গুলি

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিসে ১৩ বছরের মেয়ের খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির মেমফিসে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের বিছানার নিচে এক যুবককে লুকিয়ে থাকতে দেখে তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। কেন্ড্রা স্কট নামের ৩৬ বছর বয়সী ওই নারীকে ফার্স্ট-ডিগ্রি বা প্রথম মাত্রার খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ২টার কিছু আগে মেমফিসে কেন্ড্রার বাড়ির বাইরে থেকে রডেরিয়াস মর্টন নামের ২০ বছর বয়সী ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।   আদালতের নথি ও আইনজীবীর তথ্যমতে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ওই কিশোরী রাত ১টার দিকে মর্টনকে তাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানায়। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর কেন্ড্রা স্কট বাড়ি ফিরে দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করেন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে জানতে চান ঘরের ভেতর কে আছে। মায়ের হাতে বন্দুক দেখে কিশোরী মেয়েটি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।   পুলিশকে সে জানায়, তার মা আগেই হুমকি দিয়েছিলেন যে ঘরের ভেতর কোনো ছেলেকে দেখলে তিনি তাকে গুলি করবেন। একপর্যায়ে মেয়ে দরজা খুলে দিলে কেন্ড্রা ঘরের ভেতর প্রবেশ করেন এবং মেয়ের বিছানার নিচে মর্টনকে লুকিয়ে থাকতে দেখেন। ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি মর্টনকে গালিগালাজ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং তাকে অনুসরণ করে সদর দরজা পর্যন্ত যান।   ঠিক তখনই একটি গুলির শব্দ শুনতে পান ওই কিশোরী এবং তাদের এক প্রতিবেশী। ওই প্রতিবেশী পুলিশকে জানান, তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কেন্ড্রাকে মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তখনো তার হাতে বন্দুক ছিল এবং তিনি স্বীকার করছিলেন যে, "আমি তাকে গুলি করেছি, আমি তাকে গুলি করেছি।" ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন ব্ল্যাক হ্যান্ডগান এবং গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। কেন্ড্রাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মেমফিস পুলিশ তাকে প্রথম মাত্রার হত্যা এবং বিপজ্জনক অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত করেছে।   কেন্ড্রার আইনজীবী ব্লেক ব্যালিন এই ঘটনাকে "যেকোনো ১৩ বছর বয়সী মেয়ের অভিভাবকের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন" বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো মানুষ যৌক্তিকভাবে আচরণ করতে পারে কি না। তবে অবসরপ্রাপ্ত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা এবং আত্মরক্ষা প্রশিক্ষক বাডি স্মিথ জানিয়েছেন, কেন্ড্রা স্কটের এই মামলাটি টেনেসির 'ক্যাসল ডকট্রিন' বা আত্মরক্ষা আইনের আওতায় পড়বে না। কারণ ওই যুবক জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করেনি বা অনুপ্রবেশকারী ছিল না, এবং হলফনামায় এমন কোনো অভিযোগ নেই যে সে মা বা অন্য কাউকে হুমকি দিয়েছিল। আদালতের কাছে এবং জুরির সামনে এই তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   এদিকে, এই ঘটনাটি অনলাইনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় মায়ের এই পদক্ষেপ হয়তো যৌক্তিক ছিল; আবার অনেকের মতে, তিনি চরম বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন। এমনকি কেন্ড্রার প্রতিবেশীরাও এই ইস্যুতে সম্পূর্ণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সম্পর্ক ভাঙার কথা বলায় প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ I ছবি: সংগৃহীত
সম্পর্ক ভাঙার কথা বলায় প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ, হিউস্টনে যুবক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হ্যারিস কাউন্টিতে সম্পর্ক শেষ করার কথা বলার পর ৪১ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। শনিবার সন্ধ্যায় হিউস্টনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শেলডন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যার অভিযোগে ২৯ বছর বয়সী কোডি প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু পর মেরিটাইম ড্রাইভের ১১১০০ ব্লকের একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে টনিয়া সুইঙ্ক নামের ওই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।    কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টনিয়া ও কোডি প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং একই বাড়িতে থাকতেন। ঘটনার দিন তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তর্ক চলছিল। একপর্যায়ে টনিয়া সম্পর্কটি শেষ করে দেওয়ার কথা জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এরপর কোডি তাঁকে গুলি করেন।   ঘটনার পর পরিবারের এক সদস্য জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। ডেপুটিরা পৌঁছানোর সময় কোডি ঘটনাস্থলেই ছিলেন। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়।   শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কোডি গুলি করার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয় এবং তাঁকে হ্যারিস কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়।    তবে পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য এখনো অভিযোগ পর্যায়ে রয়েছে। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোডিকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ঘটনার পেছনে সম্পর্কসংক্রান্ত বিরোধের বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের হত্যাকাণ্ড তদন্তকারী দল ও অপরাধস্থল পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা আলামত সংগ্রহ করেছেন। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হ্যারিস কাউন্টিতে সম্পর্ক শেষ করার কথা বলার পর ৪১ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। শনিবার সন্ধ্যায় হিউস্টনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শেলডন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যার অভিযোগে ২৯ বছর বয়সী কোডি প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু পর মেরিটাইম ড্রাইভের ১১১০০ ব্লকের একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে টনিয়া সুইঙ্ক নামের ওই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।    কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টনিয়া ও কোডি প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং একই বাড়িতে থাকতেন। ঘটনার দিন তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তর্ক চলছিল। একপর্যায়ে টনিয়া সম্পর্কটি শেষ করে দেওয়ার কথা জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এরপর কোডি তাঁকে গুলি করেন।   ঘটনার পর পরিবারের এক সদস্য জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। ডেপুটিরা পৌঁছানোর সময় কোডি ঘটনাস্থলেই ছিলেন। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়।   শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কোডি গুলি করার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয় এবং তাঁকে হ্যারিস কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়।    তবে পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য এখনো অভিযোগ পর্যায়ে রয়েছে। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোডিকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ঘটনার পেছনে সম্পর্কসংক্রান্ত বিরোধের বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের হত্যাকাণ্ড তদন্তকারী দল ও অপরাধস্থল পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা আলামত সংগ্রহ করেছেন। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব ও তার বাবা দীপক যাদব
মেয়ের আয়ে সংসার চলে, প্রতিবেশীদের এমন খোঁটায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজ কন্যাকেই গুলি করে হ ত্যা করলেন বাবা

ভারতের গুরুগ্রামে নিজ বাবার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী তরুণ টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাসভবনে তাকে গুলি করে হত্যা করেন তার বাবা দীপক যাদব। আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের (আইটিএফ) হয়ে খেলা এই তরুণী সম্প্রতি কোচিং পেশায় যুক্ত হয়ে একটি টেনিস একাডেমি পরিচালনা করছিলেন।   গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে এক তরুণীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। তবে সেখানে রাধিকার চাচা কুলদীপ যাদব ছাড়া তার বাবা-মায়ের কাউকেই পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কুলদীপের অভিযোগের ভিত্তিতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ পুলিশ স্টেশনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, রাধিকার টেনিস একাডেমি চালানো নিয়ে বাবা দীপক যাদবের চরম আপত্তি ছিল। মূলত মেয়ে উপার্জন করায় স্থানীয়রা দীপককে কটূক্তি করত এবং 'মেয়ের আয়ে সংসার চলে' বলে খোঁটা দিত। নিজের কয়েকটি ছোট সম্পত্তির ভাড়া থেকে দীপকের সামান্য আয় আসত। প্রতিবেশীদের এমন উপহাস সহ্য করতে না পেরে তিনি মেয়েকে একাধিকবার একাডেমি বন্ধ করতে বলেন।   কিন্তু রাধিকা তাতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষোভে তিনি তাকে পেছন থেকে তিনবার গুলি করে হত্যা করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পুলিশের কাছে দীপক নিজের এই মর্মান্তিক অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।   আইটিএফ-এর ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, রাধিকা তার ক্যারিয়ারে ৩৬টি সিঙ্গেলস এবং ৭টি ডাবলস ম্যাচ খেলেছিলেন। ২০২৪ সালের মার্চে সর্বশেষ সিঙ্গেলস এবং ২০২৩ সালের জুনে তিনি ডাবলস ম্যাচ খেলেন। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় এক বছর দূরে থাকার পর তিনি গুরুগ্রামে নিজের একাডেমিতে কোচ হিসেবে পুরোমাত্রায় কাজ শুরু করেন, যা শেষ পর্যন্ত তার ও তার বাবার মধ্যে ভয়াবহ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে।   সম্ভাবনাময় একজন ক্রীড়াবিদ ও কোচের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
সংগৃহীত
অরল্যান্ডো বাসস্টপে বৃদ্ধাকে গুলি: নিউইয়র্কে ধরা পড়া অভিযুক্ত আদালতে নির্দোষ দাবি

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো শহরের একটি বাসস্টপে ৭০ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি করার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ২৭ বছর বয়সী কেভিন আর্জেনিস মিলারেস আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং এর পরবর্তী শুনানির প্রস্তুতি চলছে।    তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন অরল্যান্ডোর আজালিয়া পার্ক এলাকায় প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বের হওয়া ওই বৃদ্ধা একটি বাসস্টপের কাছে পৌঁছালে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার পেছন থেকে পরপর তিনটি গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। ভুক্তভোগী পুলিশকে জানান, তিনি হামলাকারীকে চিনতেন না এবং কেন তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই।   ঘটনার পর আশপাশের বাড়ির নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা কেভিন মিলারেসকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। পুলিশ তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থলে পাওয়া গুলির খোসার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন গোলাবারুদ এবং সন্দেহভাজনের পরিহিত পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করে বলে জানায়।    এরপর অভিযুক্ত ফ্লোরিডা ছেড়ে নিউইয়র্কে পালিয়ে যান। পরে U.S. Marshals Service তাকে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডায় প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।   প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছে। তবে আদালতে হাজির হয়ে মিলারেস অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় আদালত দোষী সাব্যস্ত না করা পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যে বাবার হাত ধরে বড় হয়েছিল মেয়ে, সেই বাবার গুলিতেই প্রাণ গেল কন্যা ও মায়ের

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বৃদ্ধা মায়ের যত্ন নেওয়া নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক কলহের জেরে নিজ স্ত্রী ও কন্যাকে গুলি করে হত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। রাগের বশে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছেন ৬৩ বছর বয়সী রালফ মিনসে। তিনি তার ৩৭ বছর বয়সী কন্যা আমান্ডা ম্যাকব্রায়ার এবং গত ৩৮ বছর ধরে সংসার করা স্ত্রীকে নিজের ৯ মিলিমিটার হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন।   আটলান্টা থেকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে অবস্থিত ছোট্ট শহর অক্সফোর্ডের একটি বাড়িতে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। ওয়ালটন কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রক্তমাখা দৃশ্যপট থেকে মিনসেকে গ্রেপ্তার করে।   আরও পড়ুন... যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে পড়েই কেন চাকরি করে শিক্ষার্থীরা? শুধু আয় নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি   পুলিশের প্রকাশ করা ৯১১ ইমার্জেন্সি কলের অডিও রেকর্ডিংয়ে মিনসেকে বলতে শোনা যায়, তার স্ত্রী মেয়েকে বলেছিলেন যে তিনি তার মায়ের ঠিকমতো যত্ন নেন না। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মিনসে ডেসপ্যাচারকে বলেন, "আমি প্রতিদিন মায়ের যত্ন নিই। আমি আর এসব মিথ্যা এবং আমার ওপর তাদের চিৎকার সহ্য করতে পারছিলাম না। আমি বুঝতে পারিনি, রাগের মাথায় আমি পুরোপুরি মেজাজ হারিয়ে ফেলি। আমি অত্যন্ত অনুতপ্ত।" অডিওতে তিনি আরও স্বীকার করেন যে, তার মেয়েকে তিনি সরাসরি মাথায় গুলি করেছেন এবং স্ত্রীকে তিনি ভালোবাসতেন বলেও মন্তব্য করেন।   ঘটনাস্থলেই কন্যা আমান্ডা ম্যাকব্রায়ারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার মাকে দ্রুত গ্র্যাডি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহত আমান্ডার স্বামী অ্যাডাম ম্যাকগ্রা পুলিশকে জানান, ঘটনার সময় তার স্ত্রী মদ্যপ এবং হতাশ অবস্থায় ছিলেন।   আরও পড়ুন... ট্রাকের ধাক্কা থেকে ২ বছরের মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে পা হারালেন বাবা   বাবার সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মিনসে বন্দুক বের করে আমান্ডার মাথায় গুলি করেন। অ্যাডাম বলেন, "এরপর তিনি তার স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন, তাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন। আমার নিজের দুই সন্তানকে বাঁচাতে আমি সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাই।" পুলিশ জানিয়েছে, রালফ মিনসের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে জামিন অযোগ্য অবস্থায় কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের দুই যমজ সন্তানকে হত্যার পর বাবার মর্মান্তিক আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যানোগা পার্কে এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের দুই যমজ সন্তানকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক বাবা। তবে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি সন্তানদের মাকেও গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।   রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ক্যানোগা পার্কে শিশুদের দাদির জন্মদিনের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান চলাকালে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি তার দুই ছেলে জোসেফ এবং গ্রেয়সেন শ্যাভেজকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালান এবং এরপর তাদের মা জেনিফারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র তাক করেন।   তবে জেনিফারকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলিটি সৌভাগ্যবশত লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এরপর ওই বাবা নিজেই নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।   খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩৭ বছর বয়সী বাবা ও তার দুই সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের তথ্যমতে, নিহত তিনজনেরই মাথায় গুলির আঘাত ছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর বাড়ির বাইরে শিশুদের মাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়, এ সময় আত্মীয়স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।   এদিকে, নিহত দুই শিশুর স্মরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তাদের পিঠে ফেরেশতার ডানা যুক্ত একটি ছবি দিয়ে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ৫৫ হাজার ডলার লক্ষ্যের মধ্যে ৩০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই পেজে শিশুদের স্মৃতিচারণ করে লেখা হয়েছে, "গ্রেয়সেন এবং জোসেফকে হারিয়ে আমাদের সবার হৃদয় ভেঙে গেছে।   যারা তাদের চিনতো, তারা জানে এই ছেলে দুটো কতটা বিশেষ ছিল। তারা সবসময় হাসিখুশি থাকতো এবং মানুষকে হাসাতে ভালোবাসতো।"   তহবিল সংগ্রহের পেজটিতে আবেগঘন বার্তায় আরও বলা হয়েছে, "সবচেয়ে বড় কথা, তারা ছিল জেনিফারের বেঁচে থাকার অবলম্বন, তার গর্ব এবং পুরো পৃথিবী। কোনো বাবা-মায়েরই সন্তান হারানোর এমন নিদারুণ যন্ত্রণা অনুভব করা উচিত নয়।    জেনিফার এখন যে শোক ও কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা তাকে সব ধরনের ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করছি।" এই তহবিল মূলত জেনিফারের কর্মক্ষেত্র থেকে সাময়িক বিরতি, সাংসারিক খরচ চালানো এবং এই অপূরণীয় শোক কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি এমন ভয়ানক হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, সেই উদ্দেশ্য এখনও অস্পষ্ট।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ!
আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ, তালেবানের গুলিবর্ষণ

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে নারীদের কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাম্প্রতিক ধরপাকড়ের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিরল বিক্ষোভে সরাসরি গুলি চালিয়েছে তালেবান বাহিনী। গত মঙ্গলবার সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান যেকোনো ধরনের ভিন্নমতের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে, তবে এদিন মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ নারী-পুরুষ।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করছে এবং সরাসরি গুলি ছুড়ছে। এর জবাবে বিক্ষোভকারীরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন এবং কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেন। হেরাতের একটি স্থানীয় হাসপাতালের এক চিকিৎসক তালেবানের রোষানলে পড়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অন্তত তিনজনকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং চিকিৎসকদের তথ্যমতে, এই ভয়াবহ সংঘর্ষে এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।   এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল মূলত তালেবানের 'নীতি পুলিশ' বা মোরালিটি পুলিশ কর্তৃক সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হেরাতের প্রায় ৩০ জন নারী ও বালিকাকে আটক করা। নারীদের চুল ও মুখ ঢেকে রাখার কঠোর নিয়ম অমান্য করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর এই মাত্রার বলপ্রয়োগ অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং এই সহিংসতার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া, জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত মিশন প্রধান জর্জেট গ্যাগনন অভিযোগ করেছেন যে, তালেবান প্রশাসন নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনসমক্ষে চলাচলের মতো মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে; এমনকি নারীদের কণ্ঠস্বর ও মুখমণ্ডল দেখানোকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।   তবে তালেবান প্রশাসন সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। হেরাত প্রদেশের পুলিশের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হুসাইনি দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের আইনি দায়িত্ব পালন করেছে এবং পুলিশের গুলিতে কোনো বেসামরিক নাগরিক আহত হননি। তার মতে, হিজাব পালনের মতো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা করে কিছু মানুষ উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, হেরাতের নীতি পুলিশের প্রধান শেখ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় নারীদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই প্রদেশের সব নারীই তালেবানের পোশাকবিধি সঠিকভাবে মেনে চলছেন।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০