লাস ভেগাস

লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তে আলোচিত বহুবিবাহ ও প্রতারণার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ পুরুষকে বিয়ে করে লাখো ডলার হাতিয়ে নিলেন চীনা তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে এক চীনা নারীকে ঘিরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন তিনি। এরপর অনেক ক্ষেত্রেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তিনি অন্তত ১৫টি বিয়ের আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে আটটি বিয়ের সনদ ইস্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রায় ১৪ জন পুরুষকে বিয়ের ফাঁদে ফেলেছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেভিভিইউ (KVVU) ও আদালতের নথির বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত জিয়াইং চেনকে (Jiaying Chen) গত ৪ জুন লাস ভেগাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি রেস্তোরাঁ থেকে আটক করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছিলেন, তিনি সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালায় লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ।   গ্রেপ্তারের সময় তদন্তকারীরা তার কাছ থেকে 'ভিকি লিয়াং' (Vicky Liang) নামে একটি সন্দেহভাজন জাল মার্কিন পাসপোর্ট এবং নেভাডা অঙ্গরাজ্যের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করেন। পরে নেভাডা মোটরযান বিভাগের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ওই লাইসেন্স নম্বর বা নাম-জন্মতারিখের সঙ্গে সরকারি কোনো রেকর্ডের মিল নেই।   তদন্তে ক্লার্ক কাউন্টির বিয়ে নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, 'ভিকি লিয়াং' নামেও একাধিক বিয়ের আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি বিয়ের সনদ ইস্যু করা হয়েছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক একটি বিয়ের আবেদন করা হয় ২৩ এপ্রিল ২০২৫ সালে এবং বিয়ের সনদ নিবন্ধিত হয় একই বছরের ৫ মে। ওই বিয়ের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের জানান, তিনি চেনকে অর্থ দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, একই সময়ে তিনি আরও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন। এরপর তিনি আদালতে বিয়ে বাতিলের আবেদন করেন।   আরেক ব্যক্তি, যিনি ২৩ এপ্রিল ২০২৬ সালের একটি বিয়ের সনদে চেনের স্বামী হিসেবে তালিকাভুক্ত, তদন্তকারীদের জানান যে বিয়ের আগে ছয় মাস তাদের পরিচয় ছিল। তিনি দাবি করেন, চেনের সৎবোনের চিকিৎসার কথা শুনে তিনি তাকে ২০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। তবে তারা এখনও আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী।   এছাড়া ২১ মে জমা দেওয়া আরেকটি বিয়ের আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, তিনি চেনকে ৩০ হাজার ডলার দিয়েছেন এবং এখনও তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে। তদন্তকারীরা এপ্রিল ও মে মাসে করা আরও কয়েকটি বিয়ের আবেদনও পর্যালোচনা করেছেন। তবে সেসব বিয়ে বাতিল বা বিচ্ছেদের কোনো নথি এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় চেনের সঙ্গে ছয়জন পুরুষের বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল ছিল। এর বেশিরভাগ বিয়েই গত তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   কাউন্টির নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত চেন ক্লার্ক কাউন্টি ম্যারেজ লাইসেন্স ব্যুরোতে ১৫টি বিয়ের আবেদন জমা দেন। এর মধ্যে আটটি বিয়ের সনদ ইস্যু হয়। তদন্তকারীদের কাছে তিনি স্বীকার করেন, সব আবেদনই বিয়েতে গড়ায়নি, কারণ তার ভাষায়, "সবাই টাকা দেয় না।" এছাড়া তিনি পুলিশকে জানান, একটি বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন এবং লাস ভেগাসে বিয়ে করতেন কারণ সেখানে বিয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ।   তদন্তকারীদের দাবি, চেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হতেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব দিতেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ চাইতেন। কিছু মামলায় অভিযোগ রয়েছে, তিনি অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে অর্থ নিতেন। তবে কেন এসব ব্যক্তি এত দ্রুত বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।   এদিকে লাস ভেগাস রিভিউ-জার্নাল-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের একটি অংশ জুয়ায় ব্যয় করা হয়েছে। আদালতে তিনি ইতোমধ্যে একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তার সাজা ঘোষণা করা হবে আগামী ২০ আগস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
লাস ভেগাসে ক্যাসিনোতে হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ট্রান্সজেন্ডার

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে ক্যাসিনোতে বড় ধরনের এক হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবরুদসহ ৩৬ বছর বয়সী অ্যালিসন হাওলেট নামের এক ট্রান্সজেন্ডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জন্মসূত্রে পুরুষ হলেও অ্যালিসন একজন নারী হিসেবেই জীবনযাপন করেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি, মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলা, গাড়ি ও অস্ত্র চুরি এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অ্যালিসনের সাবেক স্ত্রী পুলিশকে ফোন করে জানান যে, অ্যালিসন তার গাড়ি চুরি করে পালিয়েছে এবং গাড়িতে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অ্যালিসন সম্ভবত পুলিশের গুলিতে নিজের মৃত্যু (সুইসাইড বাই কপ) অথবা কোনো বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা করেছেন। সাবেক স্ত্রীর ফোনে থাকা ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে এবং সানসেট স্টেশন হোটেলের একটি গ্যারেজে গাড়িটি খুঁজে পায়।   গ্যারেজে পৌঁছানোর পর পুলিশ কর্মকর্তারা দেখেন, অ্যালিসন গাড়ির ভেতরে উচ্চস্বরে গান বাজাচ্ছেন এবং গাড়ি থেকে বের হওয়ার নির্দেশ বারবার অমান্য করছেন। একপর্যায়ে দীর্ঘক্ষণ পর তিনি পুলিশের কাছে পান করার জন্য পানি চান। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগান উপস্থিত চৌকস পুলিশ কর্মকর্তারা। অ্যালিসন পানির বোতল নিতে হাত বাড়াতেই কর্মকর্তারা তার হাত চেপে ধরে তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করেন। এ সময় তাকে কাবু করতে পুলিশ টেজার (Taser) ব্যবহার করে। গ্রেপ্তারের পরপরই পুলিশ দেখতে পায়, অ্যালিসন একটি হ্যান্ডগানের ওপর বসে ছিলেন এবং পেছনের সিটেই একটি এমপি৫ (MP5) সাবমেশিনগান রাখা ছিল।   পরবর্তীতে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ আরও ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং শত শত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। শুধু তাই নয়, হেন্ডারসনে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, গ্রেনেড লঞ্চার অ্যাটাচমেন্ট, সাইলেন্সার ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যালিসন গত কয়েক বছর ধরেই এ ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে তাকে এফবিআই গ্রেপ্তার না করলে বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালানোর হুমকি দিতে শোনা যায়। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ফ্লাইটে মোবাইল ফোনে আগুন, নিরাপদে অবতরণ

লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে উড্ডয়নরত অবস্থায় একটি মুঠোফোনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ফ্লাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ২৭১-এর ক্রু সদস্যরা কেবিনে একটি সেলফোনে আগুন লাগার বিষয়টি শনাক্ত করেন। এরপর পাইলট জরুরি সতর্কতা জারি করে বিমানটি লাস ভেগাসে অবতরণ করান।   এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিও রেকর্ডে পাইলটকে জানাতে শোনা যায় যে মোবাইল ফোনে আগুন লাগার ঘটনায় কেবিনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানানো হয়।   লাস ভেগাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পাইলট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এক মুখপাত্র জানান, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ীই অবতরণ করে এবং বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।   ঘটনাটিতে কোন ব্র্যান্ড বা মডেলের মোবাইল ফোন জড়িত ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করবে।   বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ডিভাইস যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও পাওয়ার ব্যাংক থেকে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শর্ট সার্কিট বা তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এসব ডিভাইস হঠাৎ আগুন ধরে যেতে পারে।   এফএএ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা কেবিনে সীমিত সংখ্যক লিথিয়াম ব্যাটারি বহন করতে পারেন, তবে কার্গো হোল্ডে এগুলো রাখা নিষিদ্ধ।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এয়ারলাইন্স পাওয়ার ব্যাংক ও পোর্টেবল চার্জার বহনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করেছে। এফএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিমানের ভেতরে প্রায় ১০০টি ব্যাটারিজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই ই-সিগারেট, ব্যাটারি প্যাক ও পাওয়ার ডিভাইসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

Unknown জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ক্যাসিনো টেবিলে হাই-স্টেক্স পোকার খেলার দৃশ্য
লাস ভেগাস নয়, জুয়া খেলে সবচেয়ে বেশি সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অ্যারিজোনার মানুষ

জুয়ার রাজধানী খ্যাত লাস ভেগাসের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সর্বস্বান্ত হওয়া জুয়াড়িদের চিত্র। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি জুয়ায় অর্থ হারানো মানুষদের বসবাস এই শহরে বা এর অঙ্গরাজ্য নেভাদায় নয়। সম্প্রতি দুই হাজার জুয়াড়ির ওপর স্বাধীন পোকার এবং আইগেমিং অ্যাফিলিয়েট 'ভিআইপি গ্রাইন্ডার্স'-এর চালানো এক জরিপে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। জরিপ অনুযায়ী, জুয়ায় অর্থ হারানোর শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় নেভাদার নামই নেই, যার অবস্থান ১২ নম্বরে। মে মাসে প্রকাশিত এই জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এক আসরে জুয়ায় সর্বোচ্চ অর্থ হারানোর জাতীয় গড় প্রায় ৪ হাজার ৬৩২ ডলার।   এই তালিকায় সবাইকে ছাড়িয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে অ্যারিজোনা। এই অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এক আসরে গড়ে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৯৮৯ ডলার পর্যন্ত হারানোর কথা স্বীকার করেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিপুল এই অর্থ হারানোর পর জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষই তাদের কাছের মানুষদের কাছে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, ৯ হাজার ৭৪৪ ডলার লোকসান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিসিসিপি।   তবে লোকসানের কথা গোপন রাখার দিক থেকে তারা দেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। এই রাজ্যের ৫৯ শতাংশ জুয়াড়িই তাদের ক্ষতির কথা প্রিয়জনদের কাছে লুকিয়ে রাখেন বলে স্বীকার করেছেন। এই গোপনীয়তার তালিকায় মিসিসিপির পরই রয়েছে যথাক্রমে নেভাদা, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেনেসি, টেক্সাস এবং ভার্জিনিয়া।   সবচেয়ে বেশি অর্থ হারানো অঙ্গরাজ্যের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইওয়া, যেখানে বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ ক্ষতির গড় প্রায় ৯ হাজার ৩৪৬ ডলার। গত বছর এই রাজ্যে প্রায় ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলারের জুয়া খেলা হয়েছে এবং এখানকার প্রায় ১২ শতাংশ জুয়াড়ি একদিন পরপরই বা এর চেয়েও বেশি বাজি ধরেন। এরপরেই ৯ হাজার ৩৪৬ ডলার ও ৯ হাজার ১৬৬ ডলার ক্ষতির গড় নিয়ে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে অরেগন এবং মিশিগান।   তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া (৬ হাজার ৬১৫ ডলার) এবং সপ্তম স্থানে জর্জিয়া (৬ হাজার ৫৬২ ডলার)। অষ্টম স্থানে থাকা নিউইয়র্কের জুয়াড়িদের সর্বোচ্চ লোকসানের গড় ৬ হাজার ২২১ ডলার। উল্লেখযোগ্য যে, কেবল গত মার্চ মাসেই নিউইয়র্কে ২৩০ কোটি (২.৩ বিলিয়ন) ডলারের খেলাধুলার বাজি বা স্পোর্টস বেটিং ধরা হয়েছে, যা দেশের যেকোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ।   জরিপে নারী ও পুরুষ জুয়াড়িদের মধ্যে লোকসানের বিশাল পার্থক্যও উঠে এসেছে। নারীদের সর্বোচ্চ ক্ষতির গড় যেখানে ৬ হাজার ৩২৫ ডলার, সেখানে পুরুষদের গড় প্রায় দ্বিগুণ—১২ হাজার ৩৫৯ ডলার। পুরুষদের মধ্যেই জুয়া খেলার অভ্যাস লুকিয়ে রাখার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এ বিষয়ে ভিআইপি-গ্রাইন্ডার্সের আইগেমিং প্রডাক্ট প্রধান হোয়াও মোরাতো গণমাধ্যমকে বলেন, জুয়া শিল্পের কেবল বিজয়ীদের সামনে আনার এই প্রবণতা বন্ধ করা প্রয়োজন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইনফ্লুয়েন্সাররা বছরের পর বছর ধরে জুয়াকে অর্থ উপার্জনের একটি সহজ উপায় হিসেবে প্রচার করে আসছে, যেখানে কেবল জয়টাই দেখানো হয় এবং ক্ষতিগুলো সচেতনভাবে আড়ালে রাখা হয়। ফলে যখন কেউ জুয়ায় হারে, তখন তারা বিষয়টিকে বিনোদনের সাধারণ অংশ হিসেবে মেনে না নিয়ে বরং লজ্জিত বোধ করে। জুয়ার বাস্তব আচরণ নিয়ে আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের পক্ষে এ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা অনেক সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০