সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিবাসী ভিসা

বাংলাদেশিদের মার্কিন ভিসায় নতুন অধ্যায়, স্থগিতাদেশ উঠলেও কড়াকড়ি বহাল
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কী আপডেট, জেনে নিন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর জানুয়ারি ২০২৬ থেকে চালু থাকা অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ গত ২১ আগস্ট থেকে আর কার্যকর নেই। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই স্থগিতাদেশের বাধা আর থাকছে না। তবে ভিসা সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠে যায়নি। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় জামানতের নিয়ম এখনো বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত জামানতের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ায় কী বদলেছে - চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। এর আওতায় পরিবারভিত্তিক এবং চাকরিভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসনের ভিসাও পড়েছিল। পরে আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওই নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার কারণে অভিবাসী ভিসা ইস্যু আটকে থাকার পরিস্থিতি শেষ হয়েছে। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার জন্য যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকরা এখন সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণি অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভিসার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য অভিবাসন আইনের শর্ত পূরণ করতে হবে। পরিবারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা - যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দার পরিবারের সদস্য হিসেবে যারা বাংলাদেশ থেকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে আগের ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ এখন আর বাধা নয়। তবে পরিবারের মাধ্যমে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী ভিসা পাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আবেদন অনুমোদিত হলেই সঙ্গে সঙ্গে ভিসা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে ভিসা নম্বর খালি থাকতে হবে এবং আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ভিসা বুলেটিনের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে থাকতে হবে। বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রক্রিয়ায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই, আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া এবং কনস্যুলার সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে। চাকরির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ওপরও আগের ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ উঠে গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ওই স্থগিতাদেশের কারণে ভিসা ইস্যু আটকে থাকার বাধা নেই। তবে এ ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর চাকরির ধরন, আবেদন অনুমোদন, অগ্রাধিকার তারিখ, ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ কোনো কোম্পানি আবেদনকারীর পক্ষে আবেদন করলেই স্থায়ী ভিসা নিশ্চিত হবে না। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। বাংলাদেশিদের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা এখন কী অবস্থায়: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন বন্ধ নেই। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ভিসা জামানত বা ভিসা বন্ডের নিয়ম। বাংলাদেশ এই ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ফলে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার জন্য অন্য সব দিক থেকে যোগ্য বিবেচিত হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের জামানত দিতে বলতে পারেন। কত টাকা জামানত দিতে হবে, তা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন। তবে জামানত দিলেই ভিসা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীকে প্রথমে ভিসার অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ পাওয়ার আগে নিজের উদ্যোগে এই জামানতের টাকা জমা দেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই টাকা জমা দিতে হবে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়লে অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে না গেলে জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা চালু, তবে যাচাই কঠোর: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ভিসার আবেদন চালু রয়েছে। তবে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও যাচাই করা হতে পারে। এ ধরনের আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল প্রকাশ্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি নিশ্চিত হওয়া, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি নিরাপত্তা যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থানের ভিসায় কী অবস্থা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন অস্থায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদন পুরোপুরি বন্ধ নেই। তবে কোন ভিসায় কী শর্ত থাকবে, তা ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা।বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি এবং তাদের নির্ভরশীলদের এইচ-৪ ভিসার ক্ষেত্রে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই জোরদার করা হয়েছে। অন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর চাকরি, নিয়োগকর্তা, আবেদন অনুমোদন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসী ভিসায় আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন নিয়ম: অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ উঠে গেলেও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের নিয়ম শিথিল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আগস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জনকল্যাণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় অতিরিক্ত আর্থিক জামানত চাওয়া হতে পারে। এটি বাংলাদেশি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে এ ধরনের জামানত চাইতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ : ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেই কারও ভিসা বাতিল হবে। তবে আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা এবং ভিসার যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় সরকারি কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করতে পারেন। তাই ভিসা আবেদনকারীদের জন্য আবেদনপত্রে সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশিদের ভিসা সাক্ষাৎকার কোথায় হচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে আবেদনকারীদের নিজেদের নাগরিকত্ব বা বৈধ বসবাসের দেশ থেকেই ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসই স্বাভাবিক ভিসা প্রক্রিয়ার প্রধান কেন্দ্র। শুধু দ্রুত সাক্ষাৎকার পাওয়ার আশায় অন্য দেশে গিয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান চিত্র: বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হলো, ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর চালু থাকা অভিবাসী ভিসা ইস্যুর স্থগিতাদেশ উঠে গেছে। এর ফলে পরিবার বা চাকরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই নির্দিষ্ট বাধা আর নেই। অন্যদিকে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন চালু থাকলেও বাংলাদেশিদের জন্য ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের ভিসা জামানতের নিয়ম রয়েছে। শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনও করা যাচ্ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক জামানত চাওয়া হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল; ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা পাননি, তাদের যা জানা জরুরি
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল; ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা পাননি, তাদের যা জানা জরুরি

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে চলা স্থগিতাদেশ বাতিল হওয়ার পর এখন সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় রয়েছেন তারা, যারা ইতোমধ্যে ভিসা ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিন্তু এখনো ভিসা হাতে পাননি। ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।   ফলে শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে অভিবাসী ভিসা আটকে রাখার আগের বাধাটি এখন আর নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইন্টারভিউ দেওয়া প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পেয়ে যাবেন।   যারা ইন্টারভিউ দিয়েছেন এবং ইন্টারভিউয়ের পর ভিসা ইস্যু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হলো তাদের কেসের বর্তমান অবস্থা। কোনো আবেদনকারীর কেস যদি শুধু ৭৫ দেশের ওপর আরোপ করা আগের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকে, তাহলে সেই বাধা এখন আর নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অপেক্ষমাণ কেস আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   অভিবাসন আইনজীবীরাও বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকা কেসগুলো আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আইনজীবী রিচার্ড টি. হারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ সবার ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন হয়ে যাওয়া নয়। আবেদনকারীর অন্য কোনো যাচাই বা আইনগত শর্ত বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে।   তবে কোনো আবেদনকারীর কেস যদি প্রশাসনিক যাচাই, নিরাপত্তা যাচাই, অতিরিক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা বা অন্য কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিসা ইস্যু নাও হতে পারে। তাই ইন্টারভিউ পাস করলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য প্রতিটি কেসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি।   এখন বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাদের কতদিন অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে এখনো সবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। তাই ৭ দিন, ১৫ দিন বা ৩০ দিনের মধ্যে সব অপেক্ষমাণ কেস শেষ হয়ে যাবে, এমন দাবি করার মতো কোনো সরকারি তথ্য নেই।   অন্যদিকে যারা এখনো ইন্টারভিউ দেননি, তাদের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ৭৫ দেশের ওপর আগের ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও বর্তমানে অভিবাসী ভিসার ইন্টারভিউ নির্ধারণ নিয়ে আলাদা সাময়িক পরিবর্তন চলছে। ফলে পুরোনো স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই নতুন ইন্টারভিউয়ের তারিখ পেয়ে যাবেন, এমন নিশ্চয়তাও এখনো নেই।   যারা ইতোমধ্যে ইন্টারভিউ দিয়েছেন, তাদের নতুন করে পুরো ভিসা আবেদন শুরু করার প্রয়োজন আছে, এমন কোনো সাধারণ নির্দেশনা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাদের উচিত নিজেদের সিইএসি কেসের অবস্থা নিয়মিত দেখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে কোনো নতুন ইমেইল বা নির্দেশনা এলে তা অনুসরণ করা।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো বাংলাদেশি আবেদনকারীর ভিসা ইন্টারভিউ হয়ে থাকলে এবং শুধুমাত্র ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে তার ভিসা আটকে থাকলে, সেই নির্দিষ্ট বাধা এখন আর কার্যকর নেই। তবে ভিসা ইস্যুর আগে অন্য কোনো যাচাই বা প্রক্রিয়া বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে।   অর্থাৎ, ইন্টারভিউ দিয়ে যারা ভিসার অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আগের চেয়ে ইতিবাচক। এখন অপেক্ষা হচ্ছে তাদের অপেক্ষমাণ কেস কত দ্রুত আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর পর্যায়ে এগিয়ে যায়।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ অগাস্ট থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা এই বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর থাকছে না।   এর আগে গত ২১ অগাস্ট নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত এক যুগান্তকারী রায়ে এই স্থগিতাদেশ বাতিল করে দেয়। ‘ক্লিনিক বনাম রুবিও’ নামে পরিচিত এই মামলায় আদালত জানায়, এ ধরনের নীতি প্রণয়নে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনি এখতিয়ারের সীমা লঙ্ঘন করেছেন।   চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপালসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে সরকারি সহায়তা বা জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ‘উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে।   তবে গত ২৮ অগাস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে, আদালতের নির্দেশে এই স্থগিতাদেশ এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা যেন কোনোভাবেই রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ান, তা নিশ্চিত করতে যাচাইকরণ নীতিমালাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।   নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে আবেদনকারীদের ভিসা দেওয়া বন্ধ থাকলেও আবেদন জমা দেওয়া বা সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ চালু ছিল।   বর্তমানে এই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি উঠে যাওয়ায় আটকে থাকা ভিসা ইস্যুর চূড়ান্ত ধাপটি আবারও উন্মুক্ত হলো। এর ফলে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত ৭৫টি দেশের নাগরিকরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো বাধা ছাড়াই তাদের গ্রিন কার্ড ও অভিবাসী ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি পুনরায় এগিয়ে নিতে পারবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত, কখন কাটবে অচলাবস্থা?
মার্কিন অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত, কখন কাটবে অচলাবস্থা? জানুন ৩টি দৃশ্যপট

ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছে, যা তাদের অভিবাসন নীতির ওপর চলমান কড়াকড়িরই একটি অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাসে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে সাক্ষাৎকারের পর্যায়ে পৌঁছানো ভিসা আবেদনগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে সমন্বয় করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, কর্মকর্তাদের দিয়ে আবেদনকারীদের সার্বিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই এই প্রশিক্ষণ।   বিশেষ করে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে কি না, সেটি যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা বলে প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যার ফলে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন, ভিসা বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিল করার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণ-ভিসা বাতিলের ঘটনা।   তবে প্রশাসনের এসব কঠোর নীতি ও অভিবাসন বিরোধী পদক্ষেপ ক্রমাগত আইনি বাধার মুখে পড়ছে। সম্প্রতি মার্কিন জেলা জজ জ্যানেট ভারগাস রাশিয়া ও আফগানিস্তানসহ ৭৫টি দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার একটি সরকারি নীতি বাতিল করেছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেওয়া ওই সিদ্ধান্তকে তিনি 'আইন পরিপন্থী এবং বিধিবদ্ধ ক্ষমতার অপব্যবহার' বলে আখ্যায়িত করেন। ফলে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের বর্তমান সিদ্ধান্তটিও ভবিষ্যতে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে পারে।   চলমান এই ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতাদেশ কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে সম্পর্কে তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট সামনে এসেছে। প্রথমত, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিজেই এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে পারে। এটি সবচেয়ে সহজ সমাধান, অর্থাৎ প্রশিক্ষণ শেষ হলেই ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তর এই অবস্থাকে সাময়িক এবং বিশ্বব্যাপী চলমান প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   প্রশিক্ষণ কতদিন চলবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটি নিছকই একটি সাময়িক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলে, নীতিগত বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই দ্রুতই সমস্যার সমাধান হতে পারে। দ্বিতীয় দৃশ্যপটটি হলো আদালতের হস্তক্ষেপ।   এই স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হতে পারে এবং বিচারক পররাষ্ট্র দপ্তরকে ফের ভিসা সাক্ষাৎকার শুরুর নির্দেশ দিতে পারেন। কারণ, প্রশাসন এটিকে সাময়িক বললেও দীর্ঘমেয়াদী ব্যাঘাত আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত অভিবাসন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার সমতুল্য হতে পারে।   এর আগে ৭৫টি দেশের ভিসা বাতিলের বিষয়ে বিচারক ভারগাস এবং বিচারক অমিত মেহতার রায় প্রমাণ করে যে, দীর্ঘমেয়াদী স্থগিতাদেশ যোগ্য আবেদনকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করলে আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।   তৃতীয় সম্ভাব্য দৃশ্যপট হিসেবে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থা মূলত কংগ্রেসের তৈরি। ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্ব দেখা দিলে কংগ্রেস নতুন আইন পাস করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইন পাসের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।   অন্যদিকে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে অভিবাসন এবং ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাহী বিভাগকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়ে এসেছে। যেমন ১৯৭২ সালের 'ক্লাইনডিনস্ট বনাম ম্যান্ডেল', ২০১৫ সালের 'কেরি বনাম ডিন' এবং ২০১৮ সালের 'ট্রাম্প বনাম হাওয়াই' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির স্বার্থে প্রেসিডেন্টের বিদেশিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত কী সমাধান আসে, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন (ছবি: সংগৃহীত)
বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদন সাময়িক স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপরও

সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সূচি নির্ধারিত ছিল, তাদের ইমেইল করে জানানো হয়েছে যে সেই সূচিগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও সময় তাদের জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আরও সমৃদ্ধ আমেরিকা গড়ার অর্থ হলো, এটা নিশ্চিত করা যে ভিসা আবেদনকারীরা মার্কিন আইন ও বিধি অনুযায়ী কোনোভাবেই রাষ্ট্রের জন্য বোঝা বা পাবলিক চার্জ হয়ে দাঁড়াবেন না। পাশাপাশি, তারা যেন অভাবগ্রস্ত যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   মুখপাত্র আরও জানান, প্রতিটি ভিসা আবেদনকারীকে যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন, তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগ চালু করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আর বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘটনাটি সেগুলোরই সর্বশেষ সংযোজন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাকে অন্যতম প্রধান নীতি বানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন এবং প্রায় সব ধরনের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেওয়ার পরই ভিসা স্থগিতের এই নতুন সিদ্ধান্তটি এলো। ওই নিষেধাজ্ঞায় ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের ভিসা আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের ধারণা ছিল, এসব দেশের নাগরিকদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের দেশ।   ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা ফ্রেগোমেন এর আইনজীবী ব্রায়ান সিমন্স জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের অনেকেই নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এরই মধ্যে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন এবং নিজেদের দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।   কবে নাগাদ এসব সাক্ষাৎকার পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে ভিসা সেবার নির্ধারিত সূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিবাসন নীতির কারণে বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি উদ্যোগ ফেডারেল আদালত আটকে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট নীতিটির একটি সীমিত সংস্করণ কার্যকরের অনুমতি দেয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস গত শুক্রবার এক রায়ে জানান, ৭৫টি দেশের অভিবাসন আবেদনের ওপর ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের দেওয়া কনস্যুলার কার্যালয়গুলোর ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করেছে। গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছিল।   বিচারক ভার্গাস ট্রাম্পের এই নীতি এবং এর ভিত্তিতে হওয়া সব ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মামলার বাকি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।   গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়ম করেছে যে, অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব থেকেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অথচ তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন। এমনকি কেউ কেউ মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করেছেন বা তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।   ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এই সর্বশেষ বাধায় ইন্টারনেট মেসেজ বোর্ডগুলোতে মুম্বাই থেকে শুরু করে নেপলস পর্যন্ত অনেকেই চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, মানুষজন এই কাজটুকু সম্পন্ন করার জন্য দেশের বাইরে ভ্রমণ করে আসে, আর তারা শেষ মুহূর্তে এসে সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেয়, বিষয়টি সত্যিই খুব বিরক্তিকর।   আরেকজন সতর্ক করে লিখেছেন, প্রায় ৮ মাস আগে ভারতে এইচ-১বি ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কারণে এখনও অনেকে বিদেশে আটকা পড়ে আছেন এবং অনেকেই তাদের চাকরি হারিয়েছেন।   তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করছে মার্কিন দূতাবাস
অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করছে মার্কিন দূতাবাস, মিলবে দুই কর্মদিবসেই

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার ঘোষণা দিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে সব ধরনের অভিবাসী ভিসা ক্যাটাগরির আবেদন সর্বোচ্চ দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।   রোববার (৩১ মে) এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই ব্যবস্থার আওতায় সব ধরনের অভিবাসী ভিসা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এর ফলে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না এবং ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে আবেদনকারীদের দূতাবাসের ‘ভিসা ক্যাটাগরির ডিরেক্টরি’ পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ‘অভিবাসী ভিসা ক্যাটাগরি’ অংশে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।   এই ঘোষণার মাধ্যমে অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট আবেদন প্রক্রিয়ায় গতি আনার উদ্যোগ নিল যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, যা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মে ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্টের ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় করাকড়ি; দিতে হবে অগ্রিম ১৫০০০ হাজার ডলারের বন্ড

২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা নীতির এক বিশেষ পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, দেশটি বর্তমানে পারিবারিক (Family-based) এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক (Employment-based) অভিবাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট এবং বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ক্যাটাগরিতে আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও গত জানুয়ারি মাস থেকে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।   বিশেষ করে যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা 'পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স' বেশি গ্রহণ করেন, সেই সব দেশের নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো এবং কেবল আর্থিকভাবে সচ্ছল ও দক্ষ ব্যক্তিদের অভিবাসন নিশ্চিত করা।   নতুন এই নীতিমালার অন্যতম বিতর্কিত এবং আলোচিত দিক হলো 'স্পেশাল বন্ড' বা বিশেষ জামানত ব্যবস্থা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বা তার স্পনসরকে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত বিশেষ বন্ড জমা দিতে হতে পারে। এই অর্থটি মূলত একটি গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দ্রুত সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না। এই নিয়মটি বিশেষ করে সেই সব আবেদনকারীদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে যাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ রয়েছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের জন্য আমেরিকার স্বপ্ন পূরণ হওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তবে নীতিমালায় কড়াকড়ি আসলেও আবেদনের মূল ধাপগুলোতে কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। বর্তমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) থেকে পিটিশন অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। এরপর যাবতীয় নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসি-তে (NVC) পাঠানো হয়। সবশেষে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এনভিসি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যাকলগের কারণে সাক্ষাৎকারের তারিখ পেতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি ভেদে এই অপেক্ষার সময় কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।   প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত পেশার দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা থাকলেও, সাধারণ ইমিগ্রেশন এখন সম্পূর্ণভাবে নতুন বন্ড পলিসি এবং পাবলিক চার্জ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন সরকারের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে। তাই যারা নতুন করে আবেদন করার কথা ভাবছেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড প্রদানের মানসিক প্রস্তুতি এবং সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল এই কঠিন বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০