আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ, তালেবানের গুলিবর্ষণ
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে নারীদের কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাম্প্রতিক ধরপাকড়ের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিরল বিক্ষোভে সরাসরি গুলি চালিয়েছে তালেবান বাহিনী। গত মঙ্গলবার সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান যেকোনো ধরনের ভিন্নমতের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে, তবে এদিন মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ নারী-পুরুষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করছে এবং সরাসরি গুলি ছুড়ছে। এর জবাবে বিক্ষোভকারীরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন এবং কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেন। হেরাতের একটি স্থানীয় হাসপাতালের এক চিকিৎসক তালেবানের রোষানলে পড়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অন্তত তিনজনকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং চিকিৎসকদের তথ্যমতে, এই ভয়াবহ সংঘর্ষে এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল মূলত তালেবানের 'নীতি পুলিশ' বা মোরালিটি পুলিশ কর্তৃক সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হেরাতের প্রায় ৩০ জন নারী ও বালিকাকে আটক করা। নারীদের চুল ও মুখ ঢেকে রাখার কঠোর নিয়ম অমান্য করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর এই মাত্রার বলপ্রয়োগ অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং এই সহিংসতার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া, জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত মিশন প্রধান জর্জেট গ্যাগনন অভিযোগ করেছেন যে, তালেবান প্রশাসন নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনসমক্ষে চলাচলের মতো মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে; এমনকি নারীদের কণ্ঠস্বর ও মুখমণ্ডল দেখানোকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
তবে তালেবান প্রশাসন সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। হেরাত প্রদেশের পুলিশের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হুসাইনি দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের আইনি দায়িত্ব পালন করেছে এবং পুলিশের গুলিতে কোনো বেসামরিক নাগরিক আহত হননি। তার মতে, হিজাব পালনের মতো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা করে কিছু মানুষ উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, হেরাতের নীতি পুলিশের প্রধান শেখ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় নারীদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই প্রদেশের সব নারীই তালেবানের পোশাকবিধি সঠিকভাবে মেনে চলছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ৪০ জন ইরানি নাবিককে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে অবস্থান করা জাহাজগুলোর নাবিকেরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের তীরে আনার ব্যবস্থা করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দক্ষিণাঞ্চলীয় গল বন্দরের মাধ্যমে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ইরানে ফিরে যান। রোববার (২৫ অক্টোবর) শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে অবস্থানরত কয়েকটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে জরুরি চিকিৎসার আবেদন জানানো হয়েছিল। খবর পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইরানি দূতাবাস এবং স্থানীয় শিপিং এজেন্টরা যৌথভাবে নাবিকদের তীরে আনার ব্যবস্থা করেন। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত গল বন্দর দিয়ে তাঁদের আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের ইরানে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থুশারা রদ্রিগো জানিয়েছেন, অসুস্থ নাবিকদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করেছে তাঁর দেশের সরকার। নাবিকদের তীরে আনার পরিবহনব্যবস্থা করে ইরানি দূতাবাস ও স্থানীয় শিপিং এজেন্টরা। অন্যদিকে অভিবাসনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দেয় শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ। রদ্রিগোর ভাষ্য অনুযায়ী, মানবিক দায়িত্ব বিবেচনায় এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অভিযানের ব্যয় বহন করেছে ইরানি দূতাবাস। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাবিকেরা ঠিক কোন কোন জাহাজ থেকে এসেছেন, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের প্রত্যেকের অসুস্থতার ধরন কিংবা কতজনের অবস্থা গুরুতর ছিল, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনেই তাঁদের সমুদ্র থেকে তীরে আনার ব্যবস্থা করা হয়। শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসা দেওয়ার পর নাবিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফলে তাঁদের এখনো শ্রীলঙ্কায় আটকে রাখা হয়েছে, এমন তথ্য সঠিক নয়। এই মানবিক উদ্ধার অভিযানের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক ও জ্বালানি বাণিজ্যসংক্রান্ত উত্তেজনা। মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের বেশ কিছু তেলবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ কয়েক মাস ধরে নিজ দেশের বন্দরে ফিরতে পারছে না। এর মধ্যে কয়েকটি জাহাজ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছে। দীর্ঘদিন সমুদ্রে আটকে থাকার কারণে জাহাজগুলোর নাবিকদের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশটির উপকূল থেকে প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে ১৯টি ইরানি জাহাজ অবস্থান করছিল। এসব জাহাজের কয়েকটি থেকে খাবার, পানি ও জ্বালানির সংকটের কথা জানানো হয়। অন্যদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গল বন্দরের কাছাকাছি প্রায় এক ডজন খালি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার নোঙর করে রয়েছে। দুটি তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, কারণ একটি হিসাব উপকূলের কাছে অবস্থানরত বৃহত্তর জাহাজসমষ্টি নিয়ে এবং অন্যটি গল বন্দরের কাছের খালি তেলবাহী ট্যাংকার নিয়ে। শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার আঞ্চলিক জলসীমা উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত। এর বাইরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর চলাচল ও নিরাপত্তার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় নজরদারি বিমান ও টহল নৌযান মোতায়েন করেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি শ্রীলঙ্কার জন্য কূটনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এর আগে দেশটির সরকার জানিয়েছিল, আটকে থাকা জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে জাহাজে পণ্য, জ্বালানি বা অন্যান্য সরবরাহ দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। তবে অসুস্থ নাবিকদের জরুরি চিকিৎসার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তাঁদের তীরে আনা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাহাজগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। একইভাবে আটকে থাকা সব ইরানি জাহাজকে শ্রীলঙ্কার বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এমন ঘোষণাও আসেনি। উদ্ধার অভিযানটি মূলত অসুস্থ নাবিকদের চিকিৎসা ও দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য পরিচালিত হয়েছে। ইরানি জাহাজগুলোর এই সংকটের পেছনে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলমান সংঘাতের কারণে ইরানের তেল পরিবহন ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে। ফলে কয়েকটি জাহাজ বিকল্প সমুদ্রপথে অবস্থান করছে। শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অনেক ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ পূর্বদিকে মালাক্কা প্রণালি ও সিঙ্গাপুরের দিকে চলে গেছে। তবে কিছু জাহাজ এখনো শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে যায়। জাহাজটি ভারত আয়োজিত একটি নৌ মহড়ায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছিল। ওই ঘটনায় বহু ইরানি নাবিক নিহত হন। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী আহত ও জীবিত কয়েকজন নাবিককে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিল। পরে তাঁদেরও ইরানে ফেরত পাঠানো হয়। মার্চের ওই ঘটনার পর থেকে শ্রীলঙ্কার আশপাশের সমুদ্রপথে ইরানি জাহাজের উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিনকোমালি বন্দরে ইরানের আরেকটি নৌযানও আশ্রয় চেয়েছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। শ্রীলঙ্কার জন্য পরিস্থিতিটি অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশের সঙ্গেই কলম্বোর বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। ফলে একদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বিবেচনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিপদে পড়া নাবিকদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধে আটকে থাকা ইরানি জাহাজের ৪০ নাবিককে চিকিৎসা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংকটের মানবিক দিকটি সামনে এনেছে। শ্রীলঙ্কার উদ্যোগে নাবিকেরা নিরাপদে দেশে ফিরলেও উপকূলের কাছে অবস্থানরত অন্য জাহাজগুলোর অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিরোধের সমাধান না হলে এই সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে।
শ্মশানে মোদির ছবি ঘিরে কালোজাদুতে আটক চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর, তদন্তে পুলিশ
জাপানে ইসলামকে কাছ থেকে জানার আমন্ত্রণ মুসলিমদের, টোকিও মসজিদে অমুসলিমদের মিলনমেলা
রাশিয়ায় পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের ছবিতে মিলল আনুষ্ঠানিকভাবে হিজাবের অনুমতি
সৌদি আরবে ১৪ বছর বয়সে কথিত অপরাধের অভিযোগে ২৯ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর নাম হাসান জাকি আল ফারাজ। গত ১৭ অক্টোবর দেশটির পূর্বাঞ্চলে আরও চার ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। অথচ ২০২০ সালে সৌদি সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করা হয়েছে। ছয় বছর আগের সেই ঘোষণার পরও এমন ঘটনায় দেশটির বিচারব্যবস্থা ও শিশু অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসান জাকি আল ফারাজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল কিশোর বয়সে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া। ২০১১ ও ২০১২ সালে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় কাতিফ এলাকায় শিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সেসব বিক্ষোভ ও নিহত ব্যক্তিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ থেকে ১৫ বছর। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ শুধু বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত আরও কয়েকটি অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবাধিকার সংগঠন মেনা রাইটস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন তাঁকে কারাগারে রাখা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। সংগঠনটির দাবি, তাঁকে দীর্ঘ সময় নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল এবং বাইরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও সীমিত করা হয়। তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০২২ সালে সৌদি আরবের বিশেষায়িত ফৌজদারি আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায়ও সেই সাজা বহাল থাকে। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই দিনে পাঁচ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দেয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ, অস্ত্র রাখা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের অভিযোগ ছিল। তবে ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সরকারি বিবৃতিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অভিযোগগুলো তুলে ধরা হলেও কার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তা আলাদাভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। সংগঠনটি বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে সৌদি আরবের ২০২০ সালের আইনি সংস্কারের কারণে। সে সময় ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ১৮ বছরের কম বয়সে সংঘটিত নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওই পরিবর্তনের আওতায় ২০১৭ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচারাধীন মামলাগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত কথিত অপরাধের জন্য সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থেকে যায়। অন্যদিকে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটনের সময় অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছরের নিচে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিষিদ্ধ। সৌদি আরবও এই আন্তর্জাতিক সনদের অংশীদার। হাসানের মামলাটি আগেই জাতিসংঘের নজরে এসেছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের নির্বিচার আটকসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ তাঁর আটককে বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী হিসেবে চিহ্নিত করে মুক্তির আহ্বান জানায়। সংস্থাটি বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্যতার অভাব এবং মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এমনকি চলতি বছরের ৯ অক্টোবর জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা কয়েকজনের বিষয়ে আবারও উদ্বেগ জানান। এর মাত্র আট দিন পর হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। হাসানের মৃত্যুদণ্ডের পর আরও কয়েকজন বন্দির জীবন নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী ইউসুফ আল মানাসিফ। তাঁর বিরুদ্ধেও ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, সৌদি সুপ্রিম কোর্ট তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় যেকোনো সময় সাজা কার্যকরের আশঙ্কা রয়েছে। ইউসুফের ক্ষেত্রেও নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় এবং যথাযথ আইনি সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রিভ তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে যুক্তরাজ্যসহ সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সামগ্রিক সংখ্যাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা এক বছরে দেশটির সর্বোচ্চ নথিভুক্ত সংখ্যা। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল অন্তত ৩৪৫। গত বছরের মৃত্যুদণ্ডগুলোর মধ্যে ২৪০টি ছিল মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মামলায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার সীমিত করার ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বড় পার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত কথিত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নিয়ে তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সৌদি আরববিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক জোয়ি শিয়া বলেছেন, হাসান আল ফারাজের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্যতার ঘাটতির কারণে। সংগঠনটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি বিচার মন্ত্রণালয় ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো জবাব উল্লেখ করা হয়নি।
নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান, তবে শর্তে অনড় তেহরান
শীত আসার আগেই গ্যাসের মজুত নিয়ে উদ্বেগে ইউরোপ, যুদ্ধের প্রভাবে বাড়তে পারে জ্বালানির দাম
ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তিনি আবারও সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, আলোচনা ভেঙে গেলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, দুই দেশের মধ্যে যখন আলোচনা চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য আবার চেষ্টা করা উচিত। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করলেও তেহরান আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করছে না। তবে তাঁর এই বক্তব্যকে নতুন কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার প্রশ্ন। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলে কোন শর্তে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ২৪ অক্টোবরের বক্তব্যে পেজেশকিয়ান নতুন কোনো চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত বা আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিও আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও ইরানের পাল্টা অবস্থান নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকলে তেলবাহী জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাব জানিয়েছে। তবে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এখানে পাকিস্তানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং আলোচনার পথ তৈরিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম সামনে এসেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকবে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও পরিস্থিতিটি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ব্যয়, আমদানি খরচ এবং বিভিন্ন পণ্যের মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশে তেলের দাম বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাতের গতিপথ, জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
আমাজনে ৪০ দিন তিন ভাইবোনকে আগলে রেখেছিল ১৩ বছরের লেসলি, বেঁচে ছিলেন প্রত্যেকেই
জন্মের পরই নবজাতকের মুখে ঘন কালো গোঁফ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়