আমেরিকা

ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়াম করেও ছয় মাসে বাড়ল ৪০ পাউন্ড ওজন, পরে ধরা পড়ে ঘুমজনিত রোগ ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২৩:৩৮
স্লিপ অ্যাপনিয়া ধরা পড়ার আগে ছয় মাসে প্রায় ৪০ পাউন্ড ওজন বেড়ে যায় লেক্স ব্যানাকের। ছবি: সংগৃহীত
স্লিপ অ্যাপনিয়া ধরা পড়ার আগে ছয় মাসে প্রায় ৪০ পাউন্ড ওজন বেড়ে যায় লেক্স ব্যানাকের। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকির বাসিন্দা লেক্স ব্যানাক দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য সচেতন জীবনযাপন করতেন। নিয়মিত ব্যায়াম, নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা এবং ফিটনেসচর্চার মাধ্যমে তিনি আগেও ওজন কমিয়েছিলেন। কিন্তু সবকিছু একইভাবে অনুসরণ করার পরও হঠাৎ করেই তার শরীরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে।

 

মাত্র ছয় মাসে তার ওজন বেড়ে যায় প্রায় ৪০ পাউন্ড। কী কারণে এমন হচ্ছে, তা বুঝতে না পেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তার ভাষায়, “মনে হতো আমি যেন পাগল হয়ে যাচ্ছি। একই খাবার খাচ্ছিলাম, একই ব্যায়াম করছিলাম, তবু ওজন বাড়ছিল।”

২৯ বছর বয়সী লেক্স জানান, ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি তিনি সব সময় ক্লান্ত অনুভব করতেন। প্রতিদিন ঘুমাতে হতো, মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হতো এবং একধরনের মানসিক ঝাপসাভাব বা ‘ব্রেইন ফগ’-এ ভুগছিলেন। আচরণেও পরিবর্তন আসে। সামান্য বিষয়েও বিরক্ত হয়ে যেতেন এবং খাবারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতেন।

 

প্রথমদিকে তিনি ধারণা করেছিলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির কারণে হয়তো ওজন বাড়ছে। সে কারণে ওষুধ বন্ধও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনো পরিবর্তন আসেনি।

পরবর্তীতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসক সন্দেহ প্রকাশ করেন যে তিনি হয়তো ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ নামের ঘুমজনিত সমস্যায় ভুগছেন।

 

স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা, যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং আবার শুরু হয়। এতে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়। ফলে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শে লেক্সের একটি ‘স্লিপ স্টাডি’ করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘুমের সময় প্রতি আট মিনিট পরপর তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। পুরো রাতজুড়ে তিনি ৬৮ বার জেগে উঠেছিলেন, যদিও অধিকাংশ সময় তিনি তা টেরই পাননি। এরপর তার মৃদু মাত্রার স্লিপ অ্যাপনিয়া ধরা পড়ে।

 

চিকিৎসকেরা জানান, স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে শরীরের বিপাকক্রিয়া, হরমোনের ভারসাম্য এবং শক্তির মাত্রা প্রভাবিত হতে পারে। এর ফলে অনেকের ক্ষেত্রেই ওজন বেড়ে যাওয়া বা ওজন কমাতে সমস্যা হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

২০২৩ সালের জুনে লেক্সকে একটি সিপিএপি (CPAP) যন্ত্র ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। ঘুমের সময় নাক ও মুখে পরা এই যন্ত্রটি নিরবচ্ছিন্নভাবে বায়ুচাপ সরবরাহ করে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

 

যন্ত্রটি ব্যবহার শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। এক বছরের মধ্যে তার ওজন ৬০ পাউন্ড কমে যায় এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় করা পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা জানান, তার স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ আর নেই।

তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা শেষ হওয়ায় তাকে সিপিএপি যন্ত্রটি ফেরত দিতে হয়। পরের বছর আবারও স্লিপ অ্যাপনিয়ার উপসর্গ ফিরে আসে এবং তার ওজন প্রায় ২০ পাউন্ড বেড়ে যায়।

 

বর্তমানে স্বাস্থ্যবিমা না থাকায় তিনি নতুন করে সিপিএপি যন্ত্র সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধ্যান, যোগব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, নাক ডাকা, ঘুমের সময় শ্বাস আটকে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই এসব লক্ষণের পেছনে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি খোঁজার সহজ গাইড
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি খোঁজার সহজ গাইড

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। ফলে সঠিক চাকরির ওয়েবসাইট বেছে নেওয়া চাকরি প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়োগ-সংক্রান্ত সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান জবসয়েড প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এমন ১৫টি জনপ্রিয় জব সাইটের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো চাকরি খোঁজা ও নিয়োগ, উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।    তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের চাকরির প্ল্যাটফর্ম। এর মধ্যে রিমোট ও ফ্লেক্সিবল কাজের জন্য পরিচিত FlexJobs, পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ নিয়ে Indeed, প্রযুক্তি খাতের জন্য Dice, সরকারি চাকরির জন্য USAJobs এবং কোম্পানির রিভিউ ও বেতনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য Glassdoor বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া CareerBuilder, Snagajob, Monster, Nexxt, ZipRecruiter, SimplyHired, The Muse, America's Job Exchange, LiveCareer এবং TheLadders-ও তালিকায় রয়েছে।    বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ও ব্যবহারকারী ভিন্ন হওয়ায় চাকরি প্রার্থীদের একটি মাত্র ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল তৈরি ও আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে চাকরির সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে দ্রুত জানা সম্ভব হয়।    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাকরি খোঁজার ধরণেও পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন নিয়োগদাতারা শুধু জীবনবৃত্তান্ত নয়, প্রার্থীর অনলাইন প্রোফাইল, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত নেটওয়ার্ককেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণে LinkedIn-এর মতো পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মও চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।    চাকরি বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিচ্ছেন, আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানের তথ্য, কর্মপরিবেশ, বেতন কাঠামো ও কর্মীদের অভিজ্ঞতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন এড়াতে কেবল বিশ্বস্ত ও পরিচিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা এবং ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ০:১
আগামী ১৪ আগস্ট সেন্ট্রাল পার্কে বিশেষ রাতভর ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করেছে নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে বিনামূল্যে রাত কাটানোর সুযোগ, খোলা আকাশের নিচে ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন

স্লিপ অ্যাপনিয়া ধরা পড়ার আগে ছয় মাসে প্রায় ৪০ পাউন্ড ওজন বেড়ে যায় লেক্স ব্যানাকের। ছবি: সংগৃহীত

ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়াম করেও ছয় মাসে বাড়ল ৪০ পাউন্ড ওজন, পরে ধরা পড়ে ঘুমজনিত রোগ ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’

মৃত্যুর কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এক ফ্রেমে নিহত স্টিফেন ও ট্রেসি উইলেটস। ছবি: সংগৃহীত

৪০তম বিবাহবার্ষিকীর পরদিনই নর্থ ক্যারোলাইনায় দম্পতির লাশ উদ্ধার, খুনের পর আত্মহত্যার সন্দেহ

আইডাহোর ইন-এন-আউটে বন্দুক হামলায় নিহত হন অ্যাশলি গ্যারিবে। ছবি: সংগৃহীত
স্বপ্ন ছিল রেস্তোরাঁর ম্যানেজার হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে ঝরে গেল প্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের একটি জনপ্রিয় ফাস্টফুড রেস্তোরাঁয় এক বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে তিনজন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনের বাসিন্দা অ্যাশলে গারিবাই নামের এক তরুণী কর্মী, যিনি নিজের প্রথম চাকরি এবং কর্মক্ষেত্রকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। অ্যাশলের এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার ও সহকর্মীরা।   সংবাদমাধ্যম ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুর দুইটার কিছু পর আইডাহোর টুইন ফলস এলাকায় অবস্থিত ‘ইন-এন-আউট বার্গার’ রেস্তোরাঁর ভেতরে ও বাইরের পার্কিং লটে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করেই চ্যাড উইলিয়ামস নামের ২৪ বছর বয়সী এক বন্দুকধারী গাড়ি থেকে খাবার কেনার রাস্তা (ড্রাইভ-থ্রু) দিয়ে একটি এআর-স্টাইলের স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে বের হয়ে আসে এবং চারদিকে অসংলগ্নভাবে গুলি ছুড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণ ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি রূপ নেয়।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দুকধারী গুলি চালানো শুরু করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সশস্ত্র দুই পথচারী সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পাল্টা গুলি চালান। একই সময়ে রেস্তোরাঁর অন্য কর্মীরাও নিজেদের জীবন বাজি রেখে সহকর্মীদের রক্ষায় এগিয়ে আসেন। অসীম সাহসের পরিচয় দিয়ে এক কর্মী তাঁর গুলিবিদ্ধ সহকর্মীকে পার্কিং লটের মেঝে থেকে টেনে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, হামলাকারী চ্যাড উইলিয়ামস একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন এবং পুলিশের হাতে ধরা দেওয়ার আগেই তিনি নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।   হামলায় নিহত অ্যাশলে গারিবাইয়ের পরিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক আবেগময় বিবৃতিতে জানায়, এই ফাস্টফুড রেস্তোরাঁটিই ছিল অ্যাশলের জীবনের প্রথম কর্মক্ষেত্র এবং সে কাজটিকে প্রচণ্ড ভালোবাসত। নতুন নতুন শাখা উদ্বোধনের সময় সে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে সেখানে দায়িত্ব পালন করতে যেত। ভবিষ্যতে এই রেস্তোরাঁর ম্যানেজারের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। মানুষকে সেবা দেওয়াতেই সে আনন্দ পেত এবং শেষ পর্যন্ত যা ভালোবাসত, তা করতে করতেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল।   পরিবারের সদস্যরা অ্যাশলেকে অত্যন্ত দয়ালু, সাহসী ও কঠোর পরিশ্রমী একজন তরুণী হিসেবে স্মরণ করেন। নিজের জীবনে নানা টানাটানি ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও অ্যাশলে সবসময় অন্যদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসতেন। তাঁর উজ্জ্বল হাসি এবং প্রাণবন্ত স্বভাব মুহূর্তেই আশপাশের মানুষকে আপন করে নিত।   বিপদের দিনে অ্যাশলের পাশে দাঁড়ানো রেস্তোরাঁর সহকর্মী, জরুরি উদ্ধারকর্মী এবং আশপাশের সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। জীবনের শেষ মুহূর্তে যাঁরা অ্যাশলেকে সান্ত্বনা ও সেবা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি চিরঋণী থাকার কথা জানান স্বজনেরা।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্য স্থানে এ ধরনের বন্দুক হামলার ঘটনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহত বাকিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় তদন্তকারী দল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২২:১৮
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারী ৫০ দেশের নাগরিকদের জন্য স্থায়ী হচ্ছে বন্ড নীতি, সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হবে

কোভিড-পরবর্তী সময়ে ন্যাশভিলের আবাসন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা ১২৯ শতাংশ বেশি, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকেরা

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। ছবি: সংগৃহীত

নতুন আমদানি শুল্ক ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যের

ফাল্টন কাউন্টির স্যান্ডি স্প্রিংস এলাকায় জলাতঙ্ক আক্রান্ত র‍্যাকুন শনাক্তের পর নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে জলাতঙ্ক আক্রান্ত র‍্যাকুন শনাক্ত, বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তর ফাল্টন কাউন্টিতে এক জলাতঙ্ক আক্রান্ত র‍্যাকুনের সন্ধান পাওয়ার পর সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সংক্রমিত এই বন্য প্রাণীটির সঙ্গে অন্তত এক স্থানীয় বাসিন্দা সরাসরি সংস্পর্শে এসেছেন বলে নিশ্চিত হওয়ার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।   ফাল্টন কাউন্টি বোর্ড অব হেলথের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৬ জুলাই স্যান্ডি স্প্রিংস ও ডানউডি সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার করা একটি র‍্যাকুনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় প্রাণীটির শরীরে প্রাণঘাতী জলাতঙ্ক ভাইরাসের অস্তিত্ব বা পজিটিভ ফলাফল পাওয়া যায়। এরপরই ফাল্টন কাউন্টি বোর্ড অব হেলথের জেলা স্বাস্থ্য পরিচালক ড. মার্কাস প্লেসিয়া এক অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে স্থানীয় অধিবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, অন্তত একজন ব্যক্তি সরাসরি এই আক্রান্ত র‍্যাকুনটির সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকদের মতে, কোনো বেওয়ারিশ বা সম্ভাব্য জলাতঙ্ক আক্রান্ত প্রাণীর কামড় কিংবা আঁচড়ের শিকার হলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।   ফাল্টন কাউন্টি বোর্ড অব হেলথ স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে যে, বন্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসার মতো ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে স্বাস্থ্য প্রদানকারীর কাছে রিপোর্ট করার পাশাপাশি বোর্ড অব হেলথের মহামারিবিদ্যা বিভাগে (ফোন: ৭৭৮-৫২০-৭৫০০, অপশন ৭) যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া এলাকা থেকে কোনো বিপজ্জনক বা সন্দেহভাজন প্রাণী সরানোর প্রয়োজন হলে ফাল্টন কাউন্টি অ্যানিমেল সার্ভিসেসের (ফোন: ৪০৪-৬১৩-০৩৫৮) সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।   তবে সংক্রমিত এই র‍্যাকুনটি ফাল্টন কাউন্টির অন্য কোনো পোষা প্রাণী বা বন্য প্রাণীর সংস্পর্শে এসেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।   মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো ও সঠিক চিকিৎসা না পেলে মানবদেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। সাধারণত র‍্যাকুন, কোয়োটি কিংবা শেয়ালের মতো বন্য প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষ ও পোষা প্রাণীর শরীরে এই ভাইরাস ছড়ায়। মানবদেহে সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা এবং শারীরিক দুর্বলতা বা অস্বস্তি দেখা দেয়।   বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পোষা প্রাণীর মালিকদের তাদের কুকুর বা বিড়ালের জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকাদান কার্ড জরুরি ভিত্তিতে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট পাবলিক হেলথ ভেটেরিনারিয়ানসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি টিকাদান না করা কোনো কুকুর বা বিড়াল জলাতঙ্ক আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে আসে, তবে সেটিকে চার মাসের জন্য কঠোর কোয়ারেন্টাইন বা সঙ্গরোধে রাখতে হবে। এমনকি মুক্ত করার অন্তত এক মাস আগে ওই প্রাণীকে বাধ্যতামূলকভাবে জলাতঙ্কের টিকা দিতে হবে।   যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ করা বন্য প্রাণী থেকে নিজেদের ও পরিবারকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার জন্য ফাল্টন কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২০:৫১
ডোমিনিকান রিপাবলিকে কসমেটিক অস্ত্রোপচারের পর মারা যান এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা রেবেকা ডি পাউলা। ছবি: সংগৃহীত

কসমেটিক সার্জারি করাতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক নারী পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু, মা-হারা হলো ৩ শিশু

কুকুরের কামড় খাওয়া মার্কিন শিশু। ছবি:সংগৃহীত

ছুটিতে গিয়ে নৃশংস কুকুরের হামলা, ৯ বছরের মার্কিন শিশুর শরীরে শতাধিক কামড়

আমেরিকার বিলাসবহুল শহর। ছবি:সংগৃহীত

নতুন বাসিন্দা খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, দিচ্ছে ২৩ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা

0 Comments