জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-৭–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য “ভিক্ষা” করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, শুরুতে ছবি না তোলার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে মেলোনির অনুরোধে তিনি সম্মত হন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মনগড়া বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, তিনি বা ইতালি কখনো কারও কাছে কিছু ভিক্ষা চায় না। মেলোনি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন তার মিত্রদের প্রতি এমন ভাষা ব্যবহার করছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এক বার্তায় মেলোনি বলেন, তিনি জানেন না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের তুলনায় মিত্রদের ক্ষেত্রে এমন আচরণ হতাশাজনক। এ ঘটনায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতালির প্রতি অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাজানি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য পুরো ইতালির প্রতি অপমান। এই পরিস্থিতিতে তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুন নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর–৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার (মেজর অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি 'অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড' (এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় মার্কিন তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে মার্কিন বাজারে শূন্য শুল্ক সুবিধা (জিরো ট্যারিফ) নিশ্চিত হয়েছে। এই চুক্তিটি বাংলাদেশে বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় (গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন) বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।" তিনি আরও জানান, দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়াতে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে (ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি) বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাজার সম্প্রসারণের কৌশল নিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে এখন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রেফারেনসিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ), ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) এবং কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সম্পাদনের আলোচনা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের কার্যক্রমও অনেকদূর এগিয়েছে। একই সাথে জিসিসি ও মারকুসুরসহ (MERCOSUR) বিভিন্ন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে দেশের কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানির প্রক্রিয়াটিও বর্তমানে চলমান রয়েছে।
কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে আগাম অবহিত করার পরও ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অপ্রত্যাশিত আচরণের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর 'রহস্যজনক কারণে' তাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উচ্চমহলের নির্দেশে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জেরে তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে ঢাকার পথে রওনা দেন। ঢাকা ও দিল্লির একাধিক নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে দিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে দেশটিতে গিয়েছিলেন তিনি। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক এই উপদেষ্টার। এই উদ্দেশ্যে গত শুক্রবারই দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রোববার সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বিনা কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখে। তাকে আদৌ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও কোনো সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দরের এমন রহস্যজনক ও অসহযোগিতামূলক পরিস্থিতির মুখে জাহেদ উর রহমান তৎক্ষণাৎ ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। রাতেই তিনি দিল্লি থেকে একটি ফ্লাইটে কলম্বোর উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার দুপুরের আগেই তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগাম কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার পরও একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এমন আচরণ কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার জোর গুঞ্জনের মধ্যেই ইরান তেহরানে রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা (ISNA)-এর বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে কাজেম ঘারিভাবাদি বলেন, ইরান, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে বেইজিং সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আলোচনায় পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দেয় চীন। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও সহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেন থেকে নিরাপত্তার কারণে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেওয়া শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কিয়েভ সরকার বলছে, আদালতের সিদ্ধান্ত ও দত্তক প্রক্রিয়ার কারণে এসব শিশুদের দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে থাকা শিশু এবং এতিমসহ প্রায় ৪ হাজার ৮০০ শিশুকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ইতালি ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে অন্তত কয়েক ডজন শিশুর ইউক্রেনে প্রত্যাবর্তন ইতালির আদালতের রায়ের কারণে আটকে আছে বলে দাবি কিয়েভের। এর মধ্যে কিছু শিশু ইতালিতে দত্তক প্রক্রিয়ার আওতায় চলে গেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এপ্রিল মাসে, যখন ইউক্রেন জানায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ‘সাশা’কে ইতালির একটি পরিবার আইনগতভাবে দত্তক নিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, ওই কিশোরের মা এখনও তাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে চান। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ধীরে ধীরে কিছু এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং শিশুদের দেশে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, বিদেশে থাকা শিশুদের স্থায়ীভাবে অন্য দেশে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিনিধি দিমিত্রো লুবিনেতস অভিযোগ করেছেন, ইতালীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে না এবং শিশুদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইউক্রেনকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এটি শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্থানান্তরের মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে। অন্যদিকে ইতালি বলছে, দেশটির বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ইতালির আইন অনুযায়ী, অভিভাবকহীন নাবালকদের সুরক্ষায় কঠোর বিধান রয়েছে, যার ফলে আদালতের অনুমতি ছাড়া তাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। ইতালিতে আশ্রয় পাওয়া শিশুদের অনেককে শুরুতে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তাদের জন্য নতুন আইনি অভিভাবক নিয়োগ করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় তত্ত্বাবধানের পরিবর্তে ইতালীয় তত্ত্বাবধান কার্যকর হয়। কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, কিছু শিশু ধীরে ধীরে জন্মভূমির ভাষা ও পরিচয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ ইতালিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে শিশুদের স্থায়ীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য জনমিতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে কিছু ইতালীয় অভিভাবক পরিবার বলছে, তারা শিশুদের নিরাপদ জীবন ও শিক্ষা নিশ্চিত করছে এবং যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেরত না নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। বর্তমানে ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ইউক্রেনীয় শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালতভিত্তিক একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে মানবাধিকার ও অভিভাবকত্ব ইস্যুতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত দুই মাস ধরে বারবার দাবি করে আসছেন যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় তার এসব বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির আগে ও পরে মিলিয়ে ট্রাম্প অন্তত ৩৭ বার বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জনসভা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের মন্তব্য করে আসছেন। গত ৭ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ইরান চুক্তির ক্ষেত্রে “খুব এগিয়ে গেছে” এবং সমঝোতা চূড়ান্ত করতে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তিনি এটিকে দীর্ঘদিনের একটি সংকটের সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেও উল্লেখ করেন। তবে ওই মন্তব্যের পর দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। এরপরও বিভিন্ন সময়ে তিনি একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে গেছেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ধারাবাহিক মন্তব্যের সূচনা হয় ২৩ মার্চ। সেদিন ট্রাম্প বলেন, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয়েই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। পরদিন তিনি দাবি করেন, ইরান চুক্তি করতে অত্যন্ত আগ্রহী। ২৫ মার্চ তিনি বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়। ২৬ মার্চ তার বক্তব্য আরও জোরালো হয়ে ওঠে। সেদিন তিনি বলেন, ইরান চুক্তির জন্য অনুরোধ করছে। এরপর ২৯ মার্চ ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে দেখছেন। এপ্রিলের শুরুতে তিনি আরও কয়েকবার বলেন, দুই পক্ষ সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে। ১৫ এপ্রিল তিনি বলেন, পরিস্থিতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ইরান দ্রুত চুক্তি করতে চায়। ১৬ ও ১৭ এপ্রিলের মধ্যে একাধিক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইরান প্রায় সব বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সমঝোতা হতে পারে। ২০ এপ্রিল ট্রাম্প বলেন, পুরো প্রক্রিয়া খুব দ্রুত এগোচ্ছে। এপ্রিলের শেষ ভাগ এবং মে মাসজুড়েও তিনি একাধিকবার বলেন, ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী এবং আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। ১৮ মে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২৩ মে তিনি বলেন, আলোচনা আরও অগ্রসর হয়েছে এবং চুক্তির শেষ অংশ নিয়ে কাজ চলছে। ২৮ মে আবারও তিনি দাবি করেন, দুই দেশ একটি ভালো চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। মে মাসের শেষ ভাগ এবং জুন মাসেও একই ধরনের বক্তব্য অব্যাহত রাখেন ট্রাম্প। তার সর্বশেষ মন্তব্যেও তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে এবং আলোচনা চলমান। তবে এ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় ট্রাম্পের ধারাবাহিক দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে ইরানও বারবার জানিয়ে আসছে যে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে দূতাবাসের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। দূতাবাস জানায়, সম্প্রতি আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খাতিবজাদেহ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর শাহাদাত বরণে বাংলাদেশ সরকারের শোকবার্তা এবং জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেছে দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দূতাবাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ইরান থেকে আজারবাইজান হয়ে নিরাপদে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনে ইরান সরকার সহযোগিতা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসনের ফলে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে দূতাবাস সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের খণ্ডিত বা বিকৃত প্রচারের বিষয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দূতাবাস জানায়, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দুই দেশের বন্ধুত্বের পরিপন্থী। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পর্তুগাল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জি তাঁর পর্তুগিজ সমকক্ষ পাওলো রাঙ্গেল-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়। লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। বৈঠক শেষে পাওলো রাঙ্গেল বলেন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পর্তুগালের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। রাঙ্গেলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে টেকসই সমাধান সম্ভব হতে পারে। এতে লেবাননে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির পর লেবাননকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাঈ এ হুমকি দেন। বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘পুলিশের ভূমিকা’ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাজ নয়। তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ধ্বংস করতে সক্ষম। রেজাঈ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সাহস পায় না। তার ভাষায়, ইরান তাদের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি ছাড়বে না এবং আলোচনার শর্ত নির্ধারণ করবে তেহরানই। এদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইরান ‘হাজার হাজার জিম্মি’ ধরে বিপুল অর্থ আদায় করতে পারবে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক বিমানবাহী রণতরী অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও আগের দফার দীর্ঘ আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে হোয়াইট হাউস চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়। প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।
লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ ও ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ ও গুরুতর ভুল। এটি দেশের কোনো স্বার্থই পূরণ করে না।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংলাপ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সংসদীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকারের প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি দেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে চায়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তুরস্ক। দেশটি বলেছে, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে সংলাপের বিকল্প নেই এবং এ প্রক্রিয়ায় তারা সমর্থন অব্যাহত রাখবে।' আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো সদস্য ও ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দেশটি শুরু থেকেই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতি ধরে রেখে তা স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংলাপকে আরও এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সপ্তাহের শেষে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আনতালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বৈঠকে বসতে পারেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতার সফর শেষে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ দিতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অস্ত্র সরবরাহ না করতে সতর্ক করেছিলেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এ বিষয়ে চীনের কাছ থেকে ইতিবাচক আশ্বাসও পেয়েছেন। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে চীন অস্ত্র দিচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর তিনি সরাসরি শি জিনপিংকে চিঠি পাঠান। জবাবে চীনা প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বেইজিং ইরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করছে না। তবে এই পত্রবিনিময়ের সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যেসব দেশ ইরানকে অস্ত্র দেবে, তাদের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। সাক্ষাৎকারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার সিদ্ধান্তে চীন সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু চীনের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরান বা ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, চীনের জ্বালানির প্রয়োজন বেশি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই নির্ভরতায় নেই। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, শিগগিরই শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। সেখানে পারস্পরিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে এই ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে ইরানকে কূটনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে রাখার কৌশল নিচ্ছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং নৌ অবরোধের প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে চার দিনের কূটনৈতিক সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে গেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বুধবার শুরু হওয়া এই সফর শনিবার পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সফরকালে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। অন্যদিকে তুরস্ক সফরে আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সম্ভাব্য আলোচনার স্থান নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ইসলামাবাদ ও জেনেভা—এই দুটি শহরের নাম আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্প্রতি বলেছেন, নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের জটিল এই সংকটের সমাধান এক ধাপে সম্ভব নয়; ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেকে আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগও খুঁজছে ইসলামাবাদ।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৪০ মিনিটের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় দুই নেতা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর এটিই ছিল দুই নেতার প্রথম সরাসরি কথোপকথন। আলোচনায় তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ফোনালাপ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। তিনি জানান, দুই দেশ তাদের “বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব” আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোদি আরও উল্লেখ করেন, আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এদিকে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূত সার্জিও গোর জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে থাকেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ মার্চ দুই নেতার মধ্যে সর্বশেষ ফোনালাপ হয়েছিল। তখনও তারা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজনীয়তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের উদ্যোগও চলছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ দেখছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গুতেরেস বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব বেশি দৃশ্যমান। শক্তি প্রয়োগের নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মহাসচিব বলেন, চলমান এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত আলোচনা পুনরায় শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনাকেও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের সংলাপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরদার করছে। যুদ্ধবিরতি টেকসই রাখা এবং আলোচনার পথ খোলা রাখাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আহ্বান জানিয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এবং চলমান যুদ্ধবিরতির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আব্বাস আরাঘচি বলেন, বাইরের শক্তির ‘নেতিবাচক হস্তক্ষেপ’ ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এজন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ‘দায়িত্বশীল আচরণ’-এর প্রশংসা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুতই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। এ সময় ওমানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে আরাঘচি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় ইরান সবসময় সহযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক সংকটে ওমান যে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে, তা তেহরান ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। এর ভিত্তিতেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যই এই অচলাবস্থার প্রধান কারণ। ইসলামাবাদ বৈঠকে ইরান মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি তোলে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্তে সম্মত না হওয়ায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি। বর্তমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ওমানের সঙ্গে এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের ভূমিকা কাজে লাগিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করতে চাইছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়ের উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার পরও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রায় ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলে। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের প্রথম সরাসরি বৈঠক, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানের পক্ষে ছিলেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার এক পর্যায়ে দুই পক্ষ প্রায় ৮০ শতাংশ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। এর ফলে চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। বৈঠকের এক পর্যায়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রতিনিধিদের সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করব?” তিনি অভিযোগ করেন, আগের আলোচনায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালে হামলা না করার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এই আস্থাহীনতাই আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তাদের দাবি—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ইরানের পক্ষ থেকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা, হিমায়িত সম্পদ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হয়। আলোচনার পরিবেশ এক পর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে আলাদা কক্ষে নিয়ে বিরতির ব্যবস্থা করেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ দিয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ইরানের। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে, যা দুই দেশকেই আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করছে। ফলে বৈঠকটি ব্যর্থ হলেও খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে বলেন, মার্কিন সরকার যদি তাদের কর্তৃত্ববাদী অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ তৈরি হতে পারে। এ সময় তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচনাকারী দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আলোচনাকারী দলের সদস্যদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় এবং তাদের জন্য শুভকামনা জানান। পেজেশকিয়ানের মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই দীর্ঘদিনের এই দ্বন্দ্বের টেকসই সমাধান সম্ভব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে হলে উভয় পক্ষকেই নমনীয় অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং সমঝোতার পথ কঠিন হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, যদি মার্কিন সরকার তাদের একতরফা অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। এদিকে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আলোচনায় যুক্ত পুরো দলের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। পেজেশকিয়ান মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতেই কেবল এই দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে উভয় পক্ষের অবস্থান নমনীয় হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা তুরস্কের কাছে এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। তিনি সোমালিয়ায় উগান্ডার দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের ‘পুরস্কার’ হিসেবে তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং সেই দেশের সবচাইতে সুন্দরী নারীকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আল্টিমেটাম দেন। জেনারেল মুহুজি অভিযোগ করেন, সোমালিয়ায় উগান্ডার সেনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শান্তি রক্ষা করলেও এর বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করছে তুরস্ক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই দাবি মানা না হলে উগান্ডায় অবস্থিত তুর্কি দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তুর্কি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট উগান্ডার আকাশসীমায় নিষিদ্ধ করা হবে। এমনকি তিনি উগান্ডার নাগরিকদের তুরস্কে ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জেনারেল মুহুজি উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির ছেলে। ইতিপূর্বেও তিনি ইতালির নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে এবং বিনিময়ে ১০০টি গরু দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে তার এমন আচরণের জন্য প্রেসিডেন্ট মুসেভেনিকে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয়েছিল। এবার তুরস্ককে ঘিরে তার এই নতুন দাবি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।