- প্রচ্ছদ
- Topic
জনস্বাস্থ্য
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির আপার ইস্ট সাইড এলাকায় লেজিওনেয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাবে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। গত দুই সপ্তাহে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও আগেই আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা একজনের মৃত্যু হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আবারও বেড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ মৃত ব্যক্তির পরিচয় বা বয়স প্রকাশ করেনি নিউইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অতিরিক্ত মন্তব্যও করেনি কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরু থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ১৭ জুলাইয়ের পর আর কোনো নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি। কয়েকজন রোগী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অনেকেই চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, সংক্রমণের বিস্তার এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্তে দেখা গেছে, আপার ইস্ট সাইডের বিভিন্ন ভবনের কুলিং টাওয়ারে লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এসব কুলিং টাওয়ার দ্রুত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আক্রান্ত সব স্থাপনাতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ। কর্মকর্তাদের ধারণা, সংক্রমণের উৎস ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। লেজিওনেয়ার্স রোগ এক ধরনের গুরুতর নিউমোনিয়া, যা লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়াযুক্ত ক্ষুদ্র পানিকণা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে হতে পারে। এটি একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায় না। সাধারণত ভবনের কুলিং টাওয়ার, গরম পানির ব্যবস্থা, ফোয়ারা বা দীর্ঘদিন অপরিষ্কার পানির ব্যবস্থায় এই ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি বেশি। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীর ব্যথা বা ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই প্রাদুর্ভাবের পর নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন কুলিং টাওয়ার পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করেছে। পাশাপাশি যেসব ভবনে লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছিল, সেগুলোর তথ্যও জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ফ্লোরিডায় সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্ঠরোগ বা হ্যানসেনস ডিজিজের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জারি করেছেন। তাদের ধারণা, দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপকভাবে দেখা যায় এমন নয়-ডোরাকাটা আর্মাডিলো নামের একটি বন্য প্রাণী এ রোগের জীবাণু বহন করে মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলছেন, কুষ্ঠরোগ এখনো যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল, সহজে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না এবং আধুনিক চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭টি কুষ্ঠরোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ছিল ৮টি, ২০২৩ সালে ২৩টি, ২০২৪ সালে ২০টি এবং ২০২৫ সালে ২৬টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য ফ্লোরিডা বর্তমানে সংক্রমণের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কুষ্ঠরোগের জন্য দায়ী মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি নামের ব্যাকটেরিয়া খুব ধীরে বৃদ্ধি পায়। ফলে সংক্রমণের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে কয়েক মাস থেকে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ রোগ মূলত ত্বক, স্নায়ু, চোখ এবং নাকের ভেতরের আবরণকে আক্রান্ত করে। চিকিৎসা না করালে ত্বকে দাগ, অসাড়তা, হাত-পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়া, স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুষ্ঠরোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও ভুল ধারণা রয়েছে। বাস্তবে এ রোগ খুব সহজে ছড়ায় না। দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের শরীরে এ রোগের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অন্যের জন্য আর সংক্রামক থাকেন না। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন কলেজের সহকারী অধ্যাপক হুয়ান ম্যানুয়েল কাম্পোস ক্রাউয়ারের মতে, উত্তর আমেরিকার নয়-ডোরাকাটা আর্মাডিলো প্রাকৃতিকভাবে কুষ্ঠরোগের জীবাণু বহন করতে পারে। প্রাণীগুলো মাটির নিচে পোকামাকড় ও শামুক খুঁজে খাবার সংগ্রহ করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আর্মাডিলোর বসবাস ও চলাচলের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য মাটিতে জীবাণু থাকতে পারে। পরে সেই মাটিতে বাগান করা বা বাড়ির আশপাশে কাজ করার সময় মানুষ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বহু বছর ধরেই আর্মাডিলোর বসবাস থাকলেও ধীরে ধীরে এদের বিস্তৃতি উত্তরাঞ্চলের দিকেও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, দেশটিতে প্রতিবছর সর্বোচ্চ প্রায় ২৫০টি কুষ্ঠরোগের ঘটনা শনাক্ত হয়। অধিকাংশ রোগী এমন দেশ থেকে সংক্রমিত হন, যেখানে এ রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, যেমন ব্রাজিল, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। তবে বিশেষজ্ঞরা আর্মাডিলো স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বাগান করা বা মাটি খোঁড়ার সময় গ্লাভস ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া সড়কে আর্মাডিলো চাপা পড়লে গাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করারও পরামর্শ দিয়েছেন কয়েকজন গবেষক। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লোরিডায় কুষ্ঠরোগের ঘটনা কিছুটা বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং সঠিক তথ্য জানা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের ট্রাই-স্টেট অঞ্চলে চলতি সপ্তাহজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার থেকে শহরে ‘এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং’ (চরম তাপমাত্রার সতর্কতা) জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় অনুভূত তাপমাত্রা ৯০ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকতে পারে। বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সতর্ক করে বলেছেন, “এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং শহরের প্রতিটি অংশ এর প্রভাব অনুভব করবে।” তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় শহরজুড়ে শতাধিক ‘কুলিং সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। স্কুল, গ্রন্থাগার এবং জ্যাভিটস সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র খোলা থাকবে। পাশাপাশি নগরীর সুইমিং পুলগুলোর কার্যক্রমও বাড়তি সময় পর্যন্ত চালু রাখা হবে। এবার প্রথমবারের মতো নগর কর্তৃপক্ষ ১৫টি ‘কুলিং আউটরিচ ভ্যান’ মোতায়েন করছে। এসব ভ্যানে নার্স ও প্যারামেডিকরা থাকবেন এবং প্রয়োজনে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেবেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. জেমস ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে এটি সবচেয়ে গুরুতর তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির ঘটনা হতে পারে। তিনি সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে অবস্থান এবং হিট স্ট্রোক বা হিট ইনজুরির লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তাপজনিত কারণে ২১ জন নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯ জনই জুন মাসের তাপপ্রবাহের সময় মারা যান। অস্বাভাবিক গরমের কারণে নিউ জার্সির মনমাউথ কাউন্টিতে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ‘মনমাউথএনজে ২৫০: দ্য কনসার্ট অ্যাট পার্কস্টেজ’ অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি আগামী ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং পোষা প্রাণীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭০২ জনে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে আজ শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬০৯ শিশু। এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮৬৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭ হাজার ৫২২। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৫৪৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এদিকে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৭ হাজার ৬১৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চার শিশু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সংক্রামক এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। দেশটির কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি সামুদ্রিক পাখি ব্রাউন স্কুয়ার নমুনায় এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার পরীক্ষায় সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনায়ও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাস সাধারণত হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। জুলি কলিন্স বলেন, “বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, তবে এটি হতাশাজনক।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে রোগটির বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি মোকাবিলায় নতুন করে কার্যক্রম জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন। এসটিআই সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ যৌনতা প্রচারে তারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাঁচ বছরের অংশীদারত্ব নবায়ন করেছে। এর আওতায় ২০৩১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সারা শহরে বিনামূল্যে কনডম ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সংগঠন ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ সহজলভ্য করা হবে। এতে বিভিন্ন ধরনের কনডম অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন। শহরের স্বাস্থ্য কমিশনার ড. অ্যালিস্টার মার্টিন বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জন্য এইচআইভি ও এসটিআই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার কমলেও বর্ণ, জাতিগত পরিচয় ও এলাকার ভিত্তিতে বৈষম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সিফিলিসের হার ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্রাথমিক ল্যাটেন্ট সিফিলিস ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ক্ল্যামিডিয়ার হার সামগ্রিকভাবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই হ্রাস খুবই সীমিত। অন্যদিকে জন্মগত সিফিলিসের হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক। এ ছাড়া উচ্চ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়া ও গনোরিয়ার সংক্রমণ হার নিম্ন আয়ের এলাকার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে সিফিলিসের হার শ্বেতাঙ্গ নারীদের তুলনায় নয়গুণ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়ার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈষম্যের পেছনে স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা এবং সচেতনতার অভাব বড় কারণ। তাই বিনামূল্যে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ রয়ে গেছে। টানা কয়েক বছর ধরে নতুন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে বা স্থিতিশীল রয়েছে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালে এমপক্স সংক্রমণও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কেবল উপকরণ সরবরাহ নয়—সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক কলঙ্ক দূর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক শহরে কুলিং টাওয়ার থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী জীবাণুর প্রাদুর্ভাবের পর কঠোর নতুন বিধিমালা জারি করতে যাচ্ছে নগর প্রশাসন। আগামী ৮ মে থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মে শহরের সব কুলিং টাওয়ারে আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নগর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী কুলিং টাওয়ার সচল থাকা সময় বিশেষ করে গরমের মাসগুলোতে প্রতি মাসে অন্তত একবার জীবাণু পরীক্ষা করতে হবে। আগে এই পরীক্ষা ৯০ দিন অন্তর করা হতো। নতুন নিয়মে পরীক্ষাগুলো অবশ্যই দক্ষ পেশাজীবীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করতে হবে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত গ্রীষ্মে হারলেম এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ জীবাণুজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। ওই ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দূষিত কুলিং টাওয়ার থেকেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল, যার মধ্যে একটি হাসপাতালের টাওয়ারও ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছে, এই জীবাণু বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র পানিকণার মাধ্যমে ছড়ায় এবং তা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক নিউমোনিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। এটি সরাসরি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। হারলেম ও ব্রঙ্কস এলাকায় এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কারণ হিসেবে সেখানে উঁচু ভবনের ঘনত্ব, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নগর প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে শহরে প্রায় ছয় হাজার কুলিং টাওয়ার রয়েছে। এসব টাওয়ারের তদারকি জোরদার করতে অতিরিক্ত পরিদর্শক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৭৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ২৭ দিনের (১৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৩ জন এবং হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৭ দিনে দেশে মোট ২ হাজার ৪০৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৯৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ হাজার ৯১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৬০৯ জন। হঠাৎ হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে ভারতের জনস্বাস্থ্য খাতে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় ভারতে কনডম উৎপাদনে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। ফলে বাজারে পণ্যটির তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি খুচরা মূল্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির এই বিশাল শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে। চাহিদা বৃদ্ধি নয়, বরং উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য লুব্রিকেন্ট (সিলিকন অয়েল) ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাই এই সংকটের প্রধান কারণ। কনডম উৎপাদনে ল্যাটেক্স স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ইতিমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পিভিসি এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মতো প্যাকেজিং উপকরণের চড়া দাম ও সরবরাহ ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভারতে বছরে প্রায় ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার একাই বছরে ২২১ কোটি ইউনিট উৎপাদন করে। ম্যানকাইন্ড ফার্মা ও কিউপিড লিমিটেডের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। দেশটির সরকার জ্বালানি ও শক্তি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের মতো ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশে কনডম শুধু একটি পণ্য নয়, এটি পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌনবাহিত রোগ (STI) প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র। কম মুনাফার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বিশাল বাজার এখন খাদের কিনারায়। দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলে বা বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোর ওষুধের দোকানে কনডমের সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মিততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারত-এর কনডম বাজারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, কাঁচামালের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে কনডম সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়; বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া, পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ কমে যাওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় লুব্রিকেন্টের ঘাটতির সরাসরি ফল। বিশেষ করে সিলিকন তেল, যা কনডম উৎপাদনে অপরিহার্য, বর্তমানে সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচা ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ভারতে প্রতিবছর ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এই খাতে HLL Lifecare Limited, Mankind Pharma এবং Cupid Limited-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে শুধু HLL Lifecare-ই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে। উৎপাদকদের মতে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলসহ প্যাকেজিং উপকরণের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার বিঘ্ন উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে ভারতের কনডম বাজার মূলত উচ্চ উৎপাদন ও কম মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, যাতে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি সাশ্রয়ী রাখা যায়। তবে চলমান সংকটে এই মডেলটি বড় চাপে পড়েছে। গত মার্চে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, জ্বালানি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দেশীয় পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে, যা কাঁচামালের সংকট আরও বাড়াবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটের গুরুতর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব থাকতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে কনডম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ব্যবহার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বড় শহরগুলোতে এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মুম্বাই ও দিল্লি-এর বিভিন্ন ওষুধের দোকানে কনডম সরবরাহে অনিয়মিততা লক্ষ্য করা গেছে।
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় (একদিনে) এই বায়ুবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৬৮৫ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নতুন চারজনসহ চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল মার্চ মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। সংক্রমণ এখন আর কেবল নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণের উচ্চমাত্রার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণের ক্ষমতা (R0) অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি খুব দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণের (এনসেফালাইটিস) মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'আইকিউএয়ার' (IQAir) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে বাতাসে ক্ষতিকারক সূক্ষ্ম কণা পিএম ২.৫ (PM2.5)-এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দেশটির লাহোরসহ প্রধান শহরগুলো ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার (Smog) কবলে রয়েছে। আইকিউএয়ার জানায়, ২০২৫ সালে বিশ্বের ১৪৩টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। যার মধ্যে ১৩০টি দেশই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বায়ুমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছর মাত্র ১৩টি দেশ ও অঞ্চল ডব্লিউএইচও-এর মানদণ্ড (প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের কম পিএম ২.৫) বজায় রাখতে পেরেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা উন্নত। তালিকায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা চাদ এবার চতুর্থ অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে গবেষকদের মতে, এটি দূষণ কমার কারণে নয় বরং তথ্যগত ঘাটতির কারণে হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক দূতাবাসগুলো থেকে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক দেশের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়নি। শহরভিত্তিক দূষণেও দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্য বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভারতের 'লোনি'। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের 'হোটান'। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দূষিত শহরের সবগুলোই ভারত, পাকিস্তান এবং চীনে অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লাওস, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ বেশি হওয়ায় দূষণের মাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পিএম ২.৫ কণা সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও রক্তে মিশে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।