সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

শিক্ষা সহায়তা

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে রাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের জন্য কোটি টাকার শিক্ষা সহায়তা, ক্ষুব্ধ স্থানীয় শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে রাজ্যের স্থানীয় বাসিন্দা বা মার্কিন নাগরিকরা তাদের নিজেদের পড়াশোনার বিপুল খরচ জোগাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। নিজ দেশে এমন বৈষম্যের শিকার হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের রাজ্য তহবিলের অনুদানসহ নানা ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি হাজার হাজার অবৈধ শিক্ষার্থী ইন স্টেট টিউশন রেট বা স্থানীয়দের সমান ফি, কমিউনিটি কলেজের ফি মওকুফ এবং ভর্তুকিযুক্ত ঋণের সুবিধাও পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো রাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ।   মধ্যবিত্ত মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। কারণ তাদের অনেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হন, অথচ তাদের বছরে ৪৫ হাজার ডলারের বেশি কলেজ ফি গুনতে হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আভা শ্মিট এই বৈষম্যকে সম্পূর্ণ হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেছেন।   বে এরিয়াতে বেড়ে ওঠা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই ছাত্রী দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টকে জানান, গত বছর তিনি মাত্র ২ হাজার ডলার আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন। বাকি খরচ মেটাতে তার বাবাকে নিজের অবসরের জমানো টাকা ভাঙতে হয়েছে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। বর্তমানে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বছরে ৭৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পড়াশোনার খরচ জোগাতে আভা ক্যাম্পাসের বাইরে একটি কাজ করেন। তারপরও বাড়িভাড়া এবং মুদি বাজারের খরচ মেটাতে তাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে।   আভা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জায়গা করে নিতে অনেক পরিশ্রম করেছি। অথচ আমি কোনো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছি না, আর নথিপত্রবিহীন অবৈধ অভিবাসীরা সেই টাকা পেয়ে যাচ্ছেন।   যোগ্য অবৈধ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ একটি ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। যারা আয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন তারা ক্যালিফোর্নিয়া ড্রিম অ্যাক্ট অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের ক্যাল গ্রান্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই কর্মসূচি চালু করার সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৬ কোটি ডলার। এছাড়া এসব শিক্ষার্থী ক্যালিফোর্নিয়া ড্রিম লোন কর্মসূচির সুবিধাও নিতে পারেন, যার আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের ছাত্র ঋণ পাওয়ার অযোগ্য অবৈধ স্নাতকদের ভর্তুকিযুক্ত ঋণ দেওয়া হয়।   ২০০১ সালে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় শর্ত পূরণকারী নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থীরা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সমান টিউশন ফি দেওয়ার সুযোগ পান। এছাড়া কমিউনিটি কলেজগুলোতে যোগ্য অবৈধ শিক্ষার্থীরা ক্যালিফোর্নিয়া কলেজ প্রমিজ গ্রান্ট পান, যা তাদের প্রতি ইউনিটের ৪৬ ডলার নিবন্ধন ফি পুরোপুরি মওকুফ করে দেয়। সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন ও খাবারের খরচ যেখানে প্রতি শিক্ষাবর্ষে হাজার হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়, সেখানে এই ধরনের আর্থিক সহায়তা অবৈধ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় করে। কিন্তু পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়া মার্কিন নাগরিক ও বৈধ বাসিদারা বিশাল ঋণের মুখে পড়ছেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে অবস্থিত চ্যাপম্যান ইউনিভার্সিটির ছাত্র কুপার ভিনসিক ধারণা করছেন, স্নাতক শেষ করার পর তিনি বিশাল ঋণের জালে আটকে পড়বেন। ২১ বছর বয়সী এই তরুণ চিত্রনাট্যকার হতে চান। তিনি জানান, তার চোখের সামনে অবৈধ সহপাঠীরা নানা ধরনের সহায়তা পেলেও তিনি নিজে কোনো বড় আর্থিক সহায়তা পাননি। এর ফলে তাকে কয়েক হাজার ডলারের ঋণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হবে। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান টিউশন ফি বছরে প্রায় ৭০ হাজার ডলার।   সান দিয়েগোর বাসিন্দা ভিনসিক জানান, খরচ কমানোর জন্য তিনি প্রথম দুই বছর সান্তা বারবারা সিটি কলেজে পড়েছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ, ওই কমিউনিটি কলেজে নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থীদের বেশি আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতো। এমনকি ক্যাম্পাসে অভিবাসন কর্মকর্তারা এলে কীভাবে তাদের কাছ থেকে লুকাতে হবে সেই বিষয়েও শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হতো। ভিনসিকের মতে, যেহেতু কমিউনিটি কলেজগুলো জনগণের করের টাকায় চলে, তাই কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়ার জন্য সেই অর্থ ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত।   অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ড্রিম লোন কর্মসূচির জন্য প্রতি বছর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি সিস্টেমকে ২৫ লাখ ডলার দেয় এবং ইউসি নিজস্ব তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ যোগ করে। তবে রাজ্য আইনসভার কাছে জমা দেওয়া ইউসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচিতে যে পরিমাণ তহবিল রয়েছে সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঋণের আবেদন পাওয়া যাচ্ছে না।   এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। রিপাবলিকান দলের গভর্নর পদপ্রার্থী স্টিভ হিলটন বলেছেন, রাজ্যের অনেক বাসিন্দা যখন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সংগ্রাম করছেন তখন অবৈধ শিক্ষার্থীদের পেছনে এই বিশাল ব্যয় কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, আমরা সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের জন্য দেশের সর্বোচ্চ কর পরিশোধ করছি। গভর্নর নির্বাচিত হলে তিনি অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা কমানোর এবং বছরে দেড় লাখ ডলারের কম আয়কারী কর্মীদের রাজ্য আয়কর বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   তবে ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের এক মুখপাত্র এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীরা শুধু তাদের অভিবাসন মর্যাদার কারণে বেশি আর্থিক সহায়তা পান না। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের কলেজ শিক্ষাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার পূর্ণকালীন স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ ছাত্র ঋণ নিয়েছেন, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে এই হার ৩৮ শতাংশ।   খবরের উৎস: দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০