রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাবির প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত
যোগ্যতায় নাকি বিতর্কে? বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের একজন রাবির প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম

রাবি প্রতিনিধি: গবেষণা, শিক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিজ বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৫৩৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন।   এর আগে, ২০১৩ সালের ৪ জুলাই ড. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগদানের জন্য তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সোমনাথ ভট্টাচার্য বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির আলোচনায় সভায় প্রস্তাব করেছিলেন। এসময় সভায় প্লানিং কমিটির ৭জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় প্লানিং কমিটির আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ড. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগদানের জন্য সুপারিশ করে উপাচার্যের কাছে প্রেরণ করেন বিভাগীয় প্লানিং কমিটি। তবে আওয়ামী প্রশাসন সেই সময় বিভাগীয় প্লানিং কমিটির সকল সদস্যের মতামতকে উপেক্ষা করে ড. আজহারুলের বিষয়টি আমলে নেয়নি। এদিকে ৫ই আগস্টের পর নতুন করে বিভাগের আবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি আবারও সবার সামনে আসে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে তাকে এ পদে মনোনীত করা হয়।   বিশ্বমানের এই পদার্থবিজ্ঞানীর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, এটি শুধু একজন গবেষকের সম্মানই নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধিরও কারণ।   তবে এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক মনে করছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব তাঁর ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম হলেন উপাচার্য নকীবের আপন শ্বশুর। তবে কি তিনি শ্বশুর কোটায় প্রফেসর ইমেরিটাস হয়েছেন, নাকি নিজ যোগ্যতায়? চলুন বিষয়টি দেখে নেওয়া যাক।   প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার যোগ্যতা: প্রফেসর ইমেরিটাস হতে হলে অবসরপ্রাপ্ত স্বনামধন্য অধ্যাপক হতে হয়, যিনি শিক্ষকতা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা হিসেবে এই উপাধি লাভ করেন। এটি সাধারণত অবসরের পর দেওয়া একটি সম্মানসূচক উপাধি। তাহলে প্রশ্ন আসে—এই যোগ্যতা কি প্রফেসর ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামের রয়েছে? শিক্ষা ও গবেষণায় ড. আজহারুলের অসাধারণ সাফল্য:  ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৬৯ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি এবং ১৯৭২ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।   তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র প্রাথমিক কণা পদার্থবিদ্যা, অতিপরিবাহিতা, পদার্থের বৈদ্যুতিক কাঠামো এবং ম্যাক্স ফেজ-সংক্রান্ত বিষয়। জাপানি পদার্থবিজ্ঞানীদের সঙ্গে পেরোভস্কাইট-টাইপ অক্সাইড সুপারকন্ডাক্টরের সহ-আবিষ্কার তাঁর গবেষণা জীবনের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই বিজ্ঞানী বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের অধ্যাপনা: অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৪৪ বছর অধ্যাপনা করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভাগীয় সভাপতি, বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার: অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্বীকৃতি ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম আইএসইএসসিও (ISESCO) লরিয়েট হোন ২০০১ সালে। ছাত্রজীবনে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এমএসসি পর্যায়ে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের জাতীয় স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে ১৯৭২ সালে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে গবেষণা করেছেন এবং রয়্যাল সোসাইটির ফেলোশিপে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইতালিতে ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট হিসেবে গবেষণা করেছেন। তিনি লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের নির্বাচিত ফেলো। প্রকাশনা ও গবেষণা তত্ত্বাবধান: অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামের মোট প্রকাশনার সংখ্যা ৫ শতাধিক। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে ৩১৫টি গবেষণা নিবন্ধ এবং বিজ্ঞান, শিক্ষা ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রায় ১৮০টি সাধারণ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দেশে-বিদেশে প্রকাশিত ২৩টি গ্রন্থের রচয়িতা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক কর্মশালার প্রসিডিংস সম্পাদনা করেছেন।   এছাড়া তিনি ১৪১ জন গবেষকের এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালের প্রধান সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও রিভিউয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ৩০টি দেশে একাডেমিক সফর এবং ৫৪টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ তাঁর বৈশ্বিক একাডেমিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ বহন করে। প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটি গঠন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দীন খানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটির বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এম. শমশের আলী ও রাবির বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. নাসিমা আক্তার। এছাড়াও দুইজন বিদেশী বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন জাপান এডভান্স ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (JAIST) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রিও মিজোনো এবং মালয়েশিয়া পার্লিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ চিক। নিজের আপন শ্বশুর হওয়ায় সেই কমিটিতে থাকেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব।   পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের দিকে প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার জন্য ড. এ.কে.এম. আজহারুল স্যারের পক্ষে তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অ্যাকাডেমিক কমিটিতে প্রস্তাব করেছিলেন। তখন তাঁর গবেষণা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং একাডেমিক অবদান পর্যালোচনা করে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে প্রফেসর ইমেরিটাসের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে তখন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয়করণের কারণে তাঁর সেই ফাইল আর এগোতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ছাত্রজনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পরিবর্তন আসে। তখন তাঁর ফাইলটি পুনরুদ্ধার করে বিধি অনুযায়ী তাঁকে যথাযথ প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এত বছর তাঁকে প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।   প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটির সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ড. আজহারুল ইসলামের গবেষণা, প্রকাশনা ও সাইটেশনের সংখ্যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর সমান সাইটেশন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো শিক্ষকের আছে কি না, আমার জানা নেই। ইমেরিটাস অধ্যাপক নির্বাচনের বোর্ডে থাকা দুইজন বিদেশি বিশেষজ্ঞও তাঁর কাজের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ও বর্তমান ইমেরিটাস অধ্যাপকদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, তাঁর আশেপাশেও কেউ নেই। তাঁর এই নিয়োগ কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়; এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা পরিমণ্ডলের জন্যও এক গর্বের।   ড. আজহারুল ইসলাম প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কিনা জানতে চাইলে একই বিভাগের স্বনামধন্য প্রফেসর ইমেরিটাস ড. অরুণ কুমার বসাক বলেন, ড. আজহারুল ইসলামকে আমি আমার ছাত্র হিসেবে পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। তাকে ছাত্র জীবন থেকেই দেখছি তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। আরও অনেক আগেই তার প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়া উচিত ছিল কিন্তু যেভাবেই হোক তিনি হননি। ইমেরিটাস প্রফেসর হওয়ার জন্য ড. আজহারুল শুধু যোগ্যই নন–যথেষ্ট যোগ্য বলে আমি মনে করি। তাকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ দেওয়ায় আমি অত্যান্ত আনন্দিত এবং খুশি হয়েছি। এতে কেউ যদি সমালোচনা করে, সেটি তাদের ব্যাপার।   জানতে চাইলে ইমেরিটাস প্রফেসর ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম বলেন, "আমি মাত্র ২১ বছর ২ মাস বয়সে লেকচারার হিসেবে শিক্ষকতা জীবনে প্রবেশ করি। আমার মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা। আমার তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা বহু ছাত্র-ছাত্রী আজ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত আছে এবং দেশের কল্যাণে কাজও করে যাচ্ছে। আমাদের বিভাগের গবেষণায় সফলতার কারণে আমরা বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকেও অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছি। আমি সবসময় আমার ছাত্রছাত্রীদের গবেষণা ও দেশপ্রেমের প্রতি অনুপ্রাণিত করি।

ডেস্ক রিপোর্ট মে ৫, ২০২৬ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
তিন বছর পর ফিরছে রাবির বৈশাখ, চারুকলায় চলছে রঙ, মোটিফ আর স্বপ্নে ভরা প্রস্তুতি

তিন বছর পর পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৈশাখী শোভাযাত্রা ঘিরে ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছে উৎসবের আমেজ।   বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তৈরি করছেন নানা বর্ণিল মোটিফ, যেখানে বাঙালির ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্থান পাচ্ছে সমসাময়িক বিশ্ব বাস্তবতার প্রতিফলন। এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়।   শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ির মোটিফ, যা শক্তি, গতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। পাশাপাশি জাতীয় মাছ ইলিশ, শৈশবের স্মৃতিবাহী টমটম গাড়ি এবং প্রাচীন রাজা-বাদশা ও ঐতিহাসিক চরিত্রের মুখোশও স্থান পাচ্ছে এবারের আয়োজনে। বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরতে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বাঁশ, কাঠ, লোহা ও রঙিন কাগজ দিয়ে এসব মোটিফ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রংতুলির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে সেগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।   এবার কেন্দ্রীয় কোনো প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়নি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই আয়োজনটি করা হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সময় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   জানা গেছে, রাজশাহীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শোভাযাত্রা উপভোগ করতে ক্যাম্পাসে আসবেন। শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন থাকবে। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সর্বজনীন উৎসব সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির হোসেন বলেন, গত বছর রমজান মাসসহ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে বড় পরিসরে আয়োজন হয়নি। তবে এবার নতুন উদ্যমে কাজ করছেন তারা।   তিনি জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। নিজেদের হাতে সবকিছু তৈরি করে শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন শিক্ষার্থীরা।   চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রতিফলন তুলে ধরতে এমন মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে মানুষ পুরোনো বাহনের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি সেই বাস্তবতার প্রতীক।   অন্যদিকে অর্থায়নের বিষয়ে অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজস্ব শ্রম ও অর্থায়নে এই প্রস্তুতি চলছে। সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা নেওয়া হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
শিশির মনিরকে লাল কার্ড দেখালো রাবি শিক্ষার্থীদের একাংশ, নেপথ্যে ছাত্রদল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনিরের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। একই কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীকেও অংশ নিতে দেখা গেছে।   সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পরিবহন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। প্রতিবাদ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘শিশির মনির ভূয়া ভূয়া’, ‘রাকসু ভূয়া ভূয়া’, ‘ফুয়াদ ভূয়া ভূয়া’ এবং ‘রাবিয়ানদের পক্ষ থেকে লাল কার্ড’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।   কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এ ধরনের আয়োজনের সমালোচনা করেন এবং তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান।   আরেক শিক্ষার্থী বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করা ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানোকে তারা মেনে নিতে পারছেন না। এ ধরনের ব্যক্তিদের রাবি ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করার কথাও জানান তিনি।   উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর আমন্ত্রণে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে: সংকট পথে দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিতে ক্যাম্পাসে আসেন আইনজীবী শিশির মনির ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এ আয়োজন ঘিরেই শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব
জনগণের অভিপ্রায় অস্বীকার মানে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান: সাবেক রাবি উপাচার্য

শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ভোটার 'হ্যা'-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। কোনভাবেই এই সত্য মোছা যাবে না। দেশের মানুষের অভিপ্রায় হচ্ছে সংবিধানের ভিত্তি। এটাই শেষ কথা। এই অভিপ্রায় অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সকালে ফেসবুকের এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।   অধ্যাপক নকীব বলেন, ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট 'হ্যা'-এর পক্ষে প্রচারণা করেছে। করতেই হবে। ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট ছিল ২৪-এর গনঅভ্যুত্থানের ফসল। এই গনঅভ্যুত্থানের সকল আকাঙ্খা তাদের ধারণ করতে হবে। সেই জায়গা থেকেই 'হ্যা'-এর পক্ষ নেওয়া। বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে 'হ্যা'-এর পক্ষ নিয়েছে। এখন কথা পাল্টানো যাবে না।   সংবিধানে গণভোটের প্রভিশান নেই। এটাও যোগ করতে হবে। সংসদে থার্ড রেইট পলিটিশিয়ানদের আধিক্য। শুধুমাত্র এদের হাতে দেশ ছাড়া যাবে না। যেকোনো বড় পরিবর্তনের জন্য দেশের মালিক, আপামর মানুষের মতামত নিতে হবে। গণভোটে নেই, গণভোট যুক্ত করতে হবে।   তিনি আরো বলেন, যখনই শুনবেন 'পবিত্র সংবিধান' নিয়ে কথা হচ্ছে, তখনই বুঝবেন ধান্দাবাজ। সংবিধানের একটি লাইনও পবিত্র নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা। প্রয়োজনে শতবার সংবিধানে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু প্রত্যেক পরিবর্তন হতে হবে দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থে। দলীয় স্বার্থের সাথে সংবিধান মেলানো হচ্ছে প্রতারনা এবং ছোটলোকি।   রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিষয় মোটেই কঠিন নয়। বুদ্ধি-বিবেক ঠিক থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজ স্বার্থেই এসব নিয়ে 'তেনা প্যাচানো' বন্ধ করতে হবে।পাগলেও নাকি নিজের ভালো বোঝে, সংসদের কিছু ধান্দাবাজ দেখলে এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। গণমানুষের রায় মেনে নিন। তাতেই সবার জন্য কল্যাণ।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাবির উপাচার্য ড. ফরিদুল ইসলাম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ সার্চ কমিটির সদস্য

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে সার্চ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব এ এস এম কাসেম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বুধবার (১ এপ্রিল) এই তথ্য জানানো হয়।   পরিপত্র অনুযায়ী, সার্চ কমিটি কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভিসি নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবে। ৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক। অন্যান্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ তানজিমউদ্দীন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোর্শেদ হাসান। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব।   কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী তারা: ১. ভিসি প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করবেন, ২. প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করবেন, ৩. বাছাইকৃত তিন প্রার্থীর মধ্যে একজনকে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবেন।   রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “এই কমিটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও জবাবদিহিমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
রাবি ক্যাম্পাসে ঈদ উদযাপন করবেন প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী, থাকছে বিশেষ আয়োজন

চাকরির প্রস্তুতি ও পরীক্ষাসহ ব্যক্তিগত নানা কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এবার ক্যাম্পাসেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা এসব শিক্ষার্থীর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) যৌথভাবে বিশেষ উপহার ও গণভোজের আয়োজন করেছে।   রাকসু সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাস অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঈদ উপহার হিসেবে ছাত্রদের জন্য পাঞ্জাবি এবং ছাত্রীদের জন্য থ্রি-পিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের দিন সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি বড় গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও থাকছে বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা। রাকসু নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে তারা পালাক্রমে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের দিন সকালে প্রশাসন ও হলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে ছুটির সময়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। প্রিয়জনদের ছেড়ে ক্যাম্পাসে থাকা এসব শিক্ষার্থীর মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতেই এই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদকঃ রাফাসান আলম

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
‘শহীদদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই এগোচ্ছে ছাত্রশিবির’- রাবিতে সিবগাতুল্লাহ সিবগা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির–এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেছেন, শহীদদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই সংগঠনটি তার লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।   বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল তিনটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়–এর বুদ্ধিজীবী চত্বরে ছাত্রশিবিরের শহীদ দিবস উপলক্ষে রাবি শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   সভায় সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ১১ মার্চ ইসলামী ছাত্রশিবির ঘোষিত শহীদ দিবস হিসেবে প্রতিবছর পালন করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের এই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার চত্বরে সংগঠনের নবাগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কর্মী নিহত হন।   তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় সংগঠনের কর্মী সাব্বির, হামিদ, আইয়ুব ও জাব্বার শাহাদাত বরণ করেন। প্রতিষ্ঠার পর সাব্বিরকে ছাত্রশিবিরের প্রথম শহীদ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।   সিবগাতুল্লাহ বলেন, ওই ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত সংগঠনের ১৭ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।   তিনি আরও বলেন, ১৯৮২ সালের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। এ সময় তিনি হামলার নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ করা ফজলে হাসান বাদশাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।   রাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান–এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রাবি শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।   এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল হাসেম, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. মো. জাহাঙ্গীর, শহীদ সাব্বির হোসেনের ভাই মো. আকরাম, রাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ মো. নুরুজ্জামান এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ডা. সাখাওয়াত হোসেন।   অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলন–২০২৬
স্মরণকালের প্রথম রাকসু, সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলন

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)-এ স্মরণকালে প্রথমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলন–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ সম্মেলন শুরু হয় এবং ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে শেষ হয়।   সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাকসু ও সিনেট প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজ নিজ হল ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। আলোচনায় আবাসিক সিট সংকট, হলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ইন্টারনেট সংযোগ, খাবারের মানোন্নয়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।   ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা এবং সমাধান নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব। তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সমস্যাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান দাবি করেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ব্যবস্থাপনা, প্রভোস্ট কাউন্সিলের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ইসমত আরা বেগম বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, 'প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়কের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিন মাস পরপর দায়িত্ব পরিবর্তন হওয়ায় কোনো বিষয় পুরোপুরি অনুধাবন করার আগেই দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বা বড় কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।'   হল সংসদের প্রতিনিধিদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ভিপি-জিএসরা যখন বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে হল সংসদের সভাপতির কাছে গেলে তাদের প্রভোস্ট কাউন্সিলে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতীতে বিভিন্ন প্রশাসন ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে হল পরিচালনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো হলে বিপুল পরিমাণ তহবিল, ধরা যাক ১০০ কোটি টাকা থাকার কথা বলা হলেও, সবসময় তার আশানুরূপ উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি।'   শিক্ষার্থীদের অবকাঠামোগত দাবি প্রসঙ্গে ইসমত আরা বেগম বলেন, 'অনেক শিক্ষার্থী নামাজ রুম ও লাইব্রেরি রুমের আকার ছোট হওয়া এবং জায়গা সংকুলানের অভিযোগ করেন। কিন্তু যেহেতু এগুলো নির্দিষ্ট স্থাপনার কাঠামোর মধ্যে অবস্থিত, তাই সরাসরি সম্প্রসারণ সবসময় সম্ভব নয়। তবে বিকল্প চিন্তার সুযোগ রয়েছে। বড় কক্ষকে ভাগ করে একাধিক ব্যবহারোপযোগী কক্ষ বা চেম্বার তৈরি করা যেতে পারে।'   সম্মেলনের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, 'রাকসু নির্বাচন ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ হয়েছে । রাকসুর উদ্দেশ্যে হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্বে তৈরি করা। রাকসুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তারা তাদের ন্যায্য অধিকারে আদায় করতে পারবে এবং নানা দাবি দাওয়া দিতে পারবে।  আজকের অনুষ্ঠানে রাকসু আমাদের যে গিফট দিয়েছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছবি ও জুলাই আন্দোলনের দৃশ্য দেওয়া আছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।   সম্মেলনে রাকসু'র সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘রাকসু, সিনেট হল সংসদ এর এইরকম সম্মেলন আগে হয়েছে কিনা জানিনা। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম এইরকম একটা সম্মেলন দেখতে। তবে এই সম্মেলনটা আমি নির্বাচনের এক মাস পরই করতে চেয়েছিলাম কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি৷ আমাদের কাজগুলো একটু দেরিতে হলেও হচ্ছে এজন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত৷'   তিনি আরও বলেন, 'আমরা ভাবি আমরা অনেক কিছু করে ফেলবো, কিন্তু সবার যদি সহযোগিতাপূর্ণ অবস্থান না থাকে তাহলে কোনোকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। এখানে প্রভোস্ট কাউন্সিল এর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এসেছে, আমি বলবো প্রভোস্ট কাউন্সিল ও প্রভোস্টদের তাদের সুন্দরভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত। আমি প্রভোস্টদের বলবো আপনাদের কাছে যে বাজেট আছে সেগুলো প্রকাশ করে দেন, এটা সবারই জানা দরকার।'   উপাচার্য বলেন, 'আমি এই কথাটা দ্বিতীয়বার শুনতে চাইনা যে রাকসুর সাথে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের দূরত্ব তৈরি হয়ে আছে। এটা কোনো এক্সকিউজ ই হয়নে যে রাকসুর সময় হচ্ছে না হল সংসদ এর নেতৃবৃন্দের সাথে বসার। সকল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আহ্বান থাকবে মিলেমিশে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।'   উল্লেখ্য, রাকসু গঠনের প্রায় চার মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো রাকসু, সিনেট ও হল প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এমন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সংশ্লিষ্টরা এটিকে অংশগ্রহণমূলক ছাত্র নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সংলাপের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেলেন রাবি শিবিরের ৫ নেতা

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৫ জন। এতে অফিস সম্পাদক পদে আজিজুর রহমান আজাদ, ফাউন্ডেশন সম্পাদক পদে আব্দুল মোহাইমিন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে  মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। এছাড়া কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদে দায়িত্ব পালন করবেন ইমরান নাজির ও মুজাহিদ ফয়সাল।   গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের প্রথম সাধারণ অধিবেশনে তাদেরকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন এই কেন্দ্রীয় নেতাদের শপথ বাক্য পাঠ করান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।   ৩০ সদস্যবিশিষ্ট সম্পাদকীয় কমিটিতে অফিস সম্পাদক হয়েছেন সাবেক রাবি সভাপতি আজিজুর রহমান আজাদ। তিনি রাবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাবি শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।   ফাউন্ডেশন সম্পাদক পদে সাবেক রাবি সভাপতি আব্দুল মোহাইমিন। তিনি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। সমাজসেবা সম্পাদক পদে সাবেক রাবি সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তিনি অ্যাগ্রিকালচার এন্ড এগ্রোনমি বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী।   এছাড়া কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদে দায়িত্ব পালন করবেন ইমরান নাজির ও মুজাহিদ ফয়সাল। ইমরান নাজির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রাবি শাখার সাবেক অফিস সম্পাদক ছিলেন বর্তমান রাজশাহী মহানগর শিবিরের সভাপতি।   মুজাহিদ ফয়সাল ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। বর্তমানে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
রাবিতে ইফতার মাহফিলের আয়োজন

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিসিডিসি) গ্যালারিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।   অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিশন। প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস, যা মানুষের কর্মজীবন ও জাতির উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মানুষের মানবসম্পদে রূপান্তর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।   বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, প্রেসক্লাবের আয়োজনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং রমজানের শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। প্রেসক্লাব সভাপতি মনির হোসেন মাহিন বলেন, রমজান মাস সততা, সংযম ও ন্যায়ের পথে অগ্রসর হওয়ার শিক্ষা দেয়, যা সারাবছর অনুসরণীয়।   অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন, রেজিস্ট্রার ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক আখতার হোসেন মজুমদার, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, রাকসু নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   রাবি প্রতিনিধি: রাফসান আলম

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
রাবি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ
রাবি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. দুলাল আলী মোল্লা-র বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ছাত্রী মামলা করেছেন। মামলাটি ৪ জানুয়ারি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানায় দায়ের করা হয়। তদন্তের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের কারণে সিন্ডিকেটের ৫৪৬তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় ও সম্পর্ক ২০২১ সাল থেকে শুরু হয়। সম্পর্কের এক পর্যায়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তাও চলে। ২৭ ডিসেম্বর রাত ৮–৯টার দিকে শিক্ষক তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে শিক্ষার্থীকে পদ্মা আবাসিক এলাকার নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।   বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে বারবার ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরদিন ভোরে তিনি কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে জনৈক নারীকে ‘বউ’ সাজিয়ে এবং আরও তিন সহযোগীর সঙ্গে ফিরে এসে শিক্ষার্থীকে মারধর ও শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।   নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে একা ফেলে চলে যান এবং গ্যাস-পানি বন্ধ করে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
রাবিতে ফ্যাসিস্টগুলাকে সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে: সালাহউদ্দিন আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘গণভোট-২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ উত্তর অঞ্চলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬১ জন শিক্ষককে 'ফ্যাসিস্ট' আখ্যা দিয়ে তাদের নাম প্রকাশ করেন।   সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।    সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাবি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), পুন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২১টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা। তার বক্তব্যের পরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। পরে তিনি কিছু কাগজ হাতে মঞ্চের সামনে এসে সঞ্চালনাকারী রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদের নিকট বক্তব্য দেওয়ার জন্য এক মিনিট সময় চেয়ে অনুরোধ জানান। তবে সঞ্চালক তার অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অনুরোধ জানান এবং উপাচার্য তাকে কথা বলার অনুমতি দেন।    সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, 'এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা জুলাইয়ে নীরব ছিল। এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা আমাদের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন ন্যারেটিভ উৎপাদন করেছে। এর মধ্যে পুন্ড্র ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আছে।'   বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আম্মারকে উদ্দেশ্য করে 'অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে আম্মার' বললে প্রতিউত্তরে আম্মার বলেন, 'অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টগুলাকে সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে ১৬১ জন শিক্ষকের নাম আছে। এটা আমাকে বলতে দিতে হবে। না হলে জুলাই আহত ও শহীদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যাইতে হবে।' এরপর তিনি মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে একই মঞ্চে একটি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন।   সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই ১৬১ শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেন এবং জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে তাদের বিভিন্ন ভূমিকার অভিযোগ তুলেন। আম্মারের তালিকায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ অবায়দুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, আইসিটি সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা, শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সরকারসহ আরও অনেকেই।   পরিশেষে তিনি, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সেই ১৬১ জন শিক্ষকের বিচারের কোনো সিদ্ধান্ত না আসলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন।     রাবি প্রতিনিধি: রাফাসান আলম  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0