক্ষোভের মুখে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) বলিভিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ এক বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশজুড়ে এই জরুরি অবস্থা জারি করেন। দেশটির সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট এভো মোরালেসের অনুসারী ও সমর্থকদের টানা আন্দোলনের মুখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।   প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা গত প্রায় ৫০ দিন ধরে দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলো অবরোধ করে রেখেছে। এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের কারণে বলিভিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে খাদ্যদ্রব্য, জরুরি জ্বালানি তেল এবং জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের এই টানা অবরোধের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।   এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, আমি দেশের সব অবরুদ্ধ সড়কগুলো অবমুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে জরুরি অবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছি। বলিভিয়ার সাধারণ জনগণ আর এমন কোনো অন্যায় অবরোধের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না, যা তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম করা, সন্তানদের পড়াশোনা, জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করা এবং পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে।   প্রেসিডেন্ট পাজ তার ভাষণে আরও জানান, এই জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে দেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে আরও কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার মতে, দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাই এই জরুরি অবস্থা ঘোষণার একমাত্র উদ্দেশ্য। তিনি অভিযোগ করেন যে, মুষ্টিমেয় কিছু সুসংগঠিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করে পুরো দেশকে অচল করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা কোনো একটি গণতান্ত্রিক সরকার মেনে নিতে পারে না।   উল্লেখ্য, মধ্যপন্থী রাজনৈতিক নেতা রদ্রিগো পাজ মাত্র সাত মাস আগে বলিভিয়ার ক্ষমতায় আসেন। প্রায় দুই দশক ধরে চলা বামপন্থী শাসনের অবসানের পর দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের সময় তিনি মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার এই নির্বাচনি বিজয়কে বলিভিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় ধরণের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়, কারণ ২০০৬ সাল থেকে দেশটি প্রায় একটানা বামপন্থী রাজনৈতিক দল 'মুভমেন্ট টু সোশ্যালিজম' (এমএএস)-এর কঠোর নিয়ন্ত্রণে ছিল।   ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট পাজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীতল হয়ে পড়া কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে উন্নয়নের চেষ্টা করছেন, যা ২০০৯ সাল থেকে বন্ধ ছিল। গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অর্থনৈতিক সহযোগিতা পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। বর্তমান অস্থিরতার সূচনা হয় মূলত গত মে মাসে, যখন পাজ বাজেট ঘাটতি কমাতে দীর্ঘদিনের জ্বালানি ভর্তুকি একবারে কমিয়ে দেন, যার ফলে অর্থনীতি আরও চাপে পড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১১:৩১
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করছে ইরান

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে নিজেদের কূটনৈতিক জয়ের হিসাব কষছে চীন

ছবি: সংগৃহীত

মাউন্ট এভারেস্টের বরফের ফাটলে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন নেপালি পর্বতারোহী

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইউক্রেনের ড্রোন ভূপাতিত করতে গিয়ে নিজেদের শোধনাগারেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

বৃহস্পতিবার মস্কোর একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভুলবশত আঘাত হেনেছে রাশিয়ারই একটি দিকভ্রান্ত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র। এর ফলে শোধনাগারটির বিশাল ছাদ 'উড়ন্ত সসারের' মতো শূন্যে উড়ে যায়, যা একটি বিস্ময়কর ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে।   ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে থাকা ইউক্রেনের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার উদ্দেশ্যে ছোঁড়া রাশিয়ার সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সরাসরি শোধনাগারের স্টোরেজ ট্যাংকে আঘাত হানে। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে ট্যাংকের গোলাকার ছাদটি মাশরুম আকৃতির ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি করে আকাশে উড়ে যায় এবং পরে মাটিতে আছড়ে পড়ে।   স্ব-নির্বাসিত রুশ সামরিক বিশ্লেষক ইয়ান মাতভিভের টেলিগ্রামে পোস্ট করা ক্লিপ অনুসারে, রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এই শোধনাগারটি ইউক্রেনের হামলার কারণে আগে থেকেই জ্বলছিল এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই মিসাইলটি আঘাত হানে।   এই স্থাপনাটি মস্কো অঞ্চলের মোট জ্বালানি চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের বেশি সরবরাহ করে থাকে এবং গত মঙ্গলবারও এখানে হামলা চালানো হয়েছিল। ভুলের এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর মস্কো কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, "মস্কোয় তেলজাত পণ্যের সরবরাহ এবং শহরের সমস্ত গ্যাস স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।"   যুদ্ধের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা হিসেবে ইউক্রেন যখন রুশ রাজধানীর দিকে আক্রমণ শানিয়েছিল, তখনই এই ভুলের ঘটনা ঘটে। শোধনাগার ধ্বংসের এই ঘটনা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য সর্বশেষ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক মঠে ক্রেমলিনের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।   মস্কোর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউক্রেন বারবার রাশিয়ার তেল অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ইউক্রেনের সর্বশেষ এই হামলার বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, "যদি ইউক্রেন পোড়ে, তবে আপনাদের মস্কোও পুড়বে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করার কিয়েভের যে প্রচেষ্টা, এই হামলা তারই অংশ। তিনি বলেন, "আগ্রাসন শেষ করার সময় এসেছে, এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।"   এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে তাঁর একটি "গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় কল" হয়েছে এবং এই সপ্তাহে জি৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে মিত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সমর্থন নিশ্চিত করেছেন তিনি।   ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মস্কো এর পাল্টা জবাব হিসেবে নিজেদের হামলা আরও জোরদার করবে। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক মন্তব্যে ভোলোদিন বলেন, "তাদের এই পদক্ষেপ আমাদের পাল্টা ব্যবস্থা নিতে এবং আরও শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে কঠোরতর আঘাত হানতে বাধ্য করবে।"   কট্টর জাতীয়তাবাদী ও মিডিয়া মুঘল কনস্ট্যান্টিন মালোফেয়েভ রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে এর জবাব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং "ভদ্রলোকের মতো" যুদ্ধ করার জন্য ক্রেমলিনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মালোফেয়েভ তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, "যুদ্ধ মানে যেকোনো মূল্যে বিজয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের পূর্বপুরুষরা পুরো দেশের শক্তিকে একত্রিত করে ঠিক এই উদ্দেশ্যেই অর্থাৎ জেতার জন্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও মজুত করেছিলেন, এখন সেগুলো ব্যবহারের সময় এসেছে।"   চলতি মাসের শুরুতে পুতিনের নিজ শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ একটি গুরুতর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল। এই হামলার সময় তিনি অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) নেতাদের সাথে দেখা করতে মস্কো থেকে প্রায় ৪৩০ মাইল পূর্বে কাজানে অবস্থান করছিলেন।   সূত্রঃ  নিউইয়র্ক পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৮:৪২
ছবিঃ এ পি

কাতারের দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

ইরানের পর উত্তর কোরিয়ায় নজর দিতে চান ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পর এবার উত্তর কোরিয়ার দিকে নজর দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

চীনের অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চরম উদ্বেগে ভারত

ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা হিজবুল্লাহর

লেবাননের ভূখণ্ড ও সাধারণ মানুষকে ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ইসরাইলের বিরুদ্ধে গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ এনেছে। হিজবুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাতৃভূমি রক্ষায় যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় তাদের যোদ্ধারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।   হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী প্রতিরোধ বাহিনী’ শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং নিজেদের মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষায় তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসরাইল যে অভিযোগ তুলেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা আখ্যা দিয়ে দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে গোষ্ঠীটি। হিজবুল্লাহ জোর দিয়ে বলেছে, ইসরাইলি শত্রু পক্ষ বাস্তবে কখনোই কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত বা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেনি।   এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, যতদিন প্রয়োজন মনে হবে ততদিন ইসরাইলি সেনারা লেবাননের মাটিতে অবস্থান করবে। সেই সঙ্গে হিজবুল্লাহর যেকোনো হামলার জন্য গোষ্ঠীটিকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হবে বলেও তিনি কড়া ভাষায় প্রতিজ্ঞা করেন।   এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) লেবাননে সব ধরনের সামরিক অভিযান ও সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি উদ্যোগের তোয়াক্কা না করেই ঘোষণা দিয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধা ও তাদের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরাইলের বিমান ও স্থল অভিযান অব্যাহত থাকবে।   মাঠপর্যায়ে বিবদমান দুই পক্ষের এমন অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একদিকে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এবং অন্যদিকে চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইসরাইলের অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে এই অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৩:৫৫
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের ভেতরে আফগানিস্তানের আকস্মিক হামলা, চরমে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পরমাণু নীতি থেকে এক পা-ও নড়বে না ইরান

হিজবুল্লাহর হামলায় নিহত ইসরাইলি সেনা l ছবি: সংগৃহীত

হিজবুল্লাহর হামলায় নিহত ইসরাইলি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, প্রাণ হারালেন আরও ৩ সেনা

0 Comments