আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ, তালেবানের গুলিবর্ষণ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২০:৫৬
আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ!
আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ!

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে নারীদের কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাম্প্রতিক ধরপাকড়ের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিরল বিক্ষোভে সরাসরি গুলি চালিয়েছে তালেবান বাহিনী। গত মঙ্গলবার সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান যেকোনো ধরনের ভিন্নমতের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে, তবে এদিন মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ নারী-পুরুষ।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করছে এবং সরাসরি গুলি ছুড়ছে। এর জবাবে বিক্ষোভকারীরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন এবং কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেন। হেরাতের একটি স্থানীয় হাসপাতালের এক চিকিৎসক তালেবানের রোষানলে পড়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অন্তত তিনজনকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং চিকিৎসকদের তথ্যমতে, এই ভয়াবহ সংঘর্ষে এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

 

এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল মূলত তালেবানের 'নীতি পুলিশ' বা মোরালিটি পুলিশ কর্তৃক সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হেরাতের প্রায় ৩০ জন নারী ও বালিকাকে আটক করা। নারীদের চুল ও মুখ ঢেকে রাখার কঠোর নিয়ম অমান্য করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর এই মাত্রার বলপ্রয়োগ অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং এই সহিংসতার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া, জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত মিশন প্রধান জর্জেট গ্যাগনন অভিযোগ করেছেন যে, তালেবান প্রশাসন নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনসমক্ষে চলাচলের মতো মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে; এমনকি নারীদের কণ্ঠস্বর ও মুখমণ্ডল দেখানোকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

 

তবে তালেবান প্রশাসন সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। হেরাত প্রদেশের পুলিশের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হুসাইনি দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের আইনি দায়িত্ব পালন করেছে এবং পুলিশের গুলিতে কোনো বেসামরিক নাগরিক আহত হননি। তার মতে, হিজাব পালনের মতো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা করে কিছু মানুষ উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, হেরাতের নীতি পুলিশের প্রধান শেখ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় নারীদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই প্রদেশের সব নারীই তালেবানের পোশাকবিধি সঠিকভাবে মেনে চলছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
করাচি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বহনের দায়ে কানাডীয় নাগরিক রাহিল ধন্নানির আট বছরের কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত
করাচি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বহন: কানাডীয় নাগরিকের ৮ বছরের কারাদণ্ড

পাকিস্তানের করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুমতি সীমার অতিরিক্ত মার্কিন ও কানাডিয়ান ডলার বহনের অপরাধে এক কানাডিয়ান নাগরিককে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কাস্টমস, ট্যাক্সেশন অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং বিষয়ক বিশেষ আদালত এই রায় দেন।   দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম রাহিল ধন্নানি। বিশেষ আদালতের বিচারক ড. শাবান ওয়াহিদ কাস্টমস আইনের বিভিন্ন ধারায় তাকে পাঁচ ও তিন বছর করে মোট আট বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।   মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি রাহিল ধন্নানি তার পরিবারসহ ব্যাংকক হয়ে করাচি থেকে কানাডার ভ্যানকুভারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সে সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা তাকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে আছে কি না তা জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।   তবে তার লাগেজ তল্লাশি করে ১ লাখ ১১ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার এবং ৩১ হাজার ৪২৫ কানাডিয়ান ডলার উদ্ধার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নাইমাতুল্লাহ সুমরো জানান, আইনগত সীমার অতিরিক্ত এই বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।   অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, অভিযুক্তকে কোনো ডিক্লেলারেশন ফর্ম দেওয়া হয়নি এবং কাস্টমস তল্লাশির চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করার আগেই তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে আদালত ডিফেন্সের এই যুক্তি খারিজ করে দেন।   আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী হওয়ায় কাস্টমস নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন। কাস্টমস কর্মকর্তার সরাসরি প্রশ্নের পরও মিথ্যা বলা এবং কোনো সন্তোষজনক বৈধ ব্যাখ্যা না দেওয়ায় এটি স্পষ্ট যে তিনি জেনেশুনে এবং সচেতনভাবে আইন লঙ্ঘন করে মুদ্রা পাচারের চেষ্টা করেছিলেন। সব তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।   সূত্র: ডন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১১:৫৮
কানাডায় লিভ-ইন থাকা অবস্থায় সঙ্গী ঋতীশ কুমারের হাতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেলেন ভারতীয় শিক্ষার্থী দামানপ্রীত কৌর | ছবি: সংগৃহীত

লিভ-ইন থাকা অবস্থায় সঙ্গীর দ্বারা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান ভারতীয় শিক্ষার্থী

শতাব্দীর সেরা বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় সাবেক স্ত্রীকে ৬৪৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ পেলেন এআই ধনকুবের চেয় তাই-ওন | ছবি: সংগৃহীত

এআই বিলিয়নিয়ারের বিবাহবিচ্ছেদ: স্ত্রীকে ৬৪৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ আদালতের

বছরে ছয় অঙ্কের বেতন পেয়েও জীবনযাত্রার ব্যয় ও করের চাপে ব্রিটেনের অনেক মানুষ নিজেকে ধনী ভাবছেন না | ছবি: সংগৃহীত

আমার বয়স ৪২, বছরে আয় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি! তবুও আমি ধনী নই

সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা। ছবি: সংগৃহীত
আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে ‘জনতার বিজয়’ দাবি

ভারতের বহুল আলোচিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর সিজেপি ‘সদিচ্ছার ভিত্তিতে’ আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সরকার তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আবারও আন্দোলনে নামবে।    রয়টার্স জানায়, প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় যুব আন্দোলনগুলোর একটিতে পরিণত হয়। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলনস্থলে উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ এবং বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা এটিকে জনতার বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেন।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, আন্দোলন প্রত্যাহারের আগে সরকার আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেয়। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলায় শিথিলতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তার ঘোষণা। এরপরই সিজেপি আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করে এবং সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করার আহ্বান জানায়।   ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠকের পর আন্দোলনের ইতি টানা হয়। বিজেপির সভাপতি জে.পি. নাড্ডা জানান, সিজেপির পাঁচ দফা দাবিপত্র সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলন শুধু প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি যুবসমাজের বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং সরকারি জবাবদিহির দাবিকেও জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনের সমাপ্তি ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ৯:২৬
৭ ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা। ছবি:সংগৃহীত

ভোরে ফেনী সীমান্তে ৭ ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

শ্রীলঙ্কার দুই জেলে। ছবি:সংগৃহীত

৩৬ দিন বঙ্গোপসাগরে ভেসে কক্সবাজারে উদ্ধার শ্রীলঙ্কার দুই জেলে

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে ভারতের যন্তর মন্তরে উচ্ছ্বাস। ছবি:সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে ভারতের যন্তর মন্তরে উচ্ছ্বাস, বিজয় মিছিল শিক্ষার্থীদের

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিরাপত্তা বা সামরিক বাহিনীর সদস্য। ছবি:সংগৃহীত
সৌদিতে হামলার শঙ্কায় জরুরি সতর্কতা, ইয়ানবু ও জাজানে আশ্রয়ের নির্দেশ

হুথিদের সম্ভাব্য বড় সামরিক অভিযানের হুমকির মধ্যে অল্প সময়ের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে জানানো হয়, তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কেটে গেছে।   রিয়াদ: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের ইয়ানবু ও জাজান অঞ্চলে শনিবার ভোরে অল্প সময়ের জন্য জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানায়, তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কেটে গেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।    সতর্কতা জারির সময় কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য হুমকির প্রকৃতি বা উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে নাসার অগ্নি-সনাক্তকরণ উপগ্রহচিত্রে জাজান তেল শোধনাগারের পূর্ব দিকে আগুনের চিহ্ন দেখা গেছে। আগুনের কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।    এদিকে হুথিরা ঘোষণা দিয়েছে, তারা শিগগিরই “গুণগত ও ব্যাপক সামরিক অভিযান” পরিচালনার বিস্তারিত জানাবে। এর আগে তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়।    এই উত্তেজনার পটভূমিতে শুক্রবার ইয়েমেনের হোদেইদা অঞ্চলে হুথিদের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি বাহিনীর দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছে।    এর আগে লোহিত সাগরে একটি সৌদি মালিকানাধীন জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করে হুথিরা। সেই ঘটনার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যায়।    হুথিদের হামলা এবং সৌদির পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ৭:১৫
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান । ছবি:সংগৃহীত

প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের চাপে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের বড় জয়

প্রতীকী ছবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এই অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনা প্রকাশ করে। ছবি:সংগৃহীত

হরমুজ দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের

ইরানের ভিসা নীতিতে পরিবর্তন, সুবিধা হারাল ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা

ইরানের ভিসা নীতিতে পরিবর্তন, সুবিধা হারাল ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা

0 Comments