আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তির মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস উইথ মারিয়া বার্তিরোমো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, তিনি জাতিসংঘের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে অবস্থানের কারণে মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থি বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে পরে মামদানি স্পষ্ট করেন, তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী মনে করলেও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনগত ক্ষমতা তার নেই। ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মামদানি বিভাজনের রাজনীতি করছেন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় মামদানি ও তার পরিবার সেটি উদযাপন করেছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও মামদানিকে ঘিরে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসির যৌথ জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি নাগরিকদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ মামদানিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা। একই জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ ইহুদি নাগরিক নেতানিয়াহুর প্রতি নেতিবাচক মতামত জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত। এ মতের সঙ্গে একমত নন ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা। গাজা যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আইসিসির এই সিদ্ধান্তের পর আদালতের সদস্য দেশগুলোতে নেতানিয়াহুর ভ্রমণ নিয়েও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও ইসরায়েল আইসিসির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং আদালতের এখতিয়ার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। জাতিসংঘের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য উপস্থিতি তাই কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ইসরায়েল তার অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে গাজা যুদ্ধ ও আইসিসির পরোয়ানা ঘিরে তাকে ঘিরে রয়েছে ব্যাপক আন্তর্জাতিক বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় গেমিং ও ক্যাসিনো রিসোর্ট গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারের এক বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কুইন্সের অ্যাকুয়াডাক্ট রেস ট্র্যাকিং গ্রাউন্ডের পাশে অবস্থিত শহরের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো 'রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক সিটি'কে এই প্রকল্পের মাধ্যমে লাস ভেগাস স্টাইলের আন্তর্জাতিক মানের এক আধুনিক সমন্বিত রিসোর্টে রূপান্তর করা হচ্ছে। সম্প্রসারণের নতুন ধাপ শুরু হওয়ার পর ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ তাদের এই বিশ্বমানের প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নকশা প্রকাশ করেছে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ক্যাসিনো কমপ্লেক্সে ৪০০ রুমের একটি নতুন হায়াত হোটেল টাওয়ার এবং আরেকটি নতুন বিলাসবহুল 'ক্রকফোর্ডস' হোটেল নির্মাণ করা হবে। এতে করে পরবর্তীতে মোট ২ হাজার রুমের বিশাল হোটেল সুবিধায় রূপ নেবে ক্যাসিনোটি। এ ছাড়া ৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি সর্বাধুনিক মাল্টিপারপাস কনসার্ট অ্যারেনা, সৌর প্যানেল সংবলিত বহুতল পার্কিং গ্যারেজ এবং এনবিএ (NBA) কিংবদন্তি কেনি "দ্য জেট" স্মিথের নামে একটি স্পোর্টস ও মিডিয়া কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে যা নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগেই সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি প্রথম তলার কাজের অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ১,৪০০টি স্লট মেশিন চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়াভিত্তিক গেন্টিং গ্রুপের মালিকানাধীন 'রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড' ২০১১ সাল থেকে চালুর পর চলতি বছরেই নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশনের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো পরিচালনার লাইসেন্স লাভ করে। বর্তমানে ক্যাসিনোটিতে প্রায় ৪ হাজার স্লট মেশিনের পাশাপাশি ২৪০টি টেবিলে ব্ল্যাকজ্যাক, ক্র্যাপস, ব্যাকারেট ও রুলেটের মতো লাইভ গেমিং খেলার সুযোগ রয়েছে। এই বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফলে কুইন্সে নতুন কাজের সুযোগ ব্যাপক বাড়বে। ক্যাসিনোটিতে বর্তমানে ২,২০০ কর্মী কর্মরত থাকলেও চলতি গ্রীষ্মের শেষের মধ্যেই আরও ৫০০ থেকে ২,৭০০ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশন মোট তিনটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো লাইসেন্স অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে নিউইয়র্ক মেটস দলের মালিক স্টিভ কোহেন ও হার্ড রক মিলে ফ্লাশিংয়ে 'মেট্রোপলিটন পার্ক' এবং ব্যালিস ডটকম ব্রঙ্কসের একটি সাবেক গলফ কোর্সে নতুন ক্যাসিনো নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। তবে আগের থেকে অবকাঠামো চালু থাকায় দৌড়ে বাকিদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড। কেবল ক্যাসিনো সম্প্রসারণই নয়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের একটি সামাজিক ফান্ড এবং ৫০ হাজার আবাসন ইউনিট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তা ছাড়া আগামী ১০ বছরে এই ক্যাসিনো থেকে রাজ্য ও স্থানীয় সরকার প্রায় ১০.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবং সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন যৌথভাবে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট চুক্তি ঘোষণা করেছেন। বাজেট ঘোষণার পর সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী মেয়র মামদানী দাবি করেন, পুঁজিবাদীদের চেয়ে সমাজতন্ত্রীরা অর্থনীতি ভালো বোঝেন এবং পূর্বসূরিদের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা তাঁরা সহজেই সমাধান করতে পারেন। তবে ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও আইনি নীতি বিষয়ক গবেষক জন কেচাম মেয়রের এই দাবিকে নিছক সস্তা প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সিটির এই নতুন বাজেটটি মোটেও টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নেই। আপাতদৃষ্টিতে বাজেটটিকে ভারসাম্যপূর্ণ মনে হলেও এটি মূলত কিছু সাময়িক কৌশল ও আর্থিক কারচুপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতে সিটির জন্য বড় সংকট ডেকে আনবে। বিশ্লেষকদের মতে, মেয়র মামদানী তাঁর সম্ভাব্য দুই মেয়াদের পেনশনের কিস্তি বাবদ প্রতি বছর ২ বিলিয়ন ডলার দেওয়া থেকে বাঁচতে বর্তমানের বিলটি ভবিষ্যতের করদাতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানের কিস্তি ফাঁকি দেওয়ার এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে আগামী ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সিটিকে অতিরিক্ত প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার সুদ গুনতে হবে। বর্তমানের দায় এড়াতে গিয়ে সিটির ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। সিটির এই চূড়ান্ত বাজেটে গত বছরের তুলনায় ব্যয় প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১১৬ বিলিয়ন ডলার। মে মাসের প্রস্তাবিত খসড়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এজেন্সির কর্মসূচিতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সিটির অভ্যন্তরীণ অর্থ প্রবাহ বা নগদ তহবিলের অবস্থা ক্রমশ মন্থর হয়ে পড়েছে, যেখানে ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি খুবই নগণ্য। বর্তমান বাজেটে সংকট এড়ানো গেলেও আগামী জানুয়ারি মাসেই মেয়রকে আবারও বড় ধরনের ঘাটতির মুখোমুখি হতে হবে। মেয়রের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬.৪ বিলিয়ন ডলার, যা সিটির হিসাব নিয়ন্ত্রকের মতে ৮.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আগামী বছর সিটির সরকারি কর্মচারীদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বেতন বাড়ানোর জন্য ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের চাপ আসবে, যা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তহবিল সিটির হাতে নেই। তাছাড়া সমাজতান্ত্রিক এবং পুলিশ-বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে মেয়র মামদানী সিটির পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে ৫৮০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন, যা নিয়ে স্পিকারের সাথে তাঁর তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। একই সাথে হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পে খরচ বাড়ানোর ফলে সিটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রকম সমাজতান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থনীতির এই কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করা সম্ভব নয়। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি সেন্টার ফর ইনোভেশন থ্রু ডাটা ইন্টেলিজেন্স (সিআইডিআই)-এর নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ভারতী শর্মার নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩০ জুন দেওয়া এক ঘোষণায় মেয়র জানান, তথ্যনির্ভর জনসেবা ও উদ্ভাবনী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে শর্মাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মেয়র মামদানি বলেন, ভারতী শর্মা তার পুরো কর্মজীবনে তথ্য-উপাত্তকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিউইয়র্ক সিটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তার নেতৃত্ব এবং সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর করতে আধুনিক ডাটাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা সিটি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ভারতী শর্মার নেতৃত্বে নিউইয়র্ক সিটি আরও উন্নত ও ফলপ্রসূ সেবা দিতে সক্ষম হবে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক ডেপুটি মেয়র ড. হেলেন আর্টিয়াগা বলেন, ভারতী শর্মার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা শহরজুড়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সমন্বিত সমাধান বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শর্মা নিউইয়র্কবাসীর জন্য কার্যকর সমাধান তৈরিতে অসাধারণ নেতৃত্ব দেবেন। নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক ভারতী শর্মা বলেন, এই দায়িত্বে নিউইয়র্ক সিটির মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। তিনি বলেন, সিআইডিআই এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে সরকার, তথ্য এবং মানুষের জীবনের বাস্তব প্রভাব একসঙ্গে কাজ করে। শর্মা বলেন, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, সঠিক তথ্য কিংবা তথ্যের অভাব মানুষের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তিনি শুনতে, নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলতে এবং তথ্যনির্ভর জনসেবা আরও কার্যকর করতে কাজ করবেন বলে জানান। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর ইনোভেশন থ্রু ডাটা ইন্টেলিজেন্স বিভিন্ন সিটি সংস্থার মধ্যে যৌথ গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে জনসেবার ঘাটতি চিহ্নিত করে এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সংস্থাসহ বিভিন্ন সরকারি অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য, গবেষণা ও সহযোগিতার মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ এবং সেবা প্রদানের কার্যকারিতা বাড়িয়ে থাকে। ভারতী শর্মা সর্বশেষ এনওয়াইসি হেলথ প্লাস হসপিটালসে সিনিয়র ডিরেক্টর অব ডাটা অ্যান্ড এআই স্ট্র্যাটেজিক এনাবলমেন্ট অ্যান্ড অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম পৌর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে ৭০টিরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ১১টি তীব্র চিকিৎসাসেবা হাসপাতাল রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তিনি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য কোভিড-১৯ ইন্টেলিজেন্স হাব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। এর মাধ্যমে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের সক্ষমতা, জরুরি বিভাগের সেবা, হাসপাতালের শয্যা প্রাপ্যতা, রোগীর চাপ মোকাবিলার পরিকল্পনা, ভেন্টিলেটর সরবরাহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটির কোভিড পরীক্ষা ও টিকাদান কেন্দ্রগুলোর অপেক্ষার সময়-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড তৈরিতেও তিনি নেতৃত্ব দেন। মহামারির পর তিনি ডাটা চ্যাম্পিয়ন প্রোগ্রাম চালু করেন, যা পরে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে। পাশাপাশি তিনি ডাটা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ৫০০-এর বেশি কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে বছরে আনুমানিক ৪ দশমিক ৭৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবহারে এনওয়াইসি হেলথ প্লাস হসপিটালসের ডাটা গভর্ন্যান্স কাঠামো জাতীয় পর্যায়ে প্রশংসা পেয়েছে। ভারতী শর্মা ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি ডিগ্রির পাশাপাশি হফস্ট্রা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার অব হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং হ্যারিসবার্গ ইউনিভার্সিটি থেকে ইনফরমেশন সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এনওয়াইসি হেলথ প্লাস হসপিটালস/এলমহার্স্টের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. লরা ইয়াভিকোলি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কঠিন সময়ে ভারতী শর্মার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল তার। তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে শর্মা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছেন। রিজেনেরনের প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মকর্তা দিব্যা পাঠক বলেন, ভারতী শর্মা নতুন প্রজন্মের ডাটা ও এআই নেতৃত্বের অন্যতম উদাহরণ। বৃহৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দায়িত্বশীল ও কার্যকরভাবে তথ্য ব্যবহারের যে মডেল তিনি তৈরি করেছেন, তা সরকারি খাতের ভবিষ্যতের জন্য একটি মানদণ্ড হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি মালিকানাধীন গ্রোসারি শপ বা মুদি দোকান স্থায়ীভাবে চালু রাখার উদ্দেশ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছেন স্থানীয় আইনপ্রণেতারা। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য জেনিফার গুতেরেজ ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী মিলে সিটি কাউন্সিলে এই সংক্রান্ত একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো, সিটির পাঁচটি বরোর প্রতিটিতে যেন অন্তত পাঁচটি করে সরকারি মুদি দোকান বাধ্যতামূলকভাবে গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন তাঁর প্রথম মেয়াদের মধ্যেই সিটির পাঁচটি প্রধান বরোতে অন্তত একটি করে সরকারি মুদি দোকান চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আইনপ্রণেতা জেনিফার গুতেরেজ মনে করেন, এই উদ্যোগটি যেন কেবল বর্তমান মেয়রের একক বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আইন পাসের মাধ্যমে এটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়া উচিত। যাতে করে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রশাসন এলেও এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পটি চিরতরে বজায় থাকে। উত্থাপিত এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের কমিশনার অথবা মেয়রের মনোনীত অন্য কোনো সংস্থার প্রধানকে প্রতিটি বরোতে অন্তত পাঁচটি করে সরকারি মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনে কোনো বেসরকারি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ অংশীদারিত্ব বা পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। মেয়রের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, সরকারি মালিকানা ব্যবহারের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী খরচ কমিয়ে আনা। সরকারি এই গ্রোসারি উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চ-মানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে পুরো সিটিজুড়ে সাধারণ মানুষের খাবারের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি তাদের দৈনন্দিন খরচও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে পাঁচটি বরোতে প্রথম পাঁচটি দোকান তৈরির জন্য মেয়র মামদানি ইতিমধ্যে ৭ কোটি ডলারের বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছেন। এই নতুন মডেলের আওতায়, গ্রোসারি শপের জমি এবং দোকান নির্মাণের সমস্ত খরচ ও ভাড়ার ব্যয়ভার বহন করবে সরাসরি নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, একটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো বেসরকারি অপারেটর বা প্রতিষ্ঠান এই দোকানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে শর্ত থাকবে যে, সরকারি সুবিধার কারণে বেঁচে যাওয়া অর্থ সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম কমিয়ে সমন্বয় করতে হবে। উদারপন্থী ডেমোক্র্যাট দল থেকে নির্বাচিত এবং নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া জোহরান মামদানি গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সিটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য এই ব্যতিক্রমী সরকারি গ্রোসারি শপের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা এখন স্থায়ী আইনের দিকে রূপ নিতে যাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল নগরী নিউইয়র্ক সিটি—এ কথা নতুন নয়। উচ্চ ভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের কারণে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই শহরে টিকে থাকা বেশ কঠিন। প্রতি বছর অনেক বাসিন্দা কম ব্যয়ের শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, অধিকাংশ মানুষ এই শহর ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। এর প্রধান কারণ, সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে আলাদা। অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ- সব ক্ষেত্রেই শহরটি এগিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের মিলনস্থল হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে এক বৈচিত্র্যময় সমাজ, যেখানে যে কেউ নিজের সংস্কৃতি, খাবার ও ধর্মীয় চর্চার পরিবেশ খুঁজে পায়। নিউইয়র্ক সিটিকে ইমিগ্রান্টবান্ধব শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শহরের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই অভিবাসী, যারা শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অদক্ষ থেকে দক্ষ- সব ধরনের মানুষের জন্য কাজের সুযোগ থাকায় এটি কর্মসংস্থানের এক বড় কেন্দ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থাও শহরের অন্যতম শক্তি। Metropolitan Transportation Authority (এমটিএ)-এর বিস্তৃত সাবওয়ে ও বাস নেটওয়ার্ক শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করে। ফলে কম আয়ের মানুষও শহরতলীতে বসবাস করে সহজেই কর্মস্থলে যেতে পারেন। ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিউইয়র্ক অনন্য। জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য এটি একটি বড় বাজার তৈরি করেছে। কমিউনিটি ভিত্তিক ব্যবসাও এখানে জনপ্রিয়, যা অভিবাসীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে। শিক্ষাব্যবস্থাও এই শহরের আরেকটি বড় আকর্ষণ। পাবলিক স্কুলগুলো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বিশেষায়িত কিছু স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়। ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ, বৈচিত্র্য এবং জীবনমানের কারণে নিউইয়র্ক সিটি এখনো অনেকের কাছে ‘স্বপ্নের শহর’ হিসেবেই রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।