যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ শহরগুলোর তালিকায় নর্থ টেক্সাসের এই শহর
যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্ল্যানো। জাতীয় জননিরাপত্তা সূচকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে শহরটি। কম অপরাধপ্রবণতা, কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তায় ধারাবাহিক বিনিয়োগের কারণে এই অবস্থান অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি প্রকাশিত ন্যাশনাল পাবলিক সেফটি ইনডেক্স -এ ১ লাখের বেশি জনসংখ্যার মার্কিন শহরগুলোর অপরাধের হার, সহিংস অপরাধ, সম্পত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ, জরুরি সেবার কার্যকারিতা এবং জননিরাপত্তার বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে এই র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্ল্যানো সবচেয়ে নিরাপদ বড় শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে।
প্ল্যানো পুলিশ বিভাগের প্রধান এড ড্রেইনস বলেন, এই অর্জন শহরের বাসিন্দা, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তার ভাষায়, শুধু অপরাধ দমন নয়, অপরাধ প্রতিরোধে কমিউনিটির অংশগ্রহণও শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্ল্যানোতে সহিংস অপরাধ ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ, উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। পাশাপাশি জরুরি সেবায় দ্রুত সাড়া দেওয়া, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও শহরটির ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ মহানগর এলাকার অংশ হলেও প্ল্যানো দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ জীবনমান, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নিরাপদ আবাসিক পরিবেশের জন্য পরিচিত। এ কারণে পরিবার নিয়ে বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আকর্ষণীয় শহর হিসেবেও নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় তালিকায় স্থান পেয়ে আসছে।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও জননিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে, যাতে প্ল্যানো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম নিরাপদ শহর হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ায় হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত সঠিক জায়গায় পৌঁছানো। জীবন-হুমকির পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে কল করতে বলা হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য বা আচরণগত সংকটে ৯৮৮ নম্বরে কল বা খুদে বার্তা পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টা সহায়তা পাওয়া যায়। বিষক্রিয়া বা কোনো বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শের ক্ষেত্রে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ১-৮০০-২২২-১২২২ নম্বরেও ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া যায়। জরুরি নম্বরগুলো এক নজরে ৯১১ — জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতি, দুর্ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতা ৯৮৮ — মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে জরুরি সহায়তা ১-৮০০-২২২-১২২২ — বিষক্রিয়া বা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ক্যালিফোর্নিয়ায় হাসপাতালের সংখ্যা অনেক এবং হাসপাতালের ধরনও এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন ধরনের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে সাধারণ জরুরি চিকিৎসা হাসপাতাল এবং মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালও রয়েছে। রাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য খুঁজতে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা যায়। সেখানে হাসপাতালের লাইসেন্স, অবস্থান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হওয়ায় পুরনো অনলাইন তালিকার তুলনায় সরকারি তথ্যভান্ডার বেশি নির্ভরযোগ্য। জরুরি পরিস্থিতিতে কোন নম্বরে কল করতে হবে, সেটি আগে থেকেই জানা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অচেতন হয়ে পড়লে, শ্বাসকষ্ট হলে, গুরুতর আঘাত পেলে বা জীবন ঝুঁকিতে থাকলে ৯১১ নম্বরে কল করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিস পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, আত্মহত্যার চিন্তা, তীব্র মানসিক অস্থিরতা বা আচরণগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৮৮ নম্বরে কল বা খুদে বার্তা পাঠানো যায়। অনলাইন কথোপকথনের মাধ্যমেও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সেবা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চালু থাকে। কোনো ওষুধ, রাসায়নিক, পরিষ্কারক পণ্য, উদ্ভিদ বা অন্য কোনো সম্ভাব্য বিষাক্ত পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ১-৮০০-২২২-১২২২ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। এই সেবা বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেলে, খিঁচুনি হলে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে অপেক্ষা না করে ৯১১ নম্বরে কল করতে হবে। হাসপাতাল খোঁজার সময় শুধু দূরত্ব নয়, হাসপাতালটি কী ধরনের চিকিৎসা দেয় সেটিও দেখা জরুরি। কোনো হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ থাকলেও সেখানে সব ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা নাও পাওয়া যেতে পারে। গুরুতর পরিস্থিতিতে তাই নিজের মতো করে দূরের কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল খোঁজার পরিবর্তে ৯১১-এর জরুরি সহায়তা নেওয়া নিরাপদ। স্বাস্থ্যবিমা থাকা রোগীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাসপাতালটি তাদের স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার আওতাভুক্ত কি না। জরুরি নয় এমন চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালে যাওয়ার আগে নিজের স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন হাসপাতাল ও চিকিৎসক পরিকল্পনার আওতাভুক্ত, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে। এতে চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাতের ক্ষেত্রে আগে জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। যাদের মেডি-ক্যাল আছে বা মেডি-ক্যালের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের জন্যও জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়া যায়। কিছু যোগ্য আবেদনকারী হাসপাতাল থেকেই সাময়িক মেডি-ক্যাল সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগ বা দাতব্য চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচির সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অনেক হাসপাতাল যোগ্য রোগীদের জন্য চিকিৎসার খরচ কমানো বা পরিশোধে সহায়তার ব্যবস্থা রাখে। এ বিষয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আগে বা বিল পাওয়ার পর হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের বাসার কাছের হাসপাতাল ও জরুরি বিভাগের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর আগে থেকেই ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা। একই সঙ্গে ৯১১, ৯৮৮ এবং বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নম্বরও ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা ভালো। হাসপাতালের ঠিকানা, চিকিৎসাসেবা, লাইসেন্সের অবস্থা বা জরুরি বিভাগের কার্যক্রম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরনো ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অননুমোদিত তালিকার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত। জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালের তালিকা খুঁজতে সময় নষ্ট না করে সরাসরি ৯১১ নম্বরে কল করুন।
মাঝ আকাশে পোশাক খুলে অ শা লীন আচরণের অ ভি যোগ, মিয়ামিতে আ টক নারী
সন্তান পালনে এক অভিভাবক ঘরে থাকলে যেসব রাজ্যে খরচ কম
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছেন আমেরিকা: বন্ধ হচ্ছে কেনাকাটা ও ভ্রমণ
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মোট ঋণ প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করছে। মানি ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের টেড রসম্যান বলেন, ঋণসংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের শুরুর তুলনায় আর্থিক পরামর্শ নেওয়ার সেশনও বেড়েছে ১৪৩ শতাংশ। রসম্যানের মতে, এই আর্থিক চাপের বড় কারণ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া। তিনি বলেন, মানুষ এখন প্রায় সবকিছুর জন্য আগের চেয়ে বেশি অর্থ দিচ্ছে। ২০১৯ সালের তুলনায় খাদ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। শুধু খাবার নয়, গাড়ি, জ্বালানি, চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিশুদের দেখাশোনার খরচও মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান রসম্যান। ফলে অনেক পরিবারকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে, সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে এবং কোন বিল আগে পরিশোধ করা হবে, তা নিয়েও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে ঋণের কারণে অনেকে লজ্জায় সাহায্য চাইতে চান না। রসম্যান বলেন, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক সংকোচ কাজ করে। তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতাদের কাছে অনেকেই জানতে চান, তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ কি না। রসম্যানের মতে, এই লজ্জা দূরে রাখা দরকার, কারণ একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন লাখো মানুষ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের প্রায় অর্ধেকই প্রতি মাসে পুরো ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না এবং এক মাসের ঋণ পরের মাসে বহন করেন। মানি ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের একজন গড় গ্রাহক প্রায় ৪০ হাজার ডলারের অনিরাপদ ঋণ নিয়ে সাহায্য চাইতে আসেন। এই ঋণ সাধারণত বিলাসী কেনাকাটা থেকে তৈরি হয় না; বরং গাড়ি মেরামত, চিকিৎসার বিল ও বাজার-সদাইয়ের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ থেকেই এর বড় অংশ তৈরি হয়। রসম্যান বলেন, তুলনামূলক কম ঋণের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ সুদের ব্যালান্স ট্রান্সফার সুবিধা কাজে লাগতে পারে। তবে বড় অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রে অলাভজনক ঋণ পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি তুলনামূলক কার্যকর সমাধান হতে পারে।
৪০১(কে)-তে আমেরিকানদের গড় সঞ্চয় বেড়ে রেকর্ড, এক বছরে বাড়ল ১৩ শতাংশ
৪ কোটি ডলারের সোনা লুকিয়ে রাখার পর যা ঘটল সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার সঙ্গে!
এপস্টিন-সম্পর্কিত ট্রল অ্যাকাউন্টকে জবাব দিতে চেয়েছিলেন এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল
নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ চলছে। ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির Department for the Aging, Administration for Children’s Services এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হসপিটালিটি খাতেও নতুন চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি চাকরির অনেক পদে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য। নিউইয়র্ক সিটির Department for the Aging বা NYC Aging-এ Community Coordinator পদে Job Developer নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। পদটির বেতন ৬২ হাজার ৮৬৮ ডলার থেকে ৭২ হাজার ২৯৮ ডলার পর্যন্ত। কর্মস্থল ২ লাফায়েট স্ট্রিট, ম্যানহাটন। সরকারি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে এই পদের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। NYC Aging-এর বর্তমান ক্যারিয়ার পেজেও একাধিক পদে নিয়োগের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে Community Coordinator, City Research Scientist II, Principal Administrative Associate III, Administrative Staff Analyst এবং Aging Specialist ধরনের পদ রয়েছে। ফলে যারা সিটি সরকারের চাকরিতে আগ্রহী, তাদের জন্য একাধিক বিভাগে সুযোগ খোলা রয়েছে। এদিকে নিউইয়র্ক সিটির Administration for Children’s Services বা ACS আজ ১৪ সেপ্টেম্বর একটি সরাসরি Hiring Event আয়োজন করছে। ২ লাফায়েট স্ট্রিটে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আয়োজিত এই ইভেন্টে Case Manager পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পদগুলো Division of Youth and Family Justice-এর অধীনে Crossroads বা Horizon Juvenile Detention Facility-তে কাজের জন্য। যোগ্য প্রার্থীদের ঘটনাস্থলেই ইন্টারভিউ এবং শর্তসাপেক্ষে চাকরির অফার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। Case Manager পদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার যোগ্যতা রয়েছে। চার বছরের কলেজ ডিগ্রির সঙ্গে কমিউনিটি ওয়ার্ক, কাউন্সেলিং, সোশ্যাল ওয়ার্ক, যুব উন্নয়ন বা রিহ্যাবিলিটেশন ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছরের পূর্ণকালীন অভিজ্ঞতা থাকলে একটি পথে আবেদন করা যায়। হাইস্কুল ডিপ্লোমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ছয় বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও যোগ্যতার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সমন্বিত যোগ্যতার পথও রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে Residency Requirement-ও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে নিয়োগের পর ৯০ দিনের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস প্রতিষ্ঠা করতে হয়। কিছু নির্দিষ্ট পদ ও কর্মীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে residency requirement কীভাবে প্রযোজ্য, তা দেখে নেওয়া জরুরি। বেসরকারি খাতেও নিউইয়র্কে নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। হসপিটালিটি খাতে OysterLink-এর বর্তমান তালিকায় নিউইয়র্ক সিটিতে Private Chef-এর ৬২টি চাকরির সুযোগ দেখা যাচ্ছে। এসব পদের মধ্যে কিছু চাকরিতে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বার্ষিক বেতনের সুযোগ রয়েছে। তবে পদ, নিয়োগকর্তা, অভিজ্ঞতা এবং কাজের ধরন অনুযায়ী বেতন ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু সরকারি চাকরিই নয়, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, প্রাইভেট হাউসহোল্ড এবং অন্যান্য হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মীদের জন্যও সুযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে OysterLink-এর তালিকায় নিউইয়র্কে Private Chef ছাড়াও Sous Chef, Executive Chef এবং অন্যান্য কুলিনারি পদের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। কিছু পদে হেলথ ইন্স্যুরেন্স, পেইড টাইম অফ, রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানসহ বিভিন্ন সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে City of New York-এর Jobs পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট সিটি এজেন্সির ক্যারিয়ার পেজে যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ ও residency requirement দেখে আবেদন করা উচিত। কারণ চাকরির সংখ্যা, বেতন এবং আবেদন শেষ হওয়ার সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
মেরিল্যান্ডে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ব্যাটন দিয়ে পেটালো আইসিই, তদন্তের দাবি
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে, চীনের সঙ্গে জিততে চান ট্রাম্প