সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ককটেল

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, ডিএমপি কমিশনার
ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি বক্তব্য নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে তাকে বাস্তবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বিস্ফোরক দ্রব্য ও মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া এ কথা জানান।   সাংবাদিকরা জানতে চান, রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত কি না, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো পক্ষও যুক্ত রয়েছে। প্রশ্নের প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।   জবাবে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কেন ওই বক্তব্য দিয়েছেন, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যটির কারণ ও প্রেক্ষাপট পরিষ্কার করার জন্য বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা প্রয়োজন।   এরপর সাংবাদিকরা সরাসরি জানতে চান, প্রয়োজনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কি না। জবাবে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন।   নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর যে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্নটি উঠেছে, সেটি তিনি গত ২১ আগস্ট রাতে রাজধানীর নেভিগলিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিয়েছিলেন বলে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, এনসিপি তিনটি দাবিতে রাজপথে রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ রাখা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব দাবি সরকার মেনে নিলে ঢাকায় আর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।   এই বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পুলিশ দাবি করেনি। বরং ডিএমপির কর্মকর্তার বক্তব্যে মূলত ওই বক্তব্যের কারণ ও প্রেক্ষাপট জানতে চাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।   এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি জানায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা ৯ হাজার কাগজের মুখোশও উদ্ধার করা হয়। অভিযানে জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ফলে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ, এসব ঘটনায় কারা জড়িত এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পেছনে কী প্রেক্ষাপট ছিল—এসব প্রশ্ন ঘিরে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।   তবে শুক্রবার পর্যন্ত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি ডিএমপি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রী'র তথ্য উপদেষ্টা।
ককটেল বিস্ফোরণে টলবে না সরকার, অস্থিরতা ছড়িয়ে লাভ হবে না: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘দু–একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না।’   বক্তব্যটির মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা সম্ভব নয়—এমন অবস্থানই তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট মন্তব্যটি কোথায় ও কখন করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত সূত্র এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন জাহেদ উর রহমান। গত ১ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।   এর আগে ২৫ আগস্ট সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সে সময় জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ ধরনের ঘটনা যত ঘটেছিল, তার তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে দু–একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটছে, সেটিও তিনি অস্বীকার করেননি।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়েও সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, দেশে মিথ্যা মামলা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যায্য পদক্ষেপের বিচ্ছিন্ন ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—সরকার এমন দাবি করছে না।   এই প্রেক্ষাপটে ককটেল বিস্ফোরণসহ যেকোনো ধরনের সহিংস ঘটনাকে ঘিরে সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটছে, সেটিও স্বীকার করা হচ্ছে।   তবে ‘দু–একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না’—এই বক্তব্যটির পূর্ণ ভিডিও, সরকারি ব্রিফিংয়ের নথি বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বক্তব্যটির সঠিক স্থান, তারিখ এবং কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি বলা হয়েছে, তা আরও নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
কমলাপুর রেলস্টেশনের সিসিটিভি
কমলাপুর রেলস্টেশনে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ, সিসিটিভি দেখে জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন অংশে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    ঘটনার একটি ভিডিওতে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের পাশে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বিস্ফোরণ হতে দেখা যায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড স্টেশন কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে, রাত প্রায় ১০টা ৩৭ মিনিটে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ৩০ নম্বর পিলারের কাছে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।    ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।    ঘটনার পর স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বিস্ফোরণের আগে ও পরে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক টহল ও অন্যান্য নিরাপত্তা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।   কমলাপুরের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন একই সন্ধ্যায় রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার খবর আসে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার বিপরীতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিরপুর ও বাড্ডায় তিনটি স্টাফ বাস এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।    আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে মিরপুরে দুটি ও বাড্ডায় একটি স্টাফ বাসে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনেও একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।    এর আগে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। কালবেলার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মো. বিল্লাল নামের ৩২ বছর বয়সী এক রিকশাচালক আহত হন।   কমলাপুর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ফলে প্ল্যাটফর্মে বিস্ফোরণের ঘটনাটি যাত্রীনিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। ঘটনার পর পুলিশ স্টেশন ও আশপাশে নজরদারি এবং টহল বাড়িয়েছে।   তবে কমলাপুরের বিস্ফোরণের দায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ওপর নিশ্চিতভাবে আরোপ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাই তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকায় আগুন-ককটেলের নেপথ্যে কারা, সরাসরি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি রায়ের পর দলটির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্দিষ্ট প্রতিটি ঘটনার দায় তদন্ত ও আদালতের প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।    রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ২০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে সরকার মনে করছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডে সরকার শঙ্কিত নয় বলেও জানান।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ঘটনায় সন্দেহভাজনদের মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট এলাকার ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। যাত্রাবাড়ীর ঘটনাতেও গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।   যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে।   এর আগে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, বাবুবাজার ও মগবাজারসহ ছয়টি স্থানে মোট ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশাচালক আহত হন। একই রাতে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ওই সময় পুলিশ জানিয়েছিল, সব ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্ত চলছিল।   বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়েও কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, রাতে চালক ও সহকারী ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় পার্ক করে রাখা কয়েকটি বাসকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট মিলিয়ে রাজধানীতে তিন শতাধিক তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের পাশাপাশি বিভিন্ন উড়ালসড়কের ওঠানামার স্থানেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।   এর কয়েক দিন আগেও সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তখন তিনি বলেছিলেন, তাঁরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারেন বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি তদন্তাধীন।   এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিল ঘিরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে ককটেল নিক্ষেপের খবর পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাজা ককটেল উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ছবি: সংগৃহীত
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।   মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানা যায়। ঘটনাস্থলে থাকা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাসুদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা করছে।   এর আগে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই পলাতক।    মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, আন্দোলন দমনে সহিংসতায় উসকানি, অর্থের জোগান ও ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ তুলে ধরে। প্রসিকিউশন ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, বিভিন্ন কল রেকর্ড, নথিপত্র, জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে।    অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছিলেন। ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তি দেন, ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছিল এবং এর মূল দায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।    রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এর মধ্যেই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় ঘটনাস্থলে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মলোটভ ককটেলসহ আটক জর্ডানীয় নাগরিককে আদালত থেকে মুক্তির পর ফের গ্রেপ্তার করল আইস
মলোটভ ককটেলসহ আটক জর্ডানীয় নাগরিককে আদালত থেকে মুক্তির পর ফের গ্রেপ্তার করল আইস

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের মকেনায় আটটি মলোটভ ককটেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া ৩১ বছর বয়সী জর্ডানীয় নাগরিক হ্যামেদ মোহাম্মদ হ্যামেদ আলসাইদিকে আদালত থেকে মুক্তি দেওয়ার পর আবার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইস। স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘিরে এখন অস্ত্র, অভিবাসন ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তদন্ত চলছে।    ঘটনার সূত্রপাত ১ আগস্ট ভোরে। মকেনা পুলিশ ১৯১তম স্ট্রিট ও লা গ্রাঞ্জ রোড এলাকায় আলসাইদিকে রাস্তায় হাঁটতে দেখে। পুলিশ তাকে থামালে তিনি নিজের নাম হাকমাত সাইদি বলে পরিচয় দেন বলে কর্মকর্তারা জানান। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার ব্যাকপ্যাক থেকে আটটি কাচের বোতল পাওয়া যায়। বোতলগুলোতে দাহ্য তরল এবং কাপড়ের অংশ ছিল, যা তদন্তকারীরা মলোটভ ককটেল হিসেবে চিহ্নিত করেন।    ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায় যখন পুলিশ তার ব্যাকপ্যাকে একটি এলাকার হাতে আঁকা মানচিত্র এবং ‘মসজিদ’ শব্দ লেখা একটি কাগজ পায়। পুলিশের দাবি, মানচিত্রে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার একটি মসজিদ বা প্রার্থনাকেন্দ্রের অবস্থানের ইঙ্গিত ছিল। এ কারণে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে আলসাইদি ওই স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন—এমন অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    পুলিশের পাশাপাশি অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণকারী ফেডারেল সংস্থা—এটিএফ, এফবিআই এবং ইলিনয় স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় তদন্তে যুক্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলসাইদি এর আগে একটি গ্যাস স্টেশনের কাছেও সন্দেহজনক অবস্থায় ছিলেন। পরে তাকে অন্য একটি খোলা গ্যাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।    প্রাথমিকভাবে আলসাইদির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকানাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সুরক্ষা আদেশও ছিল। প্রসিকিউটররা তাকে পলাতক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।    তবে ৩ আগস্ট উইল কাউন্টির এক বিচারক তাকে কারাগারে না রেখে ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্তে মুক্তি দেন। এরপর ৪ আগস্ট আইস কর্মকর্তারা তাকে আবার আটক করেন। শিকাগো সান-টাইমসও জানিয়েছে, আদালত থেকে ইলেকট্রনিক নজরদারিতে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হয়।    আইসের দাবি, আলসাইদির বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিবাসন-সংক্রান্ত আটকাদেশ ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেওয়ার পর আইস কর্মকর্তারা তাকে খুঁজে বের করে আটক করেন। তবে ‘অভয়-শহর নীতি’র কারণে তাকে ছাড়া হয়েছিল—এটি মূলত মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির বিষয়টিকে সরাসরি ওই নীতির ফল হিসেবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।    এরই মধ্যে মামলাটি ফেডারেল পর্যায়ে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আলসাইদির বিরুদ্ধে নিবন্ধনহীন ধ্বংসাত্মক যন্ত্র রাখার আটটি অভিযোগ অনুমোদন করেছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ সাজা ৮০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।    ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১ আগস্ট মকেনায় আলসাইদির কাছে প্রায় আটটি কাচের বোতল ছিল, যেগুলোতে দাহ্য তরল ও আগুন ধরানোর উপযোগী উপাদান ছিল। প্রতিটি বোতলকে আলাদা একটি ধ্বংসাত্মক যন্ত্র হিসেবে গণ্য করে আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছে।    তদন্তে আরও জানা গেছে, আলসাইদি ইলিনয়ে বসবাস করতেন এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাকে জর্ডানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে তার অভিবাসন-ইতিহাস নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিবেদনে অতিরিক্ত কিছু দাবি রয়েছে; এসব দাবিকে আলাদা করে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই নিরাপদ।   বর্তমানে আলসাইদি আইসের হেফাজতে রয়েছেন এবং ফেডারেল মামলায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা। একই সঙ্গে মলোটভ ককটেলগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার, মানচিত্রে মসজিদের অবস্থান কেন ছিল এবং তিনি কোনো হামলার পরিকল্পনা করছিলেন কি না—এসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০