সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

জনস্বাস্থ্য

জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশু থেকে ছড়ানো বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টিতে গবাদিপশু থেকে ছড়ানো বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত ১ নভেম্বর ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। খবরটি প্রকাশের পর দেশটির জনস্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।   স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি সংক্রমিত দুগ্ধ উৎপাদনকারী গবাদিপশুর সংস্পর্শে এসে এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষায় তাঁর নাম, বয়স ও লিঙ্গ প্রকাশ করা হয়নি।   ইয়াকিমা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির আগে থেকেই কিছু শারীরিক জটিলতা ছিল। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।   এদিকে একই কাউন্টিতে গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসা আরও একজনের শরীরে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। তবে নতুন আক্রান্ত ব্যক্তির অসুস্থতা গুরুতর নয় এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনে সাম্প্রতিক সময়ে গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসার পর তিনজনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর থেকে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন দুগ্ধ খামারে এইচ৫এন১ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। শুধু ইয়াকিমা কাউন্টিতেই ৩৩টি দুগ্ধ খামারে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। সংক্রমিত গবাদিপশুর সঙ্গে সরাসরি কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   তবে সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনই বড় ধরনের আতঙ্কের কারণ নয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মানুষের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বার্ড ফ্লু ছড়ানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি তাঁদের, যাঁরা আক্রান্ত পাখি, গবাদিপশু কিংবা দূষিত পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন।   স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ মানুষকে অসুস্থ বা মৃত পাখি ও প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে খামারে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কাঁচা দুধ ও অপাস্তুরিত দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সঠিকভাবে পাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণ করা নিরাপদ। কারণ পাস্তুরায়ন প্রক্রিয়ায় বার্ড ফ্লুসহ ক্ষতিকর ভাইরাস ও জীবাণু ধ্বংস হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে আক্রান্ত খামারগুলো পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম চলছে। কোনো প্রাণীর সংস্পর্শে আসার পর জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, চোখ লাল হওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, একজনের মৃত্যুর ঘটনা অবশ্যই গুরুতর। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কম। খামারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংক্রমণের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

বায়জিদ হাসান নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:০ 0
গবাদিপশুতে ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ
গবাদিপশুতে ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাস প্রথমবার মানুষের শরীরে, ফ্রান্সে রোগীর মৃ ত্যু

ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালে অক্টোবরে মা রা যান। বৃহস্পতিবার ফরাসি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের জন্য এই ভাইরাসের কারণে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করা হয়নি। তবে রোগীর অসুস্থতা ও সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে তদন্ত চলছে।   শামোন্ডা ভাইরাস মূলত গবাদিপশুকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে গরুর মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত পোকামাকড়ের কা মড়ের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। এত দিন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণের কোনো নথিভুক্ত ঘটনা পাওয়া যায়নি। ফলে ফ্রান্সে এই রোগীর শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়াকে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফরাসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তি আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে লিয়ঁ শহরের হসপিস সিভিলস দ্য লিয়ঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অক্টোবরে তাঁর মৃ ত্যু হয়। রোগীর মস্তিষ্কে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, তার সঙ্গে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনাকে চিকিৎসকেরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তবে এই সম্পর্ক নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল, পরীক্ষাগারভিত্তিক ও মহামারিবিষয়ক তদন্ত চলছে। অর্থাৎ, ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হলেও রোগীর অসুস্থতার সব পর্যায়ে এর ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, রোগীটি দেশটির পূর্বাঞ্চলে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। ২০২৬ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। তবে ঠিক কোথায় এবং কীভাবে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কয়েক দশক ধরে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণীর মধ্যে শামোন্ডা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি নাইজেরিয়ায় প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও জাপানে প্রাণীর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে এর সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে ইউরোপের একাধিক দেশেও ভাইরাসটির বিস্তার শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায় এর উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের অধীন জার্সি দ্বীপেও গরুর শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপে প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য, বিস্তার এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হঠাৎ জ্বর, পাতলা পায়খানা, পেটের অস্বস্তি, অবসাদ এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত গরুর প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে গর্ভপাত বা ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটির আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রাণিস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। গরু ছাড়াও ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ও আলপাকার মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তবে প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটির বিস্তার এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি এক বিষয় নয়। এ দুটি ক্ষেত্রে আলাদা করে গবেষণা ও নজরদারি প্রয়োজন। শামোন্ডা ভাইরাস আরএনএ ভাইরাসের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সিমবু শ্রেণিগোষ্ঠীর অর্থোবুনিয়াভাইরাস। জিনগতভাবে এটি শ্মালেনবার্গ ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে একই গোষ্ঠীর ভাইরাস হওয়া মানেই তাদের সংক্রমণপদ্ধতি বা মানুষের ওপর প্রভাব অভিন্ন—এমন নয়। এখন পর্যন্ত শামোন্ডা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা সহজলভ্য নেই। প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ কীভাবে ছড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ওপর এর প্রভাব কতটা, তা বোঝার জন্য গবেষণা চলছে। একই সঙ্গে মানুষের ক্ষেত্রে শনাক্ত হওয়া প্রথম ঘটনাটির কারণ ও তাৎপর্য নির্ধারণের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হলেও তা থেকে ব্যাপক জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বর্তমান মূল্যায়নেও সাধারণ জনগণের জন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়নি। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আগে থেকেই কম ছিল এবং তাঁর মস্তিষ্কে জটিলতা দেখা দিয়েছিল বলে ঘটনাটি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাণীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি ভাইরাস মানুষের শরীরে শনাক্ত হওয়ায় এর সংক্রমণক্ষমতা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চলমান তদন্তের ফলই নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে, ঘটনাটি কতটা ব্যতিক্রমী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য কী ধরনের নজরদারি প্রয়োজন।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে হামে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছেই, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৪ হাজার ৪১০ জনে

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। দেশটিতে চলতি বছর ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৪১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৩০ জন। সংক্রামক এই রোগের বিস্তার অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শত শত মানুষ।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৫১ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তবে দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও বিভিন্ন রাজ্যে সংক্রমণের পরিস্থিতি এক রকম নয়। পেনসিলভানিয়া বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি রাজ্যগুলোর একটি। পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে চলতি বছরে ১ হাজার ২২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। রাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ ওই সময় পর্যন্ত হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃ ত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে, ১৬ অক্টোবর পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৬০ হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩৮ জনে। রাজ্যটিতে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃ ত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কয়েক দিনের ব্যবধানেই সংক্রমণের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তবে পেনসিলভানিয়ায় হামের কারণে মৃ ত্যুর হিসাব নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সিডিসি ২০২৬ সালে দেশজুড়ে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মৃ ত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে। তবে কোন রাজ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে, তা সংস্থাটি প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়া নিজস্ব স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি মৃ ত্যুর কথা জানিয়েছে। মৃ ত্যুর তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে সিডিসি হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃ ত্যুর হিসাব তৈরিতে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগগুলোর তথ্যের পরিবর্তে ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের মৃ ত্যু-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার শুরু করে। এই পরিবর্তন নিয়ে জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। পেনসিলভানিয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সিডিসি ১৩ অক্টোবর জানায়, প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধান ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যটিকে আরও সহায়তা দেওয়া হবে। সংক্রমণ কীভাবে ছড়াচ্ছে, কোথায় বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তদন্তে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য চিত্র উঠে এসেছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৬, যা মোট আক্রান্তের ৪২ শতাংশ। এরপর রয়েছে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা। এই বয়সী মানুষের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৮৭ জন, যা মোট সংখ্যার ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্করা মিলেই মোট আক্রান্তের বড় অংশ। এ পরিস্থিতিতে স্কুল, পরিবার ও জনসমাগমস্থলে সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেও হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজ্যটি এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘোষণা ছিল প্রথম। এর মাধ্যমে রোগটির বিস্তার মোকাবিলায় পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে বা সংক্রমিত বাতাসের সংস্পর্শে এলে অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকলে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির প্রকাশিত জাতীয় হিসাব অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৪১০ হলেও পেনসিলভানিয়ার পরবর্তী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজ্যটিতে সংক্রমণ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসার, পুরুষদের তুলনায় নারীদের আক্রান্তের হার বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ ও মধ্যবয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বাড়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। ২০০০ সালের পর থেকে দেশটিতে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই বয়সের পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্যানসার শনাক্তের হার ৮৩ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনের সারাংশে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে স্তন, থাইরয়েড ও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের প্রবণতা নিয়ে গবেষকেরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। তবে নারী ও পুরুষের মধ্যে ৮৩ শতাংশ পার্থক্যের হিসাবটি মূল তথ্যসারণি থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অনুসন্ধানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্যানসারের পরিবর্তিত প্রবণতা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন গবেষণা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মিলেনিয়াল এবং অপেক্ষাকৃত কম বয়সী প্রজন্মের মধ্যে কিছু ধরনের ক্যানসার আগের তুলনায় বেশি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   গবেষকেরা বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন আগের প্রজন্মের তুলনায় কিছু মানুষের অপেক্ষাকৃত কম বয়সে ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশদূষণ, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, ঘুমের অনিয়ম এবং আধুনিক জীবনযাত্রার বিভিন্ন পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে এসব সম্ভাব্য কারণের সবগুলোর সঙ্গে ক্যানসার বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসার নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের সামগ্রিক ক্যানসার ঝুঁকি এখনো অনেক কম। কিন্তু কম বয়সীদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার বৃদ্ধির প্রবণতা চিকিৎসক ও গবেষকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষকেরা ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন, ৩৪ ধরনের প্রচলিত ক্যানসারের মধ্যে ১৭টির ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত পরবর্তী জন্মপ্রজন্মগুলোতে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে। বিশেষ করে কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্রের কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।   গবেষণায় জন্মপ্রজন্মভিত্তিক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একই বয়সে বিভিন্ন সময়ে জন্ম নেওয়া মানুষের ক্যানসার শনাক্তের প্রবণতা তুলনা করেছেন গবেষকেরা। এতে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের মানুষেরা আগের প্রজন্মের তুলনায় ভিন্ন ধরনের পরিবেশগত বা জীবনযাত্রার ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন কি না।   নারীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বেশি হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে স্তন ও থাইরয়েড ক্যানসার এই পার্থক্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সব ধরনের ক্যানসারে নারীদের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় বেশি, এমন নয়। ক্যানসারের ধরন, বয়স এবং অন্যান্য ঝুঁকির ওপর নারী ও পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার হার ভিন্ন হতে পারে।   স্তন ক্যানসার নারীদের মধ্যে বহুল শনাক্ত হওয়া ক্যানসারগুলোর একটি। অন্যদিকে থাইরয়েড ক্যানসারও নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি শনাক্ত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে উন্নত পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তের পদ্ধতির কারণে বেশি ক্যানসার ধরা পড়তে পারে। ফলে শনাক্তের হার বৃদ্ধির পেছনে প্রকৃত রোগ বৃদ্ধি এবং পরীক্ষার প্রভাব আলাদাভাবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   কোলোরেক্টাল ক্যানসার বা বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ের ক্যানসার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই ক্যানসারের হার বৃদ্ধির প্রবণতা আগের বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকেরা এর পেছনে খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, অন্ত্রের জীবাণুর পরিবেশ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করছেন।   আধুনিক খাদ্যাভ্যাসকে গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আল্ট্রা-প্রসেসড বা অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।   এ ধরনের খাবারের সঙ্গে স্থূলতা, বিপাকীয় পরিবর্তন এবং অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। এসব পরিবর্তন কিছু ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা গবেষণার বিষয়। তবে শুধু প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার কারণেই তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বাড়ছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ নিয়েও গবেষণা চলছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য, প্লাস্টিক এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মানবদেহে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।   বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এই কণাগুলো সরাসরি তরুণদের ক্যানসার বৃদ্ধির কারণ, এমন বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   ঘুমের অনিয়ম এবং শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ির পরিবর্তনও গবেষণার আওতায় রয়েছে। রাতের শিফটে কাজ, অনিয়মিত ঘুম এবং দীর্ঘ সময় কৃত্রিম আলোয় থাকার ফলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে।   গবেষকেরা এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্ক পরীক্ষা করছেন। তবে সাধারণ ঘুমের অনিয়ম এবং নির্দিষ্ট ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রাতের শিফটে কাজের ঝুঁকিকে একইভাবে বিবেচনা করা যায় না।   এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে বিভিন্ন পদার্থের সংস্পর্শ এবং শৈশবের পরিবেশগত পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীদের আলোচনায় গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত কিছু পুরোনো ওষুধের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে সব ধরনের মাতৃকালীন ওষুধকে ক্যানসারের ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করারও ভিত্তি নেই।   গবেষকেরা মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবেশগত সংস্পর্শের সম্মিলিত প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। গবেষণার ভাষায় এই ধারণাকে বলা হয় এক্সপোজোম। এর মধ্যে গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শৈশব, কৈশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বিভিন্ন পরিবেশগত প্রভাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে চান, দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যাভ্যাস, রাসায়নিক পদার্থ, দূষণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রভাব তৈরি করে। তবে এসব উপাদানের কোনটি কতটা দায়ী, তা নির্ধারণ করা জটিল।   এদিকে চিকিৎসকেরা তরুণদের ক্যানসারের সম্ভাব্য উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন, মলে রক্ত, অকারণ ওজন কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত কিংবা শরীরে নতুন কোনো চাকা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। বিভিন্ন সাধারণ রোগের কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ঝুঁকির নারীদের জন্য ৪০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত ম্যামোগ্রাম পরীক্ষার সুপারিশ রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ঝুঁকির প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪৫ বছর বয়স থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ করা হয়।   তবে যাঁদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে কিংবা বিশেষ ঝুঁকির কারণ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও আগে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে সবার জন্য একই ধরনের পরীক্ষা উপযুক্ত নয়।   গবেষকেরা জানিয়েছেন, তরুণদের মধ্যে কিছু ক্যানসারের হার বাড়লেও সব ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। কিছু ক্যানসারের হার কমেছে। আবার উন্নত চিকিৎসা, আগাম শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুহারও কমেছে।   ফলে ক্যানসার শনাক্তের হার বৃদ্ধি এবং ক্যানসারে মৃত্যুর হার বৃদ্ধিকে এক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের মধ্যে বেশি ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই সেই বয়সের মানুষের মৃত্যুঝুঁকি একই হারে বেড়েছে, এমন নয়।   ওয়াশিংটন পোস্টের আলোচিত অনুসন্ধানটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল। তাই এটিকে ২০২৬ সালের নতুন গবেষণা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। একইভাবে ২০০০ সালের পর থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তন নির্দেশ করে, সাম্প্রতিক এক বছরের বৃদ্ধি নয়।   গবেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কিছু ক্যানসার বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশগত সংস্পর্শ, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।   তবে এখন পর্যন্ত তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির জন্য একক কোনো কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। বিজ্ঞানীরা এই পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজতে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির সতর্কতা দিয়েছে সিডিসি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে বিপজ্জনক ডায়রিয়ার জীবাণু, পাঁচ অ্যান্টিবায়োটিকেও মিলছে না প্রতিকার

যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করা শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। এই ব্যাকটেরিয়া ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটব্যথার কারণ হতে পারে। দূষিত খাবার, পানি এবং যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমেও জীবাণুটি ছড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পরীক্ষিত নমুনায় ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী শিগেলার হার শূন্য থাকলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের ডায়রিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির হিসাব নয়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের গবেষণায় প্রায় ১৭ হাজার শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব নমুনা ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সালের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়াটির প্রতিরোধক্ষমতা কতটা বেড়েছে, তা নির্ধারণ করা।   শিগেলা অত্যন্ত সংক্রামক একটি ব্যাকটেরিয়া। এর সংক্রমণে সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর এবং পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তির মলের জীবাণু কোনোভাবে অন্য ব্যক্তির মুখে প্রবেশ করলে রোগটি ছড়াতে পারে। দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ধরনের যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।   এই ব্যাকটেরিয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, খুব অল্পসংখ্যক জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলেও সংক্রমণ হতে পারে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র ১০টি ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শেও একজন ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন। ফলে সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষকেরা মোট ১৬ হাজার ৭৮৮টি নমুনার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক্ষমতাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এর মধ্যে ৫১০টি নমুনা ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী হিসেবে শনাক্ত হয়। মোট নমুনার হিসাবে এই হার প্রায় তিন শতাংশ।   ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী বলতে এমন শিগেলা ব্যাকটেরিয়াকে বোঝানো হয়েছে, যা চিকিৎসায় ব্যবহৃত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করেছে। ওষুধগুলো হলো অ্যাম্পিসিলিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, সেফট্রিয়াক্সোন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং ট্রাইমেথোপ্রিম-সালফামেথক্সাজোল।   এসব অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিন্তু জীবাণু ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে উঠলে প্রচলিত চিকিৎসা কার্যকর না-ও হতে পারে। এ কারণে রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণে পরীক্ষাগারের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পরীক্ষিত নমুনাগুলোর কোনোটিই ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী হিসেবে শনাক্ত হয়নি। কিন্তু ২০২৩ সালে এই হার বেড়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার ওষুধপ্রতিরোধী ধরন বৃদ্ধির প্রবণতা উঠে এসেছে।   এ ছাড়া গবেষণায় শনাক্ত ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী সংক্রমণের অধিকাংশই ২০২২ ও ২০২৩ সালে পাওয়া গেছে। এই দুই বছরে মোট ৪১৫টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়, যা গবেষণায় পাওয়া এ ধরনের সংক্রমণের ৮৪ শতাংশের বেশি।   যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদিত এমন কোনো নির্দিষ্ট মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক নেই, যা ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী শিগেলা সংক্রমণের চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠিতভাবে কার্যকর। ফলে চিকিৎসকদের রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে কোন ওষুধ কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে হয়।   গবেষণায় আক্রান্তদের বড় অংশই ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। যেসব রোগীর বয়স ও লিঙ্গসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে, তাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশের বয়স ছিল ১৮ বছর বা তার বেশি। একই তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের ৮৬ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং মধ্যম বয়স ছিল ৪১ বছর।   যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমেও শিগেলা ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। আগের গবেষণায় পুরুষের সঙ্গে পুরুষের যৌন সংস্পর্শকে সংক্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বর্তমান গবেষণায় রোগীদের যৌন সংস্পর্শসংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় তা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি।   ফলে গবেষণায় শনাক্ত সব সংক্রমণ যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। দূষিত খাবার, পানি এবং অন্যান্য মল-মুখ সংস্পর্শের মাধ্যমেও এই ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে।   এদিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া ২৫৮ জন রোগীর মধ্যে ৯৭ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। শতকরা হিসাবে এই হার ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত রোগীদের মধ্যে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।   গবেষণায় কিছু রোগীর এইচআইভি সংক্রমণের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। মোট ১১৬ জনের এইচআইভি পরিস্থিতিসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে ৫৪ জনের একই সঙ্গে এইচআইভি সংক্রমণ ছিল।   রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, যাঁদের রোগপ্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে শিগেলা সংক্রমণ গুরুতর হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। বিশেষ করে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার বিকল্প সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, আক্রান্তদের অধিকাংশের সাম্প্রতিক ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। যেসব রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে, তাঁদের ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ভ্রমণ করেননি। একইভাবে ৮২ দশমিক ৪ শতাংশের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না।   এই তথ্য থেকে গবেষকেরা ধারণা করছেন, অনেক সংক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই ঘটেছে। তবে প্রতিটি রোগী কোথায় এবং কীভাবে সংক্রমিত হয়েছেন, তা নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। সব শিগেলা আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষাগারে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা এবং তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতেও পার্থক্য ছিল।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী শিগেলা সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যা গবেষণায় পাওয়া হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে। তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান সময়ে মোট কতজন আক্রান্ত রয়েছেন, তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং শনাক্ত সংক্রমণের তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার কিছু ধরন প্রচলিত একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করছে। ফলে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও চিকিৎসার জন্য কার্যকর ওষুধ নির্বাচন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   তবে এই গবেষণার তথ্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে সব ধরনের ডায়রিয়ার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। গবেষণাটি মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনায় শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার ওষুধপ্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন নিয়ে পরিচালিত হয়েছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
সাইবেরিয়ায় প্লেগের আশঙ্কা নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমেরিকা
সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকর্মীর মৃ ত্যুর পর রাশিয়াকে সহায়তার কথা বলেছেন ট্রাম্প

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মৃ ত্যুর পর দেশটিকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের সমস্যায় পড়লে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে ওই কর্মী প্লেগে আ ক্রা ন্ত হয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি রুশ কর্তৃপক্ষ।   ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মী নিউমোনিয়ায় মৃ ত্যু বরণ করেছেন। তবে তাঁর অসুস্থতার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   গভর্নর কোবজেভ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়নি।   সাইবেরিয়ার ওই ঘটনার বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বিষয়টির ওপর নজর রাখছে। তবে ট্রাম্পের সহায়তার প্রস্তাবের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।   রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই কর্মীর মৃ ত্যুর সঙ্গে তাঁর গবেষণাগারের কাজের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষাগারে জীবাণু ব্যবস্থাপনার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার পক্ষেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকি কম বলে মনে হচ্ছে। তবে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে ঝুঁকির মাত্রা আবার মূল্যায়ন করা হবে।   রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্লেগ নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীর মৃ ত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে কর্মীর অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   তবে রুশ কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মীর মৃ ত্যু প্লেগ সংক্রমণের কারণে হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। একইভাবে গবেষণাগারে কোনো দুর্ঘটনা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, এমন দাবিরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প ও রুবিও। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেই মনে হচ্ছে। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়নও পরিবর্তন করা হতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
হাম রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নিউইয়র্কে স্টেট ডিজাস্টার ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামের সংক্রমণ বাড়ছে, জরুরি অবস্থা জারি করলেন গভর্নর হোকুল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হাম রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্টেট ডিজাস্টার ইমার্জেন্সি ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। সোমবার নির্বাহী আদেশ জারি করে তিনি এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। রাজ্যের গ্রামীণ ও কম টিকাদান-প্রবণ এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং টিকাদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জরুরি আদেশটি ৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়ে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।   নিউইয়র্ক স্টেটের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এ বছর রাজ্যজুড়ে ১০৮টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে সাতটি এবং শহরের বাইরে ১০১টি ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে দ্রুত সংক্রমণ বেড়েছে ১৫ জুলাইয়ের পর। ওই সময় থেকে কম টিকাদান-প্রবণ গ্রামীণ ১৮টি কাউন্টিতে ৯২টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো এসব এলাকায় এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি এমএমআর টিকার ডোজ দিয়েছে।   কেন্দ্রীয় নিউইয়র্কের ওটসেগো কাউন্টিতে এ বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সেখানে জানুয়ারি থেকে ২০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে বলে রাজ্যের তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নিউইয়র্কের বাইরে প্রতিবেশী পেনসিলভানিয়াতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ৯৭৭টি হাম রোগের ঘটনা ও পাঁচটি মৃত্যু রিপোর্ট করা হয়েছিল, আর ৫ অক্টোবর রাজ্যটির মোট সংক্রমণ এক হাজার ছাড়িয়ে যায়।   জরুরি আদেশের আওতায় হাম, মাম্পস ও রুবেলার প্রতিরোধে ব্যবহৃত এমএমআর টিকা দেওয়ার অনুমোদিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এখন চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্যারামেডিক, উন্নত জরুরি চিকিৎসা সেবাকর্মী, ফার্মাসিস্ট ও ধাত্রীদেরও নির্দিষ্ট শর্তে টিকা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। নিবন্ধিত নার্সরা সন্দেহভাজন হাম রোগীর পরীক্ষার নির্দেশও দিতে পারবেন। ফার্মাসিস্টদের দুই বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের এমএমআর টিকা দেওয়ার সুযোগও বাড়ানো হয়েছে।   গভর্নর হোকুল বলেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ এবং কোনো মানুষের এ কারণে গুরুতর অসুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর ঘটনা কাম্য নয়। সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে সংক্রমণ মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তার মতে, আরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা ও পরীক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে।   নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ একই সঙ্গে সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করতে মহামারি-সংক্রান্ত তদন্ত, আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা লোকজনের খোঁজ এবং পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম জোরদার করছে। রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. জেমস ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। তিনি হাম থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে সুপারিশ অনুযায়ী এমএমআর টিকা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও চলতি বছর হাম রোগের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির ১ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটিতে ৩ হাজার ৮৮৭টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। এর ৯৫ শতাংশই এমন রোগী, যারা টিকা নেননি অথবা তাদের টিকাদানের অবস্থা অজানা। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ২৮৯টি হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের মাধ্যমে এটি দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল বা পানি পড়ার মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়ে পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।   সিডিসি শিশুদের এমএমআর টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার সুপারিশ করে। প্রথম ডোজ সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ৪ থেকে ৬ বছর বয়সের মধ্যে দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, একটি সম্প্রদায়ে টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের বেশি থাকলে ব্যাপকভাবে রোগ প্রতিরোধের সুরক্ষা তৈরি হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের এমএমআর টিকাদানের হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমেছে, যা হাম পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।   নিউইয়র্কের এই পরিস্থিতি এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে হাম রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়ায় চলতি বছরের সংক্রমণ ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে বড় রাজ্যভিত্তিক প্রাদুর্ভাবের পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিডিসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে টিকাদানের হার বাড়ানো এবং আক্রান্ত এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত করাকে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।   তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট স্বাস্থ্য বিভাগ, সিডিসি ও রয়টার্স।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু কম বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যয় করেও গড় আয়ুতে ৩৮তম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে তরুণদের অকালমৃত্যু

অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু কমছে এবং এই ব্যবধানের পেছনে শুধু মাদক অতিরিক্ত গ্রহণ, আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ডের মতো কারণ দায়ী নয়। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ, অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগ, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ এবং কিডনি ও মূত্রনালির বিভিন্ন অসুস্থতাও যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহার বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।   ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক স্টিভেন এইচ. উলফের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘ইউএস লাইফ এক্সপেকট্যান্সি অ্যান্ড ইনক্রিজিং মর্টালিটি রেটস: অ্যান অ্যানালাইসিস অব দ্য ক্রাইসিস’ শীর্ষক গবেষণাটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ‘দ্য মিলব্যাংক কোয়ার্টারলি’তে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ১৯৯৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং ১৬টি উচ্চ আয়ের দেশের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তথ্য নেওয়া হয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন তথ্যভান্ডার থেকে।   গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এক মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার দেশগুলোর মধ্যে গড় আয়ুর হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল ৩৮তম। একই সময়ে ৬০টি দেশের মানুষের ৪০ বছর বয়সের আগেই মারা যাওয়ার ঝুঁকি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের তুলনায় কম।   গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি চিলি, কোস্টারিকা, পানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বেশ কিছু দেশেও মানুষের গড় আয়ু বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। গবেষকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে এক মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার মাত্র ১৩টি দেশের গড় আয়ু যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি ছিল। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নেমে আসে ২০তম, ২০০০ সালে ২৬তম এবং ২০১০ সালে ৩২তম স্থানে।   গবেষণার অন্যতম উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই বয়সী মানুষের সব ধরনের মৃত্যুহার ৭১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে মাদক অতিরিক্ত গ্রহণের পাশাপাশি অল্প বয়সে দেখা দেওয়া উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ এবং অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগের কারণে মৃত্যুও বেড়েছে।   বিশেষ করে অনিচ্ছাকৃত মাদক অতিরিক্ত গ্রহণে মৃত্যুহার ১৯৯৯ সালের পর প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে এই বয়সী মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে এটি হৃদ্‌রোগকেও ছাড়িয়ে যায়। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের আত্মহত্যার হারও ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে একই বয়সী মানুষের হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুহার ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং যানবাহন দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।   মধ্যবয়সী ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা গেছে। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে মৃত্যুহার ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বয়সীদের অনিচ্ছাকৃত মাদক অতিরিক্ত গ্রহণে মৃত্যুহার প্রায় নয় গুণ বেড়েছে।   এ ছাড়া ২০০৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগে মৃত্যুহার ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগে মৃত্যুহার ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে স্নায়ুতন্ত্রের রোগে মৃত্যুহার ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। কিডনি ও মূত্রনালিসংক্রান্ত রোগেও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   গবেষণায় নবজাতক ও শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও কিছু উদ্বেগজনক পরিবর্তন পাওয়া গেছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুমৃত্যুর হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। আকস্মিক ও ব্যাখ্যাতীত শিশুমৃত্যু এবং ঘুমের সময় দুর্ঘটনাজনিত শ্বাসরোধের মতো কারণ এ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   করোনাভাইরাস মহামারিও যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহারের ব্যবধান বাড়িয়েছে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মধ্যবয়সী মানুষের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে কোভিড-১৯-এ মৃত্যুহার আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়। পরে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে মহামারি কমে যাওয়ার পরও অন্যান্য রোগে মৃত্যুর দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা অব্যাহত ছিল।   গবেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সংকটকে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি রোগ বা মৃত্যুর কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশের সুযোগ, চিকিৎসার খরচ, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, আর্থসামাজিক বৈষম্য, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার মতো বিষয়ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় কিছু মানুষ বীমার আওতায় থাকার পরও চিকিৎসা নিতে দেরি করেন বা চিকিৎসা এড়িয়ে যান। ফলে শুরুতেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এমন রোগ পরবর্তী সময়ে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জগদীশ খুবচন্দানি গবেষণাটির বিষয়ে নিউজউইককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য অনেক উন্নত দেশের তুলনায় স্বাস্থ্যসেবায় বেশি অর্থ ব্যয় করলেও মৃত্যুহারের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তার মতে, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যা এবং বিভিন্ন বাহ্যিক কারণজনিত মৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বড় ধরনের বৈষম্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। অঞ্চল, আয়, শিক্ষা এবং জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে গড় আয়ুর পার্থক্য দেখা যায়। ২০২৩ সালে আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কা নেটিভ জনগোষ্ঠীর গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ১ বছর। একই সময়ে অশ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তা ৭৪ বছর, শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৭৮ দশমিক ৪ বছর, হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৮১ দশমিক ৩ বছর এবং এশীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৮৫ দশমিক ২ বছর ছিল।   গবেষক উলফের বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও এলাকার মধ্যেও গড় আয়ুর ব্যবধান অনেক বড় হতে পারে। আয়, শিক্ষা ও বসবাসের পরিবেশের মতো সামাজিক কারণ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।   গবেষণায় ১৯৬০ থেকে ২০২২ সালের তথ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৬টি উচ্চ আয়ের দেশের মৃত্যুহারের তুলনাও করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ওই দেশগুলোর মধ্যে মৃত্যুহারের ব্যবধান তৈরিতে রক্তসঞ্চালনসংক্রান্ত রোগ, বাহ্যিক কারণ, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ বড় ভূমিকা রেখেছে। এর পাশাপাশি সংক্রামক রোগ, মানসিক ও আচরণগত সমস্যা, কিডনি ও মূত্রনালির রোগ এবং পরিপাকতন্ত্রের রোগও ব্যবধান তৈরিতে অবদান রেখেছে।   গবেষণাটির মূল বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের আয়ু ও মৃত্যুহারের সমস্যা শুধু মাদক, আত্মহত্যা বা নির্দিষ্ট কয়েকটি রোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন বয়সে একাধিক রোগ ও মৃত্যুর কারণ একই সঙ্গে বাড়ছে। তাই এই ব্যবধান কমাতে শুধু চিকিৎসা বাড়ানো নয়, স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার, চিকিৎসার ব্যয়, খাদ্য ও আবাসন নিরাপত্তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো বৃহত্তর বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।   সূত্র: দ্য মিলব্যাংক কোয়ার্টারলি, নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারে নজরদারি মুরগি ব্যবহার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মশাবাহিত রোগ আগাম শনাক্তে ব্যবহার করা হচ্ছে মুরগি, মিলছে সংক্রমণের পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছর দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আগেই ভাইরাসের সক্রিয়তা দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মশাবাহিত রোগের বিস্তার আগেভাগে শনাক্ত করতে ডেলাওয়্যারসহ কিছু এলাকায় বিশেষ পদ্ধতিতে মুরগি ব্যবহার করছেন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মৌসুম অস্বাভাবিকভাবে আগেই শুরু হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৮ জনের রোগ ছিল গুরুতর স্নায়ুতন্ত্রজনিত। একই সময়ে ২৩টি অঙ্গরাজ্যে ভাইরাসের সক্রিয়তার খবর পাওয়া যায়। ২০০৪ সালের পর বছরের এই সময়ে এত বেশি মানব সংক্রমণ আগে দেখা যায়নি বলে সিডিসি জানিয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে ডেলাওয়্যারের কর্মকর্তারা যে পদ্ধতিটি ব্যবহার করছেন, সেটি কয়েক দশক পুরোনো। সেখানে নির্দিষ্ট এলাকায় মুরগির ছোট ছোট দল রাখা হয়। এসব মুরগিকে বলা হয় ‘সেন্টিনেল চিকেন’ বা নজরদারি মুরগি। মশা কোনো ভাইরাস বহন করছে কি না, তা সরাসরি মশার সংখ্যা দেখে বোঝার বদলে এই মুরগিগুলোর শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়।   পদ্ধতিটির মূল সুবিধা হলো, মুরগি ওয়েস্ট নাইল বা ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসের মতো কিছু মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও সাধারণত সেই ভাইরাস ছড়ানোর উৎস হয়ে ওঠে না। অর্থাৎ তারা ভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে সংকেত দিতে পারে, কিন্তু নিজেরা সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয় না। ডেলাওয়্যারের মশা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান টম মোরানের ভাষায়, মুরগিগুলো অনেকটা খনির ভেতর বিপদের আগাম সংকেত দেওয়া পাখির মতো কাজ করে।   ডেলাওয়্যারে ১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকেই এই কর্মসূচি চলছে। বর্তমানে অঙ্গরাজ্যটির ২০টি স্থানে চারটি করে মুরগি রাখা হয়। নিয়মিত তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়, কোনো মশাবাহিত ভাইরাসের সংস্পর্শে তারা এসেছে কি না।   ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট ডেলাওয়্যার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ বা ডিএনআরইসি জানিয়েছে, বছরের প্রথমবারের মতো তাদের একটি নজরদারি মুরগির মধ্যে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই ওই এলাকায় ভাইরাসের সক্রিয়তার একটি সতর্কসংকেত পাওয়া গেছে।   এ ধরনের তথ্য জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় মুরগির পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়লে সেখানে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম জোরদার করা যায়। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক করা সম্ভব হয়।   চিকিৎসকদের জন্যও এই তথ্য কাজে আসে। বিশেষ করে মশাবাহিত রোগের মৌসুমে কোনো রোগীর জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা ওয়েস্ট নাইলসহ সংশ্লিষ্ট রোগের বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিতে পারেন। ঘোড়ার ক্ষেত্রেও আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়, কারণ ওয়েস্ট নাইল ও ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস ঘোড়ার জন্যও গুরুতর হতে পারে এবং টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।   ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। মশা সাধারণত আক্রান্ত পাখি থেকে ভাইরাস গ্রহণ করে এবং পরে মানুষ বা অন্য প্রাণীকে কামড়ানোর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থতা হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।   সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মৌসুম গ্রীষ্মে শুরু হয়ে শরৎ পর্যন্ত চলতে থাকে। মানুষের মধ্যে সংক্রমণ সাধারণত আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তাই মৌসুমের শুরুতেই ভাইরাসের গতিবিধি শনাক্ত করা জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   মশার দল পরীক্ষা করেও ভাইরাস শনাক্ত করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন মশার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, যা মুরগির তুলনায় দ্রুত ফল দিতে পারে। কারণ মশার কামড়ের পর মুরগির শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।   তবু ডেলাওয়্যার কর্মকর্তারা মুরগির ওপর নির্ভর করাকেই কার্যকর মনে করছেন। কারণ মশা উড়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যেতে পারে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা মুরগি সেখানেই থাকে। ফলে কোনো মুরগির পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলে কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত হতে পারেন যে ওই নির্দিষ্ট এলাকার আশপাশে সংক্রমিত মশা সক্রিয় রয়েছে।   ফ্লোরিডাতেও দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি মুরগির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কয়েক দশকের এসব তথ্য এখন শুধু বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য নয়, ভবিষ্যতে ওয়েস্ট নাইল বা ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসের মৌসুম কতটা গুরুতর হতে পারে, তা অনুমানের গবেষণাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে।   ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব ও নিমাটোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লিন্ডসে ক্যাম্পবেল দীর্ঘদিনের কাগজের রেকর্ড ডিজিটাল করে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তার গবেষণায় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, ভূমির ধরন এবং পাখির চলাচলের মতো পরিবেশগত তথ্যও বিবেচনা করা হয়েছে।   গবেষকদের লক্ষ্য শুধু ভাইরাস কোথায় ছড়িয়েছে তা জানা নয়, বরং কোন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বাড়তে পারে সেটিও বোঝা। উদাহরণ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের কয়েক মাস আগে তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতের ধরন পরবর্তী সময়ে ওয়েস্ট নাইলের সংক্রমণের মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   গবেষক রবার্ট গুরালনিকের মতে, দীর্ঘদিনের নজরদারি মুরগির তথ্য ভাইরাসের গতিবিধি বোঝার জন্য মূল্যবান। অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে ভাইরাসের ওঠানামার সম্পর্ক খুঁজে বের করা সম্ভব হচ্ছে।   তবে এই পদ্ধতিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার নির্ভর করে মশা, পাখি, অন্যান্য প্রাণী এবং আবহাওয়া ও পরিবেশের ওপর। ফলে কোনো মৌসুমে সংক্রমণ কতটা বাড়বে, তা একক কোনো সূচকের ভিত্তিতে নির্ভুলভাবে বলা কঠিন। তবু দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত তথ্য সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরিতে সহায়তা করছে।   ডেলাওয়্যারের কর্মকর্তারা কয়েক দশকের অভিজ্ঞতায় মুরগির জাত নিয়েও পরীক্ষা করেছেন। কর্মসূচির শুরুর দিকে তারা সাদা লেগহর্ন জাতের মুরগি ব্যবহার করতেন। কিন্তু এসব মুরগি সহজেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। পরে রোড আইল্যান্ড রেড জাতের মুরগি ব্যবহার শুরু করলে পরিস্থিতি অনেক সহজ হয়।   এদিকে মশাবাহিত রোগ শনাক্তে আরও দ্রুত ও কম খরচের পদ্ধতি খুঁজতে গবেষণা চলছে। মশা ধরতে মধুর ফাঁদ ব্যবহারের মতো নতুন পদ্ধতিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে আপাতত কয়েক দশকের পুরোনো এই নজরদারি ব্যবস্থায় মুরগির ভূমিকা শেষ হয়ে যাচ্ছে না।   যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিডিসির তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। সিডিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের তথ্য প্রাথমিক এবং পরবর্তীতে পরিবর্তিত হতে পারে।   সংবাদসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি), ডেলাওয়্যার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার, পাশেই জমে আছে নোংরা পানি। ছবি: সংগৃহীত
ইঁদুর, প্রস্রাব ও কুকুরের মুখ দেওয়া মাংস: লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্রিট ফুড ঘিরে ১০ হাজার অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে

রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকান থেকে ক্রেতাদের পরিবেশন করার আগে সেই মাংস খাচ্ছে একটি কুকুর। আরেকটি ফুড ট্রাক থেকে বেরিয়ে আসছে তেলাপোকা। খোলা সস বা চাটনির পাশ দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ইঁদুর। তীব্র গরমে রেফ্রিজারেটরের বাইরে রাখা আছে কাঁচা মাংস। এমনকি রান্নার সরঞ্জামের আশপাশেই লোকজন প্রস্রাব করছে। এগুলো কোনো কাল্পনিক হরর সিনেমার দৃশ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রাস্তার ধারের খাবার বা স্ট্রিট ফুডের বাস্তব চিত্র।   ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৯ হাজার ৭৪৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬৬২ পৃষ্ঠার এক বিশাল নথিতে এই চাঞ্চল্যকর ও গা শিউরে ওঠা তথ্যগুলো উঠে এসেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস চলতি সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে নিয়ম ভঙ্গকারী স্ট্রিট ভেন্ডর বা রাস্তার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক এমন একটি সময়ে এই ভয়াবহ অভিযোগের তালিকা জনসমক্ষে এল। সমালোচকরা মনে করছেন, মেয়রের এই পদক্ষেপের ফলে অনুমতিবিহীন খাবারের গাড়িগুলো শহরজুড়ে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে জমা পড়া এই অভিযোগগুলোর বিপরীতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নথিতে পাওয়া যায়নি। উদাহরণস্বরূপ, হাথর্ন বুলেভার্ডের কাছের একটি টাকো স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে কর্মীদের হাত ধোয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং তারা গ্লাভস পরিবর্তন করছিলেন না। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি কুকুর থলে থেকে মাংস খাচ্ছিল এবং বিক্রেতা সেই থলে থেকেই ক্রেতাদের মাংস পরিবেশন করছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অভিযোগের ফাইলটি কেবল বন্ধ বা ক্লোজড হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা এলএএক্স এর কাছাকাছি এলাকার আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, ময়লার ডাস্টবিনের পাশে খোলা অবস্থায় সালসা ও অন্যান্য মশলা রাখা ছিল এবং সেখানে ইঁদুর দৌড়াচ্ছিল। সেই অভিযোগটি বাতিল বা ক্যানসেলড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভেনিস সৈকত এলাকার একটি অভিযোগে বলা হয়, হট ডগ, বন রুটি এবং অন্যান্য খাবার সারাদিন রোদে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগটিকে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই সিদ্ধান্তগুলোর অর্থ বা এর ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখন রাস্তার ধারের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের বদলে বড় সংগঠনগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে, যারা মূলত এই ফুটপাতের ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।   লস অ্যাঞ্জেলেস বিজনেস ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট ওয়াল্ডম্যান স্ট্রিট ভেন্ডরদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তালিকাকে ধারণার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে যদি তার কর্মীরা হাত না ধোয়, মাখন বাইরে ফেলে রাখে বা তাদের ফ্রিজ নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য গরম থাকে। অথচ রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতাদের কোনো শৌচাগার নেই, কর্মীরা হাত ধুচ্ছেন না এবং তাদের কোনো রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থাও নেই।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বিজনেস ফেডারেশনের দায়িত্বশীল প্রশাসন কমিটির কো চেয়ারম্যান জর্জ ফ্রান্সিসকো জানান, এই অভিযোগগুলো তার কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি দেখেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য বিক্রেতাদের সিটি ভেন্ডিং পারমিট বা অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হয়। যারা খাবার বিক্রি করেন, তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পারমিটও নিতে হয়। কাউন্টি মূলত খাদ্যের নিরাপত্তা তদারকি করে, আর শহর কর্তৃপক্ষ বিক্রেতারা কোথায় এবং কীভাবে কাজ করবেন, তা নির্ধারণ করে।   হিসাব অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার বিক্রেতা ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৬৮৭টি সক্রিয় ভেন্ডিং পারমিটের রেকর্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৩টি পারমিট ছিল খাবার বিক্রেতাদের জন্য।   মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, তার প্রশাসন স্ট্রিট ভেন্ডরদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, লাইসেন্স না থাকলেও বা স্থায়ী দোকানের সামনে বসে ব্যবসা করলেও বিক্রেতাদের যেন অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা না হয়। তবে তার এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন মেয়র পদের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলওম্যান নিথিয়া রমন। তিনি মনে করেন, শহর কর্তৃপক্ষের উচিত বিক্রেতাদের পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং একইসাথে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।   পিকো ইউনিয়ন এলাকার এল সালভাদর করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা নিষিদ্ধ এলাকায় দোকান বসিয়েছেন। রাস্তায় তেল ও নোংরা পানি গড়িয়ে পড়ছে। এল সালভাদর করিডোর অ্যাসোসিয়েশনের সহ প্রতিষ্ঠাতা রাউল ক্লারোস জানান, এই এলাকায় এখন ১২০ জনেরও বেশি স্ট্রিট ভেন্ডর ভিড় জমিয়েছেন। তিনি বিক্রেতাদের উচ্ছেদ না করে তাদের পারমিট দেওয়া এবং নির্দিষ্ট একটি বাজারে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে রেফ্রিজারেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকবে।   ফুটপাতে এই অবৈধ ব্যবসার কারণে স্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এল কোরেডর রেস্তোরাঁর মালিক মিগুয়েল কারানজা এবং তার স্ত্রী ইরমা দিয়াজ জানান, তারা একসময় ফুটপাতেই ব্যবসা করতেন। এরপর তারা ফুড ট্রাক এবং ২০১০ সালে স্থায়ী রেস্তোরাঁ চালু করেন। কিন্তু এখন ফুটপাতের বিক্রেতাদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। কারণ, ফুটপাতের বিক্রেতাদের রেস্তোরাঁর মতো ভাড়া বা অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় না। একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী ব্রেন্ডা মনটোয়া জানান, করোনা মহামারির আগে এই এলাকার অর্থনীতি অনেক ভালো ছিল, কিন্তু ফুটপাতে বিক্রেতাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদের বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ক্যাম্পাসের সামনে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে আসা শান্তা যাদব। ছবি: সংগৃহীত
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন শান্তা যাদব। বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তিনি।   শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রীনা যাদব দুজনই লংলা চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে উঠলেও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল শান্তার। চা-বাগানের জীবন এবং সেখানকার শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের নানা বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।   লংলা চা-বাগানে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন শান্তা। এরপর চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন নিয়ে তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয়। নিজের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও এই আগ্রহকে প্রভাবিত করেছে। চা-বাগানের মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের বাস্তবতা তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।   স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন শান্তা। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ পেলেও নিজের লক্ষ্য ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক স্নাতকোত্তর কর্মসূচি বেছে নেন তিনি।   এই কর্মসূচিতে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য, মানুষের কাছে কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন শান্তা। তাঁর পড়াশোনার জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা সমপরিমাণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।   শান্তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও নিজের শিকড় থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা। শৈশব থেকেই তিনি দেখেছেন, চা-বাগান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ কতটা সীমিত হতে পারে। সেই বাস্তবতাই তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার লক্ষ্য স্থির করতে সাহায্য করেছে।   শিক্ষাজীবনে চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের নিয়েও কাজ করেছেন শান্তা। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়ার সময় তিনি চা-ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন তিনি।   উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে শান্তার। তাঁর লক্ষ্য নিজের অর্জিত জ্ঞানকে এমন কাজে ব্যবহার করা, যা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।   লংলা চা-বাগানের সীমিত সুযোগের পরিবেশ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর শান্তার এই পথচলা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি দেশের চা-বাগান ও অন্যান্য প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ। শুরুর জায়গা সীমিত হলেও শিক্ষা, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় লক্ষ্য একজন মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে, শান্তার পথচলা তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে কম দামের খাবারের দোকান ডলার স্টোর। ছবি: সংগৃহীত
ডলার স্টোরের খাবার নিয়ে সতর্কবার্তা, গবেষণায় নতুন তথ্য সাশ্রয়ী খাবারের আড়ালে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় কম খরচে খাবার কিনতে অনেক পরিবার ডলার স্টোরের ওপর নির্ভর করছে। তবে এসব দোকানে পাওয়া খাবারের মানের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।   ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের গবেষকদের এই গবেষণা ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ডলার স্টোরের খাবারের সঙ্গে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার বেশি হারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণার প্রথম লেখক রায়ান ব্রুয়েলম্যান বলেন, গ্রোসারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ তুলনামূলক কম দামের এবং বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   গবেষকেরা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ‘ফাইভ হান্ড্রেড সিটিজ প্রজেক্ট’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি আবাসিক এলাকার কাছাকাছি কতগুলো ডলার স্টোর রয়েছে, সেটিও হিসাব করা হয়। কোনো আবাসিক এলাকা থেকে ১০ মিনিটের গাড়ি চালানোর দূরত্বের মধ্যে থাকা ডলার স্টোরের সংখ্যাও বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ডলার স্টোরের উপস্থিতির সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রচলিত গ্রোসারি স্টোরের তুলনায় ডলার স্টোরের সংখ্যা বেশি, সেখানে এই সম্পর্ক আরও স্পষ্ট ছিল।   তবে গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। এই গবেষণা ডলার স্টোরের খাবার সরাসরি স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের কারণ প্রমাণ করেনি। বরং ডলার স্টোরের উপস্থিতি এবং এসব স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে একটি সম্পর্ক বা যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, সমস্যার সমাধান শুধু ডলার স্টোরের সংখ্যা কমানো নয়। বরং এসব দোকানেই তাজা ফলমূল, শাকসবজি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সরবরাহ বাড়ানো যেতে পারে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব, কৃষকের বাজার এবং খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের সুযোগ বাড়ানোর মতো উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ছোট স্থানীয় মুদি দোকান রয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প পাওয়া যায়। এসব দোকানের প্রভাব গবেষণার তথ্যের মধ্যে পুরোপুরি ধরা পড়েনি। ফলে স্থানীয় ছোট দোকানগুলোর উপস্থিতি ডলার স্টোরের খাবারের ওপর নির্ভরতার প্রভাব কিছুটা কমিয়ে থাকতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। খাদ্যবিজ্ঞানী ও নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ড. শাই বিষ্ণুমোহন বলেন, মানুষ সাধারণত তাদের বাজেট, সময় এবং আশপাশে থাকা দোকানের সুযোগের ওপর ভিত্তি করে খাবার নির্বাচন করে। তাই সাশ্রয়ী খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবারও সহজলভ্য করা জরুরি।   গবেষকদের আশা, এই গবেষণা নীতিনির্ধারকদের কম আয়ের ও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে। তাদের মতে, মানুষের নাগালের মধ্যে কম দামে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতাল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্রে ছড়াচ্ছে ওষুধপ্রতিরোধী ক্যান্ডিডা অরিস ছত্রাক। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে ওষুধপ্রতিরোধী ছত্রাক, ঝুঁকিতে গুরুতর অসুস্থরা

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ‘ক্যান্ডিডা অরিস’ নামের এক ধরনের ছত্রাকের উপস্থিতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশটির ২৭ অঙ্গরাজ্যে এই ছত্রাকের ৩ হাজার ৪৩৭টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। একই সময়ে ২০২৫ সালে ৪ হাজার ২৯০টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল।   ক্যান্ডিডা অরিস মূলত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ছড়ায় এবং গুরুতর অসুস্থ, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা কিংবা জটিল চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শ্বাস নেওয়ার যন্ত্র, কেন্দ্রীয় শিরায় ক্যাথেটার বা অন্য কোনো আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্র ব্যবহার করা রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্র ও নার্সিংহোমের বাসিন্দারাও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।   ক্যান্ডিডা অরিস এক ধরনের ইস্ট বা ছত্রাক। এটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০০৯ সালে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০১৬ সালে। এরপর দেশটিতে প্রতিবছর ক্লিনিক্যাল কেসের সংখ্যা বেড়েছে। সিডিসির ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৮৮২টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪২৮ এবং ২০২৪ সালে ৬ হাজার ১৯৭-এ পৌঁছায়। তবে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হিসাবেও ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি কেস শনাক্ত হয়েছে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত সেখানে ৮৭৩টি কেস পাওয়া যায়। এরপর টেক্সাসে ৪৩৩ এবং টেনেসিতে ২৮৩টি কেস শনাক্ত হয়েছে।   চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ক্যান্ডিডা অরিসের অনেক ধরন প্রচলিত ছত্রাকনাশক ওষুধে প্রতিরোধী। সিডিসির জুলাই ২০২৬-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্যান্ডিডা অরিস নমুনা ফ্লুকোনাজল নামের বহুল ব্যবহৃত ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। সাধারণত এ ধরনের সংক্রমণের চিকিৎসায় ইকাইনোক্যান্ডিন শ্রেণির ওষুধকে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইকাইনোক্যান্ডিন প্রতিরোধী এবং একাধিক শ্রেণির ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী কিছু ধরনও শনাক্ত হয়েছে। এতে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।   তবে ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত হলেই যে ব্যক্তি অসুস্থ, এমন নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে শরীরে ছত্রাকটির উপস্থিতি কিন্তু কোনো উপসর্গ না থাকাকে ‘কলোনাইজেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ, ছত্রাকটি ত্বক বা শরীরের অন্য কোনো অংশে থাকতে পারে, কিন্তু তখনও সংক্রমণ বা অসুস্থতা তৈরি নাও করতে পারে। সিডিসি বলছে, ক্যান্ডিডা অরিসের ক্লিনিক্যাল সংক্রমণের উপসর্গ নির্দিষ্ট নয়। শরীরের কোন অংশে সংক্রমণ হয়েছে এবং সংক্রমণের মাত্রা কতটা, তার ওপর উপসর্গ নির্ভর করে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি রক্তে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। রক্তে ছত্রাক পাওয়া সাধারণত আক্রমণাত্মক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।   ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিডিসি জানিয়েছে, ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১৩ হাজার ৫০৭টি ক্লিনিক্যাল কেস রিপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ রোগীর বয়স ছিল ৪৫ বছর বা তার বেশি। সবচেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তীব্র চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতাল এবং দীর্ঘমেয়াদি তীব্র চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে।   ক্যান্ডিডা অরিসের বিস্তার সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর মতো নয়। বরং আক্রান্ত বা ছত্রাক বহনকারী ব্যক্তির শরীরের সংস্পর্শ এবং দূষিত চিকিৎসা-সরঞ্জাম বা পৃষ্ঠের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। হাসপাতালের বিছানার রেলিং, দরজার হাতলসহ বিভিন্ন পৃষ্ঠে ছত্রাকটি দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। এ কারণে হাসপাতাল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।   তবে সুস্থ মানুষের জন্য দৈনন্দিন জীবনে ক্যান্ডিডা অরিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা নেই এমন মানুষের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে না। বরং দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা, গুরুতর অসুস্থতা, আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্রের ব্যবহার এবং সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যান্ডিডা অরিস মোকাবিলায় তাই দ্রুত শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চঝুঁকির রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা করলে শরীরে ছত্রাকটি থাকা অবস্থায়ই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।   সিডিসির জুলাই ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাত পরিষ্কার রাখা, ক্যান্ডিডা অরিসের বিরুদ্ধে কার্যকর জীবাণুনাশক ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্পর্শভিত্তিক সতর্কতা এবং রোগী এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সময় তার ক্যান্ডিডা অরিসের অবস্থার তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডিডা অরিসের শনাক্তকরণ আরও বাড়তে পারে। এর একটি কারণ হলো এখন আগের তুলনায় বেশি পরীক্ষা ও নজরদারি হচ্ছে। ফলে কেসের সংখ্যা বাড়ার একটি অংশ উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ফলও হতে পারে। সিডিসিও জানিয়েছে, ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত করার সক্ষমতা এবং স্ক্রিনিং বাড়ার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।   তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সিডিসির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ক্যান্ডিডা অরিসের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এর বিরুদ্ধে ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই উচ্চঝুঁকির রোগীদের শনাক্তকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং হাসপাতালগুলোতে কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
টিকাদানের হার কমে যাওয়াকে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে হাম, ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম (মিজলস)। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।   সিডিসির ১৩ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজুড়ে ৩৮টি পৃথক প্রাদুর্ভাব (আউটব্রেক) শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশই এসব চলমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫০ জন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা এবং ১৬ জন আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াসহ মোট ৪৭টি প্রশাসনিক এলাকায় হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সর্বশেষ উইসকনসিনেও নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তারের অন্যতম কারণ শিশুদের মধ্যে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকার হার কমে যাওয়া। একটি এলাকায় হার্ড ইমিউনিটি বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণত অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুর টিকাপ্রাপ্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় সেই হার এখন এর নিচে নেমে গেছে।   উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের টিকাদান নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এমএমআর টিকার কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে কমে ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ছয় বছর বয়সী শিশুদের টিকাদানের হারও ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। ক্লার্ক, মনরো, ভার্নন ও ক্রফোর্ড কাউন্টির মতো কিছু এলাকায় এই হার ৭০ শতাংশেরও নিচে নেমেছে।   সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের হামে আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই টিকা নেননি অথবা তাদের টিকাদানের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কম টিকাদানের এলাকাগুলোতেই পারিবারিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।   এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন নির্বাহী আদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সম্মিলিত এমএমআর টিকাকে ভবিষ্যতে তিনটি পৃথক টিকায় বিভক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যদি দেশীয় উৎপাদন সম্ভব হয়। পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন টিকা একসঙ্গে না দিয়ে আলাদা আলাদা সময়ে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিশু চিকিৎসকেরা।   কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ও কিশোরস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মেলিসা স্টকওয়েল নিউজউইককে বলেন, এমএমআর টিকাকে আলাদা করে দিলে পরিবারের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে। এতে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে সব ডোজ সম্পন্ন না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং তারা দীর্ঘ সময় সুরক্ষার বাইরে থাকবে। তিনি বলেন, হাম নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।   'মিজলস কোলাবোরেটিভ'-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. প্যাটসি স্টিঞ্চফিল্ড বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে সম্মিলিত এমএমআর টিকা নিরাপদভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুই ডোজ টিকা নেওয়া ৯৯ শতাংশের বেশি মানুষের শরীরে কার্যকর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। তার ভাষায়, "এমএমআর টিকাকে আলাদা করার এই সুপারিশের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।"   লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, টিকাদান নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন টিকা নিয়ে দ্বিধা আরও বাড়াতে পারে এবং শিশুদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাম, মাম্পস ও রুবেলার পৃথক টিকা বাজারে সহজলভ্য নয়। টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও আলাদা টিকা উৎপাদনের কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে সিডিসি এখনো তাদের বিদ্যমান নির্দেশনা বহাল রেখেছে। সংস্থাটি ১২ থেকে ১৫ মাস এবং ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দুটি ডোজ সম্মিলিত এমএমআর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।   উইসকনসিনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগও অভিভাবকদের বর্তমান সিডিসি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, চলমান সংক্রমণের মধ্যে সময়মতো টিকা নেওয়াই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।   সূত্র: সিডিসি, নিউজউইক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফ্লোরিডায় ‘ভিব্রিও’ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে চলতি বছরে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়ায় আরও একজনের মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত ১৪

ফ্লোরিডায় বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের ম্যারিয়ন কাউন্টির ৬০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী এক বাসিন্দা এই সংক্রমণে মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল দুইজনে, আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪।   ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য এবং ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া সাধারণত উষ্ণ, লবণাক্ত বা অল্প লবণাক্ত উপকূলীয় পানিতে স্বাভাবিকভাবেই থাকে। শরীরে কোনো কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই পথ দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এটি খুব দ্রুত গুরুতর রূপ নিতে পারে।   গত বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মোট ৩৩ জন আক্রান্ত হন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৪টি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন মারা গেছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের শুরুতে লক্ষণ সাধারণ মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি জীবনহানিকর অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ব্যাকটেরিয়াটি ত্বক ও নরম টিস্যু দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেই এটি অনেক সময় ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া’ নামে পরিচিত। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মানুষের মাংস খায় না; বরং গুরুতর সংক্রমণের কারণে টিস্যুর ক্ষয় ঘটায়।   এই সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া জেনেভিভ গ্যালাঘার জানান, পরিবারের সঙ্গে নৌভ্রমণের সময় শরীরে একটি ছোট ক্ষত নিয়ে পানিতে নামার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি অন্যদের সতর্ক করে বলেন, শরীরে যদি সামান্য কাটা বা আঁচড়ও থাকে, এমনকি চুলকানোর কারণে খোলা মশার কামড়ের দাগও থাকে, তাহলে লবণাক্ত পানিতে নামা উচিত নয়। তার ভাষায়, “এটি অত্যন্ত গুরুতর। এমন ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।”   সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন গবেষকেরা। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আন্তারপ্রীত জুটলার নেতৃত্বে একটি গবেষক দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নাসার স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে উপকূলীয় পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার আগাম শনাক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, তা আগে থেকেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব হবে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআইয়ের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবেশ সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার পানির নমুনা সংগ্রহ করবে। পরে সেগুলো ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। এতে সম্ভাব্য সংক্রমণ ছড়ানোর আগেই জনগণকে সতর্ক করা এবং প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শরীরে কোনো ধরনের কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা লবণাক্ত পানিতে না নামাই নিরাপদ। পাশাপাশি উপকূলীয় পানি থেকে উঠে ক্ষতস্থান দ্রুত পরিষ্কার করা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো জানিয়েছে, ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে লেজিওনেয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে লেজিওনেয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাবে আরও একজনের মৃত্যু, মৃত বেড়ে ৭

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির আপার ইস্ট সাইড এলাকায় লেজিওনেয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাবে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। গত দুই সপ্তাহে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও আগেই আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা একজনের মৃত্যু হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আবারও বেড়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ মৃত ব্যক্তির পরিচয় বা বয়স প্রকাশ করেনি নিউইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অতিরিক্ত মন্তব্যও করেনি কর্তৃপক্ষ।   স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরু থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ১৭ জুলাইয়ের পর আর কোনো নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি। কয়েকজন রোগী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অনেকেই চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, সংক্রমণের বিস্তার এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   তদন্তে দেখা গেছে, আপার ইস্ট সাইডের বিভিন্ন ভবনের কুলিং টাওয়ারে লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এসব কুলিং টাওয়ার দ্রুত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আক্রান্ত সব স্থাপনাতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ। কর্মকর্তাদের ধারণা, সংক্রমণের উৎস ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।   লেজিওনেয়ার্স রোগ এক ধরনের গুরুতর নিউমোনিয়া, যা লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়াযুক্ত ক্ষুদ্র পানিকণা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে হতে পারে। এটি একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায় না। সাধারণত ভবনের কুলিং টাওয়ার, গরম পানির ব্যবস্থা, ফোয়ারা বা দীর্ঘদিন অপরিষ্কার পানির ব্যবস্থায় এই ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি বেশি। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীর ব্যথা বা ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।   এই প্রাদুর্ভাবের পর নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন কুলিং টাওয়ার পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করেছে। পাশাপাশি যেসব ভবনে লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছিল, সেগুলোর তথ্যও জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্মাডিলোর সংস্পর্শে আসা মাটির মাধ্যমেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাড়ছে প্রাচীন কুষ্ঠ রোগের সংক্রমণ, নেপথ্যে 'আর্মাডিলো' প্রাণী নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

ফ্লোরিডায় সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্ঠরোগ বা হ্যানসেনস ডিজিজের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জারি করেছেন। তাদের ধারণা, দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপকভাবে দেখা যায় এমন নয়-ডোরাকাটা আর্মাডিলো নামের একটি বন্য প্রাণী এ রোগের জীবাণু বহন করে মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলছেন, কুষ্ঠরোগ এখনো যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল, সহজে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না এবং আধুনিক চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।   ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭টি কুষ্ঠরোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ছিল ৮টি, ২০২৩ সালে ২৩টি, ২০২৪ সালে ২০টি এবং ২০২৫ সালে ২৬টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য ফ্লোরিডা বর্তমানে সংক্রমণের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   কুষ্ঠরোগের জন্য দায়ী মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি নামের ব্যাকটেরিয়া খুব ধীরে বৃদ্ধি পায়। ফলে সংক্রমণের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে কয়েক মাস থেকে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ রোগ মূলত ত্বক, স্নায়ু, চোখ এবং নাকের ভেতরের আবরণকে আক্রান্ত করে। চিকিৎসা না করালে ত্বকে দাগ, অসাড়তা, হাত-পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়া, স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুষ্ঠরোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও ভুল ধারণা রয়েছে। বাস্তবে এ রোগ খুব সহজে ছড়ায় না। দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের শরীরে এ রোগের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অন্যের জন্য আর সংক্রামক থাকেন না।   ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন কলেজের সহকারী অধ্যাপক হুয়ান ম্যানুয়েল কাম্পোস ক্রাউয়ারের মতে, উত্তর আমেরিকার নয়-ডোরাকাটা আর্মাডিলো প্রাকৃতিকভাবে কুষ্ঠরোগের জীবাণু বহন করতে পারে। প্রাণীগুলো মাটির নিচে পোকামাকড় ও শামুক খুঁজে খাবার সংগ্রহ করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আর্মাডিলোর বসবাস ও চলাচলের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য মাটিতে জীবাণু থাকতে পারে। পরে সেই মাটিতে বাগান করা বা বাড়ির আশপাশে কাজ করার সময় মানুষ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বহু বছর ধরেই আর্মাডিলোর বসবাস থাকলেও ধীরে ধীরে এদের বিস্তৃতি উত্তরাঞ্চলের দিকেও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, দেশটিতে প্রতিবছর সর্বোচ্চ প্রায় ২৫০টি কুষ্ঠরোগের ঘটনা শনাক্ত হয়। অধিকাংশ রোগী এমন দেশ থেকে সংক্রমিত হন, যেখানে এ রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, যেমন ব্রাজিল, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া।   তবে বিশেষজ্ঞরা আর্মাডিলো স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বাগান করা বা মাটি খোঁড়ার সময় গ্লাভস ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া সড়কে আর্মাডিলো চাপা পড়লে গাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করারও পরামর্শ দিয়েছেন কয়েকজন গবেষক।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লোরিডায় কুষ্ঠরোগের ঘটনা কিছুটা বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং সঠিক তথ্য জানা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউইয়র্কজুড়ে চালু করা হয়েছে শতাধিক কুলিং সেন্টার | ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সপ্তাহজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা, খুলেছে শতাধিক কুলিং সেন্টার

নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের ট্রাই-স্টেট অঞ্চলে চলতি সপ্তাহজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার থেকে শহরে ‘এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং’ (চরম তাপমাত্রার সতর্কতা) জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় অনুভূত তাপমাত্রা ৯০ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকতে পারে। বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সতর্ক করে বলেছেন, “এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং শহরের প্রতিটি অংশ এর প্রভাব অনুভব করবে।”   তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় শহরজুড়ে শতাধিক ‘কুলিং সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। স্কুল, গ্রন্থাগার এবং জ্যাভিটস সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র খোলা থাকবে। পাশাপাশি নগরীর সুইমিং পুলগুলোর কার্যক্রমও বাড়তি সময় পর্যন্ত চালু রাখা হবে।   এবার প্রথমবারের মতো নগর কর্তৃপক্ষ ১৫টি ‘কুলিং আউটরিচ ভ্যান’ মোতায়েন করছে। এসব ভ্যানে নার্স ও প্যারামেডিকরা থাকবেন এবং প্রয়োজনে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেবেন।   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. জেমস ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে এটি সবচেয়ে গুরুতর তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির ঘটনা হতে পারে। তিনি সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে অবস্থান এবং হিট স্ট্রোক বা হিট ইনজুরির লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।   শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তাপজনিত কারণে ২১ জন নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯ জনই জুন মাসের তাপপ্রবাহের সময় মারা যান।   অস্বাভাবিক গরমের কারণে নিউ জার্সির মনমাউথ কাউন্টিতে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ‘মনমাউথএনজে ২৫০: দ্য কনসার্ট অ্যাট পার্কস্টেজ’ অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি আগামী ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং পোষা প্রাণীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে শিশু। ছবি: সংগৃহীত
হামের প্রাদুর্ভাব: মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭০২ জনে পৌঁছেছে।   আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে আজ শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬০৯ শিশু। এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮৬৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭ হাজার ৫২২।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৫৪৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।   এদিকে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৭ হাজার ৬১৩ জন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চার শিশু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা।

Unknown জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: ফাইল ছবি
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার শনাক্ত এইচ৫ বার্ড ফ্লু, সতর্কতা জোরদার

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সংক্রামক এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। দেশটির কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি সামুদ্রিক পাখি ব্রাউন স্কুয়ার নমুনায় এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার পরীক্ষায় সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।   মন্ত্রী আরও জানান, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনায়ও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।   এর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাস সাধারণত হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে।   জুলি কলিন্স বলেন, “বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, তবে এটি হতাশাজনক।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে রোগটির বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নিরাপদ যৌনতা প্রচারে পাঁচ বছরের নতুন উদ্যোগ

যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি মোকাবিলায় নতুন করে কার্যক্রম জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন। এসটিআই সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ যৌনতা প্রচারে তারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাঁচ বছরের অংশীদারত্ব নবায়ন করেছে। এর আওতায় ২০৩১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সারা শহরে বিনামূল্যে কনডম ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ করা হবে।   এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সংগঠন ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ সহজলভ্য করা হবে। এতে বিভিন্ন ধরনের কনডম অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন।   শহরের স্বাস্থ্য কমিশনার ড. অ্যালিস্টার মার্টিন বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জন্য এইচআইভি ও এসটিআই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার কমলেও বর্ণ, জাতিগত পরিচয় ও এলাকার ভিত্তিতে বৈষম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।   স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সিফিলিসের হার ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্রাথমিক ল্যাটেন্ট সিফিলিস ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ক্ল্যামিডিয়ার হার সামগ্রিকভাবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই হ্রাস খুবই সীমিত। অন্যদিকে জন্মগত সিফিলিসের হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক।   এ ছাড়া উচ্চ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়া ও গনোরিয়ার সংক্রমণ হার নিম্ন আয়ের এলাকার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে সিফিলিসের হার শ্বেতাঙ্গ নারীদের তুলনায় নয়গুণ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়ার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈষম্যের পেছনে স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা এবং সচেতনতার অভাব বড় কারণ। তাই বিনামূল্যে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   একই সঙ্গে এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ রয়ে গেছে। টানা কয়েক বছর ধরে নতুন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে বা স্থিতিশীল রয়েছে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালে এমপক্স সংক্রমণও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।   স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কেবল উপকরণ সরবরাহ নয়—সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক কলঙ্ক দূর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

Unknown এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০