মিয়ানমার

সু চির শারীরিক অবস্থা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হতে তাঁর সাথে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ চাইল আসিয়ান জোট। ছবি: সংগৃহীত
কারাবন্দী অং সান সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুলল মিয়ানমার

মিয়ানমারের কারাবন্দি সাবেক নেত্রী অং সান সু চি সুস্থ আছেন এবং তাঁর যথাযথ দেখভাল করা হচ্ছে বলে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মাউং সোয়ে। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ দূত ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারো।   লাজারো বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চিকে ‘একজন আত্মীয়’ ও ‘বোন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তাঁর সরকার তাঁর যত্ন নেবে। তবে আসিয়ান সু চির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছে, যাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়।   ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হন নোবেলজয়ী অং সান সু চি। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে নিষ্ক্রিয় রাখতেই এসব মামলা করা হয়েছে। যদিও মিয়ানমারের সামরিক প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   অভ্যুত্থানের পর এই প্রথমবারের মতো আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারের প্রতিনিধির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, মানবিক সহায়তা এবং চলমান সংঘাত নিরসয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।   তবে সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিকপন্থী পার্লামেন্ট আসিয়ানের শান্তি উদ্যোগকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানায়। এরপরও লাজারো বলেন, পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনাই সংলাপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর কাঠামো এবং আসিয়ান এ অবস্থানেই অনড় থাকবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
আরাকানে নতুন নাম স্থাপনের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
রাখাইনে শহরের নাম বদলের পথে আরাকান আর্মি, জোর দিচ্ছে ঐতিহাসিক পরিচয়ে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজেদের প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় আরও দৃঢ় করতে একাধিক শহরের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে আরাকান আর্মি (এএ)। সংগঠনটির পরিকল্পনায় পাউকতাও, মিনব্যাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নাম ঐতিহাসিক রাখাইন পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে।   স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আরাকান আর্মি মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কিছু শহরের নাম রাখাইনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে না। এ কারণে তারা ঐতিহাসিক নাম পুনর্বহালের উদ্যোগ নিচ্ছে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাখাইন রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর আরাকান আর্মি ধাপে ধাপে স্থানীয় প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ভৌগোলিক নামেও পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও কোন শহরের নতুন নাম কী হবে এবং কবে থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা দেয়নি সংগঠনটি।   এদিকে, বিষয়টি মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, কোনো অঞ্চলের নাম পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি ঐতিহাসিক পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংগঠনটি বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
রাখাইনে ফের বিমান হামলা, সাগাইংয়ে জান্তাবিরোধী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণহানি
রাখাইনে ফের বিমান হামলা, সাগাইংয়ে জান্তাবিরোধী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণহানি; কয়েক লাখ মানুষ দেশ ছাড়ছে

মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বুথিডং উপজেলার আশপাশের গ্রামগুলোকে লক্ষ্য করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যুদ্ধবিমান থেকে একের পর এক হামলায় গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।   এদিকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মোনিওয়া শহরে জান্তাবিরোধী দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) অনুগত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং পিপলস সিকিউরিটি ফোর্স (পিএসএফ)-এর মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় পিএসএফের কয়েকটি ক্যাম্পে পিডিএফের আকস্মিক অভিযানের পর।   বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।   চলমান সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের ভয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশ ছাড়ছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা এই দেশত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।   সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তব পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এটি বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   অন্যদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে মিয়ানমারে অন্তত ৩৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে—প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্য ঘাটতিতে ভুগছেন। এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর পড়তে শুরু করেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়লেও এখনো কার্যকর সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মিয়ানমার সীমান্তে দুটি ভূমিকম্প, বাংলাদেশেও অনুভূত কম্পন

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মিয়ানমার-ভারত এবং মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে একটি ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে। তবে দুটি ঘটনাতেই এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।   ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ভূমিকম্পটি রোববার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে মিয়ানমার-ভারত সীমান্ত অঞ্চলে আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২।   সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ২৬ দশমিক ৮৬৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৫ দশমিক ২৬৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় শহর থেকে প্রায় ৭৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং সোনারি শহর থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। ভূমিকম্পটি তুলনামূলক কম মাত্রার হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।   এর আগে একই রাতে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫৩ মিনিটে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ২১ দশমিক ৫৬৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২ দশমিক ৫৩৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এর গভীরতা ছিল ৪৯ কিলোমিটার।   ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং কক্সবাজার থেকে প্রায় ৫৭ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে। গভীরতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এর প্রভাব সীমিত ছিল। যদিও চট্টগ্রাম ও আশপাশের কিছু এলাকায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমার অঞ্চলটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে মাঝেমধ্যেই ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে। এ কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলেও অনেক সময় এসব ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়।   এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দুটি ভূমিকম্পেই কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মিয়ানমারে নিহত মার্কিন কূটনীতিক। ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে মার্কিন কূটনীতিক হত্যায় সাবেক স্ত্রী অভিযুক্ত, দোষী হলে হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

মিয়ানমারের একটি বিলাসবহুল হোটেলে নিহত অবস্থায় পাওয়া মার্কিন কূটনীতিক ড্যানিয়েল রিভাকে হত্যার অভিযোগে তাঁর সাবেক স্ত্রীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিভাকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী ড্যানিয়েল রিভার মরদেহ গত মাসে ইয়াঙ্গুনের সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়। হোটেলটি ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে প্রায় এক মাইল দূরে।   ঘটনার পরপরই রিভার সাবেক স্ত্রী, থাইল্যান্ডের নাগরিক পাভিনি সুপাসিরিভিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তিনি আদালতে হাজির হন। হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি মিয়ানমারের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এরপর হত্যা মামলার বিচার শুরু হবে।   প্রসিকিউশনের অভিযোগ, রিভার মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করা হয়। হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তের কমপক্ষে ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ড্যানিয়েল রিভা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের লং আইল্যান্ডের ইস্ট নরউইচ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন। মিয়ানমারে দায়িত্ব পালনের আগে দক্ষিণ আমেরিকার সুরিনাম এবং এশিয়ার তিমুর-লেস্তেতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনে কর্মরত ছিলেন।   ২০১৮ সালের জুনে পেশায় পেস্ট্রি শেফ পাভিনি সুপাসিরিভিসানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে ঠিক কবে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সহকর্মীরা রিভাকে একজন সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে স্মরণ করেছেন। মার্কিন কূটনীতিক ফাউস্তো ডি গুজমান বলেন, রিভা মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব সময় প্রস্তুত থাকতেন এবং কর্মস্থলে উষ্ণতা ও আন্তরিকতা ছড়িয়ে দিতেন।   শৈশবের বন্ধু ম্যাট গ্রান্টও তাঁকে স্মরণ করে বলেন, রিভা শুধু বন্ধু নন, তাঁর কাছে ভাইয়ের মতো ছিলেন। দীর্ঘ চার দশকের বন্ধুত্বে তিনি ছিলেন কৌতূহলী, প্রাণবন্ত ও অসাধারণ একজন মানুষ। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর রিভার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   অন্যদিকে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক থাই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তকারীরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দেশটির চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ করেননি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মিয়ানমারে ছয় মাসে ৭০০’র বেশি বেসামরিক নিহত
মিয়ানমারে ছয় মাসে ৭০০’র বেশি বেসামরিক নিহত

মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের পরবর্তী ছয় মাসে সামরিক জান্তা সরকারের হামলায় ৭০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৭০২ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে। নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে।   জাতিসংঘ বলছে, প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে আয়োজিত সাম্প্রতিক নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং অনেকেই একে প্রহসন হিসেবে দেখছেন। এই প্রেক্ষাপটে দেশের ভেতরে সহিংসতা ও দমন-পীড়ন আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিশ্ব সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জান্তা বাহিনীর নির্বিচার বিমান হামলা বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব হামলায় ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, প্রাণহানি ঘটছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চলকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে সামরিক অভিযানে অন্তত ১৯১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত অক্টোবর মাসে সাগাইংয়ের চাউং-উ এলাকায় একটি বিদ্যালয়ের সামনে চলমান এক উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে চার শিশুসহ ২৩ জন নিহত হন। একইভাবে ডিসেম্বর মাসে তাবায়িন এলাকায় একটি চা দোকানে ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় চালানো হামলায় প্রাণ হারান আরও ১৯ জন।   এছাড়া রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি-এর পক্ষ থেকে জোরপূর্বক সদস্য সংগ্রহের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, মিয়ানমারের মানুষ একদিকে নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ থেকেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণের সংকট আরও গভীর হয়েছে।   পাঁচ বছর আগে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি-কে আটক করে ক্ষমতা দখল করে সামরিক জান্তা। এরপর থেকে দেশটিতে জরুরি আইন জারি, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে দমন অভিযান জোরদার করা হয়েছে।   চলতি বছরের এপ্রিলে অভ্যুত্থানের প্রধান সেনা কর্মকর্তা মিন অং হ্লাইং নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। তার সমর্থিতদের নিয়ে গঠিত নতুন সংসদে জান্তা-সমর্থিত দল ইউএসডিপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের চলমান সংকট কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি গভীর মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।   সূত্র: বিবিসি

নীলুফা নিশাত জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগ্রহীত
আরাকান আর্মির হাতে আটক ৭ বাংলাদেশি জেলে, বোটসহ নিয়ে যাওয়া হলো মিয়ানমারে

আমেরিকার ডেস্ক:  কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনা এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ৭ বাংলাদেশি জেলে এবং দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার বোট আটক করে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সোমবার (১৫ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব পাড়া ঘাট থেকে দুটি বোট নিয়ে মাছ ধরতে সমুদ্রে যান জেলেরা। মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলে এবং জেলেদের বোটসহ আটক করে নিয়ে যায়।   টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর প্রশাসন জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। প্রাথমিকভাবে ৭ জন জেলে আটকের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।   শাহপরীরদ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান জানান, সীমান্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহপরীরদ্বীপ বিওপি এলাকা থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায়, মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া সংলগ্ন জলসীমায় এ ঘটনা ঘটে।   আটক জেলেরা হলেন— ফয়সাল (২৬), জলিল (১৬), আজম (১২), হেলাল (১১), লালয়া (১৯), সৈয়দ আলম (২১) ও ফয়সাল (২২)। তারা সবাই শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা। আটক হওয়া দুটি মাছ ধরার বোটের মালিক স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাজ্জাক।   এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার জেলেদের অভিযোগ, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের সীমান্ত অঞ্চলে মাছ ধরতে গিয়ে তারা প্রায়ই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বাধা, হয়রানি ও আটকের মুখে পড়েন। তারা আটক জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।   ঘটনার পর শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। আটক জেলেদের স্বজনরা তাদের দ্রুত মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মার্কিন গবেষককে গ্রেপ্তার করল চীন, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এক শীর্ষস্থানীয় মার্কিন গবেষককে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার’ অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে চীন। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার (১২ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর নিশ্চিত করেছে।   গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মিন জিন, যিনি মিয়ানমারের রাজনীতি ও সংঘাত বিষয়ক স্বনামধন্য থিঙ্ক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি মিয়ানমার’ (আইএসপি-এম)-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউসি বার্কলে)-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন পিএইচডি গবেষক। যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এক শীর্ষস্থানীয় মার্কিন গবেষককে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার’ অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে চীন। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার (১২ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর নিশ্চিত করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, মিন জিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের ভিত্তিতে ‘বাধ্যতামূলক আইনি ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে এবং গুয়াংঝু-তে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলকে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ জুন মিয়ানমার সীমান্তবর্তী চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহর থেকে আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হন মিন জিন। তার গবেষণা সংস্থা ‘আইএসপি-এম’ মূলত ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে কাজ করে আসছে।   কৈশোরে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিন জিন দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে বসবাস করেছেন। সামরিক জান্তা এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিরোধী গোষ্ঠী— উভয় পক্ষের প্রতিই তার কলাম ও গবেষণায় সমান সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।   ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীন একটি আইন শাসিত দেশ এবং সেখানে অবস্থানরত যেকোনো বিদেশিকে অবশ্যই দেশের আইন মেনে চলতে হবে; আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মিন জিনের এই গ্রেপ্তার এমন এক সংবেদনশীল সময়ে ঘটল, যখন আগামী ১৫ থেকে ১৯ জুন মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান ও প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং-এর চীন সফরের কথা রয়েছে।   এছাড়া, গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের পর যখন দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য যুদ্ধ ও কূটনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই ঘটনা নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করল। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে অবগত এবং যথাযথ কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে মাদক বা আর্থিক অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মার্কিন নাগরিক চীনে বন্দি রয়েছেন, যাদের অনেকের আটকাদেশকে ওয়াশিংটন ‘অন্যায়’ বলে দাবি করে আসছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে মার্কিন কূটনীতিকের মৃত্যু, তদন্তে এক থাই নারী গ্রেপ্তাত

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তদন্তে এক থাই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।   মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে জানা যায়, ইয়াঙ্গুনে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত ওই অজ্ঞাত পরিচয়ের কূটনীতিককে দুই সপ্তাহ আগে সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল থেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।   স্থানীয় কূটনৈতিক মহলের কয়েকজন ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি দূতাবাসের কাছাকাছি অবস্থিত এবং এটি বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক অতিথিদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি আবাসিক হোটেল।   তারা আরও জানান, ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় থাই নাগরিক এক নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক নারীকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।   তবে এখনো পর্যন্ত নিহত মার্কিন কূটনীতিক এবং আটক নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে মার্কিন কূটনীতিকের রহস্যজনক মৃত্যু, থাই নারী আটক

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গনে দায়িত্ব পালনরত এক মার্কিন কূটনীতিকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দেশটির রাজধানী নয়পিদো ও ইয়াঙ্গনের কূটনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এপিকে নিশ্চিত করেছে যে ইয়াঙ্গনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে কর্মরত ওই কূটনীতিক প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। তবে নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াঙ্গনের সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল নামের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ওই কূটনীতিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হোটেলটি বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের কাছে বেশ পরিচিত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত।   ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিয়ানমারে কর্মরত কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের তিন সদস্য এপিকে জানিয়েছেন, তদন্তের অংশ হিসেবে একজন থাই নারীকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মৃত্যুর ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখছেন না এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক ঘটনার দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক নারীর জন্য কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে ওই নারীর পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও এখন পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। কর্মকর্তারা বলেছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্ত চলমান থাকায় তারা অতিরিক্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি।   বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে বিদেশি মিশনগুলোর কার্যক্রমও বাড়তি সতর্কতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।   তবে বর্তমান ঘটনায় রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, নাকি এটি ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা হোটেলের নিরাপত্তা ফুটেজ, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।   মার্কিন কূটনীতিকের এই অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গঠন বা মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ইউএনএইচসিআর
নয় বছরের অপেক্ষা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর সাগরের গণকবর: রোহিঙ্গা সংকটের শেষ কোথায়?

আগস্ট ২০১৭-মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আগুন জ্বলছিল। গ্রাম পুড়ছিল, মানুষ পালাচ্ছিল। প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। সেই সময় বিশ্ব বিবেক নড়ে উঠেছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্ষোভ জানিয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরব হয়েছিল। জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকার প্রধান ঘটনাটিকে বলেছিলেন, “জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ।”   নয় বছর পর পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। কক্সবাজারের পাহাড়ঘেরা শরণার্থী শিবিরগুলোতে এখনও বাস করছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। তাদের অনেকেই জানেন না কবে ফিরতে পারবেন নিজ দেশে। আদৌ কোনোদিন ফিরতে পারবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত। এরই মধ্যে কমছে খাদ্য সহায়তা, কমছে স্বাস্থ্যসেবা এবং কমছে আন্তর্জাতিক মনোযোগ। একই সঙ্গে বাড়ছে হতাশা। মঙ্গলবার জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক সহায়তা তীব্র চাপে রয়েছে। সেই চাপের সরাসরি প্রভাব পড়ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর।   চলতি বছরের জন্য বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা মিলে ৭১ কোটি ডলারের একটি মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রাই গত বছরের তুলনায় কম নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপরও প্রয়োজনীয় অর্থের বড় একটি অংশ এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।   মানবিক সহায়তা কর্মীরা বলছেন, সংকটের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি এখন চলছে।   একদিকে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমছে, অন্যদিকে মিয়ানমারের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বরং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ২০২৪ সালের শুরু থেকে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। রাখাইনে সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।   ফলে লাখো রোহিঙ্গা এমন এক অবস্থায় বাস করছে, যেখানে অতীত হারিয়ে গেছে, বর্তমান অনিশ্চিত এবং ভবিষ্যৎ অন্ধকার।   কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে এরই মধ্যে বেড়ে উঠছে একটি নতুন প্রজন্ম, যাদের জন্মই হয়েছে শরণার্থী হিসেবে। আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ তরুণ-তরুণী কার্যত কর্মহীন অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের জন্য নেই বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ কিংবা স্বীকৃত উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা। একটি পুরো প্রজন্ম দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে বেড়ে উঠছে।   জীবনযাত্রার অবস্থাও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। কয়েক বছর আগে খাদ্য সহায়তা কমে এমন পর্যায়ে নেমে এসেছিল যে একজন শরণার্থীর মাসিক খাদ্য বরাদ্দ দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৮ ডলার। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কিছুটা উন্নতি এলেও অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। চলতি বছরের শুরুতে একটি অগ্নিকাণ্ডে শত শত আশ্রয়কেন্দ্র পুড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষ আবারও গৃহহীন হয়ে পড়ে।   আশ্রয়, খাদ্য এবং নিরাপত্তাহীনতার এই পরিস্থিতি থেকে অনেক রোহিঙ্গা বেছে নিচ্ছেন আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ, সমুদ্রযাত্রা। বাংলাদেশের উপকূল থেকে ছোট ছোট নৌকায় করে তারা যাত্রা করেন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে। এই যাত্রার অধিকাংশই নিয়ন্ত্রণ করে মানবপাচারকারী চক্র। ভাঙাচোরা নৌকা, অনিশ্চিত গন্তব্য এবং উত্তাল সাগরের মধ্যে শুরু হয় জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিযাত্রা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল ছিল রোহিঙ্গাদের সামুদ্রিক যাত্রার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। প্রায় ৬ হাজার ৫০০ মানুষ সমুদ্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনের একজন আর ফিরে আসেননি। মৃত বা নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ৯০০ জন।   ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ বলেন, “আন্দামান সাগর এবং বঙ্গোপসাগর দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাজার হাজার মরিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য একটি চিহ্নহীন গণকবরে পরিণত হয়েছে।”   গত এক দশকে এই সামুদ্রিক পথে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবুও যাত্রা থামছে না। কারণ শিবিরে থাকা অনেকের কাছেই অনিশ্চিত সমুদ্র স্থবির জীবনের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   চলতি বছরও সেই চিত্র অপরিবর্তিত রয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রে যাত্রা করেছেন। মার্চের শেষ দিকে টেকনাফ উপকূল থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে গেলে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হন। জীবিত উদ্ধার করা যায় মাত্র কয়েকজনকে।   এই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে বড় শিকার নারী ও শিশুরা। অনেকেই পাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার হন। অনেকে দিনের পর দিন খাবার ও পানি ছাড়া সাগরে ভাসতে থাকেন। অনেকের যাত্রার শেষ গন্তব্য হয়ে ওঠে অচিহ্নিত সমুদ্রতল। অন্যদিকে মিয়ানমারে ফেরার পথ এখনও কার্যত বন্ধ। রাখাইনে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা নেই, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই এবং সম্মানের সঙ্গে ফিরে যাওয়ার পরিবেশও গড়ে ওঠেনি।   জাতিসংঘ বলছে, পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বও শেষ হয়ে যায়নি।   বাংলাদেশ গত নয় বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সীমিত সম্পদ নিয়ে ১২ লাখ মানুষের দায়িত্ব বহন করা সহজ কাজ নয়। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমতে থাকলে সেই দায়ভার বহন করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।   নয় বছর আগে যারা আগুন, গুলি এবং মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়েছিল, তারা এখনও অপেক্ষা করছে। তাদের অনেক সন্তান জন্ম নিয়েছে শিবিরে, বড় হচ্ছে শিবিরে। তারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়, বাংলাদেশেরও নয়। তাদের পরিচয় অনিশ্চয়তার মধ্যেই আটকে রয়েছে।   রোহিঙ্গা সংকট তাই মানবিক সহায়তার প্রশ্নের পাশাপাশি মানবতারও একটি বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় বিশ্ব এখনও একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায়নি, এই মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ কোথায়?

তাবাস্সুম জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রোহিঙ্গা শরণার্থী
৯ বছর পরও অমীমাংসিত রোহিঙ্গা সংকট, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ভয়াবহ সামরিক অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। তৎকালীন সময়ে মানবিক বিবেচনায় সীমান্ত খুলে দেওয়ার সেই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে বিপুল প্রশংসিত হলেও, প্রায় এক দশক পর এসে এই সংকটটি বাংলাদেশের জন্য এক জটিল মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব মতে, ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ থেকে ১৩ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যার একটি বড় অংশই শিশু ও কিশোর। একই সময়ে রাখাইনে নতুন করে শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে আরও হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করায় আগে থেকেই চাপে থাকা শরণার্থী ব্যবস্থাপনা এখন আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।   এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের তীব্র ঘাটতি। ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক দাতাদের মনোযোগ এবং তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘের যৌথ মানবিক সাড়া পরিকল্পনায় (JRP) আগের বছরের তুলনায় বাজেট অনেকটাই কাটছাঁট করা হয়েছে।   মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান বরাদ্দ দিয়ে কেবল জীবন রক্ষাকারী মৌলিক সেবাগুলো কোনোমতে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো উদ্যোগ নেওয়া অসম্ভব। এই তহবিল সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাদ্য নিরাপত্তায়; রেশন কমে যাওয়ায় ক্যাম্পের শিশু, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের মধ্যে পুষ্টিহীনতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর পাশাপাশি অর্থ সংকটে বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ক্যাম্প এলাকায় একটি স্থায়ী জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   শরণার্থী শিবিরগুলোর এই চরম অনিশ্চয়তা ও অভাবকে পুঁজি করে উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ক্যাম্পভিত্তিক বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, মাদক চোরাচালানি ও মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এখন শিবিরের নিত্যদিনের ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থান ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ না থাকায় শিবিরের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী সহজেই এসব অপরাধী চক্রের ফাঁদে পা দিচ্ছে।   একদিকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে জীবন ও ভবিষ্যতের তাগিদে অনেক রোহিঙ্গা মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে বঙ্গোপসাগর বা আন্দামান সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করছে, যা প্রায়শই ট্রাজিক নৌকাডুবি ও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।   রোহিঙ্গা সংকটের এই বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব কেবল ক্যাম্পের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকেও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। স্থানীয় শ্রমবাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের কারণ হচ্ছে। এর ওপর পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পগুলোর কারণে ওই অঞ্চলের বনভূমি, বন্যপ্রাণী ও ভূগর্ভস্থ পানির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, গৃহযুদ্ধ, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রশ্নে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া গত ৯ বছরেও কার্যত আলোর মুখ দেখেনি। অল্প কিছু রোহিঙ্গাকে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন করা হলেও তা মোট জনসংখ্যার তুলনায় একেবারেই নগণ্য।   ফলে এটি এখন আর কেবল একটি সাময়িক শরণার্থী সমস্যা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং মিয়ানমারের ভেতরে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা না গেলে বিশ্বের বৃহত্তম এই শরণার্থী সংকট আগামীতে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৫, ২০২৬ ১৪:০
মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং | ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট হিসাবে অভিষিক্ত হলেন জান্তা প্রধান, মিয়ানমারে আরও পাকাপোক্ত হলো সামরিক শাসন

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক রাজনৈতিক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার দেশটির সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এই নির্বাচনের মাধ্যমে মূলত ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখলকারী এই সেনাপ্রধানের কর্তৃত্বই রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও সুসংহত হলো। রাজধানী নেপিডোয় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ৫৬৬ সদস্যের মধ্যে ৪২৯ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইং। উল্লেখ্য, গত সোমবারই তিনি সেনাপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সামরিক-প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, কোনো চাকুরীরত সরকারি কর্মকর্তা বা সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না—আর সেই আইনি বাধা দূর করতেই তার এই পদত্যাগ। এই নির্বাচনে জান্তা প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক জেনারেল নিও সও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কায়িন স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য নান নি নি আয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন। নির্বাচনটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। জান্তা সরকার আয়োজিত গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর মদদপুষ্ট ইউএসডিপি (USDP) দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। পার্লামেন্টের প্রায় ৮৬ শতাংশ আসনই এখন জান্তা সমর্থিত ও অনির্বাচিত সামরিক প্রতিনিধিদের দখলে। ফলে বিরোধী দল এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই পুরো প্রক্রিয়াকে একটি 'প্রহসন' হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি এবং তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনো বন্দি রয়েছেন। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (NLD) আগেই বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জান্তা। আগামী সপ্তাহেই নতুন প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং ১০ এপ্রিলের মধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করবেন।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জেনারেল মিন অং লাইং
পোশাক বদলালেও বদলাচ্ছে না ভাগ্য: মিয়ানমারের মসনদে নির্মম গৃহযুদ্ধের সূচনাকারী সেই জেনারেল

মিয়ানমারের রক্তাক্ত ইতিহাসের পাতায় এক নতুন কিন্তু অনুমিত অধ্যায় যুক্ত হলো। ২০২১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি যে রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিলেন জেনারেল মিন অং লাইং, পাঁচ বছর পর সেই তিনিই এবার দেশটির 'বেসামরিক' রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।   তবে সেনাবাহিনীর উর্দি ছেড়ে রাষ্ট্রপতির স্যুট পরলেও, দেশটির শাসন ব্যবস্থায় সামরিক একনায়কতন্ত্রের সুতীব্র নিয়ন্ত্রণ বিন্দুমাত্র কমছে না। পূর্বনির্ধারিত এক ‘নির্বাচন’ ও ক্ষমতার পালাবদল আজ মিয়ানমারের নবনির্বাচিত সংসদ মিন অং লাইং-কে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বেছে নেবে। যদিও একে নির্বাচন না বলে 'অভিষেক' বলাই শ্রেয়। কারণ, সংসদের ২৫ শতাংশ আসন আগে থেকেই সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত ছিল এবং বাকি আসনগুলোর সিংহভাগ জিতেছে সামরিক মদদপুষ্ট দল ইউএসডিপি। মিন অং লাইং ইতিমধ্যেই সেনাপ্রধানের পদ ছেড়েছেন, আর সেই পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও কঠোরপন্থী হিসেবে পরিচিত জেনারেল ইয়ে উইন উ। অভ্যুত্থানের পর এক বছরের মধ্যে গণতন্ত্রে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই জেনারেল। কিন্তু সেই এক বছর পার হতে সময় লাগল পাঁচ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে মিয়ানমার পরিণত হয়েছে এক ধ্বংসস্তূপে। দেশজুড়ে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লক্ষাধিক। জান্তা বাহিনীর ‘পোড়ামাটি’ নীতিতে ধ্বংস হয়েছে স্কুল, হাসপাতাল ও জনপদ। তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট কিয়াও উইনের মতো অসংখ্য মানুষ জেল-জুলুম ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি হলেও মিন অং লাইং নিজেকে নিরাপদ রাখতে গঠন করেছেন একটি শক্তিশালী 'পরামর্শদাতা পরিষদ'। এই পরিষদের হাতেই থাকবে সামরিক ও বেসামরিক সব বিষয়ের চূড়ান্ত ক্ষমতা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ক্ষমতার রূপান্তর, কোনো পরিবর্তন নয়। প্রতিরোধ বাহিনীগুলো এখনো দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে গৃহযুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। মিয়ানমারের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায়। আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি আর তীব্র জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ইয়াঙ্গুনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক—সবার কণ্ঠেই একই সুর: এই নির্বাচন কোনো সমাধান নয়। কারাবন্দী নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি এবং প্রকৃত সংলাপ ছাড়া মিয়ানমারের শান্তি ফেরানো অসম্ভব বলেই মনে করছেন বোদ্ধারা।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০