লামিনে ইয়ামাল

স্প্যানিশ ফুটবল সেনসেশন লামিন ইয়ামালের এবং প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া | ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে স্পেনের ম্যাচের গ্যালারিতে আলো ছড়ালেন লামিন ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে বেশ হতাশাজনকভাবে মিশন শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ফেভারিট দল স্পেন। তবে মাঠের সেই চরম হতাশার মধ্যেও গ্যালারিতে স্পেনের জার্সি গায়ে আলো ছড়িয়ে এবং নিজের অনন্য ফ্যাশন দিয়ে বিশ্ব ফুটবল ভক্তদের নজর কেড়েছেন স্প্যানিশ ফুটবল সেনসেশন লামিন ইয়ামালের নতুন প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া।   আজ রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে গ্যালারিতে বসে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে এবং ভালোবাসা প্রকাশ করতে ইনেস একটি বিশেষ বিশ্বকাপ আউটফিট বেছে নিয়েছিলেন।   বিশ্বখ্যাত ক্লাব বার্সেলোনার উদীয়মান ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া হলেন স্পেনের সেভিল শহরের একজন ২১ বছর বয়সী অত্যন্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মডেল। সম্প্রতি তিনি নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে তাকে স্পেনের জাতীয় দলের ঐতিহাসিক লাল রঙের জার্সি পরা অবস্থায় দেখা গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইনেসের পরা সেই জার্সির পেছনে তার প্রেমিক লামিন ইয়ামালের অফিশিয়াল ‘১৯ নম্বর’ এবং নাম লেখা ছিল। এই ছবির ক্যাপশনে তিনি বেশ কিছু হার্ট এবং প্রার্থনা করার ইমোজি যুক্ত করে ইয়ামাল ও স্পেনের প্রতি তার গভীর সমর্থন প্রকাশ করেন।   চলমান বিশ্বকাপে স্পেনের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রায় ইয়ামালের ফর্ম এবং ফিটনেস নিয়ে দলের ভেতরে বেশ কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ার কারণে ইয়ামাল এখনো পুরোপুরি ১০০ ভাগ ফিট হয়ে উঠতে পারেননি। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন না এবং ম্যাচের ৭১তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচে স্পেনের আক্রমণভাগ একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করায় ইনেস গার্সিয়াকে গ্যালারিতে বসে হাত মাথায় দিয়ে আফসোস করতে দেখা যায় এবং ম্যাচ শেষে তিনি মাঠে গিয়ে হতাশ ইয়ামালকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রদান করেন।   গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর আজ ২১ জুন আটলান্টা স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিজেদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নেমেছে স্পেন। ইনজুরি কাটিয়ে এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো স্পেনের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন লামিন ইয়ামাল। ম্যাচের শুরুতেই দুর্দান্ত খেলে মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথম হাফের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত স্পেন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে, যার বাকি দুটি গোল করেছেন মিকেল ওয়ারজাবাল। গ্যালারিতে বসে প্রেমিকের এই অনবদ্য গোল উদযাপন করতে দেখা গেছে ইনেস গার্সিয়াকে।   লামিন ইয়ামাল এবং ইনেস গার্সিয়ার এই মিষ্টি রোমান্স গত কয়েক মাস ধরে পুরো স্পেনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত মে মাসে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা জয়ের পর অফিশিয়াল সেলিব্রেশন ডিনারে তারা দুজনে প্রথমবার হাত ধরে সবার সামনে হাজির হয়ে নিজেদের সম্পর্কের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকে ইয়ামালের ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপে ইনেসকে তার পাশে ছায়ার মতো অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে। ফুটবল ভক্তরা আশা করছেন, প্রেমিকার এমন সরব উপস্থিতি ও ভালোবাসা ইয়ামালকে ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলছেন লামিন ইয়ামাল, নিশ্চিত করলেন স্পেন কোচ

স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবেন বার্সেলোনার এই উদীয়মান ফুটবলার।   ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে জানান, ইয়ামাল পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি পুরো ৯০ মিনিট খেলবেন কি না, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন স্পেন কোচ। তার ভাষায়, ইয়ামাল ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট সময় মাঠে থাকবেন এবং দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে ব্যবহার করা হবে।   শুধু ইয়ামালই নন, স্পেন শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছে নিকো উইলিয়ামসের সুস্থতাও। তিনিও ম্যাচের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে। ফলে টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার আগে বড় দুই তারকাকে পাওয়া স্পেনের জন্য ইতিবাচক খবর।   সংবাদ সম্মেলনে নিজের দল নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখা গেছে স্পেন কোচকে। বিশেষ করে মিডফিল্ড বিভাগ নিয়ে তার মন্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দে লা ফুয়েন্তে দাবি করেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড স্পেনেরই।   তিনি বলেন, তাদের দলে ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার রয়েছে, পাশাপাশি মার্টিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইজ, পেদ্রি ও আলেক্স বায়েনার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন। এত বেশি মানসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকায় একাদশ নির্বাচনই কখনও কখনও সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। একজনকে খেলাতে গেলে আরেকজন ভালো খেলোয়াড়কে বেঞ্চে রাখতে হয়, যা কোচ হিসেবে তার জন্য সুখকর সমস্যার মতো।   তবে আত্মবিশ্বাস থাকলেও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ দেখছেন না স্পেন কোচ। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, স্পেন ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায়। দলের আত্মবিশ্বাস আছে, কিন্তু প্রতিটি প্রতিপক্ষই কঠিন। তাই শুরু থেকেই সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। নিজেদের অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ভাবার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে নিয়েও বেশ সতর্ক স্পেন কোচ। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও আফ্রিকার এই দলটিকে মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না তিনি। দে লা ফুয়েন্তের মতে, বর্তমান বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ফল দেখা গেছে। তাই র‌্যাঙ্কিং কিংবা কাগজে-কলমের হিসাব দিয়ে কোনো ম্যাচ বিচার করার সুযোগ নেই। তিনি কেপ ভার্দেকে একটি সুসংগঠিত ও দ্রুতগতির দল হিসেবে বর্ণনা করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে তারা ইতোমধ্যেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ক্যামেরুনকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছে।   স্পেন কোচের বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম চমকপ্রদ দল হতে পারে কেপ ভার্দে। সে কারণেই উদ্বোধনী ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামছে স্পেন। ইউরোপীয় ফুটবলের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিভাবান তরুণদের সমন্বয়ে গড়া দলটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। আর সেই অভিযানের শুরুতেই লামিন ইয়ামালের মাঠে নামার বিষয়টি স্প্যানিশ সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল স্পেন, জায়গা পেল না রিয়াল মাদ্রিদের কেউ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। সোমবার কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দল প্রকাশ করেন। দলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তবে বড় চমক হিসেবে কোনো রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়কে দলে রাখা হয়নি।   দলের এই ঘোষণায় স্পেনের স্কোয়াডে ক্লাবভিত্তিক ভারসাম্য ও নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেখা গেছে। দানি কারভাহাল চোটের কারণে দলে জায়গা পাননি। স্পেনের বিশ্বকাপ দলটি তিন গোলরক্ষক, আটজন ডিফেন্ডার, সাতজন মিডফিল্ডার এবং আটজন ফরোয়ার্ড নিয়ে গঠিত।   গোলরক্ষক হিসেবে আছেন উনাই সিমোন, ডেভিড রায়া এবং হুয়ান গার্সিয়া। ডিফেন্ডারদের মধ্যে আছেন মার্ক কুকুরেয়া, পাও কুবার্সি, আইমেরিক লাপোর্তে, আলেক্স গ্রিমালদো, পেদ্রো পোরো, এরিক গার্সিয়া, মার্কোস লরিয়েন্তে এবং মার্ক পুবিল।   মিডফিল্ডে দলে আছেন গাভি, রদ্রি, পেদ্রি, মার্তিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইস, আলেক্স বায়েনা এবং মিকেল মেরিনো। আক্রমণভাগে সবচেয়ে আলোচিত নাম লামিনে ইয়ামাল। তার সঙ্গে আছেন নিকো উইলিয়ামস, দানি অলমো, ফেরান তোরেস, মিকেল ওইরজাবাল, ইয়েরেমি পিনো, বোরহা ইগলেসিয়াস এবং ভিক্টর মুনিয়োজ।   স্পেনের স্কোয়াডে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, মোট আটজন। ক্লাবটির হয়ে খেলছেন কুবার্সি, এরিক গার্সিয়া, গাভি, পেদ্রি, ইয়ামাল, অলমো ও ফেরান তোরেস।   বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেনের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। ১৫ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে।

শাহারিয়া নয়ন মে ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ইয়ামাল। এক্স/বার্সেলোনা
‘লেব্রন জেমসের মতো প্রত্যাবর্তন’—বার্সাকে জাগাতে ইয়ামালের স্বপ্ন

প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করার অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছেন লামিন ইয়ামাল। বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস-এর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার ফুটবল মাঠে একই ধরনের ‘মিরাকল’ ঘটাতে চান বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা।   ২০১৬ সালে এনবিএ ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল লেব্রনের দল ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্স। ঠিক তেমনই অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন ইয়ামাল, যার লক্ষ্য উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদ-এর বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো।   প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে হেরে পিছিয়ে আছে বার্সেলোনা। আজ রাতে মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগে মাঠে নামবে দলটি, যেখানে অন্তত দুই গোলের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হবে তাদের।   ইতিহাসও বার্সার পক্ষে কথা বলছে না। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে দুই লেগ মিলিয়ে এখনো আতলেতিকোকে হারাতে পারেনি কাতালানরা। তবুও হাল ছাড়তে নারাজ ইয়ামাল।   সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, লেব্রন জেমসের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এমনকি প্রেরণা পেতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল ছবিও পরিবর্তন করেছেন তিনি।   চলতি মৌসুমে ৪৩ ম্যাচে ২২ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন এই তরুণ। তবে বাড়তি চাপকে সমস্যা নয়, বরং দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন ইয়ামাল।   তিনি বলেন, দলের প্রয়োজনে নেতৃত্ব দিতে তিনি প্রস্তুত এবং নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলেই প্রত্যাবর্তন সম্ভব। এখন প্রশ্ন একটাই—বার্সেলোনা কি পারবে ‘লেব্রন জেমস মুহূর্ত’ তৈরি করতে, নাকি আতলেতিকোর দৃঢ় রক্ষণেই থেমে যাবে তাদের স্বপ্ন?

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
লামিন ইয়ামাল (বাঁয়ে) ও ভিনিসিউস জুনিয়র (ডানে) | ছবি: সংগৃহীত
ইসলামভীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই: লামিন ইয়ামালকে ভিনিসিউসের অকুণ্ঠ সমর্থন

স্প্যানিশ ফুটবলে বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র এবার বার্সেলোনার উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামালের পাশে দাঁড়িয়েছেন।  সম্প্রতি মিশরের বিপক্ষে স্পেনের প্রীতি ম্যাচে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের কঠোর নিন্দা জানিয়েছিলেন ইয়ামাল। তার এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে ভিনিসিউস বলেছেন, বৈষম্য রুখতে খেলোয়াড়দের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গত সপ্তাহে বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত স্পেন বনাম মিশরের মধ্যকার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে একদল উগ্র সমর্থক মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক স্লোগান দেয়। বার্সেলোনার ১৬ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল, যিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম, এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এই আচরণকে ‘অসহনশীল’ এবং ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ইয়ামাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "একটি ধর্মকে নিয়ে খেলার মাঠে উপহাস করা শুধু মূর্খতা নয়, এটি চরম বর্ণবাদ।" ইউরোপের মাঠে বারবার বর্ণবাদের শিকার হওয়া ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালের প্রশংসা করে বলেন, "লামিন যে সাহসের সাথে এই বিষয়ে কথা বলেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যারা পরিচিত মুখ, যাদের হাতে অর্থ ও প্রভাব আছে, তারা হয়তো অনেক কিছু সামলে নিতে পারি। কিন্তু সাধারণ মানুষ এবং কৃষ্ণাঙ্গরা প্রতিনিয়ত যে কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যায়, তা অবর্ণনীয়। তাই আমাদের মতো যাদের কণ্ঠস্বর জোরালো, তাদের উচিত একজোট হওয়া।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমি বলছি না যে স্পেন বা পর্তুগাল বর্ণবাদী দেশ, কিন্তু এসব দেশে কিছু উগ্র বর্ণবাদী মানুষ আছে। আমরা যদি সবাই মিলে লড়াই চালিয়ে যাই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের হয়তো আর এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে না।" এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) ইতিমধ্যে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব এবং আসন্ন ক্লাব ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে ফুটবল বিশ্বে জাতিগত এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এই ডাক নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।  বিশেষজ্ঞ ও ফুটবল প্রেমীরা মনে করছেন, ভিনিসিউস এবং ইয়ামালের মতো তারকাদের এই অবস্থান ফুটবল মাঠ থেকে ঘৃণা দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0