পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। শনিবার (আজ) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মাটিতে ঈদ উদ্যাপন করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশের মানুষ আরও শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, জনগণ যে বাংলাদেশ দেখতে চায়, সেই প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে নির্বাচিত সরকার দেশগঠনের কাজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। শেষে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
তুরস্কের রাজনীতির জনপ্রিয় মুখ এবং ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর কারাবাসের এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে বিশাল গণমিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে শহরটি। দীর্ঘ এক বছর বিনাবিচারে বন্দি থাকার পর সম্প্রতি তাকে আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী তার বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য ২,৪৩০ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেন। প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সন্ত্রাসবাদ ও দেশদ্রোহিতার অভিযোগ। তবে সমর্থকদের দাবি, এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। জেল থেকে পাঠানো এক চিঠিতে ইমামোগলু বর্তমান শাসনব্যবস্থার ‘দুর্নীতির মানসিকতা’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের শাসনব্যবস্থা বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা হুমকি বিষয়ক এক সংসদীয় শুনানিতে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শাসনব্যবস্থা এখনও টিকে থাকলেও তা আগের তুলনায় অনেক বেশি 'দুর্বল' ও 'ক্ষতিগ্রস্ত'। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার এই শুনানিতে গ্যাবার্ডের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে মার্কিন অভিযান শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর প্রথম কোনো প্রকাশ্য ব্রিফিং। শুনানির মূল আলোচিত বিষয়সমূহ: হরমুজ প্রণালি সংকট: তুলসী গ্যাবার্ড দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জাহাজ চলাচল পথটি ইরান দখল করতে পারে, এমন পূর্বাভাস গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেই দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী পেন্টাগন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পারমাণবিক সক্ষমতা: মার্কিন মূল্যায়নে দেখা গেছে, ১২ দিনের যুদ্ধের ফলে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো তছনছ হয়ে গেছে। তবে শুনানিতে গ্যাবার্ডের লিখিত বক্তব্য ও মৌখিক বক্তব্যের মধ্যে কিছুটা অসংগতি লক্ষ্য করা যায়, যা নিয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা প্রশ্ন তোলেন। অভ্যন্তরীণ বিতর্ক: ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সদ্য পদত্যাগকারী পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো 'অনিবার্য হুমকি' ছিল না। তবে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ইরানকে এখনও একটি 'তাৎক্ষণিক হুমকি' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সিনেটরদের প্রশ্নের জবাবে সিআইএ প্রধান জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিত গোয়েন্দা ব্রিফিং পেতেন এবং সেই আলোকেই সামরিক সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। তবে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুহূর্তে তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “যে সংবিধান ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করে, সেই সংবিধান আমরা চাই না।” বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদর উপজেলা শাখা। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিদ্যমান সংবিধান দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, এই সংবিধানের কাঠামোর মধ্য দিয়েই অতীতে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে পরিবর্তন আনতে পারলে ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দল পুনরায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে, যা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এ সময় অবৈধভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের কাজ করতে না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং স্থানীয়দের এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, অতীতের মতো এখনো প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজ নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা বন্ধ করা জরুরি।
গত বছরের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি 'বিধ্বস্ত' হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। বুধবার মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। শুনানি চলাকালীন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ গ্যাবার্ডের কাছে সরাসরি জানতে চান, গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী গত গ্রীষ্মের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে কি না। জবাবে গ্যাবার্ড অত্যন্ত সংক্ষেপে এবং স্পষ্টভাবে 'হ্যাঁ' বলেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ওই হামলার পর থেকে ইরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুনর্গঠনের আর কোনো প্রচেষ্টা চালায়নি। তবে ইরান এই হুমকি থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে গ্যাবার্ড কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি জানান, তাদের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন এবং বৃদ্ধির ‘অভিপ্রায়’ বা ইচ্ছা ইরানের এখনো রয়েছে। ইরান বর্তমানে কোনো ‘আসন্ন পারমাণবিক হুমকি’ কি না—সিনেটর অসফের এমন প্রশ্নের জবাবে গ্যাবার্ড বলেন, কোনো বিষয়কে ‘আসন্ন হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করা গোয়েন্দা সংস্থার কাজ নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্টই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন যে কোনটি দেশের জন্য জরুরি বিপদ আর কোনটি নয়।
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঠিক পাশেই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের অত্যন্ত কাছে একটি ‘প্রজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। যদিও এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা কাঠামোগত বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে এখন বৈশ্বিক উত্তাপ তুঙ্গে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই ঘটনাকে "দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সচল পারমাণবিক চুল্লির মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত। মস্কো জানিয়েছে, বুশেহর কেন্দ্রে এখনও রুশ বিশেষজ্ঞরা কর্মরত আছেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করা হয়েছিল। জাখারোভার বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, এই হামলাকে রাশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং একে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি মনে করছে। আইএইএ সতর্ক করে বলেছে যে, পারমাণবিক স্থাপনার এত কাছে এ ধরনের সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তার পরিপন্থী। সামান্য এদিক-সেদিক হলেই তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারত, যার প্রভাব কেবল ইরানে নয়, বরং পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় সৃষ্টি করত।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তার প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ক্যারি প্রিজিন বোলার বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সরকার বর্তমানে একটি বিদেশি রাষ্ট্র অর্থাৎ ইসরায়েলের দ্বারা ‘অধিকৃত’ বা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্লোগান ‘মাগা’ (MAGA- মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) আন্দোলনকে তিনি ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোলার এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি এখন আর আমাদের প্রেসিডেন্টকে (ট্রাম্প) চিনতে পারছি না। আমার মনে হয় আমরা এখন একটি অধিকৃত জাতি। একটি বিদেশি রাষ্ট্র আমাদের সরকারকে দখল করে রেখেছে এবং আমরা দেখছি মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই বিদেশি শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন।” বোলার সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বারবার যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং মার্কিন নীতিনির্ধারণীতে তার প্রভাবই ইরান যুদ্ধের মূল কারণ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতানিয়াহু এখানে প্রায় আটবার এসেছেন। এটি লজ্জাজনক। আমরা কি করে একটি বিদেশি রাষ্ট্রকে আমাদের সরকার পরিচালনা করতে দিচ্ছি?” ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। সাধারণ মার্কিনীরা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং তারা মনে করছে ট্রাম্প তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বোলারের মতে, ট্রাম্প যে ‘সোয়াম্প’ বা দুর্নীতির আখড়া পরিষ্কার করার এবং বিদেশি যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মাসেই বোলারকে হোয়াইট হাউসের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার এই সাম্প্রতিক মন্তব্য ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের (MAGA base) মধ্যে বিদ্যমান বিভক্তিকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক জো কেন্টও ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং শুধুমাত্র ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী লবিংয়ের চাপেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরে যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল, বোলারের এই বক্তব্য তারই বহিঃপ্রকাশ।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও সংঘাতের ইতি টানতে আবারও কূটনৈতিক তৎপরতায় সরব হয়ে উঠেছে আরব দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে সংবাদকর্মী জেইন বাসরভির পাঠানো তথ্যানুযায়ী, আসন্ন সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসছে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। দীর্ঘদিন ধরেই আরব প্রতিবেশীরা এই অঞ্চলে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের জন্য এককভাবে দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ইরান ও তার প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বৈরিতা থাকা সত্ত্বেও, উভয় পক্ষই একটি বিষয়ে একমত: এই যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে এবং যত সময় যাবে, এর ভয়াবহতা তত বাড়বে। আঞ্চলিক বিশ্লেষক ও নেতাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েল ও আমেরিকার নীতিই দায়ী। আরব বিশ্বের সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের অভিযোগ, ইসরায়েল যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে আর আমেরিকা তাতে সরাসরি ইন্ধন জুগিয়েছে। দুবাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে বসবাসরত নাগরিক ও নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা মনে করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার আরব বিশ্বের স্বার্থকে উপেক্ষা করে চলেছে। এই সংকট নিরসনে এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় আরব দেশগুলো এখন এককাট্টা হয়ে রিয়াদের এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনার জবাবে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (Taoiseach) মাইকেল মার্টিন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক বৈঠকে ট্রাম্প যখন স্টারমারকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন, তখন তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন আইরিশ নেতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, হরমুজ প্রণালীতে মাইনসুইপার না পাঠানো বা ইরান যুদ্ধে পর্যাপ্ত সহায়তা না দিয়ে স্টারমার তাকে হতাশ করেছেন। ট্রাম্প বিদ্রূপ করে বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত কিয়ার স্টারমার উইনস্টন চার্চিল নন। তিনি হয়তো চমৎকার একজন মানুষ, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে তিনি ফলাফল দেখাতে পারছেন না।" এ সময় যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতি নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সাথে সাথে দ্বিমত পোষণ করেন মাইকেল মার্টিন। তিনি স্টারমারের পক্ষ নিয়ে বলেন, "ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যকার ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে আমাদের মধ্যে অনেক সমস্যা থাকলেও আমরা তা সমাধান করেছি।" তিনি আরও যোগ করেন, "কিয়ার স্টারমার আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের সম্পর্ক উন্নয়নে অভাবনীয় কাজ করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি তিনি একজন অত্যন্ত আন্তরিক ও নির্ভরযোগ্য মানুষ, যার সাথে মিলেমিশে কাজ করার সামর্থ্য আপনার (ট্রাম্পের) আছে।" মার্টিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাণিজ্য সংঘাতের মতো অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়েও ইউরোপ ও আমেরিকা দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (NSC) অতি গোপনীয় আলোচনার তথ্য কীভাবে জনসমক্ষে এলো, তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দেশটির 'গভর্নমেন্ট সিকিউরিটি গ্রুপ'। যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ উঠেছে যে, মার্চের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন ব্রিটিশ জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। মূলত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবরটিই ফাঁস হয়ে গেছে। এই ঘটনা ব্রিটিশ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বলয়ে বড় ধরনের ছিদ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ক্যাবিনেট অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া চিঠির বাইরে তাদের নতুন করে বলার কিছু নেই। মার্কিন-যুক্তরাজ্য সামরিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই তদন্তকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের (NCTC) পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং চলমান যুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করে মঙ্গলবার তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা এক পদত্যাগপত্রে কেন্ট অভিযোগ করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো সরাসরি হুমকি ছিল না, বরং ইসরায়েল এবং ওয়াশিংটনে তাদের মিত্রদের চাপের মুখেই এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছে। কেন্ট তার চিঠিতে লেখেন, "আমি বিবেকবোধ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। এটা স্পষ্ট যে, ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী লবিং গ্রুপের প্ররোচনায় আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।" সাবেক এই গ্রিন বেরে (Green Beret) কর্মকর্তা, যিনি ১১ বার যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন, সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে আমেরিকা আরও একটি অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যয়বহুল মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের দিকে পা বাড়াচ্ছে। ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানকে একটি আসন্ন বিপদ হিসেবে চিত্রিত করার যে আখ্যান তৈরি করা হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর এবং মিথ্যা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর কেন্টকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেই গভীর ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ওরমজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে কেন্ট শুরু থেকেই দ্বিমত পোষণ করে আসছিলেন। হোয়াইট হাউস এখনো কেন্টের এই পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য বিদ্রোহ ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বৈদেশিক নীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ঈদযাত্রার চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষা খাতের পরিবর্তনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- আজকের পত্রিকা: ‘মিত্ররা পাশে নেই, যুদ্ধে একা ট্রাম্প’ ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ন্যাটোর সহায়তা চাইলেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও গ্রিস এতে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াও একই অবস্থান নিয়েছে, আর জোটের অন্য দেশগুলো এখনো নীরব রয়েছে। এদিকে ইরানের পাল্টা হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ১০৫ ডলারে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে, যা এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। নয়াদিগন্ত: ‘সাহাবুদ্দিনকে আরো এক বছর রাষ্ট্রপতি রাখতে চায় বিএনপি!’ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অন্তত আরও এক বছর দায়িত্বে রাখতে চায় বিএনপি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করলে নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সংসদের মেয়াদের সঙ্গে সমান হয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন, এতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের প্রভাব রাখা কঠিন হতে পারে। তাই এক বছর পর পরিবর্তন করলে সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনীত ব্যক্তি বহাল থাকার সুযোগ থাকবে। তারা আরও বলছেন, যেহেতু আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের ঘনিষ্ঠ কেউ থাকলে নির্বাচন ও প্রশাসনিক বিষয়ে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও এই কৌশলের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুগান্তর: ‘রাশিয়া থেকে ডিজেল আনার উদ্যোগ’ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। এ অবস্থায় রাশিয়া থেকে প্রায় ৫ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। জ্বালানি বিভাগ ইতোমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে তবেই এই আমদানি কার্যকর করা সম্ভব হবে। জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানির চেষ্টা করছে এবং রাশিয়াও সম্ভাব্য একটি উৎস। তুলনামূলক কম দামের কারণে রাশিয়ার তেলের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশমুখী দুটি তেলবাহী জাহাজ আটকে আছে। সেগুলো ছাড়িয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার: ‘Shady pilot licences expose Biman to risk’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলটদের লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে বলে এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুয়া ফ্লাইট রেকর্ড, নিরাপত্তা নীতিমালা লঙ্ঘন এবং জবাবদিহিতার অভাব দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। কিছু পাইলট ভুয়া তথ্য দেখিয়ে পদোন্নতিও পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গুরুতর পরিচালনাগত ত্রুটি বা অভিযোগ প্রমাণিত হলেও অনেক পাইলট দায়িত্বে বহাল ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে বিষয়টি সামনে এলে পাঁচজন পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্তে কমিটি গঠন করা হয় এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতেই সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। কালের কণ্ঠ: ‘ঈদযাত্রায় কঠিন চ্যালেঞ্জ’ এবারের ঈদযাত্রা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মহাসড়ক এখনো ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে শত শত কিলোমিটার সড়ক মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনে মোট আসনসংখ্যা প্রায় ৩১ হাজার হলেও ঈদের সময় প্রতিদিন কয়েক লাখ যাত্রী রাজধানী ছাড়েন। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। নৌপথেও বাড়তি চাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সদরঘাট থেকে ৩৩টি রুটে লঞ্চ চলাচল করলেও ঈদ উপলক্ষে আরও পাঁচটি নতুন রুট যুক্ত করা হয়েছে। বণিক বার্তা: ‘তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্রে যেতে চায় সরকার’ দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে এবং ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি কমাতে স্থলভাগ ও সমুদ্রের মোট ৪৭টি ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত উৎপাদন-বণ্টন কাঠামোর আওতায় ২১টি অনশোর এবং ২৬টি অফশোর ব্লকে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হবে। পেট্রোবাংলা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে এবং সরকারের অনুমতি পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে। মানবজমিন: ‘নানা শঙ্কায় দুবাই প্রবাসীরা’ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে দুবাইয়ে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগায় ফ্লাইট চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। অন্যদিকে আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। প্রবাসীরা জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক তাদের মধ্যে কাজ করছে। সমকাল: ‘স্কুলে ভর্তির লটারি বাতিল, তীব্র প্রতিক্রিয়া’ সরকার স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। তবে এ সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এতে ভর্তি বাণিজ্য ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং সারাদেশে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা তদারকি করাও কঠিন হবে। প্রথম আলো: ‘একসঙ্গে ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু’ দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪ জেলায় এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। দিনাজপুরে একটি খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগের বিকল্প নেই এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশ রূপান্তর: ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব’ সরকার গঠনের এক মাস পূর্তিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিউ এইজ: ‘Fuel oil crisis persists across country’ সরকার জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ সংকট অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফিলিং স্টেশন মালিকরা অভিযোগ করেছেন, চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী মজুত সীমিত রাখার কারণে সরবরাহে এই ঘাটতি দেখা দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরকারি দল ভুল পথে হাঁটলে তাদের সঠিক পথ দেখাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (১৫ মার্চ) রাজধানীতে এনসিপি মহানগর উত্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এনসিপির লড়াই অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, বিএনপি গণভোটের পক্ষে কথা বললেও প্রধান সংস্কারগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না এবং নিজেদের মতো করে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত এনসিপিকে ক্রমেই আরও শক্তভাবে বিরোধিতার অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।
জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রোববার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মাত্র দুই দফায়। আগামী ২৩শে এপ্রিল এবং ২৯শে এপ্রিল ভোটগ্রহণ করা হবে এবং আগামী ৪ঠা মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে আট দফায় ভোট হলেও এবার নজিরবিহীনভাবে তা কমিয়ে আনা হয়েছে। কমিশনারের মতে, প্রক্রিয়ার সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত। একইসাথে আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পন্ডিচেরিতেও ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এক নজরে ভোটের তফশিল: প্রথম দফা (২৩শে এপ্রিল): উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলসহ মোট ১৫টি জেলায় ভোট। জেলাগুলো হলো— কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম। দ্বিতীয় দফা (২৯শে এপ্রিল): দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ভোট। জেলাগুলো হলো— কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান। ফলাফল: ৪ঠা মে। ভোটের আগে 'ভোটার তালিকা' কাঁটা নির্বাচন ঘোষণা হলেও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বর্তমানে 'বিবেচনাধীন' অবস্থায় রয়েছে। হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা এই তালিকা খতিয়ে দেখছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন যে, "কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না, আবার কোনো অবৈধ নাম তালিকায় থাকবে না।" ভোট গ্রহণের আগে পর্যন্ত যাদের নাম নিষ্পত্তি হবে, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। লড়াই যখন অস্তিত্বের ও পরিবর্তনের ২০২৬-এর এই নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যেমন ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, তেমনই বিজেপির জন্য এটি মহাকরণ দখলের লড়াই। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার', 'কন্যাশ্রী' ও ডিএ বৃদ্ধির মতো জনমুখী প্রকল্প; অন্যদিকে বিজেপির তোলা 'দুর্নীতি', 'নারী নিরাপত্তা' ও 'পরিবর্তন'-এর ডাক— দুই শিবিরের প্রচারেই এখন উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আক্রমণ এবং তৃণমূলের পাল্টা হুঙ্কার আসন্ন নির্বাচনকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। শেষ পর্যন্ত বাংলার জনতা কাকে বেছে নেয়, এখন সেটাই দেখার।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক ক্ষমতা খর্ব করতে নতুন করে ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। হাউজ মাইনোরিটি লিডার হাকিম জেফরিস আজ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আগামী সোমবার অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হবে। জেফরিস জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের একটি প্রস্তাব অল্প ভোটের ব্যবধানে পাস হতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গতবার যে চারজন ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এখন এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমএস নাউ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেফরিস বলেন, "আমরা আগের বার লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও এবার হাল ছাড়ছি না। আমাদের বেশ কয়েকজন সহকর্মী জানিয়েছেন যে পরবর্তী সময়ে এই প্রস্তাব আনা হলে তারা এটি সমর্থনে প্রস্তুত।" আগামী সোমবার হাউস অধিবেশনে ফিরলে এই ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি ভোটাভুটির জন্য পেশ করা হবে।
জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ জানান, ইরান সরকারের নতুন এই অধ্যায়কে ওয়াশিংটন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে তিনি এই নতুন নেতাকে নিয়ে সন্তুষ্ট নন। অনেক সূত্রের মতে মোজতবা খামেনি একজন চরমপন্থী ধর্মীয় নেতা, তবে তিনি আসলেই ক্ষমতায় আছেন কি না তা দেখার বিষয়।” ওয়াল্টজ আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “এই মুহূর্তে তিনি আদৌ জীবিত কি না, সেটিই অস্পষ্ট। আর বেঁচে থাকলেও দেশটির ওপর তার কতটুকু নিয়ন্ত্রণ আছে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।” এর আগে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “আমি জানি না তিনি বেঁচে আছেন কি না। এখন পর্যন্ত কেউ তাকে জনসমক্ষে দেখাতে পারেনি।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে সৃষ্ট এই অস্থিতিশীলতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে।
ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আপাতত কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেয়া এক একান্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, ইরান একটি চুক্তিতে আসার জন্য মুখিয়ে থাকলেও তিনি নিজে এই মুহূর্তে তা করতে ইচ্ছুক নন। বর্তমান শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট সন্তোষজনক নয় বলে মনে করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, যেকোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হতে হবে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি পরিত্যাগ করা। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বেশ কিছু দেশ এই লজিস্টিক কার্যক্রমে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেননি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে ইরানের তেলের বাজারের ওপর হামলা প্রসঙ্গে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জ্বালানি রপ্তানির মূল কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। আক্রমণাত্মক মেজাজে তিনি আরও বলেন, কেবল আনন্দের ছলে সেখানে আরও কয়েকবার হামলা চালানোর সক্ষমতা ও মানসিকতা তার প্রশাসনের রয়েছে। বিশ্বজুড়ে তেলের ক্রমবর্ধমান বাজারমূল্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্প তা উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, বর্তমানে বিশ্বে তেল ও গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার সামান্য বিঘ্ন খুব দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূত্র: বিবিসি।
দীর্ঘ কয়েক দশকের নির্বাসন কাটিয়ে ইরানের শাসনভার গ্রহণে সরাসরি প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি। বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারের পতন ঘটলে একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠন করতে তিনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই নির্বাসিত যুবরাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিশেষ বার্তায় জানান, তিনি ইতিমধ্যে ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ‘ট্রানজিশনাল সিস্টেম’ বা অন্তর্বর্তী কাঠামো গঠনের কাজ শুরু করেছেন। পাহলভির মূল লক্ষ্য হলো, বর্তমান প্রশাসনের পতন হওয়ার সাথে সাথেই যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই এই কাঠামো দেশের শাসনভার বুঝে নিতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই অন্তর্বর্তী কাঠামোর রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রাসিস’-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সাঈদ ঘাসেমিনেজাদ। তিনি বর্তমানে যোগ্য সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পাহলভির দাবি, এমন ব্যক্তিদেরই এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যারা খুব অল্প সময়ে ইরানে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটেছিল। দীর্ঘ সময় রাজনীতির আড়ালে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনগুলোতে অনেক বিক্ষোভকারীকে রাজতন্ত্রের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান এই জনমতকে কাজে লাগিয়েই রেজা পাহলভি এখন সরাসরি ক্ষমতার হাল ধরার সাহসী ঘোষণা দিচ্ছেন।
দেশের আরও পাঁচ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ শনিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজনই রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামীকাল রবিবার থেকেই তাঁরা নিজ নিজ সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, মাহফুজুর রহমান, রুকুনোজ্জামান রোকন, মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং মো. ইউসুফ মোল্লা। দায়িত্বপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচয়: বরিশাল: বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন (বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, বরিশাল বিভাগ)। রাজশাহী: মাহফুজুর রহমান (সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি)। ময়মনসিংহ: রুকুনোজ্জামান রোকন (সদস্যসচিব, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি)। রংপুর: মাহফুজ উন নবী চৌধুরী (সদস্যসচিব, রংপুর মহানগর বিএনপি)। কুমিল্লা: মো. ইউসুফ মোল্লা (সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা মহানগর বিএনপি)। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ অনুযায়ী, এই প্রশাসকেরা পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা ও সব ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি আসার আগ পর্যন্ত তাঁরা এই পদে বহাল থাকবেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ৬টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আজকের নিয়োগসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হলো। বর্তমানে একমাত্র চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রথম দুই সপ্তাহে ইরানজুড়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা চললেও একটি নির্দিষ্ট স্থান ছিল লক্ষ্যবস্তুর বাইরে। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত শুক্রবার খার্গ আইল্যান্ডে (Kharg Island) অবস্থিত ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যদিও মার্কিন কর্মকর্তা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, তেলের স্থাপনাগুলো এই দফায় অক্ষত রয়েছে; তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি পুরো সমীকরণ বদলে দিয়েছে। কেন এই দ্বীপটি ইরানের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ? পারস্য উপসাগরে ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রবাল দ্বীপটি আয়তনে ম্যানহাটনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। অথচ এই ক্ষুদ্র দ্বীপটিই ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয় এই দ্বীপের মাধ্যমে। আহভাজ, মারুন এবং গাসসারানের মতো বিশালাকার তেলক্ষেত্রগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এখানে এসে পৌঁছায়। ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ ও বিশ্ববাজারের সমীকরণ কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকায় ইরানীদের কাছে এটি ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত। এর দীর্ঘ জেটিগুলো গভীর সমুদ্রে অবস্থিত হওয়ায় বিশালাকার সুপারট্যাঙ্কারগুলো সহজেই এখানে ভিড়তে পারে। ১৯৪ খ্রিষ্টাব্দে সিআইএ-র এক নথিতে এই দ্বীপটিকে ইরানের অর্থনৈতিক সুস্থতার জন্য ‘অপরিহার্য’ বলে অভিহিত করা হয়েছিল। বর্তমানে ইসরায়েলি বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও মনে করেন, এই টার্মিনালটি ধ্বংস করতে পারলে ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে। ট্রাম্পের হুমকি ও সংঘাতের আশঙ্কা বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চরমে। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবে এই তেল স্থাপনাগুলোই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খার্গ আইল্যান্ডে বড় ধরনের কোনো হামলা হলে তা কেবল ইরানের অর্থনীতি নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজারে এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখতে চাওয়া ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়, সমুদ্রে আটকা পড়া বা ট্রানজিটে থাকা রুশ তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় (Waiver) দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা স্থিতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে দেখা গেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল দূত কিরিল দিমিত্রিভ জানিয়েছেন, এই ছাড়ের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা প্রায় এক দিনের বিশ্ব চাহিদার সমান। মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের এই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ প্রধান ইউরোপীয় মিত্ররা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মতে, রাশিয়ার আয়ের প্রধান উৎস তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করা হবে। তারা মনে করছে, মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ তেলের দাম কমাতে গিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে ছিল। সমালোচকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই রাশিয়ার সাথে এই সাময়িক সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস