বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই পদক্ষেপে ইরান কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তেহরানের সামনে পাল্টা কোনো বিকল্প পথ খোলা আছে কি?
অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ইরান
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নৌ-অবরোধের ফলে ইরান প্রতিদিন প্রায় ২৭৬ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের রপ্তানি আয় হারাতে পারে। এছাড়া আমদানি খাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে ইরানের প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের তেল নির্ভর অর্থনীতি এই ধাক্কা কতদিন সামলাতে পারবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।
তেহরানের হাতে কি কোনো ‘এস্কেপ রুট’ আছে?
আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান এই অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিলেও তারা বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। ওমান উপসাগর এবং পাকিস্তানের সীমান্ত ব্যবহার করে স্থলপথে বাণিজ্য চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান। এছাড়া চীন ও রাশিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতায় অবরোধ পাশ কাটিয়ে সীমিত আকারে তেল সরবরাহের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালীর মতো বিশাল করিডোর বন্ধ হয়ে গেলে সেই ঘাটতি অন্য কোনো পথে পূরণ করা ইরানের জন্য প্রায় অসম্ভব।
বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের এই একক অবরোধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবরোধ চলাকালীন কোনো ইরানি জাহাজ মার্কিন নৌবহরের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করলে সেটিকে তাৎক্ষণিক ধ্বংস করা হবে। তবে তিনি এখনো আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন বলে দাবি করেছেন। নসব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীতে দুই শক্তির এই ‘ইঁদুর-বেড়াল’ খেলা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
রাশিয়ায় চলমান যুদ্ধের জন্য এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করছে ক্রেমলিন, যেখানে ড্রোন বাহিনীতে যোগ দিতে তাদের ওপর তৈরি করা হচ্ছে নজিরবিহীন মানসিক চাপ। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোর নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন যুদ্ধের প্রচারণামূলক পোস্টার এবং ড্রোন পরিচালনার ভিডিও গেমিং বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে পুরো শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করতে মাত্র এক বছরের চুক্তি, সম্মুখ সমর থেকে দূরে থাকা এবং উচ্চ বেতনের পাশাপাশি বিশাল অংকের আর্থিক বোনাসের লোভ দেখানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন যে, এই চুক্তিগুলো আসলে এক ধরণের ফাঁদ এবং একবার সই করলে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধে আটকে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। রাশিয়ার বর্তমান আইন অনুযায়ী আংশিক সংহতির ডিক্রি বহাল থাকায় এক বছরের চুক্তির প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হওয়ার কোনো আইনি গ্যারান্টি নেই বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় ঘাটতি রয়েছে বা যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ঝুঁকিতে আছে, তাদের বহিষ্কারের ভয় দেখিয়ে যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও গেমারদের ড্রোন চালক হিসেবে গড়ে তোলার এই কৌশলী প্রচারণা তরুণ প্রজন্মের কাছে যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আড়াল করে একটি অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে ক্রেমলিন। অনেক শিক্ষার্থী সরাসরি জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন নিয়মিত সভা করে তাদের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন যা সাধারণ শিক্ষার পরিবেশকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন সরাসরি সামরিক চুক্তি প্রচার করছে যা রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণেরই স্পষ্ট প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধান বলছে যে, বিশাল অংকের অর্থের প্রলোভন সত্ত্বেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এই প্রচারণা নিয়ে সন্দিহান এবং তারা একে এক ধরণের মরণফাঁদ হিসেবেই দেখছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, রুশ শিক্ষার্থী নিয়োগ, ড্রোন বাহিনী প্রচারণা, ক্রেমলিন সামরিক নীতি, আন্তর্জাতিক সংবাদ।
উত্তর কোরিয়া তাদের অত্যাধুনিক রণতরী ‘চো হিউন’ থেকে শক্তিশালী ক্রুজ ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, শীর্ষ নেতা কিম জং উন স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল রণতরীর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদে নাবিকদের দক্ষতা যাচাই করা। মহড়ায় দুটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পশ্চিম উপকূলের আকাশে প্রায় সাত হাজার নয়শ সেকেন্ড উড়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। কিম জং উন এই সফল মহড়ার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে শত্রুর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পাল্টা হামলা চালানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এই মহড়ার সময় কিমকে বর্তমানে নির্মাণাধীন আরও দুটি আধুনিক রণতরীর কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া একই শ্রেণির তৃতীয় ও চতুর্থ যুদ্ধজাহাজ তৈরির মাধ্যমে নৌবহরকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পিয়ংইয়ং তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর গতি ত্বরান্বিত করছে। তারা মূলত বিচ্ছিন্ন কোনো যুদ্ধজাহাজের বদলে একটি শক্তিশালী সমন্বিত রণতরী বহর তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা কোরীয় উপদ্বীপসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। কিমের এই আধুনিক রণতরী নির্মাণের ঘোষণা প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ২০২৫ সাল থেকেই এই ৫ হাজার টন ওজনের শক্তিশালী জাহাজ থেকে মরণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। দেশটির লক্ষ্য প্রতি বছর অন্তত দুটি করে এই ধরণের উন্নত যুদ্ধজাহাজ তৈরি করে নৌবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমাদের মনোযোগ যখন অন্য যুদ্ধের দিকে নিবদ্ধ তখন কিম তার কৌশলগত পরমাণু শক্তিকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলছেন। উত্তর কোরিয়ার এই ধরণের পরীক্ষাগুলো মূলত তাদের দীর্ঘমেয়াদী সমরাস্ত্র উন্নয়ন পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ২০২৬, কিম জং উন সামরিক মহড়া, চো হিউন রণতরী, কোরিয় উপদ্বীপ উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সংবাদ।
বিশ্ববাসীর নজর যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনার দিকে, ঠিক তখনই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র সেটেলাররা (দখলদার বসতি স্থাপনকারী)। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতার একাধিক চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ সকালেই ইসরায়েলি বাহিনীর কড়া পাহারায় উগ্রপন্থী ইহুদি সেটেলাররা পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে উসকানিমূলক তালমুডিক আচার অনুষ্ঠান পালন করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অন্যদিকে, হেব্রন শহরের উত্তর-পূর্বে আশ-শুয়ুখ নামক এলাকায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায় সশস্ত্র সেটেলাররা। তবে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী হেব্রন শহরের কেন্দ্রস্থল সিল করে দেয় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। নাবলুসের উত্তর-পশ্চিমে বুরকা গ্রামের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় দুই ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ৬২ ও ২৪ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এছাড়া জেরিকোর উত্তরে আইন আল-আউজা ঝরনার কাছে পানির পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সেটেলাররা এবং বেথলেহেমের দক্ষিণে কৃষি জমি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বিচারে এই হামলা ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনায় পশ্চিম তীরে চরম মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।