যোগ্যতায় নাকি বিতর্কে? বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের একজন রাবির প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম
রাবি প্রতিনিধি:
গবেষণা, শিক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিজ বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৫৩৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন।
এর আগে, ২০১৩ সালের ৪ জুলাই ড. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগদানের জন্য তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সোমনাথ ভট্টাচার্য বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির আলোচনায় সভায় প্রস্তাব করেছিলেন। এসময় সভায় প্লানিং কমিটির ৭জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় প্লানিং কমিটির আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ড. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগদানের জন্য সুপারিশ করে উপাচার্যের কাছে প্রেরণ করেন বিভাগীয় প্লানিং কমিটি। তবে আওয়ামী প্রশাসন সেই সময় বিভাগীয় প্লানিং কমিটির সকল সদস্যের মতামতকে উপেক্ষা করে ড. আজহারুলের বিষয়টি আমলে নেয়নি। এদিকে ৫ই আগস্টের পর নতুন করে বিভাগের আবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি আবারও সবার সামনে আসে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে তাকে এ পদে মনোনীত করা হয়।
বিশ্বমানের এই পদার্থবিজ্ঞানীর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, এটি শুধু একজন গবেষকের সম্মানই নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধিরও কারণ।
তবে এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক মনে করছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব তাঁর ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম হলেন উপাচার্য নকীবের আপন শ্বশুর। তবে কি তিনি শ্বশুর কোটায় প্রফেসর ইমেরিটাস হয়েছেন, নাকি নিজ যোগ্যতায়? চলুন বিষয়টি দেখে নেওয়া যাক।
প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার যোগ্যতা:
প্রফেসর ইমেরিটাস হতে হলে অবসরপ্রাপ্ত স্বনামধন্য অধ্যাপক হতে হয়, যিনি শিক্ষকতা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা হিসেবে এই উপাধি লাভ করেন। এটি সাধারণত অবসরের পর দেওয়া একটি সম্মানসূচক উপাধি। তাহলে প্রশ্ন আসে—এই যোগ্যতা কি প্রফেসর ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামের রয়েছে?
শিক্ষা ও গবেষণায় ড. আজহারুলের অসাধারণ সাফল্য:
ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৬৯ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি এবং ১৯৭২ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র প্রাথমিক কণা পদার্থবিদ্যা, অতিপরিবাহিতা, পদার্থের বৈদ্যুতিক কাঠামো এবং ম্যাক্স ফেজ-সংক্রান্ত বিষয়। জাপানি পদার্থবিজ্ঞানীদের সঙ্গে পেরোভস্কাইট-টাইপ অক্সাইড সুপারকন্ডাক্টরের সহ-আবিষ্কার তাঁর গবেষণা জীবনের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই বিজ্ঞানী বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের অধ্যাপনা:
অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৪৪ বছর অধ্যাপনা করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভাগীয় সভাপতি, বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার:
অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্বীকৃতি ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম আইএসইএসসিও (ISESCO) লরিয়েট হোন ২০০১ সালে। ছাত্রজীবনে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এমএসসি পর্যায়ে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের জাতীয় স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে ১৯৭২ সালে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে গবেষণা করেছেন এবং রয়্যাল সোসাইটির ফেলোশিপে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইতালিতে ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট হিসেবে গবেষণা করেছেন। তিনি লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের নির্বাচিত ফেলো।
প্রকাশনা ও গবেষণা তত্ত্বাবধান:
অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামের মোট প্রকাশনার সংখ্যা ৫ শতাধিক। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে ৩১৫টি গবেষণা নিবন্ধ এবং বিজ্ঞান, শিক্ষা ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রায় ১৮০টি সাধারণ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দেশে-বিদেশে প্রকাশিত ২৩টি গ্রন্থের রচয়িতা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক কর্মশালার প্রসিডিংস সম্পাদনা করেছেন।
এছাড়া তিনি ১৪১ জন গবেষকের এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালের প্রধান সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও রিভিউয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ৩০টি দেশে একাডেমিক সফর এবং ৫৪টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ তাঁর বৈশ্বিক একাডেমিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ বহন করে।
প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটি গঠন:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দীন খানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটির বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এম. শমশের আলী ও রাবির বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. নাসিমা আক্তার। এছাড়াও দুইজন বিদেশী বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন জাপান এডভান্স ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (JAIST) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রিও মিজোনো এবং মালয়েশিয়া পার্লিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ চিক। নিজের আপন শ্বশুর হওয়ায় সেই কমিটিতে থাকেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের দিকে প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার জন্য ড. এ.কে.এম. আজহারুল স্যারের পক্ষে তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অ্যাকাডেমিক কমিটিতে প্রস্তাব করেছিলেন। তখন তাঁর গবেষণা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং একাডেমিক অবদান পর্যালোচনা করে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে প্রফেসর ইমেরিটাসের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে তখন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয়করণের কারণে তাঁর সেই ফাইল আর এগোতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ছাত্রজনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পরিবর্তন আসে। তখন তাঁর ফাইলটি পুনরুদ্ধার করে বিধি অনুযায়ী তাঁকে যথাযথ প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এত বছর তাঁকে প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটির সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ড. আজহারুল ইসলামের গবেষণা, প্রকাশনা ও সাইটেশনের সংখ্যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর সমান সাইটেশন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো শিক্ষকের আছে কি না, আমার জানা নেই। ইমেরিটাস অধ্যাপক নির্বাচনের বোর্ডে থাকা দুইজন বিদেশি বিশেষজ্ঞও তাঁর কাজের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ও বর্তমান ইমেরিটাস অধ্যাপকদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, তাঁর আশেপাশেও কেউ নেই। তাঁর এই নিয়োগ কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়; এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা পরিমণ্ডলের জন্যও এক গর্বের।
ড. আজহারুল ইসলাম প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কিনা জানতে চাইলে একই বিভাগের স্বনামধন্য প্রফেসর ইমেরিটাস ড. অরুণ কুমার বসাক বলেন, ড. আজহারুল ইসলামকে আমি আমার ছাত্র হিসেবে পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। তাকে ছাত্র জীবন থেকেই দেখছি তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। আরও অনেক আগেই তার প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়া উচিত ছিল কিন্তু যেভাবেই হোক তিনি হননি। ইমেরিটাস প্রফেসর হওয়ার জন্য ড. আজহারুল শুধু যোগ্যই নন–যথেষ্ট যোগ্য বলে আমি মনে করি। তাকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ দেওয়ায় আমি অত্যান্ত আনন্দিত এবং খুশি হয়েছি। এতে কেউ যদি সমালোচনা করে, সেটি তাদের ব্যাপার।
জানতে চাইলে ইমেরিটাস প্রফেসর ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম বলেন, "আমি মাত্র ২১ বছর ২ মাস বয়সে লেকচারার হিসেবে শিক্ষকতা জীবনে প্রবেশ করি। আমার মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা। আমার তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা বহু ছাত্র-ছাত্রী আজ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত আছে এবং দেশের কল্যাণে কাজও করে যাচ্ছে। আমাদের বিভাগের গবেষণায় সফলতার কারণে আমরা বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকেও অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছি। আমি সবসময় আমার ছাত্রছাত্রীদের গবেষণা ও দেশপ্রেমের প্রতি অনুপ্রাণিত করি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreবাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের স্নাতক মিফতাহুল জান্নাত একই সঙ্গে বিশ্বের তিনটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়—হার্ভার্ড, কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ড, থেকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ স্কলারশিপ নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মিফতাহুল জানান, কেবল একাডেমিক ফল নয়, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যই তার আবেদনকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বস্তি এলাকার শিশুদের শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ফ্রান্সে শিক্ষাবিনিময় কর্মসূচি এবং হংকংয়ে ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা তার বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের শিক্ষাবিষয়ক স্নাতকোত্তর কর্মসূচি তার দীর্ঘদিনের সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়কেই বেছে নিয়েছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য মিফতাহুলের পরামর্শ, আবেদন করার আগে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা এবং নিজের জীবন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আলাদা আলাদা স্টেটমেন্ট অব পারপাস তৈরি করা। তার মতে, বাস্তব সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা, সুস্পষ্ট লক্ষ্য এবং শিক্ষকদের শক্তিশালী সুপারিশপত্র আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হার্ভার্ডে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন মিফতাহুল। তিনি চান, বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, রোহিঙ্গা শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যেখানে সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে কেউ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। চট্টগ্রামভিত্তিক এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বহু শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন।
১৮ বছরেই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক, ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাথান থমাস
ঢাবির শিক্ষক বরখাস্তে নতুন মোড়! স্বচ্ছ তদন্তের দাবি যুক্তরাজ্যের
চুরি ও গবেষণা অনিয়মে প্রত্যাহার ৩২৫ বাংলাদেশি গবেষণাপত্র, প্রশ্নের মুখে গবেষণার মান
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। বিশেষ করে সোশ্যাল সায়েন্সে পিএইচডি করতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি আকর্ষণীয়, কারণ অধিকাংশ প্রোগ্রামেই পূর্ণ অর্থায়ন, গবেষণাকেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একাডেমিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগভেদে ভিন্ন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ সোশ্যাল সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের সময় পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রস্তাব (রিসার্চ প্রপোজাল) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণত আবেদনকারীদের স্টেটমেন্ট অব পারপাসে গবেষণার আগ্রহ, সম্ভাব্য গবেষণার ক্ষেত্র এবং যেসব অধ্যাপকের সঙ্গে কাজ করতে চান, সেসব বিষয় তুলে ধরতে হয়। এর ফলে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। পূর্ণ অর্থায়নও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় আকর্ষণ। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক স্টাইপেন্ড, স্বাস্থ্যবীমা এবং গবেষণা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত অর্থসহায়তা পেয়ে থাকেন। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু সেলফ-ফান্ডেড প্রোগ্রাম চালু হয়েছে, তবুও শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ সোশ্যাল সায়েন্স পিএইচডি এখনো সম্পূর্ণ অর্থায়নের আওতায় পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পিএইচডি প্রোগ্রামের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো বিস্তৃত কোর্সওয়ার্ক। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কোয়ান্টিটেটিভ ও কোয়ালিটেটিভ গবেষণা পদ্ধতি, রিসার্চ ডিজাইন, তাত্ত্বিক কাঠামো এবং বিষয়ভিত্তিক উন্নত কোর্স সম্পন্ন করেন। ফলে গবেষণা পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং একাডেমিক লেখালেখিতে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। সোশ্যাল সায়েন্সের অনেক বিভাগে প্রচলিত ডিসার্টেশন কাঠামোও অন্যান্য দেশের তুলনায় আলাদা। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দীর্ঘ মনোগ্রাফের পরিবর্তে তিন বা চারটি গবেষণাপত্রের সমন্বয়ে ডিসার্টেশন সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে। এসব গবেষণাপত্র সাধারণত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশযোগ্য মানের হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে প্রবেশের আগেই গবেষণা প্রকাশনার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। বিশ্বব্যাপী একাডেমিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের পিএইচডির গ্রহণযোগ্যতা দীর্ঘদিনের। পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পাবলিক পলিসি, ননপ্রফিট স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপকদের তত্ত্বাবধান শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক গবেষণা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ বাড়ায়। গবেষণার পাশাপাশি পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে। দেশটিতে নিয়মিত আয়োজিত হয় সমাজবিজ্ঞান, জনপ্রশাসন, পাবলিক পলিসি, ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এসব সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। বেশিরভাগ পিএইচডি শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা পরবর্তী সময়ে নিজস্ব কোর্সও পরিচালনা করার সুযোগ পান। এতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাদানের বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে শিক্ষকতা বা গবেষণাভিত্তিক চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পিএইচডি সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ, ভিজিটিং স্কলার, ভিজিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, লেকচারার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরসহ বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক ও গবেষণামূলক পদে আবেদন করার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডিগ্রি নিয়ে ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগও তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগে সুযোগ-সুবিধা এক রকম নয়। অর্থায়ন, কোর্সের কাঠামো, গবেষণার পরিবেশ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষে কাজ করতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য লাগবে ১ লাখ ডলারের ফি
শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে চান? ১৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি ও ভর্তি সম্ভাবনার তথ্য এক তালিকায়
টেক্সাসের নতুন স্কুল ভাউচার কর্মসূচির আওতায় হিউস্টন এলাকার ৫০টির বেশি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের টিউশন খরচ পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হতে পারে। এসব স্কুলের বার্ষিক টিউশন রাজ্য সরকারের দেওয়া $১০,৪৭৪ ভাউচারের চেয়ে কম। তবে সাশ্রয়ী স্কুলগুলোর প্রায় সবই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোঁজা পরিবারগুলোর সামনে বিকল্প খুবই সীমিত। হিউস্টন ক্রনিকলের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভাউচারের অর্থের মধ্যে পড়া স্কুলগুলোর গড় বার্ষিক টিউশন প্রায় $৮,৫০০। অর্থাৎ টিউশন পরিশোধের পর কিছু অর্থ ইউনিফর্ম, পাঠ্যসামগ্রী বা কর্মসূচির অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষা ব্যয়ে ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য টেক্সাস এডুকেশন ফ্রিডম অ্যাকাউন্টস কর্মসূচিতে অনুমোদিত কোনো বেসরকারি স্কুলে ভর্তি শিক্ষার্থী সাধারণভাবে $১০,৪৭৪ পাবে। এই অর্থ টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীপ্রতি রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের গড় বরাদ্দের ৮৫ শতাংশের সমান। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং বৈধ ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা পরিকল্পনা বা আইইপি থাকা শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুসারে সর্বোচ্চ $৩০,০০০ পর্যন্ত পেতে পারে। হোমস্কুলে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ সর্বোচ্চ $২,০০০। বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত সাশ্রয়ী স্কুলগুলোর অধিকাংশই খ্রিষ্টান বা ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠান। পাঁচটি ইসলামিক স্কুলও এই তালিকায় রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া সাশ্রয়ী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে চিনকোয়াপিন প্রেপের নাম। ফলে ভাউচার কর্মসূচি অনেক পরিবারের জন্য বেসরকারি শিক্ষার আর্থিক বাধা কমালেও পছন্দের পরিসর সবার জন্য সমান নয়। কোনো পরিবার ধর্মীয় শিক্ষা না চাইলে টিউশন ভাউচারের সীমার মধ্যে উপযুক্ত স্কুল পাওয়া কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, হিউস্টনের অনেক অভিজাত বেসরকারি স্কুল ভাউচার কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও কম টিউশনের স্কুলগুলোর বড় অংশই এতে যুক্ত হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাশ্রয়ী তালিকায় থাকা মাত্র দুটি স্কুল ভাউচারের অর্থ গ্রহণ করছে না। ইসলামিক স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে কর্মসূচির শুরুতে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে অনুমোদিত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা তাদের আবেদন আটকে রাখার অভিযোগে মুসলিম অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে আদালতের নির্দেশে আবেদন প্রক্রিয়া বাড়ানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় পর্যালোচনা করে কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাশ্রয়ী স্কুলের তালিকায় থাকা পাঁচটি ইসলামিক স্কুলই এখন ভাউচার গ্রহণের অনুমোদন পেয়েছে। তবে ভাউচার পেলেই পরিবারের সব শিক্ষা ব্যয় শূন্য হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। হিউস্টন ক্রনিকলের হিসাবে শুধু মূল টিউশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভর্তি ফি, প্রযুক্তি ফি, বই, পরিবহন, খাবার, ইউনিফর্ম, খেলাধুলা ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক খরচ যোগ হলে পরিবারকে আলাদাভাবে অর্থ দিতে হতে পারে। স্কুলগুলোর টিউশনও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। সাশ্রয়ী স্কুলগুলোর গড় টিউশন প্রায় $১,০০০ বৃদ্ধি পেয়েছে। Eternity Christian School-এর টিউশন প্রায় ৪০ শতাংশ এবং Iman Academy-এর টিউশন প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাঁচ শতাংশের বেশি হারে টিউশন বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারি ভর্তুকি চালু হলে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিউশন বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। তবে হিউস্টনের সব স্কুল একই হারে ফি বাড়ায়নি এবং অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো ভাউচারের নির্ধারিত অর্থের নিচে টিউশন রাখছে। টেক্সাস আইনসভা নতুন শিক্ষা কর্মসূচির জন্য $১ বিলিয়ন বরাদ্দ দিয়েছে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে কর্মসূচিটির সরকারি ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। বেসরকারি স্কুলে ভর্তি শিক্ষার্থীদের মোট বরাদ্দের প্রথম ২৫ শতাংশ ১ জুলাই দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ২৫ শতাংশ ১ অক্টোবর এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দেওয়ার কথা, শর্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীকে অনুমোদিত স্কুলে ভর্তি থাকতে হবে। হিউস্টন এলাকায় শত শত বেসরকারি স্কুল থাকলেও প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ভাউচার গ্রহণ করে না। পাশাপাশি ভাউচার পাওয়ার অর্থ কোনো নির্দিষ্ট স্কুলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভর্তি হওয়ার অধিকার নয়। আসনসংখ্যা, শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, স্কুলের নিজস্ব ভর্তি নীতি এবং অতিরিক্ত ফি বিবেচনা করেই পরিবারগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে বার্ষিক টিউশন $১০,৪৭৪-এর নিচে থাকা ৫০টির বেশি স্কুলের উপস্থিতি হিউস্টনের বহু পরিবারের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আগে আর্থিক কারণে বেসরকারি স্কুল বিবেচনা করতে না পারা পরিবারগুলো এখন বিনা টিউশন বা তুলনামূলক কম খরচে সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ বিকল্পের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ফি কর্মসূচিটির বাস্তব সুবিধা কতটা বিস্তৃত হবে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান? যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন
ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পরও হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০২ শিক্ষার্থীর নাম কাটা, ক্ষোভে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা