সান ফ্রান্সিসকো

সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে আইসের হাতে আটক হলেন ইউক্রেনীয় নারী ইরিনা গোর্ব | ছবি: সংগৃহীত
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ বছর পর আটক ইউক্রেনীয় নারী, উত্তাল সান ফ্রান্সিসকো

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের হাতে এক ইউক্রেনীয় নারী আটকের ঘটনায় উদারপন্থী শহরটিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাসকারী ওই নারীর আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৮ বছর বয়সী ইরিনা গোর্ব পেশায় একজন কফি তৈরির কারিগর এবং পেশাদার আলোকচিত্রী। গত বুধবার পোর্টল্যান্ড থেকে সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে ফিরে আসার পর ফেডারেল এজেন্টরা তাকে আটক করেন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ইরিনা ২০১০ সালের জুলাই মাসে আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০১১ সালের মে মাস পর্যন্ত তার ভিসার মেয়াদ ছিল। কিন্তু এরপরও তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন।   ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের একটি দোকানের সামনে কয়েকজন সাদা পোশাকের এজেন্ট ইরিনাকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন। এ সময় তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় যে তাকে শ্বাসরোধ করা হচ্ছে এবং তিনি ইউক্রেন থেকে এসেছেন। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা এজেন্টদের পরিচয়পত্র দেখতে চান এবং আটকের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে এজেন্টরা তাকে একটি হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যান।   আইসিই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরিনা পালানোর চেষ্টা করায় এবং গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তাকে হেফাজতে রেখে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের মুখপাত্র বলেছেন, অনিয়মিত প্রবাসীদের জন্য নিজ দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   এদিকে এই ঘটনায় সান ফ্রান্সিসকোর প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের প্রার্থী ও স্টেট সিনেটর স্কট উইনার এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইরিনা সান ফ্রান্সিসকোতে নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলেছিলেন এবং তিনি কোনো অপরাধ করেননি। অথচ তাকে জোরপূর্বক ধরে এমন একটি দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে, যা বর্তমানে যুদ্ধের মুখোমুখি। এছাড়া রিচমন্ড সিটি কাউন্সিলের সদস্য ডোরিয়া রবিনসন এই আটককে একটি 'অপহরণ' বলে অভিহিত করেছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সান ফ্রান্সিসকোর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল অচল হয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
সিস্টেম ত্রুটিতে সান ফ্রান্সিসকোতে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ছড়ায় ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে শনিবার সকালে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক কোম্পানি (পিজিঅ্যান্ডই)-এর একটি সিস্টেম ত্রুটির কারণে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তায় এক লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানানো হলেও পরে পিজিঅ্যান্ডই স্পষ্ট করে জানায়, সেটি ছিল প্রযুক্তিগত ত্রুটিজনিত ভুল তথ্য। প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হন।   স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটের কিছু পর এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়। শহরের রিচমন্ড, প্রেসিডিওসহ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অসংখ্য ট্রাফিক সিগন্যাল অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।  পিজিঅ্যান্ডই জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাদের আউটেজ রিপোর্টিং সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা ভুলভাবে অনেক বেশি দেখানো হয়েছিল। পরে তথ্য যাচাই করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত পরিধি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল এবং ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়।   বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বয়ংচালিত গাড়ি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েমোও নিরাপত্তার স্বার্থে সান ফ্রান্সিসকোতে তাদের রাইড সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় সেবা চালু করে।  ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় দমকল বাহিনী শহরের একটি এলাকায় উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারে আর্কিং বা বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। একই সময়ে একটি সাবস্টেশনেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   এটি চলতি বছরের মধ্যে সান ফ্রান্সিসকোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে আলোচিত আরেকটি ঘটনা। গত বছরের ডিসেম্বরে একটি সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে শহরের এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিলেন। সেই ঘটনার পর বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শনিবারের ঘটনায় পিজিঅ্যান্ডই বলছে, এটি মূলত একটি সিস্টেম গ্লিচের কারণে ভুল তথ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সীমিত পরিসরের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ছিল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নতুন রেকর্ড গড়েছে সান ফ্রান্সিসকোর বাড়ি ভাড়ার বাজার। ছবি: সংগৃহীত
সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসন সংকট তীব্র, এক রুমের বাসার ভাড়া প্রথমবার ৪ হাজার ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়ি ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। শহরটিতে এক শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক গড় ভাড়া প্রথমবারের মতো ৪ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে বার্ষিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভাড়া বৃদ্ধির রেকর্ডও এখন সান ফ্রান্সিসকোর দখলে।   অনলাইন ভাড়া বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জাম্পার (Zumper)-এর জুলাই ২০২৬ সালের জাতীয় ভাড়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের একটি বাসার গড় মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ ডলার, যা শহরটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।   এক বছর আগের তুলনায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে ২২ দশমিক ৬ শতাংশ। জাম্পারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো বড় শহরে এত দ্রুত ভাড়া বাড়েনি। তুলনামূলকভাবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫২৬ ডলারে পৌঁছেছে। দুই শয়নকক্ষের বাসার জাতীয় গড় ভাড়া সামান্য কমে ১ হাজার ৯০৫ ডলারে নেমেছে।   সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সেখানে গড় মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৬৬০ ডলার। তবে দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ায় সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরে পরিণত হয়েছে। জাম্পারের আবাসন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টাল চেন জানান, চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবারের মতো এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ৪ হাজার ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে জুনে সেই ভাড়া ৪ হাজার ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেছে, যা নতুন একটি মাইলফলক।   পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ছিল ২ হাজার ৭৯০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর কয়েক বছর ভাড়া তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও গত বছর থেকে আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ বাড়ানোয় উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা আবারও সান ফ্রান্সিসকোতে বসবাস শুরু করেছেন।   এছাড়া করোনা মহামারির পর অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের আবার অফিসে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ায় শহরের কেন্দ্রস্থলে আবাসনের চাহিদা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি অনেক কমে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়ছে না। জাম্পারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসিক ভাড়া ইউনিটের শূন্যতার হার ৪ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ বাজারে খালি বাসার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে বাড়তি চাহিদা এবং নতুন আবাসনের ঘাটতি মিলিয়ে ভাড়ার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।   এই প্রভাব শুধু সান ফ্রান্সিসকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। পাশের ওকল্যান্ডে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে সান হোসেতে এক শয়নকক্ষের গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ ডলার।   বিশ্লেষকদের ধারণা, এআই শিল্পের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে এবং নতুন আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে আগামী মাসগুলোতেও সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়া আরও বাড়তে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পুরাতন পোশাক নষ্ট হওয়া ঠেকাতে পাবলিক লাইব্রেরিতে অভিনব উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরের পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে ব্যবহৃত ও পুরাতন পোশাক মেরামত করে সেগুলোকে নতুন রূপ দেওয়ার এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ লাইব্রেরিগুলোর ভেতরেই এখন কোনো খরচ ছাড়াই পুরাতন পোশাক জোড়াতালি বা মেরামত করে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। মূলত কাপড় ফেলে দেওয়ার কারণে পরিবেশের যে মারাত্মক ক্ষতি হয়, তা রোধ করতেই শহর কর্তৃপক্ষ এবং একটি স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা যৌথভাবে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি একটি শনিবার সান ফ্রান্সিসকো পাবলিক লাইব্রেরির পার্কসাইড শাখায় গিয়ে দেখা যায়, বই ধার নেওয়া বা ফেরত দেওয়ার জন্য নয়, বরং পোশাক মেরামতের জন্য মানুষ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।   সেখানে সেলাই মেশিন, বিশেষ কাঁচি ও সূঁচ নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন পাঁচজন পোশাক বিশেষজ্ঞ। এই চমৎকার উদ্যোগটি মূলত ২০২৩ সালে ‘ক্লোথিং রিপেয়ার ক্লিনিক’ নামে প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল এবং বর্তমানে এটি শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরি শাখায় পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হচ্ছে। সান ফ্রান্সিসকো পাবলিক লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিশেষ কর্মসূচিটি শহরের পরিবেশ বিভাগ এবং ‘স্ক্র্যাপ’ নামক একটি অলাভজনক সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই অলাভজনক সংস্থাটি মূলত ফেলে দেওয়া বা উদ্বৃত্ত বিভিন্ন শিল্প উপাদানকে নতুনভাবে সৃজনশীল কাজে ব্যবহারের জন্য রূপান্তর করে থাকে। এছাড়া লাইব্রেরিগুলোতে আরেকটি সংস্থার সহযোগিতায় বিনামূল্যে বাইসাইকেল মেরামতের জন্য একটি বিশেষ মোবাইল ক্লিনিক সেবাও দেওয়া হচ্ছে।   এই ক্লিনিকে সেবা নেওয়ার জন্য আগে থেকে কোনো বুকিং বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না, বরং যারা আগে আসেন তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পেয়ে থাকেন। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে তাদের পোশাক সচল করার পাশাপাশি একটি সুন্দর সামাজিক বন্ধন তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন। লাইব্রেরিতে আসা বারবারা কোহ নামের এক বাসিন্দা জানান, তিনি কয়েক দশক আগে বেইজিং থেকে তার মায়ের জন্য একটি রেশমি জ্যাকেট কিনেছিলেন। তার মা মারা যাওয়ার পর জ্যাকেটটি ছিঁড়ে নষ্ট হতে বসেছিল, কিন্তু এই ক্লিনিকের মাধ্যমে তা সুন্দরভাবে মেরামত করা হয়েছে। জ্যাকেটটি মায়ের স্মৃতি বহন করায় এটি তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এবং এখন থেকে তিনি এটি নিয়মিত পরতে পারবেন।   পরিবেশ সচেতনতার এই অনন্য উদ্যোগটি মূলত বিশ্বজুড়ে চলমান ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ বা দ্রুত পরিবর্তনশীল পোশাক সংস্কৃতির ফলে তৈরি হওয়া মারাত্মক পরিবেশ দূষণের সমস্যা দূর করতে কাজ করছে। জাতিসংঘের একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর সারা বিশ্বে কোটি কোটি টন পোশাক মানুষ ময়লা হিসেবে ফেলে দেয়, যার মধ্যে ৯২ মিলিয়ন টন পোশাক সরাসরি ল্যান্ডফিল বা বর্জ্য ফেলার স্থানে চলে যায়। এই পরিত্যক্ত বস্ত্রগুলো ধীরে ধীরে পচে গিয়ে বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত করে। এছাড়া সিন্থেটিক বা মিশ্র কাপড়ের বর্জ্য থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং চিরস্থায়ী কেমিক্যাল নিঃসৃত হয়ে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটায়।   সান ফ্রান্সিসকোর নগর কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছেন যে, ইদানীং শহরের সাধারণ বর্জ্যের মধ্যে ভালো মানের কাপড়ের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই অপচয় ও দূষণ ঠেকাতে এবং ভালো মানের বস্ত্রের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা সাধারণ মানুষকে পোশাক মেরামতে উৎসাহিত করছেন। এখানে কেবল এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞরা কাপড় সেলাই করে দেন না, বরং তারা মেরামতের প্রক্রিয়াটি কাপড়ের মালিককে হাতে-কলমে শিখিয়েও দেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মানুষ যেন পরবর্তীতে ঘরে বসেই তাদের ছোটখাটো বা সহজ সমস্যাগুলো নিজেরাই সমাধান করতে পারেন এবং পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখতে পারেন।

তাবাস্সুম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০