এয়ারপোর্টে বাড়ছে আইস এর অভিযান, আটক হচ্ছেন অভিবাসীরা; অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ায় এলো বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগে নতুন ধারা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস এর অভিযান জোরদার করেছে। একই সময়ে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই দুটি পরিবর্তনের ফলে যাদের অ্যাসাইলাম, স্ট্যাটাস পরিবর্তন, গ্রিন কার্ড বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের জন্য বিমান ভ্রমণ আগের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, লাস ভেগাস, ডেনভার, ন্যাশভিলসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে যাত্রীদের আটক করার ঘটনা বেড়েছে। এসব অভিযানে শুধু চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই নন, কিছু ক্ষেত্রে বিচারাধীন ইমিগ্রেশন আবেদন বা ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়েছে।
এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ঘটে যাওয়া একটি বহুল আলোচিত ঘটনা। গত সপ্তাহে বাল্টিমোর ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (বিডব্লিউআই) অভ্যন্তরীণ একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষক ফাতিমা আমেকাকে আইস আটক করে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, তিনি ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণেই অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী, গবেষক ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিমানবন্দরে অভিযানের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১ হাজারের বেশি যাত্রীর তথ্য আইস এর কাছে পাঠায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ৮০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়। ডিএইচএস বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের স্বার্থে সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান প্রদান আইনসম্মত। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের জন্য তৈরি যাত্রী তথ্যব্যবস্থা এখন বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগেও ব্যবহৃত হওয়ায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
এদিকে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের জন্যও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন। ইউএসসিআইএস সম্প্রতি একটি অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত বিধি কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অ্যাসাইলাম কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার না নিয়েই আবেদনটি সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠাতে পারবেন। সরকারের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের মামলার জট কমানো এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিবাসন আইন কর্মকর্তাদের একাংশের আশঙ্কা, সাক্ষাৎকারের সুযোগ কমে গেলে অনেক আবেদনকারী তাদের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বা আশ্রয় চাওয়ার কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে পারেন। যদিও কোনো আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠানো মানেই সেটি বাতিল নয়। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ পাবেন।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরাও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, যাদের অ্যাসাইলাম মামলা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন, গ্রিন কার্ড বা ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন এখনো বিচারাধীন, তারা অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণের আগে অবশ্যই নিজেদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন। একই সঙ্গে ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।
ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিচারাধীন আবেদন থাকা মানেই সবাইকে আটক করা হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। প্রতিটি মামলার আইনি অবস্থা, নথিপত্র এবং ব্যক্তির অভিবাসন ইতিহাস আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে, ডিএচএস, ইউএসসিআইএস এবং অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ অনুসরণ করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধে না থাকার হার ৪০ শতাংশ বা তার বেশি। নতুন এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘ননপেমেন্ট রেট’ বলতে এমন ঋণগ্রহীতাদের বোঝানো হচ্ছে, যাঁদের ফেডারেল শিক্ষাঋণ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া রয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক ‘ডিফল্ট রেট’-এর সঙ্গে এক নয়। এনপিআরের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বেসরকারি ও মুনাফাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কনস্ট্রাকশন ট্রেনিং সেন্টার এবং টেক্সাসের লেজেন্ডস বারবার কলেজের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাঋণ পরিশোধে না থাকার হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাইভারসিফায়েড ভোকেশনাল কলেজের ক্ষেত্রেও হারটি বেশ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ফেডারেল ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৭৩ শতাংশের ঋণ পরিশোধ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া ছিল। ওই বছর শিক্ষার্থীদের নেওয়া প্রায় ৩৫ লাখ ডলারের ফেডারেল ঋণ প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের সমান ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ বা তার বেশি ননপেমেন্ট হারের ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২৪টিই বেসরকারি মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তালিকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র ১৫টি এবং বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ৬১টি। অন্যদিকে, দেশজুড়ে সব প্রতিষ্ঠানের গড় ননপেমেন্ট হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ তথ্যেও শিক্ষাঋণ পরিশোধে সমস্যার ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার প্রতিষ্ঠানে ননপেমেন্ট হার ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। একই সময়ে প্রায় ৯০ লাখ ঋণগ্রহীতা মোট ২২০ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিক্ষাঋণ নিয়ে ডিফল্ট অবস্থায় ছিলেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বারবার, হেয়ারস্টাইলিং, নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার মতো পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী তুলনামূলক কম আয়ের পরিবারের এবং পড়াশোনা শেষে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের পেশায় প্রবেশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে ফেডারেল ঋণ অব্যাহত রাখার নীতি কতটা কার্যকর। তবে ননপেমেন্টের পেছনে শিক্ষার্থীদের আয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরনসহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। এদিকে শিক্ষাঋণ পরিশোধের হার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বকেয়া বা ডিফল্টে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ পরিশোধে সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে শিক্ষা বিভাগ নতুন একটি জবাবদিহি কাঠামোও চূড়ান্ত করেছে। এর আওতায় যেসব উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না, সেসব কর্মসূচি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ফেডারেল ডাইরেক্ট লোন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারে।
কারাগারে থেকেও ঘণ্টায় ২৫ ডলার আয়, ব ন্দি দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি
ডাউন সিনড্রোমের কারণে চাকরি না পাওয়া দুই সন্তানের জন্য আইসক্রিমের ব্যবসা গড়লেন বাবা
নতুন আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড পেতে মানতে হবে শর্ত, জানাল ডিএইচএস
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক নারী ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণের কারণে ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় গ্রে প্তার ও কয়েক মাস আটক থাকার অভিযোগে একটি শহর ও এক পুলিশ গোয়েন্দার বিরুদ্ধে ১০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন। অ্যাঞ্জেলা লিপস নামের ওই নারী মঙ্গলবার নর্থ ডাকোটার ফেডারেল আদালতে ফার্গো শহর ও ফার্গো পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা লুকাস হেকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার তাকে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির সম্ভাব্য মিল হিসেবে শনাক্ত করেছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল ও মে মাসে এক নারী চুরি করা পরিচয় ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ফার্গো এলাকার কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্তের সময় ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ ও নর্থ ডাকোটার একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফেসিয়াল রিকগনিশন ফলাফল লিপসকে সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে দেখায়। লিপসের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গোয়েন্দা হেক জানতেন যে তিনি টেনেসিতে থাকেন এবং কখনো নর্থ ডাকোটায় যাননি। এ ছাড়া নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে থাকা সন্দেহভাজনের শারীরিক বর্ণনার সঙ্গেও লিপসের মিল ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার আরও অভিযোগ, ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলটি মূলত নজরদারি ভিডিও থেকে নয়, বরং সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত একটি ভুয়া পরিচয়পত্রের ছবির ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছিল—এই বিষয়টি গোয়েন্দা হেক আদালতকে জানাননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ফলাফলকে শুধু তদন্তের সূত্র হিসেবে বিবেচনা করার কথা ছিল; নিশ্চিত পরিচয় হিসেবে নয়। এরপর লিপসের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত আটটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কার্যকর একটি গ্রে প্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, লিপস তখন টেনেসিতে এক প্রতিবেশীর শিশুর দেখাশোনা করছিলেন। সেখানেই ইউএস মার্শালসের একটি পলাতক আসামি ধরার বিশেষ টাস্কফোর্স তাকে বন্দুকের মুখে গ্রে প্তার করে। পরে তাকে টেনেসির একটি কারাগারে রাখা হয় এবং নর্থ ডাকোটায় নিয়ে গিয়ে ক্যাস কাউন্টি জেলে আটক করা হয়। তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ডলার। মামলায় লিপস দাবি করেছেন, থ্যাংকসগিভিং পর্যন্ত এবং নিজের ৫০তম জন্মদিনও তাকে কারাগারেই কাটাতে হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ডেনচার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, লিপসের আইনজীবী ব্যাংকের নথি আদালতে উপস্থাপন করে দেখান যে, যেসব সময়ে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল, তখন লিপস টেনেসিতেই ছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লিপসের কাছে মাত্র ৪ সেন্ট ছিল এবং তার কাছে শীতের পোশাকও ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তখন তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি ছিল। পরে স্থানীয় একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও এক প্রতিবেশীর সহায়তায় তিনি টেনেসিতে নিজের বাড়িতে ফেরেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সময় ফার্গো পুলিশ বিভাগের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে পর্যাপ্ত নীতি, প্রশিক্ষণ বা তদারকি ছিল না। বিপরীতে ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ বিভাগে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম ছিল এবং শুধু ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রে প্তার না করার নীতি ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফার্গো পুলিশের প্রধান ডেভ জিবোলস্কি মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিভাগটিতে তদন্তসংক্রান্ত কিছু ভুল হয়েছিল। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে পুলিশ বিভাগ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন নীতি ও প্রশিক্ষণ চালু করেছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। লিপসের মামলায় বেআইনি আটক ও গ্রে প্তার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন, পুলিশের নীতি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, মিথ্যা গ্রে প্তার ও আটক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা চালানোর অভিযোগসহ মোট পাঁচটি দাবি করা হয়েছে। লিপস ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি গোয়েন্দা হেকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ, আইনজীবীর খরচ এবং জুরি বিচারের আবেদন করেছেন। তবে এগুলো লিপসের করা দেওয়ানি মামলার অভিযোগ। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
কর ফেরত নিতে ভুলছেন অনেকে, যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গরাজ্যে পাওনা সবচেয়ে বেশি
সুদের হার বাড়তেই চাপে আমেরিকার বাড়ির মালিকরা, কমতে পারে বাড়ির দাম
শিক্ষার্থী ঋণে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ৪৯তম, কম ঋণের পেছনে যে কারণ
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির সেন্সাস ব্যুরোর নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন পরিবারের মধ্যম আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ২০২৪ সালের ৮৫ হাজার ২১০ ডলারের তুলনায় এই আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য বলছে, ১৯৬৭ সাল থেকে আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর ২০২৫ সালেই পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আয়েও পরিবর্তন দেখা গেছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যম আয় ৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক নন এমন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের আয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এশীয় ও হিস্পানিক পরিবারের মধ্যম আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। নারী ও পুরুষের আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে নারীদের মধ্যম আয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, বিপরীতে পুরুষদের আয় সামান্য কমেছে। পূর্ণকালীন ও বছরজুড়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশের চেয়ে বেশি। কর পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের হিসাবেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মধ্যম পোস্ট-ট্যাক্স পারিবারিক আয় ছিল ৭৩ হাজার ৭৬০ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৬০ ডলারে, যা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের গড় দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার। শিশুদের দারিদ্র্যের হারও ২০২৫ সালে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই গোষ্ঠীর জন্যও রেকর্ড সর্বনিম্ন। তবে কর, সরকারি সুবিধা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া ‘সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল না। এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি। ২০২৫ সালে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে মেডিকেয়ারের আওতা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, অন্যদিকে মেডিকেইডের আওতা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতাও কমে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে।
সিরিয়ায় বন্দিদের নি র্যাতন, সাবেক আসাদ কর্মকর্তার ৬০ বছরের কারাদণ্ড সাজা দিল যুক্তরাষ্ট্রের আদালত
নিউইয়র্কে মামদানির ৪ মিলিয়ন ডলারের টয়লেট, ১০ মিনিট পরই খুলবে দরজা